অনেক
দিন থেকে কেউ কেউ বলে আসছিল নির্বাচন সমাগত। কেউ আস্থা রেখেছেন, কেউ রাখেন নি। অবশ্য সরকারী নির্যাতন,
দলের সাংগাঠনিক বেসামাল অবস্থা, আওয়ামীলিগের পাওয়ার প্রীতি, সব কিছু মিলিয়ে আস্থা রাখার জাইগা ছিলনা
বললে ভুল
হবে না। অনেকে আবার প্রশ্ন ছুড়ে দিয়ে জানতে চেয়েছেন কবে সেই নির্বাচন?
উত্তর
এসেছে, পরিস্থিতি ও ক্ষেত্র
তৈরি হবে। কিছু নিয়ামক কাজ করবে। কিছু মেজার গ্রহণ করবে আওয়ামীলীগ। বিএনপি
সংগঠন গোছাতে না পারলেও নীরবে অনেক শ্রম দিয়ে গেছে, অনেক ধৌর্য ও বিচক্ষনতার পরিচয় দিয়েছে।
২০১৩
সালের আন্দালন
বন্ধ করা যেমন ভুল ছিল, তেমনি
২০১৪ সালে বর্ষ পূর্তিতে প্রায় তিন মাস টানা চলা ব্যার্থ আন্দোলন থেকে সরে
আসার মত সাহসী সিদ্ধান্ত নিয়েছিল।
হিসাব
হচ্ছিল, শীর্ষ নেতাদের
বিশেষত মাঝ বয়সী নেতাদের জেলে দেওয়া হবে। পরীক্ষিত খন্দকার দেলোয়ার হোসেন
ক্যাটাগরির সিনিয়রদের জেলে দেওয়া হবে, ছাত্রদলের
শেষ কমিটিতে সম্ভবনা সৃষ্টিকরা উদীয়মান নেতাদের হ্যারাজ করা হবে এবং অবশেষে তারেক
রহমান ও বেগম খালেদা জিয়াকে বিভ্রান্তিকর বিচারের মাধ্যমে শাস্তি প্রদানের রায় এর মাধ্যমে,
নির্বাচনে সাংবিধানিক নিয়মে অযোগ্য ঘোষনা করা
হবে। সাথে আরো অন্তত ৫০ টি সুনিশ্চিত আসন দখল করা প্রার্থীদের একই পরিণতি ভোগ করতে হবে।
তারেক
রহমানের ক্ষেত্রে বিষয়টি আওয়ামীলীগের জন্য তুলনামূলক সহজ হয়েছে। যেহেতু উনি বিদেশে অবস্থান করছেন। তাই তাঁকে
সরাসরি এ্যরেস্ট করার ঝুঁকি নিতে হচ্ছে না। এই ঝুঁকিতে না পরা লাভের সাথে তাদের লাভ হচ্ছে আরো
দুটি। নাম্বার এক তাঁরা বলতে পারছে আদালতের রাই-কে তারেক রহমান স্বশরীরে
চ্যালেঞ্জ জানাতে আসেনি। এবং দুই বিএনপি কর্মী গোষ্ঠীর প্রথম দফার ক্ষোভের
আগুনে উত্তাপ কমার সুযোগ তৈরি করে বরং বিএনপির সমর্থকদের মানসিক ভাবে প্রস্তুত করে তুলছে যে
তারেক রহমান ও বেগম
জিয়ার গ্রেফতার হওয়া, বিএনপির ভাগ্য। এই ভয়ানক নার্ভ গেমটা খেলার জন্য আওয়ামীলীগের সবচেয়ে ভালো
বন্ধু হচ্ছে দেশের একচোখা মিডিয়াগুলো।
এরপর বাকি থাকেন নেত্রী বেগম খালেদা জিয়া । প্রচারণা, প্রতারণা প্রপাগান্ডার মাধ্যমে মাঠে পরিস্থিতি তৈরি করবে যে বেগম জিয়াকেও গ্রেফতার করা সম্ভব। তবে আমার মনে হয় না বেগম জিয়াকে গ্রেফতার করে আন্তর্জাতিক বিশ্বে তাঁরা জিম্বাবুয়ের রবার্ট মুগাবের মত ইমেজ গ্রহণ করার রিস্ক নেবে। আওয়ামীলীগ খুব ভালো করেই জানে যে তাদের নেত্রীর চেয়ে বেগম খালেদা জিয়ার ব্যাক্তি ইমেজ ও জনপ্রিয়তা অনেক বেশী। এ ক্ষেত্রে বিগত নির্বাচন গুলোতে ব্যাক্তি আসনে আওয়ামী প্রধানেরে কয়েকটি পরাজয় ও বেগম জিয়ার সবকটিতে জয় আওয়ামী লীগের জন্য চিন্তার খোরাক জোগাবে।
উদাহরণ
ও উপাই হিসাবে বেগম জিয়ার বিরুদ্ধে জারি হওয়া ওয়ারেন্টের কথা মাথাতে রাখুন। আদালত
থেকে কুরিয়ার
সার্ভিস হয়ে যা প্রায় তিন মাসেও গুলশান থানাতে পৌঁছে নি। তাঁরা
হয়তো, কোন ভাবে জনগণ ক্ষেপে যাবার কারণে পরিকল্পনাতে ব্যাঘাত ঘটলে লাস্ট লাইন অফ
ডিফেন্স হিসাবে বেগম জিয়ার সাথে আলোচনার পথ খোলা রাখতে চাইবে।
সর্বশেষ
পদক্ষেপ হতে পারে, ইতিমধ্যেই নির্বাচন
কমিশনের নিবন্ধন
হারানো জামাত বা নতুন নামে আবির্ভাব হওয়া জামাতের সাথে রাজনৈতিক সন্ধির মাধ্যমে
নির্বাচনে যেকোন উপায়ে হেরে যাবার ন্যানো সম্ভবনা বিলুপ্ত
করা।
অর্থাৎ
এখন যা ঘটছে তা হচ্ছে নিরপেক্ষ নির্বাচন দিতে বাধ্য হলেও, আওয়ামীলীগের ভোট জয় সুনিশ্চিত করার
ইলেকশন ইঞ্জিনিয়ারিং ।
জামাতের
সাথের সম্পর্ক ঠিক এই মূহুর্তে কেটে দেবার প্রস্তাবের মাধ্যমে মূলত আওয়ামীলীগের
পরিকল্পিত টাইম ছক থেকে সময়ের আগেই এটাকিং মিডফিল্ড ও অধিনায়ককে ডেঞ্জার জোনে ,নিজের ডিফেন্স লাইনে ধরে এনে ধরাসয় করে
কাউন্টার গোলের
মাস্টার ফরমেসন । এই কৌশল আওয়ামীলীগ প্রকাশ্যে বিএনপির ওপর প্রয়োগ করছে জামাত ত্যাগের
জন্য চাপ দেবার মাধ্যমে। এই প্রচেষ্টা চালাতে যেয়ে আওয়ামীলীগের রাডারে ধরা পড়ার সত্ত্বেও
অসময়ে , ভূপৃষ্ট থেকে ২ বছর
সময় আগে হ্যাফ
প্যান্ট পড়ে নামা ছাড়া কোন অন্য কোন বিকল্প নেই।
এখন
আবার দেখার
পালা ... বিএনপির মধ্যম মানের নেতারা ভবিষ্যতে দলের হাই কমান্ডের কাছ থেকে কত টুকু
মূল্যায়ন পাবে , তা কিন্তু আগামী
কিছুদিনে নিজ কর্মকান্ডের লিস্টি দেখে Self Examine করে নিতে পারেন!
তো
কোন মন্ত্রনালয় টার্গেট করছেন ভ্রাতা ?
কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন