শনিবার, ১৬ জুলাই, ২০১৬

একজন হাইজাকারের গল্প



একজন হাইজাকারের গল্প


অর্লি বিমানবন্দর
প্যারিস
থেকে ছেড়ে আসা পাকিস্তান ইন্টারন্যাশনাল এয়ারলাইনসের একটি  Boeing 720 এর নিয়ন্ত্রণ নিলেন জাঁ ক্যুয়েমাত্র ২৮ বছর বয়সের এক উদ্ধত ফ্রেঞ্চ তরুণ। প্রায় সম্পূর্ন হাইজ্যাক টি ভিডিও ক্যামেরা তে ধারণ করা ছিল।




প্রথমেই জাঁ ক্যুয়ে রিভলবার তাক করে ধরে পাইলটের মাথা বরাবর ,তারপর তাঁর দাবিদাওয়া পেশ করে।
তাঁর ডিমান্ড ছিল মাত্র ২০ টন জরুরী ঔষধ । ২০ টন জরুরী ঔষধ সরবরাহ না করা হলে ডিনামাইট চার্চ করে গোটা বিমান উড়িয়ে দেবার হুমকি প্রদান করে।



জিম্মি যাত্রীদের জীবনের নিরাপত্যার কথা চিন্তা করে সরকার তাঁর শর্তে রাজি হয়ে যায় এবং কিছুক্ষণের ভেতর চাহিদার বড় একটা অংশ এয়ার পোর্ট টার্মিনালে হাজির করা হয়। প্রথম কন সাইনমেন্টের ঔষধের চালান নিশ্চিত হবার পরে হাইজ্যাকার জাঁ ক্যুয়ে বিমানে অবস্থান নেওয়া শিশু ও বাচ্চাদের বিমান থেকে নামিয়ে নিরাপদে চলে যেতে দেয়।



বিমানে সে কয়েকজন সাংবাদিক কেও তুলে নেয় , যারা ঘটনাটি ভিডিও করেছিল। বাকী প্যাসেঞ্জার দের প্যারিসে নামিয়ে দেবার সিদ্ধান্ত নেয় জাঁ ক্যুয়েপ্যারিসে যখন ২য় চালান ঔষধের বহর বিমানে তোলার ব্যাবস্থা হচ্ছিল। ট্রাক ভর্তি ঔষধ বিমানে নিয়ে আসা হচ্ছিল। তখন ট্রাক ড্রাইভারের ছদ্দ বেশে পুলিস অফিসাররা বিমানের কার্গো বক্স ও ককপিটে পৌঁছে যায়।



মালামাল তোলা পর্যবেক্ষনে জাঁ ক্যুয়ে ব্যাস্ত হয়ে পরলে এই সুযোগটি গ্রহণ করে পুলিশ , এ্যরেস্ট করে জাঁ ক্যুয়েকে।

মাত্র ২৮ বছর বয়েসে অতীতে কোন ধরনের ক্রিমিনাল রেকর্ড না থাকার পড়েও বিমান হ্যাইজ্যাকের অপরাধে তাঁকে জেলের ভাত খাওয়া লাগে।




বিমানের একজন যাত্রী তাঁর ইন্টারভিউ এ বলেন হাইজ্যাকার দারুণ ইয়াং ছেলে ছিল। খুব ভদ্র ব্যাবহার । আমাদের সে বলে তোমরা লাঞ্চ করে নাও। ছোট বাচ্চা একটা মেয়ে ভয় পেলে সে তাঁকে আদর করে বলে ভয় পাবার কোন কারণ নেই।


বিমানে যে ঔষধ লোড করা হয়েছিল তা অন্য একটি কার্গো বিমান থেকে তখন নামানো হচ্ছিল। তবে প্রশাসন জানিয়ে ছিল যে হাইজ্যাকারের দাবী মত, অন্য একটি ঔষধের কার্গো তাঁরা ঠিকি পাকিস্থানে নির্যাতিত মানুষের জন্য পাঠাবে , এবং তা আজকেই।

অর্থাৎ ফ্রেঞ্চ তরুন জাঁ ক্যুয়ে বিমান হাইজ্যাকের উদ্দেশ্য ছিল ৭১ এ বাংলাদেশি শরনার্থীদের জন্য জীবন রক্ষা কারী ঔষধের চালান নিশ্চিত করা।


জাঁ ক্যুয়ে কি সেদিন ঘুণাক্ষরেও কল্পনা করেছিল যে দেশের মানুষদের জন্য সে  স্বার্থবিহীন বিমান হাইজ্যাকের ঝুঁকি নিয়েছিল , সেই দেশ টি আর মাত্র ১৩ দিন পরে স্বাধীন হবে?

জাঁ ক্যু তুমি জানোনা,  সেইদেশের আজকের তরুণেরা আজো সংগ্রাম করে যাচ্ছে , খুন হচ্ছে ,গুম হচ্ছে , পুলিশের ডাণ্ডার  আর টিয়ার শেলে জর্জারিত হচ্ছে । সেই দেশের মায়েরা আজো জানে না ছেলে টি ঘরে ফিরে আসবে কিনা ??


জাঁ ক্যুয়ে আমি লজ্জিত , আমাকে ক্ষমা কর তুমি যেই বাংলাদেশ চেয়েছিলে, আমরা তা গড়তে পারি নি।।

বিদায় বিদায় এ অভাগা আজ নোয়াই শির।


https://www.youtube.com/watch?v=XhFQK02B3sI

বার্মুডা টায়াংগেলে ৯০ বছর আগে হারিয়ে যাওয়া জাহাজ

ইন্টারনেট থেকে



প্রায় ন’দশক আগে হারিয়ে গিয়েছিল একটি জাহাজ। ১৯২৫ সালের ডিসেম্বরে হারিয়ে গিয়েছিল ‘এসএস কোটোপ্যাক্সি’। মনে করা হয়েছিল, বারমুডা ট্রাইঅ্যাঙ্গলে জাহাজটি হারিয়েছে।















দিনদুয়েক আগে কিউবার কোস্ট গার্ড ঘোষণা করেছে, তাদের রাডারে একটি জাহাজ ধরা পড়েছে। সেটি ক্রমশ স্রোতে ভেসে কিউবার দিকেই আসছে। এ-ও জানানো হয়েছে যে, জাহাজটিকে কোনও মানুষ নেই। জাহাজটির নাম? ‘‘এসএস কোটোপ্যাক্সি’’!




গত ১৬ মে হাভানার পশ্চিমে প্রথমবারের জন্য জাহাজটি সর্বপ্রথম নজরে আসে কিউবার কোস্ট গার্ডের। জাহাজের সঙ্গে যোগাযোগ স্থাপনের জন্য বিস্তর চেষ্টা করা হয়েছিল। এর পরে আরও কাছাকাছি এলে জাহাজটির কাছে যান কিউবার কোস্ট গার্ডের জওয়ানরা। জাহাজে তাঁরা কোনও মানুষের খোঁজ পাননি। শুধু তা-ই নয়, জাহাজটির নাম দেখে চমকে ওঠেন তাঁরা। জাহাজটি থেকে ক্যাপ্টেনের লগবুক পাওয়া গিয়েছে। কিন্তু তাতে গত প্রায় ৯০ বছর ধরে জাহাজটি কোথায় ছিল, তার কোনও হদিশ মেলেনি।






লেখা অংশ টি একটি পত্রিকা থেকে এবং ছবি দুটি কিউবা কোস্ট গার্ডের সৌজন্যে পাঠশালার জন্য পাওয়া ।

Mahfuz Anam with the Leader of the Opposition

স্মরণ করতে পারেন কি?

৯১ এ, সদ্য জাতীয় নির্বাচনে বাংলাদেশ জাতিয়তাবাদী দল বিজয়ী হবার পরে ,তাঁদের চক্ষুশূল হয়েছিল। তিনি দম্ভভাড়ে ঘোষণা দিয়েছিলেন এই সরকারকে একদিনও শান্তিতে থাকতে দেবো না । ৯১ এর ঘূর্নিঝড়ের জন্য দায়ী করলেন অপয়া সরকারকে !











তখন তাঁরা ছিলেন হরিহর আত্মা।

লাভ লোকসানের হিসাবে আজকে যখন এঁটোকাঁটা এলোমেলো , তখন স্মৃতির এ্যলবামে তাঁহারা আজো তাজা ;)




 

Founder editor S M Ali and then Executive Editor Mahfuz Anam with the Leader of the Opposition at her residence in
Dhanmondi in
1991


face book link : Wasim Iftekhar  

সোমবার, ১১ জুলাই, ২০১৬

এরশাদ নামা -২




১৯৮১

 বন্দর নগর চট্টগ্রামে বিএনপির তখন দুই ভাগে বিভক্ত। এক অংশের নেতৃত্ব দিচ্ছিলেন উপ-প্রধান মন্ত্রী জামাল উদ্দিন আহাম্মেদ , অন্য অংশের নেতৃত্বে ছিলেন ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার সুলতান আহাম্মেদ চৌধুরী।


২৬ মে ১৯৮১

রাষ্ট্রপতির ব্যাক্তিগত সচিব লেঃ কর্নেল মাহাফুজের পরামর্শে প্রেসিডেন্ট জিয়া নির্ধারিত রাজশাহী সফর বাতিল করে ২৯ মে ১৯৮১ তে চট্টগ্রাম সফরের সিডিউল করলেন।


এই দিন বিকালে জেনারেল এরশাদ অনির্ধারিত সফরে চট্টগ্রাম পৌঁছেন জেনারেল আবুল মঞ্জুরের সাথে মিটিং করার জন্য। তবে সেনাবাহিনীর পরিদর্শন কর্মসূচীতে জানানো হয় "বাংলাদেশ মিলিটারি এ্যকাডেমি" পরির্দর্শনে যাচ্ছেন সেনা প্রধান, যদিও এই সফরে এরশাদ "বাংলাদেশ মিলিটারি এ্যকাডেমি" র ধারেকাছেও যান নি।


লেঃ কর্নেল শাজাহান( AA & QMG) উক্ত পরিদর্শন কর্মসূচী প্রচার করেন।

বাংলাদেশ মিলিটারি এ্যকাডেমি তে কমাড্যান্ট আ স ম ব্রিগেডিয়ার হান্নান শাহ্‌ সারাদিন অপেক্ষা করেন সেনা প্রধানতে অভ্যর্থনা জানানোর জন্য।

অন্যদিকে জেনারেল এরশাদ সকালে চট্টগ্রামে পৌঁছেই জেনারেল মঞ্জুরের অফিসে বেলা ১.৩০ মিনিট পর্যন্ত টানা বৈঠক করেন ১.৩০ এ লাঞ্চ ব্রেকে অফিসার্স মেসে শুধুমাত্র লেঃ কর্নেল মতির সাথে লাঞ্চ সারেন।
এই লেঃ কর্নেল মতি ৩য় ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টে এরশাদের অধীনে কাজ করেছিল।



জেনারেল এরশাদ ও জেনারেল আবুল মঞ্জুর



লাঞ্চের পর এরশাদ পুনরাই জেনারেল মঞ্জুরের সাথে মিটিং এ বসেন। টানা ৫টা পর্যন্ত গোপন মিটিং সেরে এরশাদ সরাসরি পতেঙ্গা বিমান বন্দরের পথ ধরেন। জেঃ মঞ্জুর এরশাদকে তাঁর লামম্পট্যের কারনে অপছন্দ করলেও , সবাইকে অবাক করে এরশাসের সাথে একই স্টাফ কারে এয়ারপোর্ট পর্যন্ত জেনারেল এরশাদকে পৌঁছে দেন।




তাদের এই মিটিং এ দ্বিতীয় কেও উপস্থিত না থাকার কারণে আলোচনার বিষয় বস্তু অপ্রকাশিত থেকে যায়। তবে অভিজ্ঞ জনেরা বলেন জিয়ার ওপর জেনারেল মঞ্জুরকে ক্ষুদ্ধ করার মূল কাজটি এইদিন এরশাদ করেছিলেন।



২৯ মে ১৯৮১

 
এই দিন প্রেসিডেন্ট জিয়া রাজনৈতিক বহর নিয়ে চট্টগ্রাম পৌঁছান । সেনা প্রধান এরশাদের নাম ছিল সফর সঙ্গী তালিকাতে।

এই দিন আরো একটি উল্লেখ যোগ্য ঘটনা ছিল , প্রেসিডেন্ট জিয়া চট্টগ্রাম পৌঁছানোর আগেই জেনারেল মঞ্জুরকে তাঁর কর্মস্থল ২৪ পদাতিক ডিভিশনের কামান্ড থেকে সরিয়ে ডিফেন্স সার্ভিসেস এন্ড স্টাফ কলেজে নিয়োগ দেওয়া হয়।
এই বদলি জেনারেল মঞ্জুরেরে ক্ষমতা ও প্রভাব হ্রাস করে দেবার জন্য যথেষ্ট ছিল।


এই বদলী আদেশের দুই বছর আগে মঞ্জুর ছিলেন চিফ অব জেনারেল স্টাফস, এবং ডিফেন্স সার্ভিসেস এন্ড স্টাফ কলেজ, চিফ অব জেনারেল স্টাফস অফিসের অধিনে।

এবং এই বদলী আদেশের সময় চিফ অব জেনারেল স্টাফ ছিলেন মেজর জেনারেল নুরুদ্দিন যিনি জেনারেল মঞ্জুরের ৩ বছরের জুনিয়র।

অর্থাৎ, ডিফেন্স সার্ভিসেস এন্ড স্টাফ কলেজের কমান্ড্যান্ট হিসাবে জয়েন করলে জেনারেল আবুল মঞ্জুরকে তাঁর তিন বছরের জুনিয়র চিফ অব জেনারেল স্টাফ মেজর জেনারেল নুরুদ্দিনের অধীনস্থ হতে হতো।
খুব স্বভাবিক ভাবে জেনারেল মঞ্জুর এই বদলী আদেশে চরম অপমান বোধ করেন এবং ক্ষুদ্ধ হয়ে ওঠেন প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ওপর।

ধুর্ত জেনারেল এরশাদ চাচ্ছিলেনই , যেন জেনারেল মঞ্জুরকে প্রেসিডেন্টের ক্ষেপিয়ে তোলা যায়।

প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান যখন বিমানে , তখন কাটা ঘায়ে নুনের শেষ ছিটা দেন জেনারেল এরশাদ। ধুর্ত এরশাদ , জেনারেল মঞ্জুরকে ফোন করে বলেন যে প্রেসিডেন্ট চাচ্ছেন , জেনারেল মঞ্জুর প্রেসিডেন্টকে অভ্যর্থনা জানাতে এয়ারপোর্টে বা সার্কিট হাউজে না আসেন।

বদলী আদেশের অপমানের সাথে সাক্ষাৎ না করার আদেশ । চূড়ান্ত ভাবে জেনারেল আবুল মঞ্জুর দিকবিদ্বিক জ্ঞান শূন্য হয়ে পরেন। 

জেনারেল আবুল মঞ্জুর



তিনি সাথে সাথে ফোন দেন প্রেসিডেন্টের সামরিক সচিবকে এবং প্রেসিডেন্টের সাথে কথা বলতে চান। কিন্তু সামরিক সচিব মঞ্জুরকে জানান যে তিনি ভিন্ন কাজে ব্যাস্ত থাকার কারণে রাষ্ট্রপতির সাথে চট্টগ্রাম যাচ্ছেন না , মঞ্জুরকে প্রেসিডেন্টের অভ্যর্থনাতে উপস্থিত না হতে প্রেসিডেন্টের আদেশ সম্পর্কে তিনি কিছু শোনেন নি বলে জানান। জেনারেল মঞ্জুর তখন সামরিক সচিবের কাছে পরামর্শ চাইলে সচিব বলেন প্রেসিডেন্ট যদি তাঁকে যেতে নিষেধ করেই থাকেন তবে তাঁর না যাওয়াই শ্রেয়।







প্রটোকল অনুযায়ী তিন বাহিনীর প্রধান , সিনিয়র সরকারি আমলা ও জিওসি বিমান বন্দরের রাষ্ট্রপতিকে স্বাগত জানাবার নিয়ম।

অন্য সকলে প্রেসিডেন্ট জিয়াকে অভ্যর্থনা জানাতে এয়ারপোর্টে এ উপস্থিত থাকলেও জেনারেল মঞ্জুর প্রেসিডেন্টকে স্বাগত জানাতে এলেন না। জিওসি জেনারেল আবুল মঞ্জুরের দৃষ্টিকটু অনুপস্থিতি প্রেসিডেন্ট জিয়াকে স্বাভাবিক ভাবেই অসন্তুষ্ট করে তোলে।


একদিকে মিথ্যা তথ্যে জিয়ার স্নেহ ভাজন জেনারেল মঞ্জুরের তীব্র অপমানবোধ অন্যদিকে ঘুণাক্ষরে কিছু না জেনে মঞ্জুরের অধিনায়ক প্রেসিডেন্ট জিয়ার অসন্তুষ্টি ...

আর কিছুক্ষণ পরেই ঘটে যাবে ইতিহাসের দুই মহান জানবাজ যোদ্ধার জীবনাবসান।


বাংলাদেশের ইতিহাসে জেনারেল হোসাইন মোহাম্মদ এরশাদ একজন জঘন্য কীটের বিষাক্ত বর্জ ব্যাতীত আর কিচ্ছু না। ইতিহাসের তামাটে মলাটে চরম ঘৃণিত মানুষের তালিকাতে প্রথম দিকেই থাকবে হোসাইন মোহাম্মদ এরশাদ।


 বহুরূপী এরশাদ
বহুরূপী এরশাদ


রবিবার, ১০ জুলাই, ২০১৬

জাতীয়তাবাদের দ্বিতীয় জন্ম ও বেগম জিয়া

বিএনপি’র দ্বিতীয় জন্ম ও নেত্রী বেগম খালেদা জিয়া


পর্ব দুই (২)
বেগম জিয়া ; The Iron Maiden 


ফুল টাইম গৃহবধূ ও মা হিসাবে অভিজ্ঞ বেগম জিয়া রাজনীতিতে প্রবেশ করেন একজন আনকোরা হিসাবে। ফাস্ট লেডি হিসাবে ছিল তিন বছরের ছোট্ট অরাজনৈতিক এবং আনুষ্ঠানিক পদচারনা যা সম্পূর্ন ছিল স্বামী জিয়াউর রহমানের সঙ্গী হয়ে।


১৯৮১ সালে প্রেসিডেন্ট সাত্তার যখন ২১ সেপ্টেম্বর ১৯৮১ তে সাংবিধানিক নির্বাচনের ঘোষনা দেন তখন দলের ভেতর এক বার কথা উঠেছিল বেগম জিয়াকে পদপ্রার্থী করার জন্য। বেগম জিয়াকে প্রার্থী করাতে চাওয়ার মূল উদ্দেশ্য ছিল সেনা প্রধান এরশাদের ষড়যন্ত্র থেকে দল ও দেশকে রক্ষা করা। যদিও সে চেষ্টা ব্যার্থ হয়ে যায় তখন।


১৯৮১ সালের ১৮ অক্টোবর সেনা প্রধান এরশাদ সাপ্তাহিক হলিডেতে এক বেফাঁস বক্তব্য দিয়ে বসেন, তিনি বলেন “প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে বিএনপির কোন বিকল্প নেই এবং বিএনপি যদি জিততে না পারে , তাহলে আওয়ামীলীগ এসে দেশকে আবার নৈরাজ্যের দিকে নিয়ে যাবে”

জিয়াউর রহমানের জনপ্রিয়তার উপর ভর করে বিএনপির বিজয় সেনা প্রধান এরশাদের জন্য প্রয়োজনীয় ছিল , কিন্তু প্রভাব মুক্ত কোন বিএনপি প্রার্থীর বিজয় মোটেও কাঙ্ক্ষিত ছিলনা এরশাদে কাছে। এই লক্ষেই নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বীতা না করার জন্য সাত্তার ঘোষণা দিলেও তাকে বাধ্য করা হয় বিএনপির পক্ষে নির্বাচন করতে।


এই ক্ষেত্রে বিদ্যমান পরিস্থিতি ও ষড়যন্ত্র নিয়ে ব্যারিস্টার মওদুদ আহাম্মেদের বক্তব্য যুক্তি যংগত।



“সামরিক ও শাসক চক্রের জন্য সবচেয়ে ভয় ছিল বেগম জিয়াকে নিয়ে। প্রেসিডেন্ট প্রার্থী হবার জন্য তিনিই তখন সবচেয়ে পটেনসিয়াল ব্যক্তি হতে পারতেন। মুসলিম ঘরের স্বামী হারা স্ত্রী। স্বামীর নির্মম হত্যাকান্ডে বেগম জিয়া তখন দিশেহারা , শোকাকিভূত। ৪০ দিন পর্যন্ত তাঁর জন্য ছিল ধর্মীয় এক কঠিন বন্ধন। জিয়ার চেহলামের আগে খালেদা জিয়ার পক্ষে কোন ধরনের সামাজিক বা রাজনৈতিক কাজে লিপ্ত হওয়া সম্ভব ছিলনা। ঐ কারনেই এত বিরোধিতা , এত প্রতিবাদ এবং স্বীয় দলের সর্বসম্মত সিদ্ধান্তের বাইরে যেয়ে জিয়ার চেহলামের আগেই সাত্তারের মনোনয়ন চূড়ান্ত হয়। মনোনয়নের জন্য হাতে সময় থাকার পরেও ক্ষমতাসীনরা ঝুঁকি নিতে পারেনি। বেগম জিয়া প্রার্থী হলে সেটা বিরোধিতা করার জন্য কেও থাকতো না কিন্তু ৪০ দিন পার হবার আগে তা যাচাই করা সম্ভব ছিল না।





বেগম জিয়া ছাড়া বিকল্প ছিলেন বদরুদ্দোজা চৌধুরী কিন্তু ক্ষমতাসীনদের একটা অংশ ও দু্টি গোয়েন্দা সংস্থা জিয়া হত্যার ব্যাপারে তাঁর উপর মিথ্যা অপবাদ চাপালে তিনি আর প্রতিবাদ করে উঠতে পারেন নি এবং জিয়া হত্যার প্রেক্ষিতে তিনি সাহস ও মনোবল হারিয়ে ফেলেন। অন্য দিকে সাত্তারের মনোনয়নের ব্যাপারে এরশাদ কোন ঝুকিই নিতে চাননি ।





৩ জনুয়ারী ১৯৮২ তে ছাত্র সমাজের প্রবল চাপের মুখে পাঁচ(৫) টাকার ফর্ম পূরনের মধ্য দিয়ে বেগম খালেদা জিয়া রাজনৈতিক ডেবুডেন্ট হন, দলের একজন সাধারণ সদস্য হিসাবে। বেগম জিয়াকে রাজনীতিতে প্রথম পা ফেলার গুরু সত্যি কথা বলতে ছাত্রদলই ছিল। অবশ্য কেএম ওবায়েদ, বি চৌধুরী , কর্নেল অলী , তানভীর আহাম্মেদ, সাইফুর রহমানদেরও আগ্রহ ও সুপারিশ ছিল দলীয় রাজনীতিতে বেগম জিয়াকে নিয়ে আসা।



ক্ষমতার শীর্ষে থেকে জন্ম নেওয়া বিএনপি, জিয়াউর রহমানের অবর্তমানে কতটুকু এগিয়ে যেতে পারবে তা নিয়ে সন্ধিহান ছিল সংশ্লিষ্ট প্রত্যেকেই। বিএনপি তাঁবুতে যখন চরম হতাশা ,বিশৃঙ্খলা তখন খালেদা জিয়ার রাজনীতিতে উপস্থিতি দলের অন্ধ ভক্তমহলে প্রাণের সঞ্চার শুরু করে।


স্বভাবিক রাজনৈতিক হিসাবেই বেগম জিয়াকে প্রবল প্রতিপক্ষ হিসাবে চিহ্নিত করতে ভূল করেনি তখনকার বিএনপি,র রাজনীতিতে অভিজ্ঞ ব্যাক্তিদের কিছু অংশ। প্রতিদ্বন্দ্বী অনেকেই আশঙ্কা করছিলেন বেগম জিয়া সামনে এসে গেলে দলীয় রাজনীতির নিয়ন্ত্রণ তাদের হাত ছাড়া হতে পারে, ফলশ্রুতি তে দলীয় চেয়ারম্যান নির্বাচনে প্রার্থীতা দিয়েও তিনি শেষ পর্যন্ত প্রার্থীতা তুলে নিতে বাধ্য হন। এর আগে ২১শে ফেব্রুয়ারী ১৯৮২ দলীয় চেয়ারম্যান নির্বাচনের জন্য দিন ধার্য করা হলে ৫ জানুয়ারি রাত ৮টা ৪৫ এ বিএনপি নেতা শামসুল হক, বেগম জিয়ার পক্ষে দলীয় চেয়ারম্যান হিসাবে মনোনয়ন পত্র দাখীল করেন।




সাত্তার এবং বেগম জিয়া দুই জন চেয়ারম্যান প্রার্থী হলে , President সাত্তার বেগম জিয়ার বাসাতে দুই বার তাঁর সাথে দেখা করেন এবং মনোনয়ন বিষয়ে আলোচনা করেন। মনোনয়ন প্রত্যাহারের শেষ দিনে দলের একতা ও ঐক্য ধরে রাখার প্রতিশ্রুতি আদায় করে প্রার্থীতা প্রত্যাহার করে নেন বেগম জিয়া।








৮ জানুয়ারি ১৯৮২ বিবৃতির মাধ্যমে বেগম জিয়া তাঁর রাজনীতিতে আসার প্রেক্ষাপট ও চেয়ারম্যান পদে প্রার্থীতা প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত ও এর কারন জনগণ ও কর্মীদের অবহিত করেন। পরবর্তিতে বেগম জিয়া , সাত্তার সরকারের সাথে সার্বিক সহযোগিতা অব্যাহত রাখলে টনক নড়ে ওঠে সেনা প্রধান এরশাদের অফিসে, এবং ২৪ মার্চ ১৯৮২ সাত্তারকে ক্ষমতা ছেড়ে দিতে বাধ্য করা হয়।









মজার ব্যাপার হচ্ছে এর আগে ৭ মার্চ ১৯৮২ তে বাইতুল মোকারম মসজিদ প্রাঙ্গণের জনসভা থেকে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ নেতৃত্ব সাত্তার সরকারকে উৎখাতের আহবান জানিয়েছিল ।


এরপর ১৬ এপ্রিল ১৯৮২ বেগম খালেদা জিয়া স্বাক্ষরিত প্রথম অফিসিয়াল ডকুমেন্ট হিসাবে কয়েক হাজার পহেলা বৈশাখের শুভেচ্ছা কার্ড বিতরণ করা হয়।


এবার আবার চলে আসি ছাত্রদলের কাছে।
১৯৮৩, ২১ ফেব্রুয়ারী দিনে বেগম জিয়া যে ভাষন টি দেন , তা স্বৈরাচার সরকারের মাথা ব্যাথার কারন হয়ে দাড়ায়। বেগম জিয়া হাজার হাজার কর্মী পরিবেষ্টিত হয়ে শোককে শক্তিতে পরিনত করার প্রকাশ্য ঘোষণা দেন। তিনি বলেন আমি আপনাদের কাফেলাতে শরিক হতে চাই, স্বৈরাচারের তাখতে রাওয়ান ভেঙে চুরমার করে দিন। মধ্য ফেব্রুরারীর হত্যাকান্ডের রক্ত আমরা বৃথা যেতে দেবো না। এদের পতন আমাদের আন্দালনের মাধ্যমেই হবে, হতেই হবে, সবাই প্রস্তুত থাকবেন ।







ছাত্রদল তাদের কৌশলগত কারনে বেগম জিয়ার উপস্থিতির কথা শেষ মূহুর্ত পর্যন্ত গোপন রাখে এবং খালেদা জিয়া উপস্থিত হবার সাথে সাথে বান ভাসি জলের মত লোকে লোকারণ্য হয়ে যায় রমনার বটমূল। বক্তৃতা শেষ করেই তীব্র গতিতে ছাত্রদল তাঁকে এসকর্ট করে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেয়। বেগম জিয়া স্থান ত্যাগের ৫ মিনিটের মধ্যে পুলিশ সেখানে তীব্র লাঠি চার্চ করে এবং বেগম জিয়ার সভাতে উপস্থিত জাসদের সিনিয়র নেতৃবৃন্দকে অপদস্থ করে।
জাসাস আয়োজিত , ছাত্রদলের সার্বিক তত্ত্বাবধানে অনুষ্ঠিত এই সভা এতটাই শক্তিশালী ও ক্ষিপ্রগতি সম্পন্ন ছিল যে পরদিন ২২ ফেব্রুয়ারী স্বৈরাচার এরশাদ ফরমান জারী করতে বাধ্য হয় যে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে কোন ধরনের রাজনৈতিক উপস্থিতি বেআইনি ঘোষনা করা হল এবং এই পরিক্রমাতে ২৫ ফেব্রুয়ারী বিশ্ববিদ্যালয় সমূহ অনির্দিষ্ট কালের জন্য বন্ধ করে দিতে বাধ্য হয়।



একুশে ফেব্রুয়ারীর এই দৃঢ় আয়োজন বেগম জিয়াকে আরো আক্রমনাত্বক করে তোলে এবং ছাত্রদলের সাংগাঠনিক কাঠামোর বিস্তৃতি প্রমাণ করে।
পরিস্থিতি আঁচ করতে পেয়ে এরশাদ ভিন্ন কৌশল ধরে, হুদা মতিন গ্রপকে দিয়ে বিএনপিতে ভাঙ্গন ধরানোর চেষ্টা শুরু হয়। এই পরিস্থিতি আঁচ করতে পেরে, বিচারপতি সাত্তার বেগম জিয়াকে ৮৩ র মার্চ মাসে দলের সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান হিসাবে নিয়োগ দেন।



হুদা-মতিন একজোট হয়ে বিএনপির নামে একটা কমিটি করে ফেলেন ,অন্যদিকে দুদু-নিলু আরো একটি দলছূট কমিটি গঠন করে যা পরবর্তিতে প্রগতিশীল জাতিয়তাবাদী দল নামেপরিচিত হয়।
এই ঘটনার সময় বিচারপতি সাত্তারের সিদ্ধান্ত দলের জন্য শুভ হয়ে ওঠে। বেগম জিয়াকে ভাইস চেয়ারম্যান করতে সাত্তার সফল হওয়াতে সাত্তার-খালেদা জোটকে মানুষ মূলধারা বিএনপি বলে মেনে নেয়।
আওয়ামিলীগকে কেন্দ্র করে যখন ১৫ দলীয় জোট কার্যক্রম শুরু করে দিয়েছে , তখন অগাস্ট ৮৩ তে আত্মপ্রকাশ করে বিএনপি নেতৃত্বাধীন ৭ দলীয় জোট। প্রধান সমন্বয়ক বেগম খালেদা জিয়া , এই জোটকে ঘিরে তাঁর প্রভাব প্রতিপত্তি ও সক্ষমতা বাড়াতে শুরু করেন। এই জোট থেকে বিএনপি ১২ দফা দাবী পেশ করলেও মূল লক্ষ ছিল বন্দী নেতা কর্মীদের মুক্তির মাধ্যমে দল কে চাঙ্গা করা।



১৯৮৩ সালের ৪ ও ৫ সেপ্টেমবর দিনটি বাংলাদেশের আন্দালন সংগ্রামের ইতিহাসে আরো একটি চমকপ্রদ দিন। ৭ ও ১৫ দলীয় জোট এই দিন আনুষ্ঠানিক বৈঠকের মাধ্যমে “যুগপৎ আন্দালন” ধারনার চালু করেন।
তারা প্রথম এসাইনমেন্ট হিসাবে ৫ দফার একটি দাবীনামাও পেশ করে, ৬ তারিখ থেকেই কর্মসূচী চালু করে। প্রথমেই দুই দল আলাদা আলাদা ভাবে ৩০ সেপ্টেম্বর ঢাকাতে দুটি জনসভা করে।


১ নভেম্বর ১৯৮৩ প্রথম যুগপৎ হরতাল আহ্বান করে। কোন ধরনের পিকেটিং ছাড়াই এই হরতাল প্রবল জন সমর্থনে সফলকাম হয়।


২৮ নভেম্বর ১৯৮৩ দুই দল পুনরায় সচিবালয় ঘেরাও করার সিদ্ধান্ত নেয়। পল্টন-জিপিও এলাকাতে লক্ষ লক্ষ জনতার উপস্থিতিতে খালেদা ও হাসিনা উপস্থিত হন ও দুজন পথের দুই ধারে বসে পরেন। প্রকৃতপক্ষে ২৮ নভেম্বরের এই অবরোধে অংশ গ্রহনের মাধ্যমে রাজপথে কোন আন্দালনে বেগম খালেদা জিয়ার অভিষেক ঘটে।
ছাত্রদল ও ছাত্রলীগের অটল ও বিধ্বংশী অবস্থানে রাজপথে খালেদা জিয়া ও শেখ হাসিনার নিরাপত্তা অনেকটা নিশ্ছিদ্র হয়, ঐ রাতেই রাজনৈতিক কার্যক্রমের ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করে বেগম খালেদা জিয়া ও শেখ হাসিনাকে গৃহ বন্দী করে , কর্তৃপক্ষ।


১১ ডিসেম্বর ১৯৮৩ হোসাইন মোহাম্মদ এরশাদ, রাষ্ট্রপতি আহসান উদ্দিন চৌধুরী কে সরিয়ে দিয়ে নিজেই রাষ্ট্রপতির চেয়ার দখল করে।


এরশাদ প্রেসিডেন্ট হবার পর আওয়ামী লীগের ১৫ দল পূর্ব ঘোষিত ২০ ডিসেম্বর ১৯৮৩ হরতাল স্থগিত করে। এই স্থগিতাদেশের মাধ্যমেই ১৯৮৩-৮৪ সালের সামরিক শাষন বিরোধী আন্দালন দীর্ঘ দিনের জন্য মুখ থুবড়ে পরে।
২৬ মার্চ ১৯৮৪ থেকে অবাধ রাজনীতির সুযোগ দেওয়া হবে মর্মে ঘোষনা দেন এরশাদ ২৯ ফেব্রুয়ারী ১৯৮৪ তারিখে।
২৭ মে ১৯৮৪ রাষ্ট্রপতি ও জাতিয় সংসদ নির্বাচনের তারিখ ঠিক করা হয়। বিএনপি জোট এই সময় সবার আগে জাতিয় সংসদ নির্বাচনের দাবী জানায় এবং এরশাদ ঘোষিত ১৮ মার্চ ১৯৮৪ এর উপজেলা নির্বাচন থেকে বিএনপি ও আওয়ামিলীগ প্রার্থীদের উইথড্রো করতে আদেশ দেয় , যার প্রেক্ষিতে ১৮ মার্চের উপজেলা নির্বাচন স্থগিত হয়ে যায়।







১ এপ্রিল ১৯৮৪
বর্ধিত সভা আহ্বান করে বিএনপি। এই সভা থেকেই বেগম খালেদা জিয়া কে দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান নিযুক্ত করার ঐতিহাসিক সিদ্ধান্তটি আসে।
বিএনপি ও আওয়ামিলীগের ভেতর যোগাযোগ থাকলেও তা ছিল অত্যান্ত হালকা , সাথে অবিশ্বাসের ধোয়া তো ছিলোই।






১০ মে ১৯৮৪ বিচারপতি সাত্তার অবসরের ঘোষনা দিলে দলের পূর্ন চেয়ারম্যানের দায়িত্ব বর্তে বেগম খালেদা জিয়ার হাতে।





এখান থেকেই শুরু হয় বাংলাদেশ জাতিয়তাবাদী দলের নবযাত্রা...

এরশাদ নামা ১



১ অক্টবার ১৯৭৭ -


জাপান এয়ারের একটি বোয়িং বিমান ছিনতাই করে ঢাকা , কুর্মিটোলা এয়ারপোর্টে অবতরণ করতে বাধ্য করা হয়। বাংলাদেশ সরকার তখন যাত্রীদের জীবন রক্ষার জন্য জাপান সরকার ও ছিনতাই কারীদের সাথে মধ্যস্ততা করে যাত্রীদের নিরাপদে সরিয়ে আনার চেষ্টাতে ব্যাস্ত।




২ অক্টবার ১৯৭৭
মধ্যস্ততা চলাকালীন রাত্রি দ্বিপ্রহরে একটি ভয়াবহ সেনা অভ্যাত্থান ঘটে যায় ঢাকা সেনানিবাসে। ২ অক্টবার রাতেই অন্ততপক্ষে ৩৬ ঘন্টার জন্য গৃহবন্দি হন জেনারেল জিয়াউর রহমান ৮ম বেঙ্গল রেজিমেন্টের ক্ষিপ্র একসানে জিয়া মুক্ত হলেও নিহত হন জাপান এয়ারের পক্ষে নেগোসিয়েটরত বিমান বাহিনীর ১১ সিনিয়র অফিসার, অভ্যুত্থানকারীদের হাতে।



নেগোসিয়েসনে যাত্রীদের মুক্তিপণ বাবদ জমা করা ৬০ কোটি টাকা এই সময় বিমান বাহিনী প্রধান সহ নিহত ১১ অফিসারের জিম্মাতে ছিল। কে বা কাহারা এই ৬০ কোটি টাকা লুণ্ঠন অথবা চুরি করে।

এই হত্যাকাণ্ডে কোন অজানা কারণে হোসাইন মোহাম্মদ এরশাদের তৎকালীন ঘনিষ্ঠ বন্ধু এয়ার চিফ , এয়ার ভাইস মার্শাল এ জি মাহমুদ বেঁচে যান।




১৯৮০ সালের মধ্য জুন -


প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান রাষ্ট্রীয় সফরে দেশের বাইরে অবস্থান করছিলেন। প্রেসিডেন্টের অনুপস্থিতির সুযোগ নিয়ে লেঃ কর্নেল দিদারুল আলম একটি অভ্যুত্থান সংগঠিত করার ব্যার্থ চেষ্টা করেন। সফর সংক্ষিপ্ত করে দেশে ফিরে প্রেসিডেন্ট জিয়া এই অভ্যুত্থানের পেছনের মানুষ হিসাবে এরশাদকে সন্দেহ করেন এবং এরশাদকে সেনাবাহিনী থেকে অব্যাহতি দেবার সিদ্ধান্ত নেন। জেনারেল এরশাদের কানে এই খবর পৌঁছালে ,এরশাদ সরাসরি নিজে গাড়ি ড্রাইভ করে প্রেসিডেন্ট জিয়ার অফিসে এসে উপস্থিত সবার সামনে প্রেসিডেন্টের পা জড়িয়ে ধরে হাউ মাউ করে কাঁদা শুরু করেন।


মজার বিষয় হচ্ছে এরশাদ একটি ছোট্ট কোরআন শরীফ তাঁর পকেটে করে নিয়ে গিয়েছিলো , সেই কোরআন ছুঁয়ে সে বলে এই ক্যু বিষয়ে সে কিছুই জানতো না , প্রেসিডেন্টের জন্য জীবন উৎসর্গ করতেও সে প্রস্তুত। প্রেসিডেন্ট বিশ্বাস না করলে এই মূহুর্তেই সে নিজের প্রাণ বিসর্যন দিয়ে প্রেসিডেন্টের প্রতি তাঁর আনুগত্যের প্রমাণ দেবে।








জেনারেল এরশাদের এই নাটুকেপনা দেখে মূহুর্তের জন্য ভড়কে যান প্রেসিডেন্ট জিয়া, এবং সাতপাঁচ ভেবে, এরশাদকে আপাতত বরখাস্ত না করার সিদ্ধান্ত গ্রহন করেন।









তবে প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান এই সিদ্ধান্তও নেন যে জেনারেল এরশাদের সেনা প্রধান হিসাবে মেয়াদ শেষ হলে, সাথে সাথেই এরশাদকে অবসরে পাঠাবেন এবং মুক্তিযোদ্ধা জেনারেল মীর শওকত আলীকে নতুন সেনা প্রধান হিসাবে নিয়োগ দেবেন।



প্রেসিডেন্ট তাঁর ঘনিষ্ঠজনদের সাথে এই বিষয়ে পরামর্শ করেন। প্রেসিডেন্টের এই মনোভাব আঁচ করতে পেরে জেনারেল এরশাদ আরো মরিয়া হয়ে ওঠেন যেন মেয়াদ শেষ হবার আগেই কিছু একটা ঘটিয়ে ফেলা সম্ভব হয়।




উত্তাপ
* মেজর জেনারেল রফিফুল ইসলাম পিএসসি
* এলাহি নেওয়াজ খান
* দৈনিক সকালের খবর

মঙ্গলবার, ১০ মে, ২০১৬

অর্থমন্ত্রী FBI WST

১৯ মার্চ,  ২০১৬
অর্থমন্ত্রী,  
প্রথম আলোকে বলেন

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কর্মকর্তারা জড়িত।  লিংক


১৮ মার্চ
দৈনিক জনকন্ঠতে প্রকাশিত সংবাদে,  অর্থমন্ত্রী, তার নিজের দেওয়া বক্তব্যকে অগ্রহণ যোগ্য বলে,  বেফাঁস সত্য ধামা চাপা দেবার চেষ্টা করেন।

জনকন্ঠের ভাষ্যমতে
তার যে বক্তব্য প্রথম আলোতে প্রকাশিত হয়েছে, সেই বক্তব্য অগ্রহণযোগ্য। প্রথম আলোর প্রতিবেদকের সঙ্গে সাক্ষাতকারের বাইরেও নানা বিষয়ে কথা হয়েছে, যা পত্রিকাটি ছাপিয়ে দিয়েছে’।

শর্ট লিংক দেখুন:
https://is.gd/v1z9Hk

আজ ১০ মে ২০১৬
প্রখ্যাত The Wall Street Journal
লিখেছে FBI তাদের তদন্তে জনগনের গচ্ছিত টাকা চুরির জন্য বাংলাদেশ ব্যাংক কর্মকর্তাদের দিকেই সন্দেহের আঙুল তুলছে।

লিংক দেখুন:
http://www.wsj.com/articles/fbi-suspects-insider-involvement-in-81-million-bangladesh-bank-heist-1462861549

আশ্চর্য জনক ভাবে অর্থমন্ত্রীর দেওয়া প্রথম বক্তব্য এবং FBI ইনকোয়ারি’র টার্গেট এক এবং অভিন্ন। সেই সাথে বাংলাদেশে পাব্লিক পারসেপসনে পক্ষে মতামত মিলে যাচ্ছে উভয়ের জন্য।

প্রশ্ন হচ্ছে কেন কি কারনে অর্থমন্ত্রী তার নিজের দেওয়া যুক্তিসংগত ইন্টার্ভিউকে মাত্র ১ দিনের ব্যাবধানে অগ্রহণ যোগ্য বললেন।

এ কাজে তার উপর কোন চাপ ছিলা না, এমন কথা অবশ্য অর্থমন্ত্রী বলেন নি।
উল্লেখ যোগ্য যে কথা টি অর্থমন্ত্রী  তার ২য় দফাতে কারেকসনে বলেছেন তা হচ্ছে :
কোট
  • প্রথম আলোর প্রতিবেদকের সঙ্গে সাক্ষাতকারের বাইরেও নানা বিষয়ে কথা হয়েছে, যা পত্রিকাটি ছাপিয়ে দিয়েছে’-- জনকন্ঠ

অর্থাৎ অর্থমন্ত্রী বাংলাদেশ ব্যাংক কর্তাদের দোষারপে তার বক্তব্যটিকে ভূল বা মিথ্য বলেন নি। বরং তিনি প্রকারান্তরে বুঝিয়ে দিয়েছেন যে মূল ইন্টার্ভিউ এর বাইরে তিনি তার অনঅফিসিয়াল আলাপচারীতাতে যা বলেছিলেন তা প্রথম আলো হাটে হাড়ি ভাঙার মত প্রকাশ করে দিয়েছে।

মিথ্যার হাইব্রিড উৎপাদনের যুগে অর্থমন্ত্রী বক্তব্যকে, সত্য প্রকাশের কৌশলী পদ্ধতি বলেই ধরে নিচ্ছি।
Big hands for অর্থমন্ত্রী। 

শুক্রবার, ২৯ এপ্রিল, ২০১৬

ছাত্রদলের দ্বিতীয় জন্ম ও আপোষহীন নেত্রী বেগম খালেদা জিয়া





স্বৈরাচার এরশাদ বিরোধী আন্দালনের সাথে ওতপ্রোত ভাবে জড়িয়ে আছে বাংলাদেশ জাতিয়তাবাদী ছাত্রদলের গ্রহন করা প্রথম চ্যালেঞ্জ। চরম বৈরী পরিবেশে বেড়ে ওঠা শেখার শুরু মূলত প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের শাহাদত বরণের পরে।

দলের প্রতিষ্ঠাতা শহীদ জিয়া তখন সদ্য প্রয়াত , বর্তমান নেত্রী বেগম খালেদা জিয়া তখন রাজনীতিতে খুব একটা সক্রিয় হন নি , সাধারন গৃহবধূ মাত্র। আজকের ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমান তখন একজন পিতৃহারা নাবালক।

১৯৮২ সালের ১৭ সেপ্টেম্বর শুক্রবার ও তার ঠিক সাত দিনের মাথাতে ২৩ সেপ্টেম্বর, বৃহস্পতি বার , মূলত ছাত্রদলের এ্যসিড টেস্টের শুরু। এদিন থেকেই বিরধী বেঞ্চে অবস্থান করে কিভাবে প্রতিকূল পরিবেশে টিকে থাকতে হয়, শিখতে শুরু করে ছাত্রদল।

১৯৮২ সালের ১৭ সেপ্টেম্বর ছিল শিক্ষা দিবস, ছাত্রদলের প্রথম মিছিলের জন্য এরচেয়ে জুতসই সময় আর কি হতে পারতো ?

কৌশলগত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় শিক্ষা দিবসে মিছিল হবে, এই সময় ফিলিস্তিনে ইসরাইলী আগ্রাসনের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ চলছিল বাংলাদেশ সহ অন্যান্য বেশ কিছু দেশে। এদেশে অবস্থিত ফিলিস্থিনী ছাত্রদের সাথে আলাপ আলোচনা করে তাদের সাথে নিয়ে মিছিল করার সিধান্ত গ্রহণ করে ছাত্রদলের তৎকালীন নেতৃত্ব। রমজান মাসের শেষ জুম্মার পরে বাইতুল মোকাররম মসজিদ থেকে মিছিল নিয়ে মার্কিন দুতাবাস পর্যন্ত রুট তৈরী হয়।





এরশাদের অধীনস্থ সামরিক শাষনের ভেতর এটাই ছিল কোন ছাত্র সংগঠনের প্রথম মিছিল। জনগণ এবং প্রশাসন উভয়েই হতবাক হয়ে যায় এই মিছিল দেখে। যদিও শান্তিপূর্ন মিছিল করার প্রস্তুতি ছিল তারপরেও পুলিশ আকস্মিক হামলা চালালে ছাত্ররা এরশাদ বিরধী শ্লোগান দিতে দিতে ছত্রভঙ্গ হয়। তাৎক্ষনিক সিদ্ধান্তে, এবং হাই কমান্ডের সিদ্ধান্তের অপেক্ষা না করে ছত্রভঙ্গের মূহুর্তে সরকার বিরধী স্লোগান দেওয়ার সিদ্ধান্ত গ্রহণ কোন ছোটখাট সাহসের কাজ নয়। এরজন্য বুকের চওড়া পাটা থাকতে হয়, মগজে উর্বর মস্তিস্ক থাকতে হয়।



তখন ছাত্ররা সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে প্রতি বছর শিক্ষা দিবসে শহীদ মিনারে পুষ্পস্তবক অর্পন করা হবে এবং মধ্যবর্তি কর্মসূচী হিসাবে ছাত্ররা ক্যাম্পাসে মৌন মিছিল করার সিদ্ধান্ত আসে, প্রশাসন মৌন মিছিল বন্ধে চাপ প্রয়োগ করলেও ছাত্ররা তাদের সিদ্ধান্তে অটল থাকে, এই মৌন মিছিলে পুলিশ লাঠি চার্জ করতে গেলে ছাত্ররা জগ্ননাথ হলের শহীদ মিনারে আশ্রয় গ্রহণ করে এবং পুলিশ সেখানে লাঠি চার্জ করে একজনকে গ্রেফতার করে। এই মৌন মিছিল সাংঘাতিক গুরুত্বপূর্ন হয়ে ওঠে যখন ছাত্রদলের ছেলেরা ঐ মিছিলের ব্যানারে “এরশাদের পতন চাই” স্লোগান জুড়ে দেয়।


এর সাত দিন পরে ২৩ সেপ্টেম্বর ডঃ মাজেদ খান শিক্ষা কমিশন, মার্শাল ল স্টাডি কমিশনের সুপারিশের আলোকে নতুন শিক্ষা নীতি ঘোষনা করে যেখানে প্রাথমিক শিক্ষা স্তর থেকেই ইংরেজি ও আরবি শিক্ষা বাধ্যতামূলক করা হয়। এই সিদ্ধান্তর বিরুদ্ধে ফুঁসে ওঠে ছাত্রদল ও দেশের অন্যান্য ছাত্র সংগঠন। মূলদলের সুপারিশে ছাত্রদল শিক্ষনীতি বিরোধী আন্দোলনে ভিত্তি ধরে সার্বিক আন্দালন ও সংগঠন দৃঢ় করার কৌশল গ্রহণ করে। দেশের তৎকালীন বুদ্ধিজীবীরা ছাত্রদের সাথে একমত পোষণ করলে আরো সুদৃঢ় হয়ে ওঠে, স্বৈরাচার বি্রোধী ছাত্র আন্দালনের অগ্নিকুণ্ড সম ক্ষেত্র।


১৯৮২, ৭ নভেম্বর
এই দিন আরো একটি সভা পুলিশ পণ্ড করে দিতে লাঠিপেটা করে, ঐ দিন বেগম খালেদা জিয়া উক্ত সভাতে উপস্থিত হয়ে স্বয়ং ছাত্রদের শপথ বাক্য পাঠ করান। লাঠিপেটা ও সভাপণ্ডের প্রতিবাদে পরদিন ৮ নভেম্বর ক্যাম্পাসে দুটি মিছিল প্রদক্ষিণ করে , একটিতে ছাত্রদল নেতৃত্ব দিলে অন্যটিকে জাসদ ছাত্রলীগ নেতৃত্বে ছিল। স্বৈরাচার এরশাদের পুলিশ এই মিছিলেও আক্রমণ করে বসে, ফলে দুটি দলের অভ্যন্তরীণ দুটি রাজনৈতিক মিছিল হলেও ব্যাপক ছাত্রসমর্থন ছাত্র নেতৃত্বের পক্ষে চলে আসে এবং শুরু হয়ে যায় খন্ড খন্ড বিক্ষিপ্ত লড়াই। এই পরিস্থিতিতে চলমান থাকলে ক্লাস বন্ধ করে দেওয়া হয় ১৪ তারিখ পর্যন্ত, ১৪ তারিখ ভার্সিটি খুললেও ছাত্ররা ক্লাস বর্জন অব্যাহত রাখে। এই প্রেক্ষিতে ১৪ ছাত্র সংগঠন অপরাজেয় বাংলার পদ দেশে এবং ছাত্রদল মধুর ক্যান্টিনে ছাত্র সমাবেশ করে। দুটি সমাবেশ থেকে যুগপত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় ২৯ নভেম্বর ১৯৮২" দাবী দিবস" পালন হবে বলে ঘোষনা দেওয়া হয়। এই দাবী দিবসের ঘোষণাটি ছিল ধীরে ধীরে ছাত্র আন্দালনকে এগিয়ে নিয়ে স্বৈরাচারকে ব্যাতিব্যাস্ত রাখার রাজনৈতিক কৌশল।


উক্ত ১৪ সংগঠন ২১ নভেম্বর ছাত্র সংগ্রাম পরিষদ গঠনের ঘোষনা দেয়, ছাত্রদল এই পরিষদে যোগদানে বিরত থাকে আরো বৃহত্তর ঐক্য গঠনের লক্ষে, তবে ১৪ দলের পরিষদকে সার্বিক সাহায্য সহযোগিতা করার নীতিগত সিদ্ধান্তও নেওয়া হয়।


২৯ নভেন্বর দাবী দিবসে ১৪ দল ও ছাত্র দল শিক্ষা বিষয়ক দাবি দাওয়ার সাথে সামরিক শাসন তুলে নেবার দাবীও উত্থাপন করে এবং ১৩ ডিসেম্বর ১৯৮২ শিক্ষা নীতির বিরুদ্ধে সার্বিক ধর্মঘট ডাক দেয়।
ধর্মঘটের আগের দুই দিন ১১ ও ১২ ডিসেম্বর ছাত্রদলের দুদিন ব্যাপী বর্ধিত সভা অনুষ্ঠিত হয় এবং শিক্ষা নীতি বিষয়ক আন্দালনকে সামরিক শাষন বিরোধী আন্দালনে পরিনত করার মাস্টার প্লান তৈরী করা হয়। এই সভাতে ছাত্রদল প্রথম, খালেদা জিয়া কে আনুষ্ঠানিক ভাবে বিএনপি’র মূল নেতৃত্ব গ্রহণের আহ্বান করে এবং এই সিদ্ধান্ত আনুষ্ঠানিক ভাবে দলের কাছে উত্থাপন করে।


এই ঘটনার চারদিন পরে  ১৬ ডিসেম্বর বিজয় দিবসে ছাত্র দল ১১ দফার দাবি পেশ করে।
এই দিন ১৪ দলীয় ছাত্র পরিষদ ও ছাত্রদল ১১ জানুয়ারী ১৯৮৩ সালে সচিবালয় ঘেড়াও করার সিধান্ত নিলেও পরে তা ১৪ ফেব্রুয়ারি নির্ধারন করা হয়।


১৪ ফেব্রুয়ারীর আগের এই সময়ে ঘটে ন্যাক্কার জনক আরো একটি ঘটনা। আমলা, শীর্ষ জেনারেল ও খোদ প্রেসিডেন্ট ছাত্র নেতৃত্বকে বিভিন্ন প্রলোভনের মাধ্যমে বস করার চেষ্টা করে, এবং অনেকাংশে সাফল্য পায়। সেই সময়ের ডাকসু জিএস, বর্তমান জাতিয় পার্টির নেতা ও মন্ত্রী, জিয়াউদ্দিন বাবলুকে অর্থের বিনিময়ে কিনে ফেলে এরশাদ সরকার, পুরস্কার স্বরুপ জিয়াউদ্দিন বাবলুকে মন্ত্রী বানানো হয়।


চরম এই বিভক্তির মাঝেও সাধারন ছাত্ররা আন্দালন চালিয়ে যায় এবং সচিবালয় ঘেরাও করে।
এর আগে ১২ ফেব্রুয়ারী ছাত্রদল ও ১৪ দল ২১শে ফেব্রুয়ারী পালন উপলক্ষে ঢাকার সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে প্রস্তুতি মূলক মিছিল করে।




১৪ ফেব্রুয়ারী সকাল ১০ টার মধ্যে হাজার হাজার ছাত্রছাত্রী বটতলাতে সমবেত হয় এবং পুলিশ ভার্সিটির চারদিকের সকল রাস্তা ব্যারিকেড দিয়ে বন্ধ করে দেয়। হাইকোর্টেরে সামনে বিডিআর আর শিক্ষা ভবনের সামনে দাঙ্গা পুলিশ সতর্ক অবস্থান নেয়।

বটতলাতে অবস্থান নেওয়া ছাত্রছাত্রীরা ১২.৩০ নাগাদ শিক্ষা ভবনের উদ্দেশ্যে উদ্ধত মিছিল নিয়ে যাত্রা করলে দোয়েল চত্তরে পুলিশের সাথে তীব্র লড়াই শুরু হয়ে যায়, পুলিশের টিয়ার সেল, গরম পানির প্রতিরোধে ছাত্ররাও ইটপাটকেল, লাঠি নিয়ে পুলিশের উপর চরাও হলে বিপুল সংখ্যক যুদ্ধাংদেহি পুলিশ পিছু হটে পালিয়ে যেতে বাধ্য হয়। বেগতিক অবস্থা দেখে পুলিশকে গুলি চালানোর নির্দেশ দেওয়া হয়।

পুলিশের গুলিতে জাফর, জয়নাল, কাঞ্চন, আয়ুব, ফারুক ও দীপালী সাহা শাহাদত বরন করে, দীপালী শাহা ছিল ছোট্ট বালিকা। হাজার হাজার ছাত্র আহত হয়, বেপরোয়া পুলিশ হলে হলে তল্লাশি চলিয়ে সেখান থেকে নিহত লাশগুলি তুলে নিয়ে চলে যায়। গ্রেফতার কৃত ছাত্রদের শাহবাগ আঞ্চলিক সামরিক অফিসে নিয়ে যেয়ে অকথ্য নির্যাতন চালানো হয়।
এই খবর পাওয়ার সাথে সাথে প্রথম, বেগম খালেদা জিয়া ভার্সিটির উদ্দেশে বাসভবন ত্যাগ করেন। পথে ঢাকা ক্যান্টোনমেন্টের থার্ড গেটে তার গাড়ি আটকে দেওয়া হয়, তিনি চালাকি করে এরপর বনানী গেট দিয়ে বাহির হয়ে আসেন, পথে শাহবাগে এরশাদের সিপাহীরা খালেদা জিয়ার গাড়ির গতিরোধ করে...এরপর কৌশলে বেগম জিয়া সরাসরি ঢাকা মেডিকেল কলেজে শহীদ দের লাশের সামনে হাজির হলে সেখানে এক হৃদয় বিদায়ক পরিস্থিতি তৈরী হয়। বেগম জিয়া পৌঁছানোর দুই ঘন্টার কিছু সময় পরে সেখানে আওয়ামী লীগ নেত্রী শেখ হাসিনা ও অন্যান্যরা উপস্থিত হন।

১৪ তারিখের হত্যাযজ্ঞের প্রেক্ষিতে ১৫ ফেব্রুয়ারী দেশের সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠান গর্জে ওঠে। মুর্হু মুর্হু মিছিলে প্রকম্পিত হতে থাকে ঢাকার পথঘাট । পুলিশের তান্ডবে এদিন আবারো গুলি চালানো হয় প্রতিবাদী ছাত্রদের বুকে। ১৫ তারিখে ১৫ জন ছাত্রের তাজা রক্তে ভেসে যায় রাজপথের পীচঢালা পথ। চট্টগ্রামে পুলিশ হত্যা করে ১০ জন ছাত্রকে এবং যথারীতি লাশ ছিনিয়ে নেওয়া হয়। ২৭ ফেব্রুয়ারী পর্যন্ত সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ করে দেওয়া হয়।
পরিস্থিতি সামাল দিতে দীর্ঘদিন সন্ধ্যা থেকে সকাল পর্যন্ত কারফিউ জারি হয়।

এহেন পরিস্থিতির মাঝেই ছাত্রদল ও বেগম জিয়া ২১ শে ফেব্রুয়ারী শহীদ মিনারে যাবার সিদ্ধান্তে অটল থাকেন। ব্যাপক প্রতিকূলতার মধ্যে দিয়ে ২১ ফেব্রুয়ারি বলাকা সিনেমা হলের সামনে ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের নিয়ে বেগম খালেদা জিয়া শহীদ মিনারে পুষ্পস্তবক অর্পন করেন। বিকেলে জাসাস আয়োজিত সংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে রমনার বটমূলে অনুষ্ঠানে হাজির হন বেগম জিয়া।


২১ ফেব্রুয়ারীর আগের সময়ে কর্নেল অলি , ছাত্র নেতা ও হাজার হাজার নেতা কর্মি গ্রেফতার হয়ে গেলেও বেগম খালেদা জিয়া , নিজে, নিজ দায়িত্বে ছাত্রদল নেতাকর্মীদের সাথে যোগাযোগ রক্ষা করে আন্দালনের গতি ক্রমবৃদ্ধি করেন এবং ছাত্রদলকে দেশের আন প্যারালাল সংগঠনে পরিনত করেন।


প্রসঙ্গতঃ ছাত্র আন্দোলন শুরু হবার আগে ৩০০০ বিএনপি নেতা কর্মী যাদের ৭০% ছাত্রদল কর্মী তাদের সামরিক আইনে সামরিক আদালতে বিচার করে বিভিন্ন মেয়াদে শাস্তি দেয়া হয়।

 Some where in Blog
 http://www.somewhereinblog.net/blog/Hismastervoice/30130321

Facebook
https://web.facebook.com/Wasim.Iftekhar/posts/1094303817287245



বৃষ্টি হলে, অর্ধেক শেষ




বৃষ্টি হলে, অর্ধেক শেষ
=============




তীব্র তাপধারণ করে আছে আমাদের পৃথিবী। বিশেষত এই সময়ে আমরা প্রতিদিন বৃষ্টি কামনা করছি। আমরা যারা শহুরে নাগরিক, লোড শেডিং আমাদের এক্কেবারেই পছন্দ না। রাস্তাঘাটে বের হলে গাড়ির কালো ধোঁয়া, শব্দ দূষণ, ভেজাল খাদ্য এই সব কিছু থেকে মুক্তি পেতে একটু বৃষ্টিজলের জন্য আমরা তীর্থেরকাকের মত অপেক্ষা তে আছি।
আজ বাসা থেকে সন্ধার পর বাহির হয়েছি, সিগারেট আর বাচ্চার ডাইপার কেনার জন্য।

দেখি কোন খালি রিক্সা নেই। দারোয়ান এগিয়ে গিয়েও খালি পেলো না। অগত্যা বেশ কিছুটা হেটে কোন মতে একটা রিক্সা যখন পেলাম, তখন কাহিনী জানলাম রিক্সা ওয়ালার কাছে।

এখন ধান কাটার মওশুম। ইরি ধান কাটতে ঢাকা শহরের রিক্সাওয়ালারা সব গ্রামের পানে ছুটছে। ধান কাটা শেষ হতে প্রায় ২০ দিনের মত লাগবে।

যদি বৃষ্টি নামে এখন তাহলে ধান কাটতে ঝামেলা হয়ে যাবে, বেশী বৃষ্টি হলে কিছু ধান বেশী নষ্ট হয়ে যাবে... শীলা বৃষ্টি হলে অবস্থা দফারফা হয়ে যাবে।

সক্কলটি বৃষ্টি বৃষ্টি করতাসে মামা, এরা তো মামা ধান দেখেনি। দুয়া কইরেন মামা, বৃষ্টি যেন ২০ বেলা না হয়। কাইট্টা আসি তখন মামা রিক্সাতে চড়ে ভিজুমনে।
 এখন বৃষ্টি হলে মামা গরিবের পাছায় বাঁশ....


মামাকে আমি আর বলতে পারলাম না...
মামা, আমরা নিজের কৃষ্টি ভূলে পাছায় বাঁশ, হাতে হারিকেন নিয়ে চেতনার ক্ষেতে ফসল ফলাতে শিখে গিয়েছি, তোমার ক্ষেতের ধান না হলেও বাঙালির এখন চলে..




https://web.facebook.com/Wasim.Iftekhar/posts/1100245680026392?pnref=story

সোমবার, ২৫ এপ্রিল, ২০১৬

ব্যাংক চুরির শহি লানৎ

The Bloomberg
এর শিরনাম দেখে চক্ষু চড়ক গাছ। এরা বাংলাদেশ প্রতিদিন এর স্টান্ডার্ড ফলো শুরু করলো কবে থেকে ?

নিউজ টাইটেল এরকম
 How To Rob a Central Bank?
কিভাবে সেন্ট্রাল ব্যাংকে দস্যুতা করতে হয়? অবশ্য ৭১ টিভির অঞ্জন রায় বা মুন্নি শাহারা অনুবাদ নিয়ে তুমুল বিতর্ক করতেই পারেন । দস্যুতা শব্দ এখানে ভূল প্রয়োগ হচ্ছে বা সাধারণ কোমল চুরিকে কেন কোন উদ্দেশ্যে "দস্যুতা" টাইপ রুঢ শব্দ দিয়ে চিহ্নিত করা হচ্ছে।

শব্দ যাচায় বাছায়ের দায়িত্ব আমি নিতে অপারগ , লিংক ,ছবি দিচ্ছি , ভাই আপনারা রাই দিয়ে দেন ...
 Link :http://www.bloombergview.com/articles/2016-03-20/how-to-rob-a-central-bank
 প্রকাশের তারিখ ২০ মার্চ ২০১৬