একজন হাইজাকারের গল্প
অর্লি বিমানবন্দর
প্যারিস
থেকে ছেড়ে আসা পাকিস্তান ইন্টারন্যাশনাল এয়ারলাইনসের একটি Boeing 720 এর নিয়ন্ত্রণ নিলেন জাঁ ক্যুয়ে। মাত্র ২৮ বছর বয়সের এক উদ্ধত ফ্রেঞ্চ তরুণ। প্রায় সম্পূর্ন
হাইজ্যাক টি ভিডিও ক্যামেরা তে ধারণ করা ছিল।
প্রথমেই জাঁ ক্যুয়ে রিভলবার তাক করে ধরে পাইলটের মাথা বরাবর ,তারপর তাঁর দাবিদাওয়া পেশ করে।
তাঁর ডিমান্ড ছিল মাত্র ২০ টন জরুরী ঔষধ
। ২০ টন জরুরী ঔষধ সরবরাহ না করা হলে ডিনামাইট চার্চ করে গোটা বিমান উড়িয়ে দেবার
হুমকি প্রদান করে।
জিম্মি যাত্রীদের জীবনের নিরাপত্যার কথা
চিন্তা করে সরকার তাঁর শর্তে রাজি হয়ে যায় এবং কিছুক্ষণের ভেতর চাহিদার বড় একটা
অংশ এয়ার পোর্ট টার্মিনালে হাজির করা হয়। প্রথম কন সাইনমেন্টের ঔষধের চালান
নিশ্চিত হবার পরে হাইজ্যাকার জাঁ ক্যুয়ে বিমানে অবস্থান
নেওয়া শিশু ও বাচ্চাদের বিমান থেকে নামিয়ে নিরাপদে চলে যেতে দেয়।
বিমানে সে কয়েকজন সাংবাদিক কেও তুলে নেয়
, যারা ঘটনাটি ভিডিও করেছিল। বাকী প্যাসেঞ্জার দের প্যারিসে নামিয়ে দেবার
সিদ্ধান্ত নেয় জাঁ ক্যুয়ে। প্যারিসে যখন ২য় চালান ঔষধের বহর বিমানে তোলার ব্যাবস্থা হচ্ছিল। ট্রাক ভর্তি
ঔষধ বিমানে নিয়ে আসা হচ্ছিল। তখন ট্রাক ড্রাইভারের ছদ্দ বেশে পুলিস অফিসাররা
বিমানের কার্গো বক্স ও ককপিটে পৌঁছে যায়।
মালামাল তোলা পর্যবেক্ষনে জাঁ ক্যুয়ে ব্যাস্ত হয়ে পরলে এই সুযোগটি গ্রহণ করে পুলিশ , এ্যরেস্ট
করে জাঁ ক্যুয়েকে।
মাত্র ২৮ বছর বয়েসে অতীতে কোন ধরনের
ক্রিমিনাল রেকর্ড না থাকার পড়েও বিমান হ্যাইজ্যাকের অপরাধে তাঁকে জেলের ভাত খাওয়া
লাগে।
বিমানের একজন যাত্রী তাঁর ইন্টারভিউ এ
বলেন হাইজ্যাকার দারুণ ইয়াং ছেলে ছিল। খুব ভদ্র ব্যাবহার । আমাদের সে বলে তোমরা
লাঞ্চ করে নাও। ছোট বাচ্চা একটা মেয়ে ভয় পেলে সে তাঁকে আদর করে বলে ভয় পাবার কোন
কারণ নেই।
বিমানে যে ঔষধ লোড করা হয়েছিল তা অন্য
একটি কার্গো বিমান থেকে তখন নামানো হচ্ছিল। তবে প্রশাসন জানিয়ে ছিল যে
হাইজ্যাকারের দাবী মত, অন্য একটি ঔষধের কার্গো তাঁরা ঠিকি পাকিস্থানে নির্যাতিত
মানুষের জন্য পাঠাবে , এবং তা আজকেই।
অর্থাৎ ফ্রেঞ্চ তরুন জাঁ ক্যুয়ে বিমান হাইজ্যাকের উদ্দেশ্য ছিল ৭১ এ বাংলাদেশি শরনার্থীদের
জন্য জীবন রক্ষা কারী ঔষধের চালান নিশ্চিত করা।
জাঁ ক্যুয়ে কি সেদিন ঘুণাক্ষরেও কল্পনা করেছিল যে দেশের মানুষদের জন্য
সে স্বার্থবিহীন বিমান হাইজ্যাকের ঝুঁকি
নিয়েছিল , সেই দেশ টি আর মাত্র ১৩ দিন পরে স্বাধীন হবে?
জাঁ ক্যু তুমি জানোনা,
সেইদেশের আজকের তরুণেরা আজো সংগ্রাম করে যাচ্ছে , খুন হচ্ছে ,গুম হচ্ছে ,
পুলিশের ডাণ্ডার আর টিয়ার শেলে জর্জারিত
হচ্ছে । সেই দেশের মায়েরা আজো জানে না ছেলে টি ঘরে ফিরে আসবে কিনা ??
জাঁ ক্যুয়ে আমি লজ্জিত , আমাকে ক্ষমা কর তুমি যেই বাংলাদেশ চেয়েছিলে,
আমরা তা গড়তে পারি নি।।
বিদায় বিদায় এ অভাগা আজ নোয়াই শির।
কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন