শুক্রবার, ২২ মে, ২০১৫

ঠাকুর'দাঁ



মানুষ যখন জাতে ওঠে তখন তার নাম ধাম জাত পরিবর্তনের প্রয়োজন পরে ।
নতুন জাতের সাথে তাল মিলিয়ে চলার জন্য এই নাম পরিবর্তন একটি মৌলিক পিলার ।
যেমন
রহিমা যখন ক্লাবে যায় তখন সে মিস রাহি হয়ে যায় ।
শামসু হয়ে যায় শামস্‌ ।
আদম আলি হয়ে যায় এ্যডাম ।
রুখশানা হয়ে রুক্সি !

রানি যখন হিথ্রো এয়ার পোর্টে ল্যান্ড করবে ; তার বন্ধুরা তাকে ডাকবে কুইন নামে ।
হাজাম ব্যাপারি সিসিলী যাবার টিকেট কাটতে ট্রাভেল এজেন্টের অফিসে যাবার পরে তার নিক বলে হ্যাজী ।
রহমান ভাই যখন অ্যামেরিকা যাবার জন্য লটারির আবেদন করলো সেই দিন থেকেই তিনি নতুন নাম বলার প্র্যক্টিস শুরু করে দিলেন ।
হ্যালো ব্রো আইজ তো হামার ঈড ।
কেন রহমান ভাই কি হলো ?
ব্রো আমি টো আজকে আম্রেরিকার ডীভী করছি ; পীর সাব কইছে ভিসা লাগবোই ।
ভাই একখান কথা বলি মাইন্ড খাইয়েন না ; আমারে আর রহমান রহমান বইলেন না । নাম তো এফিডেফিট করে ফেলেছি ।
রহমান এখন রেহ্‌মান ।।
ময়মনসিং থেকে জুলেখা বেগম যেদিন প্রথম বেইলী রোডে আসলো নাটক দেখতে ; নাটক দেখে খালাতো ভাইয়ের সাথে বাড়ি ফেরার সময় হটাতই খালাতো ভাই তার হাত ধরে বলে উঠলো "লেখা আমি তুমারে ভালাবাসি ।
যেহেতু নাটক ফাটক দেখা হয়েছে অতএব জুলেখা'র থেকে "লেখা" ।
গোপাল গঞ্জে ছিল আরেক জুলেখা ; তার গন্তব্য ছিল ঢাকা থেকে একটু দূরে
C/o শামিম ওসমান
টান বাজার
নারায়ণ গঞ্জ
সেখনে আসার পর ওসমান কশাই আদর করে তার নাম রাখলো জুলি ।জুলেখা থেকে জুলি ।
বড় বাজারের মৎস ব্যাবসায়ি আলাউদ্দিন" যখন লুঙ্গী কাছা মেরে ঢাকা শহরে যেয়ে থিতু হল তার নাম হয়ে গেল আলা চৌধুরী ।
বাঙলার মসনদে বসেছিলেন একবার "মা কালি"
বসার পরের রাতেই তিনি হয়ে গিয়েছিলেন "পুস্প কলি " । একদিন সেই পুস্প কলি'র ছবি ছাপা হলো পত্রিকাতে । তিনি পুস্প বেষ্টিত বাগানে এক অনাথ পিতৃ পরিচয় বিহীন ছেলের সাথে মাতৃ স্নেহে ব্যাডমিন্টন খেলছেন ।
চারি দিকে রব উঠে গেল "বাহারে বাহারে বাহ " !
সুদূর স্বপ্নের দেশ আমেরিকা'র ধোলাই খালে এক ফটকা ব্যাবসায়ির দোকানের নাম ছিল DELL ;
যেই না সে বাংলাদেশের নাম শুনলো ওমনি হয়ে গেল এক ফুর ফুরে পাখির মতো "দোয়েল" ।
এই বাঙলার প্রথম খলিফা একবার যুদ্ধের জন্য এক বিশেষ লাঠিয়াল বাহিনী তৈরি করলেন । তারা ঢাক ঢোল পিটিয়ে , লাল ঘোড়া দাবড়ায়ে খাজনা আদায় করতো । সেই দলের প্রধান ছিলেন যিনি তার নাম তোফায়েল । সেই অবহেলিত তোফায়েলই ২০১৪ সালে এসে জানান দিলেন তিনি আসলেই ছিলেন স্যার টোফায়েল !!
তবে যে শুধু মাইগ্রেসন করলেই বা সময়ের সাথে সাথেই নামধাম জাত পাল্টাতে হয় তা কিন্তু না ।
প্রভু পরিবর্তন হলেও নাম টাইটেল , জাত পাত পরিবর্তন হতেই পারে । এতে দোষের কিচ্ছু নাই ।
১২ আওলিয়া দের দল যখন এই বাঙলার বুকে নামলো তখন অনেকেই বাপ, দাদা , বড়দাদা'র জাতের নিকুচি করে করে অন্য জাতে , অন্য ধর্মে মাইগ্রেসন করেছিলেন ।
ইংলিস'রা যখন কৃষ্ণ নগর , হুগলী তে আসলো অনেকেই সেই সময় নগদ নারায়ণ আর নগদ বানিজ্যের আশাতে যীশু খৃষ্টের পথ খুজে নিয়ে ছিলো ।
এই বাঙলার বিক্রম সিংহ শ্রীলংকা যেয়ে ধারণ করেছিলেন গৌতম বুদ্ধের মতো মৌনোভাব ।
তবে এই ক্ষেত্রে বিপ্লব ঘটিয়ে ছিলেন আমাদের এক ঋষি কবি ; তিনিও লালায়িতো ছিলেন তোফায়েল স্যারের মতো একটা স্যার উপাধির জন্য ।
সেই ঊছিলাতে পাওয়া নাইট উপাধি গ্রহণ করে তিনি বাংগালি জাতির মান বাড়িয়ে দিয়েছিলেন ।
শুনেছি তিনি উপাধি নিলেও উপাধি খচিত উপ টোকন গ্রহন করেন নি ।
তাই তো ক্ষতি পুষিয়ে নিতে ঋষি কবি ঠাকুর হয়ে গিয়েছিলেন " ট্যেগর" ।।
ট্যাগর আমাদের সাম্প্রদায়িক ঠাকুর'দাঁ ।

কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন