শহীদ জিয়ার ভিন্ন স্বত্বা
---------------
জিয়া ব্যক্তি
জীবনে ছিলেন একজন আল্লাহ পরহেজগার মানুষ। যা বাইরে থেকে সেভাবে বোঝা যেত না। একবার তিনি কথা
প্রসঙ্গে আমাকে বলেছিলেন –
“আল্লাহর রহম এবং নীরব কর্ম নিয়ে আমি জীবন কাটাতে চাই।”
আল্লাহ তার
আর্জি শুনছিলেন আজীবন তিনি তাই পেয়েছিলেন।
তার পাচ বছরের
জীবন ধারা লক্ষ্য করলে দেখা যাবে রাষ্ট্রীয় কর্মযজ্ঞের মাঝে সুন্দর ভাবে
ধর্মকে মিলিয়ে নিয়েছিলেন। কোন গুরুত্বপূর্ন কাজে হাত দেবার আগে সিলেটে
হযরত শাহজালাল (রাঃ) এবং অন্যান্য ওলী আউলিয়ার মাযার জিয়ারত করতেন।
বিদেশে
রাষ্ট্রীয় সফরের মাঝে সুযোগ পেলেই সে দেশের বরেন্য আউলিয়াদের মাযারে না যেতে
চাইতেন প্রেসিডেন্ট জিয়া।
১৯৭৯ সালের ২৭শে ফেব্রুয়ারী বাংলাদেশ বিমানের “সিটি অভ শাহজালাল” নামক বিমানটি প্রেসিডেন্ট জিয়া এবং তার সফর সঙ্গীদের নিয়ে জেদ্দা বিমান বন্দরে নামল। মটর শোভা যাত্রা সহকারে তাদের সৌদি বাদশাহর রাজকীয় অতিথি প্রসাদে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে সবাই সামান্য বিরতি দিয়ে ওযু করে ইহরামের কাপড় পরল। দুই রাকাত নফল নামায আদায় করে জেদ্দা থেকে মক্কা ময়াজ্জেমায় রওনা হল পবিত্র ওমরাহের জন্য।
সুমাইছিয়া মিনারের কাছে পৌছে সবার কন্ঠে উচ্চারিত হয়
“আল্লাহুম্মা
হাজা হারামুকা-ইয়াওমা তাবআসুক ইবাদাকা।”
সুমাইছিয়া
মিনার থেকেই পবিত্র হেরেম শরীফের সীমানা শুরু। মসজিদুল হারামে জিয়া ও তার সফর
সঙ্গীরা প্রবেশ করল। খানায়ে কাবা তওয়াফ করা হল। এর পর নফল নামায। পবিত্র জমজমের পানি পান। এর পর
খানায়ে কাবার ভেতর ঢুকলেন সবাই। চারদিকে মুখ করে দু রাকাত করে নফল নামায পড়লেন সবাই।
জিয়া সহ সবার চাপা কান্নার আওয়াজ
উঠল আবেগে। পরম করুনাময়ের ইচ্ছায় এই সৌভাগ্যে সবাই আনন্দে অবিরত পানি ফেলছে।
এর পর সবাইকে
নিয়ে তিনি পবিত্র খানায়ে কাবার মেঝে ঝাড়ু দিলেন। পবিত্র নেয়ামত হিসাবে সেই ঝাড়ন খানা নিয়ে
নীচে নেমে আসেন বুকে জড়িয়ে ধরে। তার
চোখ দিয়ে তখন অবিরল ধারায় পানি গড়িয়ে পড়ছিলো।
এখানে এটা
সবাইকে জানানো প্রয়োজন পবিত্র কাবা শরীফ সৌদী বাদশাহ নিজে বছরে দু’বার নিজ হাতে ধোয়া মোছা করেন। আর খুব
অল্প কয়েকজন রাষ্ট্র প্রধান ই এই বিরল সৌভাগ্যের অধিকারী ছিলেন যারা নিজ হাতে কাবা শরীফ
ধৌত করেছেন।
সাফা মারওয়া “সাঈ”
সাতবার সাঈ
করার পর কিবলামুখী হয়ে সবাই মোনাযাত করেন। মাগরিবের নামাযের ওয়াক্ত সব
মুসুল্লীর সাথে এক সাথে পড়েন। এর পর স্থানীয় সব মুসুলীরা জিয়া এবং তার সফর
সঙ্গীদের সাথে আলিঙ্গন করেন। ফিরতি পথ ধরার সময় স্থানীয় জনতা “নাড়া” দিয়ে ওঠে শোকরানা ইয়া বাংলাদেশ শোকরানা।
জেদ্দা থেকে
আবার পবিত্র মদিনা
মুনাওয়ারা। বিমান বন্দরে জিয়াকে অভ্যার্থনা জানায় মদিনার গভর্নর এবং স্থানীয় গ্যারিসন কমান্ডার
এবং রাজকীয় উর্ধ্বতন কর্মকর্তারা। লাল গালিচায় লেখা আহলান ওয়া আহ সালান। কথা ছিল রাজকীয়
বিশ্রামালয়ে বিশ্রাম নিয়ে পাক রওযায়
যাবেন কিন্তু জিয়া মদিনার মাননীয় গভর্নর কে অনুরোধ করেন তারা সর্বপ্রথম রসুলে করীম (সাঃ) এর
পবিত্র রওযায় যেতে চান।
সবাই ওযু করে রাসুলুল্লাহ (সাঃ) এর পাক রওযার মুল প্রকোষ্ঠে যায় এটা
অত্যান্ত দুর্লভ এক সন্মান।
ঢাকা থেকে যাত্রা করার পর ২০ ঘন্টা কেটে গেছে কিছুটা ক্লান্তি থাকলেও সবাই এই পবিত্র আনন্দে হাসি মুখে ছিল। ৩ ঘন্টা বিশ্রাম নিয়ে সবাই রাত চারটায় পৌছে মসজিদে নববীতে। মিম্বর শরীফ এবং নবী করিম (সাঃ) এর ঘরের মধ্যবর্তী এলাকার নাম “রওযাতুল জান্নাহ”। এই রওযাতুল জান্নাহ তে সবাই আদায় করল দুই রাকাত “তাহইয়াতুল মসজিদ” তারপর তাহাজ্জুদের নামায। এর পর জিয়া সহ সবাই পবিত্র কোরান শরীফ পাঠ করতে থাকেন।
এর পর বেলাল (রাঃ) যেখানে দাড়িয়ে আযান দিতেন সেখানে
দাঁড়িয়ে মুয়াজ্জিনের আযান ধ্বনিত হল ফযরের। ফযরের নামাযের পর মসজিদে নববীর ইমাম জিয়া ও তার
সফর সঙ্গীদের কাছে এলেন। উনার
নেতৃত্বে সবাই নবী করিম (সাঃ) সালাম পেশ করেন। এর পরই সালাম পেশ করেন ইসলামের
প্রথম দুই খলিফা হযরত আবু বকর (রাঃ) ও হযরত ওমর (রাঃ) কে।
সবার কন্ঠে
ধ্বনিত হয়
“আস সালামু আলাইকা ইয়া রাসুলুল্লাহ, আস সালামু আলাইকা ইয়া খাইরা খাল কিল্লাহ – ইনদাকা আনদাকা সুবাহানাকা জুল ফাদলিল আজিম”
সবার চোখ দিয়ে
তখন হুহু করে পানি পড়ছে সবাই ভুলে গেছে ওখানে কে প্রেসিডেন্ট কে তার ষ্টাফ। বিশ্ব
মানবের সামনে সবাই এক কাতারে নেমে এল।
সুবাহান
আল্লাহ।
মসজিদে নববী
থেকে বের হয়ে সবাই এলেন “জান্নাতুল বাকী” তে এখানে নবী করিম (সাঃ) এর অনেক পারিবারিক সদস্য এবং
সাহাবা রা শুয়ে আছেন। এখানে শায়িত আছেন বিবি খাদিজা (রাঃ), বিবি মায়মুনা (রাঃ), রোকেয়া বিনতে রাসুল (সাঃ), হযরত ইমাম হাসান (রাঃ), জয়নুল আবেদিন (রাঃ), হযরত ইমাম বাকের (রাঃ), হযরত ইমাম জাফর সাদেক (রাঃ)। এর পর মসজিদে হামযা এবং হামযা (রাঃ)
এর মাযারে।
এর পর সবাই যায়
মসজিদে কোবায়। হযরত মোহাম্মদ (সাঃ) মক্কা থেকে মদিনা হিযরত করার সময় এখানে
১৪ দিন অবস্থান করেন এবং নিজ হাতে মসজিদে কোবা র ভিত্তি প্রস্থর স্থাপন করেন। সবার মুখ আনন্দে
ঝলমল করছিলো। সবাই ফিরে আসল রাজকীয় অতিথি শালায়। ব্রেক ফাষ্টের পর সবাই রওনা দিল বাগদাদ অভিমুখে।
যে ইতিহাস অন্য একদিন
শুনবো।
জনাব হেদায়েত
হোসাইন মোরশেদ এর লেখা অবলম্বনে "ক্যাপ্টেন নিমো" প্রডাক্ট
মূল পোস্ট Zia: The Patriot - দ্যা প্যাট্রিয়ট
মূল পোস্ট Zia: The Patriot - দ্যা প্যাট্রিয়ট



কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন