সোমবার, ২৫ মে, ২০১৫

শিয়াল শাহ্‌

মিছিলে গেছিলেন কাকা।
বুঝে হোক না বুঝে হোক উনি বিশ্বাস করেছিলেন  এরাই আসল লোক।

মিছিলে ক্লান্ত কাকা ফেরার পথে বসে পরলো একটা বড়সড় বট গাছের নিচে। বট ছায়াদায়ী বৃক্ষ।

পেছনেই ঘন বাস বাগান। 
কাকা ঠিক করে ফেলল এখানে একটু ঝিম মারবেন,  তার পরে বাড়ি যাওয়া।

মাছি ভন ভন করছে।  এই একটাই সমস্যা। বছরের এই সময় টাতে মাছি খুব জ্বালাতন করে।

এখানে এত্ত মাছির কারন এক শিয়াল এখানে হেগে থুয়ে গেছে। খুব বিরক্তিকর বিষয়।
এখানে থাকুম ক্যাম্বা?

শেষমেশ পাওয়া গেল এক লোক কে। হাতে চটের বাজারের ঝোলা।

কি আছে গো বাবাজী তোমার ব্যাগে?
এই সদায় নিলাম কাহা।
চাল,  ডাল আর তরকারি!

কাকা আগন্তুকের কাছ থেকে দু তিন মুঠি চাল আর ডাল আদায় করে নিলেন খিচুড়ি খাবেন বলে।

আগুন্তুক ভাবলো বৃদ্ধ মানুস!  কিছু তরকারি দিলে ভালো হত।

কিছু লাল শাক,  কচুর লতি,  আর দুটি করে পেয়াজ আর রসুন যোগ করে দিলো আগন্তুক। 

বৃদ্ধ নির্দিধায় শিয়ালের গু'য়ের উপর ঢেলে দিল চাল, ডাল,  কচুর লতি,  লাল শাক আর পেয়াজ রসুন।

দুপুরের নামাজ পরতে যেয়ে বুড়া নিতে আসলো আগরবাতি; অরিজিনাল আগরবাতি নাকি মশা তারানোর মক্ষম যোম।

আসরের পরে হাট থেকে ফেরা মানুস দেখলো চাল,ডাল আর কচুর লতি,র সাথে আগরবাতি জ্বলছে। 
পাশেই ঘুমন্ত বৃদ্ধ,  সাদা শুভ্র দাড়ির ফাঁকেফাঁকে দু একটা আধাপাকা দাড়ি জ্বলছে।

বাজারের খলিফা এক টুকরা কাপর দিয়ে  বৃদ্ধ কে ঢেকে দিল।
সন্ধা ঘনিয়ে আসছে।

দূর পথের পথিকেরা ঘড়ে ফিরছে।

অসহায় ধরে নিয়ে কেও দিয়ে গেল আরো কিছু চাল, আটা,  শশা,গাজর, ভেন্ডি এই সব।

রাতের ভেতর শিয়ালের গু ঢাকা পরে গেল খাদ্য দ্রব্যের স্তুপে।

বৃদ্ধ বিশ্রাম শেষে বাড়ি ফিরে গেল। কিছুই সাথে নিলো না।

সকালে পৌরসভার ম্যাথর আগরবাতি আর ধুপছায়া দেখে বিচলিত হয়ে পরলো।

ম্যাথর গরিব মানুস, তার দেবার কিছু নাই।  তাই মাথার লাল রুমাল টা রেখে গেল।

এর পরে সূর্য উঠলো কড়া।  লোক জন সব ভিড় করলো।

ইহা কি!  কি  ইহা ?
মাজার?  মাজার আসলো কোথা থেকে?
কার মাজার? 
খোদার কোন নেক বান্দা,র কবর এখানে।

জগলুর বউ বাজা। এবার বাচ্চা না হলে সে গলাই দড়ি দেবে বলে ঠিক করেছে মনে মনে।
নয়া মাজারের কথা শুনে জগলুর বউ মানত করে ফেললো।

বিকাল বেলা যখন মুত্র পরিক্ষার রিপর্ট আসলো জানা গেল এবার বাচ্চা হবে।

জগলু আর তার বউ ছুটলো মাজারে।
বউ কই মাজার?
এই যে এখানে।
জগলু দেখলো তার দেওয়া সেই কচুরলতি উকি মারছে মাজার থেকে।

বুঝলে বাবা আচানক কাজ।  রাতে রাতেই মাজার।  এটা যে কার মাজার বাবা ক্যমনে বুঝি। মাতব্বর সাহেবের প্রশ্ন।

চাচা আমি কিন্তু  জানি এটা কার মাজার!

কার বাবা কার মাজার!

চাচা এটা মাওলানা শিয়াল শাহ্' মাইছভান্ডারী, র মাজার।  আমি সপ্নে দেখেছি।

এর পরে সেই মাজার জমে উঠলো।

মাজার কমিটি ভোট করলো
৮৬ সালে নির্বাচন  করলো তারপরে
আরো অনেক ভোট করলো।

একবার তারা সংসদে তিন টা আসনও পেলো।
এবার নাকি মাজারের ব্যাবসা ভালো হয়েছে ; ১০০ আসন পাওয়া যাবেই যাবে।

শুধু একটু গ্যাঁট হয়ে বসে থাকতে হবে।।

শুক্রবার, ২২ মে, ২০১৫

ঠাকুর'দাঁ



মানুষ যখন জাতে ওঠে তখন তার নাম ধাম জাত পরিবর্তনের প্রয়োজন পরে ।
নতুন জাতের সাথে তাল মিলিয়ে চলার জন্য এই নাম পরিবর্তন একটি মৌলিক পিলার ।
যেমন
রহিমা যখন ক্লাবে যায় তখন সে মিস রাহি হয়ে যায় ।
শামসু হয়ে যায় শামস্‌ ।
আদম আলি হয়ে যায় এ্যডাম ।
রুখশানা হয়ে রুক্সি !

রানি যখন হিথ্রো এয়ার পোর্টে ল্যান্ড করবে ; তার বন্ধুরা তাকে ডাকবে কুইন নামে ।
হাজাম ব্যাপারি সিসিলী যাবার টিকেট কাটতে ট্রাভেল এজেন্টের অফিসে যাবার পরে তার নিক বলে হ্যাজী ।
রহমান ভাই যখন অ্যামেরিকা যাবার জন্য লটারির আবেদন করলো সেই দিন থেকেই তিনি নতুন নাম বলার প্র্যক্টিস শুরু করে দিলেন ।
হ্যালো ব্রো আইজ তো হামার ঈড ।
কেন রহমান ভাই কি হলো ?
ব্রো আমি টো আজকে আম্রেরিকার ডীভী করছি ; পীর সাব কইছে ভিসা লাগবোই ।
ভাই একখান কথা বলি মাইন্ড খাইয়েন না ; আমারে আর রহমান রহমান বইলেন না । নাম তো এফিডেফিট করে ফেলেছি ।
রহমান এখন রেহ্‌মান ।।
ময়মনসিং থেকে জুলেখা বেগম যেদিন প্রথম বেইলী রোডে আসলো নাটক দেখতে ; নাটক দেখে খালাতো ভাইয়ের সাথে বাড়ি ফেরার সময় হটাতই খালাতো ভাই তার হাত ধরে বলে উঠলো "লেখা আমি তুমারে ভালাবাসি ।
যেহেতু নাটক ফাটক দেখা হয়েছে অতএব জুলেখা'র থেকে "লেখা" ।
গোপাল গঞ্জে ছিল আরেক জুলেখা ; তার গন্তব্য ছিল ঢাকা থেকে একটু দূরে
C/o শামিম ওসমান
টান বাজার
নারায়ণ গঞ্জ
সেখনে আসার পর ওসমান কশাই আদর করে তার নাম রাখলো জুলি ।জুলেখা থেকে জুলি ।
বড় বাজারের মৎস ব্যাবসায়ি আলাউদ্দিন" যখন লুঙ্গী কাছা মেরে ঢাকা শহরে যেয়ে থিতু হল তার নাম হয়ে গেল আলা চৌধুরী ।
বাঙলার মসনদে বসেছিলেন একবার "মা কালি"
বসার পরের রাতেই তিনি হয়ে গিয়েছিলেন "পুস্প কলি " । একদিন সেই পুস্প কলি'র ছবি ছাপা হলো পত্রিকাতে । তিনি পুস্প বেষ্টিত বাগানে এক অনাথ পিতৃ পরিচয় বিহীন ছেলের সাথে মাতৃ স্নেহে ব্যাডমিন্টন খেলছেন ।
চারি দিকে রব উঠে গেল "বাহারে বাহারে বাহ " !
সুদূর স্বপ্নের দেশ আমেরিকা'র ধোলাই খালে এক ফটকা ব্যাবসায়ির দোকানের নাম ছিল DELL ;
যেই না সে বাংলাদেশের নাম শুনলো ওমনি হয়ে গেল এক ফুর ফুরে পাখির মতো "দোয়েল" ।
এই বাঙলার প্রথম খলিফা একবার যুদ্ধের জন্য এক বিশেষ লাঠিয়াল বাহিনী তৈরি করলেন । তারা ঢাক ঢোল পিটিয়ে , লাল ঘোড়া দাবড়ায়ে খাজনা আদায় করতো । সেই দলের প্রধান ছিলেন যিনি তার নাম তোফায়েল । সেই অবহেলিত তোফায়েলই ২০১৪ সালে এসে জানান দিলেন তিনি আসলেই ছিলেন স্যার টোফায়েল !!
তবে যে শুধু মাইগ্রেসন করলেই বা সময়ের সাথে সাথেই নামধাম জাত পাল্টাতে হয় তা কিন্তু না ।
প্রভু পরিবর্তন হলেও নাম টাইটেল , জাত পাত পরিবর্তন হতেই পারে । এতে দোষের কিচ্ছু নাই ।
১২ আওলিয়া দের দল যখন এই বাঙলার বুকে নামলো তখন অনেকেই বাপ, দাদা , বড়দাদা'র জাতের নিকুচি করে করে অন্য জাতে , অন্য ধর্মে মাইগ্রেসন করেছিলেন ।
ইংলিস'রা যখন কৃষ্ণ নগর , হুগলী তে আসলো অনেকেই সেই সময় নগদ নারায়ণ আর নগদ বানিজ্যের আশাতে যীশু খৃষ্টের পথ খুজে নিয়ে ছিলো ।
এই বাঙলার বিক্রম সিংহ শ্রীলংকা যেয়ে ধারণ করেছিলেন গৌতম বুদ্ধের মতো মৌনোভাব ।
তবে এই ক্ষেত্রে বিপ্লব ঘটিয়ে ছিলেন আমাদের এক ঋষি কবি ; তিনিও লালায়িতো ছিলেন তোফায়েল স্যারের মতো একটা স্যার উপাধির জন্য ।
সেই ঊছিলাতে পাওয়া নাইট উপাধি গ্রহণ করে তিনি বাংগালি জাতির মান বাড়িয়ে দিয়েছিলেন ।
শুনেছি তিনি উপাধি নিলেও উপাধি খচিত উপ টোকন গ্রহন করেন নি ।
তাই তো ক্ষতি পুষিয়ে নিতে ঋষি কবি ঠাকুর হয়ে গিয়েছিলেন " ট্যেগর" ।।
ট্যাগর আমাদের সাম্প্রদায়িক ঠাকুর'দাঁ ।

সালনাম রুশদী

সালমান রুশদী কে আমরা সবাই চিনি ;
সবাই ঘৃনা করি।
তার একটা দূর্দান্ত মার্কেটিং পলিসি আছে। সেল্ফ ব্যান্ডিং টাইপের।
ধরেন কোন একটা অনুষ্ঠান হবে।
বিশেষ অতিথি হিসাবে দাওয়াত পেয়েছেন রুশদী সাহেব, হিলারি ক্লিনটন, পোপ, জন পল, স্টিফেন হকিন্স বা এই জাতীয় আরো অনেকে।
রুশদী সাহেব যেটা করেন তা হচ্ছে শেষ মুহুর্তে এসে তিনি আর ঐ অনুষ্ঠানে যান না।
বরংচ উনি ঐ একই সময়ে প্রয়োজনে অনেক কম গুরুত্তপুর্ন অনুষ্ঠানে হাজীর হন।
রিডার্স ডাইজেস্ট এর কোন একটা প্রকাশনা থেকে এই তথ্যটা পেয়েছিলাম।
এই বিষয় টা তে রুশদী,র দৃস্টি আকর্সন করা হলে উনি এই গুলী কে Schedule clash বলে চালিয়ে দিতেন।
পরবর্তিতে তার একজন ব্যাক্তিগত স্টাফ প্রকাশ করে দেন হাড়ির খবর।
যে অনুষ্ঠানে উনার মত আরো বিখ্যাত ব্যাক্তি আছেন যে বা যারা উনার সমান বা উনার চেয়ে বেশি ফোকাস আদায় করে নিতে সক্ষম উনি সেই ধরনের অনুষ্ঠানে এ্যাটেইন করে উনার ফেম বা খ্যাতি শেয়ার করতে নারাজ।
তাই
*এই ধরনের অনুষ্ঠানে যোগদানের সিডিউল রেখে তিনি প্রচারের সুযোগ নেন।
*এই ধরনের অনুষ্ঠানে অনুপস্থীত থেকে তিনি তিনি সমালোচনা সহ্য করেও প্রচারের সুযোগ নেন।
* অনুষ্ঠান চলাকালীন সময়ে তিনি এমন কোন প্রগরামে পার্টিসিপেট করেন যেখানে তিনিই প্রধান অতিথি ; তিনিই সকল ফোকাসের কেন্দ্রবিন্দু।
আজকে বেগম খালেদা জিয়ার কুমিল্লা প্রোগ্রাম এর সময় আওয়ামীলীগ নেত্রী শেখ হাসিনা,র হবিগঞ্জ প্রগ্রাম দেখে হটাত সাত (৭) বছর আগে পড়া রিডার্স ডাইজেস্ট এর কথা মনে পরে গেলো।
এতটুকু কিন্তু নিশ্চিত করেই বলা যাবে
"সালনাম রুশদী" এর চেয়ে মার্কেট ডাম্পিং এ অনেক পাকা খেলোয়াড় শেখ হাসিনা।
অবশ্য প্রধান মন্ত্রী,র পদ টা আঁচলে ভালো করে বাঁধা না থাকলে গনেশ উল্টাতে কতক্ষন সময় লাগে সেটা দেখার অপেক্ষাতে বাংলাদেশ।

রিয়ালাইজেসন জাগ্রত হোউক

২৪ ডিসেম্বর ২০১৪

অনেকেই দেখছি বুলী কপচাচ্ছেন
"পুলিশ ছাড়া আসুন Rab ছাড়া আসুন"
দু:খিতো আপনি তাহলে বিভ্রান্তি তৈরি কারি।
আপনি এই অবৈধ সরকারের কাছে আবেদন করছেন এই বলে যে
"আস্তে মাইর দে; এত্ত জোরে মারিস না "
আপনি ছাত্রদল কে ভ্রান্ত আত্মতৃপ্তি দেবার চেস্টা করছেন
ছাত্রদলের মগজে আপনি গেঁথে দেবার চেস্টা করছেন যে
"বিরধীদের আন্দালন করতে হলে সরকার কে রাস্তা থেকে পুলিশ তুলে নিতে হবে "
আপনি ক্যান বলছেন না
"যারাই গন নির্যাতক হবে তাকেই প্রতিরোধ করার ক্ষমতা আমাদের আছে এবং আমরা তা করবো"
এরশাদ বিরধী আন্দালনে কি পুলিশ ছিল না?
দুনিয়ার তাবত গনআন্দালনের মূল চ্যালেঞ্জ পুলিশ বাহিনী।
ইতিহাস টা দেখুন না ক্যান?
নির্যাতন নিপীড়ন আর অবিচারে যখন পাছা দিয়ে গ্যাস্টিক ধুয়ার মত বাহির হচ্ছে তখন লিডার নামের আহাম্মকের ঢেকিরা বলছেন
দেখ দেখ বড় রাস্তাই রান্না হচ্ছে, খানা খাদ্য হবে আমাদের বিজয় উতসবে মেজবানি হচ্ছে সেই আগুনের ধোয়া উঠেছে।
আমরা যারা আজকের ঘটনাতে পূলক অনুভব করছি, নিউজফিডের ইন্দ্রজালে যাদের দুই ইঞ্চির লিংগ ছয় ইঞ্চীতে লাম্ফ দিয়েছে তাদের বলি একটু দারান।
আজকে যে নেত্রীকে গ্রেফতারের ক্ষিন সম্ভবনা ছিল, সেই হিসাব মাথাতে রেখে বলেন তো
যা ভাবছেন তা ঠিক ভবছেন তো
নিজের সাথে প্রবঞ্চনা করছেন না তো !
বাংলাদেশ জিন্দাবাদ
বিএনপি জিন্দাবাদ
রিয়ালাইজেসন জাগ্রত হোউক।

Why Zia?

বিধবা বিবাহের বিরুদ্ধদের বিরুদ্ধে কথা বললেন, নিজের ছেলেকে বিধবার সাথে বিয়ে দিলে।


ঈশ্বরচন্দ্র গেঁথে গেলেন মানুষের মনে , সমাজ সংস্কারের উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপন করলেন তিনি ।



ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চলিত নিয়ম ভেঙ্গে ভর্তি হলেন বিপ্লবী লীলা নাগ..
প্রথম ছাত্রী তিনিই.. তিনি প্রশাসন কে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হন এবং একজন শিক্ষক তাঁর নিজের কোয়ার্টারে তাকে মেস হিসাবে ব্যবহার করতে দেন... এই সূত্র ধরেই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে কো-এডুকেশন শুরু হয়...



ভারতীয় উপমহাদেশে বৃটিশ বিরোধী আন্দালনের সময় মোহন দাস করম চাঁদ গান্ধী,র ভেজিটেরিয়ান অহিংস সুবিধাবাদী নীতির বিরোধীতা করে ফুঁসে উঠেন নেতাজী সুভাস চন্দ্র বসু ,ভগত সিং প্রমুখ ।আজ ইতিসাসের ব্যাবচ্ছেদে গান্ধীজী অজস্র সমালোচনার মুখোমুখি হলেও মানুষের হৃদয়ে অবিনশ্বর আসন করে নিয়েছেন সুভাস বোস এবং ভগত সিং ।


জাতপাত ,ধর্মের গণ্ডি ভেঙ্গে মানবতার গান নিয়ে , মানবতার বানী নিয়ে বাংলার ধুলী উঠা প্রান্তরে মানবতার ইশতেহার নিয়ে হাজীর হন লালন সাই ।লালনের এই সংস্কার আজীবন গ্রথিত থাকবে বিশ্ব মানবতার কল্যানে ।


অর্নেস্ট চে গুয়েভা ; সাম্য ভিত্তিক অর্থনীতি প্রতিষ্ঠার জন্য ঘর ছেড়েছিলেন , বিপ্লবের ব্লুজ সুরে মন্ত্রিত্ব , ক্ষমতা , প্রতাপকে পায়ে পিষে বেড়িয়ে পরেছিলেন ...


কিংবদন্তী বক্সার মোহাম্মদ আলী ; ভিয়েতনাম যুদ্ধে যেতে অস্বীকার করেন যেহেতু সেই যুদ্ধ ছিল অপ্রয়জনীয় এবং মানবতা বিরোধী । আলীর এই মানবতাবাদী বোধ তাঁর বক্সার পরিচয়ের চেয়েও উজ্জ্বল ।


সমাজের ভ্রান্ত নীতি ভেঙ্গে যারা সমাজের কল্যাণের জন্য নতুন নিয়ম গড়ে তাদেরই তো বলে সমাজ সংস্কারক।

তাহলে জিয়া কেন সংস্কারক নয়?


নজরুল বলেন "
নরককুন্ড বলিয়া কে তোমা’ করে নারী হেয়-জ্ঞান?
তারে বলো, আদি পাপ নারী নহে, সে যে নর-শয়তান।
অথবা পাপ যে-শয়তান যে-নর নহে নারী নহে,
ক্লীব সে, তাই সে নর ও নারীতে সমান মিশিয়া রহে"

নিজের পুরুষ স্বত্বাকে পরোয়া না করেই মানবতার কথা বললেন কাজীদা ...


জিয়াও এই কথায় বিশ্বাস করতেন
কাঠ মোল্লাদের আপত্তি স্বত্তেও পুশিস সহ বিভিন্ন বাহিনীতে নারীর অংশ গ্রহন নিশ্চিত করেন....
পরিবার পরিকল্পনার কথা এই দেশে যেন ভাবাই যেতো না। অথচ জিয়া আগামীর সমস্যা সবাইকে বুঝিয়ে এই দেশে পরিবার পরিকল্পনা প্রকল্প হাতে নেন...


শিশুদের জন্য নতুন কুড়ি আর যুক্তিবাদী প্রজন্মের জন্য উন্মুক্ত বিতর্ক এসব জিয়ার দেখানো পথ...
Bottom less basket , সাহায্যের আশাতে হাভাতের মতো চেয়ে থাকা বাংলাদেশ থেকে জনশক্তি রপ্তানির মাধ্যমে কার্যকর শ্রম শক্তি গড়ে তোলেন এই জিয়া ।

বাংলাদেশের মুণ্ডু যখন পিন্ডি VS দিল্লীর পারস্পারিক ফুটবল খেলার রাফ ট্যাকেলে রক্তার্ত তখন এই সব অযোগ্য পররাষ্ট্র নীতি থেকে দেশ কে মাথা তুলে দাঁড়াবার পথ দেখিয়েছিলেন এই মুক্তিযোদ্ধা জিয়া ...


এই জিয়াকে মাথায় তুলে নাচবো নাকি উন্নয়নের পথ রুদ্ধ করে নিজের চুরি যাওয়া কম্বলের সন্ধানে রক্ষী বাহিনী নামানো আলাদের সন্ধান করবেন সেটা একান্তই আপনার দেশপ্রেমবোধের ব্যাপার ।
স্বনির্ভর বাংলাদেশ জিন্দাবাদ

মঙ্গলবার, ১৯ মে, ২০১৫

ঢাকা সিটি

আপনারা ঢাকাকে বিশ্বমানের নগরী করতে চান?
Good thinking
তাহলে আসুন ; হয়ে যাক কয়েকটা ইদুর ধরা.....
আচ্ছা আপনি জানেন কি আজ যখন ঢাকাকে বাসযোগ্য বানানোর জন্য আপনারা ভোট দেবার আশাতে অপেক্ষা করছেন ঠিক সেই সময় বসবাস অযোগ্য মহানগরের তালিকাতে ঢাকা প্রথম স্থানটা দখল করে বসে আছে।
দামেস্ক আর গাজা সিটি,র পরেই সবচেয়ে বেশি গুমের স্বিকার হয় এই শহরের বাশিন্দারা।
একটা সময়ে ঢাকা ছিল তিলত্তমা ঢাকা। তারপরে ঢাকা ছিল বিপ্লবের উন্মুক্ত দুয়ার।
সেই ঢাকা বাস অযোগ্য কেমনে হলো এই প্রশ্নের উত্তর খুজছেন কখনও?
ঢাকার বাতাস একসময় কালো ছিলো, বিষাক্ত শিসা ছিল নিশ্বাসের উপকরন।পোড়া মবিলের গন্ধে টিকে থাকা দায় ছিল।
সেই সব দম বন্ধ পরিবেশ থেকে মুক্তি মিলেছিল কিভাবে?
এখন আবার কেন বাতাস বিষ হলো?
এরজন্য দায়ী কারা?
ঢাকাতে প্রথম শব্দ সহনীয়তার মাত্রা নির্ধারন হয়েছিল কবে?
স্কুল হাসপাতাল গুলির সামনে সাউন্ড মিটার বসিয়েছিল কারা?
একটা সময় এই ঢাকার খালি যায়গার মাটিতে প্রতি বর্গ ফুটে শত পলিথিন পাওয়া যাইতো।
বুড়িগঙ্গা আর তুরাগের তলদেশে তৈরি হয়েছিল পলিথিনের পাহার।
ড্রেনেজ সিস্টেম আটকে থাকতো প্লাস্টিক ব্যারিয়ারে।
কে বন্ধ করেছিল সেই নেক্কারজনক প্লাস্টিক কালচার?
ভুমিকম্প প্রবণ এই ঢাকাকে যা আরও ঝুঁকির মাঝে ফেলে দিয়ে ছিলো, এর থেকে মুক্তির পথ কারা দেখিয়ে ছিলো?
ঢাকা শহরে বছর ১৫ আগেও ছিল ইটের ভাটা, কাঠ কয়লা দিয়ে চলতো সেই সব কার্বন খনি।
কে নিষিদ্ধ করেছিল সেই সব আবর্জনা তৈরির কারখানা?
ব্রাদার্স
wait, wait a second..
দীর্ঘ নয় (৯) বছর পরে যাচ্ছেন তো সিটি সরকারের ভোটটা দিতে। যাবার আগে একবার বলেন দেখি আপনাদের ভোটে সিটি মেয়র নির্বাচিত করবার অধিকার প্রথম কে দিয়েছিল আপনাকে?
এই প্রশ্নগুলার উত্তর খুজলেই পেয়ে যাবেন ঢাকার জন্য কোন দলের প্রার্থী যোগ্য
বিবেচনাবোধ টা আপনার। একান্তই আপনার।
নিজের ভালো নাকি পাগলেও বোঝে। অতএব সুস্থ মানুষ হিসাবে আপনার দ্বায়িত্তটা একটু বেশীই।।।

৩৬ চাইনা টাউন

২০০১ এর দিকে হবে হয়তো ।
তখন RMG এতটা খারাপের দিকে যায় নায় ।চাইনিজ আর ফিলিপিনোরা উঠেপড়ে লেগেছে এই সেক্টরের দখল পোক্ত করার জন্য।
তাবৎ দুনিয়া,র বড় বড় রিসার্চ সেন্টার আর রিসোর্সিং এজেন্সি গুলিতে চাইনিজ এবং ফিলিপিনো তরুণ তরুণীদের পদচারনা তখন ; তারা শিখছে ,ইন্টার্নি করছে, করার পরে ফিরে যাচ্ছে দেশে । আমাদের বাংলাদেশ তখন এই প্রক্রিয়ার বাইরে না । তারা বাংলাদেশেও আসছে ।
দেশে তাঁদের অনেক ডিমান্ড ; একদিকে চাইনিজ এজেন্ট মার্কেটিং ক্যাপাবিলিটি অন্য দিকে চলমান ট্রেনিং প্রোর্গ্রাম ।
বাঙ্গালী তো এমনি এমনিই নাচে । এই শিক্ষানবিশ দেরকেই বস বলে ডাকতে ডাকতে মুখে ফেনা তুলে ফেলার যোগার !!
এমন সময় চিঠি এলো
"আমাদের দেশে আপনাকে স্বাগত জানতে আমরা অপেক্ষা করছি; আসুন ফিলিপিনে আমরা আপনাদের সাথে অভিজ্ঞতা বিনিময় করে ধন্য হবো ।আমাদের ইয়াং প্রফেশনাল দের ট্রেনিং দিন ।বিনিময়ে আমাদের কৃতজ্ঞতা এবং আপ্যায়ন আপনাদের জন্য থাকছেই।"
সালা নাক বোচাদের কাম শিখামু ! আমি কি হনুরে টাইপ ভাব এসে গেল ।অহংকারে আর মাটিতে পা পরে না ।
পাসপোর্ট নিয়ে গেল ওদের লোকজন । পাচ দিনের মাথায় Thanks giving কার্ড সহ ভিসা হাতে চলে এলো ।
বিমানের টিকেট প্রস্তুত আছে ; আমাদের জমা হতে হবে এয়ারপোর্ট লাউঞ্জে ।
এমন সময় একটা নতুন মেইল আসলো ।
প্রতিদিনের সিডিউল , ওয়ার্ক প্লেস , রাস্তার ছবি , হোটেলের বিস্তারিত সব সব কিছুই আমাদের ব্রিফ করা হল ।
কিছু প্রশ্ন ছিল আমাদের জন্য যেমন
১। খাবার হালাল চান নাকি অর্ডিনারি হলেও চলবে?
২। ব্রেক ফাস্টে আপনার পছন্দ কি ?
৩। লাঞ্চে কি খেতে চান ?
৪। ডিনার কি হোটেলেই করতে চান?
৫। বিছানা,তে বালিশ লাগবে কয় টা ?
এই সব আর কি ।
ওদের প্রফেসনালিজম দেখে বেকুব বনে যাবার দশা ।
প্রশ্নমালার শেষের দিকে আরো একটা প্রশ্ন ছিল ।
*আপনি সন্ধাকালিন সঙ্গী হিসাবে কেমন নারী পছন্দ করবেন????
আমি স্মার্ট পোলার মত জানিয়ে দিলাম অফকোর্স চাইনিজ অরিজিন বাট ইংরাজি জানতে হবে ।
কিছুক্ষন পরে বস জানালো ফ্যাক্টরি তে ওয়ার্কার আনরেস্ট হবার চান্স আছে ।তুমি স্টেশন লিভ করবা না ।
পুরাই স্ককড ।
আমার কোম্পানি বস আমার বাবা ।
ইমেলের সব কপি তো আমার বসের কাছে একটা করে পৌছে যেতো ; উত্তেজনার বসে সব ভূলেই গিয়েছিলাম।
সেই সময় অনেক উচ্চ পদের একজন সেলিব্রেটি গার্মেন্ট ব্যাবসায়িও ফিলিপিন গিয়েছিলেন যার অন্তত ট্রেনিং করাবার মত টাইম থাকার কথা না , নাইট পার্টনার বিনা পয়সাতে পাওয়ার আগ্রহ থাকার কথাও না ; তার রাজনীতি করার কথা , ভোট করার কথা ,সংগঠনের সভাপতি হবার কথা ।
তবুও তিনি সব গুলিই করেন ।
মুফতে পেলে এরা আলকাতরাও খেতে পারে । ঢাকা শহরের গেটের চাবি হাতে পেলে এরা ঢাকাকে পোড়া বাড়ীর চমচম বানিয়ে গিলে খাবে No doubt..

Marriage never completes without divorce

"জেল জুলুম হুলিয়া , নিতে হবে তুলিয়া"
এক সময়ের জনপ্রিয় রাজনৈতিক শ্লোগান ছিল ।
জনপ্রিয়তা পাবার নেপথ্য কারন ছিল ;
সেই পাকি শোষক আইয়ুব খান থেকে বাংলা স্বৈরাচার হেসাইন মুহাম্মদ এরশাদ সাহেবের আমল পর্যন্ত রাজনৈতিক এবং বিরধী মতের প্রাকাশকারিদের জব্দ করার উত্তম মাধ্যম ছিল মামলা ঠুকে জেলে পুরে দেওয়া বলে।
জেল জুলুম হুলিয়া যখন ক্রমবর্ধমান গতিতে চলমান ; সেই সময় মানুষ রাজপথ কাঁপাতে লাগল আরো জোরালো ভাষাতে ।
"লড়াই লড়াই লড়াই চাই ; লড়াই করেই বাঁচতে চাই"
সেই লড়াই আজো সমান ভাবে চলমান। দুনিয়ার এক প্রান্তে যখন একনায়ক স্বৈরতন্ত্রের পতন ঘটে তখন অন্য প্রান্তে পতিত বর্জের ভেতর জন্ম নেয় নতুন স্বৈরাচার। ভাঙ্গা গড়ার এক প্রক্রিয়াগত খেলা ।
মোহন দাশ করম চাঁদ গান্ধী সাউথ আফ্রিকা তে গিয়েছিলেন ব্যারিস্টারি পরতে।মাঝে মাঝেই তাকে ট্রেন ভ্রমণ করতে হতো।ট্রেনে কালো চামড়াদের জন্য সংরক্ষিত ছিল বিষেশ কামরা। সাদাদের সাধারন কামরা গুলিতে প্রবেশাধিকার সম্পূর্ন রিজার্ভড।
এই নিয়মের তোয়াক্কা না করে সাদা কামরা তে উঠে বসার অপরাধে গান্ধীজিকে চলমান ট্রেন থেকে ধাক্কা দিয়ে ফেলে দেওয়া হয়েছিল।
জনসংযোগ বৃদ্ধি করে স্বৈরাচারের গদি টালমাটাল করে দেবার কারনে বার্মিজ কিংবদন্তি আং সাং সুচি কে লম্বা গৃহবন্দিত্ত বরন করতে হয়।
নেলসন ম্যান্ডেলা কে ৩০ বছরের অধিক কারাভোগ করতে হয় তার দেশের সংখ্যা গুরু মানুষের ন্যায্য অধিকার আদায়ের জন্য ।
ইয়াসির আরাফাতের কথা না হয় নাইবা বলি এই ভদ্রলোক কে আমৃত্যু লড়াই চালিয়ে যেতে হয়েছিল ফিলিস্থিনি মানুষের স্বাধীনতা পুনঃ আদায়ের যুদ্ধ চালাতে যেয়ে ।
আরব বসন্তের জোয়ারে ক্ষমতার আসনে বসে ছিলেন মোহাম্মদ মুরসি ।
13.2 মিলিয়ন অর্থাৎ ৫১ শতাংশ ভোট পেয়ে ক্ষমতাতে আসা মুরসির দলকে নিশিদ্ধ থাকতে হয়েছিল কয়েক যুগের বেশি সময়।
এতসব চলার পরেও যখন স্বৈরাচারের ক্ষমতার লিপ্সা বিন্দুমাত্র কমে যায় না তখন মানুষ আওয়াজ তোলে ......
"দিয়েছি তো রক্ত আরো দেব রক্ত
রক্তের বন্যায় ভেষে যাবে অন্যায়"
এইসবের সবকিছুই আমাদের সোনার বাংলাদেশের সাথে যায় , এক্কেবারে খাপে খাপ মিলে যায় ।
দেশের বিরধী মতের প্রধান ধারককে আজ দুদিন ধরে রাজপথে আঘাত দেওয়া হচ্ছে । পেশী শক্তি নির্ভর সরকারদের কাছে অবশ্য পেশী শক্তি ব্যাবহার কোন নতুন কিছু না , সামপ্রদায়িক সরকারী শক্তিগুলি সবসময়ই মৌল এবং চরম পন্থার প্রকাশক ।পরমত সহিষ্ণুতা যে সহ্য করার যোগ্যতা রাখে না তার চেয়ে বড় মৌলবাদ আর কেই বা হতে পারে ।
বিশ্বে এ যাবত যত বড় বড় মৌলবাদী শক্তির উদ্ভব হয়েছে তা উত্তর কোরিয়া হোক , রাসা হোক, ইজরাইল হোক , সৌদি বা ইরান,মিসর হোক অথবা কিউবা বা বাংলাদেশ হোক প্রতিটি স্থানেই মৌলবাদের এবং চরম পন্থার প্রশার করতে সাধারন মানুষের উন্মুক্ত মতামত এবং ভোটাধিকার হরণ করা হয়েছে প্রথমেই ।
বৃটিস সোসাইটিটে বেশ জনপ্রিয় টোটকা হচ্ছে _
Marriage never completes without divorce...
"বিচ্ছেদ ব্যাতীত বিবাহ চক্র পূর্ন হয় না "
মৌলবাদের চক্র পূর্ন করতে স্বৌরাচারের হাত কি ইস্কাপনের টেক্কা টাই খুঁজছে ??

আনিসুল হক

বিড়াল কে বলা হয় মাঘের মাসী।যদিও শক্তির বিশাল ফারাক ।
বাঘ-মহিষ নাকি ঠেলাতে পড়লে এক ঘাটেই জল খায় । আসলেই কি তাই ?
তবে ঠেলাতে পরলে বাঘ এবং শিয়াল একসাথে শিকারে যায় ;এটা সত্য ।
যায় হোক রামপাল এফেক্টের ফোরকাস্ট পাবার সাথে সাথেই সুন্দর বনে দূর্ভিক্ষে ঘনঘটা। শিকার নেই বনে।ধূর্ত শিয়াল মামা বাঘের গুহাতে যেয়ে কলিং বেল দিল । হুঁক্কা হুয়া হুক্কা হুয়া।
কে? ভেতরে আয় । শিয়াল পন্ডিত গুহাতে মাথা ঢুকালো।
শিয়াল বলল, মামা অনেক দিন ভালোমন্দ খাওয়া হয় না, চল আজকে শিকারে যায় দুই ভাই। রান্নার দায়দ্বায়িত্ব সব আমার ।
বাঘ ভাবল, কাঁচা মাংসের স্বাদ একঘেয়ে লাগে । শিয়াল পন্ডিত যদি রান্না করে খাওয়াইয় তো মন্দ কি ? বাঘ মামা রাজী হয়ে গেলো।
শিয়ালও কিন্তু কাঁচা খেলোয়াড় না । মামা ভাগ সমানে সমানে ভাগ হবে তো ? নিশ্চিত হতে চাইলো সে।
আমি ন্যায্য হিসাব দিব রে, পন্ডিত বাঘ মামার আশ্বাস।
অতপর দুজন চলল বনের ধারে ধারে । বনের চারদিক আমলকি গাছে ভর্তি, সেই আমলা গাছের ফাঁক দিয়ে দেখা গেল মোষের দল । শিয়ালের ইশারা পেয়ে নিঃশব্দে শিকার স্থির করে নিচ্ছে বাঘ । ধারালো দাঁত আর হিংস্র নখ বের হয়ে আসছে কাঁচা মাংসের লোভে। নিরীহ দেখে একটি মোষের উপর ঝাঁপিয়ে পড়ার সাথে সাথেই শিকার নিস্তেজ হয়ে চলে এল বাঘের থাবার নিয়ন্ত্রণে । মোষের সঙ্গী সাথীদের টিকিটিও দেখা যাচ্ছে না কোথাও।
টেনে হেঁচড়ে শিকারকে নিয়ে আসা হল বাঘের গুহার সামনে । শেয়াল মামা রান্না বান্না শুরু করে দিল । কিছুক্ষণের মধ্যেই মন মাতানো ঘ্রাণ ছুটে গেল সারা জঙ্গলে। এই আকালের যুগেই প্রস্তুত হয়ে গেল কারী, স্টিমড মিট, বারবিকিউ , ঝাল ফ্রাই ,কোরমা , আর মিট সালাদ। শিয়ালের আর বাঘের বাচ্চাদের মনে বড় আনন্দ আজ !
আহা কি আনন্দ আকাশে বাতাসে ,থেকে থেকে পাখি ডাকে ,কত সুধা চারী পাসে....
বাঘ মামা চারখান প্লেট আনলো ঘর থেকে । এর মধ্যে আবার মেহমান ক্যান ? বিরক্তিকর জিজ্ঞাসা শিয়াল পন্ডিতের ।
"টেনশন নিস না পন্ডিত, ম্যায় হু না"
শোন তুই আর আমি হান্টিং করেছি তাই হিস্যা ন্যায্যই হবে।
মামা তাহলে চার প্লেট ক্যান । শিয়ালের ঈষৎ ভ্রু কুঞ্চন।
তুই আর আমি এক সাথে মোষ ধরেছি তাই আমার একভাগ আছে । ঠিক?
ঠিক মামা, শিয়াল বলল।
আমি বনের রাজা তাই আরো এক ভাগ আমার । এ্যম আই রাইট ? জি হুজুর রাইট।
আমার শক্তি ক্ষয় বেশী হয়েছে তাই আরো একভাগ আমার ।তোর কোন আপত্তি আছে ?
আপত্তি প্রশ্নই আসে না বাঘ মামা , বাকি এক ভাগেই আমার বেশ হয়ে যাবে।
ঐ একভাগ যেটা থাকে ওটাও আমি খাবো, তুই বাঞ্চোদ পারলে ঠেকা !!
দন্ত স্ফীত কতে বাঘের খাওয়া দাওয়া শুরু হলো ।
***** এতক্ষন যে বিশাল গল্পটি ফেঁদে বসলাম তার পিছনে একটি সত্য ঘটনা আছে। ২০০৫ সালে প্রতিষ্ঠিত “দেশ এনার্জী” নামক প্রতিষ্ঠানের অধীনে সিলেটের কুমারগাঁও এবং নারায়ন গঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জে ভাড়া ভিত্তিক দুটি তেল নির্ভর বিদ্যুত কেন্দ্র আছে যেগুলোর উতপাদন ক্ষমতা ১১০ মেগাওয়াট। এই প্রতিষ্ঠানের ১০ শতাংশ করে মোট বিশ শতাংশ শেয়ার আছে বাংলাদেশে তরূন উদ্যোক্তা নূহের লতিফ খান এবং তার বোন শাহপার সাবার। ২০০৬ সালে মোহাম্মদী গ্রুপের চেয়ারম্যান আনিসুল হক এই প্রতিষ্ঠানের অংশীদার হন। এবং তার পরেই আনিসুলের ছেলে নাভিদুল হক এবং আনিসুল হক নিজে বিভিন্ন ভাবে অনিয়ম ও দূর্নীতির মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানটির শেয়ারের ২০ শতাংশ নূহের লতিফ খান এবং শাহপার সাবার কাছ থেকে করায়ত্তের চেষ্টা করে। এই নিয়ে নূহের লতিফ খান এবং শাহপার সাবার সাথে আনিসুল-নাভিদের সম্পর্কের অবনতি ঘটে। পরে তাঁরা আদালতের দ্বারস্থ হলে আদালত নায্য মূল্যে আনিসুল হককে উক্ত শেয়ার কিনে নেয়ার আদেশ দিলেও আনিসুল হক বিভিন্ন তালবাহানার মাধ্যমে আজও সেই টাকা পরিশোধ করেনি। আদালতে আনিসুল হকের পক্ষে ওকালতি করেন আওয়ামীলীগ সাংসদ ব্যারিস্টার ফজলে নূর তাপস।
এখন আপনারা সিদ্ধান্ত নিন এই ঢাকা শহরের দ্বায়িত্ব আপনারা কি আনিসুল হকের মত একজন ধূর্ত মানুষের হাতে দিতে চান?

ছাত্রদলের রেসিপি

ছাত্রদলের ছিদ্র অন্বেষন করতে যারা পছন্দ করে আমি ব্যেক্তিগত ভাবে তাদের একজন।
হতে পারে নিজে ছাত্রদল করেছি সেটা একটা প্রভাবক।
হতে পারে পরন্ত যৌবনের শেষ আলো মাখা সময়ে ছাত্রদলের কোন স্থানে ছিলাম বলে গত এক যুগের ম্রিয়মাণ এবং চরম বাণিজ্যিক ছাত্রদলটা বড় বেশি অসহ্য লাগে।
সম্ভবত সোহেল-পিন্টু ভায়ের ছাত্রদল ছিল ছাত্রদলের শেষ ম্যাজিকাল লিডারশীপ।
এর পর থেকেই ক্ষয়ের পথে একটু একটু করে এগিয়ে যাওয়া।
এই ক্ষয় যাত্রা,র মূল দায় যাদের তাদের দশাসই একটা অংশ ছাত্র নামের ওল্ড হ্যাগার্ডরা হলেও সবচে বড় দায়টা এড়াতে পারবে না দলের বটবৃক্ষসম নেতারাও।
ক্ষমতার মসনদে থাকাকালীন সময়ে সীমাহীন ট্যেন্ডারবাজীর সুযোগ দেওয়া, সুপারিশ বানিজ্যের এজেন্ট বানানো এবং কমিটি প্রনয়নে চূড়ান্ত ব্যার্থতা আজকের এই পতনের পাথেয়।
ইভেন ভূল বা অযোগ্য কমিটি প্রনয়নকেও মন্দের ভালো বলতে বাধ্য অন্তত কমিটি দিতে না পারার চেয়ে।
ভালো হোক মন্দ হোক চলমান কমিটি থাকলে অন্তত সম্ভবনা থাকে যে দুই বছর যোগ্যতা প্রমান দিতে পারলে,কার্যক্রমে সচল থাকলে আগামীর কমিটিতে স্থান হবে।
যেখানে দুইটার্ম বা তিন টার্ম কমিটি না হলে ; নতুন কমিটিতে মধ্যখানের কোন প্রজন্ম কে বাদ দেওয়া ছাড়া বিকল্প থাকে না।
আশা করতে চায় প্রতি দুই বছরের মাথাতে নতুন কমিটি (প্রেসিডেন্ট ও সেক্রেটারি সহ) আসলে অসন্তস খুব বেশি জমা হবে না। কারন নতুন সুযোগ শিঘ্রি আসবে সেটা নিশ্চিত হওয়া যাবে।
এখনো হয়তো ছাত্র আন্দালনে অবশম্ভাবি জনতা পুশ ইন লাগে তবে আজকের ছাত্রদলের এক্সানের দেখার পরে বলাই যায় অল্প সময়ের বুস্ট-আপে ছাত্রদল আবারো ভেনগার্ড হবার দিকেই আগাচ্ছে।
আবারো বাংলাদেশের রাজনীতির মূল কারিগর হবে ছাত্রদল।
ছাত্রদলের বদনাম করার জন্য ছাত্রদল তাদের পার্ফমেন্স দিয়ে আবার আমাদের মুখ বন্ধ করে দেবে ; সেই প্রত্যাশাতে একটু একটু আশার প্রদীপ জ্বলা শুরু হল আজ।
ছাত্রদল জিন্দাবাদ