স্মৃতির দুয়ার খুলে দেখি, হাসিমুখে দাঁড়িয়ে জিয়া
~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~
ছোট ছিলাম তখন , জেঠুর কাছে খুব যেতাম। গেলেই জেঠু গল্প গুড়ে দিতেন ; জিয়া জিয়া আর জিয়া ,যেন জিয়া ছাড়া উনার গল্প করার আর কোন বিষয় নেই। জিয়া এই করছে , সেই করছে ...এই সব আর কি !
শেখ মুজিব নিহত হবার আগেই জেঠু সরকারী চাকরি ছেড়ে সৌদি চলে যান। সৌদি আরব সরকারের অধিনে চাকরি নিয়েছিলেন সেখানে, পেট্র ডলারে বেশ ভালোই চলছিল।
"জিয়া ক্ষমতাতে এসে সৌদি গেলে আমার সাথে দেখা হয়ে যায়। স্বদেশীদের সাথে কথা বলার জন্য আমাদের ডেকেছিল জিয়া " জেঠু বলেন।
জেঠুর গলা আস্তে আস্তে ভারী হয়ে আসে, হাই পাওয়ারের চশমার ফাঁক দিয়ে স্পষ্ট টলমলে চোখ...দেখতে পারছিলাম
জেঠু কান্না ভেজা স্বরে বলেন -
"জিয়া আমাকে জড়িয়ে ধরেছিলোরে, আর বলে কি জানিস... দেশে যখন আপনাদের মতো মেধাবী ব্যক্তিদের প্রয়োজন তখন আপনারা বাহিরে চলে যান এটা তো ঠিক নয়। কোন কথা শুনতে চাচ্চিনা ,আপনি আমার সাথে দেশে যাচ্ছেন। বলেই জিয়া, পাশে দাঁড়ানো অফিসার টিকে কি যেন ইঙ্গিত করলেন। ঘন্টা তিন চারের ভেতর আমার সৌদি আরবের চাকরী শেষ হয়ে গেল, বকেয়া বেতনও পেয়ে গেলাম। বুঝলাম জিয়ার ইঙ্গিতেই এত সব হচ্ছে "
"জিয়াকে আমি আসলে তখন না করতে পারিনি বাপু । এত বড় মানুষ , পাক আর্মির স্বাক্ষাত যম, বিশাল মুক্তিযোদ্ধা, আবার তখন প্রেসিডেন্ট। না কি বলা যায়?
পর দিন জিয়ার সাথে জিয়ার বিমানেই দেশে চলে আসি "
---
আমার জেঠুকে হয়তো চিনবেন কেও কেও । ক্যান্টোনমেন্টের মাটিকাটা তে সানাউল্লাহ সুপার মার্কেটের সানাউল্লাহ হচ্ছেন আমার সেই জেঠু।
জিয়াকে হারিয়ে জাতি যে কি হারিয়েছে , যার যায় সেই শুধু বোঝে !
আমার জেঠা জিয়ার সামান্য ফোন অপারেটর ছিলেন। সেই সুবাদে জিয়ার ভাবনা চিন্তা অনেক বেশি ভালো বুঝতেন জেঠু। জিয়ার প্রতি তার এত ভালোবাসা ছিল যে বাড়িতে আসতেনই না। জিয়ার মৃত্যুর পরের ১৩ বছর নিজেকে আরো একাকী করে ফেলেন জেঠু।
শেষ নিঃশ্বাস ক্যান্টনমেন্টে এলাকাতেই ছেড়েছেন জেঠু। ওখানেই মাটি দেয়া হয়েছে!
ফুট নোট : জেঠুর আদুরে ভাতিজা, আমাদের প্রীয় মুখ Milon Moin Chowdhury র জীবনের এমন একটি গল্প এটি , যা সে কখনোই ভুলে যাবে না । মিলন মইন এর কাছে গল্পটা শুনে সঙ্গে সঙ্গেই চেয়ে নিয়েছি লেখার জন্য।
কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন