মঙ্গলবার, ৬ ডিসেম্বর, ২০১৬

এরশাদ

৬ ই ডিসেম্ভর ১৯৯০


বেগম জিয়ার আপোষহীন নেতৃত্বে এই দিন বাংলাদেশ হয় স্বৈরাচার মুক্ত। খুনী এরশাদ হয় বন্দী। বেগম জিয়ার ওই সংগ্রামে সাথে আওয়ামীলীগ ও ছিল। বিএনপির সাথে একই ঘৃনায় আওয়ামীলীগ ও এরশাদ কে টেনে নামায়।


অথচ মাত্র ২৪ বছরের মাথায় সেই বিশ্ব বেহায়া এরশাদ এখন আওয়ামীলীগের সরকার গঠনের সহায়ক শক্তি এবং প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ দুত।


আজ ৬ ই ডিসেম্ভর ২০১৬, বিএনপি পারত এই দিন টাকে বিশেষ ভাবে স্বৈরাচার মুক্ত দিবস হিসাবে পালন করতে। কিন্তু দলীয় কোন প্রোগ্রাম চোখে পড়ল না।





এখানে The Patriot archive এর ৮০০ ডকুমেন্ট থেকে র‍্যান্ডম কয়েকটা তুলে দিলাম।



স্বৈরাচার এরশাদের আমল ও বাংলাদেশ
FOR BANGLADESHI OPPOSITION, A CRICIAL PERIOD
বাংলাদেশে বিরোধীদের (দল) জন্য জটিল সময়
লিংকঃ বাংলাদেশে বিরোধীদের (দল) জন্য জটিল সময়












এরশাদ পতনের পর নভেম্বর ৩০ এ নিউ ইয়র্ক টাইমস লেখে
50 Reported Dead in Bangladesh Demanding the President's Ouster
লিঙ্ক https://goo.gl/ndfct8

















২৪ জুলাই ৮৭ তে নিউ ইয়র্ক টাইমস আরো লেখে
POLICE AND PROTESTERS CLASH IN 2-DAY BANGLADESH STRIKE
দুদিন ধরে প্রতিরোধকারীদের সাথে পুলিশের সংঘর্ষ।
The Christian Science Monitor ২৫ নভেম্বর ৮৭ তে লেখে
Bangladesh crackdown aimed at breaking strike
অবিচ্ছিন্ন ধর্মঘট লক্ষ্যে করে বাংলাদেশ কঠোর ব্যবস্থা
লিঙ্ক http://www.csmonitor.com/1987/1125/ofill25.html













Immigration and Refugee Board of Canada,
The Fall of President Ershad
১ February ১৯৯১
লিঙ্ক http://www.unhcr.org/refworld/docid/3ae6a8050.html








বাংলাদেশে প্রতিবাদের অধিকার খর্ব
"Protest Banned, Curfew Imposed in Bangladesh." Latimes.com. Los Angeles Times,
28 Nov. 1987. Web
লিঙ্ক http://articles.latimes.com/…/mn-5961_1_bangladesh-curfew-i…






ক্ষমতাসীন পার্টি নিজেদের বিজয়ী ঘোষনা করেছে ।
Ruling Party Is Declared the Winner in Bangladesh."
Ruling Party Is Declared the Winner in Bangladesh."
Nytimes.com.
The New York Times, 06 Mar. 1988.
লিঙ্ক http://www.nytimes.com/…/ruling-party-is-declared-the-winne…






আতাউস সামাদ
"Bangladesh Opposition Renews Protest Call. But Government Says Crackdown Will Cool Simmering Political Crisis."
The Christian Science Monitor,
16 Nov. 1987.
লিঙ্ক http://www.csmonitor.com/1987/1116/odemo.html






রোঁনি টেম্পেস্ট
Tempest, Rone.
Los Angeles Times, 14 Nov. 1987
"Bangladesh Chief Vows Crackdown on Protesters."
লিঙ্ক http://articles.latimes.com/…/mn-5150_1_opposition-proteste…







Weisman, Steven R
The New York Times, 15 Nov. 1987
"The Two-Woman Opposition in Bangladesh."
বাংলাদেশে মাত্র দুজন বিরুদ্ধ মতের নারী
লিংকঃ http://www.nytimes.com/…/the-two-woman-opposition-in-bangla…






নিচে ৪ পাতার একটি গ্লোবাল রিপোর্ট জুড়ে দিলাম। সাথে কিছু ঐতিহাসিক ছবি। ছবির নিচে ছোট টাইটেল দেওয়া আছে।




আসলে এরশাদের কুকর্মে লিস্ট এত বড় যে লিখে শেষ করা যাবেনা।
নিচে ৪ পাতার একটি গ্লোবাল রিপোর্ট জুড়ে দিলাম। সাথে কিছু ঐতিহাসিক ছবি।
আসলে এরশাদের কুকর্মে লিস্ট এত বড় যে লিখে শেষ করা যাবেনা। ৮০০ রিপোর্টের মধ্যে থেকে অতি সামান্ন কিছু আলামত দিলাম মাত্র।

শুক্রবার, ২১ অক্টোবর, ২০১৬

জাতীয় প্রেসক্লাব জিয়াউর রহমান এবং দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া

দিবাগত রাত ২০ অক্টোবর ছিল জাতীয় প্রেস ক্লাবের ৬৩ তম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকীঃ


আসুন দেখে নিই প্রেস ক্লাবের সাথে তথা মুক্ত গনমাধ্যমের বিকাশের সাথে শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান ও বেগম খালেদা জিয়ার সম্পর্ক কেমন ছিল ।




ইতিহাসের মাইনফিল্ডে নিরাপদে হাঁটার জন্য এখন প্রয়োজন মাইনগুলো নিষ্ক্রিয় করে দেওয়া, সে জন্য প্রয়োজন প্যান্ডোরার বাক্সগুলো পুরোপুরি খুলে ফেলা, জানতে হলে পড়তে হবে ।





জাতীয় প্রেস ক্লাব বাংলাদেশের সাংবাদিকদের একটি মিলনসভা যা রাজধানী ঢাকা শহরের কেন্দ্রস্থলে তোপখানা রোডে অবস্থিত দেশের একটি জাতীয় প্রতিষ্ঠান। ১৯৫৪ সালে এই ক্লাব প্রতিষ্ঠিত হয়। এরপর থেকে এই ক্লাব বাংলাদেশের সাংবাদিক সমাজের গর্ব ও ঐক্যের উজ্জ্বল প্রতীক হিসেবে দেশের গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার লড়াইয়ের অন্যতম কেন্দ্র হিসেবে কাজ করে আসছে। প্রগতিশীল আন্দোলন, স্বৈরাচার বিরোধী সংগ্রাম ও স্বাধীনতা যুদ্ধে ক্লাবের ভূমিকা অত্যন্ত গৌরবের।






১৯৫৪ সালে প্রায় ঢাকায় ১৮ তোপখানা রোডের ঐতিহাসিক লাল বাড়িতে প্রেস ক্লাবের জন্ম ও বেড়ে ওঠা। একসময় এ বাড়িতেই থাকতেন বিজ্ঞানী সত্যেন বোস। সেই লাল বাড়িটি এখন আর নেই। সেখানে নির্মিত হয়েছে নতুন ভবনসাংবাদিকই শুধু নন, শিল্প-সাহিত্য, সংস্কৃতি ক্রীড়া অঙ্গনের বিশিষ্ট সব মানুষের মিলন কেন্দ্র হিসেবে উজ্জ্বল ঐতিহ্য রয়েছে এই ক্লাবের। প্রগতিশীল, গণতান্ত্রিক, স্বৈরাচারবিরোধী সব আন্দোলনে সাম্প্রদায়িকতার বিরুদ্ধে এবং মহান মুক্তিযুদ্ধে প্রেস ক্লাব ছিল অনন্য বলিষ্ঠ এক প্রতিষ্ঠান। এ প্রতিষ্ঠান এখনো সমাজের বঞ্চিত, শোষিত মানুষের প্রতিবাদের কেন্দ্র এবং প্রত্যাশার প্রতীক। বহুদলীয় গণতন্ত্রের চর্চা, পরমত সহিষ্ণুতার লালন, গোঁড়ামিমুক্ত ঋদ্ধ, আলোকিত সমাজ বিনির্মাণ ও প্রগতির অভিযাত্রায় এই প্রতিষ্ঠান সব সময়ই থেকেছে অগ্রণী।



স্বাধীনতার পর তৎকালীন রাষ্ট্রপতি শেখ মুজিবুর রহমানের কাছে সাংবাদিকরা এই জায়গাটি প্রেস ক্লাবের নামে বরাদ্দ চেয়েছিলেন; 

কিন্তু তিনি তখন বলেছিলেন,

 ‘সচিবালয়ের প্রয়োজনে জায়গাটি সাংবাদিকদের দেয়া যাবে না।’ 




প্রেস ক্লাবের জন্য তিনি শিল্পকলা একাডেমীর জায়গার একটি অংশ দিতে রাজি হন। কিন্তু শিল্পকলা একাডেমীর কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এতে বাধা দেন। শেখ মুজিবুর রহমান প্রেস ক্লাবকে জায়গা দিতে সক্ষম হননি। অর্থাৎ ১৯৫৪ সালে প্রতিষ্ঠিত হলেও ১৯৭৫ সাল পর্যন্ত জাতীয় প্রেসক্লাব নিজের স্থায়ী ঠিকানা হয়ে উঠেনি ।

পরবর্তী সময়ে ১৯৭৬ সালে মেজর জেনারেল জিয়াউর রহমান ক্ষমতায় আসার পর সাংবাদিকরা বিষয়টি তাঁর নজরে আনলে তিনি প্রেস ক্লাব পরিদর্শনে আসেন। ১৯৭৮ সালে শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান জাতীয় প্রেস ক্লাবের বর্তমান জায়গা (১.১২ একর) ৩০ বছরের জন্য বন্দোবস্ত দেন। ১৯৭৮ সালে বাংলাদেশ সরকারের আমন্ত্রণে শিয়া ইসমাইলি মুসলমানদের ৪৯তম ইমাম এবং আগা খান উন্নয়ন নেটওয়ার্কের (একেডিএন) প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান প্রিন্স করিম আগা খান বাংলাদেশে আসেন এবং সাংবাদিকদের সাথে এক মতবিনিময় সভায় প্রেসক্লাবের ভবন নির্মাণে অর্থ সাহায্যের ঘোষনা দেন ।





কিন্তু সে কথা জানতে পেরে প্রেসিডেন্ট জিয়া প্রেস ক্লাব কর্র্তৃপক্ষকে ডেকে নিয়ে জানিয়ে দেন, প্রেস ক্লাব জাতীয় প্রতিষ্ঠান। রাষ্ট্রের টাকায় এই জাতীয় প্রতিষ্ঠানের ভবন নির্মিত হবে, বিদেশীদের টাকায় নয়। ফলে প্রিন্স আগা খানের টাকা আর নেয়া হয়নি। ১৯৭৯ সালের ১৭ ফেব্রুয়ারি ক্লাবের এই ভবনের ভিত্তিপ্রস্তুরও স্থাপন করেন প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান এবং নতুন ভবন নির্মাণের জন্য প্রেস ক্লাবকে দেয়া হয় ২৫ লাখ টাকা । তখন প্রেস ক্লাবের সভাপতি ছিলেন দৈনিক ইত্তেফাকের তৎকালীন সম্পাদক এবং বর্তমান পরিবেশ ও বনমন্ত্রী আনোয়ার হোসেন মঞ্জু



 
জাতীয় প্রেস ক্লাব ভবনের ভিত্তি প্রস্তর উদ্বোধন করছেন মুক্তিযোদ্ধা প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান


  • ২০০৪ সালের ২০ অক্টোবর প্রেস ক্লাবের ৫০ বছর অর্থাৎ সুবর্ণজয়ন্তীর অনুষ্ঠানে যোগ দেন তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া।  তিনি ক্লাবের বহুতল মিডিয়া কমপ্লেক্স ভবনের ভিত্তিপ্রস্তুর স্থাপন করেন, যা নির্মাণের অপেক্ষায়। ঐ অনুষ্ঠানে বেগম খালেদা জিয়া প্রেসক্লাবের দখলে থাকা বাকি জায়গা (দশমিক ৮৯ একর) প্রেসক্লাবের নামে বরাদ্ধ দেওয়ার সাথে ক্লাবের সম্পূর্ণ দুই একরেরও বেশি জায়গাটি ৯৯ বছরের জন্য স্থায়ী লীজ করে দেয়ার ঘোষণা দেন। পরবর্তীতে পুরো জায়গাটি ৯৯ বছরের জন্য মাত্র ১ লাখ ১ টাকায় নামমাত্র মূল্যে প্রেস ক্লাবের নামে স্থায়ীভাবে দলিল করে দেন।

     

     

     

এই ভাবেই বাংলাদেশের সাংবাদিকদের মিলনসভা “জাতীয় প্রেস ক্লাব” শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান এবং সাবেক প্রধানমন্ত্রী দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার হাত ধরেই নিজেস্ব স্থায়ী ঠিকানা সমেতে নিজেস্ব ভবন পেয়েছে ।




আজ নিয়তির বরপুত্র অথবা কর্মের সফল পুরুষ জিয়াউর রহমানকে যে আসনে বসিয়েছে তা অনেকেরই মনব্যথার কারণ। তারা এখনও জিয়াউর রহমানকে অথবা তাঁর রেখে যাওয়া আদর্শকে তাদের জন্য সবচেয়ে বড় হুমকি মনে করেন এবং এ কারণে লাখ লাখ মানুষের শ্রদ্ধার্ঘ্য নিবেদনের পর সমাহিত এই মানুষটিকে নিয়ে মাথাব্যথার যেন অন্ত নেই। তাই এখনও তার চরিত্র হননের প্রচেষ্টায় একটি মহলে বিশেষভাবে সক্রিয়; যেমনটি তৎপর ছিল পূর্বেও। সেদিন শহীদ জিয়া যাদের চোখে ছিলেন দেবদূত তুল্য, তারাই স্বার্থের কারণে অকৃতজ্ঞ হয়ে চরিত্র হরণের চেষ্টা চালায় এই মহান নেতার।



তবুও সবার মনে রাখা উচিত, ক্ষমতার জোর দিয়ে কোন মহান ব্যক্তিত্বের চেতানাকে তাঁর ভালোবাসার মানুষগুলোর মন থেকে বিলীন করে দেয়া যায় না। জিয়াউর রহমান আদর্শ হিসেবে শুধু বাংলাদেশে নয়, দুনিয়ার নিপীড়িত জনগণের জন্য একটি প্রেরণার উৎস হয়ে তিনি বেঁচে থাকবেন কেয়ামত পর্যন্ত।

রবিবার, ৯ অক্টোবর, ২০১৬

Bombing for peace is like Fucking for virginity


Tunnel Rat , মাটি খুঁড়ে, মাটির নিচ দিয়ে ছোট্ট ছোট্ট টানেল। কোনটা ২৫ মিটার, কোন টা ১০০ মিটার আবার কোন কোনটা মাইলের পর মাইল। যেখানে বাংলাদেশ থেকে নেপালের দূরত্ব মাত্র ১৮কিলোমিটার।

 

চওড়া দুই ফিট থেকে আড়াই ফিট, গড়।
কোন কোন ক্ষেত্রে ছোট একটি কামান টেনে নিয়ে যাবার মত। 

এই সব ট্যানেল দিয়ে ক্ষিপ্র গতিতে চলাচল করতো ভিয়েতনামিজ গেরিলারা। বিদঘুটে অন্ধকারেও তারা চোখে দেখতে অভ্যস্ত হয়ে গিয়েছিল। গেরিলাদের মূল অস্ত্র ছোট্ট নল কাটা পিস্তল, সালফিউরিক বোমা। কিছু ক্ষেত্রে অবশ্য মেসিনগানের ব্যাবহার হত। ভিয়েতনামিজ গেরিলাদের ট্যানেলে দাঁড়িয়ে হেটে চলার ব্যাবস্থা খুবই কম ছিল। মূলত ক্রলিং করে চলাফেরা করতে হতো ট্যানেল গুলোতে। এই জন্যই এইসব ট্যানেলের যোদ্ধাদের বলা হত Tunnel Rat.




আমেরিকান বাহিনীর কাছে সবচেয়ে ভয়ংকরী আতংকের নাম ছিল ট্যানেল র‍্যাট আমেরিকানরাও ভিয়েতনামিজ গেরিলাদের অনুকরণে নিজস্ব ট্যানেল বাহিনী তৈরি করলেও তারা সুবিধা করে উঠতে পারেনি। 





ফাইনালি ভিয়েতনামি ট্যানেল র‍্যাট দের নির্মূল করতে আমেরিকানরা ট্যানেলের মুখে আগুন ধরিয়ে দিতো।
কোন ট্যানেলে আমেরিকানরা যখন অভিযানে নামতো, গেরিলাদের ইন্দ্রজালের মত বিছানো ট্যানেলে আমেরিকান সৈন্যরা নিজেরাই কুপোকাত হয়ে যেতো।

এমন বেশ কিছুবার হয়েছে যে ৫০ জন সৈন্যের আমেরিকান ট্রুপস, গেরিলা দমনে,ট্যানালে নেমে আর কোন দিন ফিরে আসতে পারেনি। লাশ পর্যন্ত উদ্ধার হয়নি।


অথছ আমেরিকান বাহিনী ট্যানেলে নামতো পর্যাপ্ত সার্চ লাইট, হালকা ও সহজে বহন যোগ্য রাইফেল, গরম প্রতিরোধী আইস জ্যাকেট, সহ সকল ধরনের নিরাপত্যা যন্ত্রপাতি সহকারে।


এই সব, এক একটা ট্যানেলে গেরিলারা খুব সামান্যতম খাদ্য নিয়ে মাসের পর মাস কাটিয়ে দিতে পারতো।
ভিয়েতনাম যুদ্ধে, অসংখ্য যুদ্ধ ক্ষেত্র, যেখানে আমেরিকান সৈন্যদের বিজয় প্রায় সুনিশ্চিত, দেখা যেত হটাৎ ভূমি ফুঁড়ে, সেখানে শত্রু ঘাঁটির সবচেয়ে নিরাপদ স্থান দিয়ে উঠে এসে আমেরিকাদের পিছন থেকে ব্রাস ফায়ারে নির্বংশ করে দিয়ে গেছে, এক মূহুর্তে।



যুদ্ধ বিজ্ঞানের ইতিহাসে ভিয়েতনাম যুদ্ধের ট্যানেল ফাইট, একটি অবিস্মরণীয় পাঠ। মূলত ট্যানেল র‍্যাট গেরিলাদের চোয়ালবদ্ধ লড়ায়ের মানসিকতার কাছে শোচনীয়, লজ্জাজনক পলায়নপর পরাজয় মেনে নিতে বাধ্য হয়েছিল পরাশক্তি আমেরিকা।




পৃথিবীর সকল সচেতন মানুষের বিবেকের দ্বার উন্মুক্ত হয়ে পরেছিল, খোদ আমেরিকান জনগণ যুদ্ধের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়ে আমেরিকান সৈন্যদের জ্যান্ত ফিরিয়ে আনার জন্য উত্তেজিত হয়ে ওঠে। কিংবদন্তী বক্সার মোহাম্মদ আলী, ভিয়েতনামে যুদ্ধ করতে  যেতে অস্বীকৃতি জানিয়ে, নিজের পদক ফেলে দেন। নোয়াম চামিস্কি প্রতিবাদী হয়ে ওঠেন। জন লেনেন, ডন ডেনভার , জিম ম্যারিসন , বব দিলান প্রত্যেকে নিজের স্থানে দাঁড়িয়ে যুদ্ধ বিরোধী ক্ষাপাটে ভূমিকা নেন। সমগ্র বিশ্বের সমাজ ও রাষ্ট্র ব্যাবস্থাকে প্রশ্নের মুখে টালমাটাল করে দেয় মানবতাবাদী মানুষের দল। 


এই সকল ট্যানেল র‍্যাটদের হ্যন্ডেল করার কাজটি ছিল অনেক বিপদজনক। কারন একবার ট্যানেলে টার্গেট নিয়ে নেমে গেলে হাই কমান্ডের আদেশ নির্দেশ সেখানে মূখ্য থাকেনা। তাছাড়া দীর্ঘ সময় অন্ধকারে মাটির নিচে যুদ্ধ করার ফলে এদের ভেতর সাইকোলজিক্যাল ডিজঅর্ডার দেখা দিত, মানুষের সাথে মিসতে পারতো না, হত্যা ব্যাতীত এরা স্বাভাবিক থাকতে পারতো না।
সুসজ্জিত আমেরিকান ট্যানেল ফাইটার






তাই এদেরকে যুদ্ধ শেষে বা নিয়মিত বিরতি দিয়ে অবসর পালনে, স্বাভাবিক সমাজে পাঠানো সমস্যা হয়ে উঠেছিল। যেহেতু হত্যা বা রক্ত এদের কাছে নেশাদায়ক হয়ে উঠেছিল।



কাঠামোগত কারনেই, যুদ্ধ কৌশল প্রদর্শনের খুব বেশি সুযোগ থাকেনা ট্যানেলে। অন্ধকারে দেখতে পাওয়া, সরিসৃপের মত বুকে ভড় দিয়ে নিঃশব্দে চলাচল, প্রখর শ্রবণ শক্তি এই যুদ্ধের সবচেয়ে বড় যোগ্যতা। সাথে লাগবে শত্রু টের পাবার আগেই, নিশব্দে ফায়ার অন করার ক্ষিপ্রতা।





ভিয়েতনামিজ ট্যানেল র‍্যাট গেরিলারা প্রায়শ ট্যানেলে আক্রমণাত্মক শত্রুর রাস্তার পিছন দিক দিয়ে এসে, টানেল মুখে আগুন ধরিয়ে দিয়ে সরে পরতো পারতো।



পরিস্থিতি খুব জটিল আকার ধারণ করলে ২ ফুট ট্যানেলের মুখ দিয়ে বাহির হয়ে এসে জনতার সাথে মিশে যেত।
এখনকার মিডল ইস্ট যুদ্ধে মাঝেমধ্যে আমরা যে সুরঙ্গ খুঁজে পাওয়ার কথা শুনি তা কিন্তু এই ধরনের ট্যানেল ফাইটের একটা অংশ।

আমেরিকার হিপ্পিরা জাহাজ পর্যন্ত হাইজ্যাক করেছিল , যুদ্ধের প্রতিবাদে







আমার ক্ষুদ্র গণ্ডিতে কোনভাবেই প্রকাশ করতে পারবো না যে এই সামান্য ট্যানেল র‍্যাটরা কি বিপুল ঐশ্বর্য ঢেলে দিয়েছিল মুক্তিকামী মানুষের স্বাধিকার, স্বাধীনতা রক্ষার যুদ্ধে। 

সমগ্র দুনিয়ার শ্রেষ্ঠতম সামরিক শক্তির সে এক অসম্ভব পরাজয়ের লজ্জা,ব্যাক উইথ ব্যাগ এন্ড ব্যাগেজেস। মান জলাঞ্জলি আগেই গিয়েছে, পৈতৃক জানটা নিয়ে কোন ক্রমে ভিয়েতনাম পার হওয়ার আনন্দই যেন আমেরিকান সৈনিকদের কাছে যুদ্ধ বিজয়ের চেয়েও  অধিকতর বিজয় হয়ে উঠেছিল।


ভিয়েতনাম জাতির শ্রেষ্ঠতম সন্তান তাঁদের ট্যানেল র‍্যাট ফাইটাররা।


বুধবার, ২৮ সেপ্টেম্বর, ২০১৬

এয়ারবেজ ক্যু ও জেনারেল জিয়ার বক্তব্য

২৭ সেপ্টেম্বর ১৯৭৭ থেকে ৩ অক্টোবর পর্যন্ত জাপানিজ বিমান হাইজ্যাক করে ঢাকাতে নিয়ে আসা হয়। এয়ার চিফ থেকে শুরু করে অধিকাংশ সিনিয়র এয়ারফোর্স অফিসাররা যখন কুর্মিটোলা এয়ারপোর্টে বসে মুক্তিপণে প্রদানের মাধ্যমে যাত্রীদের জীবন রক্ষাতে নগদ ৬০ কোটি টাকা যখন টার্মিমানে প্রবেশ করে ঠিক তখনি ক্যু-কারীরা এয়ারপোর্টে এসে তাঁদের হত্যা ও তাণ্ডব শুরু করে। এয়ারচিফ ছাড়া অন্য সকল অফিসার নিহত হন এবং জমা করা ৬০ কোটি টাকা গায়েব হয়ে যায়।




এয়ার পোর্টে প্রায় ১২ জন অফিসারকে হত্যা করে ক্যু-কারিরা। এই সকল অস্ত্রধারীদের দমন করতে যেয়ে আরো প্রায় ৮০-৯০ নিহত হয়। পরবর্তিতে যাঁদের কোর্ট মার্শাল করা হয় , স্বাভাবিক ভাবে মৃত্যুদণ্ড তাঁদের প্রাপ্য ছিল। সামরিক আদালতে বিচারের ইতিহাসে এই কোর্ট মার্শাল অন্যতম সাহসী ও উচিৎ বিচারের উদাহরণ হয়েই থাকবে। জেঃ হামিদের বই "আমার দেখা তিনটি সেনা অভ্যুত্থান" এ এই বিচারের বিস্তারিত নোট আছে।




যারা ঘটনাটি পড়ছেন তাঁরা নিশ্চিয় বুঝতে পারছেন , ক্যু কারীদের অন্তত একটা অংশের উদ্দেশ্য ছিল জাপানিজ বিমানের ১৩০ জন পণবন্দীর জন্য সংগ্রহীত ৬০ কোটি টাকা লোপাট করে দেওয়া।



নিন্দুকেরা বিশেষত আওয়ামী ও ইন্ডিয়া ঘরনার পোষ্য বুদ্ধিজীবীরা দাবী করে এই ক্যুতে নাকি ১৪০০ জনকে ফাঁসি দেওয়া হয়েছিল, যা এক্কেবারে মিথ্যা। সেই সময়ে বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর সদস্য সংখ্যা কত ছিল তা নিন্দুকদের জিজ্ঞাস করা হলে নিশ্চিত ভাবেই তাঁদের মুখ বিকৃত হয়ে উঠবে।



এই ক্যু যা সাধারণ যাত্রী পরিবহনের এয়ারপোর্ট পর্যন্ত পৌঁছে গিয়েছিল, তা নিশ্চয় কোন অন্তরালে ঘটে যাওয়া গোপন ব্যাপার ছিল না। তাই প্রকাশ্য এই ক্যাু এর ফলে জনমনে তীব্র আতঙ্ক তৈরী হয়েছিল। প্রধান সামরিক আইন প্রশাসক ও প্রেসিডেন্ট জেঃ জিয়া ২ অক্টোবর রেডিও বাংলাদেশে একটি গুরুত্বপূর্ন ভাষণ প্রদান করেন।




ইতিহাসের সামরিক ও সিভিল-মিলিটারি দৃষ্টিকোণ থেকে জেঃ জিয়াউর রহমানের বেতার ভাষণটি দালিলিক ভাবে অত্যান্ত মূল্যবান। কোন ধরনের কাটাছেড়া এড়াতে ও বিশ্বাসযোগ্যতা ধরে রাখার উদ্দেশ্যে চার (৪) টি JPG Image এর মাধ্যমে পূর্নাংগ ভাষণটি তুলে ধরলাম।






এখানে আরো উল্লেখ করতে চাই বিমান বাহিনীর এই ক্যু টিকে বুঝতে হলে ২৭ সেপ্টেম্বর- থেকে ৩ অক্টবর পর্যন্ত চলা ১০৫ ঘন্টার বিমান ছিনতাই কাহিনীটির নাড়ী-নক্ষত্র ভালো ভাবে বুঝতে হবে।
P1, P2, P3, P4 নাম দিয়ে চারটি ছবিতে সিরিয়াল মেন্টেন করে ছবিতে জিয়ার বক্তব্য পড়ে নিন ।


রবিবার, ১৮ সেপ্টেম্বর, ২০১৬

পিন্ডি থেকে দিল্লি- অবিরাম লুণ্ঠন ও ৭১

মুক্তিযুদ্ধে লুটপাট, অপ্রিয় সালতামামী

~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~

বিবরণ ১

~~~~~~
একজন জেনারেলের নীরব সাক্ষ্য ও স্বাধীনতার প্রথম দশক। লেখক মেজর জেনারেল মইনুল হোসেন চৌধুরী (অব) বীরবিক্রম
১৭ ডিসেম্বর ১৯৭১

*
সকালেই স্টেডিয়াম থেকে দেখতে পাই শহরে প্রচুর লোক সমাগম। তাদের অনেকেই অস্ত্রশস্ত্রে সজ্জিত এবং গাড়ি করে ও পায়ে হেঁটে শহরময় ঘুরে বেড়াচ্ছে। এদের দেখে মনে হয়নি গত ৯ মাসে তারা বৃষ্টিতে ভিজেছে বা রোদে ঘেমেছে। তাদের বেশভূষা, চলাচল ও আচারণে যুদ্ধের কোন ছাপ ছিল না।

*
দুপুরবেলা জিন্নাহ এভিনিউ (বংগ বন্ধু এভিনিউ) এ লুটপাট আরাম্ভ হয়। আমি ও আমার সৈনিকরা, স্টেডিয়াম থেকে তা প্রত্যক্ষ করলাম। কিন্তু ঢাকা শহরের নিয়ন্ত্রণ ভারতীয় বাহিনীর হাতে থাকাতে আমাদের করনীয় ছিল না। পরে জানতে পারি নিউমার্কেট ও অন্যান্য কিছু গূরুত্বপূর্ন এলাকাতেও ঐ দিন লুটতরাজ চলে। এই লুটতরাজের জন্য অন্যদের সাথে ভারতীয় বাহিনীকেও দোষারোপ করা হয়।

*
ঢাকা স্টেডিয়ামে পৌঁছে দেখি কেন্দ্রীয় ব্যাংকের দুজন স্টাফ আমার জন্য অপেক্ষারত। তারা ব্যাংক লুটের আশংকা ও নিরাপত্যার অভাব বোধ করছিলেন। আমি যেন ব্যাংকের পর্যাপ্ত নিরাপত্যার ব্যাবস্থা করি, সেই অনুরোধ নিয়ে এসেছিলেন তারা।

* অর্ডিন্যান্স ডিপোতে লক্ষ করি, সেখানকার রসদ সামগ্রী ও অন্যান্য স্টক ক্রমাগত কমে যাচ্ছে।

উল্লেখ্য ১৯৭৭ সালে জুলাই মাসে ইংল্যান্ড থেকে প্রকাশিত IDS বুলেটিন থেকে জানা যায় ১৯৭১ সালে পাকিস্তান বাহিনী আত্মমর্পনের পরে ভারতীয় বাহিনী পাকিস্তানের অন্তত চারটি ডিভিশনের অস্ত্র, গোলাবারুদ এবং অন্যান্য সরঞ্জাম ও যানবাহন ভারতে নিয়ে যায়। পরে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী প্রতিবাদ করলে টোকেন হিসাবে কিছু পুরানো অস্ত্র ফেরত দেওয়া হয়।

*
১৯৭২ সালের প্রথম দিকে,ঢাকা সেনানিবাসে গেটে একটি বেসামরিক ট্রাক কে আটক করা হয়। এই ট্রাকটি ভারতীয় বহরের সাথে ভারত যাচ্ছিল।


ট্রাক থেকে বাংলাদেশ থেকে লুটে নেওয়া সামগ্রী উদ্ধার করা হয়।
 
উল্লেখ্য উক্ত ট্রাকটি বেসামরিক ছিল বিধায়, তল্লাস নেওয়া যায়। স্বাভাবিক কারনেই ভারতীয় সামরিক ট্রাক গুলোতে তল্লাশি নেওয়ার সুযোগ ছিল না


*এই ট্রাকের মালামাল ছিল ইন্ডিয়াব ব্রিগেডিয়ার মিশ্র'র। এই অভিযোগে আসামের কাছার জেলার সেনানিবাসে তার ফিল্ড জেনারেল কোর্ট মার্শাল হয়।









 
*তবে উল্লেখ না করলে অন্যায় হবে যে এই ব্রিগেডিয়ার মিশ্র হচ্ছেন সেই গর্বিত সৈনিক যিনি মিত্রবাহিনীর পক্ষে প্রথম ঢাকাতে পা রাখেন ।







বিবরণ – ২ একজন স্বদেশী

~~~~~~~~~~~~~~~~~
বাংলাদেশে ভারতীয় আরদালীদের লুন্ঠনের ব্যাপারে আজিজুল করিম Why such anti Indian feelings among Bangladeshi? শিরোনামে এক নিবন্ধে ১৯৭৪ সালের ডিসেম্বরে প্রকাশিত Magazine ‘অনিক’-এর রিপোর্টের উদ্ধৃতি থেকে জানাচ্ছেন 


“ভারতীয় সৈন্যদের লুণ্ঠিত মালামালের মূল্য ছিল প্রায় ১শ’ কোটি মার্কিন ডলার।”




আজিজুল করিম আরো লেখেন :
“শুধু তাই নয়, বাংলাদেশের শত শত মিল কারখানার যন্ত্রপাতি, ব্যাংক, স্কুল, কলেজ, বিশ্ববিদ্যাল, ঘর-বাড়ির গৃহস্থালী জিনিসপত্র পর্যন্ত বাদ যায়নি লোভী ভারতীয় লুটেরাদের হাত থেকে। এসব সম্পদ ও দ্রব্যাদির তখনকার মূল্য ছিলো আনুমানিক ৯০ হাজার কোটি টাকা। শৌচাগারের বদনাগুলোও বাদ দেয়নি ভারতীয় লুটেরার দল। এছাড়াও যুদ্ধকালীন ও যুদ্ধ পরবর্তীকালীন সময়ে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থার বিপুল পরিমাণ অর্থ ও অন্যান্য সাহায্যও লুট করে নিয়ে যায়। সত্য কথা বলতে গেলে কিসিঞ্জার এই সব জানার পরেই উপহাস করে Bottomless basket বলেছিলেন।“


“১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের শেষ অংশে ৩রা ডিসেম্বর ভারতীয় আরদালী বাহিনী বাংলাদেশে প্রবেশ করে। তারা ১৬ ডিসেম্বরের পর বাংলাদেশ জুড়ে নজির বিহীন লুটপাট চালিয়েছিলো। ৯৩ হাজার পাকিস্তানী সৈন্যদের ফেলে যাওয়া বিপুল পরিমাণ অস্ত্রশস্ত্র ও গোলাবারুদ- যার মূল্য ওই সময় ছিলো ২৭ হাজার কোটি টাকা, তার সবই ভারতীয় আরদালী বাহিনী ১৫টি বিশাল জাহাজে করে বাংলাদেশ থেকে লুট করে নিয়ে যায়। অথচ সেই অস্ত্রের মালিকানা ছিলো পুরোপুরি বাংলাদেশের”





বিবরণ ৩ একজন প্রত্যক্ষদর্শী

~~~~~~~~~~~~~~~~~~
Bangladesh Past and present গ্রন্থে সালাহউদ্দিন আহমদ লেখেন ইন্ডিয়ান আরদালীদের লুণ্ঠন নিয়ে :



“যুদ্ধ শেষ হয়ে যাবার পর ভারতীয় সৈন্যরা পার্বত্য চট্টগ্রামে অধিক সময় অবস্থান করতে থাকায় ভারত সমালোচিত হতে থাকে। অভিযোগ করা হয় যে, ভারতীয় সেনাবাহিনী ট্রাক বহরে করে বাংলাদেশ থেকে বিপুল পরিমাণ অস্ত্রশস্ত্র ও সাজসরঞ্জাম সরিয়ে নিয়ে যায়। ফলে ভারত বাংলাদেশকে আত্মমর্যাদাশালী রাষ্ট্রের পরিবর্তে একটি তাঁবেদার রাষ্ট্রে পরিণত করতে চায় এমন একটি আশঙ্কা থেকে বাংলাদেশের প্রতি ভারতীয় নীতির বিরুদ্ধে উত্তেজনা ও সংশয় সৃষ্টি হয়।”






Bangladesh Past and present এ সালাহউদ্দিন আহমদ আরো লেখেন :

“যুদ্ধ শেষ হয়ে যাবার পর ভারতীয় সৈন্যরা পার্বত্য চট্টগ্রামে অধিক সময় অবস্থান করতে থাকায় ভারত সমালোচিত হতে থাকে। অভিযোগ করা হয় যে, ভারতীয় সেনাবাহিনী ট্রাক বহরে করে বাংলাদেশ থেকে বিপুল পরিমাণ অস্ত্রশস্ত্র ও সাজসরঞ্জাম সরিয়ে নিয়ে যায়। ফলে ভারত বাংলাদেশকে আত্মমর্যাদাশালী রাষ্ট্রের পরিবর্তে একটি তাঁবেদার রাষ্ট্রে পরিণত করতে চায় এমন একটি আশঙ্কা থেকে বাংলাদেশের প্রতি ভারতীয় নীতির বিরুদ্ধে উত্তেজনা ও সংশয় সৃষ্টি হয়।”



 

বিবরণ ৪ একজন মুক্তিযোদ্ধা

~~~~~~~~~~~~~~~~~~
Raw & Bangladesh গ্রন্থে মুক্তিযোদ্ধা জয়নাল আবেদিন লিখেছেন :



“পাকিস্তানি সৈন্যদের আত্মসমর্পণের পর ভারতীয় সৈন্যদের ব্যাপক লুটতরাজ দেখতে পেয়ে ভারতের প্রকৃত চেহারা আমার কাছে নগ্নভাবে ফুটে উঠে। ভারতীয় সৈন্যরা যা কিছু দেখতে পেতো তার উপর হুমড়ি খেয়ে পড়তো এবং সেগুলো ভারতে বহন করে নিয়ে যেতো। লুটতরাজ সহজতর করার জন্য তারা আমাদের শহর, শিল্প স্থাপনা, বন্দর, সেনানিবাস, বাণিজ্যিক কেন্দ্র এমনকি আবাসিক এলাকায় কারফিউ জারি করে। তারা সিলিং ফ্যান থেকে শুরু করে সামরিক সাজসরঞ্জাম, তৈজষপত্র ও পানির ট্যাপ পর্যন্ত উঠিয়ে নিয়ে যায়। লুণ্ঠিত মালামাল ভারতে পরিবহনের জন্য হাজার হাজার সামরিক যান ব্যবহার করা হয়।”





তিনি আরো উল্লেখ করেন
“বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের মধ্য দিয়ে ভারত অর্থনৈতিক, সামরিক, কৌশলগত ও আন্তর্জাতিকভাবে ব্যাপক লাভবান হয়েছে। এ কারণে দেশটি তার নিজের স্বার্থে আমাদের মুক্তিযুদ্ধে সম্পৃক্ত হয়, আমাদের স্বার্থে নয়।”





এখানে শুধু মাত্র বহুল আলোচিত বই, পুস্তক, ম্যাগাজিন যেখানে ইন্ডিয়ান লুটতন্ত্র নিয়ে লেখা হয়েছে তাঁর সামান্য নমুনা তুলে ধরলাম। অনলাইনে একটু চেষ্টা করলেই সফট কপি পেয়ে যাবেন।








পরিশেষে বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও স্বাধীনতা যুদ্ধকে যারা শুধুই প্রতিবেশী দেশের করুণা ধারা মনে করেন তাঁদের চরণে তাঁদেরই প্রিয় কবি রবিন্দ্রনাথ ঠাকুরের দু চরণ নিবেদন করলুম, রবিদা আসলে এই শ্রেণীর চরিত্র চিন্তা ও মজ্জাগত ডিএনএ এক্কেবারে হুবুহ অনুধাবন করতে পেরেছিলেন , তাই লিখেছিলেন

সাত কোটি সন্তানের হে মুগ্ধ জননী
রেখেছ বাঙালি করে, মানুষ করনি






সহায়ক গ্রন্থ ও ব্যাক্তি
১) Raw & Bangladesh গ্রন্থ Written by Freedom Fighter Joinal Abedin
2) Shan shah – Activist and Blogger
3) Bangladesh Past and Present written by Salauddin Ahammed
4)Indian Magazine "অনিক" এ "Why such anti Indian feelings among Bangladeshi?" নামক প্রবন্ধ Written by Azizul Karim

শুক্রবার, ১৬ সেপ্টেম্বর, ২০১৬

প্রভাষ আমিনের বক্তব্য, আমার ব্যাখ্যা

গতকাল বিশিষ্ট সাংবাদিক ও উপস্থাপক প্রভাষ আমিন ভাই এর একটি পোস্ট নিশ্চয় অনেকের নজর কেড়েছে। পরিবর্তন নামক একটি ওয়েব পোর্টালে লেখাটি স্থান পেয়েছে। পোস্টটিতে উনি উনার মত করে শহীদ জিয়াকে নিয়ে একটি নির্মোহ বিশ্লেষণ দাঁড় করাবার কথা বলেছেন।

 প্রভাষ আমিন - সাংবাদিক



আজকে প্রভাষ ভাই এর পোস্ট এর বিপরীতে আমাদের পিনাকী’দা একটি গুরুত্বপূর্ন কাউন্টার পোস্ট দিয়েছেন এবং কিছু প্রশ্ন বা জিজ্ঞাসা উত্থাপন করেছেন। যার ভেতর একটা গুরুত্ব পূর্ন প্রশ্ন হচ্ছে নিরাবেগ বিশ্লেষণটি আমরা কেন আগে নিজেরাই করে রাখি নি। 

সত্যি কথা বলতে কি এই প্রশ্নের সামনে মাথা নিচু না করে উপাই থাকেনা। আশা করি পিনাকী’দা যে সতর্ক বার্তা দিয়েছেন তা থেকে আমরা কিছু শিখবো, এবং আমাদের কাজটি আওয়ামীলীগ করে দেবার আগেই আমরা করে ফেলবো।

পিনাকী ভট্টাচার্য খ্যাতিমান এ্যক্টিভিস্ট ও চিকিৎসক।


আধুনিক বিশ্বে বলা হয় আগামী কালের কাজটি আজকে যদি সেরে রাখ তো ভালো , তবে সবচেয়ে ভালো আগামী কালের কাজটা যদি গতকাল সেরে রাখতে।

প্রভাষ ভাই যায় লিখুন না কেন , উনার প্রতি এই শ্রদ্ধা রাখতেই হচ্ছে যে অন্য অনেক আওয়ামিলীগের প্রতি আস্থাভাজনদের মত করে ব্যাথা হলেই সাপোজিটর ইউজ করেন না । অর্থাৎ ভিন্ন মত আসলেই তাঁকে ব্লক করে দেন না। ভিন্ন মতের কথা উনি মনোযোগ দিয়েই শোনেন।

জিয়াউর রহমানকে নিয়ে অল্প কিছু পজেটিভ ব্যাতীত অধিকাংশ নেগেটিভ বিষয় চলে এসেছে। নেগেটিভ মতামত আসাতে অবাক হবার কিছু নেই, যেহেতু শহীদ জিয়ার বিপরীত শিবিরে উনার অবস্থান।

যায় হোক , এই বিশ্লেষণ না বাড়িয়ে বরং প্রভাষ,দা কে একটা আন্তরিক ধন্যবাদ দিতে চাই , যেহেতু উনি সাবলীল ভাবেই বলেছেন যে “জিয়াকে চাইলেই ইতিহাস থেকে মুছে ফেলা যাবে না” আমি জানি আপনার নিজের অনেক সহকর্মী, সহযোদ্ধারাও আপনার এই পদক্ষেপকে সহজ ভাবে নিতে পারেনি।

এবার সরাসরি সেই সব নেগেটিভ বিষয় গুলোতে চলে যাচ্ছি। আমি আমার যুক্তি সমূহ দিচ্ছি। মানা না মানা আপনাদের ব্যাপার।

১) শহীদ জিয়াকে সুযোগ সন্ধানী বলার সাথে সাথে ভাগ্যের সাঙ্ঘাতিক সহায়তা প্রাপ্ত ব্যাক্তি বলা হয়েছে।

সুযোগ তো তাঁর সামনেই আসে , যে ধৌর্য ধারণ করতে পরে। সুযোগের ব্যাবহারে যদি দেশেকে , সমাজকে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি থেকে উদ্ধার করে স্টেবল করা যায় তো অসুবিধা কোথায়? হ্যাঁ সুযোগ তিনি পেয়েছিলেন তবে সুযোগ সন্ধান করেন নি। সিপাহী ও নিপীড়িত মানুষেরা তাঁকে রীতিমত মুক্ত করে আহবান জানিয়েছিল , ক্ষমতার লাগাম ধরার জন্য।


জিয়াকে ব্লাকমেল করার চেষ্টা ব্যার্থ হয় তাহেরের।


দ্বিতীয়ত, ভাগ্য দেবীর সাহায়তার কথা এসেছে ঘুরেফিরে। আমি বলি কি জী ভাগ্য একটি বিশাল নিয়ামক ছিল শহীদ জিয়ার জীবনের উত্থানে। তবে কি জানেন Fortune favors the brave. ভাগ্যকে তাঁর শ্রেষ্ঠ পুরুষদের জন্য স্বজতনে রেখে দেন বিধাতা।

২) প্রভাষ’দার অভিযোগ ১৫ আগস্টের নৃশংসতার খবর শোনার পর শেভ করতে থাকা জিয়ার প্রথম প্রতিক্রিয়া ছিল  'প্রেসিডেন্ট কিলড। সো হোয়াট। ভাইস প্রেসিডেন্ট ইজ দেয়ার। আপহোল্ড দ্য কনস্টিটিউশন।'

প্রথমেই বুঝতে হবে একজন অফিসারের দায়িত্ব কি ? কনস্টিটিউশন আপ হোল্ড রাখতে চাওয়াটি একজন সৈনিকের পেশাদারিত্ব প্রকাশ করে। তিনি ভাইস প্রেসিডেন্টকে স্থলাভিষিক্ত করার কথা বলেছেন। জে শফিউল্লাহর মত বিভ্রান্ত জিয়া হন নি। প্রেসিডেন্টকে দেওয়াল টপকে পালাতে বলার মত হতবিহব্বল জিয়া হন নি। যা একই সাথে প্রমাণ করে জে শফিউল্লাকে সেনা প্রধান নির্বাচন কতটা অপরিপক্ক সিদ্ধান্ত ছিল।

শেষ ভাইস প্রেসিডেন্ট ছিলেন সৈয়দ নজরুল ইসলাম, যাকে পরবর্তিতে জেলে হত্যা করা হয়, এই জেল হত্যার সময় দেশের চাবি ছিল খালেদ মোশার্ফের হাতে। অতএব কনস্টিটিউসন আপহোল্ড রাখতে বলার মাধ্যমে জিয়াই সবচেয়ে সুস্থ ও স্বাভাবিক উত্তর দিয়েছিলেন। জিয়ার কথা মত ভাইস প্রেসিডেন্ট যদি তখন শেখ সাহেবের স্থলাভিষিক্ত হতেন, তাহলে কিন্তু সম্পূর্ণ চেন অফ কমান্ড ফিরে আসতো! চেন অব কমান্ড ফিরিয়ে যে আনতে চাচ্ছিল সেই ব্যক্তি নিশ্চয় ক্ষমতা পাবার স্বার্থে ও সুযোগ সন্ধান করতে যেয়ে তা বলেন নি।





ভাইস প্রেসিডেন্টকে নিহত প্রেসিডেন্টের স্থলাভিষিক্ত করার সিদ্ধান্তের যারা বিরধীতা করছেন তাঁরা কি ঐ ব্যক্তিরাই যারা ৭১ এ মুজিবনগর সরকারের বিরোধীতা করেছিল ?

তখন কনস্টিটিউশন আপহোল্ড থাকলে অভ্যুথানকারীদের উদ্দেশ্য কার্যত ব্যার্থ হত, মোস্তাক বঙ্গ ভবনে আসতে পারতো না । তবে আমারা কি বলতে পারিনা যে বা যারা , ভাইস প্রেসিডেন্টের বদলে মোস্তাককে ক্ষমতাতে এনেছিল তাঁরাই জিয়ার বক্তব্য 'প্রেসিডেন্ট কিলড। সো হোয়াট। ভাইস প্রেসিডেন্ট ইজ দেয়ার। আপহোল্ড দ্য কনস্টিটিউশন' এর ছিদ্র অন্বেষণ করছেন ?







৩)  তাহের প্রসংগে আমার উত্তর তাহের জিয়াকে সেভ করেছিলেন এই কথার কিয়দাংশ সত্য। তাহের জিয়াকে দিয়ে বিপ্লব সফল করানোর লোভেই এই কাজ টা করেছিলেন যা চূড়ান্ত ব্লাক মেইল ব্যাতীত আর কি হতে পারে? তাছাড়া তাহের ও জাসদের জন্য অজস্র অফিসার ও আওয়ামীলীগ নেতা খুন হয়েছিল। তাহেরের জাসদের হাতেই বঙ্গবন্ধু হত্যার প্রেক্ষাপট তৈরী হয়েছিল। যে কোন বিচারেই তাহেরের ফাঁসিই হওয়া উচিৎ ছিল। জিয়া যে ব্যক্তিগত সম্পর্কের উর্ধে উঠে তাহের কে ফাঁসির দড়িতে লটকে দিতে পেরেছিলেন , স্বর্নাক্ষরে তা আওয়ামিলীগের লিখে রাখা উচিৎ। ওয়ান মোর পয়েন্ট , তাহেরের ট্রাইব্যুনালের প্রধানের নাম হুসাইন মোহাম্মদ এরশাদ, যিনি বর্তমান সরকারের তুরুপের তাশ , অন্ধের লাঠি।




৪)  প্রভাষ দা, বিভিন্ন ক্যু কাউন্টার ক্যুতে যাদের ফাঁসি দেওয়া হয়েছিল, সামরিক আইনে সেটা খুব স্বাভাবিক। আর্মড ফোর্সে ক্যু করার শাস্তি রহিত করার কোন সুযোগ নেই। আওয়ামীলীগ যদি আদতে এই অভিযোগ তুলতেই চাই সেক্ষেত্রে তাঁদের প্রকাশ্যেই বলা উচিৎ যে ক্যু বা অভ্যুত্থানের কারণে ফাঁসি দেওয়ার সামরিক আইন বাতিল করতে হবে।

৫) প্রভাষ ভাই, রাজাকার পূনর্বাসনের যে কথাটা বলেছেন তার ব্যাখ্যা হচ্ছে নয়া বাংলাদেশ যখন ভারত রাশিয়া বেল্টে আটকে গেছে, মিছিলে স্লোগান উঠছে রুশ ভারতের দালালেরা ,হুশিয়ার সাবধান ,কিসিঞ্জার যখন Bottom less Basket  উপাধী দিচ্ছেন, ২৫ বছরের গোলামী চুক্তিতে আন্তর্জাতিক ভারসাম্য যখন বেসামাল  তখন মিডল ইস্টের সাথে সম্পর্ক ডেভলপ করার স্বার্থেই শাহ আজিজকে মন্ত্রী বানানো হয়, সুনির্দিষ্ট উদ্দেশ্য ও লক্ষ নিয়ে।



এর আগে শাহ আজীজ কে নিয়ে খোদ বংগবন্ধু OIC সম্মেলনে গিয়েছিলেন, ভুট্টর সাথে কুলাকুলি করেছেন, ৫২ ভাষা আন্দালনে শহীদ আসাদের হত্যাকারী পুলিশ অফিসার কে উচ্চ পদায়ন করেছিলেন।(তার নামটা এই মূহুর্তে মিস করছি) শেখ হাসিনাও কিন্তু রাজাকারের গাড়িতে পতাকা তুলেছেন, এবং সেটাই প্রথম এই দেশে। মন্ত্রী নূরুল ইসলাম তার নাম।

প্রান গ্রুপের প্রয়াত জেনারেল আমজাদ যে সরাসরি পাকিস্থানের পক্ষে যুদ্ধ করে যুদ্ধবন্দী হয়েছিল তাকে বাংলাদেশ আর্মিতে স্থান করে দিয়েছিলো তখনকার আওয়ামীলীগ সরকার। কাজেই এক চোখে না তাকানোই উত্তম।

৬) গোলাম আজমকে আমিও অপছন্দ করি, তাকে দেশে আসতে দেওয়া হয়েছিল তার মায়ের অসুস্থতার কারনে। তবে জিয়া তাকে দেশে রেখেছিলেন বলেই কিন্তু আজ তার বিচার করা সম্ভব হয়েছে, শাস্তি দেওয়া সম্ভব হয়েছে। বিদেশে পালিয়ে থাকা শেখ সাহেবের অনেক খুনিকে কিন্তু এখনো দেশে এনে শাস্তি দেওয়া সম্ভব হয় নি।

৭) জামতকে রাজনৈতিক অধিকার দেবার ব্যাপারে যে অভিযোগ তা ধোপে টেকেনা। বহুদলীয় গনতন্ত্র প্রবর্তনের সুযোগেই তারা রাজনীতির সুযোগ পেয়েছিল। যেমন শেখ সাহেবের হাতে নিষিদ্ধ হওয়া আওয়ামীলীগ নিজেও রাজনীতির সুযোগ পেয়েছিল তখন। আজ পর্যন্ত কিন্তু আওয়ামীলীগ সরকার জামাতকে রাজনৈতিক ভাবে নিষিদ্ধ করার পথে হাটে নি।

আর একটা পয়েন্ট এই বিষয়ে বলতে চাই বহু দলীয় গনতন্ত্রের সুবাদে রাজনীতি করার সুযোগ পেলেও তাঁদের রেজিস্ট্রেশন দেওয়া হয় নি জিয়ার আমলে। শুধু তাই নয় ভিন্ন রাজনৈতিক দল হিসাবে বাংলাদেশ আওয়ামীলীগ-ই উদ্দ্যগি হয়ে প্রথম জামাত-ই-ইসলামের সাথে রাজনৈতিক গাঁটছড়া বাধে ১৯৮৬ সালে, নির্বাচনের সময়

এরশাদ সরকার জামাতকে রেজিস্ট্রেশন দেয় ভোট করার জন্য, সেই ভোটে জামাত ও লীগ জাতিয় আন্দালনের পিঠে পিছন থেকে ছুরি বসিয়ে এরশাদকে বৈধতা দেয়।

৮) জিয়া বাংলাদেশের প্রথম প্রেসিডেন্ট , তারেক রহমানের এই বক্তব্য নিয়েও সমালোচনা করা হয়ে্যেছে।

লিসেন টেকনিক্যালি বা আইনগত ভাবে জিয়াই কিন্তু প্রথম রাষ্ট্রপতি তা জিয়া দাবী করুক বা না করুক। দেখেন জিয়া প্রথম রাস্ট্রপতি না হলে, এই বিষয়ে মামলা সমূহ কোর্ট গুলো খারিজ করে দিল কেন বলতে পারেন? চলুন না দেশের প্রথম রাষ্ট্রপতি ইস্যুটা আদালতের হাতেই ছেড়ে দেওয়া যাক !

আমরা এই টেকনিক্যাল ব্যাপারটি টেনে আনতে বাধ্য হয়েছি, কারন আওয়ামীলীগ ভয়াবহ মিথ্যাচার করছিল জিয়ার নামে, এখনো করেই চলেছে।

তার প্রতি উত্তরেই আমরা মামুলী পাটকেল ছুড়েছি মাত্র।

সত্য উন্মোচিত হোক

আসলে কি জানেন ভাই , শহীদ জিয়ারও নিশ্চয় কোথাও না কোথাও ভুল ছিল, কারণ জিয়া মাঠে কাজ করতেন , সম্মুখে দাঁড়িয়ে নেতৃত্ব দিতেন। যে কাজ করে, ভুল তাঁর হতেই পারে। এদিক থেকে অবশ্য আওয়ামীলীগ এক্কেবারে ঝারাহাত, ফুলের মতই পবিত্র, বিগ ফিস, রুই কাতলাদের তো আর ৭১ এ মাঠে কামলা দেওয়া লাগে নি !

সত্য উন্মোচিত হোক
সত্য উন্মোচিত হোক

Foot note :
তাহের জিয়াকে সেভ করেছিলেন এই কথা সত্য নয়। ডাহা মিথ্যা কথা জিয়াকে সেভ করার কিছু ছিলো না, যেহেতু উনার জীবন ঝুঁকির মধ্যে ছিলো না। তথ্য পাওয়া যাবে শাফায়াত জামিল-এর লেখা বইয়ে। জিয়াকে সেভ করেছিলেন অনেকেই সুবেদার আনিস ও মেজর মহিউদ্দীনের নেতৃত্বে (তথ্যসূত্র কর্নেল হামিদের বই)।

তাহের খুনী ছিলো ও নিরীহ নিরাপরাধ অফিসারদের হত্যা করেছিলো (তথ্যসূত্র  জেনারেল আমীন আহমেদ চৌধুরীর বই)

রেফ্রেন্স প্রভাষ আমিনের পোস্ট রেফ্রেন্স প্রভাষ আমিনের পোস্ট
  পিনাকীদার পোস্ট




বুধবার, ১৪ সেপ্টেম্বর, ২০১৬

শহীদ জিয়ার গল্প - ১

স্মৃতির দুয়ার খুলে দেখি, হাসিমুখে দাঁড়িয়ে জিয়া
~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~

ছোট ছিলাম তখন , জেঠুর কাছে খুব যেতাম। গেলেই জেঠু গল্প গুড়ে দিতেন ; জিয়া জিয়া আর জিয়া ,যেন জিয়া ছাড়া উনার গল্প করার আর কোন বিষয় নেই। জিয়া এই করছে , সেই করছে ...এই সব আর কি !

শেখ মুজিব নিহত হবার আগেই জেঠু সরকারী চাকরি ছেড়ে সৌদি চলে যান। সৌদি আরব সরকারের অধিনে চাকরি নিয়েছিলেন সেখানে, পেট্র ডলারে বেশ ভালোই চলছিল।

"জিয়া ক্ষমতাতে এসে সৌদি গেলে আমার সাথে দেখা হয়ে যায়। স্বদেশীদের সাথে কথা বলার জন্য আমাদের ডেকেছিল জিয়া "  জেঠু বলেন।

জেঠুর গলা আস্তে আস্তে ভারী হয়ে আসে, হাই পাওয়ারের চশমার ফাঁক দিয়ে স্পষ্ট টলমলে চোখ...দেখতে পারছিলাম

জেঠু কান্না ভেজা স্বরে বলেন -

"জিয়া আমাকে জড়িয়ে ধরেছিলোরে, আর বলে কি জানিস... দেশে যখন আপনাদের মতো মেধাবী ব্যক্তিদের প্রয়োজন তখন আপনারা বাহিরে চলে যান এটা তো ঠিক নয়। কোন কথা শুনতে চাচ্চিনা ,আপনি আমার সাথে দেশে যাচ্ছেন। বলেই জিয়া, পাশে দাঁড়ানো অফিসার টিকে কি যেন ইঙ্গিত করলেন। ঘন্টা তিন চারের ভেতর আমার সৌদি আরবের চাকরী শেষ হয়ে গেল, বকেয়া বেতনও পেয়ে গেলাম। বুঝলাম জিয়ার ইঙ্গিতেই এত সব হচ্ছে "

"জিয়াকে আমি আসলে তখন না করতে পারিনি বাপু । এত বড় মানুষ , পাক আর্মির স্বাক্ষাত যম, বিশাল মুক্তিযোদ্ধা, আবার তখন প্রেসিডেন্ট। না কি বলা যায়?
পর দিন জিয়ার সাথে জিয়ার বিমানেই দেশে চলে আসি "
---

আমার জেঠুকে হয়তো চিনবেন কেও কেও । ক্যান্টোনমেন্টের মাটিকাটা তে সানাউল্লাহ সুপার মার্কেটের সানাউল্লাহ হচ্ছেন আমার সেই জেঠু।

জিয়াকে হারিয়ে জাতি যে কি হারিয়েছে , যার যায় সেই শুধু বোঝে !

আমার জেঠা জিয়ার সামান্য ফোন অপারেটর ছিলেন। সেই সুবাদে জিয়ার ভাবনা চিন্তা অনেক বেশি ভালো বুঝতেন জেঠু। জিয়ার প্রতি তার এত ভালোবাসা ছিল যে বাড়িতে আসতেনই না। জিয়ার মৃত্যুর পরের ১৩ বছর নিজেকে আরো একাকী করে ফেলেন জেঠু।


শেষ নিঃশ্বাস ক্যান্টনমেন্টে এলাকাতেই ছেড়েছেন জেঠু। ওখানেই মাটি দেয়া হয়েছে!

ফুট নোট : জেঠুর আদুরে ভাতিজা, আমাদের প্রীয় মুখ  Milon Moin Chowdhury র জীবনের এমন একটি গল্প এটি , যা সে কখনোই ভুলে যাবে না । মিলন মইন এর কাছে গল্পটা শুনে সঙ্গে সঙ্গেই চেয়ে নিয়েছি লেখার জন্য।

সোমবার, ১২ সেপ্টেম্বর, ২০১৬

জিয়ার ইনডেমনিটি - একটি নির্জলা মিথ্যা

দায়ভার

জিয়া কথিত ইনডেমনিটি দিয়ে মুজিব হত্যার বিচারের পথ বন্ধ করেছিল" –একটি নির্জলা মিথ্যা





ইনডেমনিটি কি ? দায় মুক্তি কি ?অধ্যাদেশ কি ? ইন্ডিমিনিটি বা দায়মুক্তির শুরু কোথায়?


১৯৭৪ সালে জাতীয় রক্ষীবাহিনী আইনের সংশোধনী এনে এই ইনডেমনিটি দেয়া হয়। রক্ষীবাহিনীকে অত্যাচার, নির্যাতন, লুটতরাজ ও গোপনে-প্রকাশ্যে হত্যাকান্ডের দায় থেকে মুক্তি দিতে জাতীয় রক্ষীবাহিনী আইনে এ সংশোধনী আনা হয়।





এটা ছিল ১৯৭৪ সালের ১১নং আদেশ
১৯৭৪ সালে রক্ষীবাহিনী আইনের সংশোধনী এনে ইনডেমনিটি দেয়া হলেও কার্যকারিতা দেখানো হয় ১৯৭২ সালের ১ ফেব্রুয়ারি থেকে। অর্থাৎ রক্ষীবাহিনী কার্যক্রমের শুরু থেকে যা কিছু দায়ভার, সবই দায়মুক্তি পায় ১৯৭৪ সালের সংশোধনীতে। ১৯৭২ সালে আইন তৈরির মাধ্যমে রক্ষীবাহিনী গঠনের পর এটিই ছিল এই আইনের প্রথম সংশোধনী।


 মার্চ ১৯৭২

জাতীয় রক্ষীবাহিনী অর্ডার প্রণয়ন করা হয় যা ১৯৭২ সালের ২১নং আইন

১৯৭৪ সালের রক্ষীবাহিনী আইনের দুটি সংশোধনীঃ


১৬(ক)অনুচ্ছেদ সংশোধনী


রক্ষীবাহিনীর সদস্যরা তাদের যে কোনো কাজ সরল বিশ্বাসে করেছেন বলে গণ্য করা হবে এবং এ নিয়ে তাদের বিরুদ্ধে কোনো মামলা দায়ের, অভিযোগ পেশ কিংবা আইনগত কোনো পদক্ষেপ নেয়া যাবে না।


৮(ক) অনুচ্ছেদ সংশোধনী

রক্ষীবাহিনীর যে কোনো সদস্য বা অফিসার ৮নং অনুচ্ছেদবলে বিনা ওয়ারেন্টে আইনের পরিপন্হী কাজে লিপ্ত সন্দেহবশত যে কোনো ব্যক্তিকে গ্রেফতার করতে পারবে। এছাড়া যে কোনো ব্যক্তি, স্হান, যানবাহন, নৌযান ইত্যাদি তল্লাশি বা আইনশৃঙ্খলাবিরোধী কাজে ব্যবহৃত হচ্ছে-এমন যে কোনো সামগ্রী বাজেয়াপ্ত করতে পারবেন। যে কোনো ব্যক্তিকে গ্রেফতার এবং তার সম্পত্তি হস্তগত করার পর একটি রিপোর্টসহ নিকটতম থানা হেফাজতে পাঠিয়ে আইনানুগ ব্যবস্হা গ্রহণ করতে পারবে।


একটি উদাহরণ থেকে বুঝা যাবে কেন রক্ষীবাহিনীকে রক্ষার জন্য একটি কুৎসিত ইন্ডিমিনিটি প্রদান করতে হয়েছিলঃ

“ইতিহাসের কাঠগড়ায় আওয়ামী লীগ”

বইটিতে আহাম্মেদ মুসা, অরুণা সেনের উদ্ধৃতিতে বলেন-

"১৭ আশ্বিন রক্ষীবাহিনীর লোকরা আমাদের গ্রামের ওপর হামলা করে। ওইদিন ছিল হিন্দুদের দুর্গাপুজার দ্বিতীয় দিন। খুব ভোরেই আমাকে গ্রেফতার করে। গ্রামের অনেক যুবককে ধরে মারপিট করে। লক্ষণ নামে এক কলেজছাত্র এবং আমাকে তারা নাড়িয়া রক্ষীবাহিনীর ক্যাম্পে নিয়ে যায়। সেখানে আমাকে জিজ্ঞাসা করে স্বামী শান্তি সেন এবং পুত্র চঞ্চল সেন কোথায়? তারা রাষ্ট্রদ্রোহী; তাদের ধরিয়ে দিন! আরও জিজ্ঞাসাবাদের পর সন্ধ্যার দিকে আমাকে ছেড়ে দেয়া হয়। লক্ষণ সেনকে রেখে পরের দিন ছাড়ে। বাড়িতে ফিরে দেখি মারধরের ফলে সে গুরুতর অসুস্হ। চার-পাঁচ দিন পর আবার তারা রাতে গ্রামের ওপর হামলা করে। অনেক বাড়ি তল্লাশি করে। অনেককে মারধর করে। কৃষ্ণ ও ফজলু নামের দু’যুবককে মারতে মারতে নিয়ে যায়। আজও তারা বাড়ি ফিরে আসেনি। আত্মীয়রা ক্যাম্পে গেলে বলে তারা সেখানে নেই। তাদের মেরে ফেলে বলেই মনে হয়। এরপর থেকে রক্ষীবাহিনী মাঝে মাঝেই গ্রামে এসে যুবকদের খোঁজ করত"


এই নির্যাতিত সহ আরো ৩০ হাজার নিহত ব্যাক্তির পরিবার ১৯৭৪ সালের কালো আইনটির কারণে আদালতের দুয়ারে বিচার চাওয়ার অধিকার খুইয়েছে। যা ৭১ এ মুক্তিযুদ্ধ ও মুক্তিযুদ্ধের চেতনার সাথে পূর্ন বিশ্বাস ঘাতকতা।

 

 

এই প্রাইভেট বাহিনীর ধারাবাহিক নির্যাতনের ছোট্ট একটি হাই লাইট দেখা যায়

২ এপ্রিল ১৯৭২ সাপ্তাহিক হলিডে সংখ্যাতে 

তাঁদের শিরনাম হয়
-স্যাংশান টু দ্য কিল ডিসেন্টার -
সেখানে লেখা হয় –

-প্রধানমন্ত্রী শেখ মুজিব যখন প্রকাশ্যে জনসভায় নির্দেশ দিলেন, “নক্সালদের দেখামাত্র গুলী কর” তখন রাষ্ট্রীয় পর্যায়ে রাজনৈতিক হত্যাকান্ড চালানোর জন্য অন্য কোনো অনুমোদনের আর দরকার পড়ে না-




ঐ একই পত্রিকা ২০ মে ১৯৭৩ এ  টাইটেল হেড লেখে
 

-ভিসেজ অব কাউন্টার রেভ্যলুশন

বিবরণে লেখা হয়
“রক্ষীবাহিনী হচ্ছে প্রতি বিপ্লবের অস্ত্র, যার উপর এমনকি সর্বভুক শাসক শ্রেণীর কোনো নিয়ন্ত্রণ নেই। ভারতীয় শাসক শ্রেণীর অনুগত এক সরকারকে এবং ভারতীয় উপ-সাম্রাজ্যবাদের সম্প্রসারণবাদী স্বার্থকে রক্ষা করার জন্য এটা হচ্ছে সিআরপির সম্প্রসারণ। এর নিঃশ্বাসে রয়েছে মৃত্যু আর ভীতি। আপনি অথবা আমি যে কেউ হতে পারি এর শিকার এবং বাংলাদেশের প্রশাসনের পুস্তকে আমাদের পরিচিতি হবে ‘দুষ্কৃতকারী’ হিসাবে।”


‘শেখ মুজিবুর রহমানের শাসনকাল’

 গ্রন্থে ব্যারিস্টার মওদূদ আহাম্মেদ লেখেন

-যখন রক্ষীদের আচার আচরণ ও ভুমিকা নিয়ে জনমানসে অসন্তোষ, চরম পর্যায়ে উপনীত হয় ও সংবাদপত্রগুলো তাদের ক্ষমতা, কতৃত্ব ও ভুমিকা নিয়ে অব্যাহতভাবে প্রশ্ন উত্থাপন করতে থাকে তখন ২০ মাস কার্যধারা পরিচালনায় ঢালাও লাইস্নস দেয়ার পর সরকার রক্ষী বাহিনীর তৎপরতাকে আইনসিদ্ধ প্রতিপন্ন করার লক্ষ্যেও একটি অধ্যাদেশ জারি করেন-


আশা করি ইনডেমনিটি অধ্যাদেশ কি তার একটা পরিষ্কার ধারনা পেয়েছেন। এবার আসি আমাদের মূল বিষয়ে । ১৫ ই আগষ্ট এক ঐতিহাসিক বিয়াগান্ত ঘটনায় বাংলাদেশের তৎকালীন রাষ্ট্রপতি এবং বাকশালের সভাপতি ও সরকার প্রধান, বঙ্গ বন্ধু শেখ মজিবুর রহমান তার পরিবারের অনেক সদস্য নিহত হয় ।


১৯৭৫ সালের ১৫ আগষ্ট বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের রক্তাক্ত লাশ সিঁড়িতে রেখেই তাঁর দীর্ঘকালের সহচরর খন্দকার যিনি ৭১ সালে মজিব নগর সরকারের প্রথমে পররাষ্ট্রমন্ত্রী পরবর্তীতে খাদ্য-মন্ত্রীর মোশতাক বঙ্গবন্ধু মন্ত্রিসভার সদস্য রাষ্ট্র ক্ষমতা দখল করে এবং নিজেকে রাষ্ট্রপতি ঘোষণা করে । মোশতাক শুধু মন্ত্রী ছিলেন না, ছিলেন বাকশালের ১৫ সদস্যের পলিটব্যুরোর চার নম্বর সদস্য এবং আওয়ামীলীগের প্রতিষ্ঠাকালীন শেখ মজিবরের মতই যুগ্ন –সাধারন সম্পাদক ।

শুধুকিই মোশতাক !! যারা মোশতাকের মন্ত্রী সভার মন্ত্রী হয়েছিলেন তারা প্রত্যেকে বঙ্গবন্ধু হত্যার আগমুহূর্তেও বঙ্গবন্ধু মন্ত্রিসভার সদস্য ছিলেন।  

শেখ মুজিব হত্যার ১২ ঘণ্টার ব্যবধানে তাঁরই ঘনিষ্ঠ সহচরদের ৮১ দিনের শাসনামলে সঙ্গী ছিলেন বঙ্গবন্ধু মন্ত্রিসভার ২১ সদস্য


১৯৭৫ সালের ২৬ সেপ্টেম্বর

~~~~~~~~~~~~~~~~~
ঘোষিত রাষ্ট্রপতি খন্দকার মোশতাক আহমেদ ইনডেমনিটি (দায়মুক্তি) অধ্যাদেশ জারি করেন। সেদিন ছিল শুক্রবার। ‘দি বাংলাদেশ গেজেট, পাবলিশড বাই অথরিটি’ লেখা অধ্যাদেশটিতে খন্দকার মোশতাকের স্বাক্ষর আছে
মোশতাকের স্বাক্ষরের পর আধ্যাদেশে তত্কালীন আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব এম এইচ রহমানের স্বাক্ষর আছে।


অধ্যাদেশটিতে দুটি ভাগ আছে

প্রথম অংশে বলা হয়েছে,

১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট ভোরে বলবৎ আইনের পরিপন্থী যা কিছুই ঘটুক না কেন, এ ব্যাপারে সুপ্রিম কোর্টসহ কোনো আদালতে মামলা, অভিযোগ দায়ের বা কোনো আইনি প্রক্রিয়ায় যাওয়া যাবে না।

দ্বিতীয় অংশে বলা আছে, রাষ্ট্রপতি উল্লিখিত ঘটনার সঙ্গে সম্পৃক্ত বলে যাদের প্রত্যয়ন করবেন তাদের দায়মুক্তি দেওয়া হলো। অর্থাত্ তাদের বিরুদ্ধে কোনো আদালতে মামলা, অভিযোগ দায়ের বা কোনো আইনি প্রক্রিয়ায় যাওয়া যাবে না।



ইন্ডেমনীটি আদেশ পত্রটির ছবি দেখুন
১৯৭৫ সাথে স্বাক্ষর কৃত ইনডেমনিটি এক্ট - দেখুন স্বাক্ষর কাদের





তখন কে বা কারা ছিলেন ক্ষমতার শীর্ষ বিন্দুতে?


  ১।সেনা প্রথান মেজর জেনারেল সফিউল্লাহ, বীর উত্তম।
  ২।এয়ার ভাইস মার্সাল ছিলেন একে খন্দকার।
 ৩।জাতীয় রক্ষী বাহিনী প্রধান ছিলেন স্যার তোফায়েল আহাম্মদ।
  ৪।সচিব এইচ টি ইমাম ছিলেন মোস্তাক সরকারের শপথ পরিচালনাকারী।



এরা সবাই অদ্যাবধি বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ সরকারে এবং দলের সংসদ,মন্ত্রী, উপদেষ্টা সহ বিভিন্ন অতীব গুরুত্বপূর্ন পদে আসীন আছেন, কিন্তু কেনো, কিভাবে?


এক্ষেত্রে তৎকালীন নৌবাহিনী প্রধান রিয়ার এডমিরাল এম এইচ খান এবং বিডিআর প্রধান মেজর জেনারেল খলিলুর রহমান ১৯৯৬ এর আগেই মৃত্যুবরন করায় সম্ভবত তাদেরও মন্ত্রী বানানো যায়নি।
শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ক্ষমতার প্রাদ প্রদিপে আসেন

১৯৭৫ সালের ৭ নভেম্বর 

সিপাহী জনতার বিপ্লবের পর । সে সময় বিচারপতি সায়েম রাষ্ট্রপতি ছিলেন।


১৯৭৬ সালের ২৯ এপ্রিল

জনাব সায়েম,  জেনারেল জিয়াউর রহমানের কাছে প্রধান সামরিক আইন প্রশাসকের দায়িত্ব হস্তান্তর করেন।

১৯৭৭ সালের ২১ এপ্রিল

সায়েম রাষ্ট্রপতির পদ থেকে পদত্যাগ করেন এবং জিয়া রাষ্ট্রপতি হন ।


ইতিহাসের কাঠগড়ায় ১৯৭৫ সালের ২৬ সেপ্টেম্বর ঘোষিত ইনডেমনিটি(দায়মুক্তি) অধ্যাদেশের দায় ভার কি করে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের উপর বর্তায় ?



আমি প্রশ্ন রাখলাম , উত্তরের দায় দায়িত্ব আপনাদের হাতে।


তবে এই কথা নিশ্চিত ভাবেই বলা যায় বাংলাদেশের জনগণের কাছে জিয়াউর রহমানের গ্রহণযোগ্যতা ও বিপুল জনপ্রিয়তার কারণেই বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব হত্যার সঙ্গে


আশার কথা, ইতিহাস তার নিজস্ব গতিতেই চলে। হয়ত কখনো থমকে দাড়ায় মনে হয় ইতিহাস বিকৃত বা শেষ হয়ে গিয়েছে। কিন্তু ইতিহাস যতক্ষন থমকে ছিল তার চেয়ে অনেক বেশি গতি ,সাহস, শক্তি ও সময় নিয়ে আবার এগিয়ে যেতে থাকে।

লেখাটি ২৭ মে জিয়া দ্যা প্যাট্রিয়ট বা তৎকালীন "জিয়া ডাইনেষ্টি" পেজে প্রকাশ হয়।

বাংলাদেশ জিন্দাবাদ
সত্য উন্মেচিত হোক



তথ্যসুত্র #ব্রাইট সেন্ট্রাল #রক্ষী বাহিনী সংশোধন আইন #ব্যারিস্টার মওদূদ আহাম্মেদ – শেখ মুজিবুর রহমানের শাসনকাল #সাপ্তাহিক হলিডে #বাংলাদেশ আর্কাইভ

শনিবার, ১০ সেপ্টেম্বর, ২০১৬

শহীদ জিয়ার ভিন্ন স্বত্বা


শহীদ জিয়ার ভিন্ন স্বত্বা

---------------
জিয়া ব্যক্তি জীবনে ছিলেন একজন আল্লাহ পরহেজগার মানুষ। যা বাইরে থেকে সেভাবে বোঝা যেত না। একবার তিনি কথা প্রসঙ্গে আমাকে বলেছিলেন
আল্লাহর রহম এবং নীরব কর্ম নিয়ে আমি জীবন কাটাতে চাই।


আল্লাহ তার আর্জি শুনছিলেন আজীবন তিনি তাই পেয়েছিলেন।
তার পাচ বছরের জীবন ধারা লক্ষ্য করলে দেখা যাবে রাষ্ট্রীয় কর্মযজ্ঞের মাঝে সুন্দর ভাবে ধর্মকে মিলিয়ে নিয়েছিলেন। কোন গুরুত্বপূর্ন কাজে হাত দেবার আগে সিলেটে হযরত শাহজালাল (রাঃ) এবং অন্যান্য ওলী আউলিয়ার মাযার জিয়ারত করতেন।

 
বিদেশে রাষ্ট্রীয় সফরের মাঝে সুযোগ পেলেই সে দেশের বরেন্য আউলিয়াদের মাযারে না যেতে চাইতেন প্রেসিডেন্ট জিয়া।


১৯৭৯ সালের ২৭শে ফেব্রুয়ারী বাংলাদেশ বিমানের সিটি অভ শাহজালালনামক বিমানটি প্রেসিডেন্ট জিয়া এবং তার সফর সঙ্গীদের নিয়ে জেদ্দা বিমান বন্দরে নামল। মটর শোভা যাত্রা সহকারে তাদের সৌদি বাদশাহর রাজকীয় অতিথি প্রসাদে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে সবাই সামান্য বিরতি দিয়ে ওযু করে ইহরামের কাপড় পরল। দুই রাকাত নফল নামায আদায় করে জেদ্দা থেকে মক্কা ময়াজ্জেমায় রওনা হল পবিত্র ওমরাহের জন্য।

 

 

 

সুমাইছিয়া মিনারের কাছে পৌছে সবার কন্ঠে উচ্চারিত হয়


  আল্লাহুম্মা হাজা হারামুকা-ইয়াওমা তাবআসুক ইবাদাকা।

সুমাইছিয়া মিনার থেকেই পবিত্র হেরেম শরীফের সীমানা শুরু। মসজিদুল হারামে জিয়া ও তার সফর সঙ্গীরা প্রবেশ করল। খানায়ে কাবা তওয়াফ করা হল। এর পর নফল নামায। পবিত্র জমজমের পানি পান। এর পর খানায়ে কাবার ভেতর ঢুকলেন সবাই। চারদিকে মুখ করে দু রাকাত করে নফল নামায পড়লেন সবাই। জিয়া সহ সবার চাপা কান্নার আওয়াজ উঠল আবেগে। পরম করুনাময়ের ইচ্ছায় এই সৌভাগ্যে সবাই আনন্দে অবিরত পানি ফেলছে।



এর পর সবাইকে নিয়ে তিনি পবিত্র খানায়ে কাবার মেঝে ঝাড়ু দিলেন। পবিত্র নেয়ামত হিসাবে সেই ঝাড়ন খানা নিয়ে নীচে নেমে আসেন বুকে জড়িয়ে ধরে। তার চোখ দিয়ে তখন অবিরল ধারায় পানি গড়িয়ে পড়ছিলো।


 
এখানে এটা সবাইকে জানানো প্রয়োজন পবিত্র কাবা শরীফ সৌদী বাদশাহ নিজে বছরে দুবার নিজ হাতে ধোয়া মোছা করেন। আর খুব অল্প কয়েকজন রাষ্ট্র প্রধান ই এই বিরল সৌভাগ্যের অধিকারী ছিলেন যারা নিজ হাতে কাবা শরীফ ধৌত করেছেন।



সাফা মারওয়া সাঈ
সাতবার সাঈ করার পর কিবলামুখী হয়ে সবাই মোনাযাত করেন। মাগরিবের নামাযের ওয়াক্ত সব মুসুল্লীর সাথে এক সাথে পড়েন। এর পর স্থানীয় সব মুসুলীরা জিয়া এবং তার সফর সঙ্গীদের সাথে আলিঙ্গন করেন। ফিরতি পথ ধরার সময় স্থানীয় জনতা নাড়া দিয়ে ওঠে শোকরানা ইয়া বাংলাদেশ শোকরানা।



জেদ্দা থেকে আবার পবিত্র মদিনা মুনাওয়ারা। বিমান বন্দরে জিয়াকে অভ্যার্থনা জানায় মদিনার গভর্নর এবং স্থানীয় গ্যারিসন কমান্ডার এবং রাজকীয় উর্ধ্বতন কর্মকর্তারা। লাল গালিচায় লেখা আহলান ওয়া আহ সালান। কথা ছিল রাজকীয় বিশ্রামালয়ে বিশ্রাম নিয়ে পাক রওযায় যাবেন কিন্তু জিয়া মদিনার মাননীয় গভর্নর কে অনুরোধ করেন তারা সর্বপ্রথম রসুলে করীম (সাঃ) এর পবিত্র রওযায় যেতে চান।


সবাই ওযু করে রাসুলুল্লাহ (সাঃ) এর পাক রওযার মুল প্রকোষ্ঠে যায় এটা অত্যান্ত দুর্লভ এক সন্মান।
ঢাকা থেকে যাত্রা করার পর ২০ ঘন্টা কেটে গেছে কিছুটা ক্লান্তি থাকলেও সবাই এই পবিত্র আনন্দে হাসি মুখে ছিল। ৩ ঘন্টা বিশ্রাম নিয়ে সবাই রাত চারটায় পৌছে মসজিদে নববীতে। মিম্বর শরীফ এবং নবী করিম (সাঃ) এর ঘরের মধ্যবর্তী এলাকার নাম রওযাতুল জান্নাহ। এই রওযাতুল জান্নাহ তে সবাই আদায় করল দুই রাকাত তাহইয়াতুল মসজিদ তারপর তাহাজ্জুদের নামায। এর পর জিয়া সহ সবাই পবিত্র কোরান শরীফ পাঠ করতে থাকেন।


এর পর বেলাল (রাঃ) যেখানে দাড়িয়ে আযান দিতেন সেখানে দাঁড়িয়ে মুয়াজ্জিনের আযান ধ্বনিত হল ফযরের। ফযরের নামাযের পর মসজিদে নববীর ইমাম জিয়া ও তার সফর সঙ্গীদের কাছে এলেন। উনার নেতৃত্বে সবাই নবী করিম (সাঃ) সালাম পেশ করেন। এর পরই সালাম পেশ করেন ইসলামের প্রথম দুই খলিফা হযরত আবু বকর (রাঃ) ও হযরত ওমর (রাঃ) কে।



সবার কন্ঠে ধ্বনিত হয়
আস সালামু আলাইকা ইয়া রাসুলুল্লাহ, আস সালামু আলাইকা ইয়া খাইরা খাল কিল্লাহ ইনদাকা আনদাকা সুবাহানাকা জুল ফাদলিল আজিম


সবার চোখ দিয়ে তখন হুহু করে পানি পড়ছে সবাই ভুলে গেছে ওখানে কে প্রেসিডেন্ট কে তার ষ্টাফ। বিশ্ব মানবের সামনে সবাই এক কাতারে নেমে এল।
সুবাহান আল্লাহ।



মসজিদে নববী থেকে বের হয়ে সবাই এলেন জান্নাতুল বাকীতে এখানে নবী করিম (সাঃ) এর অনেক পারিবারিক সদস্য এবং সাহাবা রা শুয়ে আছেন। এখানে শায়িত আছেন বিবি খাদিজা (রাঃ), বিবি মায়মুনা (রাঃ), রোকেয়া বিনতে রাসুল (সাঃ), হযরত ইমাম হাসান (রাঃ), জয়নুল আবেদিন (রাঃ), হযরত ইমাম বাকের (রাঃ), হযরত ইমাম জাফর সাদেক (রাঃ)। এর পর মসজিদে হামযা এবং হামযা (রাঃ) এর মাযারে।



এর পর সবাই যায় মসজিদে কোবায়। হযরত মোহাম্মদ (সাঃ) মক্কা থেকে মদিনা হিযরত করার সময় এখানে ১৪ দিন অবস্থান করেন এবং নিজ হাতে মসজিদে কোবা র ভিত্তি প্রস্থর স্থাপন করেন। সবার মুখ আনন্দে ঝলমল করছিলো। সবাই ফিরে আসল রাজকীয় অতিথি শালায়। ব্রেক ফাষ্টের পর সবাই রওনা দিল বাগদাদ অভিমুখে। যে ইতিহাস অন্য একদিন শুনবো।






জনাব হেদায়েত হোসাইন মোরশেদ এর লেখা অবলম্বনে "ক্যাপ্টেন নিমো" প্রডাক্ট
মূল পোস্ট Zia: The Patriot - দ্যা প্যাট্রিয়ট