মঙ্গলবার, ১৯ মে, ২০১৫

Marriage never completes without divorce

"জেল জুলুম হুলিয়া , নিতে হবে তুলিয়া"
এক সময়ের জনপ্রিয় রাজনৈতিক শ্লোগান ছিল ।
জনপ্রিয়তা পাবার নেপথ্য কারন ছিল ;
সেই পাকি শোষক আইয়ুব খান থেকে বাংলা স্বৈরাচার হেসাইন মুহাম্মদ এরশাদ সাহেবের আমল পর্যন্ত রাজনৈতিক এবং বিরধী মতের প্রাকাশকারিদের জব্দ করার উত্তম মাধ্যম ছিল মামলা ঠুকে জেলে পুরে দেওয়া বলে।
জেল জুলুম হুলিয়া যখন ক্রমবর্ধমান গতিতে চলমান ; সেই সময় মানুষ রাজপথ কাঁপাতে লাগল আরো জোরালো ভাষাতে ।
"লড়াই লড়াই লড়াই চাই ; লড়াই করেই বাঁচতে চাই"
সেই লড়াই আজো সমান ভাবে চলমান। দুনিয়ার এক প্রান্তে যখন একনায়ক স্বৈরতন্ত্রের পতন ঘটে তখন অন্য প্রান্তে পতিত বর্জের ভেতর জন্ম নেয় নতুন স্বৈরাচার। ভাঙ্গা গড়ার এক প্রক্রিয়াগত খেলা ।
মোহন দাশ করম চাঁদ গান্ধী সাউথ আফ্রিকা তে গিয়েছিলেন ব্যারিস্টারি পরতে।মাঝে মাঝেই তাকে ট্রেন ভ্রমণ করতে হতো।ট্রেনে কালো চামড়াদের জন্য সংরক্ষিত ছিল বিষেশ কামরা। সাদাদের সাধারন কামরা গুলিতে প্রবেশাধিকার সম্পূর্ন রিজার্ভড।
এই নিয়মের তোয়াক্কা না করে সাদা কামরা তে উঠে বসার অপরাধে গান্ধীজিকে চলমান ট্রেন থেকে ধাক্কা দিয়ে ফেলে দেওয়া হয়েছিল।
জনসংযোগ বৃদ্ধি করে স্বৈরাচারের গদি টালমাটাল করে দেবার কারনে বার্মিজ কিংবদন্তি আং সাং সুচি কে লম্বা গৃহবন্দিত্ত বরন করতে হয়।
নেলসন ম্যান্ডেলা কে ৩০ বছরের অধিক কারাভোগ করতে হয় তার দেশের সংখ্যা গুরু মানুষের ন্যায্য অধিকার আদায়ের জন্য ।
ইয়াসির আরাফাতের কথা না হয় নাইবা বলি এই ভদ্রলোক কে আমৃত্যু লড়াই চালিয়ে যেতে হয়েছিল ফিলিস্থিনি মানুষের স্বাধীনতা পুনঃ আদায়ের যুদ্ধ চালাতে যেয়ে ।
আরব বসন্তের জোয়ারে ক্ষমতার আসনে বসে ছিলেন মোহাম্মদ মুরসি ।
13.2 মিলিয়ন অর্থাৎ ৫১ শতাংশ ভোট পেয়ে ক্ষমতাতে আসা মুরসির দলকে নিশিদ্ধ থাকতে হয়েছিল কয়েক যুগের বেশি সময়।
এতসব চলার পরেও যখন স্বৈরাচারের ক্ষমতার লিপ্সা বিন্দুমাত্র কমে যায় না তখন মানুষ আওয়াজ তোলে ......
"দিয়েছি তো রক্ত আরো দেব রক্ত
রক্তের বন্যায় ভেষে যাবে অন্যায়"
এইসবের সবকিছুই আমাদের সোনার বাংলাদেশের সাথে যায় , এক্কেবারে খাপে খাপ মিলে যায় ।
দেশের বিরধী মতের প্রধান ধারককে আজ দুদিন ধরে রাজপথে আঘাত দেওয়া হচ্ছে । পেশী শক্তি নির্ভর সরকারদের কাছে অবশ্য পেশী শক্তি ব্যাবহার কোন নতুন কিছু না , সামপ্রদায়িক সরকারী শক্তিগুলি সবসময়ই মৌল এবং চরম পন্থার প্রকাশক ।পরমত সহিষ্ণুতা যে সহ্য করার যোগ্যতা রাখে না তার চেয়ে বড় মৌলবাদ আর কেই বা হতে পারে ।
বিশ্বে এ যাবত যত বড় বড় মৌলবাদী শক্তির উদ্ভব হয়েছে তা উত্তর কোরিয়া হোক , রাসা হোক, ইজরাইল হোক , সৌদি বা ইরান,মিসর হোক অথবা কিউবা বা বাংলাদেশ হোক প্রতিটি স্থানেই মৌলবাদের এবং চরম পন্থার প্রশার করতে সাধারন মানুষের উন্মুক্ত মতামত এবং ভোটাধিকার হরণ করা হয়েছে প্রথমেই ।
বৃটিস সোসাইটিটে বেশ জনপ্রিয় টোটকা হচ্ছে _
Marriage never completes without divorce...
"বিচ্ছেদ ব্যাতীত বিবাহ চক্র পূর্ন হয় না "
মৌলবাদের চক্র পূর্ন করতে স্বৌরাচারের হাত কি ইস্কাপনের টেক্কা টাই খুঁজছে ??

কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন