সোমবার, ২২ ফেব্রুয়ারি, ২০১৬

ধূর বাড়া গোল

খোদা বক্স মৃধা, ধারাভাষ্য দিচ্ছেন;
আজকের রোদ্র করোজ্জ্বল মাঠে স্বাগতম।
মাঝ মাঠ থেকে নিয়ন্ত্রণ নিলেন মুন্না, কাটিয়েছেন দুজনকে, সামনে বাধা কাইসার হামিদ, হিমালয়ের মত বাঁধা। না পারলেন না মোমেন মুন্না।
না না না গোলের মত হয়েছিল, গো.. গো..ধূর বাড়া গোল..
Kazi Mahmud Rumman ভায়ের বাংলা ভাষা সংক্রান্ত পোস্ট দেখে.. আমারো ইচ্ছা হল এই পোস্ট লিখতে..
আমি বাংলাই লিখি, আমি বাঙলাই বলি __মম লুক আমি বেংগলী লার্ন করেছি
That's গ্রেট .. মেরি বাচ্চা.. মা বললেন যোশ্ এ..

U turn

অনেকদিন পরে আবার বসলাম।

বুইড়া'র বউ আমার প্রেমিকা। বুইড়া প্রস্তাব দিয়ে বসলো আমার বউ কে যদি জাহান্নামে পাগারপার করে দাও তবে.....
আমার চোখে আশাহত অবিশ্বাসের ইশারা...
প্রমিকা আমার ছিপছিপে লাবণ্যময়ী.. বুইড়াকে মেরে চল ভাগি..শুধাইলো সুন্দরী মোর।
বুইড়া মরলে রাজকন্যা, রাজত্ব, রাজকোষ সব আমার..
বিশ্বাস এবং বিশ্বাসভঙ্গ ; এই গেমের শেষ টা শেষ হবে কোথায়?
ঘটনা চক্রে যদি হাইওয়ের ধারের ঐ কালী মাখা গ্যারাজে না পৌঁছতাম..তবে?
আজ U turn মুভিটা যখন আবার দেখছি তখন সেই একই রঙচটা দৃষ্মপট আবার সামনে।
বুইড়া ভামের ক্রোধ, জেনিফার লোপেজের এক অন্য ভিন্ন বোধ, আমার আমিকে নিয়ে আমার আঁধারের গহীনে আরো এক অপূর্ব পূর্বাশা!
সাসপেন্স, রোমান্স, হিপোক্রেসি, অটোক্রেসি, ডেমোক্রেসি, সেক্স ভায়োলেন্স আর রোমান্স নিয়ে গল্পের শেষ ছবি আমরাই বুনবো..
It's a promise...

শহীদ জিয়ার বিপ্লব – দ্বিতীয় পর্ব

শহীদ জিয়ার বিপ্লব – দ্বিতীয় 




কৃষি বিপ্লবের জন্য আধুনিক সেচ ব্যাবস্থা আর খাল খনন করেই তিনি তার দায়িত্ব শেষ করেন নি। কৃষকরা যাতে সময় মত ফসল বুনতে পারে এবং সার দিতে পারে তার জন্য কৃষি ঋনের ব্যাবস্থা করেন। নিজে ব্যাক্তিগত উদ্দেগ্যে ১৯৭৭ সালে কৃষকদের জন্য সরকার থেকে ১০০ কোটি টাকা মঞ্জুর করেন। শুধু মঞ্জুর করাই না সে ঋন কৃষকরা আবেদন করার ঠিক ৪৮ ঘন্টার মাঝে ঠিক ভাবে পাচ্ছে কিনা তাও নিজে সরেজমিনে তদন্ত করতেন। কারো বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠলে তদন্ত সাপেক্ষে ব্যাবস্থা নিতেন। এর জন্য গ্রাম গঞ্জের প্রত্যন্ত এলাকা ভ্রমন করতেন।

কৃষি ব্যাংকের সাবেক উপ- মহাব্যাবস্থাপক জনাব শরীফুল ইসলাম স্মৃতিচারন থেকে এব্যাপারে কিছু জানা যায়।

“১৯৮০ সালের ফেব্রুয়ারী মাসের কথা আমি তখন যশোর শাখার ব্যাবস্থাপক। সকাল ৯টা ৫ মিনিটে অফিসে বসে আছি, হঠাৎ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান আমার সামনে হাজির। আমি থতমত খেয়ে গেলাম। স্ব শরীরে প্রেসিডেন্ট আমার সামনে। গত রাতে প্রেসিডেন্ট যশোর আসে নি আসলে আমি নিশ্চয় ই জানতাম কারন প্রশাষনের কর্তা ব্যাক্তিদের সাথে আমি ঘনিষ্ঠ ছিলাম। আমি নিশ্চয় ই স্বপ্ন দেখছি।
“কি ম্যানেজার সাহেব? বসতে বলবেন না?”
জিয়াউর রহমানের গুরু গম্ভীর স্বরে আমার চৈতন্য হল।

“জ্বি স্যার, জ্বি” আমি অনেকটা ঘোরা লাগা কন্ঠে বললাম। ব্যাংকের খোজ নিতে লাগলেন। কর্মকর্তা কর্মচারীদের ব্যাপারে খোজ নিলেন কথা বললেন। এরই মাঝে যশোর জেলার সব উর্ধতন কর্মচারীরা আমার ব্যাঙ্কে হাজির। সামনের কাউন্টারে ৩০/৩৫ জন কৃষক ব্যাংকে এসেছে ঋন নিতে। প্রেসিডেন্ট তাদের কাছে গিয়ে জিজ্ঞাস করলেন তাদের ঋন পেতে কোন অসুবিধা হচ্ছে কিনা?

সব্বাই সমস্বরে বলল না হচ্ছে না। আমার দিকে তাকিয়ে বললেন ধন্যবাদ মযানেজার সাহেব। এর পর উনি চেয়ার থেকে উঠে বের হয়ে গেলেন। আমি এক কাপ চাও খাওয়াতে পারলাম না। সেই শত কোটি টাকার কৃষি ঋন আজকে হাজার কোটি ছাড়িয়ে গেছে। দেশ আজকে খাদ্যে যে স্বয়ং সম্পূর্ন তার মুলে কিন্তু ওই বিশেষ কৃষি ঋন।

কৃষির উন্নত যন্ত্রপাতি তৈরী করার জন্য তেজগাওতে কৃষি ব্যাংক কে তিন একর জমি দান করেন। সেখানে তিনি কৃষি বিভাগে কর্মরত উদ্ভাবকদের উদ্ভাবিত যন্ত্রপাতির এক প্রদর্শনীও তিনি নিজে দেখেন। স্বৈরশাষক এরশাদ ক্ষমতায় এসে সে প্রকল্প বাতিল করে উক্ত জায়গা দখল নেন।

উত্তর বংগের রাজশাহী, নাটোর, চাপাই নবাবগঞ্জ, পাবনা জেলার বেশ কয়টি উপজেলায় ফসল বলতে গেলে হত ই না। কারন এসব এলাকা অন্যান্য এলাকা থেকে কিছুটা উচু ছিল। প্রেসিডেন্ট জিয়া “বরেন্দ্র উন্নয়ন প্রকল্প” নামে একটি প্রকল্প নিজ উদ্দেগ্যে চালু করলেন। শুরুতে খোদ কৃষি মন্ত্রনালয়ের কর্তা ব্যাক্তিরা এই প্রকল্পের ব্যাপারে নেতিবাচক প্রতিক্রিয়া দেখান। অনেকেই একে রাজনৈতিক উচ্চভিলাষী প্রকল্প হিসাবে দেখেন। কিন্তু প্রেসিডেন্ট জিয়ার ব্যাক্তিগত উদ্দ্যেগে আর তত্ত্বাবধানে এই প্রকল্প আশার থেকেও বেশি সফলতা লাভ করে। বর্তমানে উত্তর বংগের প্রধান শষ্য ভান্ডার হল বরেন্দ্র উন্নয়ন প্রকল্প। শুধু শষ্য উৎপাদনই নয় এর পাশাপাশি নারকেল, সুপারী, আম, পেয়ারা সহ অসংখ্য ফলজ শষ্য বরেন্দ্র প্রকল্প কে ঐশ্বর্য মন্ডিত করে।
জিয়া তিস্তা ব্যারেজ প্রকল্প চালু করে ধানের পাশাপাশি গম চাষের দিকে মনোযোগ দেয় যেটা কৃষি মন্ত্রনালয়ের কর্তা ব্যাক্তিরা মোটেও রাজি ছিলেন না। কিন্তু এক রোখা বাস্তববাদী প্রেসিডেন্ট জিয়া উত্তরবংগে ব্যাপকভাবে গমের ফলন করিয়ে আর একবার তার দেশ প্রেম দেখিয়ে দেন। সারা দেশে এখন যে ব্যাপকভাবে গম চাষ হয় সেটা ওই জিয়ার অনেক টা ব্যাক্তিগত উদ্দেগের ফল।
প্রেসিডেন্ট জিয়া ইতিহাসের পাতা থেকে নজির টেনে বলেন এক সময় এদেশে ব্যাপকভাবে তুলা চাষ হত এখন কেন হচ্ছে না? তিনি পরীক্ষামুলকভাবে ময়মনসিংহের ভালুকা, গাজীপুরের শ্রীপুর এলাকায় তুলা চাষের নির্দেশ দেন। সে পরীক্ষা সফল হলে রাজশাহী সহ বেশ কয়েক টি জায়গায় বানিজ্যিক ভাবে তুলা চাষ শুরু হয়। আজকের যে রাজশাহীর সিল্ক তার উৎস কি জানেন? ওই তুলা যে তুলা চাষ জিয়ার মস্তিস্ক প্রসূত।

সামান্য ২/৩ বছরের কর্মপ্রচেষ্টা দেশ কে কোথায় নিয়ে যায় তার প্রমান জিয়া হাতে হাতে দেখিয়ে দেন। যেখানে ১৯৭৩-৭৪ সালে ৩৫ লক্ষ্য ৬১ হাজার ৪৭২ একর জমি সেচের আওতায় ছিল ১৯৮০-৮১ অর্থ বছরে ১.২ গুন বৃদ্ধি পেয়ে ৪২ লক্ষ্য ৬৪ হাজার একরে উন্নীত হয়। ১৯৭৩-৭৪ অর্থ বছরে ধান, গম, পাতের হেক্টর প্রতি উৎপাদন ছিল ১.১, ০.৯, ৬.১ মেট্রিক টন ১৯৮০-৮১ অর্থ বছরে ১.৩, ১.৮ আর ৭.৮ মেট্রিক টনে উন্নীত হয়। তার আমলে আখের উৎপাদন অনেক বেড়ে গিয়েছিল যথাযথ প্রচেষ্টার মাধ্যমে। চিনি উৎপাদন বেড়ে যায় ১.৬৫ গুন মানে ১ লক্ষ্য ৪৫ হাজার ২১০ মেট্রিক টন। 

তামাক চাষিদের সমস্যা নিজে শুনতেন আর সেমত ব্যাবস্থা নিতেন। ১৯৭৫ সালের পূর্বে এদেশে রাবার চাষ প্রায় হত ই না। প্রেসিডেন্ট জিয়ার ঐকান্তিক প্রচেষ্টায় চট্টগ্রাম, পার্বত্য চট্টগ্রাম রাবার চাষ শুরু হয়, ১৯৭৮-৭৯ সালে দেশে দশ লাখ পাউন্ড কাচা রাবার উৎপাদন হয়। এখন দেশের চাহিদার প্রায় ৬০% রাবার ই দেশে উৎপন্ন হয়।
জিয়া যে শুধু খাদ্য শষ্য উৎপাদনেই নজর দিয়েছিলেন এমন না। গবাদি পশু প্রজননের দিকে নজর রেখেছিলেন। ১৯৭২ এর সূচক =১০০ ধরে ১৯৮০-৮১ অর্থ বছরে ধানের উৎপাদন সুচক বাড়ে ১৩৮, গমের = ১১৫৮, আখের = ১২০, শাক সব্জির = ১১৫, গবাদি পশু এবং হাস মুরগীর খামার = ১৫৮ আর বন সম্পদ = ১৫৮।
শহীদ জিয়ার খাদ্য বিপ্লবের আরো অনেক পরিসংখ্যান এবং উদাহরন দেয়া যায় তবে সে দিকে আমরা এখন যাব না এব্যাপারে আরো অনেক কিছু বিশ্লেষানের আছে। তবে খাদ্য বিপ্লব কিন্তু দেশ কে সত্যই উন্নয়নের সামনের কাতারে নিয়ে এসেছিল।

সাথে থাকুন পরের পর্বে বিপ্লবের দ্বিতীয় ধাপ শিক্ষা বিপ্লব এর আলোচনা হবে।

রবিবার, ২১ ফেব্রুয়ারি, ২০১৬

বিপ্লব ১ম পর্ব

শহীদ জিয়ার বিপ্লব – প্রথম পর্ব।
========================
১৯৭৯ সালের শেষ দিক। হঠাৎ রাষ্ট্রপতি জিয়া ঘোষনা দিলেন “আমি বিপ্লব করব”। সারা দেশ এক রকম স্থবির হয়ে গেল এই ঘোষনা শুনে। তখন ও মানুষের মনে জাসদ আর বাকশালী শ্বেত বিপ্লব আর লাল বিপ্লবের আতংক জ্বল জ্বল করছে। আমলারা হতবাক আর নিজ দলের রাজনীতিবিদরা অস্থির বিরোধী দলীয়রা ভয়ে জরোসরো।

আমাদের দেশের পরিপ্রেক্ষিতে বিপ্লব তো স্বৈরাচারের বিরুদ্ধে সাধারনের প্রতিবাদ বুজায়। রাষ্ট্র প্রধান সেখানে কার বিরুদ্ধে বিপ্লব করবে? কয়েকজন সিনিয়র নেতা এবং মন্ত্রী তৎকালীন এন এস আই য়ের মহাপরিচালককে অনুরোধ করে প্রেসিডেন্ট জিয়াকে বিপ্লব সম্পর্কে জানার জন্য। মহাপরিচালক প্রেসিডেন্ট জিয়াকে মন্ত্রীদের উদ্বেগ জানালে তিনি বলেন, “ ওদের বলে দিন, ওদের ধারনা ভুল, দুশ্চিন্তা অমুলক।“

“সাধারন মানুষের ধারনা বিপ্লব সব সময় হিংসাত্মক হয়। কিন্তু তা সত্য নয় । ইউরোপে যান্ত্রিক ক্ষেত্রে যে পরিবর্তন আসছিলো দেখা যায় তাকে শিল্প বিপ্লব আখ্যা দেয়া হয়। সে বিপ্লব কিন্তু হিংসাত্মক রূপ নেয় নি। আমার বিপ্লব ও হবে শান্তি পূর্ন। আমাদের বিপ্লবের মুল উদ্দেশ্য হল জনগনের শক্তিকে কাজে লাগিয়ে এগিয়ে যাওয়া।“ প্রেসিডেন্ট জিয়া বলে যাচ্ছেন, “আমাদের দেশে অনেক লোক অভুক্ত থাকে, অনেক লোকের কর্ম সংস্থাপন নেই, অনেক মানুষের থাকার জায়গা নেই, ওষুধ পায়না বহুলোকে। আমরা যদি পরিকল্পিত বিপ্লবের মাধ্যমে এগুলোর সমাধান না করি তাহলেও বিপ্লব হবে। সে বিপ্লব হবে অপরিকল্পিত হিংসাত্মক নেতৃত্বহীন। এতে কারোই মঙ্গল হবে না দেশ যাবে বিদেশী মানুষ দের দখলে।“

“সে বিপ্লব ঠেকাতেই আমাদের পরিকল্পিত বিপ্লব ঘটাতে হবে। বসে থাকার সময় নেই। আমার বিপ্লবের টার্গেট হল কৃষি বিপ্লব এবং শিল্প বিপ্লব। আমি নিরক্ষরতা দুরীকরনের বিপ্লব করব। আমি বিপ্লবের মধ্য দিয়ে স্বনির্ভর, স্বাবলম্বী উৎপাদনশীল জন গোষ্ঠী গড়ে তুলব যারা নিজের পায়ে দাড়াতে শিখবে। যারা নিজেদের সমস্যার সমাধান নিজেরা করার আত্ম বিশ্বাস লাভ করবে”

সকল কানাঘুষার অবসান ঘটিয়ে ১৮ ই নভেম্ভর ৭৯ সালে জাতির উদ্দেশ্যে ৪ টি শান্তিপূর্ন বিপ্লবের কর্মসূচী ঘোষনা করেন।

১। কৃষি ও খাদ্য বিপ্লব
২। শিল্প বিপ্লব
৩। শিক্ষা বিপ্লব
৪। স্বাস্থ্যসেবা ও জন সংখ্যা নিয়ন্ত্রন।

একজন রাষ্ট্রপতি হিসাবে তিনি দিক দর্শন করিয়ে আমলা মন্ত্রীদের দিয়ে কাজ করিয়ে নিতে পারতেন। কিন্তু জিয়াউর রহমান তো শুধু কোন রাষ্ট্রপতি ছিলেন না ছিলেন বাংলাদেশীদের আত্ম মর্যদা জাতীয়তাবোধের অহং কে চিনিয়ে দেবার কান্ডারী। নিজে নেমে গেলেন নিজের প্রদর্শিত পথ হাতে কলমে দেখিয়ে দেবার জন্য। এখানেই তিনি ছিলেন আছেন অনন্য।

কৃষি বিপ্লব

স্বনির্ভর বাংলাদেশ গড়ার মুল উপাদান হচ্ছে খাদ্য উৎপাদন বৃদ্ধি এবং স্বয়ংসম্পুর্নতা বৃদ্ধি। ২ য় পঞ্চ বার্ষিকী পরিকল্পনায় ৫ বছরের মধ্যে খাদ্য উৎপাদন দ্বিগুন করার কর্মসূচী গ্রহন করেছিলেন। তিনি বুজতে পারেন যে গ্রাম বাংলার সমৃদ্ধির ওপর বাংলাদেশের সমৃদ্ধি বৃদ্ধি। খাদ্যে স্বয়ং সম্পূর্ন হতে হলে একই জমিতে দুই বার তিনবার ফসল ফলাতে হবে। ফারাক্কা বাধের কারনে উত্তাল উন্মাতাল পদ্মাকে ভারত মেরে ফেলছে। শীতকালে আমাদের নদীতে পানি থাকেই না। কিন্তু সারা বছর ফসল উৎপাদন করতে হলে নদীতে পর্যাপ্ত পানি চাই।

দেশের হাজামজা নদীগুলোকে আবার পূর্ন খনন করে তাতে পানির অবাদ প্রবাহ নিশ্চিত করেন আবার যেখানে নদী নেই সেখানে ছোট ছোট নালা কেটে নদীর পানি দিয়ে খাল বানিয়ে নিলেন। আবার যেখানে তাও সম্ভব না সেখানে স্থানীয় ভাবে পুকুর কেটে অথবা কচুরী পানা ভর্তি পুকুর ডোবা গুলোকে সংস্কার করে সেগুলো বর্ষাকালে পানি ধরে রাখার উপযোগী করে তুললেন।

ওই পুকুর গুলোতে আবার মাছ চাষে উদ্ভুদ্ধ করতেন। তিনি স্বেচ্ছাশ্রমের ভিত্তিতে দেশের ছোট বড় সবাই কে আহ্বান জানান। প্রধান সামরিক আইন প্রশাষক থাকা অবস্থাতেই উলশী- যদুনাথপুর প্রকল্পের মাধ্যমে ১৯৭৬ সালের ১ লা নভেম্বর খাল খননের আনুষ্ঠানিক উদ্ভোধন করে দেশে তিনি খাদ্য বিপ্লবের শুরু করেন।

দৈনিক বাংলার আলোক চিত্র শিল্পী জনাব মোহাম্মদ কামরুজ্জামান তার “স্মরনের মালা গাথি” স্মৃতিচারন নিবন্ধ এখানে তুলে ধরা হলঃ

“ আমি সংবাদপত্রের এক নগন্য আলোক চিত্র শিল্প। পেশা গত দায়িত্ব পালনের জন্য আমার ছবি সংগ্রহ করতে হয়। সেভাবেই জিয়ার ছবি আমাকে সংগ্রহ করতে হয়েছে। তার ছবি সংগ্রহ করতে হয়েছে রাজধানীর বিমান বন্দর, বঙ্গভবনে, ওইতিহাসিক পল্টন ময়দানে, নগরীর বিভিন্ন মহল্লায়, বিভিন্ন জেলা আর মহাকুমা সদরে। ছবি তুলতে হয়েছে বাংলাদেশের গ্রামে গঞ্জে। গত ছয়টি বছর ধরে বিভিন্ন অনুষ্ঠানে আমি তার ছবি তুলেছি আর সর্বত্রই শুনেছি তার মুখ দিয়ে একটি কথাঃ আপনারা কাজ করুন। নিজ পায়ে দাড়ান, অলস হয়ে বসে থাকলে চলবে না।”

নেতাদের ক্ষেত্রে এমন তাগিদ দেয়া নতুন কিছু না। তবে এ ক্ষেত্রে একটু তফাৎ ছিল – তিনি অপরকে যা বলতেন নিজে তা করে দেখাতেন। এ প্রসঙ্গে প্রথমেই মনে পড়ে যশর জেলার উলশী-যদুনাথপুরের বেতনা নদী সংযোগ প্রকল্প। ১৯৭৬ সালের ১ লা নভেম্বর। উলশী – যদুনাথপুরের যেখানে খাল কাটা শুরু  হওয়ার কথা সেখানে অপেক্ষা করেছিলাম। অপেক্ষা করছিলাম একটি সামাজিক আন্দোলন শুরু করার অপেক্ষায় একজন মানুষের জন্য। তিনি মেজর জেনারেল জিয়াউর রহমান।

যথা সময়ে হেলিকপ্টার এল। তিনি হেলি কপ্টার থেকে নেমে এগিয়ে গেলেন প্রকল্পের দিকে, সাথে সেনাবাহিনীর অনেক উচ্চ পদস্থ অফিসার। তার পরনে ছিল সামরিক পোষাক। হাতে ছিল ছড়ি। সব কিছু দেখে আমার আগে কার দিনের নেতাদের কথাই মনে হচ্ছিল। ভাবছিলাম আজো বক্তৃতা মঞ্চে ভাষন দেবার হাজার হাজার মানুষের ছবি পাঠাব। কিন্তু পাঠান হয় নি পাঠালাম রাইফেল ধরা হাতে কোদাল ধরা ছবি। পুরো সামরিক পোষাকে সজ্জিত সেনাপতির মাটি কাটার ছবি।

বেতনা নদীর দৈর্ঘ্য বারো মাইল। খালের বিভিন্ন সাথে কোদাল হাতে মাটি কেটে যাচ্ছেন জিয়া আর সে দৃশ্য সাধারনের মাঝে এক অভুত পূর্ব প্রেরনা সঞ্চার করেছিল। ছবি তুলছিলাম আর ভাবছিলাম “এখান থেকে শুরু হল দেশের পট পরিবর্তনের এক নতুন পালা” সুদীর্ঘ ১৬ মাইল পথ পায়ে হেটে সাধারন মানুষের দুয়ারে দুয়ারে গিয়ে তিনি ব্যাখ্য করতে লাগলেন প্রকল্পের ভবিষ্যতের কথা। বুজাচ্ছিলেন এই খাল খনন হলে সামনে কি হবে।।

৩য় বিশ্বের দেশগুলোর জন্য জিয়ার ১০ দফা

২৬ অগাস্ট
নিউইয়র্ক

জাতিসংঘ সাধারন পরিষদের অধিবেশনে ৩য় বিশ্বের দেশ সমূহের পক্ষে প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান বিশেষ "নয়া উন্নয়ন কাঠামো" গঠনের লক্ষে দশ দফা প্রস্তাবনা আনেন।

আজ ২১ ফেব্রুয়ারি, গর্ব করেই বলতে চাই এই ভাষণটা  প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান বাংলা ভাষাতে দিয়েছিলেন।

সেদিনের ১০ দফা আজকে উপস্থাপন করছি জিয়াউর রহমানের অজস্র ভক্তদের উদ্দেশ্য।

১।এক নতুন বিশ্ব অর্থনৈতিক ব্যাবস্থা প্রতিষ্ঠায় উত্তরের জনমত সংগঠনের ব্যাপারে, দক্ষিণ সম্ভাব্য সব ধরনের সহযোগিতার ব্যাবস্থা করবে।

২।পরিকল্পিত অর্থনীতিভিত্তিক দেশগুলো সহ শিল্পোন্নত দেশ, সবচেয়ে অনুন্নত দেশগুলির প্রতি তাদের সবরকম উন্নয়ন সহায়তার পরিমান অবিলম্বে দ্বিগুণ করবে এবং এই সকল সহায়তা শর্তমুক্ত হবে।

৩।ওপেক দেশ সমূহ সবচেয়ে অনুন্নত দেশ সমূহের জন্য তেলের মূল্য ৫০% হ্রাস করবে।

৪।একটি আন্তর্জতিক কনসর্টিয়াম গঠনের মাধ্যমে অতি অনুন্নত দেশগুলোর জন্য জ্বালানী শক্তি সম্পদ উন্নয়নের ব্যাবস্থা নেবে।

৫।তেল সমৃদ্ধ ওপেক দেশগুলো তাদের সম্পদের নির্দিষ্ট একটা অংশ উন্নয়নকাকামী দেশগুলোতে বিনিয়োগের ব্যাবস্থা নেবে।

৬।আন্তর্জাতিক বানিজ্য ও অস্ত্র ব্যায়ের ওপর কর আরোপের মাধ্যমে উত্তম ও দক্ষিনের মধ্যে সম্পদের ব্যাপক হস্তান্তরের ব্যাবস্থা নেবে।

৭।উত্তরের অর্থনীতিতে দক্ষিনের জনশক্তি বর্তমানে যে বাস্তব অবদান রাখছে, সেজন্য উত্তরের ব্যাপারে দক্ষিণকে যথাযথ প্রতিদানের ব্যাবস্থা করতে হবে।

৮)দক্ষিনের দরিদ্র দেশগুলোর জন্য বহুজাতিক সংস্থা সমূহ ও অতি ধনীদেশ গুলোর উপর বিশেষ ট্যাক্স ধার্য করা।

৯)উন্নয়নকামী দেশগুলোর স্বার্থে জাতিসংঘ ও অধীনস্ত বিভিন্ন সংস্থা, আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল ও বিশ্ব ব্যাংককে পূনর্বিনস্ত করতে হবে। একই সাথে সবচেয়ে অনুন্নত দেশগুলোর জন্য গৃহীত কর্মপন্থা কার্যক্রমের বাস্তবায়নের
উদ্দেশ্যে উপযুক্ত প্রতিষ্ঠান গঠনের ব্যাবস্থা নিতে হবে।

১০)সার্বজনীন সদস্যপদের ব্যাবস্থাসহ একটি বিশ্ব উন্নয়ন তহবিল প্রতিষ্ঠা করতে হবে। বিশ্বব্যাপী কর আরোপের মাধ্যমে সংগৃহীত অর্থ এই তহবিলে জমা হবে এবং এই অর্থের যথাযথ বরাদ্দ ও ব্যাবহার নিশ্চিত করবে এই সংস্থা নিজেই।

শনিবার, ২০ ফেব্রুয়ারি, ২০১৬

অন্তজাল থেকে প্রকৃত ৭১

সত্য উন্মোচিত হোকঃ
=========================================
১৯৬২ সাল ; ২০ অক্টোবর

যুদ্ধে জড়িয়ে পরে সোসালিস্ট চায়না এবং ইন্ডিয়া। ২৮ অক্টোবর ইউ এস প্রেসিডেন্ট জন এফ কেনেডি চিঠি লিখলেন আইউব খাঁনকে। “কমিউনিস্ট চায়নাকে রুখতে ইন্ডিয়ার সহযোগিতাতে এগিয়ে আসুন“।

এই আহ্বানের মাধ্যমে, প্রকারান্তরে মার্কিন প্রেসিডেন্ট, আইউব খানকে সমাজতান্ত্রিক চায়নার বিরুদ্ধে ভারতের পক্ষে শান্তি চুক্তিতে আসার জন্য চাপ প্রয়োগ করে যা সামরিক গাঁটছড়া বাঁধার নামান্তর। স্বভাবিক ভাবেই আইউব খান মার্কিনমুলুকের এই প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করে।

এই প্রস্তাব প্রত্যাক্ষানের ক্ষেত্রে আরো একটা নিয়ামক ছিল রাশিয়া। কোল্ড ওয়ার যুগে রাশিয়ার পাশে বসবাস করে রাশিয়ার রাজনৈতিক উচ্চাকাঙ্ক্ষার পথে বাধা হয়ে দাঁড়ানো সহজ কথা নয়।

পেশোয়ারের বাটাভ এলাকাতে ছিল সিআইএ এর গোপন বিমান ঘাঁটি। U-2 নামের মার্কিন গোয়েন্দা বিমান এই ঘাঁটি থেকেই সোভিয়েটদের উপর নজরদারী চালাতো। সোভিয়েট মিসাইল পাইলট গ্যারি পাওয়ার, U-2 বিমান কে ভুমিতে নামিয়ে আনেন এবং ততকালীন সোভিয়েট প্রাইম মিনিস্টার নিকিতা ক্রুসচেভ পাকিস্থানকে এই মর্মে হুশিয়ার দেন যে

, ““পেশোয়ারের বাটাভেতে অবস্থিত মার্কিন ঘাঁটি, রুশ মিসাইলের নাগালের ভেতরেই আছে।”

গোদের উপর বিষ ফোঁড়া ; পাকিস্থানের জন্য। আইউবকে বাধ্য হয়ে বাটাভে সিআইএ ঘাঁটি বন্ধ করে দিতে হয়, মার্কিনিদের রুষ্ট করে। এই সিদ্ধান্তের মাধ্যমে আইউব খান বিদেশ নীতিতে সোভিয়েট অনুবীজ বপন করেন , নিজের অজান্তেই।
কাল ক্ষেপণ না করেই সিআইএ সিদ্ধান্ত নিয়ে নেয় "আইউব খাঁনকে সরে যেতেই হবে”। মার্কিন পক্ষ দুটি নকশা তৈরি করে আইউবের জন্য।
প্রথমটি সামরিক, দ্বিতীয়টি রাজনৈতিক।

১৯৬৫ সালের পাক-ভারত যুদ্ধ হচ্ছে সেই সামরিক চাপ। অবশ্য সামরিক চাপ ব্যার্থ হলে রাজনৈতিক চাপ প্রয়োগের ছক কেটে রাখা হয়। ৬৫ এর ইন্দো-পাক যুদ্ধ সামরিক চাপ হিসাবে চরম হলেও , উদ্দেশ্য পূরনে ব্যার্থ হয়ে যায়, অর্থাৎ আইউব বহাল তবিয়তে ক্ষমতাতে থেকে যান।

কারন এর আগেই পাকিস্থান গোয়েন্দা সংস্থার হল্যান্ডের ডুয়েল এজেন্ট ন্যাটোর এক উচ্চপদস্থ জেনারেলের মাধ্যমে পাকি রাষ্ট্রদূত কুদরৎ উল্লাহ শেহাব নিশ্চিত খবর দেন যে,

“এশিয়াতে দুটি ঝড় আসছে সিআইএ'র হাত ধরে, একটি ইন্দোনেশিয়াতে অন্যটি পাক-ভারত সীমান্তে”।


অবশ্য জেনারেল আইউব সেই আশংকাকে নিজের ক্ষমতার জন্য হুমকি মনে করেন নি। কারন "ম্যাগ" নামের মার্কিন সামরিক স্ট্রাটেজি মেকারদের অফিস ছিল পাকিস্থানে। ম্যাগ এর পূর্ন অর্থ হচ্ছে "Military Assistance Advisory Group" যারা একটি সামরিক উপদেষ্টা পরিষদ, এরা পাকিস্থানের অনুমতি নিয়েই পাকিস্থানে কাজ করতো।

সিআইএ নকশা অনু্যায়ি, যুদ্ধ বাধিয়ে দিয়ে ইন্ডিয়া-পাকিস্থানের সামরিক বাহিনীকে ফেস টু ফেস সমরে বাধ্য করা। আমেরিকানদের বিশ্বাস ছিল সামনাসামনি যুদ্ধে পাক আর্মি পরাজিত হবেই। সেক্ষেত্রে পরাজয়ের নায়ক হিসাবে আইউব খানকে পদত্যাগ করতেই হত।

যুদ্ধে পাকিস্থানীরা যখন নাকাল হচ্ছে তখন ম্যাগ আইউব খানকে উপদেশ দেয় যে, “Mr.President the Indians have caught you by neck, if you want us, we can help in releasing the grip.” এবার আইউব ধরতে পারলেন আমেরিকান চালাকি, যে ম্যাগ, ইচ্ছাকৃত ভাবেই পাকিস্থানকে জটিল যুদ্ধ জালে জড়িয়ে ফেলে পরাজয়ের বৃত্তে টেনে নিয়ে যাচ্ছে।

সাথে সাথেই ম্যাগ এর হাত থেকে কমান্ড নিজ হাতে তুলে নিলেন আইউব খাঁন। সবচেয়ে পিছনে থাকা বেঙ্গল রেজিমেন্টকে ঘুড়িয়ে দিলেন খেমকারান সেক্টরের দিকে। পশ্চিম পাকিস্থানী যোদ্ধাদের ব্যাপারে সিআইএ এর পরিস্কার ধারনা থাকলেও পূর্ব পাকিস্থানের বাংগালীদের ইস্ট বেংগল রেজিমেন্টের কৌশল এবং দক্ষতা বিষয়ে স্পস্ট ধারনা ছিল না। বাংগালী ক্যাপ্টেন জিয়াউর রহমানের নেতৃত্বে যুদ্ধের মোড় ঘুরে যায় এবং আইয়ুব বেঁচে যান। ব্যার্থ হয়ে যায় সিআইএ'র প্রথম ট্রাপ।
১৯৬৬ সালে লাহোরে অনুষ্ঠিত ডানপন্থি পাঁচ দলের সম্মেলনে নিখিল পাকিস্থান আওয়ামীলীগের পূর্ব পাকিস্থান প্রাদেশিক কমিটির সাধারণ সম্পাদক শেখ মুজিবর রহমান ছয় দফা উত্থাপন করেন

এই সেই ছয় দফা যা সিআইএ নির্ধারিত রাজনৈতিক চাপের ঘুটি।
পর্যালোচনা করলে দেখা যাচ্ছে 
বাংগালী ক্যাপ্টেনের পরিচালিত খেমকারান যুদ্ধের ফলে প্রথম অর্থাৎ সামরিক পদক্ষেপ ব্যার্থ না হলে দ্বিতীয় অর্থাৎ রাজনৈতিক চাপ তথা ৬ দফা উত্থাপিত হত না।
রুহুল কুদ্দুস নামের শেখ সাহেবের ইনার সার্কেলের একজন সদস্য স্বহস্তে, স্বীয় মেধাতে উল্লেখিত ছয় দফা প্রস্তুতের দাবী করলেও শেখ সাহেব নিজে কখনো রুহুল কুদ্দুসের এই দাবীকে সত্য বলে প্রত্যায়ন করেন নি। রুহুল কুদ্দুস কে এই ব্যাপারে প্রশ্ন করা হলে তিনি জানান যে শেখ সাহেব অনুদার এবং দ্বৈত মানসিকতার ব্যাক্তি ছিলেন বলেই রুহুল কুদ্দুস সাহেবের কর্মের স্বীকৃতি দেন নাই।
উধাহরন হিসাবে কুদ্দুস সাহেব অস্থায়ী রাষ্ট্রপতি সৈয়দ নজরুল ইসলামের উপমা টেনে বলেন যে পাকিস্থান থেকে ফিরে শেখ সাহেব যুদ্ধকালীন নেতাদেরকে কখনো তাদের কাজের জন্য বাহবা দেন নাই, উপরন্ত ঢাকাতে ফিরেই তিনি ঢাকা ক্যান্টনমেন্ট গিয়েছিলেন আটকে পড়া পাকিস্থানীদের দূর্দশা লাঘবের সান্ত্বনা দিতে। যা সেই সময় স্বদেশ পন্থীদের হতাশ করেছিল।

আইউব উৎক্ষাতে সামরিক ছক ভেস্তে যাবার পরে ছয় দফাকে সামনে আনা হয়। আদতে ৬ দফা ছিল এমন একটি ফর্মূলা যাতে পূর্ব পাকিস্থানের উপর থেকে পশ্চিম পাকিস্থানের আধিপত্যবাদের অবসান হতো এবং সুষ্ঠ ভাবে স্বায়ত্বশাষন কায়েম হত। বিচ্ছিন্নতাবাদের কোন ব্যাপার এতে ছিল না।

১৯৭০ এর নির্বাচনে ৬ দফা ছিল একটি আপসকামী ফর্মূলা। এখন অনেকে অনেক বড় বড় কথা বলেন কিন্তু আদতে ৭০ এর আগে তারা স্বাধীনতার কথা ঘুনাক্ষরেও ভাবে নায়। মার্কিনিরা ৬ দফার মত গন আকাংখিত ইস্যুকে দিয়ে শুধু আইউব উৎখ্যত করতে চেয়েছিল।

ঠিক এমন সময়েই পটভূমিতে হাজির হয় পূর্ন গঠিত ভারতীয় ইন্টেলিজেন্স ইউনিট "র"। র এর ক্যারিশমাতেই ৬ দফার মত একটি আপসকামী ফর্মূলা, আমাদের অপ্রকাশিত চাওয়া স্বাধীনতা তে রূপান্তরিত হয়। এদেশের মানুষের নিখাদ দেশপ্রেম, জাতীয়তাবোধ, সততা, সাহসকে পর্দার অন্তরালে থেকে সুকৌশলে হাতিয়ার করে লক্ষ সিদ্ধিতে অগ্রসর হয় "র"।
১৯৫২ এর ভাষা আন্দালনের পটভূমিতে প্রথম বিকশিত হয় বাংগালী জাতিয়তাবাদ। ১৯৬৬ সালে ৬ দফা প্রনয়নের মাধ্যমে শেখ মুজিবুর রহমান ধাপে ধাপে এই বাংগালী জাতিয়তাবাদি চেতনার শীর্ষ পুরুষ রূপে আবির্ভূত হন বটে কিন্তু একই সাথে আটকা পরেন ৬ দফার ফাঁদে
তারই নেতৃত্বের ছায়াতে নিখাত জাতিয়তাবাদি চেতনাতে ধীরে ধীরে বেড়ে ওঠা স্বাধীনতাপন্থীদের ১দফা দাবীর সরাসরি মুখোমুখি হন শেখ সাহেব। পয়লা মার্চ ১৯৭১ এ পাকিস্থানী প্রেসিডেন্ট ইয়াহিয়া খান অন্যায্য ভাবে জাতীয় পরিষদ অধিবেশনে স্থগিতাদেশ দেন। ২৮ ফেব্রুয়ারি ১৯৭১ এ স্থগিতাদেশের পরিপ্রেক্ষিতে ঢাকাতে গভর্নর জনাব আহসান এবং শেখ মুজিব বৈঠকে বসেন গভর্নর হাউজে।
আলাপ আলোচনা শেষে বেরিয়ে আসার সময় গভর্নরের সমরিক উপদেষ্টা মেজর জেনারেল রাও ফরমান আলীকে বলেন

, "আমার অবস্থা দু'পাশে আগুন, মাঝখানে আমি দাঁড়িয়ে। হয় সেনা বাহিনী আমাকে মেরে ফেলবে না হয় আমার দলের ভেতরকার উগ্র চরম পন্থীরা আমাকে হত্যা করবে। কেন আপনারা আমাকে গ্রেফতার করছেন না? টেলিফোন করলেই আমি চলে আসবো"।


উল্লেখ্য শেখ মুজিব যাদের চরমপন্থী বলছেন তারাই একদফাপন্থী বা স্বাধীনতাপন্থী এবং আওয়ামীলীগের আবরনে থাকা সমাজতান্ত্রিক। এরাই নেয় সশস্ত্র সংগ্রামের প্রস্তুতি।

আজ যারা স্বাধীন বাংলাদেশে বসে দাবী করেন আওয়ামীলীগের নেতৃত্বেই সশস্ত্র সংগ্রাম হয়েছে ১৯৭১ এ, তাদের আজকের উচ্চকন্ঠ নিয়ে প্রশ্ন থেকেই যায়। কেননা আওয়ামীলীগের শ্রেণীগত চরিত্রই তাকে সশস্ত্র প্রতিরোধ সংগ্রাম থেকে বিছিন্ন করে দেয়।
সিআইএ প্রনীত আওয়ামীলীগের ৬ দফা ছিল মূলত বাংগালী উদীয়মান ধনিক শ্রেনীর সনদ। তাই আওয়ামীলীগ নেতৃত্বের রাজনীতি ছিল ৬ দফার মাধ্যমে ভোট যুদ্ধে জিতে ক্ষমতায় যাওয়া এবং সিআইএ'র জন্য ঘাড়ত্যাড়া পশ্চিম পাকিস্থানী সামরিক প্রশাসকের ক্ষমতার লাগাম দূর্বল করে দেওয়া।

১৯৭০ এর নির্বাচনের পরে আওয়ামীলীগের অভ্যন্তরে থাকা বাম ও স্বাধীনতা পন্থীরা এতটাই মাথাচাড়া দিয়ে ওঠে যে এদের নিয়ন্ত্রন করা খোদ মুজিবের পক্ষে অসম্ভব হয়ে ওঠে, যদিও র নিয়ন্ত্রিত কালিদাস বৈদ্য ও চিত্তরঞ্জন সুতোরের চেষ্টাতে স্বাধীন বাংলা বিপ্লবী পরিষদের যাত্রা শুরু হয় ১৯৬২ সালেই এবং এর প্রধান ছিলেন সিরাজুল আলম খান
২০১৫ সালে প্রদত্ত এক বিশেষ ইন্টারভিউ এ সিরাজুল আলম খান স্বাধীনতা, আওয়ামীলীগ প্রসংগে সদ্য প্রকাশিত মহিউদ্দিন আহমদ লিখিত ‘জাসদের উত্থান পতন : অস্থির সময়ের রাজনীতি’ গ্রন্থের ৭১ পৃষ্ঠায় বলেছেন, "আওয়ামী লীগ ছিল এন্টি-লিবারেশন ফোর্স"।

অবশ্য মুজিব বাহিনীর নেতা চতুষ্টয়ের ভেতরের বেসিক আওয়ামীলীগার শেখ ফজলুল হক মনি ও শেখ সাহেবের থার্ড ইন কমান্ড তোফায়েল আহাম্মেদ এই স্বাধীন বাংলা বিপ্লবী পরিষদ ব্যাপারে কিছু জানতেন না। মুজিব বাহিনীর অন্যতম শীর্ষ নেতা আব্দুর রাজ্জাকের ভাষাতে শেখ মনি ও আওয়ামীলীগ নেতাদের স্বাধীনতা পরিষদের ব্যাপারে না জানার বিষয়ে বলা হয়, "না জানতেন না। জানানো হয় নি।কারন এটাতো আমাদের গোপন সংগঠন ছিল"

একই সাথে তোফায়েল আহাম্মেদ কে না জানানোর কারন হিসাবে আরো বলা হয় " তোফায়েল আহাম্মেদের ততটা পরিপক্কতা ছিল না”।


এদিকে মুক্তিযুদ্ধকালে র ও সিআইএ' এর ভূমিকা নিয়ে কাজ করা মাসুদুল হকের বক্তব্য ছিল "মনি ও তোফায়েল কে স্বাধীন বাংলা বিপ্লবী পরিষদে নেওয়া হয়নি মতাদর্শগত কারনে, ১৯৭০ সালের আগস্ট মাসে ছাত্রলীগ কেন্দ্রীয় কমিটি স্বাধীন সমাজতান্ত্রিক বাংলাদেশ গঠনের প্রস্তাব দিলে শেখ মুজিবুর রহমান এর বিরোধীতা করেন। মনি ও তোফায়েল শেখ মুজিবকেই সমর্থন করেন"
১৯৬৬ সালে যখন শেখ সাহেব ৬ দফা প্রস্তাব দেন, তখনি স্বাধীন বাংলা বিপ্লবী পরিষদ এক দফা ঠিক করেন চূড়ান্ত লক্ষ হিসাবে। অন্যদিকে আব্দুর রাজ্জাক নিশ্চিত করেন ১৯৬৯ সালে আগরতলা মামলা প্রত্যাহারের পরেই তারা শেখ মুজিবকে তাদের চিন্তাধারার কথা জানাতে যান।
১৯৬৮ সালের ৬ ডিসেম্বর থেকে পূর্ব পাকিস্থান ও পশ্চিম পাকিস্থানে যথাক্রমে ভাসানী ও ভুট্টো এক যুগল গনআন্দালন শুরু করেন, এই আন্দালনেই কেপে ওঠে আইউব খানের টানা ১০ বছরের মসনদ এবং বাধ্য হয় ১৯৬৯ সালের ২২ ফেব্রুয়ারি শেখ মুজিবকে আগরতলা মামলা থেকে মুক্তি দিতে। এর চার দিন পরে ২৬ মার্চ ১৯৬৯ এ ক্ষমতা গ্রহন করেন আরেক কুখ্যাত সেনা নায়ক আগা মোহাম্মদ ইয়াহিয়া খান।

এই ঘটনার মধ্য দিয়েই সিআইএ প্রণীত ৬ দফার মাধ্যমে রাজনৈতিক চাপে দফারফা হয় আইউব খান শাষনামলের। পাকিস্থানে অনুকুল সরকার, সিআইএ এর জন্য স্বস্তির নি:শ্বাস নিয়ে আসে।
  1. ১৯৬৮ সালের ৬ ডিসেম্বর মাওলানা ভাসানী পল্টন ময়দানে স্বাধীন পূর্ব বাংলার কথা বলেন। 
  2. এর আগে ১ ডিসেম্বর ১৯৬৮ সালে স্বাধীনতার আহ্বান সম্বলিত থিসিস প্রকাশ করে সিরাজ শিকদারের পূর্ব বাংলা কমিউনিস্ট পার্টি।
  3. ১৯৬৯ সালে এপ্রিলে ন্যাশনাল আওয়ামী পার্টির অভ্যন্তরের হায়দার আকবর খান রনো, কাজী জাফর আহাম্মেদ ও রাসেদ খান মেননের কমিউনিস্ট বিপ্লবীদের পূর্ব বাংলা সমন্বয় কমিটি স্বাধীন পূর্ব বাংলার কর্মসূচী প্রচার করে।

১৯৬৯ সালের ২৮ নভেম্বর নতুন সামরিক প্রেসিডেন্ট ইয়াহিয়া নয়া জাতীয় নির্বাচনের ঘোষনা দেন ১৯৭০ সালের ৫ অক্টোবর, পরে অবশ্য ৭ ডিসেম্বর তারিখ নির্ধারিত হয়। এই নির্বাচন বানচালের লক্ষে ১৯৭০ সালের ১১ ফেব্রুয়ারি পূর্ব পাকিস্থান ছাত্র ইউনিয়ন স্বাধীন জনতান্ত্রিক পূর্ব বাংলা প্রতিষ্ঠার লক্ষে ১১ দফার কর্মসূচি প্রদান করে।
এই কর্মসূচি কে কেন্দ্র করে সামরিক আদালত কাজী জাফর, মেনন এবং জামাল হায়দার ও মাহাবুব উল্লাকে যথাক্রমে ৭ ও ১ বছরের কারাদণ্ড প্রদান করে।
জাতীয় নির্বাচনের মাঠে তখন একছত্র অধিপতি আওয়ামীলীগ। নির্বাচনী প্রস্তুতির চরম পর্যায়ে ২৫ অগাস্ট ইয়াহিয়া সরকার ঘোষণা দেয় ৭ ডিসেম্বর, নির্বাচন পিছিয়ে দেওয়া হল। ইয়াহিয়ার এই ঘোষনার ঠিক তিন দিন আগে ছাত্রলীগ কেন্দ্রীয় কমিটি নেয় এই ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত।তারা কেন্দ্রীয় কমিটির বৈঠকে স্বাধীন সমাজতান্ত্রিক বাংলাদেশ প্রস্তাব পাস করিয়ে নেয়।

ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন শেখ মুজিব।স্বাধীন বাংলা বিপ্লবী পরিষদের নেতা আব্দুর রাজ্জাকের মাধ্যমে শেখ মুজিব এই প্রস্তাবের বিরুদ্ধে তার আপত্তির কথা জানিয়ে দেন।প্রস্তাব গ্রহণকারীদের প্রতি তিনি রীতিমত রুষ্ট হন।
১২ ডিসেম্বর ১৯৭০ দক্ষিণ বাংলার ওপর দিয়ে বয়ে যায় বিভীষণ ঘূর্ণিঝড়। তিল লাখ মানুষ প্রান হারায়, অথচ নির্লিপ্ততা দেখায় ইয়াহিয়া প্রশাষন। ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন ভাষানী।
তিনি ঘোষণা দেন পাকিস্থানী সার্বভৌমত্তের বিপক্ষে।পশ্চিম ও পূর্ব দুই স্থানেই নির্বাচন পিছিয়ে দেবার দাবী ওঠে। এর ভেতরেই ঢাকা আসেন ইয়াহিয়া খান এবং তিনটি রুদ্ধদ্বার বৈঠক হয় ইয়াহিয়া-মুজিব জুটির। আসুন সেই বৈঠকের শানেনজুল জানা যাক ইয়াহিয়ার যোগাযোগ মন্ত্রী জি ডাব্লিউ চৌধুরীর জবানীতে।
"নভেম্বরে হালকা শীতের আমেজ ও উৎফুল্ল চিত্ত" তিনি বলেন।


নির্বাচনের তারিখ (৭ তারিখ) অপরিবর্তিত থাকে এবং ইয়াহিয়া জানান এই তারিখ ঠিক রাখার সিদ্ধান্ত সঠিক ছিল, যথারীতি কার্য সম্পাদন হয়ে যায় এবং আওয়ামীলীগ পেয়ে যায় বিপুল গরিষ্ঠতা। নির্বাচনের দুদিন আগে মাওলানা ভাষানী পল্টন থেকে আহবান জানান
"মুজিব তুমি স্বাধীন পূর্ব পাকিস্থান সংগ্রামে যোগ দাও।যদি আমেরিকা ও ইয়াহিয়ার স্বার্থে কাজ কর তাহলে আওয়ামীলীগের কবর ৭০ সালেই অনিবার্য "

৩ তারিখ ইয়াহিয়া রাওয়ালপিন্ডি পৌঁছান এবং খবর আসে যে ইয়াহিয়ার সফর সংগী চিফ অফ জেনারেল স্টাফ জেনারেল আব্দুল হামিদ ইয়াহিয়ার সকল ক্ষমতা ছিনিয়ে নিয়েছেন এবং ইয়াহিয়া এখন পুতুল প্রধান
১ মার্চ ৭১, ইয়াহিয়া জাতিয় পরিষদ অধিবেশন স্থগিত করেন তার পরিষদের চাপে। কিন্তু ইয়াহিয়ার এই পতনের কথা বিশ্বাস করেনি আওয়ামীলীগ তাই নির্বাচনের পরেও ইয়াহিয়াকে প্রেসিডেন্ট করার আশ্বাস আসে আওয়ামীলীগের পক্ষ থেকে।
আওয়ামীলীগের এই ভূমিধ্বস বিজয়ে হতভম্ভ হয়ে যায় জান্তা, তারা ছক কষতে থাকে ষড়যন্ত্রের। পায়তারা করা এক বিষয় আর প্রয়োগ ভিন্ন বিষয়। এর সংগে জড়িত অভ্যন্তরীণ ও আন্তর্জাতিক বিপুল ঝুঁকি।

ভুট্টোর আশির্বাদে সেই ঝুঁকি নেয় জান্তা, ভুট্টো প্রকাশ্য জনসভাতে ক্ষমতাতে আওয়ামীলীগকে মানতে অস্বীকার করে এবং নিজে ক্ষমতা গ্রহনের খায়েশ ব্যাক্ত করে।সারা পাকিস্থান জুরে রাজ্যের স্থবিরতা নেমে আসে, অজানা আশংকা ভর করে। সামরিক ও বেসামরিক বাংগালী ইউনিট থেকে সম্ভাব্য আক্রমনের আভাষ দেওয়া হয় মুজিবকে।

এই প্রেক্ষিতে ৩ জানুয়ারি রেসকোর্সে নব নির্বাচিত জাতীয় পরিষদ সদস্য ও প্রাদেশিক পরিষদ সদস্যদের শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানে নির্বাচন সুসম্পন্ন করাতে প্রেসিডেন্ট কে ধন্যবাদ জানান মুজিব "তার অধঃস্থনদের একটি অংশ সক্রিয় যারা, এখনো নির্বাচনী ফলাফলকে উলটে দেবার ষড়যন্ত্রে লিপ্ত" বলেন মুজিব।

২০ ডিসেম্বরের ভূট্টোর ঘোষনাতে যে অরাজক পরিস্থিতি তৈরি হয় তা উত্তরনে ১২ জানুয়ারি ঢাকা আসেন ইয়াহিয়া। মোহাম্মদ আজগর তার "জেনারেলস ইন পলিটিক্স " গ্রন্থে লিখেছেন, “আলোচনার এক পর্যায়ে মুজিব ইয়াহিয়াকে বলেন নতুন শাষন তন্ত্র রচনার পরে তারা আপনাকে প্রেসিডেন্ট করতে চাই।“
“কেন আপনারা আমাকে প্রেসিডেন্ট করতে চান?” ইয়াহিয়া প্রশ্ন রাখেন।

মুজিবের ব্যাখ্যা। (এদেশি ইতিহাসে রাজনীতিবিদের হাত দিয়ে সামরিক বাহিনীকে রাজনীতিতে পুনরায় টেনে আনার প্রথম উদাহরন)


এর পরেই ইয়াহিয়া ঘোষনা দেন, "শেখ মুজিব দেশের ভবিষ্যৎ প্রধান মন্ত্রী হতে যাচ্ছেন"।

উল্লেখ্য পাকিস্তান ও ইন্ডিয়াকে সম্মুখ যুদ্ধে দাড় করিয়েও আইয়ব কে নামাতে ব্যার্থ হয় সিআইএ। এই ব্যার্থতার ফলশ্রুতিতেই আসে ৬ দফা।আইয়ব পতনের মাধ্যমে ৬ দফার প্রয়োজন ফুরিয়ে যায় মার্কিন প্রশাষনের কাছে।কিন্তু ইতিহাসের প্রয়োজনেই ততদিনে ৬ দফা থেকে স্বাধীনতার একদফার আশা বুকে বেঁধে নিয়েছে বাংলাদেশের মানুষ।
অন্যদিকে ৬ দফাকে কেন্দ্র করে ১দফার যে কৌশল নিয়েছিল "র"

পশ্চিম পাকিস্থানীদের লুন্ঠন, বৈষম্য,, বঞ্চনা, দমন পীড়নে সেই একদফা পুষ্ট হয়ে ওঠে। বাংগালীর বাংলাদেশ গঠনের স্বপ্নে ইন্ডিয়া ইন্ডিয়া শুধুমাত্র একটি পার্শ্বচরিত্রে পরিনত হয়।
জন মানুষের অন্তরে যখন মুক্তির গান বেজে ওঠে তখন সেই সুরের স্রোতকে রুখবে, সাধ্যকার??
সহায়ক বই এবং নথি
  1. US Dipartment of state এর আর্কাইভ দেখুন বিস্তারিত চিঠি ও অন্যান্য ডকুমেন্ট দেখার জন্য
  2. তাদের ওয়েব সাইট 
  3. বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধ র ও সিআইএ গ্রন্থ মাসুদুল হকের লেখা
  4. Last days of united Pakisthan by G.W.Chowdhuri
  5. Friends, not masters by Ayub Khan
  6. দৈনিক সংবাদ ৫ জানুয়ারি ১৯৬৮
  7. প্রাগুক্ত ৯ জানুয়ারি ১৯৬৯
  8. বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধের দলিলপত্রhttps://www.facebook.com/theziadynasty/posts/442639322601975
  9. Bangladesh documents
  10. Generals in politics by Azgor Khan
  11. Jack Anderson’s papers by Jack Andersom

বুধবার, ২০ জানুয়ারি, ২০১৬

জ্বালানী

জ্বালানী তেলের একচেটিয়া ব্যাবস্যাতে খোদ সরকার যেভাবে মুনাফাখোর সিন্ডিকেটবাজী  করছে তাতে কিভাবে আশা করবেন যে এরা অন্যান্য বাজারী পন্যের মূল্য নিয়ন্ত্রনে পুঁজিবাদী মজুতদারদের চক্র ভেঙে দেবে?

নিজে যে চোরের সর্দার ; কিভাবে সে সিঁধেলচোর নিয়ন্ত্রণ করবে?

মুনাফার একটা ধর্ম  হচ্ছে নিজের মত মুনাফাখোরদের স্বার্থে সরাসরি বা আড়াল আবডালে হাওয়া দেওয়া।

ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি এ ক্ষেত্রে উধাহরন হতেই পারে।
ইস্ট ইন্ডিয়ার যেমন জবাবদিহি করার নুন্যতম দায়বদ্ধতা ছিলা না, আমাদের হাইব্রিড বাণিজ্যিক  সরকারের ব্যাপার ঠিক তেমনি, গনমানুষ এদের কাছে  কলুর বলদ।

এদের অবশ্য এক তরফা দোষারোপ করা ঠিক হচ্ছে না, এদের শিক্ষা ব্যাবস্থাও এদের এমন জনবিরোধী  চাড়ালে পরিনত করার জন্য সমান দায়ী।

এদের প্যাক্টিকাল ক্লাসে কেস স্টাডি হিসাবে ইস্ট ইন্ডিয়ান কোম্পানি ছাড়া অন্য কিছু পড়ানো হয় নাই।

এত দিন না হয়  গরিব মধ্যবিত্ত পুঁজিপাট্টা ভেঙে লোভীর অসুরের জন্য পয়াসা বিলিয়েছে। সঞ্চয়ের মাল ফুরিয়ে এসেছে!

এখন প্রশ্ন হল এই সব মুনাফাখোরদের আহার্য ইপ্সিত টাকা এবার কোথা থেকে যোগাবে দেশের দেওলিয়া মানুষ??

উত্তর খুঁজতে থাকুন
আমি বরং এই ফাঁকে একটা ছড়া শুনিয়ে দেই..

ছেলে ঘুমালো,
পাড়া জুড়ালো
বর্গী এলো দেশে
বুলবুলিতে ধান খেয়েছে
খাজনা দেব কিসে??

মঙ্গলবার, ১২ জানুয়ারি, ২০১৬

ইয়ার প্লাক

আজ মুঘল সুলতানাতের কথা মনে পরে গেলো।
মুঘল সম্রাট হুমায়ুন যখন ভিস্তিওয়ালা নিজামকে রাজ সিংহাসনে বসালেন, ভিস্তিওয়ালা তখন বাইনা ধরলো তার এক বন্ধুকে সে হেরেমে নিয়ে যাবে।
দরবারের আমলারা দেখলেন মহা-বিপদ।ভিস্তিওয়ালা তখন রাজাধিরাজ ; সেহেতু তাঁর হুকুমের বাইরে যাবার পথ নাই।
এদিকে প্রকৃত বাদশাহ পরিবার আর বাদশাহি হেরেমের নারীদের মান সম্মানের প্রশ্ন।
বুদ্ধি করে প্রধান উজির জানালো যে বাদশাহ কেও নিয়মের ভেতর দিয়ে চলতে হয়।তাই ভিস্তিওয়ালা নিজে হেরেমে প্রবেশ করতে পারলেও বন্ধুকে সাথে নিতে পারবে না।
তবে নাছোড়বন্দা ভিস্তিওয়ালার বন্ধুকে হেরেমে ঢুকাবার জন্য ভিন্ন পথ বাতলে দিলেন উজির।
বন্ধুকে যদি খোঁজা করে দেওয়া হয় এবং কানে জ্বলন্ত শীশা ঢেলে কানবন্ধ করে দেওয়া হয় তাহলে হেরেম প্রবেশে কোন বাঁধা থাকবে না।
তাতে বন্ধুর হেরেম দেখার শখ যেমন মিটবে তেমনি লিঙগ কেটে খোঁজা করার কারনে রাজ পরিবারের নিয়মের কোন ব্যত্যয় হবে না।
হেরেমে কোন পুরুষ থাকতো না, তা কিন্তু নয়। রানীদের সেবার কাজে, প্রহরী হিসাবে, রান্নাবান্নারর কাজে, গোসল করানো জন্য অজশ্র পুরুষ নিয়োগ দেওয়া হতো হেরেম অভ্যন্তরে।
এই সব পুরুষদের প্রত্যেককেই খোঁজা করে দেওয়া হতো যাতে এদের দ্বারা রাজ পরিবারের স্ত্রী লোকদের অসম্মান না হয়।
একই সাথে কানে উত্তপ্ত শীশা ঢেলে শ্রবণ শক্তি নষ্ট করে দেওয়া হত যেন এরা গোপন কথা শুনে নিয়ে শত্রু পক্ষের কাছে কোন বার্তা না পাঠাতে পারে।
আবার যুদ্ধ ক্ষেত্রে ধরা পরে যাওয়া সামরিক, বেসামরিক অফিসারদের খোঁজা করন করা হত, কানে উত্তপ্ত শীশা ঢেলে দেওয়ার হুমকী দেওয়া হতো যেন তারা স্বপক্ষ ত্যাগ করে।
এখন মুঘল সাম্রাজ্য নেই, বেগম নেই, ঝাড়বাতি জ্বলা হেরেমখানা নেই, তবুও কানে ইয়ার প্লাগ লাগিয়ে শুনেও না শোনবার ভান করতে বলার মহীয়সী'র অভাব নেই!! !

শনিবার, ২ জানুয়ারি, ২০১৬

FRENCH GUY HIJACKING AEROPLANE DEMANDING AID FOR BANGLADESH 1971

http://www.prothom-alo.com/we-are/article/728140/%E0%A6%A6%E0%A7%81%E0%A6%83%E0%A6%B8%E0%A6%BE%E0%A6%B9%E0%A6%B8%E0%A7%80-%E0%A6%B8%E0%A7%87%E0%A6%87-%E0%A6%AB%E0%A6%B0%E0%A6%BE%E0%A6%B8%E0%A6%BF-%E0%A6%AE%E0%A7%81%E0%A6%95%E0%A7%8D%E0%A6%A4%E0%A6%BF%E0%A6%AF%E0%A7%87%E0%A6%BE%E0%A6%A6%E0%A7%8D%E0%A6%A7%E0%A6%BE%E0%A6%B0-%E0%A6%B8%E0%A6%A8%E0%A7%8D%E0%A6%A7%E0%A6%BE%E0%A6%A8%E0%A7%87