মঙ্গলবার, ২৬ মে, ২০১৫

আলু তত্ব

যদি সুদূর আলাস্কা ভ্রমনে যান সেখানে চানাচুরওয়ালা পাবার সম্ভবনা কম।

যদি রাসা যান সেখানে হাজার লিটার এবসুলিউট ভদকা পাবেন নিশ্চিত বাট লইট্যা ফিসের শুটকি পাওয়া যাবে না।

পুরাতন ঢাকাতে গেলে নান্নার বিরিয়ানি খেতেই পারেন, দু,খিলি সোনাই মুরা পান পেতেই পারেন,  বাকরখানির গুদামঘড় পর্যন্ত খুঁজে পাবেন বাট ম্যাকডোনান্ডের বার্গার পাইবেন না। আই বেট।

মন চাইলেই জাপান ঘুড়ে আসতে পারেন ; জ্যান্ত বান্দরের ফুটন্ত ঘিলু খেতে পারবেন,  মূলার তৈরি সশ চেখে দেখতে পারবেন কিন্তু  চুনোমাছের চরচরি পাওয়া যাবার কোন সম্ভবনা নাই।

জাপানের পোলাপানদের কাছে ম্যাগডোনাল্ড এতটাই আপন যে তারা লেখাপড়া করার জন্য দেশ ছাড়ার আগে বন্ধু-বান্ধব দের বলে যাই যে তারা সবচে বেশী মিস করবে ম্যাকডোনাল্ডের বার্গার :p

থাইল্যান্ডে ল্যান্ড করার সাথে সাথে ট্যাক্সি ড্রাইভার আপনাকে জিজ্ঞাস করবে "ফাক তাইম ব্যাংকক? ফাঁক তাইম?( ঘটনা সত্য)

আপনি Yes বললেই ধরা ; ট্যাক্সিওয়ালা আপনাকে সারা ব্যাংকক চক্কর কাটিয়ে হোটেলে পৌঁছে দেবে।

ততক্ষনে আপনার পকেট ওয়াহিদুজ্জামানের টাকের মত ফাঁকা।

আপনাকে বুঝিয়ে বলতে হবে ফাঁক তাইম নয়,  এবার আপনার সেকেন্ড বা থার্ড টাইম ব্যাংকক :)

যাকগে ব্যাংককের রাস্তার মোড়ে মোড়ে আপনি এসকট পাবেন,  মেয়ে পাবেন,  লেসবিয়ান বা গে পাবেন,  আমাদের দেশের চায়ের টং দোকানের মত দোকানে দোকানে পোকামাকড়ের ভাজাভুজি পাবেন কিন্তু আমাদের দেশের মানুষের মত আমড়া কাঠের ঢেঁকী পাবেন না,  আই সয়ার।

আলুতো খান সবাই তাই না? এই আলু আর মাথাতে পাগরী চাপানো সিং দের কিন্তু আপনি সমগ্র দুনিয়াময় পাবেন।

অন্য মানুষদের আলুপোরা খাওয়ানো বাংগালী সমাজের চরিত্র। দ্বিমত হয়তো পোষণ করবেন না।

আলুরদোষ আমাদের প্রায় সব এডভেঞ্চারিস্ট পুরুষের মধ্যেই বিদ্যমান ; মানেন আর নাই মানেন।

আলু প্রীতি আমাদের ভেতর কিন্তু ছোট্টবেলা থেকেই তৈরি হয়।

ক্যান কবিতা পরেন নাই?

রেল গাড়ি ঝমাঝম
পা পিছলে আলুর দম?

থুতু বাবা এরশাদের আমলে একবার টিভি রেডিও তে খুব প্রচারনা চালানো হয়ে ছিল

"আলু খেলে মোটা হয়
এই কথাটি ঠিক নয়"

সাবেক সাত ঘোড়ার কচুয়ান মইন ইউ আহাম্মেদের কাছেও আলু মুখোরচক ছিলো।

তিনি তো রীতিমতো র‍্যাডিসনে পার্টি বসিয়ে ১৬ কোটি ফরিকনি বাংগালকে পাচ তারকা আলুর স্বাদ আস্বাদন করানোর খোয়াব দেখেছিলেন।.

মনে আছে নিশ্চয়, এরশাদের মতো মইন সাহেব নিজেও কিন্তু চুটকি লিখেছিলেন

"বেশী করে আলু খান
ভাতের উপর চাপ কমান"

আমেরিকার প্রসেডেন্টদের সব কারবার রাজসিক।তারা সাধারণ খাবার পাতে নেন না।
তাদের জন্য হোয়াইট হাউজের বিশেষ প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত শেফ নিজ হাতে হোমমেড বিয়ার তৈরি করে দেই।
বিশেষ ধরনের এটেল মাটির নিজে জন্ম নেওয়া বিশেষ আলু দিয়ে প্রস্তুত করা হয় ইউএস প্রেসিডেন্টদের মল্টেড বিয়ার।

গোল আলু তো চেনেন সবাই। অতি জনপ্রিয় এই মিস্টি গোলআলু যেকোন তরকারিতে চমৎকার মানিয়ে যাই

আলুরদোষ থাকুক আর না থাকুক আলুর ব্যাসিক জিনিস  সোডিয়াম কিন্তু যুবতী সমাজের কাছে খুব জনপ্রিয়।
সোডিয়াম শরীরের চামরা পরিস্কারের জন্য অব্যার্থ ঔষধ।

মাটি হচ্ছে সোডিয়ামের আখরা।
সেই মাটির নিচেই আলুর জন্ম হয়।

বিধাতা সয়ং দোষ যুক্ত আলুকে মিতৃকার উপরে আনার সাহস দেখান নাই।

মিতৃকার নিচে চাপা থাকার পরেও আলুরদোষ একটুও কমে না,  গুণাগুণ ক্ষয়প্রাপ্ত হয় না।

ছাত্রলীগকেও আপনি যতই "চলী কা পিছা" ঢেকে রাখুন না ক্যান আলুরদোষ তাতে ঢাকা পরবে না।

সোমবার, ২৫ মে, ২০১৫

শিয়াল শাহ্‌

মিছিলে গেছিলেন কাকা।
বুঝে হোক না বুঝে হোক উনি বিশ্বাস করেছিলেন  এরাই আসল লোক।

মিছিলে ক্লান্ত কাকা ফেরার পথে বসে পরলো একটা বড়সড় বট গাছের নিচে। বট ছায়াদায়ী বৃক্ষ।

পেছনেই ঘন বাস বাগান। 
কাকা ঠিক করে ফেলল এখানে একটু ঝিম মারবেন,  তার পরে বাড়ি যাওয়া।

মাছি ভন ভন করছে।  এই একটাই সমস্যা। বছরের এই সময় টাতে মাছি খুব জ্বালাতন করে।

এখানে এত্ত মাছির কারন এক শিয়াল এখানে হেগে থুয়ে গেছে। খুব বিরক্তিকর বিষয়।
এখানে থাকুম ক্যাম্বা?

শেষমেশ পাওয়া গেল এক লোক কে। হাতে চটের বাজারের ঝোলা।

কি আছে গো বাবাজী তোমার ব্যাগে?
এই সদায় নিলাম কাহা।
চাল,  ডাল আর তরকারি!

কাকা আগন্তুকের কাছ থেকে দু তিন মুঠি চাল আর ডাল আদায় করে নিলেন খিচুড়ি খাবেন বলে।

আগুন্তুক ভাবলো বৃদ্ধ মানুস!  কিছু তরকারি দিলে ভালো হত।

কিছু লাল শাক,  কচুর লতি,  আর দুটি করে পেয়াজ আর রসুন যোগ করে দিলো আগন্তুক। 

বৃদ্ধ নির্দিধায় শিয়ালের গু'য়ের উপর ঢেলে দিল চাল, ডাল,  কচুর লতি,  লাল শাক আর পেয়াজ রসুন।

দুপুরের নামাজ পরতে যেয়ে বুড়া নিতে আসলো আগরবাতি; অরিজিনাল আগরবাতি নাকি মশা তারানোর মক্ষম যোম।

আসরের পরে হাট থেকে ফেরা মানুস দেখলো চাল,ডাল আর কচুর লতি,র সাথে আগরবাতি জ্বলছে। 
পাশেই ঘুমন্ত বৃদ্ধ,  সাদা শুভ্র দাড়ির ফাঁকেফাঁকে দু একটা আধাপাকা দাড়ি জ্বলছে।

বাজারের খলিফা এক টুকরা কাপর দিয়ে  বৃদ্ধ কে ঢেকে দিল।
সন্ধা ঘনিয়ে আসছে।

দূর পথের পথিকেরা ঘড়ে ফিরছে।

অসহায় ধরে নিয়ে কেও দিয়ে গেল আরো কিছু চাল, আটা,  শশা,গাজর, ভেন্ডি এই সব।

রাতের ভেতর শিয়ালের গু ঢাকা পরে গেল খাদ্য দ্রব্যের স্তুপে।

বৃদ্ধ বিশ্রাম শেষে বাড়ি ফিরে গেল। কিছুই সাথে নিলো না।

সকালে পৌরসভার ম্যাথর আগরবাতি আর ধুপছায়া দেখে বিচলিত হয়ে পরলো।

ম্যাথর গরিব মানুস, তার দেবার কিছু নাই।  তাই মাথার লাল রুমাল টা রেখে গেল।

এর পরে সূর্য উঠলো কড়া।  লোক জন সব ভিড় করলো।

ইহা কি!  কি  ইহা ?
মাজার?  মাজার আসলো কোথা থেকে?
কার মাজার? 
খোদার কোন নেক বান্দা,র কবর এখানে।

জগলুর বউ বাজা। এবার বাচ্চা না হলে সে গলাই দড়ি দেবে বলে ঠিক করেছে মনে মনে।
নয়া মাজারের কথা শুনে জগলুর বউ মানত করে ফেললো।

বিকাল বেলা যখন মুত্র পরিক্ষার রিপর্ট আসলো জানা গেল এবার বাচ্চা হবে।

জগলু আর তার বউ ছুটলো মাজারে।
বউ কই মাজার?
এই যে এখানে।
জগলু দেখলো তার দেওয়া সেই কচুরলতি উকি মারছে মাজার থেকে।

বুঝলে বাবা আচানক কাজ।  রাতে রাতেই মাজার।  এটা যে কার মাজার বাবা ক্যমনে বুঝি। মাতব্বর সাহেবের প্রশ্ন।

চাচা আমি কিন্তু  জানি এটা কার মাজার!

কার বাবা কার মাজার!

চাচা এটা মাওলানা শিয়াল শাহ্' মাইছভান্ডারী, র মাজার।  আমি সপ্নে দেখেছি।

এর পরে সেই মাজার জমে উঠলো।

মাজার কমিটি ভোট করলো
৮৬ সালে নির্বাচন  করলো তারপরে
আরো অনেক ভোট করলো।

একবার তারা সংসদে তিন টা আসনও পেলো।
এবার নাকি মাজারের ব্যাবসা ভালো হয়েছে ; ১০০ আসন পাওয়া যাবেই যাবে।

শুধু একটু গ্যাঁট হয়ে বসে থাকতে হবে।।

শুক্রবার, ২২ মে, ২০১৫

ঠাকুর'দাঁ



মানুষ যখন জাতে ওঠে তখন তার নাম ধাম জাত পরিবর্তনের প্রয়োজন পরে ।
নতুন জাতের সাথে তাল মিলিয়ে চলার জন্য এই নাম পরিবর্তন একটি মৌলিক পিলার ।
যেমন
রহিমা যখন ক্লাবে যায় তখন সে মিস রাহি হয়ে যায় ।
শামসু হয়ে যায় শামস্‌ ।
আদম আলি হয়ে যায় এ্যডাম ।
রুখশানা হয়ে রুক্সি !

রানি যখন হিথ্রো এয়ার পোর্টে ল্যান্ড করবে ; তার বন্ধুরা তাকে ডাকবে কুইন নামে ।
হাজাম ব্যাপারি সিসিলী যাবার টিকেট কাটতে ট্রাভেল এজেন্টের অফিসে যাবার পরে তার নিক বলে হ্যাজী ।
রহমান ভাই যখন অ্যামেরিকা যাবার জন্য লটারির আবেদন করলো সেই দিন থেকেই তিনি নতুন নাম বলার প্র্যক্টিস শুরু করে দিলেন ।
হ্যালো ব্রো আইজ তো হামার ঈড ।
কেন রহমান ভাই কি হলো ?
ব্রো আমি টো আজকে আম্রেরিকার ডীভী করছি ; পীর সাব কইছে ভিসা লাগবোই ।
ভাই একখান কথা বলি মাইন্ড খাইয়েন না ; আমারে আর রহমান রহমান বইলেন না । নাম তো এফিডেফিট করে ফেলেছি ।
রহমান এখন রেহ্‌মান ।।
ময়মনসিং থেকে জুলেখা বেগম যেদিন প্রথম বেইলী রোডে আসলো নাটক দেখতে ; নাটক দেখে খালাতো ভাইয়ের সাথে বাড়ি ফেরার সময় হটাতই খালাতো ভাই তার হাত ধরে বলে উঠলো "লেখা আমি তুমারে ভালাবাসি ।
যেহেতু নাটক ফাটক দেখা হয়েছে অতএব জুলেখা'র থেকে "লেখা" ।
গোপাল গঞ্জে ছিল আরেক জুলেখা ; তার গন্তব্য ছিল ঢাকা থেকে একটু দূরে
C/o শামিম ওসমান
টান বাজার
নারায়ণ গঞ্জ
সেখনে আসার পর ওসমান কশাই আদর করে তার নাম রাখলো জুলি ।জুলেখা থেকে জুলি ।
বড় বাজারের মৎস ব্যাবসায়ি আলাউদ্দিন" যখন লুঙ্গী কাছা মেরে ঢাকা শহরে যেয়ে থিতু হল তার নাম হয়ে গেল আলা চৌধুরী ।
বাঙলার মসনদে বসেছিলেন একবার "মা কালি"
বসার পরের রাতেই তিনি হয়ে গিয়েছিলেন "পুস্প কলি " । একদিন সেই পুস্প কলি'র ছবি ছাপা হলো পত্রিকাতে । তিনি পুস্প বেষ্টিত বাগানে এক অনাথ পিতৃ পরিচয় বিহীন ছেলের সাথে মাতৃ স্নেহে ব্যাডমিন্টন খেলছেন ।
চারি দিকে রব উঠে গেল "বাহারে বাহারে বাহ " !
সুদূর স্বপ্নের দেশ আমেরিকা'র ধোলাই খালে এক ফটকা ব্যাবসায়ির দোকানের নাম ছিল DELL ;
যেই না সে বাংলাদেশের নাম শুনলো ওমনি হয়ে গেল এক ফুর ফুরে পাখির মতো "দোয়েল" ।
এই বাঙলার প্রথম খলিফা একবার যুদ্ধের জন্য এক বিশেষ লাঠিয়াল বাহিনী তৈরি করলেন । তারা ঢাক ঢোল পিটিয়ে , লাল ঘোড়া দাবড়ায়ে খাজনা আদায় করতো । সেই দলের প্রধান ছিলেন যিনি তার নাম তোফায়েল । সেই অবহেলিত তোফায়েলই ২০১৪ সালে এসে জানান দিলেন তিনি আসলেই ছিলেন স্যার টোফায়েল !!
তবে যে শুধু মাইগ্রেসন করলেই বা সময়ের সাথে সাথেই নামধাম জাত পাল্টাতে হয় তা কিন্তু না ।
প্রভু পরিবর্তন হলেও নাম টাইটেল , জাত পাত পরিবর্তন হতেই পারে । এতে দোষের কিচ্ছু নাই ।
১২ আওলিয়া দের দল যখন এই বাঙলার বুকে নামলো তখন অনেকেই বাপ, দাদা , বড়দাদা'র জাতের নিকুচি করে করে অন্য জাতে , অন্য ধর্মে মাইগ্রেসন করেছিলেন ।
ইংলিস'রা যখন কৃষ্ণ নগর , হুগলী তে আসলো অনেকেই সেই সময় নগদ নারায়ণ আর নগদ বানিজ্যের আশাতে যীশু খৃষ্টের পথ খুজে নিয়ে ছিলো ।
এই বাঙলার বিক্রম সিংহ শ্রীলংকা যেয়ে ধারণ করেছিলেন গৌতম বুদ্ধের মতো মৌনোভাব ।
তবে এই ক্ষেত্রে বিপ্লব ঘটিয়ে ছিলেন আমাদের এক ঋষি কবি ; তিনিও লালায়িতো ছিলেন তোফায়েল স্যারের মতো একটা স্যার উপাধির জন্য ।
সেই ঊছিলাতে পাওয়া নাইট উপাধি গ্রহণ করে তিনি বাংগালি জাতির মান বাড়িয়ে দিয়েছিলেন ।
শুনেছি তিনি উপাধি নিলেও উপাধি খচিত উপ টোকন গ্রহন করেন নি ।
তাই তো ক্ষতি পুষিয়ে নিতে ঋষি কবি ঠাকুর হয়ে গিয়েছিলেন " ট্যেগর" ।।
ট্যাগর আমাদের সাম্প্রদায়িক ঠাকুর'দাঁ ।

সালনাম রুশদী

সালমান রুশদী কে আমরা সবাই চিনি ;
সবাই ঘৃনা করি।
তার একটা দূর্দান্ত মার্কেটিং পলিসি আছে। সেল্ফ ব্যান্ডিং টাইপের।
ধরেন কোন একটা অনুষ্ঠান হবে।
বিশেষ অতিথি হিসাবে দাওয়াত পেয়েছেন রুশদী সাহেব, হিলারি ক্লিনটন, পোপ, জন পল, স্টিফেন হকিন্স বা এই জাতীয় আরো অনেকে।
রুশদী সাহেব যেটা করেন তা হচ্ছে শেষ মুহুর্তে এসে তিনি আর ঐ অনুষ্ঠানে যান না।
বরংচ উনি ঐ একই সময়ে প্রয়োজনে অনেক কম গুরুত্তপুর্ন অনুষ্ঠানে হাজীর হন।
রিডার্স ডাইজেস্ট এর কোন একটা প্রকাশনা থেকে এই তথ্যটা পেয়েছিলাম।
এই বিষয় টা তে রুশদী,র দৃস্টি আকর্সন করা হলে উনি এই গুলী কে Schedule clash বলে চালিয়ে দিতেন।
পরবর্তিতে তার একজন ব্যাক্তিগত স্টাফ প্রকাশ করে দেন হাড়ির খবর।
যে অনুষ্ঠানে উনার মত আরো বিখ্যাত ব্যাক্তি আছেন যে বা যারা উনার সমান বা উনার চেয়ে বেশি ফোকাস আদায় করে নিতে সক্ষম উনি সেই ধরনের অনুষ্ঠানে এ্যাটেইন করে উনার ফেম বা খ্যাতি শেয়ার করতে নারাজ।
তাই
*এই ধরনের অনুষ্ঠানে যোগদানের সিডিউল রেখে তিনি প্রচারের সুযোগ নেন।
*এই ধরনের অনুষ্ঠানে অনুপস্থীত থেকে তিনি তিনি সমালোচনা সহ্য করেও প্রচারের সুযোগ নেন।
* অনুষ্ঠান চলাকালীন সময়ে তিনি এমন কোন প্রগরামে পার্টিসিপেট করেন যেখানে তিনিই প্রধান অতিথি ; তিনিই সকল ফোকাসের কেন্দ্রবিন্দু।
আজকে বেগম খালেদা জিয়ার কুমিল্লা প্রোগ্রাম এর সময় আওয়ামীলীগ নেত্রী শেখ হাসিনা,র হবিগঞ্জ প্রগ্রাম দেখে হটাত সাত (৭) বছর আগে পড়া রিডার্স ডাইজেস্ট এর কথা মনে পরে গেলো।
এতটুকু কিন্তু নিশ্চিত করেই বলা যাবে
"সালনাম রুশদী" এর চেয়ে মার্কেট ডাম্পিং এ অনেক পাকা খেলোয়াড় শেখ হাসিনা।
অবশ্য প্রধান মন্ত্রী,র পদ টা আঁচলে ভালো করে বাঁধা না থাকলে গনেশ উল্টাতে কতক্ষন সময় লাগে সেটা দেখার অপেক্ষাতে বাংলাদেশ।

রিয়ালাইজেসন জাগ্রত হোউক

২৪ ডিসেম্বর ২০১৪

অনেকেই দেখছি বুলী কপচাচ্ছেন
"পুলিশ ছাড়া আসুন Rab ছাড়া আসুন"
দু:খিতো আপনি তাহলে বিভ্রান্তি তৈরি কারি।
আপনি এই অবৈধ সরকারের কাছে আবেদন করছেন এই বলে যে
"আস্তে মাইর দে; এত্ত জোরে মারিস না "
আপনি ছাত্রদল কে ভ্রান্ত আত্মতৃপ্তি দেবার চেস্টা করছেন
ছাত্রদলের মগজে আপনি গেঁথে দেবার চেস্টা করছেন যে
"বিরধীদের আন্দালন করতে হলে সরকার কে রাস্তা থেকে পুলিশ তুলে নিতে হবে "
আপনি ক্যান বলছেন না
"যারাই গন নির্যাতক হবে তাকেই প্রতিরোধ করার ক্ষমতা আমাদের আছে এবং আমরা তা করবো"
এরশাদ বিরধী আন্দালনে কি পুলিশ ছিল না?
দুনিয়ার তাবত গনআন্দালনের মূল চ্যালেঞ্জ পুলিশ বাহিনী।
ইতিহাস টা দেখুন না ক্যান?
নির্যাতন নিপীড়ন আর অবিচারে যখন পাছা দিয়ে গ্যাস্টিক ধুয়ার মত বাহির হচ্ছে তখন লিডার নামের আহাম্মকের ঢেকিরা বলছেন
দেখ দেখ বড় রাস্তাই রান্না হচ্ছে, খানা খাদ্য হবে আমাদের বিজয় উতসবে মেজবানি হচ্ছে সেই আগুনের ধোয়া উঠেছে।
আমরা যারা আজকের ঘটনাতে পূলক অনুভব করছি, নিউজফিডের ইন্দ্রজালে যাদের দুই ইঞ্চির লিংগ ছয় ইঞ্চীতে লাম্ফ দিয়েছে তাদের বলি একটু দারান।
আজকে যে নেত্রীকে গ্রেফতারের ক্ষিন সম্ভবনা ছিল, সেই হিসাব মাথাতে রেখে বলেন তো
যা ভাবছেন তা ঠিক ভবছেন তো
নিজের সাথে প্রবঞ্চনা করছেন না তো !
বাংলাদেশ জিন্দাবাদ
বিএনপি জিন্দাবাদ
রিয়ালাইজেসন জাগ্রত হোউক।

চুয়াডাঙ্গার রাজনীতি




আন্দালন ক্যামন আছে দেশের প্রথম রাজধানী চুয়াডাঙ্গা শহরে ।।

BNP দলীয়  শক্ত ব্যারাক চুয়াডাঙ্গা । ১৯৭২ এর পর রাজনৈতিক কোন পরাজয় BNP এখানে এখানে দেখেনি বিগত Pri-selected election ছাড়া । 
সকল সময় দলকে আসন প্রদান করা এ শহরে দলের কাথামোগত আবস্থান  আসলে ক্যামন ; কক্ষনও জানার চেষ্টা কেও করেনি । আমাদের এই রক্তারত জনপদে BNP ক্যামন ভাবে চলছে তা আমি দলের সঙ্গে থেকেই দেখেছি ।সত্য কথা বলতে গেলে Grooping রাজনীতির একজন সাক্ষী গোপাল আমি নিজেও এবং আমার বন্ধুরা ।
যদিও কোন না কোন  পক্ষের সাথে থেকেছি ; তবুও আজকে মন থেকেই চেষ্টা করব আমাদের কুটিল রাজনীতির অপ্রিয় সত্য কথা গুলী বলতে । বিশেষত দেশের ভয়ংকর দুর্যোগ পূর্ণ এই সময়ের কথা । 
কথা গুছিয়ে বলার অভ্যাস কোন কালেই ছিল না ; অতএব গঠন শৈলীর ভ্রান্তি গুলী   না দেখাই উত্তম ।


শুরুটা করি শেষ থেকে । 
চুয়াডাঙ্গা ১ আসনে বিগত নির্বাচনে দলের মননীত বেক্তি ছিল "অহিদুল ইসলাম বিশ্বাস" । তবে তিনি দলীয় হাই কমান্ডের প্রথম পছন্দ ছিলেন না । প্রথমত নমিনেশন গ্রহণ করেন প্রকান্ত ছাত্রদল নেতা "শামশুজ্জামান দুদু " ; এতে বিদ্রহি হয়ে ওঠে "অহিদুল ইসলাম বিশ্বাস"  ।এই "অহিদুল ইসলাম বিশ্বাস"  কে সমর্থন দেয় জামাত-ই-ইসলাম । জামাতের সমর্থনে এবং  "শামশুজ্জামান দুদু " এর যগাযগ ঘাটতি তে অবশেষে নমিনেশন পাল্টে দেওয়া হয় চার দিন পরে "অহিদুল ইসলাম বিশ্বাস" কে । এই নেতা প্রয়াত সংসদ সদস্য তুমুল জনপ্রিয় "শহিদুল ইসলাম বিশ্বাস MP এর ছোট ভায় । মূলত বড় ভায়ের প্রবল জনপ্রিয়তা কে ব্যাবহার করে কর্মীদের আবেগ নিজের পক্ষে নিতে সক্ষম হন "অহিদুল ইসলাম বিশ্বাস"  । এই অহিদুল ইসলাম বিশ্বাস ই  ইতিহাসে প্রথম পরাজয়ের বিস্বাদ দেন দলকে । ন্যূনতম ৫০,০০০ ভোটের পারথক্কে হেরে যায় সে । এই নেতার বিরুদ্ধে দলের ক্ষতি করার আরও একটা প্রমাণ দেই । দলীয় সিধান্ত উপেক্ষা করে সে এরা আগে পুরসভা নির্বাচন করে এবং স্থানীয় সরকার পর্যায়ে BNP কে প্রথম পরাজয়ের অভিজ্ঞতা দেয় । অবশ্য তারও পূর্বে সে চেয়ারম্যান নির্বাচিত ছিল এবং এই চেয়ারম্যানের বৃত্তান্ত অন্য সকল চেয়ারম্যানের মতই । 

এই আন্দালনে চুয়াডাঙ্গা জেলা BNP 
প্রথমেই জানিয়ে রাখি জেলা BNP তে গ্রুপ আছে মোট তিন টি । বিদগ্ধ জনেরা বলেন পাঁচটি ।

চুয়াডাঙ্গা জেলা BNP র সভাপতি হাজী মোজাম্মেল হক । এক সময়ের শান্তি কমিটির পলাতক চেয়ারম্যান । স্থানীয় সরকারের ছোট কিছু নির্বাচনে পরাজিত হয়ে এরশাদের জাতীয় পার্টী ঘুরে ৫ টাকা দিয়ে সদস্য পদ কিনে দলীয় নমিনেশন নেন এই নেতা ।১৯৯১ সহ চার টি জাতীয় নির্বাচনে অংশ নিয়ে ১ টি তে সফলতা পান তিনি।  এই আসন চুয়াডাঙ্গা ২ । জনগণ তো দুরের কথা , কর্মীদের কথাও বলছি না , সিনিয়র নেতাদের সাথেও তাঁর কোন ধরনের যগাযগ নায় । তিনি রাজধানী তে বসে তাঁর বাণিজ্য নিয়েই বেস্ত থাকতে পছন্দ করেন । তারা অনুপ্রবেশের পরে তাঁর আসন চুয়াডাঙ্গা ২ এ এখনও পর্যন্ত ১ টিও হরতাল পালন করা হয় নি কারন তিনি চান না । দুষ্ট জনেরা বলে তাঁর বিশাল বাণিজ্য এবং সরকারী দলের সাথে গোপন সম্পর্কের কারনেই এমনটা ঘটে। কথিত আছে তিনি নির্বাচনে চুয়াডাঙ্গা ১ আসনের প্রতিপক্ষ দলের প্রাথি কে নির্বাচনী ডনেসন প্রদান করেন । এই মুহূর্তে চরম আন্দালনের সময় তিনি মাঠে উপস্থিত নায় ,এমনকি তাঁর কোন নির্দেশনাও আমাদের কাছে আসেনি ।

সামসুজ্জামান দুদু র  জেলা BNP তে সক্রিয় হবার পেছনের মূল কারণটিই গ্রুপিং ।  প্রয়াত  মিয়া মনসুর কে মাইনাস করার  লক্ষে জেলা BNP র Play maker রা দুদু ভাই কে Introduse করান । তাঁর আগমনের খবরে সমগ্র জেলা তে সাজ সাজ রব উঠে । সকলেই আশাবাদী হয়ে উঠেন এই সাবেক ছাত্রনেতার আগমনী সুরে । তাঁর শুরুটাও ছিল দুরদান্ত । প্রথম নির্বাচনের সময় অতি সাধারন বেসে সাধারণ মটর সাইকেলে  তাঁর প্রচারকারজক্রম জনগণের কাছে আকর্ষণীয় হয়ে ওঠে । ফলাফল বিপুল বিজয় । একপর ই শুরু পতন ।। নাটকীয় পতন । এলাকাতে পুরাপুরি Out of reach .দলীয় নেত্রী চুয়াডাঙ্গা সফরে আসলেন সেসময় ।দল তখন ক্ষমতাতে । নিয়তির পরিহাস নেত্রীর সাথে সার্কিট হাউসে দ্যাখা করতে বেরথ হলেন  কর্মীদের প্রতিবাদের মুখে । সেখানের হট্টগোলের মধ্যে যে আরও অনাকাঙ্ক্ষিত কিছু হয় নি ; সেটা আমরা জোড় গলায় বলতে পারি না । মধ্যাহ্ন ভোজের সময় ঝিনেইদাহ র MP মসিউর রহমান এবং কুষ্টিয়ার MP রুমি তাঁকে ভোজন কক্ষে নিয়ে যেয়ে মান রক্ষা করেন । নেত্রী সম্পূর্ণ ঘটনাই অবগত হন ।
রাজনীতি খেলা তে তিনি এখন দলীয় ২য় শীর্ষ বেক্তি । অথচ কোন আন্দালনেই কথাও নায় তিনি । তাঁকে জিগ্নাসা করলে উত্তর করেন মাননীয় মহাসচিব না কি তাঁকে ঢাকা ষ্টেশন ছারতে নিষেধ করেছেন । অবশ্য পূর্বের মহাসচিব খন্দকার দেলোয়ার হোসেনের সময়ও তিনি ঐ মহাসচিবের দোহায় দিতে পছন্দ করতেন ।আজ অবরোধ চলছে । শহরে ছাত্র দলের ছেলেরা মাঠে পুলিশের মার খাচ্ছে , ছাত্র লীগের হুমকি মোকাবেলা করছে । মীটিং , মিছিল , পিকেটিং চলছে ; শহরের অলিতে গলিতে বারুদের গন্ধ । অথছ কোথাও কেও নেয় । ছাত্রদলের সেই আমলের সিংহ পুরুষ আজ বড়ই কাপুরুষের মত আচারন করছে । আমাদের বর্তমান ছাত্র দলের ছেলেরা যখন ৯০ এর গল্প শুনতে চায় ,এরশাদ বিরধি বীর গাঁথা শুনতে চায় ; তখন মনে তারা যেন রূপ কথা শুনছে । বলেই বসে অনেকে " ভাইয়া দুদু ভাই তখন _ _ _? কি বলেন "  । বোঝাতে বেগ পেতে হয় । হায়রে ইতিহাস ।

অহিদুল ইসলাম বিশ্বাস ওরফে মোল্লা , এই সাবেক চেয়ারম্যান যেন জামাত-ই-ইসলামি র মহান কর্মী । দলের চেয়ে তাঁর আনুগত্ত গ্রুপিং কারী অচেনা লোকদের জন্য । তাঁর সঙ্গী সাথী দের দিকে তাকালে লজ্জা পেতে হয় । ত্যাগী নেতা  ত্যাগী কর্মী কোন বিষয় নয় তাঁর মূল বিষয় তাঁর তোসামদ কারিরা । হতাথ দেখবেন আপনার শ্রমে সংগঠিত সেমিনার , মীটিং বা মিছিলে মোল্লা উপস্থিত । তবে যখন বিপদের সময় আসে , পুলিশের নির্যাতন শুরু হয় তখন তিনি ঢাকা শহরে জনসংযোগে বেস্ত থাকেন । এই যেমন এখন  এই প্রতিকূল সময়ে তিনি এলাকাতে নায় তেমনি তিনি আসবেনও না এই বিপদের দিনে । তাঁর আচারন হ্যালির ধূমকেতুর মত । লম্বা লম্বা বিপদের সময় পার করে তিনি আমাদের দ্যাখা দেন বা শহরে পদধূলি দেন । এই আন্দালনে যদি পুলিশ নিরীহ হয়ে যায় কোন কারনে ; দেখবেন মোল্লা ঠিকই হাজির হবে ।

শহরে এখন এসেছে নতুন প্রেমিক  নাম সৈয়দ কাম্রুজ্জামান আজাদ ; তিনি সাবেক সামরিক কর্তা । বন্ধুরা বলে গাছের গোঁড়া রঙ করা তাঁদের এক মাত্র কাজ । শোনা যাচ্ছে তিনিও মননয়ন আশা করছেন । শুরুতে বেস খাতা খাটনি করলেন । এখন তিনিও উধাও । বলে রাখা ভাল এই কর্নেল BDR বিদ্রহে গুলী খেয়ে বেঁচে যাওয়া এক বিরল ভাগ্যবান । গোপন টেপে যে প্রতিবাদী সৈনিকের কণ্ঠ শোনা যায় তিনিই সেই কাম্রুজ্জামান আজাদ  । বরাবরের মত তাঁকে নিয়েও স্বপ্ন দেখেছিল  রক্তারত জনপদ চুয়াডাঙ্গা র দলীয় নেতা কর্মীরা । কিন্তু আজকেই এই অতি প্র্যজনিয় সময়ে তিনিও কোথাও নায় । ।

যায় হোক দুর্নাম বদনাম গীবত অনেক হল এখন On Record বলে রাখি আজকের আন্দালনে মাঠে যারা ছিল তাঁদের নাম ।

দলের নীতি নির্ধারণ পর্যায়ের জেলা নেতাদের মধ্যে 
এ বি এম হাসান হাসু 
সরদার আলী
রেজাউল করীম মুকুট
খন্দকার আব্দুর জব্বার সোনা 
ওয়াহিদ্দুজামান বুলা 
আমি বলতে চায় না এই পাচ জনের কয়টি উপ দলের সদস্য । তারা যে উপস্থিত ছিলেন এবং অনুপ্রেরণা দিয়েছেন সেটায় আসল কথা ।

ছাত্র দলের  ছেলেদের মধ্যে আমাদের অনেক কাছের বন্ধু যুগ্ন আহ্বায়ক ফিরোজ সররার রোমান  শহরে নায় । তাঁকে বলছি বন্ধু তোর কাছে এটা আশা করিনি। ।  সুবিধা বাদী নেতাদের সাথে তুই এক গোয়ালের গরু হবি না বলেই বিশ্বাস ছিল ।
যারা মাঠে আছে তারা দায়িত্ব পালন করছে । আশা করি কোন স্বার্থে কাজ করছে না । যারা কাজ করছে না কিন্তু আগামী দিনে হালুয়া রুটির ভাগ চেটে পুটে খাবে তাঁদের  ময়না তদন্ত আমাদের যুগান্তরের যাত্রীরা করবেই ।।

Why Zia?

বিধবা বিবাহের বিরুদ্ধদের বিরুদ্ধে কথা বললেন, নিজের ছেলেকে বিধবার সাথে বিয়ে দিলে।


ঈশ্বরচন্দ্র গেঁথে গেলেন মানুষের মনে , সমাজ সংস্কারের উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপন করলেন তিনি ।



ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চলিত নিয়ম ভেঙ্গে ভর্তি হলেন বিপ্লবী লীলা নাগ..
প্রথম ছাত্রী তিনিই.. তিনি প্রশাসন কে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হন এবং একজন শিক্ষক তাঁর নিজের কোয়ার্টারে তাকে মেস হিসাবে ব্যবহার করতে দেন... এই সূত্র ধরেই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে কো-এডুকেশন শুরু হয়...



ভারতীয় উপমহাদেশে বৃটিশ বিরোধী আন্দালনের সময় মোহন দাস করম চাঁদ গান্ধী,র ভেজিটেরিয়ান অহিংস সুবিধাবাদী নীতির বিরোধীতা করে ফুঁসে উঠেন নেতাজী সুভাস চন্দ্র বসু ,ভগত সিং প্রমুখ ।আজ ইতিসাসের ব্যাবচ্ছেদে গান্ধীজী অজস্র সমালোচনার মুখোমুখি হলেও মানুষের হৃদয়ে অবিনশ্বর আসন করে নিয়েছেন সুভাস বোস এবং ভগত সিং ।


জাতপাত ,ধর্মের গণ্ডি ভেঙ্গে মানবতার গান নিয়ে , মানবতার বানী নিয়ে বাংলার ধুলী উঠা প্রান্তরে মানবতার ইশতেহার নিয়ে হাজীর হন লালন সাই ।লালনের এই সংস্কার আজীবন গ্রথিত থাকবে বিশ্ব মানবতার কল্যানে ।


অর্নেস্ট চে গুয়েভা ; সাম্য ভিত্তিক অর্থনীতি প্রতিষ্ঠার জন্য ঘর ছেড়েছিলেন , বিপ্লবের ব্লুজ সুরে মন্ত্রিত্ব , ক্ষমতা , প্রতাপকে পায়ে পিষে বেড়িয়ে পরেছিলেন ...


কিংবদন্তী বক্সার মোহাম্মদ আলী ; ভিয়েতনাম যুদ্ধে যেতে অস্বীকার করেন যেহেতু সেই যুদ্ধ ছিল অপ্রয়জনীয় এবং মানবতা বিরোধী । আলীর এই মানবতাবাদী বোধ তাঁর বক্সার পরিচয়ের চেয়েও উজ্জ্বল ।


সমাজের ভ্রান্ত নীতি ভেঙ্গে যারা সমাজের কল্যাণের জন্য নতুন নিয়ম গড়ে তাদেরই তো বলে সমাজ সংস্কারক।

তাহলে জিয়া কেন সংস্কারক নয়?


নজরুল বলেন "
নরককুন্ড বলিয়া কে তোমা’ করে নারী হেয়-জ্ঞান?
তারে বলো, আদি পাপ নারী নহে, সে যে নর-শয়তান।
অথবা পাপ যে-শয়তান যে-নর নহে নারী নহে,
ক্লীব সে, তাই সে নর ও নারীতে সমান মিশিয়া রহে"

নিজের পুরুষ স্বত্বাকে পরোয়া না করেই মানবতার কথা বললেন কাজীদা ...


জিয়াও এই কথায় বিশ্বাস করতেন
কাঠ মোল্লাদের আপত্তি স্বত্তেও পুশিস সহ বিভিন্ন বাহিনীতে নারীর অংশ গ্রহন নিশ্চিত করেন....
পরিবার পরিকল্পনার কথা এই দেশে যেন ভাবাই যেতো না। অথচ জিয়া আগামীর সমস্যা সবাইকে বুঝিয়ে এই দেশে পরিবার পরিকল্পনা প্রকল্প হাতে নেন...


শিশুদের জন্য নতুন কুড়ি আর যুক্তিবাদী প্রজন্মের জন্য উন্মুক্ত বিতর্ক এসব জিয়ার দেখানো পথ...
Bottom less basket , সাহায্যের আশাতে হাভাতের মতো চেয়ে থাকা বাংলাদেশ থেকে জনশক্তি রপ্তানির মাধ্যমে কার্যকর শ্রম শক্তি গড়ে তোলেন এই জিয়া ।

বাংলাদেশের মুণ্ডু যখন পিন্ডি VS দিল্লীর পারস্পারিক ফুটবল খেলার রাফ ট্যাকেলে রক্তার্ত তখন এই সব অযোগ্য পররাষ্ট্র নীতি থেকে দেশ কে মাথা তুলে দাঁড়াবার পথ দেখিয়েছিলেন এই মুক্তিযোদ্ধা জিয়া ...


এই জিয়াকে মাথায় তুলে নাচবো নাকি উন্নয়নের পথ রুদ্ধ করে নিজের চুরি যাওয়া কম্বলের সন্ধানে রক্ষী বাহিনী নামানো আলাদের সন্ধান করবেন সেটা একান্তই আপনার দেশপ্রেমবোধের ব্যাপার ।
স্বনির্ভর বাংলাদেশ জিন্দাবাদ

মঙ্গলবার, ১৯ মে, ২০১৫

ঢাকা সিটি

আপনারা ঢাকাকে বিশ্বমানের নগরী করতে চান?
Good thinking
তাহলে আসুন ; হয়ে যাক কয়েকটা ইদুর ধরা.....
আচ্ছা আপনি জানেন কি আজ যখন ঢাকাকে বাসযোগ্য বানানোর জন্য আপনারা ভোট দেবার আশাতে অপেক্ষা করছেন ঠিক সেই সময় বসবাস অযোগ্য মহানগরের তালিকাতে ঢাকা প্রথম স্থানটা দখল করে বসে আছে।
দামেস্ক আর গাজা সিটি,র পরেই সবচেয়ে বেশি গুমের স্বিকার হয় এই শহরের বাশিন্দারা।
একটা সময়ে ঢাকা ছিল তিলত্তমা ঢাকা। তারপরে ঢাকা ছিল বিপ্লবের উন্মুক্ত দুয়ার।
সেই ঢাকা বাস অযোগ্য কেমনে হলো এই প্রশ্নের উত্তর খুজছেন কখনও?
ঢাকার বাতাস একসময় কালো ছিলো, বিষাক্ত শিসা ছিল নিশ্বাসের উপকরন।পোড়া মবিলের গন্ধে টিকে থাকা দায় ছিল।
সেই সব দম বন্ধ পরিবেশ থেকে মুক্তি মিলেছিল কিভাবে?
এখন আবার কেন বাতাস বিষ হলো?
এরজন্য দায়ী কারা?
ঢাকাতে প্রথম শব্দ সহনীয়তার মাত্রা নির্ধারন হয়েছিল কবে?
স্কুল হাসপাতাল গুলির সামনে সাউন্ড মিটার বসিয়েছিল কারা?
একটা সময় এই ঢাকার খালি যায়গার মাটিতে প্রতি বর্গ ফুটে শত পলিথিন পাওয়া যাইতো।
বুড়িগঙ্গা আর তুরাগের তলদেশে তৈরি হয়েছিল পলিথিনের পাহার।
ড্রেনেজ সিস্টেম আটকে থাকতো প্লাস্টিক ব্যারিয়ারে।
কে বন্ধ করেছিল সেই নেক্কারজনক প্লাস্টিক কালচার?
ভুমিকম্প প্রবণ এই ঢাকাকে যা আরও ঝুঁকির মাঝে ফেলে দিয়ে ছিলো, এর থেকে মুক্তির পথ কারা দেখিয়ে ছিলো?
ঢাকা শহরে বছর ১৫ আগেও ছিল ইটের ভাটা, কাঠ কয়লা দিয়ে চলতো সেই সব কার্বন খনি।
কে নিষিদ্ধ করেছিল সেই সব আবর্জনা তৈরির কারখানা?
ব্রাদার্স
wait, wait a second..
দীর্ঘ নয় (৯) বছর পরে যাচ্ছেন তো সিটি সরকারের ভোটটা দিতে। যাবার আগে একবার বলেন দেখি আপনাদের ভোটে সিটি মেয়র নির্বাচিত করবার অধিকার প্রথম কে দিয়েছিল আপনাকে?
এই প্রশ্নগুলার উত্তর খুজলেই পেয়ে যাবেন ঢাকার জন্য কোন দলের প্রার্থী যোগ্য
বিবেচনাবোধ টা আপনার। একান্তই আপনার।
নিজের ভালো নাকি পাগলেও বোঝে। অতএব সুস্থ মানুষ হিসাবে আপনার দ্বায়িত্তটা একটু বেশীই।।।

৩৬ চাইনা টাউন

২০০১ এর দিকে হবে হয়তো ।
তখন RMG এতটা খারাপের দিকে যায় নায় ।চাইনিজ আর ফিলিপিনোরা উঠেপড়ে লেগেছে এই সেক্টরের দখল পোক্ত করার জন্য।
তাবৎ দুনিয়া,র বড় বড় রিসার্চ সেন্টার আর রিসোর্সিং এজেন্সি গুলিতে চাইনিজ এবং ফিলিপিনো তরুণ তরুণীদের পদচারনা তখন ; তারা শিখছে ,ইন্টার্নি করছে, করার পরে ফিরে যাচ্ছে দেশে । আমাদের বাংলাদেশ তখন এই প্রক্রিয়ার বাইরে না । তারা বাংলাদেশেও আসছে ।
দেশে তাঁদের অনেক ডিমান্ড ; একদিকে চাইনিজ এজেন্ট মার্কেটিং ক্যাপাবিলিটি অন্য দিকে চলমান ট্রেনিং প্রোর্গ্রাম ।
বাঙ্গালী তো এমনি এমনিই নাচে । এই শিক্ষানবিশ দেরকেই বস বলে ডাকতে ডাকতে মুখে ফেনা তুলে ফেলার যোগার !!
এমন সময় চিঠি এলো
"আমাদের দেশে আপনাকে স্বাগত জানতে আমরা অপেক্ষা করছি; আসুন ফিলিপিনে আমরা আপনাদের সাথে অভিজ্ঞতা বিনিময় করে ধন্য হবো ।আমাদের ইয়াং প্রফেশনাল দের ট্রেনিং দিন ।বিনিময়ে আমাদের কৃতজ্ঞতা এবং আপ্যায়ন আপনাদের জন্য থাকছেই।"
সালা নাক বোচাদের কাম শিখামু ! আমি কি হনুরে টাইপ ভাব এসে গেল ।অহংকারে আর মাটিতে পা পরে না ।
পাসপোর্ট নিয়ে গেল ওদের লোকজন । পাচ দিনের মাথায় Thanks giving কার্ড সহ ভিসা হাতে চলে এলো ।
বিমানের টিকেট প্রস্তুত আছে ; আমাদের জমা হতে হবে এয়ারপোর্ট লাউঞ্জে ।
এমন সময় একটা নতুন মেইল আসলো ।
প্রতিদিনের সিডিউল , ওয়ার্ক প্লেস , রাস্তার ছবি , হোটেলের বিস্তারিত সব সব কিছুই আমাদের ব্রিফ করা হল ।
কিছু প্রশ্ন ছিল আমাদের জন্য যেমন
১। খাবার হালাল চান নাকি অর্ডিনারি হলেও চলবে?
২। ব্রেক ফাস্টে আপনার পছন্দ কি ?
৩। লাঞ্চে কি খেতে চান ?
৪। ডিনার কি হোটেলেই করতে চান?
৫। বিছানা,তে বালিশ লাগবে কয় টা ?
এই সব আর কি ।
ওদের প্রফেসনালিজম দেখে বেকুব বনে যাবার দশা ।
প্রশ্নমালার শেষের দিকে আরো একটা প্রশ্ন ছিল ।
*আপনি সন্ধাকালিন সঙ্গী হিসাবে কেমন নারী পছন্দ করবেন????
আমি স্মার্ট পোলার মত জানিয়ে দিলাম অফকোর্স চাইনিজ অরিজিন বাট ইংরাজি জানতে হবে ।
কিছুক্ষন পরে বস জানালো ফ্যাক্টরি তে ওয়ার্কার আনরেস্ট হবার চান্স আছে ।তুমি স্টেশন লিভ করবা না ।
পুরাই স্ককড ।
আমার কোম্পানি বস আমার বাবা ।
ইমেলের সব কপি তো আমার বসের কাছে একটা করে পৌছে যেতো ; উত্তেজনার বসে সব ভূলেই গিয়েছিলাম।
সেই সময় অনেক উচ্চ পদের একজন সেলিব্রেটি গার্মেন্ট ব্যাবসায়িও ফিলিপিন গিয়েছিলেন যার অন্তত ট্রেনিং করাবার মত টাইম থাকার কথা না , নাইট পার্টনার বিনা পয়সাতে পাওয়ার আগ্রহ থাকার কথাও না ; তার রাজনীতি করার কথা , ভোট করার কথা ,সংগঠনের সভাপতি হবার কথা ।
তবুও তিনি সব গুলিই করেন ।
মুফতে পেলে এরা আলকাতরাও খেতে পারে । ঢাকা শহরের গেটের চাবি হাতে পেলে এরা ঢাকাকে পোড়া বাড়ীর চমচম বানিয়ে গিলে খাবে No doubt..

Marriage never completes without divorce

"জেল জুলুম হুলিয়া , নিতে হবে তুলিয়া"
এক সময়ের জনপ্রিয় রাজনৈতিক শ্লোগান ছিল ।
জনপ্রিয়তা পাবার নেপথ্য কারন ছিল ;
সেই পাকি শোষক আইয়ুব খান থেকে বাংলা স্বৈরাচার হেসাইন মুহাম্মদ এরশাদ সাহেবের আমল পর্যন্ত রাজনৈতিক এবং বিরধী মতের প্রাকাশকারিদের জব্দ করার উত্তম মাধ্যম ছিল মামলা ঠুকে জেলে পুরে দেওয়া বলে।
জেল জুলুম হুলিয়া যখন ক্রমবর্ধমান গতিতে চলমান ; সেই সময় মানুষ রাজপথ কাঁপাতে লাগল আরো জোরালো ভাষাতে ।
"লড়াই লড়াই লড়াই চাই ; লড়াই করেই বাঁচতে চাই"
সেই লড়াই আজো সমান ভাবে চলমান। দুনিয়ার এক প্রান্তে যখন একনায়ক স্বৈরতন্ত্রের পতন ঘটে তখন অন্য প্রান্তে পতিত বর্জের ভেতর জন্ম নেয় নতুন স্বৈরাচার। ভাঙ্গা গড়ার এক প্রক্রিয়াগত খেলা ।
মোহন দাশ করম চাঁদ গান্ধী সাউথ আফ্রিকা তে গিয়েছিলেন ব্যারিস্টারি পরতে।মাঝে মাঝেই তাকে ট্রেন ভ্রমণ করতে হতো।ট্রেনে কালো চামড়াদের জন্য সংরক্ষিত ছিল বিষেশ কামরা। সাদাদের সাধারন কামরা গুলিতে প্রবেশাধিকার সম্পূর্ন রিজার্ভড।
এই নিয়মের তোয়াক্কা না করে সাদা কামরা তে উঠে বসার অপরাধে গান্ধীজিকে চলমান ট্রেন থেকে ধাক্কা দিয়ে ফেলে দেওয়া হয়েছিল।
জনসংযোগ বৃদ্ধি করে স্বৈরাচারের গদি টালমাটাল করে দেবার কারনে বার্মিজ কিংবদন্তি আং সাং সুচি কে লম্বা গৃহবন্দিত্ত বরন করতে হয়।
নেলসন ম্যান্ডেলা কে ৩০ বছরের অধিক কারাভোগ করতে হয় তার দেশের সংখ্যা গুরু মানুষের ন্যায্য অধিকার আদায়ের জন্য ।
ইয়াসির আরাফাতের কথা না হয় নাইবা বলি এই ভদ্রলোক কে আমৃত্যু লড়াই চালিয়ে যেতে হয়েছিল ফিলিস্থিনি মানুষের স্বাধীনতা পুনঃ আদায়ের যুদ্ধ চালাতে যেয়ে ।
আরব বসন্তের জোয়ারে ক্ষমতার আসনে বসে ছিলেন মোহাম্মদ মুরসি ।
13.2 মিলিয়ন অর্থাৎ ৫১ শতাংশ ভোট পেয়ে ক্ষমতাতে আসা মুরসির দলকে নিশিদ্ধ থাকতে হয়েছিল কয়েক যুগের বেশি সময়।
এতসব চলার পরেও যখন স্বৈরাচারের ক্ষমতার লিপ্সা বিন্দুমাত্র কমে যায় না তখন মানুষ আওয়াজ তোলে ......
"দিয়েছি তো রক্ত আরো দেব রক্ত
রক্তের বন্যায় ভেষে যাবে অন্যায়"
এইসবের সবকিছুই আমাদের সোনার বাংলাদেশের সাথে যায় , এক্কেবারে খাপে খাপ মিলে যায় ।
দেশের বিরধী মতের প্রধান ধারককে আজ দুদিন ধরে রাজপথে আঘাত দেওয়া হচ্ছে । পেশী শক্তি নির্ভর সরকারদের কাছে অবশ্য পেশী শক্তি ব্যাবহার কোন নতুন কিছু না , সামপ্রদায়িক সরকারী শক্তিগুলি সবসময়ই মৌল এবং চরম পন্থার প্রকাশক ।পরমত সহিষ্ণুতা যে সহ্য করার যোগ্যতা রাখে না তার চেয়ে বড় মৌলবাদ আর কেই বা হতে পারে ।
বিশ্বে এ যাবত যত বড় বড় মৌলবাদী শক্তির উদ্ভব হয়েছে তা উত্তর কোরিয়া হোক , রাসা হোক, ইজরাইল হোক , সৌদি বা ইরান,মিসর হোক অথবা কিউবা বা বাংলাদেশ হোক প্রতিটি স্থানেই মৌলবাদের এবং চরম পন্থার প্রশার করতে সাধারন মানুষের উন্মুক্ত মতামত এবং ভোটাধিকার হরণ করা হয়েছে প্রথমেই ।
বৃটিস সোসাইটিটে বেশ জনপ্রিয় টোটকা হচ্ছে _
Marriage never completes without divorce...
"বিচ্ছেদ ব্যাতীত বিবাহ চক্র পূর্ন হয় না "
মৌলবাদের চক্র পূর্ন করতে স্বৌরাচারের হাত কি ইস্কাপনের টেক্কা টাই খুঁজছে ??

আনিসুল হক

বিড়াল কে বলা হয় মাঘের মাসী।যদিও শক্তির বিশাল ফারাক ।
বাঘ-মহিষ নাকি ঠেলাতে পড়লে এক ঘাটেই জল খায় । আসলেই কি তাই ?
তবে ঠেলাতে পরলে বাঘ এবং শিয়াল একসাথে শিকারে যায় ;এটা সত্য ।
যায় হোক রামপাল এফেক্টের ফোরকাস্ট পাবার সাথে সাথেই সুন্দর বনে দূর্ভিক্ষে ঘনঘটা। শিকার নেই বনে।ধূর্ত শিয়াল মামা বাঘের গুহাতে যেয়ে কলিং বেল দিল । হুঁক্কা হুয়া হুক্কা হুয়া।
কে? ভেতরে আয় । শিয়াল পন্ডিত গুহাতে মাথা ঢুকালো।
শিয়াল বলল, মামা অনেক দিন ভালোমন্দ খাওয়া হয় না, চল আজকে শিকারে যায় দুই ভাই। রান্নার দায়দ্বায়িত্ব সব আমার ।
বাঘ ভাবল, কাঁচা মাংসের স্বাদ একঘেয়ে লাগে । শিয়াল পন্ডিত যদি রান্না করে খাওয়াইয় তো মন্দ কি ? বাঘ মামা রাজী হয়ে গেলো।
শিয়ালও কিন্তু কাঁচা খেলোয়াড় না । মামা ভাগ সমানে সমানে ভাগ হবে তো ? নিশ্চিত হতে চাইলো সে।
আমি ন্যায্য হিসাব দিব রে, পন্ডিত বাঘ মামার আশ্বাস।
অতপর দুজন চলল বনের ধারে ধারে । বনের চারদিক আমলকি গাছে ভর্তি, সেই আমলা গাছের ফাঁক দিয়ে দেখা গেল মোষের দল । শিয়ালের ইশারা পেয়ে নিঃশব্দে শিকার স্থির করে নিচ্ছে বাঘ । ধারালো দাঁত আর হিংস্র নখ বের হয়ে আসছে কাঁচা মাংসের লোভে। নিরীহ দেখে একটি মোষের উপর ঝাঁপিয়ে পড়ার সাথে সাথেই শিকার নিস্তেজ হয়ে চলে এল বাঘের থাবার নিয়ন্ত্রণে । মোষের সঙ্গী সাথীদের টিকিটিও দেখা যাচ্ছে না কোথাও।
টেনে হেঁচড়ে শিকারকে নিয়ে আসা হল বাঘের গুহার সামনে । শেয়াল মামা রান্না বান্না শুরু করে দিল । কিছুক্ষণের মধ্যেই মন মাতানো ঘ্রাণ ছুটে গেল সারা জঙ্গলে। এই আকালের যুগেই প্রস্তুত হয়ে গেল কারী, স্টিমড মিট, বারবিকিউ , ঝাল ফ্রাই ,কোরমা , আর মিট সালাদ। শিয়ালের আর বাঘের বাচ্চাদের মনে বড় আনন্দ আজ !
আহা কি আনন্দ আকাশে বাতাসে ,থেকে থেকে পাখি ডাকে ,কত সুধা চারী পাসে....
বাঘ মামা চারখান প্লেট আনলো ঘর থেকে । এর মধ্যে আবার মেহমান ক্যান ? বিরক্তিকর জিজ্ঞাসা শিয়াল পন্ডিতের ।
"টেনশন নিস না পন্ডিত, ম্যায় হু না"
শোন তুই আর আমি হান্টিং করেছি তাই হিস্যা ন্যায্যই হবে।
মামা তাহলে চার প্লেট ক্যান । শিয়ালের ঈষৎ ভ্রু কুঞ্চন।
তুই আর আমি এক সাথে মোষ ধরেছি তাই আমার একভাগ আছে । ঠিক?
ঠিক মামা, শিয়াল বলল।
আমি বনের রাজা তাই আরো এক ভাগ আমার । এ্যম আই রাইট ? জি হুজুর রাইট।
আমার শক্তি ক্ষয় বেশী হয়েছে তাই আরো একভাগ আমার ।তোর কোন আপত্তি আছে ?
আপত্তি প্রশ্নই আসে না বাঘ মামা , বাকি এক ভাগেই আমার বেশ হয়ে যাবে।
ঐ একভাগ যেটা থাকে ওটাও আমি খাবো, তুই বাঞ্চোদ পারলে ঠেকা !!
দন্ত স্ফীত কতে বাঘের খাওয়া দাওয়া শুরু হলো ।
***** এতক্ষন যে বিশাল গল্পটি ফেঁদে বসলাম তার পিছনে একটি সত্য ঘটনা আছে। ২০০৫ সালে প্রতিষ্ঠিত “দেশ এনার্জী” নামক প্রতিষ্ঠানের অধীনে সিলেটের কুমারগাঁও এবং নারায়ন গঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জে ভাড়া ভিত্তিক দুটি তেল নির্ভর বিদ্যুত কেন্দ্র আছে যেগুলোর উতপাদন ক্ষমতা ১১০ মেগাওয়াট। এই প্রতিষ্ঠানের ১০ শতাংশ করে মোট বিশ শতাংশ শেয়ার আছে বাংলাদেশে তরূন উদ্যোক্তা নূহের লতিফ খান এবং তার বোন শাহপার সাবার। ২০০৬ সালে মোহাম্মদী গ্রুপের চেয়ারম্যান আনিসুল হক এই প্রতিষ্ঠানের অংশীদার হন। এবং তার পরেই আনিসুলের ছেলে নাভিদুল হক এবং আনিসুল হক নিজে বিভিন্ন ভাবে অনিয়ম ও দূর্নীতির মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানটির শেয়ারের ২০ শতাংশ নূহের লতিফ খান এবং শাহপার সাবার কাছ থেকে করায়ত্তের চেষ্টা করে। এই নিয়ে নূহের লতিফ খান এবং শাহপার সাবার সাথে আনিসুল-নাভিদের সম্পর্কের অবনতি ঘটে। পরে তাঁরা আদালতের দ্বারস্থ হলে আদালত নায্য মূল্যে আনিসুল হককে উক্ত শেয়ার কিনে নেয়ার আদেশ দিলেও আনিসুল হক বিভিন্ন তালবাহানার মাধ্যমে আজও সেই টাকা পরিশোধ করেনি। আদালতে আনিসুল হকের পক্ষে ওকালতি করেন আওয়ামীলীগ সাংসদ ব্যারিস্টার ফজলে নূর তাপস।
এখন আপনারা সিদ্ধান্ত নিন এই ঢাকা শহরের দ্বায়িত্ব আপনারা কি আনিসুল হকের মত একজন ধূর্ত মানুষের হাতে দিতে চান?

ছাত্রদলের রেসিপি

ছাত্রদলের ছিদ্র অন্বেষন করতে যারা পছন্দ করে আমি ব্যেক্তিগত ভাবে তাদের একজন।
হতে পারে নিজে ছাত্রদল করেছি সেটা একটা প্রভাবক।
হতে পারে পরন্ত যৌবনের শেষ আলো মাখা সময়ে ছাত্রদলের কোন স্থানে ছিলাম বলে গত এক যুগের ম্রিয়মাণ এবং চরম বাণিজ্যিক ছাত্রদলটা বড় বেশি অসহ্য লাগে।
সম্ভবত সোহেল-পিন্টু ভায়ের ছাত্রদল ছিল ছাত্রদলের শেষ ম্যাজিকাল লিডারশীপ।
এর পর থেকেই ক্ষয়ের পথে একটু একটু করে এগিয়ে যাওয়া।
এই ক্ষয় যাত্রা,র মূল দায় যাদের তাদের দশাসই একটা অংশ ছাত্র নামের ওল্ড হ্যাগার্ডরা হলেও সবচে বড় দায়টা এড়াতে পারবে না দলের বটবৃক্ষসম নেতারাও।
ক্ষমতার মসনদে থাকাকালীন সময়ে সীমাহীন ট্যেন্ডারবাজীর সুযোগ দেওয়া, সুপারিশ বানিজ্যের এজেন্ট বানানো এবং কমিটি প্রনয়নে চূড়ান্ত ব্যার্থতা আজকের এই পতনের পাথেয়।
ইভেন ভূল বা অযোগ্য কমিটি প্রনয়নকেও মন্দের ভালো বলতে বাধ্য অন্তত কমিটি দিতে না পারার চেয়ে।
ভালো হোক মন্দ হোক চলমান কমিটি থাকলে অন্তত সম্ভবনা থাকে যে দুই বছর যোগ্যতা প্রমান দিতে পারলে,কার্যক্রমে সচল থাকলে আগামীর কমিটিতে স্থান হবে।
যেখানে দুইটার্ম বা তিন টার্ম কমিটি না হলে ; নতুন কমিটিতে মধ্যখানের কোন প্রজন্ম কে বাদ দেওয়া ছাড়া বিকল্প থাকে না।
আশা করতে চায় প্রতি দুই বছরের মাথাতে নতুন কমিটি (প্রেসিডেন্ট ও সেক্রেটারি সহ) আসলে অসন্তস খুব বেশি জমা হবে না। কারন নতুন সুযোগ শিঘ্রি আসবে সেটা নিশ্চিত হওয়া যাবে।
এখনো হয়তো ছাত্র আন্দালনে অবশম্ভাবি জনতা পুশ ইন লাগে তবে আজকের ছাত্রদলের এক্সানের দেখার পরে বলাই যায় অল্প সময়ের বুস্ট-আপে ছাত্রদল আবারো ভেনগার্ড হবার দিকেই আগাচ্ছে।
আবারো বাংলাদেশের রাজনীতির মূল কারিগর হবে ছাত্রদল।
ছাত্রদলের বদনাম করার জন্য ছাত্রদল তাদের পার্ফমেন্স দিয়ে আবার আমাদের মুখ বন্ধ করে দেবে ; সেই প্রত্যাশাতে একটু একটু আশার প্রদীপ জ্বলা শুরু হল আজ।
ছাত্রদল জিন্দাবাদ

স্যাম্পল

রাজকূট এবার জমে উঠতে পারে।
লড়াই এবার জমে উঠছে।
লড়াই জমে উঠার কথাই ছিল।
দেখার বিষয় ছিল মানুষের লড়াইয়ে নেত্রিত্ত বিএনপি দিতে পারে কি না পারে!
অসংখ্য জন গুরুত্তপূর্ন ইস্যুকে মোটেও পুজি করতে পারেনি বিএনপি।
অসংখ্য নারী ধর্ষিত হয়েছে ;অথছ একজন দিনাজপুরের ইয়াসমিন তৈরি হয়নি।
সারের মূল্য বৃদ্ধীতে অনেক প্রান্তিক কৃষক ভিটেমাটি হারিয়েছে কিন্তু তাদের সাথে একাত্মবোধ দেখাতে পারেনি এলিট বিএনপি।
গ্যাস বিদ্যুৎ নিয়ে হরিলুট চলেছে কিন্তু একটা কানসার্ট আন্দালন গড়ে ওঠেনি।
পানি বিদ্যুতের অভাবে মধ্যবিত্তের নাভিশ্বাস উঠেছে অথছ একজন দৌড় সালাউদ্দিনের জন্ম দিতে পারেনি বিএনপি।
শিক্ষাখাতে নকলের মহা-উতসব হয়েছে এবং হচ্ছে, মাদ্রাসা শিক্ষা ব্যাবস্থা ভেঙে দেবার হুমকি বৃদ্ধিপ্রাপ্ত হচ্ছে, উচ্চশিক্ষা কোটাবদ্ধ হচ্ছে ; এই সময় "মাজেদ শিক্ষা কমিশন" বিরোধী আন্দালনের মত ছাত্র-বিদ্রহ জমে উঠাতে পারি নায় আমরা।
খুব সিম্পল এবং চটুল কিছু ঊধাহরন দিলাম মাত্র। গভীরে নায় বা যায়।
এই মোটাদাগের উধাহরন এই জন্য দিলাম যাতে আমাদের বিচ্যুতিযুক্ত চরিত্রটা বুঝতে সুবিধা হয়।
আগের কথাতে ফিরে যায়।
প্রশ্ন ১।
বিএনপি কি এই লড়ায়ের নেত্রীত্তে আছে আদেও।
২।
মানুষ কি আদেও বিশ্বাস করছে বিএনপি কে?
প্রথম প্রশ্নের উত্তর পজেটিভ।
হ্যা বিএনপি এখনো দৃশ্যত নেত্রিত্ত দিচ্ছে।
দ্বিতীয় উত্তর
নেগেটিভ। না মানুষ বিএনপি কে বিশ্বাস করছে না।
কেন করছে না সেই কৈফত দিয়ে নেই।
গ্যাস বিদ্যুতের দাম বৃদ্ধি করতে কি সরকারকে বেগ পেতে হয়েছিল?
বেগম জিয়া কে বাড়ি ছাড়া করতে যেয়ে কি সরকার প্রতিরোধের মুখে পরেছিল?
আমার দেশ, চ্যানেল ওয়ান, দিগন্ত টিভি, ইসলামিক টিভি বন্ধ করার পরে বিএনপি কি পেরেছিল গ্রহন যোগ্য আন্তর্জাতিক প্রতিক্রিয়া আনতে?
সমুদ্র সীমা জয়ের Make over গল্প,র মিথ্যা উৎসবের রঙর উপর আমাদের অনলাইন এ্যক্টিভিস্টরা যে যুক্তিজাল তৈরি করেছিল, বিএনপি কি পেরেছিল যথাযথ ভাবে মানুষের মগজ ধোলাই দিয়ে সেইসব যুক্তি গুলি কে হজম করাতে?
UN সেক্রেটারি বান কি মুন বা UK প্রধান মন্ত্রীর সাথে ফটো সেশন প্রপাগান্ডা কি এক মানব জমিন ব্যাতীত অন্য কোন কুয়ালিটিফুল পত্রীকাতে এসেছিল?
খোদ বিএনপি,র মূখপাত্র "দৈনিক দিনকাল" বলুন তো বুকে হাত দিয়ে বিএনপি,র অন্ধ কোন সমর্থক কি আছে যে এই দিনকালের নিউজ কুয়ালিটিকে গ্রহণ যোগ্য মানে?
গেল বছরের গাজিপুর সম্মেলন ব্যার্থ হবার আগে যে হুমকি বিএনপি দিয়েছিল তা কি আষারে গর্জন ছিল না?
এর কদিন পরের সোরয়ার্দি সম্মেলন কি পিছুহটা ছিল না?
টানা ৯০ দিনের আবোরধে আপনি কি প্রকৃত অর্থেই অবরুদ্ধ ছিলেন?
উপজেলা নির্বাচনে অংশ নেওয়া কি আত্মঘাতি ছিলো না?
ইলিয়াস আলি হারিয়ে গেলো, সালাউদ্দিন হারিয়ে গেলো! কিছু কি উলট পালট ঘটাতে পেরেছে বিএনপি?
এর পরে যখন হাত পরবে স্থায়ী কমিটি,র দিকে তখন কি করবে বিএনপি?
দলীয় নেতা গুমের নিরবিচ্ছন্ন ঘটনাতে কিচ্ছু করতে না পারাতে সাধারন মানুষে বিশ্বাসে চির ধরবে স্বাভাবিক।
এই সব পারা না পারা,র সমীকরণ ছিল এবারের নির্বাচন।
আওয়ামীলীগ এবং বিএনপি উভয় দলের জন্য।
অনেকে যেমনটা ভাবছিলেন যে আন্দালন থেমে যাবার পেছনে কোন বোঝাপড়ার কলকাঠি ছিল। আজকের যুগপৎ ইলেকশন ইঞ্জিয়ারিং এবং ইলেকশন বর্জন স্পষ্টত প্রমান করে দিল কোন ধরনের বোঝাপড়া ব্যাতীত আন্দালনে ইস্তফা দেওয়া হয়েছিল।
হতে পারে রাজনীতি,র খেলার অংশ হিসাবেই আন্দালনে স্থবিরতা এবং নির্বাচনে অংশ নেওয়া বা বর্জনের পরিবেশ সৃস্টি হয়েছে।
নির্বাচনের ঘোষনার মাধ্যমে আওয়ামীলীগ প্রতিকুল মাঠে বল দিয়েছিল বিএনপি,র কোর্টে। বিএনপি সেই বল রিভার্স সুইং করে পাঠালো আওয়ামীলীগের এন্ডে।
সর্ট কোনদিকে খেলবে আওয়ামীলীগ তার উপর নির্ভর করছে আগামীতে দেশের গনতন্ত্রের বার্তা।
বিএনপি কে জিততে জিততে হলে এখনি অফেন্সিভ মুডে যেতে হবে। নিজের রেড জোনে বল ড্রিবলিং করা কোন কাজের কথা না।
বিএনপি,র জয়ের পথ একটাই ; তা হচ্ছে আওয়ামীপন্থী প্রশাসনের পতন ঘটানো।এই ঘটনা ঘটাতে হলে সাধারন মানুষ এবং নেতা কর্মিদের বিশ্বাস আগে ফেরাতে হবে।
এই বিশ্বাস ফেরানোর পথে এখন একটু একটু করে এগিয়েছে বিএনপি।
বিএনপি,র জিতার অর্থ একটাই ;সরকারের ক্লিয়ার পতন।
রাজনৈতিক আক্রমন গুলি প্র-এ্যক্টিভ হলে ব্যাপারটা Simple
অপেক্ষা শুধু কয়েকটা Sample...

রেসিপি ফর বিএনপি

১।বজ্রপাতে নিহত ব্যাক্তি,র পাজরের হাড়
২।প্রথম ঋতুমতী হওয়া কিশোরী,র দূষিত রক্ত
৩।বেশ্যা রমনীর এক গুচ্ছ যৌনকেশ
৪।অমাবস্যা রাতে শ্মশানে দাহ্য হওয়া ব্যাক্তির উগরে আসা বির্য
৫।শতবর্ষি বটবৃক্ষের নিচে এক কোপে ছিন্ন করা পাঠার মগজ।
এই সকল বস্তু সংগ্রহে নিয়ে কুমারী লতা গাছের পাতা বেটে একসাথে যে দিন রাত্র দ্বিপ্রহরে সেবন করা যাবে সেই দিন থেকে বিএনপি,র সংগঠনের নুয়ে যাওয়া অংগ সমূহ সবল হওয়া শুরু হবে।

লক্ষ জিয়া জন্মানোর বদ্ধ দ্বার খুলে দিন

একটা সময় আমরা মিছিল করতাম
"এক জিয়া লোকান্তরে , লক্ষ জিয়া ঘড়ে ঘড়ে"
আদেও কি আর কোন জিয়ার জন্ম হয়েছিল আমাদের বিএনপিতে ?
না হয় নি , কোন ভাবেই হয় নি ,ঘুণাক্ষরেও হয় নি ।
নেত্রী আপনার ছেলেরা যখন পল্টন আফিসে শহীদ জিয়ার মূরাল ভাঙ্গে তখনি নিশ্চিত হয়ে যায় শহীদ জিয়ার কবরের পরিণতি।
নেত্রী , অপারেশন ক্লিন হার্ট শেষ হয়ে যায় ; আমরা বুঝিনা আমরা কি হারালাম ; আমরা সংসদের বিপরীত ব্যেঞ্চে বসলেই তবেই বুঝতে পারি অপারেশন ক্লিন হার্ট নামের বাইপাস সার্জারি আস্ত হৃদযন্ত্র টাকেই বাইপাস করে রক্তের ফুয়ারা বইয়ে দিয়েছিল ।
নেত্রী , ৫ জানুয়ারি,র উত্তাল আন্দালন থেমে যায় , থামিয়ে দেওয়া হয় , আমরা স্বপ্রনদিত ব্যার্থতার জ্বালা নিয়ে জেলের ঘানি টানতে টানতে শুনি "আন্দালন থামানো ভুল ছিলো ।
নেত্রী ; ইলিয়াস আলীরা , চলে যায় আমরা দেখি কড়া প্রতিবাদ সম্বলিত বিবৃতি আমাদের রণাঙ্গনের একমাত্র ইশতেহার ।
নেত্রী ; চৌধুরী আলমেরা নিখোঁজ হবার কত দিন পরে আমাদের সুখ নিদ্রা ভংগ হয়েছিল আমাদের রাজসিক পেয়াদা বাহিনী তাঁর রেকর্ড আপনাকে কখনো দেখিয়ে ছিল কি ?
নেত্রী ; সালাউদ্দিন আহাম্মেদরা গুম হবার পরে আমরা ক্যান কোন নাড়া দিতে পারিনায় স্বৈরাচারের গতিতে ?
নেত্রী সিটি নির্বাচনের দস্যুতাকে আমরা আরো একটা মাগুরাতে পরিণত করতে পারি না ক্যান ?
নেত্রী ; আমাদের শিক্ষা দিন , কড়া প্রতিবাদের তরল উৎকণ্ঠা থেকে বাহির হয়ে এসে আমাদের ক্ষেপে উঠার দীক্ষা দিন ।
নেত্রী ১৯৯৯ সালে আপনার মিন্টু রোডের কার্যালয়ে বসে একবার আমাদের তিন জন তরুণ বয়সী ছেলে কে বলেছিলেন
আমার এখানে চলে আসবে ; ঢাকাতে আসলে এখান থেকে ঘুরে যাবা"
বিশ্বাস করুন নেত্রী বুকের ছাতা সেদিন এত্ত বড় হয়ে গিয়েছিল , আনন্দের অশ্রু নিয়ে বাড়ি ফিরেছিলাম , পিটানি খাবো জেনেও সেই গল্প "মা কে শুনিয়েছিলাম , বান্ধবী কে বলেছিলাম ।
আজ মাঝ বয়সী হয়েছে সেই ছেলেগুলো , হালকা দাঁড়ি মোচ গজানো ছেলেদের কপালে বলীরেখার চিহ্ন ।
ঐ ছেলেদের মত অনাগত অসংখ্য জাতীয়তাবাদী আর দেখা পায় না নেত্রীর ।
আজকে পিন্টু ভায় হারিয়ে গেল । কেও না জানুক নেত্রী আপনি তো জানেন তাকে মেরে ফেলা হয়েছে , তাকে হত্য করা হয়েছে ।
মাননীয়া নেত্রী আপনার নিজ সন্তান কোকো ভায়ের মতই পিন্টু কে ধীরলয়ে ওয়ান ওয়ে টিকিট ধরিয়ে দেওয়া হয়েছে ।
নেত্রী আমরা শুধু মুখেই বলেছি লোকান্তরে থাকা জিয়ার ঘড়ে ঘড়ে থাকার কথা ; নিয়তির উপহাস আজ যাদের জিয়া হবার কথা , আপনার দূর্দিনে , আপনার দলের দুর্দিনে তাঁরা আক্ষরিক অর্থেই ঘড়ে বসে থাকে, ইজি চেয়ারে বসে পা নাচায়।
দলের অকালকুস্মাডো নেতা পাতিনেতাদের যোগ্যতা নাই যে তাঁরা আপনার হাত কে শক্তিশালী করবে ; তাঁরা শহীদ জিয়ার দলে অনুপ্রবেশকারী মাত্র।
নেত্রী আমরা কেও একজন পারি নায় সুযোগ্য সন্তান হতে , ৯০ এ আপনাকে দেখে আমরা শিখি নায় , ৯১-৯৫ এ আপনাকে দেখে শিখি নায় , ৯৫-২০০১ এ আপনাকে দেখে শিখি নায় ।
আমরা শিখেছি শুধু তাদের কাছ থেকে যারা আপনাকে এযাবৎ কাল ঘিরে রেখেছে ; আপনার সামনে আপনার প্রশংসাতে টেবিল ভেঙ্গে ফেলেছে থাপ্পড় মেরে ।
নেত্রী এরশাদ সাহেবের কথা মনে পরছে ।
উনার মা মারা যাবার পরে আপনি তাকে প্যাঁরলে মুক্তি দিয়েছিলেন মায়ের লাশ দেখার জন্য । রংপুরে লাটবহর নিয়ে পৌঁছাবার পরে এরশাদ সাহেব নিজেই ভ্যাবাচ্যাকা খেয়ে গেলেন কারণ তাঁর দলের একজন সাবেক মন্ত্রী এরশাদ সাহেবের মায়ের মৃত্যুতে খোদ এরশাদের সমনেই মাটিতে গড়াগড়ি দিয়ে কান্না কাটি করছিলেন ।
নেত্রী এই গল্প আপনি জানেন । আপনিই বলে ছিলেন এরাই তো এরশাদ কে শেষ করে দেবে "
নেত্রী ; বড্ড আফসোস হয় জানেন ।
সেই গড়াগড়ি খাওয়া নেতা এখন অবাধে যাতায়াত করে জাতীয়তাবাদী প্যান্ডেলে ।
নেত্রী এঁদের হাত থেকে আমাদের মুক্তি দিন ; লক্ষ জিয়া জন্মানোর বদ্ধ দ্বার খুলে দিন ; আজো কোটি জনতা আপনার জন্য প্রাণ হাতে নিয়ে ঘড় ছাড়তে প্রস্তুত ।।
বাংলাদেশ জিন্দাবাদ
বিএনপি জিন্দাবাদ

হেফাজত

আজ দু বছর পরে পিছু ফিরে দেখলাম।
দুই টা বিষয় আছে এখানে।
১।
একপক্ষ বলছে হেফাজতের পক্ষে মাঠে নামা উচিৎ ছিল আমাদের।
সত্যি কথা বলতে নির্দেশ ছিল এমনই।

২।
মাঠে নামার জন্য যাদের নির্দেশ দেওয়া হয়ে ছিল ; তারা বিট্রে করে ছিল।
যার ফলাফল হয়েছিল আরো দুই টা।
১। সরকারকে অভ্যুত্থানের মাধ্যমে ফেলে দেওয়ার পথ নস্ট হয়ে যায়।
২।বিএনপি,র ছেলেরা নিজেদের শক্তি নিয়ে মাঠে নামলে সেদিন সেখানে এভাবে রক্তপাত ঘটানো সম্ভব নাও হতে পারতো।
এই দুটি ঘটনা আপাতদৃস্টিতে বিএনপি,র পক্ষে যাবার কথা ছিল।
কথিত নির্দেশ মত মাঠে নামলে সরকারের পতনের সম্ভবনা ৫০ ভাগের বেশি ছিল বলে ধরে নেওয়া যায়।
লক্ষ করেছেন জোটের অংশ জামাত কে নিয়ে কি পরিমান সমালচনা বর্তমান।
জামাতের চেয়ে আরো দুই কাঠি বেশী রক্ষনশীল এবং একরোখা হচ্ছে হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশ।
ওই বিষেশ সময়ে তারা ছিল তাদের ইতিসাহে সবচেয়ে সংগঠিত অবস্থাতে।
ঐ ধরনের বিপদজনক সময়ে প্রতিকুল চরম পরিস্থিতিতে টিকে থাকার অভিজ্ঞতা সম্বলিত বিএনপি তাদের জন্য সরাসরি মাঠে নামলে তাদের জন্য সার্ভাইভ করা সহজ হতো ফলশ্রুতীতে বিপদ বেড়ে যেতো সরকারি পক্ষে।
এই ধরনের পরিস্থিতি কে ঘোলাটে পরিস্থিতি বলা হয়।ঘোলা পানিতে মাছ শিকার হতেও পারে আবার নাও হতে পারে।
মাছকে যদি কুপোকাত করা যেত তাতে কি বিএনপি সরাসরি ক্ষমতাতে আসতে পারতো?
ক্ষমতার মাসনদে কোন ভাবে পৌঁছলে কট্টর পন্থী হেফাজত কে ট্যাকেল করতো কোন প্রকৃয়াতে?
হতে পারে
প্রথমত ক্ষমতার গোস্ত রুটির ভাগ দেওয়া
দ্বিতীয়ত
তাদের দাবী দাওয়া অর্থাৎ যার ভেতর বেশ কিছু অন্যায় আবদার আছে তা মেনে নেওয়া।
অথবা তৃতীয়ত
আওয়ামিলীগের মত রক্ত গংগা বইয়ে দেওয়া।
পক্ষান্তরে
শিকার যদি ব্যার্থ হতো তাহলে মৌলবাদী বিপ্লবে অংশ নেওয়ার কারনে বিএনপি,র পরিস্থিতি কি হতো ভেবে দেখেছেন কি?
সবচেয়ে বড় কথা বিএনপি,র কাছ থেকে ক্ষমতার জন্য লালায়িত থাকা যেমন আশা করে না সাধারন মানূষ ;
ঠিক তেমনি ভাবে হত্যার শিকার হওয়া হেফাজতি সহ বিশ্বজিত এবং সকলের জন্য বিএনপি নিজে প্রতিবাদি হবে এমন একটা শক্তিধর বিএনপি কে দেখতে চায় সমর্থকেরা।
আদর্শের ফারাক যার সাথে আকাশ পাতাল সেই এজেন্ডা বাস্তবায়নে নেমে ডাইজেস্ট করা টা চারটি খানি কথা নয়।
অন্যের ঘাড়ে ভড় করে ক্ষমতাতে যাওয়া বিএনপি,র জন্য মানানসয় কাজ না।
৯০ এ ক্ষমতাতে এসেছিল বিএনপি, ২০০১ এ এসেছিল ; ভোটের জোট থাকলেও নিজ দলিয় খুটি কিন্তু অটুট ছিল সংসদে।
নিজের পায়ে যতটুকু এগিয়ে যাওয়া যাবে ততটুকুই প্রাপ্তি।
৫ মে গনহত্যার বিচার হোক।

এখন আর সহমত নই

এখন আর সহমত নই।
বটবৃক্ষ বাদ দিয়ে পরগাছাদের দোষারোপ করে অস্তিত্ব বাঁচানো যাবে না।
দুস্ট মানুষেরা তখনই আমার কাছের মানুষ হবে যখন আমার বিবেচনা বোধ লোপ পাবে।

Conspiracy,র অজুহাত একজন মানুষ শুধুমাত্র তখনই দেয় যখন তার ডানহাত-বামহাত কার্যকরী থাকে না।
ঘূন ধরেছে গোরাতেই। আগে বোঝা যায় নায়।
TR দলের সকল কে একত্রিত করতে ১০০% ব্যার্থ হয়েছেন।
নির্দিষ্ট অংশ কে মুরিদানার আওতাতে এনে উপযুক্ত শীর্ষ নেতা হওয়া যায় না।
নেত্রী কে বাইরের দুনিয়া দেখতে দেওয়া হয় না।
অফিস কর্তা, কেরানী, ক্লার্কদের চরম প্রাদুর্ভাব সেখানে।
আকাশের যত টুকু অংশ নেত্রী দেখতে পেলে তাদের কায়েমি স্বার্থ হাসিল হয় ঠিক তত টুকুন জানালা খোলা হয় গুলশানের গুলবাগে।

দল কে একত্র করার নেত্রীত্ত আগে দিতে হবে ; দশের লাঠি একের বোঝা। TR কে ভাবতে হবে।
ঐতিহাসিক ইতিহাসজ্ঞ হবার চেয়ে বর্তমান সময়কে সঠিক Read করতে পারা অনেক অনেক বেশি দরকার।বর্তমানে
নেত্রীর সাথে কমিউণিকেট করার সব মাধ্যম খুলে দিতে হবে।

বর্তমানে নেওয়া পদক্ষেপ উপযুক্ত না হলে আগামীর জন্য শক্ত ভিত্তি অসম্ভব।
অযোগ্য, ব্যার্থ, অপদার্থ, বায়বীয় ছাত্রদল, যুবদল, কেন্দ্রিয় কমিটি, জেলা কমিটি সংক্রান্ত সব জট খুলতে হলে প্রথমেই নেত্রী কে শক্ত হতে হবে ; TR কে সাহসী হতে হবে, সবাই যে জোটবদ্ধ করতে হবে।
এই কথা গুলি বলছি বা বলতে পারছি কারন দল গদীনসিন হবার পরে মাছের মুরো টা আপনাদের পছন্দের তৈল মর্দনকারিরাই পাবে ;
আমরা ক্রস ফায়ারেই মরবো।

দলকে দুস্টু গরুর খোয়ারে পরিনত করার দায়ভার যেমন আপনাদের ঠিক তেমনি সম্ভাব্য স্বনির্ভর বিএনপি তৈরির কারিগর আপনারাই।
আমরা তো অভ্যাসে পুচ্ছ তুলে নাচি।
এবার
I revolt.
Do u care?

দলের কাছে প্রশ্ন

কিছু প্রশ্ন রাখতে চায়
১।
আন্দালনে আহত ব্যাক্তিদের তালিকা করা হয়েছিল ; তাদের কত জনকে পুনঃবাসন করা হয়েছিল?
২।
যারা নিহত হয়েছিল তাদের পরিবার গুলির কতটিকে বিকল্প উপার্জন ব্যাবস্থা করে দেওয়া হয়েছে?
৩।
আন্দালনে যে সকল তথাকথিত Brand roll লাগানো নেতা পাতিনেতারা রাস্তাতে নামে নায় তাদের লিস্ট হাতে নেওয়া হয়েছে কি না?
হয়ে থাকলে সুনির্দিষ্টভাবে তাদের কার কার বিরুদ্ধে উপযুক্ত শাস্তিমূলক ব্যাবস্থা নেওয়া হয়েছে?
৪।
নিউজ মিডিয়া গুলীকে বর্তমানে সুনির্দিষ্ট ছকে নতজানু বানানো হচ্ছে ; এই অপ-কৌশলগুলি থেকে এ্যকাডেমিক ভাবে বিএনপি কি শিক্ষা নিচ্ছে?
৫।
একমাত্র অবলম্বন অনলাইনের ব্লগার এবং মাইক্রো ব্লগাররা দিনরাত প্রচারনা এবং এ্যানালাইসিসের কাজ করে যাচ্ছেন ; এই শ্রেণীকে টিকিয়ে রাখার জন্য দল থেকে নূন্যতম ব্যাবস্থা নেওয়ার পথে বাধা হিসাবে যারা কাজ করছে তাদের বিষয়ে দলীয় কমান্ড কাউন্সিলের প্রেস্ক্রিপসন কি?
৬।
অফলাইনের অসংখ্য কর্মি যখন ভার্চুয়াল এ্যক্টিভিটিতে ইনভলভ হচ্ছে তখন TR নিশ্চয় কোন যুক্তি সংগত কারনেই ফেসবুকে নায়। এই না থাকার কারনটা ভার্চুয়াল এবং অফলাইন কর্মিদের জানানোর ব্যাবস্থা কি নেওয়া সম্ভব হয়েছে?
৭।
সোজাসাপ্টা কথা বললে বলতেই হবে গুলশান অফিসে অনেকেই আছেন বলে কথিত যারা রাজনৈতিক কর্মকান্ডের সাথে কর্পরেট কর্মকান্ডের সঠিক যোগাযোগব্যবস্থা তৈরি করতে পারেন নি। তাদের কে স্বপদে রেখেও বিকল্প অফিস ব্যাবস্থা তৈরির কোন প্রচেস্টা আছে কি?
৮।
পল্টন অফিস আজ পরিত্যাক্ত প্রায়। দলের মূল কার্যালয় গোচারণ ভূমিতে পরিনত হবার পরে দলের রাজনৈতিক অর্জন কি কি হবে বলে দল মনে করে?
৯।
মামলা গ্রস্থ যাদের আইনি সহায়তা দেবার জন্য নেত্রী সয়ং প্রতিজ্ঞাবদ্ধ তাদের ফলো আপ রিপোর্ট কিভাবে আপডেট করা হয়?
দল তার বর্তমান অবস্থানকে সঠিক বলে মনে করলে নিশ্চয় এই প্রশ্ন গুলির উত্তর আমরা পেলেও পেতে পারি।।
বাংলাদেশ জিন্দাবাদ
বিএনপি জিন্দাবাদ

ইনকাম

আদার ব্যাপারী জাহাজের খোঁজ রাখবে ; কোন কথা হল?
খোঁজ না রেখে উপাই আছে?
আদা তো চাইনা থেকে জাহাজে ইম্পোর্ট হয়।
আজ হটাৎ দেখলাম আমাদের গড় কামাই নাকি $200 বৃদ্ধি পেয়েছে।
১১৯০ ডলার থেকে ১৩৬০ ডলার হয়েছে।
এই কারনেই আমার আজ জাহাজের খবর নেওয়ার ইচ্ছা হচ্ছে...
বিগত ছয় বছরে সমগ্র বাংলাদেশে বিশেষত ঢাকা সিটিতে জীবনযাত্রা,র খরচ বেড়ে গিয়েছে শতকরা ৬০%।
বিভিন্ন নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য যেমন চাল, মাংস, বিদ্যুৎ, বাড়ি ভাড়া ও পরিবহন ভাড়া এই সবের দাম বৃদ্ধি হয়েছে সবচেয়ে বেশী ।
মূল্য বৃদ্ধি এবং ক্রমবর্ধমান জীবনযাত্রার খরচ মেটাতে দেশের অল্প এবং নির্দিষ্ট আয়ের পরিবার গুলির নাভিশ্বাস উঠছে।
অর্থনীতিবিদরা ব্যাক্তিগত পর্যায়ে কথা বলার সময় বর্তমান মূল্য বৃদ্ধি এবং ক্রমবর্ধমান জীবনযাত্রার খরচ বিষয়ে বিভিন্ন ধরনের বক্তব্য তুলে ধরেন।
সরকারি বাণিজ্যিক সংস্থা Trading Corporation of Bangladesh এর তথ্য মতে বিগত ছয় বছরে শুধুমাত্র মোটা চালের দাম বেড়েছে শতকরা ৬০ ভাগ ,ময়দা ,র মূল্য বৃদ্ধি হয়েছে ৪৫% এবং খোলা লাল ডালের দাম বেড়েছে শতকরা ১৮ ভাগের চেয়েও বেশী ।
Trading Corporation of Bangladesh এর পরিসংখ্যান থেকে আরো দেখা যাচ্ছে লাল মাংসের দাম যেখানে ৬০ শতাংশ বেড়েছে সেখানে মাছ জাতীয় খাবারের দাম বেড়েছে ৪২ % এবং শাক সবজীর প্রায় সব ধরনের আইটেমের দাম দ্বিগুণের বেশী বৃদ্ধি পেয়েছে ।
২০১০ সাল থেকে মোট সাত দফাতে ইউনিট প্রতি বিদ্যুতের মূল্য হয়েছে গড়ে ৩.৭৬ টাকা থেকে ৬.১৫ টাকা।
The Bangladesh Energy Regulatory Commission এর হিসাবে ৬৩.৫৬ ভাগ মূল্য বৃদ্ধি ।
বাড়িভাড়া,র ক্ষেত্রে ঢাকা শহরের ভাড়া বৃদ্ধির হার ৮০% যার ভেতর ৯,৭৬% ভাড়া বৃদ্ধির মূল কারণ ছিল House Rent Control Act 1991 এর যথাযথ প্রয়োগের ক্ষেত্রে প্রশাসনিক চরম ব্যার্থতা ।
২০১২ সালের অক্টবর থেকে মূল্য বৃদ্ধির ক্ষেত্রে বাংলাদেশ রেলওয়ে যাত্রী ভাড়া বৃদ্ধি করেছে ৫০ ভাগ থেকে ক্ষেত্র বিশেষে ১১৫% পর্যন্ত।
জুন মাস ২০০৬ এ যেখানে প্রতি লিটার ডিজেলের দাম ছিল ৩৩টাকা , সেখানে আওয়ামীলীগের দ্বিতীয়বার ক্ষমতাতে আসার পরে জানুয়ারি ২০০৯ তে সেই মূল্য হয় ৪৪টাকা প্রতি লিটার।
২০১৩ সালের জানুয়ারিতে এসে প্রতি লিটার ডিজেলের দাম দাড়াই ৬৮ টাকা তে যা পূর্ববর্তি মূল্যের চেয়ে ৫০% বৃদ্ধি ।
CAB রিপোর্ট অনুসারে বাড়িভাড়া ও ইউটিলিটি চার্জ ও অন্যান্য কিছু আইটেমের দর বৃদ্ধির ফলে এই সময় ২০১৪ পর্যন্ত জীবনযাত্রা খরচ বেড়ে গিয়েছে ৬.৮২ ভাগ।
অবশ্য Policy Research Institute of Bangladesh এর এক্সিকিউটিভ ডাইরেক্টর আহসান আল মনসুরের মতে এই সব দর বৃদ্ধি খুব বেশী প্রভাব জনজীবনে ফেলবে না যেহেতু একই সাথে মানুষের গড় আয় বৃদ্ধির ঘটনাও ঘটেছে ।
তবে তিনি এও বলেন যে নির্দিস্ট ভাবে খাদ্য বহির্ভূত মুদ্রাস্ফীতি এখনো বেশ কিছুটা বেশী।
মূল কথা তে আসেন এবার:
তবে গড় আয় এর হিসাব দিয়ে সাধারণ মানুষের ক্রয় ক্ষমতাকে মূল্যায়ন করা যায় না বলে নিশ্চিত করেছেন প্রখ্যাত অর্থনীতিবিদ আনু মুহাম্মদ।
তার মতে
গত ছয় বছরে গড় ইনকাম বৃদ্ধি পেয়েছে ঠিকই কিন্তু ব্যাপক সংখ্যক মানুষ তাদের প্রয়োজন মিটাতে অতিরিক্ত সময় কাজ করতে বাধ্য হয়েছে।
তার মতে যে ৫০% মানুষের আয় বেড়েছে বাস্তবের মূল্য বৃদ্ধিতে তাদের খুব বেশী কিছু আসে যায় না কিন্তু এর বাইরের সাধারণ মানুষ এই জীবনযাত্রা, র মূল্য বৃদ্ধিতে ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছে ।
গত ছয় বছরে মাথাপিছু আয় প্রায় দ্বিগুণ বেড়ে ২০১৩-১৪ সালে হয়েছে ১১৯০ডলার যা ২০০৭-০৮ অর্থ বছরে ৬০৮ ডলার ছিল।
মূল থেকে ধরলে দেশের বার্ষিক মাথাপিছু আয় ৯২৩ ডলার থেকে ২০১২-১৩ সালে এসে ১০৪৪ ডলারে এসে ঠেকেছে।
বিশ্ব ব্যাংকের “'দক্ষিণ এশিয়ার বৈষম্য অ্যাড্রেসিং' রিপোর্ট অনুসারে অর্থনৈতিক বৈষম্যের হার এযাবৎ প্রায় একই ছিল বাংলাদেশে এবং এই সংক্রান্ত ৮ টি দেশের মধ্যে বাংলাদেশের স্থান তৃতীয় অর্থাৎ অর্থনৈতিক ব্যাবধান কমাতে যারা ব্যার্থ হচ্ছে বাংলাদেশ তাদের ভেতর নেগেটিভলি তৃতীয়।
তবে অর্থনীতিবিদ আব্দুল বায়েসের মতে মাংসের বর্তমান দাম বৃদ্ধির মূল কারণ উৎপাদন এবং যোগান কমে যাওয়া ।
তবে ক্রমবর্ধমান মূল্য বৃদ্ধির পরেও মাছের দাম সাধারণ মানুষের ক্রয় ক্ষমতার মধ্যে ছিল বলে দাবী করেন তিনি।
তবে রাস্তাতে নেমে বাস্তবতা ভিন্ন...
সাধারণ মানুষ যারা দিন এনে দিন খায় তাদের মতামত নিতে গেলে তাঁরা জানায় বর্তমান মূল্যবৃদ্ধির হারের গতির সাথে তাঁরা কোন ভাবেই তাল মিলিয়ে তাদের দৈনন্দিন আয় বৃদ্ধি করতে পারছেন না ।
খোদ সরকারের নিজস্য হিসাবেই এখনো দেশের পরিবার গুলির অন্তত ৩৯.৮০ শতাংশ খাদ্য নিরাপত্তাহীনতার ঝুঁকিতে আছে ।
এবং এঁদের প্রায়ই না খেয়ে দিন কাটাতে হয় অথবা কারো কাছে খাদ্যের জন্য ধার করা বা হাত পাতা লাগে।
এটা বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর রিপোর্ট ।
রাজধানীর ঢাকা এ্যপারেলসের অপারেটর ইয়াসমিন জানান গত পাচ বছরে তার বেতন ৪০০০ টাকা থেকে বৃদ্ধি পেয়ে ৭০০০ টাকা হলেও তার দিনাতিপাত করা এখনো সহজসাধ্য হয় নায়।কারণ হিসাবে সে জানায় ২০১০ সালে তার বাড়ি ভাড়া ৯০০ টাকা থাকলেও এখন সেই একই বাড়িতে ২৫০০টাকা ভাড়া গুনতে হয় প্রতি মাসে।ইয়াসমিনের অভিজ্ঞতাতে দেখা যায় গত পাচ বছরে জীবন যাত্রার খরচ চার গুনের অধিক বৃদ্ধি পেয়েছে ।তার পরিবারের আকার বাড়ছে , প্রতিদিনের প্রয়োজন বাড়ছে তাই ৭০ % বেতন বৃদ্ধির পরেও সে কোন ভাবেই কুলিয়ে উঠতে পারছে না ।
এবার আপনার হিসাবের খাতাটা খুলুন
৬০ টাকার প্যাকেট গোল্ডলিফ সিগারেট এখন ১২৫ টাকা।
১০ টাকা দামের ওয়ান টাইম রেজারের দাম ৩৫ টাকা..
গড় কামাই, পাথরের দালান, রাজপথের লাল-নীল বাতি দেখিয়ে অর্থনৈতিক পরিস্থিতির পরিস্থিতির পরিবর্তন করা যায় না...
যোগান আর চাহিদার ফাঁকে সামর্থটা খুব গূরুত্তপূর্ন।.

চুয়াডাঙ্গা জেলা বিএনপি




আন্দালন ক্যামন আছে দেশের প্রথম রাজধানী চুয়াডাঙ্গা শহরে ।।

BNP দলীয়  শক্ত ব্যারাক চুয়াডাঙ্গা । ১৯৭২ এর পর রাজনৈতিক কোন পরাজয় BNP এখানে এখানে দেখেনি বিগত Pri-selected election ছাড়া । 
সকল সময় দলকে আসন প্রদান করা এ শহরে দলের কাথামোগত আবস্থান  আসলে ক্যামন ; কক্ষনও জানার চেষ্টা কেও করেনি । আমাদের এই রক্তারত জনপদে BNP ক্যামন ভাবে চলছে তা আমি দলের সঙ্গে থেকেই দেখেছি ।সত্য কথা বলতে গেলে Grooping রাজনীতির একজন সাক্ষী গোপাল আমি নিজেও এবং আমার বন্ধুরা ।
যদিও কোন না কোন  পক্ষের সাথে থেকেছি ; তবুও আজকে মন থেকেই চেষ্টা করব আমাদের কুটিল রাজনীতির অপ্রিয় সত্য কথা গুলী বলতে । বিশেষত দেশের ভয়ংকর দুর্যোগ পূর্ণ এই সময়ের কথা । 
কথা গুছিয়ে বলার অভ্যাস কোন কালেই ছিল না ; অতএব গঠন শৈলীর ভ্রান্তি গুলী   না দেখাই উত্তম ।


শুরুটা করি শেষ থেকে । 
চুয়াডাঙ্গা ১ আসনে বিগত নির্বাচনে দলের মননীত বেক্তি ছিল "অহিদুল ইসলাম বিশ্বাস" । তবে তিনি দলীয় হাই কমান্ডের প্রথম পছন্দ ছিলেন না । প্রথমত নমিনেশন গ্রহণ করেন প্রকান্ত ছাত্রদল নেতা "শামশুজ্জামান দুদু " ; এতে বিদ্রহি হয়ে ওঠে "অহিদুল ইসলাম বিশ্বাস"  ।এই "অহিদুল ইসলাম বিশ্বাস"  কে সমর্থন দেয় জামাত-ই-ইসলাম । জামাতের সমর্থনে এবং  "শামশুজ্জামান দুদু " এর যগাযগ ঘাটতি তে অবশেষে নমিনেশন পাল্টে দেওয়া হয় চার দিন পরে "অহিদুল ইসলাম বিশ্বাস" কে । এই নেতা প্রয়াত সংসদ সদস্য তুমুল জনপ্রিয় "শহিদুল ইসলাম বিশ্বাস MP এর ছোট ভায় । মূলত বড় ভায়ের প্রবল জনপ্রিয়তা কে ব্যাবহার করে কর্মীদের আবেগ নিজের পক্ষে নিতে সক্ষম হন "অহিদুল ইসলাম বিশ্বাস"  । এই অহিদুল ইসলাম বিশ্বাস ই  ইতিহাসে প্রথম পরাজয়ের বিস্বাদ দেন দলকে । ন্যূনতম ৫০,০০০ ভোটের পারথক্কে হেরে যায় সে । এই নেতার বিরুদ্ধে দলের ক্ষতি করার আরও একটা প্রমাণ দেই । দলীয় সিধান্ত উপেক্ষা করে সে এরা আগে পুরসভা নির্বাচন করে এবং স্থানীয় সরকার পর্যায়ে BNP কে প্রথম পরাজয়ের অভিজ্ঞতা দেয় । অবশ্য তারও পূর্বে সে চেয়ারম্যান নির্বাচিত ছিল এবং এই চেয়ারম্যানের বৃত্তান্ত অন্য সকল চেয়ারম্যানের মতই । 

এই আন্দালনে চুয়াডাঙ্গা জেলা BNP 
প্রথমেই জানিয়ে রাখি জেলা BNP তে গ্রুপ আছে মোট তিন টি । বিদগ্ধ জনেরা বলেন পাঁচটি ।

চুয়াডাঙ্গা জেলা BNP র সভাপতি হাজী মোজাম্মেল হক । এক সময়ের শান্তি কমিটির পলাতক চেয়ারম্যান । স্থানীয় সরকারের ছোট কিছু নির্বাচনে পরাজিত হয়ে এরশাদের জাতীয় পার্টী ঘুরে ৫ টাকা দিয়ে সদস্য পদ কিনে দলীয় নমিনেশন নেন এই নেতা ।১৯৯১ সহ চার টি জাতীয় নির্বাচনে অংশ নিয়ে ১ টি তে সফলতা পান তিনি।  এই আসন চুয়াডাঙ্গা ২ । জনগণ তো দুরের কথা , কর্মীদের কথাও বলছি না , সিনিয়র নেতাদের সাথেও তাঁর কোন ধরনের যগাযগ নায় । তিনি রাজধানী তে বসে তাঁর বাণিজ্য নিয়েই বেস্ত থাকতে পছন্দ করেন । তারা অনুপ্রবেশের পরে তাঁর আসন চুয়াডাঙ্গা ২ এ এখনও পর্যন্ত ১ টিও হরতাল পালন করা হয় নি কারন তিনি চান না । দুষ্ট জনেরা বলে তাঁর বিশাল বাণিজ্য এবং সরকারী দলের সাথে গোপন সম্পর্কের কারনেই এমনটা ঘটে। কথিত আছে তিনি নির্বাচনে চুয়াডাঙ্গা ১ আসনের প্রতিপক্ষ দলের প্রাথি কে নির্বাচনী ডনেসন প্রদান করেন । এই মুহূর্তে চরম আন্দালনের সময় তিনি মাঠে উপস্থিত নায় ,এমনকি তাঁর কোন নির্দেশনাও আমাদের কাছে আসেনি ।

সামসুজ্জামান দুদু র  জেলা BNP তে সক্রিয় হবার পেছনের মূল কারণটিই গ্রুপিং ।  প্রয়াত  মিয়া মনসুর কে মাইনাস করার  লক্ষে জেলা BNP র Play maker রা দুদু ভাই কে Introduse করান । তাঁর আগমনের খবরে সমগ্র জেলা তে সাজ সাজ রব উঠে । সকলেই আশাবাদী হয়ে উঠেন এই সাবেক ছাত্রনেতার আগমনী সুরে । তাঁর শুরুটাও ছিল দুরদান্ত । প্রথম নির্বাচনের সময় অতি সাধারন বেসে সাধারণ মটর সাইকেলে  তাঁর প্রচারকারজক্রম জনগণের কাছে আকর্ষণীয় হয়ে ওঠে । ফলাফল বিপুল বিজয় । একপর ই শুরু পতন ।। নাটকীয় পতন । এলাকাতে পুরাপুরি Out of reach .দলীয় নেত্রী চুয়াডাঙ্গা সফরে আসলেন সেসময় ।দল তখন ক্ষমতাতে । নিয়তির পরিহাস নেত্রীর সাথে সার্কিট হাউসে দ্যাখা করতে বেরথ হলেন  কর্মীদের প্রতিবাদের মুখে । সেখানের হট্টগোলের মধ্যে যে আরও অনাকাঙ্ক্ষিত কিছু হয় নি ; সেটা আমরা জোড় গলায় বলতে পারি না । মধ্যাহ্ন ভোজের সময় ঝিনেইদাহ র MP মসিউর রহমান এবং কুষ্টিয়ার MP রুমি তাঁকে ভোজন কক্ষে নিয়ে যেয়ে মান রক্ষা করেন । নেত্রী সম্পূর্ণ ঘটনাই অবগত হন ।
রাজনীতি খেলা তে তিনি এখন দলীয় ২য় শীর্ষ বেক্তি । অথচ কোন আন্দালনেই কথাও নায় তিনি । তাঁকে জিগ্নাসা করলে উত্তর করেন মাননীয় মহাসচিব না কি তাঁকে ঢাকা ষ্টেশন ছারতে নিষেধ করেছেন । অবশ্য পূর্বের মহাসচিব খন্দকার দেলোয়ার হোসেনের সময়ও তিনি ঐ মহাসচিবের দোহায় দিতে পছন্দ করতেন ।আজ অবরোধ চলছে । শহরে ছাত্র দলের ছেলেরা মাঠে পুলিশের মার খাচ্ছে , ছাত্র লীগের হুমকি মোকাবেলা করছে । মীটিং , মিছিল , পিকেটিং চলছে ; শহরের অলিতে গলিতে বারুদের গন্ধ । অথছ কোথাও কেও নেয় । ছাত্রদলের সেই আমলের সিংহ পুরুষ আজ বড়ই কাপুরুষের মত আচারন করছে । আমাদের বর্তমান ছাত্র দলের ছেলেরা যখন ৯০ এর গল্প শুনতে চায় ,এরশাদ বিরধি বীর গাঁথা শুনতে চায় ; তখন মনে তারা যেন রূপ কথা শুনছে । বলেই বসে অনেকে " ভাইয়া দুদু ভাই তখন _ _ _? কি বলেন "  । বোঝাতে বেগ পেতে হয় । হায়রে ইতিহাস ।

অহিদুল ইসলাম বিশ্বাস ওরফে মোল্লা , এই সাবেক চেয়ারম্যান যেন জামাত-ই-ইসলামি র মহান কর্মী । দলের চেয়ে তাঁর আনুগত্ত গ্রুপিং কারী অচেনা লোকদের জন্য । তাঁর সঙ্গী সাথী দের দিকে তাকালে লজ্জা পেতে হয় । ত্যাগী নেতা  ত্যাগী কর্মী কোন বিষয় নয় তাঁর মূল বিষয় তাঁর তোসামদ কারিরা । হতাথ দেখবেন আপনার শ্রমে সংগঠিত সেমিনার , মীটিং বা মিছিলে মোল্লা উপস্থিত । তবে যখন বিপদের সময় আসে , পুলিশের নির্যাতন শুরু হয় তখন তিনি ঢাকা শহরে জনসংযোগে বেস্ত থাকেন । এই যেমন এখন  এই প্রতিকূল সময়ে তিনি এলাকাতে নায় তেমনি তিনি আসবেনও না এই বিপদের দিনে । তাঁর আচারন হ্যালির ধূমকেতুর মত । লম্বা লম্বা বিপদের সময় পার করে তিনি আমাদের দ্যাখা দেন বা শহরে পদধূলি দেন । এই আন্দালনে যদি পুলিশ নিরীহ হয়ে যায় কোন কারনে ; দেখবেন মোল্লা ঠিকই হাজির হবে ।

শহরে এখন এসেছে নতুন প্রেমিক  নাম সৈয়দ কাম্রুজ্জামান আজাদ ; তিনি সাবেক সামরিক কর্তা । বন্ধুরা বলে গাছের গোঁড়া রঙ করা তাঁদের এক মাত্র কাজ । শোনা যাচ্ছে তিনিও মননয়ন আশা করছেন । শুরুতে বেস খাতা খাটনি করলেন । এখন তিনিও উধাও । বলে রাখা ভাল এই কর্নেল BDR বিদ্রহে গুলী খেয়ে বেঁচে যাওয়া এক বিরল ভাগ্যবান । গোপন টেপে যে প্রতিবাদী সৈনিকের কণ্ঠ শোনা যায় তিনিই সেই কাম্রুজ্জামান আজাদ  । বরাবরের মত তাঁকে নিয়েও স্বপ্ন দেখেছিল  রক্তারত জনপদ চুয়াডাঙ্গা র দলীয় নেতা কর্মীরা । কিন্তু আজকেই এই অতি প্র্যজনিয় সময়ে তিনিও কোথাও নায় । ।

যায় হোক দুর্নাম বদনাম গীবত অনেক হল এখন On Record বলে রাখি আজকের আন্দালনে মাঠে যারা ছিল তাঁদের নাম ।

দলের নীতি নির্ধারণ পর্যায়ের জেলা নেতাদের মধ্যে 
এ বি এম হাসান হাসু 
সরদার আলী
রেজাউল করীম মুকুট
খন্দকার আব্দুর জব্বার সোনা 
ওয়াহিদ্দুজামান বুলা 
আমি বলতে চায় না এই পাচ জনের কয়টি উপ দলের সদস্য । তারা যে উপস্থিত ছিলেন এবং অনুপ্রেরণা দিয়েছেন সেটায় আসল কথা ।

ছাত্র দলের  ছেলেদের মধ্যে আমাদের অনেক কাছের বন্ধু যুগ্ন আহ্বায়ক ফিরোজ সররার রোমান  শহরে নায় । তাঁকে বলছি বন্ধু তোর কাছে এটা আশা করিনি। ।  সুবিধা বাদী নেতাদের সাথে তুই এক গোয়ালের গরু হবি না বলেই বিশ্বাস ছিল ।
যারা মাঠে আছে তারা দায়িত্ব পালন করছে । আশা করি কোন স্বার্থে কাজ করছে না । যারা কাজ করছে না কিন্তু আগামী দিনে হালুয়া রুটির ভাগ চেটে পুটে খাবে তাঁদের  ময়না তদন্ত আমাদের যুগান্তরের যাত্রীরা করবেই ।।

সোমবার, ১৮ মে, ২০১৫

হিউম্যান ট্রাফিকিং এর মূলে

হিউম্যান ট্রাফিক ইস্যু এখন আলোচ্য বিষয়।

বাংলাদেশ থেকে আমেরিকা,

আওয়ামিলীগের  পুলিশ উপ কমিশনার মনিরুল থেকে UN সেক্রেটারি বান কি মুন।

সোসাল নেটওয়ার্ক থেকে নিশিদ্ধ রাজনৈতিক দল কেও বাদ যাচ্ছে না বাণভাসী নোনা জলের জ্বালা থেকে।

একদিকে আবেগকেন্দ্রিক গদগদ মানবতা তার পেছনেই লুকিয়ে আছে মানবতাকে ভিত্তি করে অর্ধ নগ্ন অর্থনীতির স্ট্রীপ ডান্স।

আসলে এই রেহিংগা বা নৌকা ইস্যু মূল কথা না ; মূল বিষয়টাতে ফোকাস নিতে হবে।

আই মিন ওপেন ইকোনমিতে তো শ্রমের অবাধ যাতায়াত থাকার কথা। শ্রম একটা পন্য ব্যাতীত কিছু না।

পন্য হিসাবে শ্রমের রাজনৈতিক অবস্থান বুঝেই হিউম্যান ট্রাফিকিং ইস্যু নিয়ে কথা বলতে হবে।

আমাদের দেশের মানুষদের মনে থাকার কথা ; যখন ওপেন মার্কেট শুরু হল তখন চারদিকে একটা উতসব শুরু হয়ে গেল।

ঢাকার রাস্তাগুলিতে নয়া নয়া বিলবোর্ড,  টেলিভিসনে নতুন বিজ্ঞাপন,  প্যাকেজ নাটকের নব্য স্পন্সর... এই সব

প্রথম দিকে ভালোই চলছিল,  নানা রংচঙ মাখা বাতি জ্বলছিল।

কিছু দিনের ভেতর মার্কেটে আরো নতুন বিক্রেতা আসলো..

ইন্ডিয়ান গাড়ি, জার্মান ফুড,  আমেরিকান ওয়াইফ..  :) অর্থাৎ  আমরা পরিনত হলাম ডাম্পিং লটে।

মানুষের বস্তুগত ভোগের প্রত্যক্ষ এবং পরক্ষ সব মাল মসলাই পন্য।চাল, ডাল, কন্ডম, ট্রাক্টর, সিগারেট থেকে সেক্স ডল এহেন কিছু নায় যা অর্থনৈতিক পন্য না। এই পন্যগুলির প্রস্তুতকারীরা যে শ্রম দিচ্ছে সেটাও পন্য, সবচে গুরুত্ববাহী পন্য।অর্থনীতি তে স্বিকৃত শ্রম পন্য। এরিস্টটল থেকে কাল মার্কস, অমর্ত সেন বা ড:ইউনুস তারা সবাই শ্রম পন্যের গুরুত্ব শিখেই বড় হয়েছেন।

তাহলে এবার বলুন আপনার স্পাম যখন বিক্রয় যোগ্য , পাট গাছের জীন বা প্যারাসিটামল যখন উন্মুক্ত বিশ্ব বাজারে সহজে স্থানান্তর এবং বিক্রয় যোগ্য সেখান আপনার শ্রম মাইগ্রেসনে এত্ত সমস্যা কেনো?

নিজের মার্কেট বিদেশিদের পন্য বিক্রয়ের জন্য উন্মুক্ত না করার কারনে শাস্তি পেয়েছে অনেক দেশ।
যেমন ইন্ডিয়া,কিউবা,যুগাস্লাভিয়া চাইনা..

বিশ্ব মেরুকরন এমন নাও হতে পারতো। রাশা ভাংগার পরে সুযোগ তৈরি হয়েছিল। এই সময়টাত ওপেন মার্কেটের বিকাশ ঘটেছিল। তখন পশ্চিমা শক্তি গুলি বানিজ্য বিকাশের জন্য চাপাচাপি করছিল।এই সুযোগটা নিতে পারেনি বাকি বিশ্ব।
রকেট লাঞ্চার ক্রয়ের বিপরিতে ঔষধ বিক্রয়ের সীমা পর্যন্ত ভাবতে পেরেছিল তৃতীয় বিশ্ব।

অথছ শেষ দানের জন্য অপেক্ষাতে থেকে শ্রম পন্যের বাজার উন্মুক্ত  করানোর সাহস দেখাতে পারেনি এরা।

অনেকে ইমিগ্রেসন রুলসের কথা বলতে চেস্টা করেন। ভূলে যাবেন না ইমিগ্রেসন আইন পশ্চিমাদের তৌরি স্পীড ব্রেকার ব্যাতীত আর কিছু নয়।

শ্রম যাতায়াত উন্মুক্ত থাকলে CIA অফিসে বসে নিজ হাতে জংগী তৈরীর কারখানা হতে পারতো না এই বিশ্ব।

একমাত্র শ্রম পন্যের জন্য ন্যায্য ওপেন মার্কেট তৈরি করতে পারলেই জোট নিরপেক্ষ আন্দালনের মতো শক্তিধর প্লাটফর্ম তৈরি হতে পারতো।

এই জটিলতার সমাধান যে নায় তা কিন্তু না। অর্থ শাস্ত্রে এর সমাধান আছে, সেই  সমাধান ভয়াবহ।

কোন পন্য অধীক উতপাদন হলে পন্যের দাম পরে যায়  ;এতে উতপাদন কারি ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

ধরুন আপনার দেশে চালের চাহিদা ২০ জন কৃষক পুরন করে।তারা ১০০ কেজি চাল উতপাদন করে বিক্রয়  করে।কোন কারনে উতপাদন ১৪০ কেজি হয়ে গেলে নিশ্চিত ভাবেই ক্রেতা লাভবাব হলেও কৃষক কে লসে চাল বেচতে হবে। কারন পর্যাপ্ত সেল হবে না।

এক্ষেত্রে সমাধান হচ্ছে কৃষকরা একত্র হয়ে কিছু অংশ ধান আগুনে পুড়িয়ে দেওয়া।

এতে প্রোডাক্ট চাহিদার সাথে সামঞ্জস্য পূর্ন থাকবে। চাহিদার বিপরিতে যোগান যদি কমে যায় তখন পন্যের দাম বাড়তে বাধ্য।
এটা বাস্তবতা।

ডিয়ার বিশ্ববাসী মানবতা,

কি তাহলে দেবেন নাকি অর্ধেক শ্রম শক্তি চিতাতে বিসর্যন?

পাশা,র দান অবশ্য তাতে উল্টে যাবেই ; কোন দ্বিধা নায়।

৩ অক্ষ শক্তি

কাঠমোল্লা-বাম-রাম মিলে নতুন জোট গঠনের রিহার্সেল চলছে।

প্রেস ক্লাব থেকেই শুরু।
সাদা, লাল নীল সব মিলিয়ে এবার দেখবেন এক কুৎসিত কালোরঙ।
অবশ্য যারা রাজনীতির খোজ রাখেন তারা আগেও দেখেছেন এমন বিকলাঙ্গ জোট।

তুই ব্যাটা বাংগালী প্রস্তুত হ আবার।

দুই ভিন্ন জগতের আদর্শিক চেতনা এক যায়গাতে হয় শুধু জল ঘোলা করার জন্য।
অবশ্য আদর্শ নামের কিছু আদৌ যদি থাকে।

একজনের কোমরে রগ কাটা চাকু, একজনের হাতে বৈঠা মারার লগী
অন্য জনের লুঙ্গীর কোচে ঘাড় নামানোর হাত কুড়াল ।

এবার শালা গনতন্ত্র বোঝ।

মুজিবিয় আমলে এদের তিন দল একসাথেই রাজনৈতিক অধিকার হারিয়ে ছিল আবার জিয়ার গনতান্ত্রীক মূল্যবোধের কারনে এই তিন উগ্রবাদী দল এক সাথেই তাদের রাজনৈতিক অধিকার ফিরে পেয়েছিল।

৭১ এর পরে বাম এবং আওয়ামীলীগ হয়েছিল চরম দুই শত্রু, দু পক্ষ মিলেই রক্তের ফিনকি ছুটাতো সদ্য স্বাধীন বাংলার মাটিতে।

প্রায় ৩০,০০০ বাম কর্মি খুন গুমের স্বীকার হয়েছিল আওয়ামী লাল বাহিনীর হাতে যাদের অনেকেই ছিল মুক্তি ফৌজ।

এর পরে জামাতের আগমনের পরে জামাত-লীগ কদাকার রাজনীতি শুরু করে নিজেদের মধ্যে।

বহুদলীয় ডেমোক্রেসির সুবাদে রাজনীতিতে ভাগ্যক্রমে ফিরতে পারলেও বহুদলীয় গনতন্ত্রের মূল বিশ্বাস কে তারা মানতে পারেনি কখনোই।

এবং বামপন্থীদের সাথে মৌলপন্থী জামাতের সাপে-নেউলে খেলা নিয়ে তো নতুন করে কিচ্ছু বলার নেই। আমরা বর্তমানের দিকে তাকালেই দেখতে পায় ইনু, মেনন, মতিয়ারা, হাসিনার সাথে দাঁড়িপাল্লাতে ওজন দিয়ে গালাগালি তে নামেন ; কে কত বেশি খিস্তি খেউর উগরে দিতে পারেন।

এরা তিন দল প্রকৃত অর্থে সবাই সবার পিছে ঢাল হয়ে থাকে যদিও সবার হাতেই কাঠি একখানা ধরাই থাকে।

৯০ এর গনবিপ্লবের পর থেকেই এই পঙ্কিল অক্ষশক্তি যাত্রা , রথযাত্রা তে পরিনত হয়।

এর মাঝে বিএনপি নিজেও জোট বেধেছিল মোল্লাবাদী জামাতের সাথে।

যারা বিএনপি জামাতের উক্ত জোটকে ভোটের জোট বলেন তারা সত্যের অপলাপ বলেন, যারা আদর্শগত জোট বলেন তারা প্রোপাগান্ডা মেশিনের উর্বশী, মক্ষীরানি।

জাতীয়তাবাদ বিরোধী অক্ষশক্তি যখন ৯০ পরবর্তিতে মাথাচাড়া দিয়ে ওঠে তখন তাণ্ডবলীলা কারীদের বলয় ভাঙতেই জামাতকে যোগ করে বিএনপি।

বিএনপি,র ভেতর পিছিয়ে পরা অযোগ্য নেতারা তখন এই জামাতকে তুরুপের তাশ বানিয়ে তিল থেকে তাল প্রদর্শন করে।

শীর্ষ নেত্রীত্বের সহনশীলোতাতে এই পরগাছা জামাত, দলের শিকরে হাত দেবার চেস্টা চালায়।

দেখুন আপনাদের যারা জামাত নিয়ে গর্বে গদগদ থকেন তারা বলুন তো একক নির্বাচনে জামাতের প্রাপ্ত আসনের সংখ্যা কতো?

বিএনপি ভূল করলে তার খেসারত বিএনপি দেবে ; আমি আপনি কেও কাউকে কর্মফল থেকে উদ্ধার করতে পারবো না।

সম্ভাব্য অক্ষ জোটে ফিরে আসি।

এই অক্ষ শক্তির প্রধান নিয়ামক আওয়ামীলিগ, এরা ক্ষমতাতে এসে নিজ দলকে সহ ব্যান করেছিল অন্য সকল রাজনৈতিক দল..
কখনো স্যেকুলার বেশে কখনো জামাতের হাত ধরে, কখনো বামদের হাত ধরে নিজের আদর্শ বেচা-বাট্টা করে বেরিয়েছে।

জামাত কে দেখেন ডান্ডাবেড়ি,র ভয়ে তাদের রাজনৈতিক বর্ডার লাইন
"আল্লাহর আইন কে সাইড লাইনে বসিয়ে এখন মাখলুকাতের আইনকে মাঠে নামিয়ে দিয়েছে"

কি সেলুকাস

আজীবন জামানত বাজেয়াপ্ত বাম কুকর্মের কথা বলতে আজ রুচি হচ্ছে না।

ব্যাক্তিগত ভাবে আমি অধির আগ্রহ নিয়ে বসে আছি আওয়ামী-জামাত-বাম অর্থাৎ
মুজিব-নিজামী-বাদলদের রাজনৈতিক বুঙ্গা-বুঙ্গা দেখার জন্য।

ব্যাভিচারী রাজনীতির দাঁতাল কামড়ে সবুজ উড়না উরে গেলে আমাদের ক্যান গাত্রদাহ হবে?