রবিবার, ১০ জুলাই, ২০১৬
এরশাদ নামা ১
১ অক্টবার ১৯৭৭ -
জাপান এয়ারের একটি বোয়িং বিমান ছিনতাই করে ঢাকা , কুর্মিটোলা এয়ারপোর্টে অবতরণ করতে বাধ্য করা হয়। বাংলাদেশ সরকার তখন যাত্রীদের জীবন রক্ষার জন্য জাপান সরকার ও ছিনতাই কারীদের সাথে মধ্যস্ততা করে যাত্রীদের নিরাপদে সরিয়ে আনার চেষ্টাতে ব্যাস্ত।
২ অক্টবার ১৯৭৭
মধ্যস্ততা চলাকালীন রাত্রি দ্বিপ্রহরে একটি ভয়াবহ সেনা অভ্যাত্থান ঘটে যায় ঢাকা সেনানিবাসে। ২ অক্টবার রাতেই অন্ততপক্ষে ৩৬ ঘন্টার জন্য গৃহবন্দি হন জেনারেল জিয়াউর রহমান। ৮ম বেঙ্গল রেজিমেন্টের ক্ষিপ্র একসানে জিয়া মুক্ত হলেও নিহত হন জাপান এয়ারের পক্ষে নেগোসিয়েটরত বিমান বাহিনীর ১১ সিনিয়র অফিসার, অভ্যুত্থানকারীদের হাতে।
নেগোসিয়েসনে যাত্রীদের মুক্তিপণ বাবদ জমা করা ৬০ কোটি টাকা এই সময় বিমান বাহিনী প্রধান সহ নিহত ১১ অফিসারের জিম্মাতে ছিল। কে বা কাহারা এই ৬০ কোটি টাকা লুণ্ঠন অথবা চুরি করে।
এই হত্যাকাণ্ডে কোন অজানা কারণে হোসাইন মোহাম্মদ এরশাদের তৎকালীন ঘনিষ্ঠ বন্ধু এয়ার চিফ , এয়ার ভাইস মার্শাল এ জি মাহমুদ বেঁচে যান।
১৯৮০ সালের মধ্য জুন -
প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান রাষ্ট্রীয় সফরে দেশের বাইরে অবস্থান করছিলেন। প্রেসিডেন্টের অনুপস্থিতির সুযোগ নিয়ে লেঃ কর্নেল দিদারুল আলম একটি অভ্যুত্থান সংগঠিত করার ব্যার্থ চেষ্টা করেন। সফর সংক্ষিপ্ত করে দেশে ফিরে প্রেসিডেন্ট জিয়া এই অভ্যুত্থানের পেছনের মানুষ হিসাবে এরশাদকে সন্দেহ করেন এবং এরশাদকে সেনাবাহিনী থেকে অব্যাহতি দেবার সিদ্ধান্ত নেন। জেনারেল এরশাদের কানে এই খবর পৌঁছালে ,এরশাদ সরাসরি নিজে গাড়ি ড্রাইভ করে প্রেসিডেন্ট জিয়ার অফিসে এসে উপস্থিত সবার সামনে প্রেসিডেন্টের পা জড়িয়ে ধরে হাউ মাউ করে কাঁদা শুরু করেন।
মজার বিষয় হচ্ছে এরশাদ একটি ছোট্ট কোরআন শরীফ তাঁর পকেটে করে নিয়ে গিয়েছিলো , সেই কোরআন ছুঁয়ে সে বলে এই ক্যু বিষয়ে সে কিছুই জানতো না , প্রেসিডেন্টের জন্য জীবন উৎসর্গ করতেও সে প্রস্তুত। প্রেসিডেন্ট বিশ্বাস না করলে এই মূহুর্তেই সে নিজের প্রাণ বিসর্যন দিয়ে প্রেসিডেন্টের প্রতি তাঁর আনুগত্যের প্রমাণ দেবে।
জেনারেল এরশাদের এই নাটুকেপনা দেখে মূহুর্তের জন্য ভড়কে যান প্রেসিডেন্ট জিয়া, এবং সাতপাঁচ ভেবে, এরশাদকে আপাতত বরখাস্ত না করার সিদ্ধান্ত গ্রহন করেন।
তবে প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান এই সিদ্ধান্তও নেন যে জেনারেল এরশাদের সেনা প্রধান হিসাবে মেয়াদ শেষ হলে, সাথে সাথেই এরশাদকে অবসরে পাঠাবেন এবং মুক্তিযোদ্ধা জেনারেল মীর শওকত আলীকে নতুন সেনা প্রধান হিসাবে নিয়োগ দেবেন।
প্রেসিডেন্ট তাঁর ঘনিষ্ঠজনদের সাথে এই বিষয়ে পরামর্শ করেন। প্রেসিডেন্টের এই মনোভাব আঁচ করতে পেরে জেনারেল এরশাদ আরো মরিয়া হয়ে ওঠেন যেন মেয়াদ শেষ হবার আগেই কিছু একটা ঘটিয়ে ফেলা সম্ভব হয়।
উত্তাপ
* মেজর জেনারেল রফিফুল ইসলাম পিএসসি
* এলাহি নেওয়াজ খান
* দৈনিক সকালের খবর
এতে সদস্যতা:
মন্তব্যগুলি পোস্ট করুন (Atom)

কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন