গতকাল বিশিষ্ট সাংবাদিক ও উপস্থাপক প্রভাষ আমিন ভাই এর একটি পোস্ট নিশ্চয় অনেকের নজর কেড়েছে। পরিবর্তন নামক একটি ওয়েব পোর্টালে লেখাটি স্থান পেয়েছে। পোস্টটিতে উনি উনার মত করে শহীদ জিয়াকে নিয়ে একটি নির্মোহ বিশ্লেষণ দাঁড় করাবার কথা বলেছেন।

প্রভাষ আমিন - সাংবাদিক
আজকে প্রভাষ ভাই এর পোস্ট এর বিপরীতে আমাদের পিনাকী’দা একটি গুরুত্বপূর্ন কাউন্টার পোস্ট দিয়েছেন এবং কিছু প্রশ্ন বা জিজ্ঞাসা উত্থাপন করেছেন। যার ভেতর একটা গুরুত্ব পূর্ন প্রশ্ন হচ্ছে নিরাবেগ বিশ্লেষণটি আমরা কেন আগে নিজেরাই করে রাখি নি।
সত্যি কথা বলতে কি এই প্রশ্নের সামনে মাথা নিচু না করে উপাই থাকেনা। আশা করি পিনাকী’দা যে সতর্ক বার্তা দিয়েছেন তা থেকে আমরা কিছু শিখবো, এবং আমাদের কাজটি আওয়ামীলীগ করে দেবার আগেই আমরা করে ফেলবো।

পিনাকী ভট্টাচার্য খ্যাতিমান এ্যক্টিভিস্ট ও চিকিৎসক।
আধুনিক বিশ্বে বলা হয় আগামী কালের কাজটি আজকে যদি সেরে রাখ তো ভালো , তবে সবচেয়ে ভালো আগামী কালের কাজটা যদি গতকাল সেরে রাখতে।
প্রভাষ ভাই যায় লিখুন না কেন , উনার প্রতি এই শ্রদ্ধা রাখতেই হচ্ছে যে অন্য অনেক আওয়ামিলীগের প্রতি আস্থাভাজনদের মত করে ব্যাথা হলেই সাপোজিটর ইউজ করেন না । অর্থাৎ ভিন্ন মত আসলেই তাঁকে ব্লক করে দেন না। ভিন্ন মতের কথা উনি মনোযোগ দিয়েই শোনেন।
জিয়াউর রহমানকে নিয়ে অল্প কিছু পজেটিভ ব্যাতীত অধিকাংশ নেগেটিভ বিষয় চলে এসেছে। নেগেটিভ মতামত আসাতে অবাক হবার কিছু নেই, যেহেতু শহীদ জিয়ার বিপরীত শিবিরে উনার অবস্থান।
যায় হোক , এই বিশ্লেষণ না বাড়িয়ে বরং প্রভাষ,দা কে একটা আন্তরিক ধন্যবাদ দিতে চাই , যেহেতু উনি সাবলীল ভাবেই বলেছেন যে “জিয়াকে চাইলেই ইতিহাস থেকে মুছে ফেলা যাবে না” আমি জানি আপনার নিজের অনেক সহকর্মী, সহযোদ্ধারাও আপনার এই পদক্ষেপকে সহজ ভাবে নিতে পারেনি।
এবার সরাসরি সেই সব নেগেটিভ বিষয় গুলোতে চলে যাচ্ছি। আমি আমার যুক্তি সমূহ দিচ্ছি। মানা না মানা আপনাদের ব্যাপার।
১) শহীদ জিয়াকে সুযোগ সন্ধানী বলার সাথে সাথে ভাগ্যের সাঙ্ঘাতিক সহায়তা প্রাপ্ত ব্যাক্তি বলা হয়েছে।
সুযোগ তো তাঁর সামনেই আসে , যে ধৌর্য ধারণ করতে পরে। সুযোগের ব্যাবহারে যদি দেশেকে , সমাজকে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি থেকে উদ্ধার করে স্টেবল করা যায় তো অসুবিধা কোথায়? হ্যাঁ সুযোগ তিনি পেয়েছিলেন তবে সুযোগ সন্ধান করেন নি। সিপাহী ও নিপীড়িত মানুষেরা তাঁকে রীতিমত মুক্ত করে আহবান জানিয়েছিল , ক্ষমতার লাগাম ধরার জন্য।
জিয়াকে ব্লাকমেল করার চেষ্টা ব্যার্থ হয় তাহেরের।
দ্বিতীয়ত, ভাগ্য দেবীর সাহায়তার কথা এসেছে ঘুরেফিরে। আমি বলি কি জী ভাগ্য একটি বিশাল নিয়ামক ছিল শহীদ জিয়ার জীবনের উত্থানে। তবে কি জানেন Fortune
favors the brave. ভাগ্যকে তাঁর শ্রেষ্ঠ পুরুষদের জন্য স্বজতনে রেখে দেন বিধাতা।
২) প্রভাষ’দার অভিযোগ ১৫ আগস্টের নৃশংসতার খবর শোনার পর শেভ করতে থাকা জিয়ার প্রথম প্রতিক্রিয়া ছিল 'প্রেসিডেন্ট কিলড। সো হোয়াট। ভাইস প্রেসিডেন্ট ইজ দেয়ার। আপহোল্ড দ্য কনস্টিটিউশন।'
প্রথমেই বুঝতে হবে একজন অফিসারের দায়িত্ব কি ?
কনস্টিটিউশন আপ হোল্ড রাখতে চাওয়াটি একজন সৈনিকের পেশাদারিত্ব প্রকাশ করে। তিনি
ভাইস প্রেসিডেন্টকে স্থলাভিষিক্ত করার কথা বলেছেন। জে শফিউল্লাহর মত বিভ্রান্ত জিয়া হন নি। প্রেসিডেন্টকে দেওয়াল টপকে পালাতে বলার মত হতবিহব্বল জিয়া হন নি। যা একই সাথে প্রমাণ করে
জে শফিউল্লাকে সেনা প্রধান নির্বাচন কতটা অপরিপক্ক সিদ্ধান্ত ছিল।
শেষ
ভাইস প্রেসিডেন্ট ছিলেন সৈয়দ নজরুল ইসলাম, যাকে
পরবর্তিতে জেলে হত্যা করা হয়, এই জেল হত্যার সময় দেশের চাবি ছিল খালেদ মোশার্ফের হাতে। অতএব কনস্টিটিউসন আপহোল্ড রাখতে বলার মাধ্যমে জিয়াই সবচেয়ে সুস্থ ও স্বাভাবিক উত্তর দিয়েছিলেন। জিয়ার কথা মত ভাইস প্রেসিডেন্ট যদি তখন শেখ সাহেবের স্থলাভিষিক্ত হতেন, তাহলে কিন্তু সম্পূর্ণ চেন অফ কমান্ড ফিরে আসতো! চেন অব কমান্ড ফিরিয়ে যে আনতে চাচ্ছিল সেই ব্যক্তি নিশ্চয় ক্ষমতা পাবার স্বার্থে ও সুযোগ সন্ধান করতে যেয়ে তা বলেন নি।
ভাইস প্রেসিডেন্টকে নিহত প্রেসিডেন্টের স্থলাভিষিক্ত করার সিদ্ধান্তের যারা বিরধীতা করছেন তাঁরা কি ঐ ব্যক্তিরাই যারা ৭১ এ মুজিবনগর সরকারের বিরোধীতা করেছিল ?
তখন
কনস্টিটিউশন আপহোল্ড থাকলে অভ্যুথানকারীদের উদ্দেশ্য কার্যত ব্যার্থ হত,
মোস্তাক বঙ্গ ভবনে আসতে পারতো না । তবে আমারা কি বলতে পারিনা যে বা যারা ,
ভাইস প্রেসিডেন্টের বদলে মোস্তাককে ক্ষমতাতে এনেছিল তাঁরাই জিয়ার বক্তব্য 'প্রেসিডেন্ট কিলড। সো হোয়াট। ভাইস প্রেসিডেন্ট ইজ দেয়ার। আপহোল্ড দ্য কনস্টিটিউশন' এর ছিদ্র অন্বেষণ করছেন ?
৩) তাহের প্রসংগে আমার উত্তর তাহের জিয়াকে সেভ করেছিলেন এই কথার কিয়দাংশ সত্য। তাহের জিয়াকে দিয়ে বিপ্লব সফল করানোর লোভেই এই কাজ টা করেছিলেন যা চূড়ান্ত ব্লাক মেইল ব্যাতীত আর কি হতে পারে? তাছাড়া তাহের ও জাসদের জন্য অজস্র অফিসার ও আওয়ামীলীগ নেতা খুন হয়েছিল। তাহেরের জাসদের হাতেই বঙ্গবন্ধু হত্যার প্রেক্ষাপট তৈরী হয়েছিল। যে কোন বিচারেই তাহেরের ফাঁসিই হওয়া উচিৎ ছিল। জিয়া যে ব্যক্তিগত সম্পর্কের উর্ধে উঠে তাহের কে ফাঁসির দড়িতে লটকে দিতে পেরেছিলেন , স্বর্নাক্ষরে তা আওয়ামিলীগের লিখে রাখা উচিৎ। ওয়ান মোর পয়েন্ট , তাহেরের ট্রাইব্যুনালের প্রধানের নাম হুসাইন মোহাম্মদ এরশাদ, যিনি বর্তমান সরকারের তুরুপের তাশ , অন্ধের লাঠি।
৪) প্রভাষ দা, বিভিন্ন ক্যু কাউন্টার ক্যুতে যাদের ফাঁসি দেওয়া হয়েছিল, সামরিক আইনে সেটা খুব স্বাভাবিক। আর্মড ফোর্সে ক্যু করার শাস্তি রহিত করার কোন সুযোগ নেই। আওয়ামীলীগ যদি আদতে এই অভিযোগ তুলতেই চাই সেক্ষেত্রে তাঁদের প্রকাশ্যেই বলা উচিৎ যে ক্যু বা অভ্যুত্থানের কারণে ফাঁসি দেওয়ার সামরিক আইন বাতিল করতে হবে।
৫) প্রভাষ ভাই, রাজাকার পূনর্বাসনের যে কথাটা বলেছেন তার ব্যাখ্যা হচ্ছে নয়া বাংলাদেশ যখন
ভারত রাশিয়া বেল্টে আটকে গেছে, মিছিলে স্লোগান উঠছে
রুশ ভারতের দালালেরা ,হুশিয়ার সাবধান ,কিসিঞ্জার যখন
Bottom less Basket উপাধী দিচ্ছেন,
২৫ বছরের গোলামী চুক্তিতে আন্তর্জাতিক ভারসাম্য যখন বেসামাল তখন মিডল ইস্টের সাথে সম্পর্ক ডেভলপ করার স্বার্থেই শাহ আজিজকে মন্ত্রী বানানো হয়, সুনির্দিষ্ট উদ্দেশ্য ও লক্ষ নিয়ে।
এর আগে শাহ আজীজ কে নিয়ে
খোদ বংগবন্ধু OIC সম্মেলনে গিয়েছিলেন, ভুট্টর সাথে কুলাকুলি করেছেন, ৫২ ভাষা আন্দালনে
শহীদ আসাদের হত্যাকারী পুলিশ অফিসার কে উচ্চ পদায়ন করেছিলেন।(তার নামটা এই মূহুর্তে মিস করছি) শেখ
হাসিনাও কিন্তু রাজাকারের গাড়িতে পতাকা তুলেছেন, এবং সেটাই প্রথম এই দেশে।
মন্ত্রী নূরুল ইসলাম তার নাম।
প্রান গ্রুপের প্রয়াত
জেনারেল আমজাদ যে সরাসরি
পাকিস্থানের পক্ষে যুদ্ধ করে যুদ্ধবন্দী হয়েছিল তাকে বাংলাদেশ আর্মিতে স্থান করে দিয়েছিলো তখনকার আওয়ামীলীগ সরকার। কাজেই এক চোখে না তাকানোই উত্তম।
৬)
গোলাম আজমকে আমিও অপছন্দ করি, তাকে দেশে আসতে দেওয়া হয়েছিল তার মায়ের অসুস্থতার কারনে। তবে জিয়া তাকে দেশে রেখেছিলেন বলেই কিন্তু আজ তার বিচার করা সম্ভব হয়েছে, শাস্তি দেওয়া সম্ভব হয়েছে। বিদেশে পালিয়ে থাকা শেখ সাহেবের অনেক খুনিকে কিন্তু এখনো দেশে এনে শাস্তি দেওয়া সম্ভব হয় নি।
৭) জামতকে রাজনৈতিক অধিকার দেবার ব্যাপারে যে অভিযোগ তা ধোপে টেকেনা।
বহুদলীয় গনতন্ত্র প্রবর্তনের সুযোগেই তারা রাজনীতির সুযোগ পেয়েছিল। যেমন
শেখ সাহেবের হাতে নিষিদ্ধ হওয়া আওয়ামীলীগ নিজেও রাজনীতির সুযোগ পেয়েছিল তখন। আজ পর্যন্ত কিন্তু
আওয়ামীলীগ সরকার জামাতকে রাজনৈতিক ভাবে নিষিদ্ধ করার পথে হাটে নি।
আর একটা পয়েন্ট এই বিষয়ে বলতে চাই
বহু দলীয় গনতন্ত্রের সুবাদে রাজনীতি করার সুযোগ পেলেও তাঁদের
রেজিস্ট্রেশন দেওয়া হয় নি
জিয়ার আমলে। শুধু তাই নয়
ভিন্ন রাজনৈতিক দল হিসাবে বাংলাদেশ আওয়ামীলীগ-ই উদ্দ্যগি হয়ে প্রথম জামাত-ই-ইসলামের সাথে রাজনৈতিক গাঁটছড়া বাধে ১৯৮৬ সালে, নির্বাচনের সময়।
এরশাদ সরকার জামাতকে রেজিস্ট্রেশন দেয় ভোট করার জন্য, সেই ভোটে
জামাত ও লীগ জাতিয় আন্দালনের পিঠে পিছন থেকে ছুরি বসিয়ে এরশাদকে বৈধতা দেয়।
৮)
জিয়া বাংলাদেশের প্রথম প্রেসিডেন্ট , তারেক রহমানের এই বক্তব্য নিয়েও সমালোচনা করা হয়ে্যেছে।
লিসেন টেকনিক্যালি বা আইনগত ভাবে জিয়াই কিন্তু প্রথম রাষ্ট্রপতি তা জিয়া দাবী করুক বা না করুক। দেখেন জিয়া প্রথম রাস্ট্রপতি না হলে, এই বিষয়ে মামলা সমূহ কোর্ট গুলো খারিজ করে দিল কেন বলতে পারেন? চলুন না দেশের প্রথম রাষ্ট্রপতি ইস্যুটা আদালতের হাতেই ছেড়ে দেওয়া যাক !
আমরা এই টেকনিক্যাল ব্যাপারটি টেনে আনতে বাধ্য হয়েছি, কারন আওয়ামীলীগ ভয়াবহ মিথ্যাচার করছিল জিয়ার নামে, এখনো করেই চলেছে।
তার প্রতি উত্তরেই আমরা মামুলী পাটকেল ছুড়েছি মাত্র।
সত্য উন্মোচিত হোক
আসলে কি জানেন ভাই , শহীদ জিয়ারও নিশ্চয় কোথাও না কোথাও ভুল ছিল, কারণ জিয়া মাঠে কাজ করতেন , সম্মুখে দাঁড়িয়ে নেতৃত্ব দিতেন। যে কাজ করে, ভুল তাঁর হতেই পারে। এদিক থেকে অবশ্য আওয়ামীলীগ এক্কেবারে ঝারাহাত, ফুলের মতই পবিত্র, বিগ ফিস, রুই কাতলাদের তো আর ৭১ এ মাঠে কামলা দেওয়া লাগে নি !
সত্য উন্মোচিত হোক
সত্য উন্মোচিত হোক
Foot note :
তাহের জিয়াকে সেভ করেছিলেন এই কথা সত্য নয়। ডাহা মিথ্যা কথা জিয়াকে সেভ করার কিছু ছিলো না, যেহেতু উনার জীবন ঝুঁকির মধ্যে ছিলো না। তথ্য পাওয়া যাবে শাফায়াত জামিল-এর লেখা বইয়ে। জিয়াকে সেভ করেছিলেন অনেকেই সুবেদার আনিস ও মেজর মহিউদ্দীনের নেতৃত্বে (তথ্যসূত্র কর্নেল হামিদের বই)।
তাহের খুনী ছিলো ও নিরীহ নিরাপরাধ অফিসারদের হত্যা করেছিলো (তথ্যসূত্র জেনারেল আমীন আহমেদ চৌধুরীর বই)
রেফ্রেন্স প্রভাষ আমিনের পোস্ট
রেফ্রেন্স প্রভাষ আমিনের পোস্ট
পিনাকীদার পোস্ট