আন্দালন ক্যামন আছে দেশের প্রথম রাজধানী চুয়াডাঙ্গা শহরে ।।
BNP দলীয় শক্ত ব্যারাক চুয়াডাঙ্গা । ১৯৭২ এর পর রাজনৈতিক কোন পরাজয় BNP এখানে এখানে দেখেনি বিগত Pri-selected election ছাড়া ।
সকল সময় দলকে আসন প্রদান করা এ শহরে
দলের কাথামোগত আবস্থান আসলে ক্যামন ; কক্ষনও জানার চেষ্টা কেও করেনি ।
আমাদের এই রক্তারত জনপদে BNP ক্যামন ভাবে চলছে তা আমি দলের সঙ্গে থেকেই
দেখেছি ।সত্য কথা বলতে গেলে Grooping রাজনীতির একজন সাক্ষী গোপাল আমি নিজেও
এবং আমার বন্ধুরা ।
যদিও কোন না কোন পক্ষের সাথে থেকেছি
; তবুও আজকে মন থেকেই চেষ্টা করব আমাদের কুটিল রাজনীতির অপ্রিয় সত্য কথা
গুলী বলতে । বিশেষত দেশের ভয়ংকর দুর্যোগ পূর্ণ এই সময়ের কথা ।
কথা গুছিয়ে বলার অভ্যাস কোন কালেই ছিল না ; অতএব গঠন শৈলীর ভ্রান্তি গুলী না দেখাই উত্তম ।
শুরুটা করি শেষ থেকে ।
চুয়াডাঙ্গা ১ আসনে বিগত নির্বাচনে
দলের মননীত বেক্তি ছিল "অহিদুল ইসলাম বিশ্বাস" । তবে তিনি দলীয় হাই
কমান্ডের প্রথম পছন্দ ছিলেন না । প্রথমত নমিনেশন গ্রহণ করেন প্রকান্ত
ছাত্রদল নেতা "শামশুজ্জামান দুদু " ; এতে বিদ্রহি হয়ে ওঠে "অহিদুল ইসলাম
বিশ্বাস" ।এই "অহিদুল ইসলাম বিশ্বাস" কে সমর্থন দেয় জামাত-ই-ইসলাম ।
জামাতের সমর্থনে এবং "শামশুজ্জামান দুদু " এর যগাযগ ঘাটতি তে অবশেষে
নমিনেশন পাল্টে দেওয়া হয় চার দিন পরে "অহিদুল ইসলাম বিশ্বাস" কে । এই নেতা
প্রয়াত সংসদ সদস্য তুমুল জনপ্রিয় "শহিদুল ইসলাম বিশ্বাস MP এর ছোট ভায় ।
মূলত বড় ভায়ের প্রবল জনপ্রিয়তা কে ব্যাবহার করে কর্মীদের আবেগ নিজের পক্ষে
নিতে সক্ষম হন "অহিদুল ইসলাম বিশ্বাস" । এই অহিদুল ইসলাম বিশ্বাস ই
ইতিহাসে প্রথম পরাজয়ের বিস্বাদ দেন দলকে । ন্যূনতম ৫০,০০০ ভোটের পারথক্কে
হেরে যায় সে । এই নেতার বিরুদ্ধে দলের ক্ষতি করার আরও একটা প্রমাণ দেই ।
দলীয় সিধান্ত উপেক্ষা করে সে এরা আগে পুরসভা নির্বাচন করে এবং স্থানীয়
সরকার পর্যায়ে BNP কে প্রথম পরাজয়ের অভিজ্ঞতা দেয় । অবশ্য তারও পূর্বে সে
চেয়ারম্যান নির্বাচিত ছিল এবং এই চেয়ারম্যানের বৃত্তান্ত অন্য সকল
চেয়ারম্যানের মতই ।
এই আন্দালনে চুয়াডাঙ্গা জেলা BNP
প্রথমেই জানিয়ে রাখি জেলা BNP তে গ্রুপ আছে মোট তিন টি । বিদগ্ধ জনেরা বলেন পাঁচটি ।
চুয়াডাঙ্গা জেলা BNP র সভাপতি হাজী
মোজাম্মেল হক । এক সময়ের শান্তি কমিটির পলাতক চেয়ারম্যান । স্থানীয় সরকারের
ছোট কিছু নির্বাচনে পরাজিত হয়ে এরশাদের জাতীয় পার্টী ঘুরে ৫ টাকা দিয়ে
সদস্য পদ কিনে দলীয় নমিনেশন নেন এই নেতা ।১৯৯১ সহ চার টি জাতীয় নির্বাচনে
অংশ নিয়ে ১ টি তে সফলতা পান তিনি। এই আসন চুয়াডাঙ্গা ২ । জনগণ তো দুরের
কথা , কর্মীদের কথাও বলছি না , সিনিয়র নেতাদের সাথেও তাঁর কোন ধরনের যগাযগ
নায় । তিনি রাজধানী তে বসে তাঁর বাণিজ্য নিয়েই বেস্ত থাকতে পছন্দ করেন ।
তারা অনুপ্রবেশের পরে তাঁর আসন চুয়াডাঙ্গা ২ এ এখনও পর্যন্ত ১ টিও হরতাল
পালন করা হয় নি কারন তিনি চান না । দুষ্ট জনেরা বলে তাঁর বিশাল বাণিজ্য এবং
সরকারী দলের সাথে গোপন সম্পর্কের কারনেই এমনটা ঘটে। কথিত আছে তিনি
নির্বাচনে চুয়াডাঙ্গা ১ আসনের প্রতিপক্ষ দলের প্রাথি কে নির্বাচনী ডনেসন
প্রদান করেন । এই মুহূর্তে চরম আন্দালনের সময় তিনি মাঠে উপস্থিত নায় ,এমনকি
তাঁর কোন নির্দেশনাও আমাদের কাছে আসেনি ।
সামসুজ্জামান দুদু র জেলা BNP তে
সক্রিয় হবার পেছনের মূল কারণটিই গ্রুপিং । প্রয়াত মিয়া মনসুর কে মাইনাস
করার লক্ষে জেলা BNP র Play maker রা দুদু ভাই কে Introduse করান । তাঁর
আগমনের খবরে সমগ্র জেলা তে সাজ সাজ রব উঠে । সকলেই আশাবাদী হয়ে উঠেন এই
সাবেক ছাত্রনেতার আগমনী সুরে । তাঁর শুরুটাও ছিল দুরদান্ত । প্রথম
নির্বাচনের সময় অতি সাধারন বেসে সাধারণ মটর সাইকেলে তাঁর প্রচারকারজক্রম
জনগণের কাছে আকর্ষণীয় হয়ে ওঠে । ফলাফল বিপুল বিজয় । একপর ই শুরু পতন ।।
নাটকীয় পতন । এলাকাতে পুরাপুরি Out of reach .দলীয় নেত্রী চুয়াডাঙ্গা সফরে
আসলেন সেসময় ।দল তখন ক্ষমতাতে । নিয়তির পরিহাস নেত্রীর সাথে সার্কিট হাউসে
দ্যাখা করতে বেরথ হলেন কর্মীদের প্রতিবাদের মুখে । সেখানের হট্টগোলের
মধ্যে যে আরও অনাকাঙ্ক্ষিত কিছু হয় নি ; সেটা আমরা জোড় গলায় বলতে পারি না ।
মধ্যাহ্ন ভোজের সময় ঝিনেইদাহ র MP মসিউর রহমান এবং কুষ্টিয়ার MP রুমি
তাঁকে ভোজন কক্ষে নিয়ে যেয়ে মান রক্ষা করেন । নেত্রী সম্পূর্ণ ঘটনাই অবগত
হন ।
রাজনীতি খেলা তে তিনি এখন দলীয় ২য়
শীর্ষ বেক্তি । অথচ কোন আন্দালনেই কথাও নায় তিনি । তাঁকে জিগ্নাসা করলে
উত্তর করেন মাননীয় মহাসচিব না কি তাঁকে ঢাকা ষ্টেশন ছারতে নিষেধ করেছেন ।
অবশ্য পূর্বের মহাসচিব খন্দকার দেলোয়ার হোসেনের সময়ও তিনি ঐ মহাসচিবের
দোহায় দিতে পছন্দ করতেন ।আজ অবরোধ চলছে । শহরে ছাত্র দলের ছেলেরা মাঠে
পুলিশের মার খাচ্ছে , ছাত্র লীগের হুমকি মোকাবেলা করছে । মীটিং , মিছিল ,
পিকেটিং চলছে ; শহরের অলিতে গলিতে বারুদের গন্ধ । অথছ কোথাও কেও নেয় ।
ছাত্রদলের সেই আমলের সিংহ পুরুষ আজ বড়ই কাপুরুষের মত আচারন করছে । আমাদের
বর্তমান ছাত্র দলের ছেলেরা যখন ৯০ এর গল্প শুনতে চায় ,এরশাদ বিরধি বীর
গাঁথা শুনতে চায় ; তখন মনে তারা যেন রূপ কথা শুনছে । বলেই বসে অনেকে "
ভাইয়া দুদু ভাই তখন _ _ _? কি বলেন " । বোঝাতে বেগ পেতে হয় । হায়রে ইতিহাস
।
অহিদুল ইসলাম বিশ্বাস ওরফে মোল্লা ,
এই সাবেক চেয়ারম্যান যেন জামাত-ই-ইসলামি র মহান কর্মী । দলের চেয়ে তাঁর
আনুগত্ত গ্রুপিং কারী অচেনা লোকদের জন্য । তাঁর সঙ্গী সাথী দের দিকে তাকালে
লজ্জা পেতে হয় । ত্যাগী নেতা ত্যাগী কর্মী কোন বিষয় নয় তাঁর মূল বিষয়
তাঁর তোসামদ কারিরা । হতাথ দেখবেন আপনার শ্রমে সংগঠিত সেমিনার , মীটিং বা
মিছিলে মোল্লা উপস্থিত । তবে যখন বিপদের সময় আসে , পুলিশের নির্যাতন শুরু
হয় তখন তিনি ঢাকা শহরে জনসংযোগে বেস্ত থাকেন । এই যেমন এখন এই প্রতিকূল
সময়ে তিনি এলাকাতে নায় তেমনি তিনি আসবেনও না এই বিপদের দিনে । তাঁর আচারন
হ্যালির ধূমকেতুর মত । লম্বা লম্বা বিপদের সময় পার করে তিনি আমাদের দ্যাখা
দেন বা শহরে পদধূলি দেন । এই আন্দালনে যদি পুলিশ নিরীহ হয়ে যায় কোন কারনে ;
দেখবেন মোল্লা ঠিকই হাজির হবে ।
শহরে এখন এসেছে নতুন প্রেমিক নাম
সৈয়দ কাম্রুজ্জামান আজাদ ; তিনি সাবেক সামরিক কর্তা । বন্ধুরা বলে গাছের
গোঁড়া রঙ করা তাঁদের এক মাত্র কাজ । শোনা যাচ্ছে তিনিও মননয়ন আশা করছেন ।
শুরুতে বেস খাতা খাটনি করলেন । এখন তিনিও উধাও । বলে রাখা ভাল এই কর্নেল
BDR বিদ্রহে গুলী খেয়ে বেঁচে যাওয়া এক বিরল ভাগ্যবান । গোপন টেপে যে
প্রতিবাদী সৈনিকের কণ্ঠ শোনা যায় তিনিই সেই কাম্রুজ্জামান আজাদ । বরাবরের
মত তাঁকে নিয়েও স্বপ্ন দেখেছিল রক্তারত জনপদ চুয়াডাঙ্গা র দলীয় নেতা
কর্মীরা । কিন্তু আজকেই এই অতি প্র্যজনিয় সময়ে তিনিও কোথাও নায় । ।
যায় হোক দুর্নাম বদনাম গীবত অনেক হল এখন On Record বলে রাখি আজকের আন্দালনে মাঠে যারা ছিল তাঁদের নাম ।
দলের নীতি নির্ধারণ পর্যায়ের জেলা নেতাদের মধ্যে
এ বি এম হাসান হাসু
সরদার আলী
রেজাউল করীম মুকুট
খন্দকার আব্দুর জব্বার সোনা
ওয়াহিদ্দুজামান বুলা
আমি বলতে চায় না এই পাচ জনের কয়টি উপ দলের সদস্য । তারা যে উপস্থিত ছিলেন এবং অনুপ্রেরণা দিয়েছেন সেটায় আসল কথা ।
ছাত্র দলের ছেলেদের মধ্যে আমাদের
অনেক কাছের বন্ধু যুগ্ন আহ্বায়ক ফিরোজ সররার রোমান শহরে নায় । তাঁকে বলছি
বন্ধু তোর কাছে এটা আশা করিনি। । সুবিধা বাদী নেতাদের সাথে তুই এক গোয়ালের
গরু হবি না বলেই বিশ্বাস ছিল ।
যারা মাঠে আছে তারা দায়িত্ব পালন
করছে । আশা করি কোন স্বার্থে কাজ করছে না । যারা কাজ করছে না কিন্তু আগামী
দিনে হালুয়া রুটির ভাগ চেটে পুটে খাবে তাঁদের ময়না তদন্ত আমাদের
যুগান্তরের যাত্রীরা করবেই ।।
কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন