বুধবার, ২১ মার্চ, ২০১৮

নামকরণের রাজনীতি

বৃক্ষ তোমার নাম কি? ফলে পরিচয়।

দু'পাড়ের এক পাড় সিরাজগঞ্জ, হযরত এনায়েতপুরী'র স্মৃতি বিজড়িত। অন্য পাড়ে মজলুমের কমরেড Red মওলানা ভাসানী'র আখড়া।

যমুনা'র দু'পাড়ে ভাসানী এবং এনায়েতপুরী নামে নামকরণের জোর আবদার ছিল। দু'পাড়ের মানুষের বহু যুগে না পাওয়া আবেগ নিয়ে নাড়াচাড়া  করা, রাজনৈতিক ব্যক্তিদের জন্য স্পর্শকাতর বৈকি।

ধূর্ত রাজনীতিবীদরা মানুষের এহেন আবেগে আগুন দিতে পিছুপা হয় না। পক্ষান্তরে রূঢ় সত্য হচ্ছে অনুভূতি প্রবণ ও দায়িত্বশীল নেতারা এসব সময়ে মধ্যমা আঙুল প্রবিষ্ট করান না। ফলে নাম করণে কোন পক্ষকে পুরোপুরি জয় করা আর হয়ে উঠে না। তবে লংটার্মে ন্যায়নীতি ও অনুভূতি বোধ জয়ী হয়।

প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত সভাতে এ সেতুর নামকরণ সংক্রান্ত দুটি প্রস্তাব আলোচিত হয়। নাম করণের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত বেগম জিয়া'র উপর ন্যাস্ত হলে তিনি বলেনঃ

'উনারা দু’জনই সর্বজন শ্রদ্ধেয়। তাই উনাদের বিতর্কের ঊর্ধ্বে রাখুন। এক  নামে সেতু হলে তা অন্য তীরের মানুষের মনোকষ্টের কারণ হবে। তাতে গুণীজনেরা অযথা বিতর্কিত হবেন। এরচে যে নদীর  উপর সেতু হচ্ছে, সেই নদীর নামেই নামকরণ হোক'।

সেদিনই অফিসিয়ালি 'যমুনা বহুমুখী সেতু' নাম করণ করা হয়।

এরপর ক্ষমতার পালা বদলে সেতু উদ্বোধনের দায়িত্ব বর্তায় তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সরকারের হাতে। নিয়তির পরিহাসে এ সেতুর নির্মাণকাজ উদ্বোধনী দিনে দেশব্যাপী সহিংস  হরতাল পালন করেছিলেন তিনি।

২৩ জুন' ১৯৯৮ঃ শেখ হাসিনা সেতু উদ্বোধন করেন। দুপাড়ের মানুষের আবদার আবেগের তোয়াক্কা না করে নিজ দলের জনপ্রিয় নেতা, সাবেক প্রেসিডেন্ট রাজনীতিবীদ শেখ মুজিবুর রহমানের নাম অনুসারে ৪.৮ কিমি লম্বা, ১৮.৫ মিটার প্রস্থের সেতুটিকে "#বঙ্গবন্ধু_সেতু" নামকরণ করেন।

সাথে সাথে জাতীয় প্রত্যাশা ও জন মানুষের অংশীদারিত্বে প্রস্তুতকৃত যমুনা সেতু দলীয়করণ ও দলবাজির প্রেক্ষাগৃহে প্রদর্শণ শুরু হয় ||

কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন