শুক্রবার, ৯ সেপ্টেম্বর, ২০১৬

লাল্টু কেচ্ছা



ডিয়ার সাহাবুদ্দিন লাল্টু ভাই , আপনার সাথে দুএক বার দেখা ও কথা হলেও পরস্পর কে জানার বোঝার সুযোগ হয় নি । ব্যাক্তি লাল্টু ভাই কে নিয়ে আমার অভিযোগ নেই , থাকার কথাও নয় ।
ঢাকা ভার্সিটি থেকে ছাত্রদলের শীর্ষ নেতৃত্ব বাছায় করতে চাওয়াকে আমিও উপযুক্ত মনে করি।
আপনার যে লেখা পত্রিকা তে এসেছে তা নির্ভেজাল বিদ্রহী কোন নেতার কথা মনে হচ্ছেনা , বরং প্রতিহিংসা পরায়ণাতা বলেই ভ্রম হচ্ছে। আপনারই কোন এক নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক সাবেক সহযোগীর অভিযোগের কোন প্রতিউত্তর আছে কি ?
 লাল্টু লিখেছে 

না তাঁর বক্তব্য প্রকাশ করতে যেয়ে আমার দ্বিধা কাজ করছে না , কারণ পত্রিকাতে আপনার যে লেখা এসেছে, তা দেখেছি । এও দেখেছি আপনি প্রতিবাদ জানান নি , যে তাঁরা আপনার ওয়ালের লেখা এডিট করে প্রকাশ করেছে ।
আসুন দেখি ইনবক্স থেকে কি এসেছে ...
ইনবক্স থেকে
""সাহাবুদ্দিন লাল্টু ভাই ফেসবুকে লিখেছেন, ফেসবুক থেকে সংবাদ পোর্টালে এসেছে।
লাল্টু ভাই আপনি আমার সরাসরি নেতা ছিলেন , অনেক সুখ দুঃখের স্বাক্ষী আমি। আমাকে মনে পড়তে বেশি কষ্ট হবেনা। পালিয়ে থাকার সময় ৩৫ দিন ৩৬ রাত আপনি আমার কাছেই ছিলেন...
আপনার অভিযোগ নিয়ে কিছু বলার নেই , এমনি এমন এক ব্যাক্তিকে তুলে এনে সমালোচনা করেছেন যে বহুদিন ধরেই সমালোচিত। আপনিও জানেন , আমিও জানি , আমরা সব্বাই জানি। সত্য মিথ্যা ও প্রপাগান্ডার পার্থক্য আপনার বোঝার কথা।
কিন্তু ভাই এতদিন পরে এইসব নিয়ে লিখতে গেলেন কেন হটাত করে? খুব প্রয়োজন ছিল কি ? প্রয়োজন কিসের?
দলের নেতা হিসাবে আপনার সবসময় সুযোগ ছিল নেত্রীর কাছে অভিযোগ করার । আমি স্বাক্ষী ভাই!
যে ভাষাতে আওয়ামীলীগ কথা বলে , সে ভাষাতে আপনি লিখছেন, তাও বিদেশ থেকে।কেন ভাই !
বিদেশ যাওয়ার সময় তো আমাদের কথা ভাবেন নি !
ভাই লাল্টু আপনি হাওয়া ভবনের প্রভাব থেকে সব ছাত্রলীগকে বিসিএস এর সোনার হরিণ দিয়ে দলের দূর্দিনে মুখফুটে এসব কি বলছেন!
আপনার কারনে সব গোপালী আজ পুলিশ অফিসার হইছে। টাকা কথা বলেছে। আমরা তখন বিসিএসে কিছু করতে পারি নাই টাকা দিই নাই বলে।
টাকা কার কাছে দিয়ার হুকুম ছিল লাল্টু ভাই?
আপনি যুগ্ম থাকতে মাইর খেলে কেমনে সেক্রেটারী হইসেন যদি ফালুমিয়ার ক্ষমতা এতই বেশী হতো!
আমার বিশ্ববিদ্যালয়ের পুরো ছাত্রলীগের প্রায় অর্ধেক কমিটিকে আপনি পুলিশে ঢুকিয়েছেন। প্রতিজনে দশ লাখ টাকা নিয়েছেন।
আমি ফার্স্টক্লাস ফার্স্ট হয়ে টিচার হতে পারি নাই (চিনতে পারছেন এবার) তবুও জিয়া আদর্শে ভড়সা রাখতাম বলে কাউকে বলি নাই যে, লাল্টুকে টাকা দিই নাই বলে আমার বিসিএস হয় নাই।
অথচ আমার জায়গায় ১০ লাখ টাকা নিয়ে তখন ছাত্রলীগের ১৯ তম ছেলেটিকে টিচার হবার সুযোগ দেন আপনি।
বস্ , এই লাল্টুর এই স্ট্যাটাসের উচিত জবাব দিন আমি বাসে চাপাই, যাচ্ছি। তাই অনুরোধ করলাম ভুল হলে ক্ষমা করবেন।
বিশ্বাস করুন আমার অভিযোগের একচুল মিথ্যা নয় , অর্ধ সত্য নয়। বুকের ভেতর এতদিন ধরে জ্বলতে থাকা আগুন আজ লাল্টু ভায়ের পোস্ট দেখার পর থেকে আর চেপে রাখতে পারলাম না ।----



লাল্টুর প্রতিউত্তর


মেজবা বাই এর উত্তর
আমি যখন রাউজানে রাজনীতি করছি তখন সেখানে ছিল মার্ডারের অভয়ারণ্য । সালাউদ্দিন ভাই তখন আমাদের পার্টীতে আসেন নাই । কিছু মার্ডার হত এটাকের মাধ্যমে কিছু মার্ডার হত বিশ্বাসঘাতকদের মাধ্যমে । খবর নেওয়া হত বা খবর আসতো ছাত্রলীগের ইকবালের কাছের দুই একজন ইকবালের উপর নাখোশ কিনা , তাদেরকে অফার দেওয়া হত কিল হিম এন্ড কাম বেক , বিনিময়ে ঐ এলাকা , অস্ত্র মামলার দায়িত্ব ......। অথচ যাদেরকে বলা হচ্ছে তারা কিন্তু মাস খানেক আগে আমাদের দলের বা সাকা ভাইয়ের দলের ভাই/ ভাইদের (মনে করেন আরিফ) ইকবাল কে সাথে করে খুন করে গেছে -তারাই আবার আমাদের অফারে ইকবালকে খুন করে আমাদের কাছে চলে আসলো । এবার আসি আসল কথায় - তারা আসার পর একবারেও তারা কিন্তু বলে নাই যে তারা আরিফকে কিভাবে মেরেছে বা আমরাও জিজ্ঞাসা করতাম না । এবং এটাই নিয়ম যে আমি দল ছেড়ে চলে যাব বা পার্টী করা ছেড়ে দিব বা আমি তারেক জিয়ার উপর নাখোশ তাই বলে আগের সব গোপন কাহিনী বলে দিব । এই যে সুবিধাভোগী লাল্টু যা বলছে তাতে করে তারই ভাবমূর্তি নস্ট হচ্ছে । কারন সে রাজনীতির মৌলিক যে অনু তা ভেঙ্গে চুরমার করে পরমানু বানিয়ে ফেলছে । তাতে করে এখন অনেক নেতা বা কর্মীকে তারেক জিয়া বা খালেদা জিয়া বা বড় নেতারা বেক আপ দিতে ভয় পাবে আর সেই এসাইমেন্টে নেমেছে কানাডাবা্সী কান কাঁটা লাল্টু । লাল্টু , তোমাকে আমি চিনি , হেয়ার রোডে অলি ভাইয়ের বাসায় তুমি কি করেছিলে । কিন্তু নিয়মানুযায়ী আমি তা বলতে পারি না।


আমার উত্তর


প্রথমেই জানতে চাই, উত্তর যদি দেবেন তো নিজ ওয়ালে নয় কেন?

এত কিছু যদি জানেন তো দেশ ছাড়ার পর জানালেন না কেন? ২০১২ -১৬ সাল চার বছর কেন অপেক্ষা করা লাগলো?


২০১২ সালের আগে ৮ বছর পদ পদবীর জন্য ঘুড়েছেন! দুঃখ জনক অবশ্যই। আমারো করুনা হচ্ছে! আচ্ছা লাল্টুদা ৮ বছর মানে ২০০৪ - থেকে ২০১২, এর ভেতর তো মাত্র ১ টা কাউন্সিল হয়েছে, তাও আবার শর্ত পূরনের জন্য। এক কাউন্সিল অপেক্ষাতেই আপনার মেজাজ সপ্তমে উঠে গেল? একবারো ভাবলেন না কদিন আগেই ছাত্রদলের কত ছেলেকে আপনিই অপেক্ষা করিয়েছিলেন!

বেগম জিয়ার পদ নিয়ে কথা বলছেন! তবে বলতেই হয় ৮ বছর পদের জন্য দ্বারেদ্বারে ঘুরা আপনার জন্য যথা উপযুক্ত ছিল। যে ব্যক্তি ছাত্র রাজনীতি করে আজো শিখতে চাইলো না দেশের রাজনীতির একক ঐক্যের দুই টি নাম খালেদা ও হাসিনা, সে রাজনৈতিক ইচড়ে পাকা ব্যাতীত আর কিই বা হতে পারে?

অতি চতুরের মত লিখেছেন দলের লোকেরা চাচ্ছিলনা আপনি রাজনীতি করেন, তাই বিদায় নিয়েছেন।
লাল্টু ভাই এক টিকিটে দুই ছবি দেখা হয়ে গেলো না? দলে এক নেতা অন্য নেতাকে ল্যাং দিয়ে ফেলে নিজে আগাতে চাইবে, এটা খুব স্বাভাবিক প্রকৃয়া, আপনি রাজনীতি থেকে চলে যাবার মাধ্যমে প্রমান দিয়েছেন প্রতিদন্দিতার মানসিকতা আপনার ছিল না, অন্যদিকে রেসে হেরে বিদায় নিয়ে আপনি খোদ রাজনীতিতে হেরে ধৌর্যের খেলা চালাতে পারেন নি। দূর্বলের মত ব্লেম গেম খেলছেন মাত্র।

বিভিন্ন হত্যাকান্ডের কথা বলে আজ আপনি নেত্রী সহ অসংখ্য অন্য নেতাদের দিকে আংগুল তুলছেন। জবান খুনিকে প্রশ্রয় দেবার কিছু নেই, তবে আপনার অভিযোগের প্রথম খুনের পর যদি অভিযোগ তুলতেন, বাধ্য হয়ে দেশ ছেড়ে পালাতেন রাজনের মত, তবে আপনার জন্য আমাদের স্যালুট থাকতো, আপনি জানেন ন্যায় সংগত বিদ্রোহীরা সব সময় অন্তত বিএনপি কর্মীদের কাছে উচ্চ আসনে আসিন।

আপনাকে লাল দালানে ঢুকাতে নেত্রী ব্যার্থ হয়েছে বলছেন! সত্যিই পারেন ভাই, । দেশের প্রধান মন্ত্রী কারো কোমরে দড়ি পড়াতে চাইলে আবার কোন কারন লাগে নাকি? পিন্টুর কথা ভূলে গেসেন, সোহেল ভায়ের জেল খাটার কথা ভূলে গেলেন! ইলিয়াস আলীর জেল খাটার কথা ভুলে গেলেন!

তারেক রহমানকে নির্যাতনের ক্ষেত্রে উনার মায়ের ফ্যামিলিচিত্র টেনে আপনি মইন ফকরুদ্দিনকেই হালাল করার চেষ্টা করছেন মাত্র!

আর হ্যা পিন্টু হত্যাকান্ডে আপনাকে দোষী ভাবি না।

টাকা খেয়ে চাকুরী দেবার মূল অভিযোগে হাস্যকর ভাবে তাদের নাম প্রকাশ করতে বলছেন? আপনি কি অভিযোগে দেখেন নি ছাত্রদলের ফাস্ট ক্লাস ফাস্টকে সুযোগ না দিয়ে আওয়ামীলীগের ১৯ তম জনকে সুযোগ দেবার অভিযোগ আপনার বিরুদ্ধে!

ডিয়ার লিডার লাল্টু ভাই, ১৫/২০ বছর রাজনীতি করে যখন ভাগে টান পড়লো তখনই গনেশ উল্টে গেলো!

ভালো তো, ছাত্রদলের প্রথম অযোগ্য কিমিটিতে আপনার নাম কিন্তু ছাত্রদলের ইতিহাসে স্বর্ণাক্ষরে লেখা হয়ে গিয়েছে বহু বছর আগেই।

কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন