রবিবার, ১০ জুলাই, ২০১৬

জাতীয়তাবাদের দ্বিতীয় জন্ম ও বেগম জিয়া

বিএনপি’র দ্বিতীয় জন্ম ও নেত্রী বেগম খালেদা জিয়া


পর্ব দুই (২)
বেগম জিয়া ; The Iron Maiden 


ফুল টাইম গৃহবধূ ও মা হিসাবে অভিজ্ঞ বেগম জিয়া রাজনীতিতে প্রবেশ করেন একজন আনকোরা হিসাবে। ফাস্ট লেডি হিসাবে ছিল তিন বছরের ছোট্ট অরাজনৈতিক এবং আনুষ্ঠানিক পদচারনা যা সম্পূর্ন ছিল স্বামী জিয়াউর রহমানের সঙ্গী হয়ে।


১৯৮১ সালে প্রেসিডেন্ট সাত্তার যখন ২১ সেপ্টেম্বর ১৯৮১ তে সাংবিধানিক নির্বাচনের ঘোষনা দেন তখন দলের ভেতর এক বার কথা উঠেছিল বেগম জিয়াকে পদপ্রার্থী করার জন্য। বেগম জিয়াকে প্রার্থী করাতে চাওয়ার মূল উদ্দেশ্য ছিল সেনা প্রধান এরশাদের ষড়যন্ত্র থেকে দল ও দেশকে রক্ষা করা। যদিও সে চেষ্টা ব্যার্থ হয়ে যায় তখন।


১৯৮১ সালের ১৮ অক্টোবর সেনা প্রধান এরশাদ সাপ্তাহিক হলিডেতে এক বেফাঁস বক্তব্য দিয়ে বসেন, তিনি বলেন “প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে বিএনপির কোন বিকল্প নেই এবং বিএনপি যদি জিততে না পারে , তাহলে আওয়ামীলীগ এসে দেশকে আবার নৈরাজ্যের দিকে নিয়ে যাবে”

জিয়াউর রহমানের জনপ্রিয়তার উপর ভর করে বিএনপির বিজয় সেনা প্রধান এরশাদের জন্য প্রয়োজনীয় ছিল , কিন্তু প্রভাব মুক্ত কোন বিএনপি প্রার্থীর বিজয় মোটেও কাঙ্ক্ষিত ছিলনা এরশাদে কাছে। এই লক্ষেই নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বীতা না করার জন্য সাত্তার ঘোষণা দিলেও তাকে বাধ্য করা হয় বিএনপির পক্ষে নির্বাচন করতে।


এই ক্ষেত্রে বিদ্যমান পরিস্থিতি ও ষড়যন্ত্র নিয়ে ব্যারিস্টার মওদুদ আহাম্মেদের বক্তব্য যুক্তি যংগত।



“সামরিক ও শাসক চক্রের জন্য সবচেয়ে ভয় ছিল বেগম জিয়াকে নিয়ে। প্রেসিডেন্ট প্রার্থী হবার জন্য তিনিই তখন সবচেয়ে পটেনসিয়াল ব্যক্তি হতে পারতেন। মুসলিম ঘরের স্বামী হারা স্ত্রী। স্বামীর নির্মম হত্যাকান্ডে বেগম জিয়া তখন দিশেহারা , শোকাকিভূত। ৪০ দিন পর্যন্ত তাঁর জন্য ছিল ধর্মীয় এক কঠিন বন্ধন। জিয়ার চেহলামের আগে খালেদা জিয়ার পক্ষে কোন ধরনের সামাজিক বা রাজনৈতিক কাজে লিপ্ত হওয়া সম্ভব ছিলনা। ঐ কারনেই এত বিরোধিতা , এত প্রতিবাদ এবং স্বীয় দলের সর্বসম্মত সিদ্ধান্তের বাইরে যেয়ে জিয়ার চেহলামের আগেই সাত্তারের মনোনয়ন চূড়ান্ত হয়। মনোনয়নের জন্য হাতে সময় থাকার পরেও ক্ষমতাসীনরা ঝুঁকি নিতে পারেনি। বেগম জিয়া প্রার্থী হলে সেটা বিরোধিতা করার জন্য কেও থাকতো না কিন্তু ৪০ দিন পার হবার আগে তা যাচাই করা সম্ভব ছিল না।





বেগম জিয়া ছাড়া বিকল্প ছিলেন বদরুদ্দোজা চৌধুরী কিন্তু ক্ষমতাসীনদের একটা অংশ ও দু্টি গোয়েন্দা সংস্থা জিয়া হত্যার ব্যাপারে তাঁর উপর মিথ্যা অপবাদ চাপালে তিনি আর প্রতিবাদ করে উঠতে পারেন নি এবং জিয়া হত্যার প্রেক্ষিতে তিনি সাহস ও মনোবল হারিয়ে ফেলেন। অন্য দিকে সাত্তারের মনোনয়নের ব্যাপারে এরশাদ কোন ঝুকিই নিতে চাননি ।





৩ জনুয়ারী ১৯৮২ তে ছাত্র সমাজের প্রবল চাপের মুখে পাঁচ(৫) টাকার ফর্ম পূরনের মধ্য দিয়ে বেগম খালেদা জিয়া রাজনৈতিক ডেবুডেন্ট হন, দলের একজন সাধারণ সদস্য হিসাবে। বেগম জিয়াকে রাজনীতিতে প্রথম পা ফেলার গুরু সত্যি কথা বলতে ছাত্রদলই ছিল। অবশ্য কেএম ওবায়েদ, বি চৌধুরী , কর্নেল অলী , তানভীর আহাম্মেদ, সাইফুর রহমানদেরও আগ্রহ ও সুপারিশ ছিল দলীয় রাজনীতিতে বেগম জিয়াকে নিয়ে আসা।



ক্ষমতার শীর্ষে থেকে জন্ম নেওয়া বিএনপি, জিয়াউর রহমানের অবর্তমানে কতটুকু এগিয়ে যেতে পারবে তা নিয়ে সন্ধিহান ছিল সংশ্লিষ্ট প্রত্যেকেই। বিএনপি তাঁবুতে যখন চরম হতাশা ,বিশৃঙ্খলা তখন খালেদা জিয়ার রাজনীতিতে উপস্থিতি দলের অন্ধ ভক্তমহলে প্রাণের সঞ্চার শুরু করে।


স্বভাবিক রাজনৈতিক হিসাবেই বেগম জিয়াকে প্রবল প্রতিপক্ষ হিসাবে চিহ্নিত করতে ভূল করেনি তখনকার বিএনপি,র রাজনীতিতে অভিজ্ঞ ব্যাক্তিদের কিছু অংশ। প্রতিদ্বন্দ্বী অনেকেই আশঙ্কা করছিলেন বেগম জিয়া সামনে এসে গেলে দলীয় রাজনীতির নিয়ন্ত্রণ তাদের হাত ছাড়া হতে পারে, ফলশ্রুতি তে দলীয় চেয়ারম্যান নির্বাচনে প্রার্থীতা দিয়েও তিনি শেষ পর্যন্ত প্রার্থীতা তুলে নিতে বাধ্য হন। এর আগে ২১শে ফেব্রুয়ারী ১৯৮২ দলীয় চেয়ারম্যান নির্বাচনের জন্য দিন ধার্য করা হলে ৫ জানুয়ারি রাত ৮টা ৪৫ এ বিএনপি নেতা শামসুল হক, বেগম জিয়ার পক্ষে দলীয় চেয়ারম্যান হিসাবে মনোনয়ন পত্র দাখীল করেন।




সাত্তার এবং বেগম জিয়া দুই জন চেয়ারম্যান প্রার্থী হলে , President সাত্তার বেগম জিয়ার বাসাতে দুই বার তাঁর সাথে দেখা করেন এবং মনোনয়ন বিষয়ে আলোচনা করেন। মনোনয়ন প্রত্যাহারের শেষ দিনে দলের একতা ও ঐক্য ধরে রাখার প্রতিশ্রুতি আদায় করে প্রার্থীতা প্রত্যাহার করে নেন বেগম জিয়া।








৮ জানুয়ারি ১৯৮২ বিবৃতির মাধ্যমে বেগম জিয়া তাঁর রাজনীতিতে আসার প্রেক্ষাপট ও চেয়ারম্যান পদে প্রার্থীতা প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত ও এর কারন জনগণ ও কর্মীদের অবহিত করেন। পরবর্তিতে বেগম জিয়া , সাত্তার সরকারের সাথে সার্বিক সহযোগিতা অব্যাহত রাখলে টনক নড়ে ওঠে সেনা প্রধান এরশাদের অফিসে, এবং ২৪ মার্চ ১৯৮২ সাত্তারকে ক্ষমতা ছেড়ে দিতে বাধ্য করা হয়।









মজার ব্যাপার হচ্ছে এর আগে ৭ মার্চ ১৯৮২ তে বাইতুল মোকারম মসজিদ প্রাঙ্গণের জনসভা থেকে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ নেতৃত্ব সাত্তার সরকারকে উৎখাতের আহবান জানিয়েছিল ।


এরপর ১৬ এপ্রিল ১৯৮২ বেগম খালেদা জিয়া স্বাক্ষরিত প্রথম অফিসিয়াল ডকুমেন্ট হিসাবে কয়েক হাজার পহেলা বৈশাখের শুভেচ্ছা কার্ড বিতরণ করা হয়।


এবার আবার চলে আসি ছাত্রদলের কাছে।
১৯৮৩, ২১ ফেব্রুয়ারী দিনে বেগম জিয়া যে ভাষন টি দেন , তা স্বৈরাচার সরকারের মাথা ব্যাথার কারন হয়ে দাড়ায়। বেগম জিয়া হাজার হাজার কর্মী পরিবেষ্টিত হয়ে শোককে শক্তিতে পরিনত করার প্রকাশ্য ঘোষণা দেন। তিনি বলেন আমি আপনাদের কাফেলাতে শরিক হতে চাই, স্বৈরাচারের তাখতে রাওয়ান ভেঙে চুরমার করে দিন। মধ্য ফেব্রুরারীর হত্যাকান্ডের রক্ত আমরা বৃথা যেতে দেবো না। এদের পতন আমাদের আন্দালনের মাধ্যমেই হবে, হতেই হবে, সবাই প্রস্তুত থাকবেন ।







ছাত্রদল তাদের কৌশলগত কারনে বেগম জিয়ার উপস্থিতির কথা শেষ মূহুর্ত পর্যন্ত গোপন রাখে এবং খালেদা জিয়া উপস্থিত হবার সাথে সাথে বান ভাসি জলের মত লোকে লোকারণ্য হয়ে যায় রমনার বটমূল। বক্তৃতা শেষ করেই তীব্র গতিতে ছাত্রদল তাঁকে এসকর্ট করে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেয়। বেগম জিয়া স্থান ত্যাগের ৫ মিনিটের মধ্যে পুলিশ সেখানে তীব্র লাঠি চার্চ করে এবং বেগম জিয়ার সভাতে উপস্থিত জাসদের সিনিয়র নেতৃবৃন্দকে অপদস্থ করে।
জাসাস আয়োজিত , ছাত্রদলের সার্বিক তত্ত্বাবধানে অনুষ্ঠিত এই সভা এতটাই শক্তিশালী ও ক্ষিপ্রগতি সম্পন্ন ছিল যে পরদিন ২২ ফেব্রুয়ারী স্বৈরাচার এরশাদ ফরমান জারী করতে বাধ্য হয় যে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে কোন ধরনের রাজনৈতিক উপস্থিতি বেআইনি ঘোষনা করা হল এবং এই পরিক্রমাতে ২৫ ফেব্রুয়ারী বিশ্ববিদ্যালয় সমূহ অনির্দিষ্ট কালের জন্য বন্ধ করে দিতে বাধ্য হয়।



একুশে ফেব্রুয়ারীর এই দৃঢ় আয়োজন বেগম জিয়াকে আরো আক্রমনাত্বক করে তোলে এবং ছাত্রদলের সাংগাঠনিক কাঠামোর বিস্তৃতি প্রমাণ করে।
পরিস্থিতি আঁচ করতে পেয়ে এরশাদ ভিন্ন কৌশল ধরে, হুদা মতিন গ্রপকে দিয়ে বিএনপিতে ভাঙ্গন ধরানোর চেষ্টা শুরু হয়। এই পরিস্থিতি আঁচ করতে পেরে, বিচারপতি সাত্তার বেগম জিয়াকে ৮৩ র মার্চ মাসে দলের সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান হিসাবে নিয়োগ দেন।



হুদা-মতিন একজোট হয়ে বিএনপির নামে একটা কমিটি করে ফেলেন ,অন্যদিকে দুদু-নিলু আরো একটি দলছূট কমিটি গঠন করে যা পরবর্তিতে প্রগতিশীল জাতিয়তাবাদী দল নামেপরিচিত হয়।
এই ঘটনার সময় বিচারপতি সাত্তারের সিদ্ধান্ত দলের জন্য শুভ হয়ে ওঠে। বেগম জিয়াকে ভাইস চেয়ারম্যান করতে সাত্তার সফল হওয়াতে সাত্তার-খালেদা জোটকে মানুষ মূলধারা বিএনপি বলে মেনে নেয়।
আওয়ামিলীগকে কেন্দ্র করে যখন ১৫ দলীয় জোট কার্যক্রম শুরু করে দিয়েছে , তখন অগাস্ট ৮৩ তে আত্মপ্রকাশ করে বিএনপি নেতৃত্বাধীন ৭ দলীয় জোট। প্রধান সমন্বয়ক বেগম খালেদা জিয়া , এই জোটকে ঘিরে তাঁর প্রভাব প্রতিপত্তি ও সক্ষমতা বাড়াতে শুরু করেন। এই জোট থেকে বিএনপি ১২ দফা দাবী পেশ করলেও মূল লক্ষ ছিল বন্দী নেতা কর্মীদের মুক্তির মাধ্যমে দল কে চাঙ্গা করা।



১৯৮৩ সালের ৪ ও ৫ সেপ্টেমবর দিনটি বাংলাদেশের আন্দালন সংগ্রামের ইতিহাসে আরো একটি চমকপ্রদ দিন। ৭ ও ১৫ দলীয় জোট এই দিন আনুষ্ঠানিক বৈঠকের মাধ্যমে “যুগপৎ আন্দালন” ধারনার চালু করেন।
তারা প্রথম এসাইনমেন্ট হিসাবে ৫ দফার একটি দাবীনামাও পেশ করে, ৬ তারিখ থেকেই কর্মসূচী চালু করে। প্রথমেই দুই দল আলাদা আলাদা ভাবে ৩০ সেপ্টেম্বর ঢাকাতে দুটি জনসভা করে।


১ নভেম্বর ১৯৮৩ প্রথম যুগপৎ হরতাল আহ্বান করে। কোন ধরনের পিকেটিং ছাড়াই এই হরতাল প্রবল জন সমর্থনে সফলকাম হয়।


২৮ নভেম্বর ১৯৮৩ দুই দল পুনরায় সচিবালয় ঘেরাও করার সিদ্ধান্ত নেয়। পল্টন-জিপিও এলাকাতে লক্ষ লক্ষ জনতার উপস্থিতিতে খালেদা ও হাসিনা উপস্থিত হন ও দুজন পথের দুই ধারে বসে পরেন। প্রকৃতপক্ষে ২৮ নভেম্বরের এই অবরোধে অংশ গ্রহনের মাধ্যমে রাজপথে কোন আন্দালনে বেগম খালেদা জিয়ার অভিষেক ঘটে।
ছাত্রদল ও ছাত্রলীগের অটল ও বিধ্বংশী অবস্থানে রাজপথে খালেদা জিয়া ও শেখ হাসিনার নিরাপত্তা অনেকটা নিশ্ছিদ্র হয়, ঐ রাতেই রাজনৈতিক কার্যক্রমের ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করে বেগম খালেদা জিয়া ও শেখ হাসিনাকে গৃহ বন্দী করে , কর্তৃপক্ষ।


১১ ডিসেম্বর ১৯৮৩ হোসাইন মোহাম্মদ এরশাদ, রাষ্ট্রপতি আহসান উদ্দিন চৌধুরী কে সরিয়ে দিয়ে নিজেই রাষ্ট্রপতির চেয়ার দখল করে।


এরশাদ প্রেসিডেন্ট হবার পর আওয়ামী লীগের ১৫ দল পূর্ব ঘোষিত ২০ ডিসেম্বর ১৯৮৩ হরতাল স্থগিত করে। এই স্থগিতাদেশের মাধ্যমেই ১৯৮৩-৮৪ সালের সামরিক শাষন বিরোধী আন্দালন দীর্ঘ দিনের জন্য মুখ থুবড়ে পরে।
২৬ মার্চ ১৯৮৪ থেকে অবাধ রাজনীতির সুযোগ দেওয়া হবে মর্মে ঘোষনা দেন এরশাদ ২৯ ফেব্রুয়ারী ১৯৮৪ তারিখে।
২৭ মে ১৯৮৪ রাষ্ট্রপতি ও জাতিয় সংসদ নির্বাচনের তারিখ ঠিক করা হয়। বিএনপি জোট এই সময় সবার আগে জাতিয় সংসদ নির্বাচনের দাবী জানায় এবং এরশাদ ঘোষিত ১৮ মার্চ ১৯৮৪ এর উপজেলা নির্বাচন থেকে বিএনপি ও আওয়ামিলীগ প্রার্থীদের উইথড্রো করতে আদেশ দেয় , যার প্রেক্ষিতে ১৮ মার্চের উপজেলা নির্বাচন স্থগিত হয়ে যায়।







১ এপ্রিল ১৯৮৪
বর্ধিত সভা আহ্বান করে বিএনপি। এই সভা থেকেই বেগম খালেদা জিয়া কে দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান নিযুক্ত করার ঐতিহাসিক সিদ্ধান্তটি আসে।
বিএনপি ও আওয়ামিলীগের ভেতর যোগাযোগ থাকলেও তা ছিল অত্যান্ত হালকা , সাথে অবিশ্বাসের ধোয়া তো ছিলোই।






১০ মে ১৯৮৪ বিচারপতি সাত্তার অবসরের ঘোষনা দিলে দলের পূর্ন চেয়ারম্যানের দায়িত্ব বর্তে বেগম খালেদা জিয়ার হাতে।





এখান থেকেই শুরু হয় বাংলাদেশ জাতিয়তাবাদী দলের নবযাত্রা...

কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন