শনিবার, ৭ জুলাই, ২০১৮

কোটা সংস্কারঃ PAIN IN THE ASS


মুক্তিযুদ্ধ’ বিষয়টি আমাদের রাষ্ট্র’র জন্ম পরিচয় বহন করে। ৭১ কে হাতের মুয়া বানিয়ে ফেললে রাষ্ট্রটির জন্মকেই ফ্লুক বানিয়ে দেওয়া যায়।  অথচ কী নির্মম চাতুর্যে, আমরা মুক্তিযুদ্ধ ও মুক্তিযোদ্ধা-দের প্রাইভেট লিমিটেড এডিসন করে দিচ্ছি।

মুক্তিযুদ্ধ সংক্রান্ত সব'চে নেক্কার জনক গল্প হচ্ছে ভুয়া মুক্তি যোদ্ধা সংক্রমণ। এর মাধ্যমে প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধা দের গালে চপেটাঘাত করা হয়। গত ৪৮ বছর, আমরা মুক্তিযোদ্ধা, মুক্তিযুদ্ধ, শহীদ সংখ্যা কোন কিছু কে নির্দিষ্ট সংজ্ঞা-তে আনতে পারি নি, আনা হয় নি।


এবার ভুয়া মুক্তিযোদ্ধা সংক্রান্ত কিছু তথ্য রাখেন।

১) যে নির্দিষ্ট রাজনৈতিক দলের সমর্থক নয় সে মুক্তিযোদ্ধা স্বীকৃতি ও সনদের জন্য রাজনৈতিক দলে অন্তর্ভুক্ত হয়।

২) রাজনৈতিক দল দেখছে এভাবে সমর্থক বাড়ছে, ভোট বাড়ছে। কাজেই স্বার্থ-টা রক্ষা হচ্ছে।

৩) ১৯৮৪ এরশাদ সরকার প্রণিত মুক্তিযোদ্ধা তালিকা তে ১,০২,৪৫৮ জন।

৪) ১৯৮৪ তে প্রাপ্ত ভারতীয় তালিকা অনুযায়ী ৬৯,৮৩৩ জন।

৫) ১৯৯৪ তে বিএনপি সরকারের তালিকা অনুযায়ী সংখ্যা টা ৮৬,০০০

৬) ১৯৯৬ - ২০০১ এ আওয়ামী লীগ আমলে সংখ্যা জ্যামিতিক হারে বৃদ্ধি পেয়ে ১,৮৬,৭৯০ হয়। অর্থাৎ এক লাফে ১ লাখ ৭৯০ জন নয়া ব্যক্তি মুক্তিযোদ্ধা সার্টিফিকেট সংগ্রহ করে।

৭) ৯৬-২০০১ এ “মুক্তি-বার্তা” নামে ১,৫৮,৪৫২ জনের এডিসনাল আরেক টি তালিকা করে।

অর্থাৎ আওয়ামীলীগের হাতে নব্য মুক্তিযোদ্ধা সার্টিফিকেট ধারী হয় ২,৫৯,২৪২ (২ লাখ ৫৯ হাজার, ২৪২ জন)

৮) ১৯৯৬ এ লীগ সরকার মুক্তিযোদ্ধা সংজ্ঞা পরিবর্তন করেঃ

“যাঁরা বঙ্গবন্ধুর ডাকে মুক্তিযুদ্ধে সক্রিয়-ভাবে অংশ নিয়েছেন, তাঁরা-ই মুক্তিযোদ্ধা” -

সংজ্ঞায়িত করে।

৯) তবে ২০০৬ এ বিএনপি ১ লাখ ৯৮ হাজার ৮৮৯ জনের তালিকা গেজেটে প্রকাশ করে।

কিন্তু এ যাত্রা আওয়ামীলীগ ৭০ হাজার ভুয়া মুক্তিযোদ্ধা আছে অভিযোগ করে। আওয়ামী লীগের দাবী মত ১,৯৮,৮৮৯ জনের ৭০,০০০ ভুয়া অর্থ ৩৫% ভুয়া। (মনে রাখেন ৩৫%)

১০) ২০০৯/১০ এ আওয়ামী লীগ
১১ হাজার নতুন মুক্তিযোদ্ধা সনদ দেয়। ফলে ২ লাখ ৩২ হাজার নয়া মুক্তিযোদ্ধা তালিকা ভুক্ত হয়।

১১) ২০১৭ তে নতুন মুক্তিযোদ্ধা সংগ্রহ’র নিমিত্ত আবেদন আহবান করে লীগ। ফলে দের লাখ নব্য আবেদন জমা হয়৷

১২) ১০১৭’ ৯ ফেব্রুয়ারি খোদ মুক্তিযোদ্ধা মন্ত্রী বলেনঃ  

“আবেদন দেড় লাখ হলেও পাঁচ হাজার’এর বেশী নতুন মুক্তিযোদ্ধা হবে না।’


আওয়ামীলীগের চলতি আমলে ৭১ এ যে নির্যাতিত এবং নির্যাতক দু’জনে এক সাথে ‘শ্রেষ্ঠ সন্তান’ তালিকা ভুক্ত হবার ঘটনা ঘটেছে।

মুক্তিযুদ্ধ গবেষক মুন্তাসির মামুনের বক্তব্য টি গুরুত্বপূর্ন । তিনি বলেনঃ

‘সরকার যদি ঘোষণা দিক মুক্তিযোদ্ধা দের বাড়তি সুবিধা দেওয়া হবে না এবং আহত ও আর্থিক ভাবে অসচ্ছল ছাড়া কাউকে কোনো সুবিধা পাবে না, তবে কাল থেকে আর কেউ মুক্তিযোদ্ধা তালিকা তে নাম তুলতে চাইবে না।’


এত এত গাণিতিক ও জ্যামিতিক হিসাবের ভিড়ে মুক্তিযুদ্ধ মন্ত্রী’র বক্তব্য হিসাবে নিলেও প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধার সংখ্যা অনেক কম বা ৫ %। এর সাথে বিএনপি’র তালিকা তে আওয়ামী অভিযোগের ৭০ হাজার বা ৩৫% কে ভুয়া মুক্তিযোদ্ধা ধরলে প্রকৃত মুক্তি যোদ্ধা ৬০/৭০ হাজারের বেশি হয় না। যা মুক্তিযুদ্ধের ভারতীয় তালিকার ৬৯,৮৮৬ মুক্তিযোদ্ধা দাবীকে সঠিক প্রমাণ করে।

এবার ২০১৭’র প্রথম অর্ধের আওয়ামী তালিকা’র ২ লাখ ৩২ হাজার ও ৯৬ টার্মের ২ লাখ ৫৯০০ নিয়ে সংখ্যা হয় ৪ লাখ ৯১০০০ জন। ভারতীয় তালিকা’র ৬৯,৮৩৩ জন মুক্তিযোদ্ধা বিয়োগ দিলে হয় ৩ লাখ ৪২ হাজার ৮৮০ জন ভুয়া মুক্তিযোদ্ধা।

ভুয়া ৩,৪২,৮৮০ জন মুক্তিযোদ্ধা পোষ্য কোটা কোন রাজনৈতিক দলের কবজা তে আছে বুঝতে সমস্যা হবার কথা না। ৩,৪২,৮৮০ ভুয়া মুক্তিযোদ্ধার পোষ্য হিসাবেঃ

১ গড় = ৩,৪২,৮৮০ জন   - ফার্স্ট Gen
২ গড় = ৬,৮৫,৭৬০ জন   - 2nd Gen
৩ গড় = ১০,২৮,৬৪০ জন -  3rd Gen
হয় সংখ্যা টা

অন্যদিকে ২০১১ সালের জন-প্রশাসন মন্ত্রনালয়ের হিসাবে ছোট বড় মিলিয়ে ১০ লাখ সরকারী কর্মজীবী কাজ করেন। এই ১০ লাখ ষ্টাফের ৩০% হচ্ছে ৩,৩৩,৩৩৩ জন।

অর্থাৎ পোষ্য দের শিক্ষা গত যোগ্যতা অর্জিত হলে তারা বেশ স্বচ্ছন্দে বংশ পরম্পরা ক্রমে সরকারী চাকুরে
হচ্ছে।

এই বিপুল সংখ্যক ব্যক্তি নিয়োগে দুর্নীতি নির্মূল করতে শুধু নিয়োগ ব্যবস্থা স্বচ্ছ থাকলে-ই হচ্ছে না, বরং মুক্তিযোদ্ধা তালিকা স্বচ্ছ না হলে কোন ক্রমে এদের নিয়োগে স্বচ্ছতা আনা যাবে না।

অনিয়ম’এর মাধ্যমে এদের নিয়োগ হলে খুব স্বাভাবিক ভাবে এরা নিয়োগ কর্তা’র প্রতি অধিক বিশ্বস্ত হবে। ভুল হিসাবে বিপুল সংখ্যক স্ব-গোত্রীয় নিয়োগের মাধ্যমে প্রশাসন কুক্ষিগত করে জটিল কাজ নয়৷ এত বিপুল সংখ্যক কুক্ষিগত নিয়োগের বদলে মেধা ভিত্তিক নিয়োগ সম্পন্ন হলে প্রশাসন আইন মোতাবেক নিরপেক্ষ কাজ চলতে পারে ফলে প্রশাসন কে অপব্যবহার করে রাজনৈতিক অর্জনের পথ নির্মূল হতে পারে।


এবার আপনি বলেন পোষ্য কোটা সংস্কার আন্দোলন দমন একটি কুক্ষিগত রাজনৈতিক প্রশাসনিক ব্যবস্থা ধরে রাখতে কতটা প্রয়োজনীয়। তাও একটি অ-নির্বাচিত স্বৈরাচারী শাষকের ক্ষমতা’র জন্য।
আপনার আমার বা পোষ্য কোটা বহির্ভূত ৩ কোটি ভোট নয় বরং পোষ্য-কোটা অন্তর্গত ৩ লাখ সংঘবদ্ধ পোষ্য কর্মজীবীর ভেতরেই রয়েছে আওয়ামীলীগে টিকে থাকার প্রাণ ভ্রমর।

ইনফোঃ
মুক্তিযুদ্ধ মন্ত্রনালয়
মুক্তিযুদ্ধ ই-আর্কাইভ
সাইদ রহমান
জন - প্রশাসন মন্ত্রনালয়
@Bbc বাংলা
পরিবর্তন.com ও
সাইদ রহমান




বৃহস্পতিবার, ৩১ মে, ২০১৮

জাঁদরেলতম ঝানু এম্বাসেডরের ডাইরিতে লেখা '#জিয়া



অস্ট্রেলিয়া এবং ইন্দোনেশিয়ার নিযুক্ত সাবেক মার্কিন দূত মিস্টার মার্শাল গ্রীন বাংলাদেশ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের গতিশীল নেতৃত্বের প্রশংসা করে বলেছেন যে তার সহযোগীদের সন্দেহ সত্বেও তিনি বহু বহু পল্লী উন্নয়ন কর্মসূচি নির্ধারিত সময়ের আগে সম্পাদন করেছেন। 

সম্প্রতি The Christian Science Monitor পত্রিকার সম্পাদকের কাছে পাঠানো চিঠিতে মি গ্রীণ একথা জানান। চিঠিতে লেখেন প্রেসিডেন্ট জিয়া বুঝেছিলেন যে সঠিক নেতৃত্বের মাধ্যমে নিজস্ব সম্পদ সংগঠন করে আত্ম নির্ভরশীলতার মনোভাব নিয়ে কাজ করলে জনগণ নিজেদের জন্য বিস্ময়কর কল্যাণ সাধন এবং সকল বাধাবিপত্তি অতিক্রম করতে পারবেন।
চিঠিতে বলা হয়েছে বাংলাদেশে প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ওপর লেখা পত্রিকায় একটি চমৎকার সম্পাদকীয় পড়ে ১৯৮১ সালের ২০ এপ্রিল তিনি তার ডাইরিতে লিখেছিলেনঃ
রাষ্ট্রদূত ডেবিট স্নাইডার, ডঃ ফ্রেড পিংকহাম এবং আমি প্রেসিডেন্ট জিয়ার সঙ্গে এক ঘণ্টার একটি প্রয়োজনীয় আলাপ আলোচনায় মিলিত হয়েছিলাম। তাতে তিনি এই অভিমত ব্যাক্ত করেছিলেনঃ

প্রেসিডেন্ট উন্নততর ভবিষ্যতের জন্য উন্নয়ন কর্মসূচিতে যুবসমাজ এবং মহিলাদের অংশগ্রহণের প্রয়োজনীয়তার ওপর বিশেষ জোর দিয়েছিলেন। শিক্ষার উপর বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে তিনি বলেছিলেন মেয়েদের মর্যাদা সিদ্ধান্ত গ্রহণের অংশীদার করতে হবে। তিনি পরিবার পরিকল্পনা ও জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণের ওপর অধিকতর গুরুত্ব আরোপ করেছিলেন। আমরা তাকে জিজ্ঞেস করেছিলাম যে এসব কর্মসূচি বাস্তবায়নে খুব বেশি বাধা আসবে কিনা জবাবে তিনি বলেছেন হ্যা বিরোধিতা কিছু আছে বইকি কিন্তু যখন দেখবেন বিরোধিতা হচ্ছে তখন বুঝবেন আপনার সঠিক কিছু করছেন। তিনি সত্যি সত্যি সঠিক কিছু করেছিলেন।

জন এইচ সুলিভান :
ওয়াশিংটন পোস্টে সম্পাদকের কাছে পাঠানো আর এক চিঠিতে আন্তর্জাতিক সংস্থার এশিয়া ব্যুরোর সাবেক প্রধান জন এইচ সুলিভান লিখেছেন "২ রা জুন পোষ্টের শিরোনামের বাংলাদেশের প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের হত্যাকান্ডের ঘটনার অনভিপ্রেত ও খবর পাই।
তিনি লিখেছেন প্রেসিডেন্ট জিয়া ছিলেন একজন সুবিদিত নেতা তিনি নিরলস প্রচেষ্টার মধ্য দিয়ে দেশের এক কোটি মানুষকে দারিদ্র্য থেকে মুক্ত করতে চেয়েছিলেন। তিনি চেয়েছিলেন দেশকে স্বনির্ভর করতে, চেয়েছিলেন জনসংখ্যা বৃদ্ধি রোধ করতে। তিনি লিখেছেন কার্টার প্রশাসনের আমলে ১৯৭৭ সালে আইডিএর এশিয়ার প্রধান হিসেবে আমার তার সাথে দেখা করার সুযোগ হয়েছিল। আমি তাকে বলেছিলাম আগামী মওসুমে রোপণের জন্য আপনার কর্মকর্তারা এখনো গম বীজ সংগ্রহ করেননি। সেদিনই রাতে এক সামাজিক অনুষ্ঠানে কৃষি বিভাগের কয়েকজন কর্মকর্তা বলেছিলেন তারা অবিলম্বে বীজ সংগ্রহ করছেন।




রবিবার, ১৩ মে, ২০১৮

স্যাটেলাইট & জামিলের চিঠি

শুরুতেই "বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট-১ শুভেচ্ছা ও অভিন্দন। বিষয় এই যে গত কয়েকদিন যাবত অনেক ঢাকঢোল পিটিয়ে মহাকাশে স্যাটেলাইট উৎক্ষেপনের ব্রেকিং নিউজ প্রচার হচ্ছে। অর্থনীতিতে অতটা সক্ষমতা না থাকা সত্ত্বেও মোটা অংকের বৈদেশিক ঋণের সহায়তায় এই ব্যয়বহুল স্যাটেলাইট উৎক্ষেপনে উদ্দেশ্য বিদেশি ট্রান্সপন্ডার ব্যবহারের কারণে কোটি কোটি বৈদেশিক মুদ্রা অপচয় বন্ধ করা। উত্তম উদ্যোগ,  চলুন ঋন করে ঘি খাওয়া যাক।

যদিও Made in Bangladesh সীল ব্যতীত অর্জনের কোন ইনার ভ্যলুজ নাই।

খরচের প্রাপ্ত সামারিঃ
১.০) মোট খরচঃ ২ হাজার ৯০২ কোটি
১.১) সরকারি ফান্ড ১ হাজার ৫৪৪
১.২) HSBC ১ হাজার ৩৫৮
বা 157million euro.loan.
১.৩) ইন্টারেষ্ট রেটঃ 1.51%
১.৪) প্রিপ্রডাকশন বাজেটঃ https://goo.gl/LPvFZS

প্রথম আলো & The Daily Star
https://goo.gl/R7q4Rc
https://goo.gl/CzrnJU

কিন্তু দূর্ভাগ্য আমাদের অবস্থান ৯০ ডিগ্রি পূর্ব দ্রাঘিমা রেখাতে হলেও স্যাটেলাইট বসানো হয়েছে ১১৯.১ ডিগ্রি পূর্বে।

তাই ঢাকঢোল পিটানো বাদ দিয়ে  মাথার উপর ভাসমান বিদেশি স্যাটেলাইট ব্যবহার বন্ধ করে "বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট
ব্যবহার করে ব্রেকিং নিউজ প্রচার কর।

কি সাহস আছে? যত্তোসব!!!

ইতি
Jamil Sikder Sazzad

মা দিবস

Emotion Corporation Ltd

মা দিবসে ফেলানি ও তনুকে অভিন্দন, মা হবার স্বপ্ন যাদের খতম হয়েছে। মা দিবসে মেঘ কে শুভেচ্ছা, যে তার মা রুনিকে আর উইস জানাবে না। মা দিবসে সোফিয়াকে শুভেচ্ছা, যে মাতৃত্বের প্রগ্রাম লোড সাপেক্ষ যে কারো মা হতে পারে।

তবে সুমাইয়ার কথা টানবেন না। মায়ের পেটে গুলি করার কারনে যদি গর্ভের শিশু গুলি বিদ্ধ হয়, সে দায় মোটেও বন্দুক বাজের নয়। এবার পরিচিত হই এক মহান মাতৃপ্রেমি ছাত্রলীগের সাথেঃ
http://bit.ly/sum0n-Sen
চিনছেন এই মহান সেন কে?

যে মা গর্ভ ধারণ করেছিল, শিশু গুলিবিদ্ধ হবার দায়দায়িত্ব সেই মাকেই নিতে হবে।

১৮ অগাষ্ট' ২০১৫
https://bbc.in/2Gb0QD2
২০ জুন ১৬
http://bit.ly/2ICrVEo
মাতৃগর্ভে শিশু গুলিবিদ্ধঃ ছাত্রলীগ নেতা জামিনে মুক্ত

ক্ষুধার্ত শুয়োরের সামনে যা আসবে সে তাই খাবে, এটা কে বলা হয় শুয়োরাধীকার।

ধরুন জংগল ভ্রমনে গিয়েছেন আপনি,  জংগলে কোন গন্ডার আপনাকে আহত বা নিহত করলো।

তবে কি গন্ডারের নামে মামলা হবে, গন্ডার নিয়ে অস্ত্র উদ্ধার অভিযানে নামবে মণিরুল্লাহ বাংলা টিম? গন্ডারকে রিমান্ডে নেবেন, গন্ডারকে ফাঁসির দঁড়িতে ঝুলাইবেন?

না, তা হবে না, কারন জংগল, জানোয়ারদের দুনিয়া। সেখানে জানোয়ারের আইন-ই আইন। বরং জানোয়ার টেরিটরিতে অবৈধ প্রবেশের দায়ে উল্টো আপনাকে জরিমানা করা যেতে পারে।

গুলি বিদ্ধ মায়ের, শিশুর শরীরে যে গুলি বিদ্ধ হয়েছে, তা ক্ষুধার্ত জানোয়ারের বুভুক্ষু নিশানা মাত্র।

জানোয়ার রাজ্যে, জানোয়ার আইনে জানোয়ারদের জামিন না হবার কোন কারন নেই। জানোয়ার অভয়ারণ্যে চলাফেরা করা সকল জানোয়ারের আজন্ম অধীকার।

জানোয়ারাধীকার রক্ষিত হোক।।

সোমবার, ১৬ এপ্রিল, ২০১৮

বিপ্লবের পলাতক তবলচীম।

তখন ৯০ পূর্ব উত্তাল দিন। সাল মাস দিন মনে পরে না। প্রতিটি সকাল ছিল মিছিলের, প্রতিটি রাত ছিল টি-ষ্টলে দাঁড়িয়ে দল বেধে BBC বাংলা রাতের অধিবেশন থেকে আমি গিয়াস কামাল চৌধুরী...

  


আমি স্কুল গোয়িং বালক। আমার কাজিন, তার লেখাপড়াতে মন ছিলনা। সারাক্ষণ রাজনীতি আর মারপিট, উড়ু উড়ু মন, প্রেম প্রেম ভাব, সবার মুখে চুনকালি মাখিয়ে ম্যাট্রিকে ফেল করলো তিন বার।

জরুরী পারিবারিক মিটিং ডাকা হল, আমরা ছোট কাজিনরা ঈদ ঈদ অনুভূতি নিয়ে বড় কাজিনের শাস্তি দেখতে অপেক্ষা করছি। বড় আনন্দের দিন আজ।

সিদ্ধান্ত এলো - এর দ্বারা বিদ্যার্জন সম্ভব না, একে কাজে লাগিয়ে দাও। আমরা আকাঙ্ক্ষিত একসান না দেখে হতাশ হলাম। এ বিচার বিচার নয়, নূন্যতম
Skype কেলেঙ্কারি না হলে সে আবার বিচার হয় নাকি!


তবে কাজিনকে বিজনেসে ঢুকানো যাবে না, অশিক্ষিত, উড়াধুরা ছেলে ব্যবসাতে এলে দুর্নাম রটে যাবে। পরিবারের মানী টাইটেল ধুলায় লুটোপুটি খাবে।

অগত্য ভাই কে সমূচিত শিক্ষা দিতে শহর থেকে দূরে একটা দোকানে চাকুরী দেওয়া হল। দোকানের মালিক মূল কাহিনী জানে না। সে ধরেই নিলো, এতবড় মানুষের ছেলে চাকরী করছে আমার দোকানে এতো পরম ভাগ্য। দোকানদার কাকা'র গদগদ ভাবের কমতি নেই। এলাকার মুরুব্বি, কমিশনার, মেম্বার, হেড মাষ্টার সবাইকে দোকানে দাওয়াত দিয়ে ব্রান্ডিং করে। এই সুযোগে আগত মেহমানদের মগজ ধোলাই দেবার সব চেষ্টা চালিয়ে যায় নির্বাসিত কাজিন।

কিন্তু আল্টিমেট ফলাফল কাজ ছাড়াই মাসে মাসে বেতন উত্তোলন আর আগত ক্রেতাদের মগজ ধোলাই। ক্রমে ক্রমে সেই দোকান হয়ে উঠতে থাকলো লোকাল রাজনীতির সংসদ।

ধূর্ত কাজিন ধরে ফেলেছে তার আরামের শানে-নজুল। ফলে তার নখরা বেড়ে গেলো দ্বিগুণ। আগত অতিথিদের চমকে দিতে এটে ফেলতো বিচিত্র সব ফন্দীফিকির।

ওদিকে দেশ তখন উত্তাল তাই বাড়ির লোকেরাও চাচ্ছে না সে চাকরী ছাড়ুক।

এই সুযোগে ভাই আমার একটা ছোট খাটো ফর্দ ধরিয়ে দিলো দোকান মালিক কাকা কে।

তাকে রাখতে হলে তার জন্য প্রতিদিন ২ পিস 555 cigarettes সকাল বিকাল সন্ধ্যাতে গেদুর গরুর দুধের চা আর পাক্ষিক যায়যায় দিন পড়তে দিতে হবে।

555 সিগারেট ব্যতীত অন্য দুটি দাবী পূরন হয়েছিলো তখন, তবুও তাকে ধরে রাখা সম্ভব হয় নি। কেউই তাকে বন্ধনে আটকে রাখতে পারিনি।

তখনকার ৮ দলীয় জোট নেত্রী শেখ হাসিনার উপর শফিক রেহমানের লেখা কোন একটা ফিচার খুব হিট করেছিল। যা পড়ার পর বখাটে কাজিন আর ঘরে থাকতে পারেনি, দোকানে বসে রাজনৈতিক মগজ ধোলাই স্থগিত করে খুঁজে নিতে চাচ্ছিল অর্থপূর্ণ কিছু!

এরপর সে ঘর ছেড়েছিল, পথে নেমেছিল, ঢাকার রাজপথ ধরে.......কমলাপুর রেল ষ্টেশন, টিটি পাড়া বস্তি আরো কত কোথাও......দীর্ঘ ঘর ছাড়া সময়ে কয়েকবার কেউ কেউ দেখেছে তাকে।

একটা সময়ের পর আর খুঁজে পাওয়া যায়নি বখাটে ভাইকে। দীর্ঘ নিখোঁজের পর, একদিন তার রক্তার্ত শুষ্ক লাশ পৌঁছল ছোট্ট শহরের সবুজ লনে।

হাজারো মানুষের চোখের জল আহাজারিতে আবার কানায় কানয় পূর্ণ হল দোকানপাট, হাট বাজার।

অনেকের সাথে কাজিন হত্যার বিচার দাবী করলেন শেখ হাসিনা...তীব্র নিন্দা, ঘৃনা জানালেন! প্রিয় কাজিন ফিরে এলো হাতে আকা ছবি হয়ে যায়যায় দিনের খবরের পাতায়।

আজ রেসের ঘোড়া পথ ভ্রান্ত...'যায় যায় দিন' হারিয়ে গিয়েছে। আজ হতে ৩ বছর আগে তিনি শফিক রেহমান নিজেই নিক্ষিপ্ত হলেন স্বৈরাচারের কারাগারে, শেখ পরিবার নিমিত্ত।


হৃদয়ে রক্তক্ষরনের মত History returns -- ধ্রুব সত্য।

আরো নির্মম সত্য Same old story in many mode আদলে আরো একজন শফিক রেহমান জন্ম নেবে, আরো একজন বখাটে কাজিন জন্ম নেবে, আরেক টা প্রাণ ওষ্ঠাগত হবে, আরো
একটা স্বৈরাচারের পতন হবে।

এক স্বৈরাচারের পতন হবে
এক স্বৈরাচারের পতন হবে
এক স্বৈরাচারের পতন হবে
এবং আবারো আরো
এক স্বৈরাচারের পতন হবে
হবেই...

বুধবার, ২১ মার্চ, ২০১৮

কেস ষ্টাডি: যথাযথ কতৃপক্ষ

*অমিমাংসিত কেস স্টাডি ১

ভারতীয় অর্থমন্ত্রী বললেন যুদ্ধের আগের ১০০ কোটি টাকা, বাংলাদেশ সরকারের পাওনা আছে। প্রধানমন্ত্রী চান, টাকাটা আপনাদের যতদ্রুত সম্ভব পাঠিয়ে দিতে।

সামনে আমার নির্বাচন। অনেক টাকা দরকার, ট্রাকে করে পাঠিয়ে দিন..

দেখুন আমাদের ব্যাংকিং সিস্টেমের মধ্যদিয়ে চলতে হয়, টাকা তো ট্রাকে পাঠানো যাবে না। ব্যাংকিং চ্যানেলেই টাকা পাঠাতে হবে। আপনার অর্থ মন্ত্রনালয়কে বলুন ব্যাবস্থা করতে। আমরা সহযোগিতা দেবো।

না না ঐ সব লাগবে না, আমার ব্যাংক ফ্যাংক কিছু নেই। ট্রাকেই টাকা পাঠান...

*অমিমাংসিত কেস স্টাডি ২
ইন্ডিয়ান প্রাইম মিনিস্টার মনমোহন সিং এর ঢাকা সফর। তিস্তা চুক্তির খসড়া প্রস্তুত। রাত ১২টা নিউজ স্ক্রলে খবর পাওয়া গেলো তিস্তা চুক্তি হচ্ছে না।

পররাস্ট্র মন্ত্রী দিপুমনি চুক্তি না হবার সম্ভবনা কিছুই জানতেন না। তিনি দৃঢ় কন্ঠে সাংবাদিকদের বললেন সব বাজে কথা, চুক্তি হচ্ছে বাকি ঘটনা সবাই জানেন।

*অমিমাংসিত স্টাডি ৩
ঢাকা এয়ারপোর্টে একজন সন্দেহভাজন ব্যক্তি প্রবেশ করলেন , নাম মো: ওয়াকাস; উচ্চতা ৬" ; ওয়াকাস কাজ করতো পাকিস্তানী গোয়েন্দা সংস্থা ISI এর পক্ষে।

টাইমস অব ইন্ডিয়ার প্রতিবেদনে বলা হয়, ওয়াকাস বাংলাদেশে লুকিয়ে ছিলেন। নেপাল হয়ে পাকিস্তানে যাওয়ার চেষ্টা করছিলেন তিনি। কিন্তু শেষ পর্যন্ত ‘র’-এর জালে বন্দী আটকে যায়।

প্রশ্ন হচ্ছে স্বাধীন বাংলাদেশের এয়ার পোর্ট থেকে 'Raw' কিভাবে একজন বাংলাদেশে ভ্রমণকারীকে গ্রেফতার করে ইন্ডিয়া নিয়ে গেলো?

*অমিমাংসিত স্টাডি ৪
জনপ্রিয় স্বাধীনতা পন্থী উলফা নেতা, অনুপ চেটিয়াকে ইন্ডিয়া-বাংলাদেশ সীমান্ত থেকে গ্রেফতার করলো ভারতীয় বাহিনী। অফিসিয়ালি বাংলাদেশ সরকারের হেফাজতে থাকা ঐ অবৈধ আশ্রয় নেওয়া বিদেশী নেতা, মুক্তির সাথে সাথে কিভাবে প্রশাসনের সকলের চোখ ফাঁকি দিয়ে সীমান্তরেখা বরাবর পৌঁছে গেলো, রাস্ট্রের কাছ থেকে গ্রহণ যোগ্য উত্তর পাওয়া গেলো না।

এবার আসুন বাংলাদেশ ব্যাংক কেলেঙ্কারিতে।

*অমিমাংসিত কেস স্টাডি ৫
কদিন আগে যে ভারতীয় ব্যক্তি, ভল্ট থেকে টাকা চুরি করে ধরা পরেছিল, তাকে কেন আইনের আওতাভুক্ত করা হয় নি?

*অমিমাংসিত কেস স্টাডি ৬
ফেডারেল ব্যাংকে সংরক্ষিত বাংলাদেশের অর্থ ভাঁওতাবাজি করে চুরি করা হলো। অর্থমন্ত্রী; বক্তব্যতে ধামকি দিলেন তাকে জানানো হয় নি; তিনি ব্যাবস্থা নেবেন।

পক্ষান্তরে বাংলাদেশ ব্যাংক প্রতিউত্তর দিলো যেখানে জানানো দরকার, সেখানে তারা জানিয়ে ছিলো।

উপরের সব গুলো ক্ষেত্রেই সম্পর্কিত মন্ত্রীদের বক্তব্য ছিল, তারা ব্যাপারটা জানেন না।

অন্যদিকে সব গুলো ক্ষেত্রেই প্রশাসনের বক্তব্য ছিল ; তারা যথাযথ কতৃপক্ষকে জানিয়ে ছিল।

এবার X-Files ; investigate এর দায়িত্ব আপনাকেই নিতে হবে!

নামকরণের রাজনীতি

বৃক্ষ তোমার নাম কি? ফলে পরিচয়।

দু'পাড়ের এক পাড় সিরাজগঞ্জ, হযরত এনায়েতপুরী'র স্মৃতি বিজড়িত। অন্য পাড়ে মজলুমের কমরেড Red মওলানা ভাসানী'র আখড়া।

যমুনা'র দু'পাড়ে ভাসানী এবং এনায়েতপুরী নামে নামকরণের জোর আবদার ছিল। দু'পাড়ের মানুষের বহু যুগে না পাওয়া আবেগ নিয়ে নাড়াচাড়া  করা, রাজনৈতিক ব্যক্তিদের জন্য স্পর্শকাতর বৈকি।

ধূর্ত রাজনীতিবীদরা মানুষের এহেন আবেগে আগুন দিতে পিছুপা হয় না। পক্ষান্তরে রূঢ় সত্য হচ্ছে অনুভূতি প্রবণ ও দায়িত্বশীল নেতারা এসব সময়ে মধ্যমা আঙুল প্রবিষ্ট করান না। ফলে নাম করণে কোন পক্ষকে পুরোপুরি জয় করা আর হয়ে উঠে না। তবে লংটার্মে ন্যায়নীতি ও অনুভূতি বোধ জয়ী হয়।

প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত সভাতে এ সেতুর নামকরণ সংক্রান্ত দুটি প্রস্তাব আলোচিত হয়। নাম করণের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত বেগম জিয়া'র উপর ন্যাস্ত হলে তিনি বলেনঃ

'উনারা দু’জনই সর্বজন শ্রদ্ধেয়। তাই উনাদের বিতর্কের ঊর্ধ্বে রাখুন। এক  নামে সেতু হলে তা অন্য তীরের মানুষের মনোকষ্টের কারণ হবে। তাতে গুণীজনেরা অযথা বিতর্কিত হবেন। এরচে যে নদীর  উপর সেতু হচ্ছে, সেই নদীর নামেই নামকরণ হোক'।

সেদিনই অফিসিয়ালি 'যমুনা বহুমুখী সেতু' নাম করণ করা হয়।

এরপর ক্ষমতার পালা বদলে সেতু উদ্বোধনের দায়িত্ব বর্তায় তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সরকারের হাতে। নিয়তির পরিহাসে এ সেতুর নির্মাণকাজ উদ্বোধনী দিনে দেশব্যাপী সহিংস  হরতাল পালন করেছিলেন তিনি।

২৩ জুন' ১৯৯৮ঃ শেখ হাসিনা সেতু উদ্বোধন করেন। দুপাড়ের মানুষের আবদার আবেগের তোয়াক্কা না করে নিজ দলের জনপ্রিয় নেতা, সাবেক প্রেসিডেন্ট রাজনীতিবীদ শেখ মুজিবুর রহমানের নাম অনুসারে ৪.৮ কিমি লম্বা, ১৮.৫ মিটার প্রস্থের সেতুটিকে "#বঙ্গবন্ধু_সেতু" নামকরণ করেন।

সাথে সাথে জাতীয় প্রত্যাশা ও জন মানুষের অংশীদারিত্বে প্রস্তুতকৃত যমুনা সেতু দলীয়করণ ও দলবাজির প্রেক্ষাগৃহে প্রদর্শণ শুরু হয় ||

বুধবার, ২৮ ফেব্রুয়ারি, ২০১৮

জিয়া যেভাবে বাংলাদেশকে পাকিস্তান বানালো

বাংলাদেশ স্বাধীন ছিল মাত্র ২৩ থেকে ২৪ দিন। দিনের হিসাবে ডিসেম্বর ১৬,২৯৭১ থেকে জানুয়ারি ৯'১৯৭২ পর্যন্ত। এই সময়ে কোন পত্রিকাতে সিঁধেল চুরি, গরু চোর, পকেট মার, পিক পকেটিং এসবের নিউজ হয়নি। রক্তার্ত লড়ায়ে সদ্য স্বাধীন ভূমি অর্জনকারী রাষ্টের জনগনের মনে যেমন অনুভূতি থাকে, সবার মধ্যে সে ধরণের অনুভূতি কাজ করছিল তখন।

এত রক্ত, এত ত্যাগ, 

মা-বোনের ইজ্জতের বিনিময়ে যে দেশটা স্বাধীন হতে যাচ্ছে, 

সে দেশে আমরা সবাই মিলে খাবো, পড়বো, সবার ঘরবাড়ি থাকবে, সবার চিকিৎসা হবে, শিক্ষা হবে, সবার কর্ম সংস্থানের ব্যাবস্থা হবে।   

 

আইসা (১০ জানুয়ারি) শুরু হল লুটপাটরিলিফ চুরি, কম্বল চুরি, টিন চুরি এগুলি...


প্রবাসী সরকারের নেতৃত্বে এই ২৪ দিন(১৬ ডিসেম্বর- জানুয়ারি ৯) ছিল বাংলাদেশ টা স্বাধীন। বিভিন্ন জেলা গুলোতে মুক্তিযোদ্ধারা ছিলেন জেলার দায়িত্বে। 

বঙ্গবন্ধু আসার পর, জানুয়ারি ১০, ১৯৭২ এর পর যে এসপি, পাক আর্মীর কাছে একদল মুক্তিযোদ্ধাকে ধরিয়ে দিয়েছে, যে ওসি একজন মুক্তিযোদ্ধাকে ধরিয়ে দিয়েছে, যে পাকিস্তানের পক্ষে কাজ করেছে, বঙ্গবন্ধু আবার তাঁদের পোস্টিং দিলেন। যেমন #গাজীপুরে প্রবাসী সরকারের ১৬ ডিসেম্বর থেকে ৯ জানুয়ারি পর্যন্ত প্রশাসক ছিলেন জিন্না পাঠান। বঙ্গবন্ধু ১০ জানুয়ারি আসার পরে জিন্না পাঠান আর থাকলেন না, মুক্তিযোদ্ধারা আর থাকলো না।  

খুলনাতে দায়িত্বে ছিল কামরুজ্জামান টুকু, টুকু আর থাকলেন না। তাঁর অর্থ 

পাকিস্তান আর্মীকে যে প্রশাসন সাহায্য করেছে তাঁদেরকে আবার আনা। তাঁর অর্থ পুরাতন আইন-কানুন এগুলো দিয়ে আবার রাষ্ট্র পরিচালিত হতে থাকলো। নামে আমরা স্বাধীনতা পেলাম, ভৌগোলিক এলাকা পেলাম কিন্তু আইন-নীতি প্রশাসন ব্যাবস্থা রয়ে গেলো ঔপনিবেশিক আমলের। রাষ্ট্র বিজ্ঞানের ভাষাতে আভ্যন্তরীণ পরাধীনতা।   

 
মানে আগে ছিলাম বিদেশী দের দ্বারা পরাধীন, এখন হয়ে গেলাম দেশীয় লোকদের দ্বারা পরাধীন। আমরা দেখলাম যে দেশ লক্ষ শহীদের আত্মত্যাগের বিনিময়ে স্বাধীন হল, পাকিস্তানীরা আত্মসমর্পন করলো তাঁদের বিচার হল না, ভারতে পাঠিয়ে দেওয়া হল।

সাক্ষাৎকার
আসমঃ আব্দুর রব
প্রথম স্বাধীন বাংলাদেশের পতাকা উত্তলোক
নিউক্লিয়াস সদস্য, মুক্তিযুদ্ধ সংগঠক। 

Document: আব্দুর রবের সাক্ষাৎকার থেকে Sound cloud ক্লিপ সংযুক্ত।  #Youtube এ পূর্ণাংগ VIDEO পাবেন।

https://soundcloud.com/wasim-bonol/a-s-m-abdur-rob-3munites

সামহয়ারইনব্লগঃ
http://www.somewhereinblog.net/blog/Hismastervoice/30230816

রবিবার, ১১ ফেব্রুয়ারি, ২০১৮

নাজুমুদ্দিন রোডের...

নাজিমুদ্দিন রোডের খাঁটি সোনা

ঐতিহাসিক ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগার। ১৯৪৮ সালের ভাষা আন্দোলনের পটভুমি থেকে এই কারাগারের কুখ্যাতি/খ্যাতি শুরু। বাংলা ভাষার আন্দোলন শুরু হলে পাকি জান্তা আন্দোলন কারীদের ধরে নাজিমুদ্দিন রোডের এই কারাগারে আটক রেখে নির্যাতন করতো।

ভাষা আন্দোলন দমনে পুলিশ ১৪৪ ধারা জারি করে ঢাকা শহরে সমাবেশ-মিছিল নিষিদ্ধ করে। যেমন গতকাল করা হয়।

এরপর সেনা শাসন বিরোধী আন্দোলন, ছয় দফা, আগড়তলা ষড়যন্ত্র, ৭১, ৭৫, ৮৩-৯০ পর্যন্ত উত্তাল রাজনৈতিক ইতিহাসের গৌরব ও কলংকের ভাগীদার এই কারাগার।

১৯৬৬ সালের ৬ দফা শুরু হলে, এই কারাগারের গুরুত্ব বৃদ্ধি পাই। ৬ দফার অন্যতম দফা ছিল শাসনতান্ত্রিক কাঠামো ও রাষ্ট্রের প্রকৃতিঃ যা আজকের বাংলাদেশের সাথেও যায়।

৯ মে ১৯৬৬ঃ ৬ দফার অভিযোগে মুজিবকে ডিটেনসনে পাঠানো হয়। শুরুতে ক্যান্টঃ এ নেয়া হলেও পরবর্তিতে নাজিমুদ্দিন রোডের কারাগার মুজিবকে ধারণ করে।

৬ দফা আন্দোলনের পথে প্রায় সকল দেশ প্রেমিক বীরকে ধারণ করে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগার। যেমনঃ-

শেখ মুজিবুর রহমান, কমান্ডার মোয়াজ্জেম হোসেন, ষ্টুয়ার্ড মুজিবুর, LS সুলতানুদ্দিন আহাম্মেদ, LSCDI নূর মোহাম্মদ, আহমেদ ফজলুর রহমান CSP এই কারাগারে বন্দী ছিলেন।

FS মাহফিজ উল্লাহ, কর্পোরাল আব্বাস সামাদ, হাবিলদার দলীল উদ্দিন, রুহুল কুদ্দুস CSP,  ফজলুল হক FS, বিভুতি ভূষণ, ইলিয়াস মানিক, বিধান কৃষ্ণা সেন, সুবেদার রাজ্জাক, ক্লার্ক মুজিবুর রহমান, রাজ্জাক FS, সার্জেন্ট জহুরুল হক
সহ আরো অজস্র নাম না জানা প্যাট্রিয়টদের গর্বিত স্থান হয়েছিল এখানে।

৭১ এ স্বাধীনতা যুদ্ধ শুরু হলে আবার পাদপ্রদীপ জ্বলে ওঠে ঢাকা কারাগারে। কারা রক্ষীরা জীবনের ঝুঁকি নিয়ে রাজবন্দীরদের সাথে তথ্য সমন্বয় শুরু করে, চুড়ান্ত ভাবে কারাক্ষীরা এবং বন্দীদের অনেকে একযোগে মুক্তিযুদ্ধে যোগদানের সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নে পাগলা ঘন্টি বাজিয়ে সব কটি কয়েদখানার কপাট উন্মুক্ত করে দেয়।

ফলশ্রুতিতে পাক হানাদাররা কারাগারের নিয়ন্ত্রণ গ্রহণ করে। তারা বাংগালীদের প্রহসনের বিচারে নির্যাতন করে এখানে পাঠিয়ে দিত।

৯ মাসের মাথায় দ্বিতীয় বারের মত আবারো পাগলা ঘন্টি বেজে ওঠে কেন্দ্রীয় কারাগারে। ১৬ ডিসেম্বর ১৯৭১ সেই তারিখ।

১৯৭৫ সালে শেখ হত্যার পর আওয়ামীলীগ সরকারের প্রেসিডেন্ট
খন্দকার মুস্তাকের নির্দেশে
এই কারাগারে বন্দী করা হয় চার জাতীয় নেতাকে। ব্রিগেডিয়ার খালেদ মোসারর্ফ ক্যু করার পর এই মহান চার নেতাকে কারাগারের নিরাপত্যা হেফাজতে হত্যা করা হয়। খালেদ মোশারর্ফ ও খন্দকার মুস্তাক সরকার চার নেতার খুনিদের বিচার না করে নিরাপদে ব্যাংকক পাঠিয়ে দেয়।

বেংগল জেল কোডের অন্তরগত এই কারাগারটির মুগল সুবাদার ইব্রাহিম খান নিশ্ছিদ্র দূর্গ হিসেবে গড়ে তোলেন। পরবর্তীতে দুর্গটি ঢাকার নায়েব নাজিমের আবাসস্থলে পরিণত হয়।

এরপর দখলদার ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি ১৭৮৮ সালে দুর্গের অভ্যন্তরে ক্রিমিনাল ওয়ার্ড নির্মাণ করার মাধ্যমে স্থাপণাটিকে কারাগারে রূপান্তর করে।

এখানে ‍দু’টি জাদুঘর রয়েছে। এর একটি ‘বঙ্গবন্ধু স্মৃতি জাদুঘর,’ অপরটি ‘জাতীয় চার নেতার জাদুঘর’। ২০১৬ সালের ৫ নভেম্বর শেখ হাসিনা এই জাদুঘর দুটি পরিদর্শন করে। http://bit.ly/2EeqjPT অর্থাৎ এই কারাগারের বর্তমান হাল চিত্রে উনাদের ভালো ধারণা আছে।

এই কারাগার কুখ্যাত দেশদ্রোহী অপরাধী হিসাবে শেখ মুজিব, প্রধান মন্ত্রী তাজুদ্দিন আহাম্মেদ, প্রেসিডেন্ট নজরুল ইসলাম সহ অসংখ্য রাজবন্দীকে গ্রহণ করে তাদের মুক্তি দিয়েছিল খাঁটি আগুনে পুড়া সোনার পরিচয়ে।
তথ্য জানুনঃ http://bit.ly/2smE1dU

২৯ শে জুন ২০১৬ঃ পুরান ঢাকার নাজিমউদ্দিন রোডের 'লাল দালান' জরাজীর্ণ ঝুঁকিপূর্ণ 'ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগার' থেকে ৬ হাজার ৪০০ বন্দীকে সরিয়ে ফেলে ২২৮ বছরের পুরনো কারাগারটি বন্ধ ঘোষিত হয়।

পরিত্যাক্ত হবার পর এ পর্যন্ত একজন ব্যক্তিও এখানে কারাভোগ করেনি। কিন্তু পরিত্যাগের ২ বছর ৪ মাস ১০ দিন পর খালেদা জিয়াকে সাজাপ্রাপ্ত আসামি হিসেবে এই পরিত্যক্ত কারাগারেই দেয়া হলো।

৮৫০০ বন্দী ও ৭৭৩ জন অর্থাৎ ৯২৭৩ জনের সাবেক এই ভূতুড়ে আবাস স্থলে সম্পূর্ণ একাকী একজন রাজনৈতিক বন্দী হিসাবে অবস্থান করছেন গণতন্ত্রপন্থী নেত্রী বেগম খালেদা জিয়া।

কল্পনাতে এনে দেখুন তো ২২৮ বছরের জরাজীর্ণ পরিত্যাক্ত ভবনে অন্যায় শাস্তিতে একাকী বন্দী জীবন কাটাচ্ছেন তিন তিন বারের নির্বচিত প্রধান মন্ত্রী, দুই বারের জাতীয় সংসদের বিরোধী দলীয় নেতা বেগম খালেদা জিয়াকে এখানেই বন্দী রাখা হয়েছে।

ব্যক্তিগত ভাবে ২৫,৩৭,৬৬৯ ভোট অর্জনকারী বেগম জিয়ার কাছাকাছি ভোট অর্জনকারী আর কেউ নেই।

না শুধু বাংলাদেশ নয়, পৃথিবীর ইতিহাসেও কেউ নেই।

যারা ভাবছেন তাঁকে স্বাপদ সংকুল বাস অযোগ্য নির্বাসনে রেখে কাবু করবেন, তারা বাস্তব জীবনে বেগম জিয়ার দৃঢ়তা ও বলিষ্ঠতার কাছে ধরাসয়ী হবার প্রতিশোধের ব্যার্থ পথ ধরেছেন মাত্র।

এভাবে তাঁকে যত নির্যাতন করুক না কেন, বেগম জিয়ার ব্যক্তিত্বের পাশে তারা অতি ক্ষুদ্রই থেকে যাবে।

আর নাজিমুদ্দিন রোডের কেন্দ্রীয় কারাগারের ঐতিহাসিক মহত্য তো আছেই।