মঙ্গলবার, ১৯ মে, ২০১৫

আনিসুল হক

বিড়াল কে বলা হয় মাঘের মাসী।যদিও শক্তির বিশাল ফারাক ।
বাঘ-মহিষ নাকি ঠেলাতে পড়লে এক ঘাটেই জল খায় । আসলেই কি তাই ?
তবে ঠেলাতে পরলে বাঘ এবং শিয়াল একসাথে শিকারে যায় ;এটা সত্য ।
যায় হোক রামপাল এফেক্টের ফোরকাস্ট পাবার সাথে সাথেই সুন্দর বনে দূর্ভিক্ষে ঘনঘটা। শিকার নেই বনে।ধূর্ত শিয়াল মামা বাঘের গুহাতে যেয়ে কলিং বেল দিল । হুঁক্কা হুয়া হুক্কা হুয়া।
কে? ভেতরে আয় । শিয়াল পন্ডিত গুহাতে মাথা ঢুকালো।
শিয়াল বলল, মামা অনেক দিন ভালোমন্দ খাওয়া হয় না, চল আজকে শিকারে যায় দুই ভাই। রান্নার দায়দ্বায়িত্ব সব আমার ।
বাঘ ভাবল, কাঁচা মাংসের স্বাদ একঘেয়ে লাগে । শিয়াল পন্ডিত যদি রান্না করে খাওয়াইয় তো মন্দ কি ? বাঘ মামা রাজী হয়ে গেলো।
শিয়ালও কিন্তু কাঁচা খেলোয়াড় না । মামা ভাগ সমানে সমানে ভাগ হবে তো ? নিশ্চিত হতে চাইলো সে।
আমি ন্যায্য হিসাব দিব রে, পন্ডিত বাঘ মামার আশ্বাস।
অতপর দুজন চলল বনের ধারে ধারে । বনের চারদিক আমলকি গাছে ভর্তি, সেই আমলা গাছের ফাঁক দিয়ে দেখা গেল মোষের দল । শিয়ালের ইশারা পেয়ে নিঃশব্দে শিকার স্থির করে নিচ্ছে বাঘ । ধারালো দাঁত আর হিংস্র নখ বের হয়ে আসছে কাঁচা মাংসের লোভে। নিরীহ দেখে একটি মোষের উপর ঝাঁপিয়ে পড়ার সাথে সাথেই শিকার নিস্তেজ হয়ে চলে এল বাঘের থাবার নিয়ন্ত্রণে । মোষের সঙ্গী সাথীদের টিকিটিও দেখা যাচ্ছে না কোথাও।
টেনে হেঁচড়ে শিকারকে নিয়ে আসা হল বাঘের গুহার সামনে । শেয়াল মামা রান্না বান্না শুরু করে দিল । কিছুক্ষণের মধ্যেই মন মাতানো ঘ্রাণ ছুটে গেল সারা জঙ্গলে। এই আকালের যুগেই প্রস্তুত হয়ে গেল কারী, স্টিমড মিট, বারবিকিউ , ঝাল ফ্রাই ,কোরমা , আর মিট সালাদ। শিয়ালের আর বাঘের বাচ্চাদের মনে বড় আনন্দ আজ !
আহা কি আনন্দ আকাশে বাতাসে ,থেকে থেকে পাখি ডাকে ,কত সুধা চারী পাসে....
বাঘ মামা চারখান প্লেট আনলো ঘর থেকে । এর মধ্যে আবার মেহমান ক্যান ? বিরক্তিকর জিজ্ঞাসা শিয়াল পন্ডিতের ।
"টেনশন নিস না পন্ডিত, ম্যায় হু না"
শোন তুই আর আমি হান্টিং করেছি তাই হিস্যা ন্যায্যই হবে।
মামা তাহলে চার প্লেট ক্যান । শিয়ালের ঈষৎ ভ্রু কুঞ্চন।
তুই আর আমি এক সাথে মোষ ধরেছি তাই আমার একভাগ আছে । ঠিক?
ঠিক মামা, শিয়াল বলল।
আমি বনের রাজা তাই আরো এক ভাগ আমার । এ্যম আই রাইট ? জি হুজুর রাইট।
আমার শক্তি ক্ষয় বেশী হয়েছে তাই আরো একভাগ আমার ।তোর কোন আপত্তি আছে ?
আপত্তি প্রশ্নই আসে না বাঘ মামা , বাকি এক ভাগেই আমার বেশ হয়ে যাবে।
ঐ একভাগ যেটা থাকে ওটাও আমি খাবো, তুই বাঞ্চোদ পারলে ঠেকা !!
দন্ত স্ফীত কতে বাঘের খাওয়া দাওয়া শুরু হলো ।
***** এতক্ষন যে বিশাল গল্পটি ফেঁদে বসলাম তার পিছনে একটি সত্য ঘটনা আছে। ২০০৫ সালে প্রতিষ্ঠিত “দেশ এনার্জী” নামক প্রতিষ্ঠানের অধীনে সিলেটের কুমারগাঁও এবং নারায়ন গঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জে ভাড়া ভিত্তিক দুটি তেল নির্ভর বিদ্যুত কেন্দ্র আছে যেগুলোর উতপাদন ক্ষমতা ১১০ মেগাওয়াট। এই প্রতিষ্ঠানের ১০ শতাংশ করে মোট বিশ শতাংশ শেয়ার আছে বাংলাদেশে তরূন উদ্যোক্তা নূহের লতিফ খান এবং তার বোন শাহপার সাবার। ২০০৬ সালে মোহাম্মদী গ্রুপের চেয়ারম্যান আনিসুল হক এই প্রতিষ্ঠানের অংশীদার হন। এবং তার পরেই আনিসুলের ছেলে নাভিদুল হক এবং আনিসুল হক নিজে বিভিন্ন ভাবে অনিয়ম ও দূর্নীতির মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানটির শেয়ারের ২০ শতাংশ নূহের লতিফ খান এবং শাহপার সাবার কাছ থেকে করায়ত্তের চেষ্টা করে। এই নিয়ে নূহের লতিফ খান এবং শাহপার সাবার সাথে আনিসুল-নাভিদের সম্পর্কের অবনতি ঘটে। পরে তাঁরা আদালতের দ্বারস্থ হলে আদালত নায্য মূল্যে আনিসুল হককে উক্ত শেয়ার কিনে নেয়ার আদেশ দিলেও আনিসুল হক বিভিন্ন তালবাহানার মাধ্যমে আজও সেই টাকা পরিশোধ করেনি। আদালতে আনিসুল হকের পক্ষে ওকালতি করেন আওয়ামীলীগ সাংসদ ব্যারিস্টার ফজলে নূর তাপস।
এখন আপনারা সিদ্ধান্ত নিন এই ঢাকা শহরের দ্বায়িত্ব আপনারা কি আনিসুল হকের মত একজন ধূর্ত মানুষের হাতে দিতে চান?

কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন