সোমবার, ১৮ মে, ২০১৫

হিউম্যান ট্রাফিকিং এর মূলে

হিউম্যান ট্রাফিক ইস্যু এখন আলোচ্য বিষয়।

বাংলাদেশ থেকে আমেরিকা,

আওয়ামিলীগের  পুলিশ উপ কমিশনার মনিরুল থেকে UN সেক্রেটারি বান কি মুন।

সোসাল নেটওয়ার্ক থেকে নিশিদ্ধ রাজনৈতিক দল কেও বাদ যাচ্ছে না বাণভাসী নোনা জলের জ্বালা থেকে।

একদিকে আবেগকেন্দ্রিক গদগদ মানবতা তার পেছনেই লুকিয়ে আছে মানবতাকে ভিত্তি করে অর্ধ নগ্ন অর্থনীতির স্ট্রীপ ডান্স।

আসলে এই রেহিংগা বা নৌকা ইস্যু মূল কথা না ; মূল বিষয়টাতে ফোকাস নিতে হবে।

আই মিন ওপেন ইকোনমিতে তো শ্রমের অবাধ যাতায়াত থাকার কথা। শ্রম একটা পন্য ব্যাতীত কিছু না।

পন্য হিসাবে শ্রমের রাজনৈতিক অবস্থান বুঝেই হিউম্যান ট্রাফিকিং ইস্যু নিয়ে কথা বলতে হবে।

আমাদের দেশের মানুষদের মনে থাকার কথা ; যখন ওপেন মার্কেট শুরু হল তখন চারদিকে একটা উতসব শুরু হয়ে গেল।

ঢাকার রাস্তাগুলিতে নয়া নয়া বিলবোর্ড,  টেলিভিসনে নতুন বিজ্ঞাপন,  প্যাকেজ নাটকের নব্য স্পন্সর... এই সব

প্রথম দিকে ভালোই চলছিল,  নানা রংচঙ মাখা বাতি জ্বলছিল।

কিছু দিনের ভেতর মার্কেটে আরো নতুন বিক্রেতা আসলো..

ইন্ডিয়ান গাড়ি, জার্মান ফুড,  আমেরিকান ওয়াইফ..  :) অর্থাৎ  আমরা পরিনত হলাম ডাম্পিং লটে।

মানুষের বস্তুগত ভোগের প্রত্যক্ষ এবং পরক্ষ সব মাল মসলাই পন্য।চাল, ডাল, কন্ডম, ট্রাক্টর, সিগারেট থেকে সেক্স ডল এহেন কিছু নায় যা অর্থনৈতিক পন্য না। এই পন্যগুলির প্রস্তুতকারীরা যে শ্রম দিচ্ছে সেটাও পন্য, সবচে গুরুত্ববাহী পন্য।অর্থনীতি তে স্বিকৃত শ্রম পন্য। এরিস্টটল থেকে কাল মার্কস, অমর্ত সেন বা ড:ইউনুস তারা সবাই শ্রম পন্যের গুরুত্ব শিখেই বড় হয়েছেন।

তাহলে এবার বলুন আপনার স্পাম যখন বিক্রয় যোগ্য , পাট গাছের জীন বা প্যারাসিটামল যখন উন্মুক্ত বিশ্ব বাজারে সহজে স্থানান্তর এবং বিক্রয় যোগ্য সেখান আপনার শ্রম মাইগ্রেসনে এত্ত সমস্যা কেনো?

নিজের মার্কেট বিদেশিদের পন্য বিক্রয়ের জন্য উন্মুক্ত না করার কারনে শাস্তি পেয়েছে অনেক দেশ।
যেমন ইন্ডিয়া,কিউবা,যুগাস্লাভিয়া চাইনা..

বিশ্ব মেরুকরন এমন নাও হতে পারতো। রাশা ভাংগার পরে সুযোগ তৈরি হয়েছিল। এই সময়টাত ওপেন মার্কেটের বিকাশ ঘটেছিল। তখন পশ্চিমা শক্তি গুলি বানিজ্য বিকাশের জন্য চাপাচাপি করছিল।এই সুযোগটা নিতে পারেনি বাকি বিশ্ব।
রকেট লাঞ্চার ক্রয়ের বিপরিতে ঔষধ বিক্রয়ের সীমা পর্যন্ত ভাবতে পেরেছিল তৃতীয় বিশ্ব।

অথছ শেষ দানের জন্য অপেক্ষাতে থেকে শ্রম পন্যের বাজার উন্মুক্ত  করানোর সাহস দেখাতে পারেনি এরা।

অনেকে ইমিগ্রেসন রুলসের কথা বলতে চেস্টা করেন। ভূলে যাবেন না ইমিগ্রেসন আইন পশ্চিমাদের তৌরি স্পীড ব্রেকার ব্যাতীত আর কিছু নয়।

শ্রম যাতায়াত উন্মুক্ত থাকলে CIA অফিসে বসে নিজ হাতে জংগী তৈরীর কারখানা হতে পারতো না এই বিশ্ব।

একমাত্র শ্রম পন্যের জন্য ন্যায্য ওপেন মার্কেট তৈরি করতে পারলেই জোট নিরপেক্ষ আন্দালনের মতো শক্তিধর প্লাটফর্ম তৈরি হতে পারতো।

এই জটিলতার সমাধান যে নায় তা কিন্তু না। অর্থ শাস্ত্রে এর সমাধান আছে, সেই  সমাধান ভয়াবহ।

কোন পন্য অধীক উতপাদন হলে পন্যের দাম পরে যায়  ;এতে উতপাদন কারি ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

ধরুন আপনার দেশে চালের চাহিদা ২০ জন কৃষক পুরন করে।তারা ১০০ কেজি চাল উতপাদন করে বিক্রয়  করে।কোন কারনে উতপাদন ১৪০ কেজি হয়ে গেলে নিশ্চিত ভাবেই ক্রেতা লাভবাব হলেও কৃষক কে লসে চাল বেচতে হবে। কারন পর্যাপ্ত সেল হবে না।

এক্ষেত্রে সমাধান হচ্ছে কৃষকরা একত্র হয়ে কিছু অংশ ধান আগুনে পুড়িয়ে দেওয়া।

এতে প্রোডাক্ট চাহিদার সাথে সামঞ্জস্য পূর্ন থাকবে। চাহিদার বিপরিতে যোগান যদি কমে যায় তখন পন্যের দাম বাড়তে বাধ্য।
এটা বাস্তবতা।

ডিয়ার বিশ্ববাসী মানবতা,

কি তাহলে দেবেন নাকি অর্ধেক শ্রম শক্তি চিতাতে বিসর্যন?

পাশা,র দান অবশ্য তাতে উল্টে যাবেই ; কোন দ্বিধা নায়।

কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন