রবিবার, ৯ অক্টোবর, ২০১৬

Bombing for peace is like Fucking for virginity


Tunnel Rat , মাটি খুঁড়ে, মাটির নিচ দিয়ে ছোট্ট ছোট্ট টানেল। কোনটা ২৫ মিটার, কোন টা ১০০ মিটার আবার কোন কোনটা মাইলের পর মাইল। যেখানে বাংলাদেশ থেকে নেপালের দূরত্ব মাত্র ১৮কিলোমিটার।

 

চওড়া দুই ফিট থেকে আড়াই ফিট, গড়।
কোন কোন ক্ষেত্রে ছোট একটি কামান টেনে নিয়ে যাবার মত। 

এই সব ট্যানেল দিয়ে ক্ষিপ্র গতিতে চলাচল করতো ভিয়েতনামিজ গেরিলারা। বিদঘুটে অন্ধকারেও তারা চোখে দেখতে অভ্যস্ত হয়ে গিয়েছিল। গেরিলাদের মূল অস্ত্র ছোট্ট নল কাটা পিস্তল, সালফিউরিক বোমা। কিছু ক্ষেত্রে অবশ্য মেসিনগানের ব্যাবহার হত। ভিয়েতনামিজ গেরিলাদের ট্যানেলে দাঁড়িয়ে হেটে চলার ব্যাবস্থা খুবই কম ছিল। মূলত ক্রলিং করে চলাফেরা করতে হতো ট্যানেল গুলোতে। এই জন্যই এইসব ট্যানেলের যোদ্ধাদের বলা হত Tunnel Rat.




আমেরিকান বাহিনীর কাছে সবচেয়ে ভয়ংকরী আতংকের নাম ছিল ট্যানেল র‍্যাট আমেরিকানরাও ভিয়েতনামিজ গেরিলাদের অনুকরণে নিজস্ব ট্যানেল বাহিনী তৈরি করলেও তারা সুবিধা করে উঠতে পারেনি। 





ফাইনালি ভিয়েতনামি ট্যানেল র‍্যাট দের নির্মূল করতে আমেরিকানরা ট্যানেলের মুখে আগুন ধরিয়ে দিতো।
কোন ট্যানেলে আমেরিকানরা যখন অভিযানে নামতো, গেরিলাদের ইন্দ্রজালের মত বিছানো ট্যানেলে আমেরিকান সৈন্যরা নিজেরাই কুপোকাত হয়ে যেতো।

এমন বেশ কিছুবার হয়েছে যে ৫০ জন সৈন্যের আমেরিকান ট্রুপস, গেরিলা দমনে,ট্যানালে নেমে আর কোন দিন ফিরে আসতে পারেনি। লাশ পর্যন্ত উদ্ধার হয়নি।


অথছ আমেরিকান বাহিনী ট্যানেলে নামতো পর্যাপ্ত সার্চ লাইট, হালকা ও সহজে বহন যোগ্য রাইফেল, গরম প্রতিরোধী আইস জ্যাকেট, সহ সকল ধরনের নিরাপত্যা যন্ত্রপাতি সহকারে।


এই সব, এক একটা ট্যানেলে গেরিলারা খুব সামান্যতম খাদ্য নিয়ে মাসের পর মাস কাটিয়ে দিতে পারতো।
ভিয়েতনাম যুদ্ধে, অসংখ্য যুদ্ধ ক্ষেত্র, যেখানে আমেরিকান সৈন্যদের বিজয় প্রায় সুনিশ্চিত, দেখা যেত হটাৎ ভূমি ফুঁড়ে, সেখানে শত্রু ঘাঁটির সবচেয়ে নিরাপদ স্থান দিয়ে উঠে এসে আমেরিকাদের পিছন থেকে ব্রাস ফায়ারে নির্বংশ করে দিয়ে গেছে, এক মূহুর্তে।



যুদ্ধ বিজ্ঞানের ইতিহাসে ভিয়েতনাম যুদ্ধের ট্যানেল ফাইট, একটি অবিস্মরণীয় পাঠ। মূলত ট্যানেল র‍্যাট গেরিলাদের চোয়ালবদ্ধ লড়ায়ের মানসিকতার কাছে শোচনীয়, লজ্জাজনক পলায়নপর পরাজয় মেনে নিতে বাধ্য হয়েছিল পরাশক্তি আমেরিকা।




পৃথিবীর সকল সচেতন মানুষের বিবেকের দ্বার উন্মুক্ত হয়ে পরেছিল, খোদ আমেরিকান জনগণ যুদ্ধের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়ে আমেরিকান সৈন্যদের জ্যান্ত ফিরিয়ে আনার জন্য উত্তেজিত হয়ে ওঠে। কিংবদন্তী বক্সার মোহাম্মদ আলী, ভিয়েতনামে যুদ্ধ করতে  যেতে অস্বীকৃতি জানিয়ে, নিজের পদক ফেলে দেন। নোয়াম চামিস্কি প্রতিবাদী হয়ে ওঠেন। জন লেনেন, ডন ডেনভার , জিম ম্যারিসন , বব দিলান প্রত্যেকে নিজের স্থানে দাঁড়িয়ে যুদ্ধ বিরোধী ক্ষাপাটে ভূমিকা নেন। সমগ্র বিশ্বের সমাজ ও রাষ্ট্র ব্যাবস্থাকে প্রশ্নের মুখে টালমাটাল করে দেয় মানবতাবাদী মানুষের দল। 


এই সকল ট্যানেল র‍্যাটদের হ্যন্ডেল করার কাজটি ছিল অনেক বিপদজনক। কারন একবার ট্যানেলে টার্গেট নিয়ে নেমে গেলে হাই কমান্ডের আদেশ নির্দেশ সেখানে মূখ্য থাকেনা। তাছাড়া দীর্ঘ সময় অন্ধকারে মাটির নিচে যুদ্ধ করার ফলে এদের ভেতর সাইকোলজিক্যাল ডিজঅর্ডার দেখা দিত, মানুষের সাথে মিসতে পারতো না, হত্যা ব্যাতীত এরা স্বাভাবিক থাকতে পারতো না।
সুসজ্জিত আমেরিকান ট্যানেল ফাইটার






তাই এদেরকে যুদ্ধ শেষে বা নিয়মিত বিরতি দিয়ে অবসর পালনে, স্বাভাবিক সমাজে পাঠানো সমস্যা হয়ে উঠেছিল। যেহেতু হত্যা বা রক্ত এদের কাছে নেশাদায়ক হয়ে উঠেছিল।



কাঠামোগত কারনেই, যুদ্ধ কৌশল প্রদর্শনের খুব বেশি সুযোগ থাকেনা ট্যানেলে। অন্ধকারে দেখতে পাওয়া, সরিসৃপের মত বুকে ভড় দিয়ে নিঃশব্দে চলাচল, প্রখর শ্রবণ শক্তি এই যুদ্ধের সবচেয়ে বড় যোগ্যতা। সাথে লাগবে শত্রু টের পাবার আগেই, নিশব্দে ফায়ার অন করার ক্ষিপ্রতা।





ভিয়েতনামিজ ট্যানেল র‍্যাট গেরিলারা প্রায়শ ট্যানেলে আক্রমণাত্মক শত্রুর রাস্তার পিছন দিক দিয়ে এসে, টানেল মুখে আগুন ধরিয়ে দিয়ে সরে পরতো পারতো।



পরিস্থিতি খুব জটিল আকার ধারণ করলে ২ ফুট ট্যানেলের মুখ দিয়ে বাহির হয়ে এসে জনতার সাথে মিশে যেত।
এখনকার মিডল ইস্ট যুদ্ধে মাঝেমধ্যে আমরা যে সুরঙ্গ খুঁজে পাওয়ার কথা শুনি তা কিন্তু এই ধরনের ট্যানেল ফাইটের একটা অংশ।

আমেরিকার হিপ্পিরা জাহাজ পর্যন্ত হাইজ্যাক করেছিল , যুদ্ধের প্রতিবাদে







আমার ক্ষুদ্র গণ্ডিতে কোনভাবেই প্রকাশ করতে পারবো না যে এই সামান্য ট্যানেল র‍্যাটরা কি বিপুল ঐশ্বর্য ঢেলে দিয়েছিল মুক্তিকামী মানুষের স্বাধিকার, স্বাধীনতা রক্ষার যুদ্ধে। 

সমগ্র দুনিয়ার শ্রেষ্ঠতম সামরিক শক্তির সে এক অসম্ভব পরাজয়ের লজ্জা,ব্যাক উইথ ব্যাগ এন্ড ব্যাগেজেস। মান জলাঞ্জলি আগেই গিয়েছে, পৈতৃক জানটা নিয়ে কোন ক্রমে ভিয়েতনাম পার হওয়ার আনন্দই যেন আমেরিকান সৈনিকদের কাছে যুদ্ধ বিজয়ের চেয়েও  অধিকতর বিজয় হয়ে উঠেছিল।


ভিয়েতনাম জাতির শ্রেষ্ঠতম সন্তান তাঁদের ট্যানেল র‍্যাট ফাইটাররা।


কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন