মঙ্গলবার, ১২ জানুয়ারি, ২০১৬

ইয়ার প্লাক

আজ মুঘল সুলতানাতের কথা মনে পরে গেলো।
মুঘল সম্রাট হুমায়ুন যখন ভিস্তিওয়ালা নিজামকে রাজ সিংহাসনে বসালেন, ভিস্তিওয়ালা তখন বাইনা ধরলো তার এক বন্ধুকে সে হেরেমে নিয়ে যাবে।
দরবারের আমলারা দেখলেন মহা-বিপদ।ভিস্তিওয়ালা তখন রাজাধিরাজ ; সেহেতু তাঁর হুকুমের বাইরে যাবার পথ নাই।
এদিকে প্রকৃত বাদশাহ পরিবার আর বাদশাহি হেরেমের নারীদের মান সম্মানের প্রশ্ন।
বুদ্ধি করে প্রধান উজির জানালো যে বাদশাহ কেও নিয়মের ভেতর দিয়ে চলতে হয়।তাই ভিস্তিওয়ালা নিজে হেরেমে প্রবেশ করতে পারলেও বন্ধুকে সাথে নিতে পারবে না।
তবে নাছোড়বন্দা ভিস্তিওয়ালার বন্ধুকে হেরেমে ঢুকাবার জন্য ভিন্ন পথ বাতলে দিলেন উজির।
বন্ধুকে যদি খোঁজা করে দেওয়া হয় এবং কানে জ্বলন্ত শীশা ঢেলে কানবন্ধ করে দেওয়া হয় তাহলে হেরেম প্রবেশে কোন বাঁধা থাকবে না।
তাতে বন্ধুর হেরেম দেখার শখ যেমন মিটবে তেমনি লিঙগ কেটে খোঁজা করার কারনে রাজ পরিবারের নিয়মের কোন ব্যত্যয় হবে না।
হেরেমে কোন পুরুষ থাকতো না, তা কিন্তু নয়। রানীদের সেবার কাজে, প্রহরী হিসাবে, রান্নাবান্নারর কাজে, গোসল করানো জন্য অজশ্র পুরুষ নিয়োগ দেওয়া হতো হেরেম অভ্যন্তরে।
এই সব পুরুষদের প্রত্যেককেই খোঁজা করে দেওয়া হতো যাতে এদের দ্বারা রাজ পরিবারের স্ত্রী লোকদের অসম্মান না হয়।
একই সাথে কানে উত্তপ্ত শীশা ঢেলে শ্রবণ শক্তি নষ্ট করে দেওয়া হত যেন এরা গোপন কথা শুনে নিয়ে শত্রু পক্ষের কাছে কোন বার্তা না পাঠাতে পারে।
আবার যুদ্ধ ক্ষেত্রে ধরা পরে যাওয়া সামরিক, বেসামরিক অফিসারদের খোঁজা করন করা হত, কানে উত্তপ্ত শীশা ঢেলে দেওয়ার হুমকী দেওয়া হতো যেন তারা স্বপক্ষ ত্যাগ করে।
এখন মুঘল সাম্রাজ্য নেই, বেগম নেই, ঝাড়বাতি জ্বলা হেরেমখানা নেই, তবুও কানে ইয়ার প্লাগ লাগিয়ে শুনেও না শোনবার ভান করতে বলার মহীয়সী'র অভাব নেই!! !

কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন