.
তবে আরবদের চিনি এবং মনে হয় ইহুদিরাও আমার চেনা। এ জন্যই আমার বিশ্বাস, এই দুই জাতির ভেতর রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক সহযোগিতা সম্ভব। ইহুদিরা খুব প্রাচীন জাতি। নানা ধরনের হয়রানি, অত্যাচার, অবিচার প্রতিহত করে তারা নিজেদের জাতিসত্তা রক্ষা করেছে। তাদের শক্তি নিহিত রয়েছে তাদের সংস্কৃতি ও ধর্মে। ইহুদিদের যে ঐতিহ্য তা আধ্যাত্মিক এবং সময়ের সঙ্গে তা আরো শক্তিশালী হয়। এই শক্তিকে বিলীন করা বা অন্য কিছুতে আত্মসাৎ করা সম্ভব নয়। অন্যদিকে আরবরা খুব পোড়খাওয়া জাতি। তাদের ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক উত্তরাধিকার ইহুদিদের সঙ্গে ইহুদিদের সঙ্গে এক ও ভিন্ন উৎস থেকে এসেছে। আধ্যাত্মিকতার ক্ষেত্রে আরবরা ইহুদিদের কাছ থেকে পেয়েছে প্রচুর। আর যদি এই দুই জাতির মৌল চরিত্র দেখি, তো বলবো, আপনারা এবং তারা একই পরিবারের সন্তান। হ্যাঁ একই বৃহৎ পরিবারের। পারিবারিক বিসংবাদ সবসময়ই একটু বেশি তিক্ত হয়। কিন্তু আবার মিটমাটো তো হয়। আরবদের চেয়ে বহু দূরের বাসিন্দাদের সঙ্গে থাকার অভিজ্ঞতা আপনাদের রয়েছে। আপনাদের সঙ্গে কোনই মিল নেই, এমন জাতির সঙ্গে বসবাস করেছেন। এমনকি যন্ত্রসংস্কৃতির দেশ যে আমেরিকা, সেখানেও আপনারা একাধারে ইহুদি এবং আমেরিকান হিসেবেই বাস করেছেন। তাহলে একইসঙ্গে ইহুদি এবং ফিলিস্তিনি হিসেবে বাস করতে পারবেন না কেন?
.
আপনারা যদি আরবদের এ কথা বোঝানোর জন্য মনস্থির করেন যে আপনাদের উভয়েরই রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক স্বার্থ অভিন্ন, যদি আপনারা ওদের দেখাতে পারেন, আপনাদের সব কর্মকাণ্ড আরব ও ইহুদিদের জন্যই, তা আপনাদের সাংস্কৃতিক পার্থক্য যতই হোক না-- তাহলে দেখবেন সময়ে আরবরা আপনাদের সবচেয়ে বিশ্বস্ত বন্ধুতে পরিণত হবে।
.
ফিলিস্তিন সমস্যা লন্ডনে বসে ইংরেজ সরকার আর ইহুদিবাদী নেতাদের মধ্যে আলোচনা করে সমাধান করা সম্ভব নয়। ইহুদিবাদের সাফল্য সর্বোতভাবে নির্ভর করে আরব- ইহুদি সহযোগিতার উপর। আরব ও ইহুদিদের সরাসরি সমঝোতার মাধ্যমেই ফিলিস্তিনে এই সাফল্য অর্জিত হতে পারে। ইহুদিবাদী নেতৃত্ব যদি ফিলিস্তিনে ইহুদিদের রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক স্বার্থ আরবদের ওইসব স্বাস্থ্য থেকে পৃথক করার চেষ্টা করে, তো পবিত্র ভূমি সব সময়ই কদর্য দ্রোহে জ্বলে উঠবে।।
জিউস স্টান্ডার্ডর
রবীন্দ্রনাথের সাক্ষাৎকার
১৯৩০

কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন