শনিবার, ৭ জুলাই, ২০১৮

কোটা সংস্কারঃ PAIN IN THE ASS


মুক্তিযুদ্ধ’ বিষয়টি আমাদের রাষ্ট্র’র জন্ম পরিচয় বহন করে। ৭১ কে হাতের মুয়া বানিয়ে ফেললে রাষ্ট্রটির জন্মকেই ফ্লুক বানিয়ে দেওয়া যায়।  অথচ কী নির্মম চাতুর্যে, আমরা মুক্তিযুদ্ধ ও মুক্তিযোদ্ধা-দের প্রাইভেট লিমিটেড এডিসন করে দিচ্ছি।

মুক্তিযুদ্ধ সংক্রান্ত সব'চে নেক্কার জনক গল্প হচ্ছে ভুয়া মুক্তি যোদ্ধা সংক্রমণ। এর মাধ্যমে প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধা দের গালে চপেটাঘাত করা হয়। গত ৪৮ বছর, আমরা মুক্তিযোদ্ধা, মুক্তিযুদ্ধ, শহীদ সংখ্যা কোন কিছু কে নির্দিষ্ট সংজ্ঞা-তে আনতে পারি নি, আনা হয় নি।


এবার ভুয়া মুক্তিযোদ্ধা সংক্রান্ত কিছু তথ্য রাখেন।

১) যে নির্দিষ্ট রাজনৈতিক দলের সমর্থক নয় সে মুক্তিযোদ্ধা স্বীকৃতি ও সনদের জন্য রাজনৈতিক দলে অন্তর্ভুক্ত হয়।

২) রাজনৈতিক দল দেখছে এভাবে সমর্থক বাড়ছে, ভোট বাড়ছে। কাজেই স্বার্থ-টা রক্ষা হচ্ছে।

৩) ১৯৮৪ এরশাদ সরকার প্রণিত মুক্তিযোদ্ধা তালিকা তে ১,০২,৪৫৮ জন।

৪) ১৯৮৪ তে প্রাপ্ত ভারতীয় তালিকা অনুযায়ী ৬৯,৮৩৩ জন।

৫) ১৯৯৪ তে বিএনপি সরকারের তালিকা অনুযায়ী সংখ্যা টা ৮৬,০০০

৬) ১৯৯৬ - ২০০১ এ আওয়ামী লীগ আমলে সংখ্যা জ্যামিতিক হারে বৃদ্ধি পেয়ে ১,৮৬,৭৯০ হয়। অর্থাৎ এক লাফে ১ লাখ ৭৯০ জন নয়া ব্যক্তি মুক্তিযোদ্ধা সার্টিফিকেট সংগ্রহ করে।

৭) ৯৬-২০০১ এ “মুক্তি-বার্তা” নামে ১,৫৮,৪৫২ জনের এডিসনাল আরেক টি তালিকা করে।

অর্থাৎ আওয়ামীলীগের হাতে নব্য মুক্তিযোদ্ধা সার্টিফিকেট ধারী হয় ২,৫৯,২৪২ (২ লাখ ৫৯ হাজার, ২৪২ জন)

৮) ১৯৯৬ এ লীগ সরকার মুক্তিযোদ্ধা সংজ্ঞা পরিবর্তন করেঃ

“যাঁরা বঙ্গবন্ধুর ডাকে মুক্তিযুদ্ধে সক্রিয়-ভাবে অংশ নিয়েছেন, তাঁরা-ই মুক্তিযোদ্ধা” -

সংজ্ঞায়িত করে।

৯) তবে ২০০৬ এ বিএনপি ১ লাখ ৯৮ হাজার ৮৮৯ জনের তালিকা গেজেটে প্রকাশ করে।

কিন্তু এ যাত্রা আওয়ামীলীগ ৭০ হাজার ভুয়া মুক্তিযোদ্ধা আছে অভিযোগ করে। আওয়ামী লীগের দাবী মত ১,৯৮,৮৮৯ জনের ৭০,০০০ ভুয়া অর্থ ৩৫% ভুয়া। (মনে রাখেন ৩৫%)

১০) ২০০৯/১০ এ আওয়ামী লীগ
১১ হাজার নতুন মুক্তিযোদ্ধা সনদ দেয়। ফলে ২ লাখ ৩২ হাজার নয়া মুক্তিযোদ্ধা তালিকা ভুক্ত হয়।

১১) ২০১৭ তে নতুন মুক্তিযোদ্ধা সংগ্রহ’র নিমিত্ত আবেদন আহবান করে লীগ। ফলে দের লাখ নব্য আবেদন জমা হয়৷

১২) ১০১৭’ ৯ ফেব্রুয়ারি খোদ মুক্তিযোদ্ধা মন্ত্রী বলেনঃ  

“আবেদন দেড় লাখ হলেও পাঁচ হাজার’এর বেশী নতুন মুক্তিযোদ্ধা হবে না।’


আওয়ামীলীগের চলতি আমলে ৭১ এ যে নির্যাতিত এবং নির্যাতক দু’জনে এক সাথে ‘শ্রেষ্ঠ সন্তান’ তালিকা ভুক্ত হবার ঘটনা ঘটেছে।

মুক্তিযুদ্ধ গবেষক মুন্তাসির মামুনের বক্তব্য টি গুরুত্বপূর্ন । তিনি বলেনঃ

‘সরকার যদি ঘোষণা দিক মুক্তিযোদ্ধা দের বাড়তি সুবিধা দেওয়া হবে না এবং আহত ও আর্থিক ভাবে অসচ্ছল ছাড়া কাউকে কোনো সুবিধা পাবে না, তবে কাল থেকে আর কেউ মুক্তিযোদ্ধা তালিকা তে নাম তুলতে চাইবে না।’


এত এত গাণিতিক ও জ্যামিতিক হিসাবের ভিড়ে মুক্তিযুদ্ধ মন্ত্রী’র বক্তব্য হিসাবে নিলেও প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধার সংখ্যা অনেক কম বা ৫ %। এর সাথে বিএনপি’র তালিকা তে আওয়ামী অভিযোগের ৭০ হাজার বা ৩৫% কে ভুয়া মুক্তিযোদ্ধা ধরলে প্রকৃত মুক্তি যোদ্ধা ৬০/৭০ হাজারের বেশি হয় না। যা মুক্তিযুদ্ধের ভারতীয় তালিকার ৬৯,৮৮৬ মুক্তিযোদ্ধা দাবীকে সঠিক প্রমাণ করে।

এবার ২০১৭’র প্রথম অর্ধের আওয়ামী তালিকা’র ২ লাখ ৩২ হাজার ও ৯৬ টার্মের ২ লাখ ৫৯০০ নিয়ে সংখ্যা হয় ৪ লাখ ৯১০০০ জন। ভারতীয় তালিকা’র ৬৯,৮৩৩ জন মুক্তিযোদ্ধা বিয়োগ দিলে হয় ৩ লাখ ৪২ হাজার ৮৮০ জন ভুয়া মুক্তিযোদ্ধা।

ভুয়া ৩,৪২,৮৮০ জন মুক্তিযোদ্ধা পোষ্য কোটা কোন রাজনৈতিক দলের কবজা তে আছে বুঝতে সমস্যা হবার কথা না। ৩,৪২,৮৮০ ভুয়া মুক্তিযোদ্ধার পোষ্য হিসাবেঃ

১ গড় = ৩,৪২,৮৮০ জন   - ফার্স্ট Gen
২ গড় = ৬,৮৫,৭৬০ জন   - 2nd Gen
৩ গড় = ১০,২৮,৬৪০ জন -  3rd Gen
হয় সংখ্যা টা

অন্যদিকে ২০১১ সালের জন-প্রশাসন মন্ত্রনালয়ের হিসাবে ছোট বড় মিলিয়ে ১০ লাখ সরকারী কর্মজীবী কাজ করেন। এই ১০ লাখ ষ্টাফের ৩০% হচ্ছে ৩,৩৩,৩৩৩ জন।

অর্থাৎ পোষ্য দের শিক্ষা গত যোগ্যতা অর্জিত হলে তারা বেশ স্বচ্ছন্দে বংশ পরম্পরা ক্রমে সরকারী চাকুরে
হচ্ছে।

এই বিপুল সংখ্যক ব্যক্তি নিয়োগে দুর্নীতি নির্মূল করতে শুধু নিয়োগ ব্যবস্থা স্বচ্ছ থাকলে-ই হচ্ছে না, বরং মুক্তিযোদ্ধা তালিকা স্বচ্ছ না হলে কোন ক্রমে এদের নিয়োগে স্বচ্ছতা আনা যাবে না।

অনিয়ম’এর মাধ্যমে এদের নিয়োগ হলে খুব স্বাভাবিক ভাবে এরা নিয়োগ কর্তা’র প্রতি অধিক বিশ্বস্ত হবে। ভুল হিসাবে বিপুল সংখ্যক স্ব-গোত্রীয় নিয়োগের মাধ্যমে প্রশাসন কুক্ষিগত করে জটিল কাজ নয়৷ এত বিপুল সংখ্যক কুক্ষিগত নিয়োগের বদলে মেধা ভিত্তিক নিয়োগ সম্পন্ন হলে প্রশাসন আইন মোতাবেক নিরপেক্ষ কাজ চলতে পারে ফলে প্রশাসন কে অপব্যবহার করে রাজনৈতিক অর্জনের পথ নির্মূল হতে পারে।


এবার আপনি বলেন পোষ্য কোটা সংস্কার আন্দোলন দমন একটি কুক্ষিগত রাজনৈতিক প্রশাসনিক ব্যবস্থা ধরে রাখতে কতটা প্রয়োজনীয়। তাও একটি অ-নির্বাচিত স্বৈরাচারী শাষকের ক্ষমতা’র জন্য।
আপনার আমার বা পোষ্য কোটা বহির্ভূত ৩ কোটি ভোট নয় বরং পোষ্য-কোটা অন্তর্গত ৩ লাখ সংঘবদ্ধ পোষ্য কর্মজীবীর ভেতরেই রয়েছে আওয়ামীলীগে টিকে থাকার প্রাণ ভ্রমর।

ইনফোঃ
মুক্তিযুদ্ধ মন্ত্রনালয়
মুক্তিযুদ্ধ ই-আর্কাইভ
সাইদ রহমান
জন - প্রশাসন মন্ত্রনালয়
@Bbc বাংলা
পরিবর্তন.com ও
সাইদ রহমান




কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন