জরুরী পারিবারিক মিটিং ডাকা হল, আমরা ছোট কাজিনরা ঈদ ঈদ অনুভূতি নিয়ে বড় কাজিনের শাস্তি দেখতে অপেক্ষা করছি। বড় আনন্দের দিন আজ।
সিদ্ধান্ত এলো - এর দ্বারা বিদ্যার্জন সম্ভব না, একে কাজে লাগিয়ে দাও। আমরা আকাঙ্ক্ষিত একসান না দেখে হতাশ হলাম। এ বিচার বিচার নয়, নূন্যতম
Skype কেলেঙ্কারি না হলে সে আবার বিচার হয় নাকি!
তবে কাজিনকে বিজনেসে ঢুকানো যাবে না, অশিক্ষিত, উড়াধুরা ছেলে ব্যবসাতে এলে দুর্নাম রটে যাবে। পরিবারের মানী টাইটেল ধুলায় লুটোপুটি খাবে।
অগত্য ভাই কে সমূচিত শিক্ষা দিতে শহর থেকে দূরে একটা দোকানে চাকুরী দেওয়া হল। দোকানের মালিক মূল কাহিনী জানে না। সে ধরেই নিলো, এতবড় মানুষের ছেলে চাকরী করছে আমার দোকানে এতো পরম ভাগ্য। দোকানদার কাকা'র গদগদ ভাবের কমতি নেই। এলাকার মুরুব্বি, কমিশনার, মেম্বার, হেড মাষ্টার সবাইকে দোকানে দাওয়াত দিয়ে ব্রান্ডিং করে। এই সুযোগে আগত মেহমানদের মগজ ধোলাই দেবার সব চেষ্টা চালিয়ে যায় নির্বাসিত কাজিন।
কিন্তু আল্টিমেট ফলাফল কাজ ছাড়াই মাসে মাসে বেতন উত্তোলন আর আগত ক্রেতাদের মগজ ধোলাই। ক্রমে ক্রমে সেই দোকান হয়ে উঠতে থাকলো লোকাল রাজনীতির সংসদ।
ধূর্ত কাজিন ধরে ফেলেছে তার আরামের শানে-নজুল। ফলে তার নখরা বেড়ে গেলো দ্বিগুণ। আগত অতিথিদের চমকে দিতে এটে ফেলতো বিচিত্র সব ফন্দীফিকির।
ওদিকে দেশ তখন উত্তাল তাই বাড়ির লোকেরাও চাচ্ছে না সে চাকরী ছাড়ুক।
এই সুযোগে ভাই আমার একটা ছোট খাটো ফর্দ ধরিয়ে দিলো দোকান মালিক কাকা কে।
তাকে রাখতে হলে তার জন্য প্রতিদিন ২ পিস 555 cigarettes সকাল বিকাল সন্ধ্যাতে গেদুর গরুর দুধের চা আর পাক্ষিক যায়যায় দিন পড়তে দিতে হবে।
555 সিগারেট ব্যতীত অন্য দুটি দাবী পূরন হয়েছিলো তখন, তবুও তাকে ধরে রাখা সম্ভব হয় নি। কেউই তাকে বন্ধনে আটকে রাখতে পারিনি।
তখনকার ৮ দলীয় জোট নেত্রী শেখ হাসিনার উপর শফিক রেহমানের লেখা কোন একটা ফিচার খুব হিট করেছিল। যা পড়ার পর বখাটে কাজিন আর ঘরে থাকতে পারেনি, দোকানে বসে রাজনৈতিক মগজ ধোলাই স্থগিত করে খুঁজে নিতে চাচ্ছিল অর্থপূর্ণ কিছু!
এরপর সে ঘর ছেড়েছিল, পথে নেমেছিল, ঢাকার রাজপথ ধরে.......কমলাপুর রেল ষ্টেশন, টিটি পাড়া বস্তি আরো কত কোথাও......দীর্ঘ ঘর ছাড়া সময়ে কয়েকবার কেউ কেউ দেখেছে তাকে।
একটা সময়ের পর আর খুঁজে পাওয়া যায়নি বখাটে ভাইকে। দীর্ঘ নিখোঁজের পর, একদিন তার রক্তার্ত শুষ্ক লাশ পৌঁছল ছোট্ট শহরের সবুজ লনে।
হাজারো মানুষের চোখের জল আহাজারিতে আবার কানায় কানয় পূর্ণ হল দোকানপাট, হাট বাজার।
অনেকের সাথে কাজিন হত্যার বিচার দাবী করলেন শেখ হাসিনা...তীব্র নিন্দা, ঘৃনা জানালেন! প্রিয় কাজিন ফিরে এলো হাতে আকা ছবি হয়ে যায়যায় দিনের খবরের পাতায়।
আজ রেসের ঘোড়া পথ ভ্রান্ত...'যায় যায় দিন' হারিয়ে গিয়েছে। আজ হতে ৩ বছর আগে তিনি শফিক রেহমান নিজেই নিক্ষিপ্ত হলেন স্বৈরাচারের কারাগারে, শেখ পরিবার নিমিত্ত।
হৃদয়ে রক্তক্ষরনের মত History returns -- ধ্রুব সত্য।
আরো নির্মম সত্য Same old story in many mode আদলে আরো একজন শফিক রেহমান জন্ম নেবে, আরো একজন বখাটে কাজিন জন্ম নেবে, আরেক টা প্রাণ ওষ্ঠাগত হবে, আরো
একটা স্বৈরাচারের পতন হবে।
এক স্বৈরাচারের পতন হবে
এক স্বৈরাচারের পতন হবে
এক স্বৈরাচারের পতন হবে
এবং আবারো আরো
এক স্বৈরাচারের পতন হবে
হবেই...


অসারাধন লেখনশৈলী ওয়াসিম ইফতেখার ভাই
উত্তরমুছুন