বুধবার, ৪ অক্টোবর, ২০১৭

সিনহা থেকে ওয়াহাব মিয়া


হয়তো উনার জন্য ভিন্ন ফাঁদ আছে। যে ফাঁদের কারনে আওয়ামীলীগ ভাবছে ওয়াহাব স্যারকে নিয়ন্ত্রণে রাখা যাবে।

তবে আজ সময় খুব চ্যালেঞ্জিং। আওয়ামীলীগ ক্ষমতাতে থেকেও পচা, দুর্গন্ধ যুক্ত। নৈতিক ভরাডুবির পর কাঠামোগত পরাজয়ের মুখোমুখি হলে এদের অবস্থা ডিসেম্বর’ ১৬তে দেশের মুখোমুখি হওয়া দেশদ্রোহী-দের মত হতে পারে।
তাই যে কোন শক্ত স্নায়ু ও নূন্যতম বিবেকের মানুষ লীগের ফাঁদে পা দেবে না।
আওয়ামীলীগের পক্ষে-বিপক্ষে যাই হোক ওয়াহাব মিয়া’র নিয়োগ বিষয়ে কিছু অক্সিলারি ভার্ব কাজ করছে হয়তো। প্রশ্ন হচ্ছে ওয়াহাব মিয়ার পদাঙ্ক কাকে অনুসরণ করবে!
সুরেন্দ্র’বাবুকে নাকি খাইরুল কে?

প্রফেসনাল ইন্ট্রিগিটির কথা আসলে, উনার পদক্ষেপ আওয়ামীলীগ সরকারের বিরুদ্ধে যাবে। কারণ কোন বিচারক বিচার বিভাগ ও রাষ্ট্র কে রক্ষা করার মত ঐতিহাসিক সুযোগ হারাতে চাইবে না। প্রফেশনাল চোখে সঠিক দায়িত্ব পালন করে বিচারপতি সাহাবুদ্দিন আহাম্মেদের নামের পাশে নিজেকে স্থাপন করার সুযোগ বারবার আসে না। সিনহা সাহেব হয়তো রেকর্ডের পথ খুঁজে নেবার প্রায়শ্চিত্তে আজ ক্যান্সারে আক্রান্ত হলেন!!
দ্বিতীয়ত যদি ধরে নেওয়া হয় উনি ব্যাক্তি স্বার্থে অন্ধ, তাতেও আওয়ামীলীগের আশার গুড়ে বালি।
কারণ আজকের ঘৃণিত আওয়ামীলীগ আজ বা কাল পরাজয়ের মুখে পরবেই। সেক্ষেত্রে এক্সপায়ার্ড মালের চেয়ে ওভেন ফ্রেস উত্তম।
তাই দীর্ঘ মেয়াদী ব্যক্তি স্বার্থ দেখতে হলে ব্যক্তিকে আওয়ামী বিরোধী হতে হবে এমন নয়। বরং নূন্যতম হুশ জ্ঞান থাকা যথেষ্ট।

আমরা বাংলাদেশের মানুষেরা আলগা/অন্যায় সমর্থন নিয়ে কার্য হাসিল চাই না। আমরা খুব সিম্পল ন্যায্যতা চাই। নিরপেক্ষ ন্যায্যতার ভেতর ভোটাধিকার টুকু ফেরত পেলেই চির কৃতজ্ঞ হব।
এক্ষেত্রে নতুন জন, খাইরুল বা মানিকের প্রেতাত্মা না হলেই বেঁচে যাবে প্রিয় মাতৃভূমি।

ইফতেখার
১০ অক্টোবর ২০১৭
বসুন্ধারা 




শুক্রবার, ২৯ সেপ্টেম্বর, ২০১৭

বৃষ্টির গান




এমনি বরষা ছিল সেদিন
শিয়রে প্রদীপ ছিল মলিন
তব হাতে ছিল অলস বীন
মনে কি পরে প্রিয়

আমি শুধানু তোমায় বল দেখি
কোনদিন ও মোরে ভুলিবে কি
আঁখিপাতে বারি দুলিবে কি
আমার তরে প্রিয়

মোর হাতখানি ধরে কহিলে হায়
মন দিয়ে মন ভোলা কি যায়
কাঁদিবে আকাশ মোর ব্যথায়
বাদল ও ঝরে প্রিয়

হায় তুমি নাই বলে মোর সাথে
তাই কি বিরহ বরষাতে
এত বারিধারা আজ রাতে
অঝোরে ঝরে প্রিয়

শুক্রবার, ২৮ জুলাই, ২০১৭

বাসন্তী- সব কবিতার খাতা


বাসন্তী

---কাজী নজরুল ইসলাম।

.
কুহেলীর দোলায় চ'ড়ে
এলো ঐ কে এলো রে?
মকরের কেতন ওড়ে
শিমুলের হিঙুলে বনে।
পলাশের গেলাস - দোলা
কাননের রংমহলা,
ডালিমের ডাল উতলা
লালিমার আলিঙ্গনে।।
.
না যেতে শীত - কুহেলী
ফাগুনের ফুল - সেহেলি
এলো কি? রক্ত - চেলী
করেছে বন উজালা।
ভুলালি মন ভুলালি
ওলো ও শ্যাম - দুলালী
তমালে ঢাললি লালী
নীলিমার লাল দেয়ালা।।
.
ওলো এ ব্যস্ত - বাগীশ
মাধবের নকল - নবীশ
মধুরাত নাই হ'তে-- ইস্
মাধবীর কুঞ্জে হাজির !
বলি ও মদন - মোহন !
না যেতে শীতের কাঁপন
এলে যে, থালায় এখন
ভরিনি কুমকুম আবীর।।
.
হা - রা - রা হোরীর গীতে
মাতি নি আজও শীতে
অধরের পিচকিরিতে
পুরিনি গানের হিঙুল।
গাহে নি কোয়েল সখি--
'মর লো গরল ভখি !'
এখনি শ্যাম এলো কি
আসেনি অশোক শিমুল।।
.
ওলো দ্যাখ্ শ্যামের পিছে
এসেছে কে এসেছে
দুলে কার চেলীর লালী !
তখনি বলেছি ভাই
আমাদের এ মান বৃথাই,
এলে শ্যাম আসবেনই রাই--
শ্রীমতী শ্যাম্ দুলালী।।
.
পউষের রিক্ত শাখায়
বঁধূ যেই বংশী বাজায়
নীল বন লাল হয়ে যায়
ফুলে হয় ফুলেল আকাশ।
এলে শ্যাম বংশী - ধারী
গোপনের গোপ - ঝিয়ারী
ফুল সব শ্যাম - পিয়ারী
ভুলে যায় ছার গেহ - বাস।।
.
সাতাসে - মাঘ - বাতাসে
যদি ভাই ফাগুন আসে
আঙনে রঙন হাসে
আমাদের সেই তো হোরি !
শ্রীমতীর লাল কপোলে
দোলে লো পলাশ দোলে
পায়ে তার পদ্ম ড'লে
দে লো বন আলা করি।।    
  
   

তোমার বাণীরে করিনি গ্রহণ ক্ষমা কর হজরত



তোমার বাণীরে করিনি গ্রহণ ক্ষমা কর হজরত।

মোরা    ভুলিয়া গিয়াছি তব আদর্শ, তোমারি দেখানো পথ ॥

    বিলাস-বিভব দলিয়াছ পায় ধূলি সম তুমি, প্রভু,
    তুমি চাহ নাই আমরা হইব বাদশা-নবাব কভু।
    এই ধরণীর ধন-সম্ভার - সকলেরি তাহে সম অধিকার;
    তুমি বলেছিলে ধরণীতে সবে সমান পুত্র-বৎ ॥
প্রভু    তোমার ধর্মে অবিশ্বাসীরে তুমি ঘৃণা নাহি ক’রে
    আপনি তাদের করিয়াছ সেবা ঠাঁই দিয়ে নিজ ঘরে।
    ভিন্ ধর্মীর পূজা-মন্দির, ভাঙিতে আদেশ দাওনি, হে বীর,
প্রভু    আমরা আজিকে সহ্য করিতে পারিনে’ক পর-মত ॥
    তুমি চাহ নাই ধর্মের নামে গ্লানিকর হানাহানি,
    তলোয়ার তুমি দাও নাই হাতে, দিয়াছ অমর বাণী।
    মোরা ভুলে গিয়ে তব উদারতা
    সার করিয়াছি ধর্মন্ধতা,
    বেহেশ্‌ত্‌ হ’তে ঝরে নাকো আর তাই তব রহমত ॥





                                                    "দৃষ্টি তে আর হয় না সৃষ্টি আগের মত
গোলাপ ফুল,
কথায় সুরে ফুল ফোটাতাম- হয় না এখন আর
সে ফুল । বাসি হাসির মালা নিয়ে,
কি হবে নওরোজে গিয়ে?
চাঁদ না দেখে আঁধার রাতে-
বাঁধে কি গো এলোচুল! আজ দখিন হাওয়া ফাগুন আনে, বুলবুলি নাই
গুলিস্তানে,
দোলে না আর চাঁদ কে দেখে-
বনে দোলনচাঁপার ফুল । কি হারালো নাই কি যেন, মন হয়েছে এমন
কেনো?
কোন নিদয়ের পরশ লেগে- হয় না হৃদয় আর
ব্যকুল! দৃষ্টিতে আর হয় না সৃষ্টি আগের
মতো গোলাপ ফুল,
কথায় সুরে ফুল ফোটাতাম হয় না এখন আর
সে ফুল ।"  









শাতিল্ আরব! শাতিল্ আরব!! পূত যুগে যুগে তোমার তীর।
শহীদের লোহু, দিলীরের খুন ঢেলেছে যেখানে আরব-বীর!
          যুঝেছে এখানে তুর্ক-সেনানী,
          য়ুনানী, মেসরী, আরবী, কেনানী ; —
লুটেছে এখানে মুক্ত আজাদ্ বেদূঈনদের চাঙ্গা শির!
                                                 নাঙ্গা-শির্—
শমশের হাতে আঁশু-আঁখে হেথা মূর্ত্তি দেখেছি বীর-নারীর!
শাতিল্ আরব! শাতিল আরব!! পূত যুগে যুগে তোমার তীর।

          “কূত্-আমারা”র রক্তে ভরিয়া
          দজ্লা এনেছে লোহুর দরিয়া ;
উগরি’ সে খুন তোমাতে দজ্লা নাচে ভৈরব মাস্তানী’র
                                                 ত্রস্তা-নীর
গর্জ্জে রক্ত-গঙ্গা ফোরাত, — “ শাস্তি দিয়েছি গোস্তাখীর!”
দজ্লা-ফোরাত-বাহিনী শাতিল্! পূত যুগে যুগে তোমার তীর!

          বহায়ে তোমার লোহিত বন্যা
          ইরাক্ আজমে ক’রেছ ধন্যা,
বীর-প্রসূ দেশ হ’ল বরেণ্যা মরিয়া মরণ মর্দ্দমীর!
                                                 মর্দ্দ বীর
সাহারায় এরা ধুঁকে মরে তবু পরে না শিকল পদ্ধতির!
শাতিল্ আরব! শাতিল আরব!! পূত যুগে যুগে তোমার তীর।

          দুশমন-লোহু ঈর্শায়-নীল
          তব তরঙ্গে করে ঝিল্-মিল্,
বাঁকে বাঁকে রোষে মোচোড় খেয়েছে পিয়ে নীল খুন পিণ্ডারীর!
                                                 জিন্দা বীর
“জুলফিকার” আর “হায়দরী” হাঁক হেথা আজো হজরত আলীর—
শাতিল্ আরব! শাতিল আরব!! জিন্দা রেখেছে তোমার তীর।

          ললাটে তোমার ভাস্কর টীকা
          বসরা-গুলের বহ্নিতে লিখা ;
এ যে বসোরার খুন-খারাবী গো রক্ত-গোলাপ-মঞ্জরীর!
                                                খঞ্জরীর
খঞ্জরে ঝরে খর্জ্জুর সম হেথা লাখো দেশ-ভক্ত শির!
শাতিল্ আরব! শাতিল আরব!! পূত যুগে যুগে তোমার তীর!

          ইরাক্-বাহিনী! এ যে গো কাহিনী,—
          কে জানিত কবে বঙ্গ-বাহিনী
তোমারও দুঃখে “জননী আমার!” বলিয়া ফেলিবে তপ্ত নীর!
                                                রক্ত-ক্ষীর—
পরাধীনা! একই ব্যথায় ব্যথিত ঢালিল দু’ফোঁটা ভক্ত-বীর!
শহীদের দেশ! বিদায়! বিদায়!! এ অভাগা আজ নোয়ায় শির!   



  


বন্ধুগণ,

আপনারা যে সওগাত আজ হাতে তুলে দিলেন, আমি তা মাথায় তুলে নিলুম। আমার সকল তনু-মন-প্রান আজ বীণার মত বেজে উঠেছে। তাতে শুধু একটি মাত্র সুর ধ্বনিত হয়ে উঠেছে

“আমি ধন্য হলুম”, “আমি ধন্য হলুম”।
আমায় অভিনন্দিত আপনারা সেই দিনই করেছেন, যেদিন আমার লেখা আপনাদের ভাল লেগেছে। বিংশ শতাব্দীর অসম্ভবের সম্ভাবনার যুগে আমি জন্ম গ্রহণ করেছি। এরই অভিযান সেনাদলের তূর্য্যবাদকের একজন আমি- এই হোক আমার সবচেয়ে বড় পরিচয়। আমি এই দেশে, এই সমাজে জন্মেছি বলে, শুধু এই দেশেরই, এই সমাজেরই নই; আমি সকল দেশের, সকল মানুষের। কবি চায় না দান, কবি চায় অঞ্জলি। কবি চায় প্রীতি। কবিতা আর দেবতা সুন্দরের প্রকাশ। সুন্দরকে স্বীকার করতে হয়, যা সুন্দর তাই দিয়ে। সুন্দরের ধ্যান, তাঁর স্তবগানই আমার ধর্ম। তবু বলছি, আমি শুধু সুন্দরের হাতে বীণা, পায়ে পদ্মফুলই দেখিনি, তাঁর চোখে চোখ ভরা জলও দেখেছি। শ্মশানের পথে, গোরস্তানের পথে তাঁকে ক্ষুধাদীর্ণ মুর্তিতে ব্যাথিত পায়ে চলে যেতে দেখেছি। যুদ্ধভূমিতে তাঁকে দেখেছি। কারাগারের অন্ধভূমিতে তাঁকে দেখেছি। ফাঁসির মঞ্চে তাঁকে দেখেছি।  


আমাকে বিদ্রোহী বলে খামখা লোকের মনে ভয় ধরিয়ে দিয়েছেন কেউ কেউ। এ নিরীহ জাতটাকে আঁচড়ে-কামড়ে তেড়ে নিয়ে বেড়াবার ইচ্ছা আমার কোনদিনই নেই। আমি বিদ্রোহ করেছি, বিদ্রোহের গান গেয়েছি, অন্যায়ের বিরুদ্ধে, অত্যাচারের বিরুদ্ধে, যা মিথ্যা-কলুষিত-পুরাতন-পঁচা সেই মিথ্যা সনাতনের বিরুদ্ধে। ধর্মের নামে ভন্ডামি ও কুসংস্কারের বিরুদ্ধে।  


কেউ বলেন আমার বাণী যবন, কেউ বলেন কাফের। আমি বলি, ও দু’টোর কোনটাই নয়। আমি কেবলমাত্র হিন্দু-মুসলমানকে এক জায়গায় ধরে এনে হ্যান্ডশেক করাবার চেষ্টা করেছি; গালাগালিকে গলাগলিতে পরিণত করার চেষ্টা করেছি। সে হাতে হাত মিলানো যদি হাতাহাতির চেয়ে অশোভনীয় হয়ে থাকে, তাহলে ওরা আপনি আলাদা হয়ে যাবে। আমার গাঁটছড়ার বাঁধন কাটতে তাদের কোন বেগ পেতে হবে না। কেননা, একজনের হাতে আছে লাঠি, আরেকজনের আস্তিনে আছে চুরি । হিন্দু-মুসলমানে দিনরাত হানাহানি, জাতিতে জাতিতে বিদ্বেষ, যুদ্ধ-বিগ্রহ ।মানুষের জীবনে এক দিকে কঠোর দারিদ্র-ঋণ-অভাব; অন্যদিকে লোভী অসুরের যক্ষের ব্যাংকে কোটি কোটি টাকা পাষাণ স্তুপের মত জমা হয়ে আছে। এ অসাম্য ভেদজ্ঞান দূর করতেই আমি এসেছিলাম। আমার কাব্যে সংগীতে কর্মজীবনে অভেদ ও সুন্দর সাম্যকে প্রতিষ্ঠিত করেছিলাম। আমি যশ চাই না, খ্যাতি চাই না, প্রতিষ্ঠা চাই না, নেতৃত্ব চাই না। জীবন আমার যত দুঃখময়ই হোক, আনন্দের গান- বেদনার গান গেয়ে যাব আমি। দিয়ে যাব নিজেকে নিঃশেষ করে সকলের মাঝে বিলিয়ে। সকলের বাঁচার মাঝে থাকবো আমি বেঁচে। এই আমার ব্রত, এই আমার সাধনা, এই আমার তপস্যা।  


রবীন্দ্রনাথ আমায় প্রায়ই বলতেন,

”দ্যাখ উন্মাদ, তোর জীবনে শেলীর মত, কীটসের মত খুব বড় একটা ট্র্যাজেডী আছে, তুই প্রস্তুত হ’” 


জীবনে সেই ট্র্যাজেডী দেখবার জন্য আমি কতদিন অকারনে অন্যের জীবনকে অশ্রুর বরষায় আচ্ছন্ন করে দিয়েছি। কিন্তু, আমারই জীবন রয়ে গেল বিশুষ্ক মরুভূমির মত দগ্ধ। মেঘের উর্ধ্বে শূণ্যের মত কেবল হাসি, কেবল গান, কেবল বিদ্রোহ। 


আমার বেশ মনে পড়ছে। একদিন আমার জীবনের মহা অনুভূতির কথা। আমার ছেলে মারা গেছে। আমার মন তীব্র পুত্র শোকে যখন ভেঙে পড়ছে ঠিক সেই দিনই সেই সময় আমার বাড়িতে হাস্নাহেনা ফুটেছে। আমি প্রানভরে সেই হাস্নাহেনার গন্ধ উপভোগ করেছিলাম। আমার কাব্য, আমার গান আমার জীবনের সেই অভিজ্ঞতার মধ্য হতে জন্ম নিয়েছে। যদি কোনদিন আপনাদের প্রেমের প্রবল টানে আমাকে আমার একাকিত্বের পরম শূণ্য থাকে অসময়ে নামতে হয়, তাহলে সেদিন আমায় মনে করবেন না, আমি সেই নজরুল। সেই নজরুল অনেক দিন আগে মৃত্যুর খিড়কী দুয়ার দিয়ে পালিয়ে গেছে। মনে করবেন পুর্ণত্বের তৃষ্ণা নিয়ে একটি অশান্ত তরুণ এই ধরায় এসেছিল, অপূর্ণতার বেদনায় তারই বিগত আত্মা যেন স্বপ্নে আপনাদের মাঝে কেঁদে গেল।  


যদি আর বাঁশী না বাজে, আমি কবি বলে বলছি নে, আমি আপনাদের ভালবাসা পেয়েছিলাম, সেই অধিকারে বলছি, আমায় আপনারা ক্ষমা করবেন। আমায় ভুলে যাবেন। বিশ্বাস করুন, আমি কবি হতে আসি নি। আমি নেতা হতে আসি নি। আমি প্রেম দিতে এসেছিলাম, প্রেম পেতে এসেছিলাম। সে প্রেম পেলাম না বলে আমি এই প্রেমহীন নিরস পৃথিবী হতে নিরব অভিমানে চিরদিনের জন্য বিদায় নিলাম।যেদিন আমি চলে যাব, সেদিন হয়ত বা বড় বড় সভা হবে। কত প্রশংসা কত কবিতা বেরুবে হয়ত আমার নামে।   

দেশপ্রেমী,ত্যাগী,বীর,বিদ্রোহী- বিশেষনের পর বিশেষন,টেবিল ভেঙে ফেলবে থাপ্পর মেরে,বক্তার পর বক্তা। এই অসুন্দরের শ্রদ্ধা নিবেদনের প্রার্থ্য দিনে বন্ধু তুমি যেন যেও না। যদি পার চুপটি করে বসে আমার অলিখিত জীবনের কোন একটি কথা স্মরণ কোর। তোমার ঘরের আঙিনায় বা আশেপাশে যদি একটি ঝরা পায়ে পেষা ফুল পাও, সেইটিকে বুকে চেপে বোল বন্ধু আমি তোমায় পেয়েছি।  


"তোমাদের পানে চাহিয়া বন্ধু আর আমি জাগিব না,
কোলাহল করে সারা দিনমান কারো ধ্যান ভাঙিব না।
নিশ্চল নিশ্চুপ আপনার মনে পুড়িব একাকী গন্ধবিধুর ধূপ"



কাণ্ডারী হুশিয়ার! - কাজী নজরুল ইসলাম- সর্বহারা

কৃষ্ণনগর; ৬ই জ্যৈষ্ঠ, ১৩৩৩
দুর্গম গিরি কান্তার-মরু দুস্তর পারাবার
লঙ্ঘিতে হবে রাত্রি নিশীথে যাত্রীরা হুশিয়ার!
দুলিতেছে তরী, ফুলিতেছে জল, ভূলিতেছে মাঝি পথ,
ছিঁড়িয়াছে পাল, কে ধরিবে হাল, আছে কার হিম্মৎ?
কে আছ জোয়ান, হও আগুয়ান, হাঁকিছে ভবিষ্যত।
এ তুফান ভারী, দিতে হবে পাড়ি, নিতে হবে তরী পার!!

তিমির রাত্রি, মাতৃমন্ত্রী সান্ত্রীরা সাবধান!
যুগ-যুগান্ত সঞ্চিত ব্যথা ঘোষিয়াছে অভিযান!
ফেনাইয়া উঠে বঞ্চিত বুকে পুঞ্জিত অভিমান,
ইহাদের পথে, নিতে হবে সাথে, দিতে হবে অধিকার!!

অসহায় জাতি মরিছে ডুবিয়া, জানেনা সন্তরণ,
কান্ডারী! আজ দেখিব তোমার মাতৃমুক্তিপণ!
“হিন্দু না ওরা মুসলিম?” ওই জিজ্ঞাসে কোন জন?
কান্ডারী! বল ডুবিছে মানুষ, সন্তান মোর মা’র!

গিরি-সংকট, ভীরু যাত্রীরা, গুরু গরজায় বাজ,
পশ্চাৎ-পথ-যাত্রীর মনে সন্দেহ জাগে আজ
কান্ডারী! তুমি ভূলিবে কি পথ? ত্যজিবে কি পথ-মাঝ?
‘করে হানাহানি, তবু চল টানি’, নিয়াছ যে মহাভার!

কান্ডারী! তব সম্মুখে ঐ পলাশীর প্রান্তর,
বাঙ্গালীর খুনে লাল হ’ল যেথা ক্লাইভের খঞ্জর!
ঐ গঙ্গায় ডুবিয়াছে হায়, ভারতের দিবাকর
উদিবে সে রবি আমাদেরি খুনে রাঙিয়া পুনর্বার।

ফাঁসির মঞ্চে যারা গেয়ে গেল জীবনের জয়গান,
আসি’ অলক্ষ্যে দাঁড়ায়েছে তারা, দিবে কোন বলিদান?
আজি পরীক্ষা জাতির অথবা জাতের করিবে ত্রান?
দুলিতেছে তরী, ফুলিতেছে জল, কান্ডারী হুঁশিয়ার!




চলে যাওয়া মানে প্রস্থান নয়- বিচ্ছেদ নয়
চলে যাওয়া মানে নয় বন্ধন ছিন্ন-করা আর্দ্র রজনী
চলে গেলে আমারও অধিক কিছু থেকে যাবে
আমার না-থাকা জুড়ে।
জানি চরম সত্যের কাছে নত হতে হয় সবাইকে-
জীবন সুন্দর
আকাশ-বাতাস পাহাড়-সমুদ্র
সবুজ বনানী ঘেরা প্রকৃতি সুন্দর
আর সবচেয়ে সুন্দর এই বেঁচে থাকা
তবুও কি আজীবন বেঁচে থাকা যায়!
বিদায়ের সেহনাই বাজে
নিয়ে যাবার পালকি এসে দাঁড়ায় দুয়ারে
সুন্দর পৃথিবী ছেড়ে
এই যে বেঁচে ছিলাম
দীর্ঘশ্বাস নিয়ে যেতে হয়
সবাইকে
অজানা গন্তব্যে
হঠাৎ ডেকে ওঠে নাম না জানা পাখি
অজান্তেই চমকে ওঠি
জীবন, ফুরালো নাকি!


বাতাসে লাশের গন্ধ

রুদ্র মুহম্মদ শহীদুল্লাহ---সংকলিত (রুদ্র মুহম্মদ শহীদুল্লাহ)

আজো আমি বাতাসে লাশের গন্ধ পাইআজো আমি মাটিতে মৃত্যূর নগ্ননৃত্য দেখি,ধর্ষিতার কাতর চিৎকার শুনি আজো আমি তন্দ্রার ভেতরে…এ দেশ কি ভুলে গেছে সেই দু:স্বপ্নের রাত, সেই রক্তাক্ত সময় ?বাতাসে লাশের গন্ধ ভাসেমাটিতে লেগে আছে রক্তের দাগ।এই রক্তমাখা মটির ললাট ছুঁয়ে একদিন যারা বুক বেঁধেছিলো।জীর্ণ জীবনের পুঁজে তারা খুঁজে নেয় নিষিদ্ধ আধাঁর,আজ তারা আলোহীন খাঁচা ভালোবেসে জেগে থাকে রাত্রির গুহায়।এ যেন নষ্ট জন্মের লজ্জায় আরষ্ট কুমারী জননী,স্বাধীনতা – একি হবে নষ্ট জন্ম ?একি তবে পিতাহীন জননীর লজ্জার ফসল ?জাতির পতাকা খামচে ধরেছে আজ পুরোনো শকুন।বাতাশে লাশের গন্ধনিয়ন আলোয় তবু নর্তকীর দেহে দুলে মাংসের তুফান।মাটিতে রক্তের দাগ -চালের গুদামে তবু জমা হয় অনাহারী মানুষের হাড়এ চোখে ঘুম আসেনা। সারারাত আমার ঘুম আসেনা-তন্দ্রার ভেতরে আমি শুনি ধর্ষিতার করুণ চিৎকার,নদীতে পানার মতো ভেসে থাকা মানুষের পচা লাশমুন্ডহীন বালিকার কুকুরে খাওয়া বিভৎস্য শরীরভেসে ওঠে চোখের ভেতরে। আমি ঘুমুতে পারিনা, আমিঘুমুতে পারিনা…রক্তের কাফনে মোড়া – কুকুরে খেয়েছে যারে, শকুনে খেয়েছে যারেসে আমার ভাই, সে আমার মা, সে আমার প্রিয়তম পিতা।স্বাধীনতা, সে আমার – স্বজন, হারিয়ে পাওয়া একমাত্র স্বজন -স্বাধীনতা – আমার প্রিয় মানুষের রক্তে কেনা অমূল্য ফসল।ধর্ষিতা বোনের শাড়ী ওই আমার রক্তাক্ত জাতির পতাকা।


শুক্রবার, ৩০ জুন, ২০১৭

জামদানী ট্রডিং

অবশেষে পাব্লিকের ট্যাক্সের টাকাতে সংসদে দাঁড়িয়ে বারোয়ারি বণিক শাড়ি'র আড়তদার কাবুলিওয়ালা এবং পুঁজিবাদী পিশাচযোনি Shonargoan Hotel Pan Pacific এর বিজ্ঞাপন!
মাননীয়া আপনি জানেন কি! যে শাড়ি'র কথা আপনি বললেন, যেখান থেকে ক্রয় করা হয়েছে বলে উল্লেখ করলেন, তারা কত শত দরিদ্র জামদানী শ্রমিকের রক্ত চুষে খাই?

মাননীয়ার জন্য অনেক শোভন ও উপযুক্ত হতে পারতো, মাননীয়া যদি বুর্জোয়া দূর্গে আঘাত করতে ঐ সব শাড়ির বারোয়ারী প্রসারে হাওয়া না দিয়ে ঐ সব শাড়ি'র দরিদ্র কারিগরদের কাছ থেকে সরাসরি কিনতেন এবং সেই সংবাদ সংসদে দাঁড়িয়ে বলতেন! তবে আপনার জন্য থাকতো এই অধমের হাজার কুর্ণিশ।
যদি তৃণমূলের দরিদ্র, ক্ষুদ্র উৎপাদকদের কল্যানে সংসদে উক্ত এক মিনিটে যে ১ লক্ষাধিক টাকা খরচ হয়েছে, তা মোটেও প্রশ্নের সম্মুখীন হত না। বাংলাদেশী, বাঙালী নির্বিশেষে আপনাকে বাহবা দিতো, বলতো তৃণমূলের দরিদ্র ক্ষুদ্র উৎপাদকদের কল্যানে এক মিনিট কেন, হাজার লক্ষ মিনিট আপনি সংসদে কথা বলুন, স্ব-নির্বাচিত হবার স্বত্তেও কথা বলুন, ১৫০ অধিক আসনে নির্বাচিত না হবার পরেও কথা বলুন!

হায় খোদা, পর্তুগীজ চলে গিয়েছে, ইংরেজ চলে গিয়েছে, পাকিস্তান গত হয়েছে। ভারতীয় সাম্রাজ্যবাদ আমাদের কূড়ে কূড়ে খাচ্ছে, তবু ইস্টইন্ডিয়ার কোম্পানি কুঠিতে জন্ম নেওয়া বারোয়ারী বাজারের মারোয়াড়ী ভূত "বাণিজ্য বসতি লক্ষী"র সেবাদানে আজো ব্রত নষ্ঠ হয়নি!
মাননীয়া,
আর বলিতে পারিনা
বড় বিষ জ্বালা এই বুকে...

মঙ্গলবার, ২০ জুন, ২০১৭

ইদানিং আল্ট্রা মর্ডান যুগে পোলাপান দেখি, উচ্চরবে গাড়িতে ইংরাজি গান চালিয়ে ড্রাইভ করে। এম্প, উফার, চেঞ্জার সব কিছুই লোডেড। গানের কথা বুঝা যাক বা যাক, হাই-বিটের দুপ দাপ ঠিকি বুঝা যায়। মাঝেমধ্যে বুঝতে পারিনা রাস্তাতে ঝড় হচ্ছে নাকি গান বাজছে!
বাপের টাকাতে কেনা গাড়ি যখন স্কেট করে নিজের উপস্থিতির দামামা বাজাই তখন ভাবি মাথার ঘাম পায়ে ফেলে উপার্জন না করে বাপের টাকার শ্রাদ্ধ বুঝি অধিক আনন্দদায়ক।
একটা সময় গাড়িতে রেডিও ছাড়া গতি ছিল না। Philips হচ্ছে সেই কোম্পানি যারা গাড়ি'র সাউন্ড সিস্টেমে যুগান্তকারী পরিবর্তন নিয়ে আসে। ফিতা ওয়ালা ক্যাসেট যখন রেডিও'র সাথে ড্যাস বোর্ডে যুক্ত হল তখন হুলুস্থুল পরে যায় দুনিয়াজোড়া। যুক্ত হবার আগ মূহুর্তে যখন পত্রিকার পাতাতে ঐতিহাসিক মূহুর্তের বিজ্ঞাপন আসলো, সেদিন লোকজন সব হুরমুড়িয়ে পরেছিল পত্রিকার ওপর। সেদিনের বিজ্ঞাপন।

যেভাবে মুজিব হত্যা ষড়যন্ত্রের আগাম খবর, মুজিব অব্ধি পৌঁছুতে দেননি শেখ মনি

শেখ ফজলুল হক মনি কি খন্দকার মোস্তাক হতে চেয়ে ছিলেন? হতে পারে, নাও হতে পারে। কিন্তু মুজিব হত্যার দায় কি শেখ মুজিবুর রহমানের সমান্তরালে নিহত শেখ মনি এড়িয়ে যেতে পারবেন? 


ভবিষ্যৎ হয়তো উত্তর দেবে


যেভাবে মুজিব হত্যা ষড়যন্ত্রের আগাম খবর, মুজিব অব্ধি পৌঁছুতে দেননি শেখ মনি।
একটি অপ্রকাশিত বই থেকেঃ  


"শেখ মুজিবের বিরুদ্ধে যে ষড়যন্ত্র হচ্ছে এ সম্পর্কে তথ্য দিয়েছেন তাঁর সহকারী প্রেস সচিব মাহবুব তালুকদার। সরকারী গোয়েন্দা সংস্থায় কাজ করতেন তাঁর এক দুসম্পর্কের আত্মীয়। তিনি অজ্ঞাত কারণে তাঁর আসল নামটি উল্লেখ করেন নি। 
  

তাঁর কাজের মধ্যে ছিল হোটেল ইন্টার-কন্টিনেন্টালে বিদেশিদের গতিবিধির ওপর নজর রাখা এবং মাঝেমধ্যে তাঁদের টেলিফোন টেপ করে সন্দেহ জনক তথ্য পেলে কতৃপক্ষের কাছে পাঠানো। তিনি একদিন উত্তেজিত হয়ে বললেনঃ 


“বঙ্গন্ধুকে সরানোর গভীর ষড়যন্ত্র হচ্ছে। কয়েক দিনের মধ্যেই খারাপ কিছু একটা ঘটবে।“  

তালুকদার তাঁর বন্ধু রফিকুল আনোয়ারকে বিষয়টা জানালেন। তাঁরা দুজন গেলেন শেখ ফজলুল হক মনির কাছে। মনি, তালুকদারের সমসাময়িক বন্ধু এবং মুক্তিযুদ্ধের সময় কলকাতায় তাঁরা কিছুদিন একসঙ্গে ছিলেন। মনির সাথে তাঁদের কথাবার্তা ছিল ছিল এরকমঃ
ঘটনা আনুপূর্বিক বর্ননা করলাম। 
"মনি শুনে বললেন অ্যাবসার্ড। লোকটা মনে মনে একটা ঘটনা তৈরি করেছে" 
তবু বংবন্ধুকে ঘটনাটা বলে রাখা প্রয়োজন। রফিকুল আনোয়ার বললেন।

"কাল্পনিক ঘটনা তাঁকে বলে লাভ নেই। দেশে বিপ্লব ঘটছে। বাকশাল নিয়ে আমরা খুবই ব্যাস্ত। এ সমস্ত আজগুবি খবর বলে বঙ্গবন্ধুকে বিড়ম্বিত করা ঠিক হবেনা" 


অগত্যা মনির অফিস থেকে ফিরে এলাম। আমাদের উভয়ের মন ভরাক্রান্ত। রফিকুল আনোয়ার বললেন বঙ্গবন্ধুকে তুমি সরাসরি কথাটা বলতে পার। তাঁর নিরাপত্যার ব্যাপারে তুমি চিন্তা কর জানলে উনি খুশিই হবেন।
"আর কাউকে কিছু বলার প্রয়োজন নেই" 
 অভিমান ভরে বললাম, 
"এ সমস্ত আজগুবি খবর নিয়ে আমাদেরও মাথাব্যাথার কোন কারণ নেই ..."

Mohiuddin Ahmed- প্রথম আলো 

শেখ মুজিব কে যেভাবে শায়েস্তা করতে চেয়েছিল কর্নেল তাহের

শেখ মুজিব কে যেভাবে শায়েস্তা করতে চেয়েছিল কর্নেল তাহের

একটি অপ্রকাশিত বই থেকেঃ- 


ফারুক-রশিদ একা ছিলেন না। সরকার ও রাজনীতি সম্পর্কে সামরিক বাহিনীর মধ্যে জন্ম দিয়েছিল নেতিবাচক মনস্তত্ত্ব। এই মনস্তত্ত্বের একটা গূরুত্বপূর্ণ প্রতিফলন পাওয়া যায় সেনাবাহিনী থেকে ইচ্ছার বিরুদ্ধে অবসরে যাওয়া লেঃ কর্নেল আবু তাহেরের মধ্যে। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ীঃ 

"পচাত্তরের ১৫ অগাস্ট পর্যন্ত, আওয়ামীলীগের ভূমিকা সবারই জানা। কিভাবে একটার পর একটা গনতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠান ধ্বংস করা হয়েছিল, কিভাবে জনগনের গণতান্ত্রিক অধিকার নিষ্ঠুর ভাবে দমন করা হয়েছিল।
আমাদের লালিত সব আকাঙ্ক্ষা, স্বপ্ন ও মূল্যবোধ একের পর এক ধ্বংস করা হয়েছিল। গণতন্ত্রকে অত্যান্ত নোংরাভাবে ভাবে কবর দেয়া হয়েছিল। জনগণকে পায়ের নিচে পিষে, জাতির ওপর চাপিয়ে দেওয়া হয়েছিল ফ্যাসিস্ট একনায়কতন্ত্র।
শেখ মুজিব জনগণের নেতা ছিলেন। অস্বীকার করার অর্থ হবে সত্যকে অস্বীকার করা। চূড়ান্ত বিশ্লেষণে তাঁর ভাগ্য নির্ধারণের ভার জনগণের ওপর বর্তায়। জনগণের উচিৎ হবে জেগে ওঠা এবং প্রতারণার দায়ে মুজিবকে উৎখাত করা"। 

Mohiuddin Ahmad ভায়ের অপ্রকাশিত বই থেকে।

সুন্দর বন

বুঝিনা, বাংলাদেশকে সবুজ রাখতে আওয়ামী লীগের এত আপত্তি কেন?

*সুন্দরবনের বন কর্তার বালিশ ভর্তি টাকার কথা মনে আছে নিশ্চয়। বনে গাছ চোরাই করে কেটে বন ধ্বংস শুরু করে এখন ফাইনালি *রামপাল প্লান্টের মাধ্যমে সুন্দরবনকে কোন ভাবে বেঁচে থাকার উপাই টুকুও ধ্বংস করছে সরকার।
*তেল বহন করা লঞ্চ সুন্দর বনের অভ্যন্তরে চলতে দিয়ে মিঠা পানির গুণাগুণ নষ্ট করেছে আওয়ামীলীগ। *বন্ধু রাস্ট্রের ইউরেনিয়াম লিক করে হাওরের লাখ মানুষের হতশ্রী অবস্থা নিয়ে তদন্ত বন্ধের কাছে নিয়ে গিয়েছে আওয়ামী লীগ। *কাঠ কয়লা জ্বালানিতে চলা ইট ভাটা গুলোর এখন রমরমা অবস্থা। *সারা দেশের হাইওয়ে গুলোর দু পাশের শত বর্ষী সবুজ গাছ গুলোর ৭৫ শতাংশের বেশী কেটে ফেলেছে আওয়ামি লীগের স্থানীয় নেতারা। *দেশের পূর্বাংশে অধিকাংশ সড়কে পুরাতন গাছ এক খানাও পাবেন না। সব বৃক্ষ গিয়েছে ভগবান ভোগে।
*সোহরাওয়ার্দি উদ্যানের সবুজ হরিৎ কেটে নির্মান করেছে অর্ধ মৃত কৃত্তিম স্মৃতি অনির্বান। *জিয়া(চন্দ্রিমা) উদ্যানের সবুজ বাগান সাফ করে বঙ্গবন্ধু সম্মেলন কেন্দ্র বানিয়েছে আওয়ামীলীগ সরকার।
*প্রবাহ মান নদীর শির কেটে মাটি ভড়াটের মাধ্যমে বন্ধু দেশের মালামাল পারাপারের ব্রিজ বানিয়েছে আওয়ামীলীগ।
দেশের পাহাড়ি অঞ্চলে, পাহাড়ে অবাধে গাছ ও পাহাড় কেটে মাটির গঠন দূর্বল করে দেওয়া হয়েছে। ফলশ্রুতিতে সামান্য বৃষ্টিতে পাহাড় ধ্বসে ১৭৫ জনের ওপর মানুষ ইতিমধ্যেই নিহত(খুন) হয়েছে।
আজ দুদিন বিশ্ব প্ত্রিকার গুলোর নেগেটিভ শিরোনাম বাংলাদেশ
এক নজরে দেখে নিন , আন্তর্জাতিক গন মাধ্যমে বাংলাদেশের আজকের করুণ অবস্থানঃ

1.The Guardian view on Bangladesh: the people deserve better
https://www.theguardian.com/…/the-guardian-view-on-banglade…
3.Bangladesh landslides death toll continues to rise amid heavy rains:
http://www.smh.com.au/…/bangladesh-landslides-death-toll-co…

4.Fresh landslides hit Bangladesh, kill four in their homes/ Two children were buried in their sleep while two other victims were killed in a separate incident:
http://m.gulfnews.com/…/fresh-landslides-hit-bangladesh-kil…
5.Bangladesh: Landslide kills 5 people after heavy rains
http://www.deccanchronicle.com/…/fresh-landslides-kill-5-in…
6.Fresh landslides see rising Bangladesh toll
http://www.skynews.com.au/…/fresh-landslides-see-rising-ban…
7.Fresh landslides kill 5 in Bangladesh
http://www.business-standard.com/…/fresh-landslides-kill-5-…
8.Bangladesh: Fresh landslides claims four lives:
http://m.indiablooms.com/…/bangladesh-fresh-landslides-clai…
9.Fresh landslides claim 5 lives in Bangladesh
http://news.xinhuanet.com/english/2017-06/…/c_136375099.html
ইহার চেয়ে হতাম যদি আরব বেদুইন, চরণ তলে বিশাল মরু
দিগন্তে বিলীন...