রবিবার, ২৭ এপ্রিল, ২০১৪

নজরুলের গান 'স


সুরে ও বাণীর মালা দিয়ে 
তুমি আমারে ছুঁইয়াছিলে।
অনুরাগ-কুমকুম দিলে দেহে মনে
বুকে প্রেম কেন নাহি দিলে?
বাঁশি বাজাইয়া লুকায়ে তুমি কোথায়?
যে ফুল ফুটালে সে ফুল শুকায়ে যায়
কি যেন হারায়ে প্রাণ করে হায় হায়
কি যে চেয়েছিলে কেন কেড়ে নাহি নিলে।
জড়ায়ে ধরিয়া কেন ফিরে গেলে
বল কোন অভিমানে?
কেন জাগে নাকো আর সে 
মাধুরী রস আনন্দ প্রাণে?
তোমারে না বুঝে বুঝেছিনু আমি ভুল
এসেছিলে তুমি ফোটাতে প্রেম-মুকুল
কেন আঘাত হানিয়া প্রিয়তম 
সেই ভুল নাহি ভাঙাইলে?           


চাঁদ হেরিছে চাঁদমুখ তার সরসীর আরশিতে
ছোটে তরঙ্গ বাসনা ভঙ্গ সে অঙ্গ পরশিতে।

হেরিছে রজনী রজনী জাগিয়া
চকোর উতলা চাঁদের লাগিয়া
কাঁহা পিউ কাঁহা ডাকিছে পাপিয়া
কুমুদীরে কাঁদাইতে।

না জানি সজনী কত সে রজনী
কেঁদেছে চকোরী পাপিয়া
হেরেছে শশীরে সরসী মুকুরে
ভীরু ছায়া তরু কাঁপিয়া।

কেঁদেছে আকাশে চাঁদের ঘরণী
চিরবিরহিণী রোহিণী ভরণী
অবশ আকাশ বিবশা ধরণী

কাঁদানীয়া চাঁদিনীতে।।

কেন আনো ফুলডোর আজি বিদায় বেলা
মোছ মোছ আঁখিলোর যদি ভাঙ্গিল মেলা।
কেন মেঘের স্বপন আনো মরুর চোখে
ভুলে দিয়ো না কুসুম, যারে দিয়েছো হেলা।
যবে শুকালো কানন এলে বিধুর পাখি
লয়ে কাঁটা ভরা প্রাণ, এ কি নিঠুর খেলা।
যদি আকাশকুসুম পেলি চকিতে কবি
চল চল মুসাফির ডাকে পারের ভেলা।
আছে বাহুর বাঁধন তব শয়ন সাথী
আমি এসেছি একা, আমি চলি একেলা।।  


লায়লী তোমার এসেছে ফিরিয়া মজনুঁ গো আঁখি খোলো।
প্রিয়তম! এতদিনে বিরহের নিশি বুঝি ভোর হলো।।
মজনুঁ! তোমার কাঁদন শুনিয়া মরু–নদী পর্বতে
বন্দিনী আজ ভেঙেছে পিঞ্জর বাহির হয়েছে পথে।
আজি দখিনা বাতাস বহে অনুকূল,

ফুটেছে গোলাপ নার্গিস ফুল,
ওগো বুলবুল, ফুটন্ত সেই গুলবাগিচায় দোলো।।
বনের হরিণ–হরিণী কাঁদিয়া পথ দেখায়েছে মোরে,
হুরী ও পরীরা ঝুরিয়া ঝুরিয়া চাঁদের প্রদীপ ধ’রে।

আমার নয়নে নয়ন রাখিয়া
কি বলিতে চাও, হে পরান–পিয়া!
নাম ধ’রে ডাকো ডাকো মোরে স্বামী

ভোলো অভিমান ভোলো।।



আশা
হয়তো তোমার পাবো দেখা,
যেখানে ঐ নত আকাশ চুমছে বনের সবুজ রেখা।
ঐ সুদূরের গাঁয়ের মাঠে
আলের পথে বিজন ঘাটে
হয়তো এসে মুচকি হেসে
ধরবে আমার হাতটি একা।

ঐ নীলের ঐ গহন-পারে ঘোম্‌টা-হারা তোমার চাওয়া
আনলে খবর গোপন দূতী দিক্‌পারের ঐ দখিন হাওয়া।

বনের ফাঁকে দুষ্টু তুমি
আস্তে যাবে নয়্ন চুমি
সেই সে কথা লিখছে হোথা
দিগন্তের অরুণ-লেখা।।



তব গানের ভাষায় সুরে বুঝেছি বুঝেছি বুঝেছি
এত দিনে পেয়েছি তারে আমি যারে খুঁজেছি।।
ছিল পাষাণ হয়ে গভীর অভিমান
সহসা, এলো সহসা আনন্দ-অশ্রুর বান।
বিরহ-সুন্দর হয়ে সেই এলো
দেবতা বলে যাঁরে পুজেছি
বুঝেছি বুঝেছি বুঝেছি।।
তোমার দেওয়া বিদায়ের মালা পুন প্রাণ পেল প্রিয়
হ’য়ে শুভদৃষ্টি মিলন-মালিকা বুকে ফিরে এলো – এলো প্রিয়।
যাহারে নিষ্ঠুর বলেছি
নিশীথে গোপনে কেঁদেছি
নয়নের বারি হাসি দিয়ে মুছেছি
বুঝেছি বুঝেছি বুঝেছি।।



আজো বলে কোয়েলিয়া
চাঁপাবনে প্রিয় তোমারি নাম গাহিয়া ।।
তব স্মৃতি ভোলেনি চৈতালি সমীরণ,
আজো দিকে দিকে খুঁজে ফেরে কাঁদিয়া ।।
নিশীথের চাঁদ আজো জাগে
ওগো চাঁদ, তব অনুরাগে ।
জল ধারা উথলে যমুনার সৈকতে
খোঁজে তরুলতা ফুল আঁখি মেলিয়া ।।



না মিটিতে সাধ মোর নিশী পোহায়
গভীর আঁধার ছেয়ে আজো হিয়ায়
আমার নয়ন ভরে এখও শিশির ঝরে
এখনও বাহুর পরে বধু ঘুমায়
এখনও কবরী মূলে কুসুম পড়েনি ঢুলে
এখনও পড়েনি খুলে মালা খোঁপায়
নিভায়ে আমার বাতি পোহালো সবার রাতি
নিশী জেগে মালা গাথি প্রাতে শুকায়

\
মেঘলা নিশি ভোরে মন যে কেমন করে
তারি তরে গো মেঘ-বরণ যার কেশ।
বুঝি তাহারি লাগি’ হয়েছে বৈরাগী
গেরুয়া রাঙা গিরিমাটির দেশ।।
মৌরি ফুলের ক্ষেতে, মৌমাছি ওঠে মেতে
এলিয়েছিল কেশ কি গো তার এই পথে সে যেতে।
তার ডাগর চোখের ঝিলিক লেগে রাত হয়েছে শেষ (গো)।।
শিরিষ পাতায় ঝিরিঝিরি, বাজে নূপুর তারি
সোনাল ডালে দোলে তাহার কামরাঙা রঙ শাড়ি।
হয়েছি মন-ভিখারি কোন্‌ শিকারি আমি
উঠি পাহাড় চূড়ায়, ঝর্না জলে নামি
কালো পাথর দেখে জাগে কার চোখের আবেশ গো।।



মধুকর মঞ্জীর বাজে বাজে গুন্‌ গুন্‌ মঞ্জুল গুঞ্জরণে
মৃদুল দোদুল নৃত্যে বন শবরী মাতে কুঞ্জবনে।
বাজায়ছে সমীর দখিনা
পল্লবে মর্মর বীণা
বনভুমি ধ্যান-আসীনা
সাজিল রাঙা কিশলয় বসনে।
ধূলি-ধূসর প্রান্তর পরেছিল গৈরিক সন্ন্যাসী সাজ
নব দূর্বাদল শ্যাম হলো আনন্দে আজ।
লতিকা বিতানে ওঠে ডাকি
মুহু মুহু ঘুমহারা পাখি
নব নীল অঞ্জন মাখি
উদাসী আকাশ হাসে চাঁদের সনে।।

চাঁদের কন্যা চাঁদ সুলতানা, চাঁদের চেয়েও জ্যোতি |
তুমি দেখাইলে মহিমান্বিতা নারী কি শক্তিমতী ||
শিখালে কাঁকন চুড়ি পরিয়াও নারী,
ধরিতে পারে যে উদ্ধত তরবারি,
না রহিত অবরোধের দুর্গ, হতো না এ দুর্গতি ||
তুমি দেখালে নারীর শক্তি স্বরূপ — চিন্ময়ী কল্যাণী,
ভারত জয়ীর দর্প নাশিয়া মুছালে নারীর গ্লানি |
তুমি গোলকুন্ডার কোহিনূর হীরা সম,
আজো ইতিহাসে জ্বলিতেছ নিরুপম ;
রণরঙ্গিণী ফিরে এস,
তুমি ফিরিয়া আসিলে ফিরিয়া আসিবে লক্ষ্ণী ও সরস্বতী ||

http://banglasonglyrics.com/11004/%E0%A6%9A%E0%A6%BE%E0%A6%81%E0%A6%A6%E0%A7%87%E0%A6%B0-%E0%A6%95%E0%A6%A8%E0%A7%8D%E0%A6%AF%E0%A6%BE-%E0%A6%9A%E0%A6%BE%E0%A6%81%E0%A6%A6-%E0%A6%B8%E0%A7%81%E0%A6%B2%E0%A6%A4%E0%A6%BE%E0%A6%A8/





রুম্ ঝুম্ ঝুম্ ঝুম্ রুম্ ঝুম্ ঝুম্
খেজুর পাতার নূপুর বাজায়ে কে যায়।
ওড়না তাহার ঘূর্ণি হাওয়ায় দোলে
কুসুম ছড়ায় পথের বালুকায়।।
তার ভুরুর ধনুক বেঁকে ওঠে তনুর তলোয়ার,
সে যেতে যেতে ছড়ায় পথে পাথর-কুচির হার।
তার ডালিম ফুলের ডালি গোলাপ-গালের লালি
ঈদের-চাঁদ ও চায়।।
আরবি ঘোড়ায় সওয়ার হয়ে, বাদ্‌শাজাদা বুঝি
সাহারাতে ফেরে সেই মরীচিকা খুঁজি
কত তরুণ মুসাফির পথ হারালো, হায়!
কত বনের হরিণ মরে তারি-রূপ তৃষায়।।

মনে পড়ে আজ সে কোন্‌ জনমে
বিদায় সন্ধ্যাবেলা-
আমি দাঁড়ায়ে রহিনু এপারে
তুমি ওপারে ভাসালে ভেলা।।
সেই সে বিদায় ক্ষণে
শপথ করিলে বন্ধু আমার
রাখিবে আমারে মনে,
ফিরিয়া আসিবে খেলিবে আবার
সেই পুরাতন খেলা।।
আজো আসিলে না হায়,
মোর অশ্রুর লিপি বনের বিহগী
দিকে দিকে লয়ে যায়,
তোমায়ে খুঁজে না পায়।
মোর গানের পাপিয়া ঝুরে
গহন কাননে তব নাম লয়ে
আজো পিয়া পিয়া সুরে;
গান থেমে যায়, হায় ফিরে আসে পাখী
বুকে বিঁধে অবহেলা।।
                 জানি জানি প্রিয়
এ জীবনে মিটিবে না সাধ
সা–ধ এ জীবনে মিটিবে না সাধ ।।
আমি জলের কুমুদিনী ঝরিব জলে
তুমি দূর গগনে থাকি কাঁদিবে চাঁদ
এ জীবনে মিটিবে না সাধ
সা–ধ এ জীবনে মিটিবে না সাধ ।।
আমাদের মাঝে বধু বিরহ বাতাস
চিরদিন খেলে যাবে নীরব শ্বাস ।।
পাইনা বুকে মোরা পাইনা বুকে
তবু মুখে মুখে চাঁদ কুমুদীর নামে রটে অপবাদ
এ জীবনে মিটিবে না সাধ
সা–ধ এ জীবনে মিটিবে না সাধ ।।
তুমি কতদূরে বধু
তবু বুকে এত মধু কেন উতলায় ।।
হাতের কাছে রহ প্রাতের চাঁদ
ধরা নাহি যায়
তবু ছোয়া নাহি যায়
মরু তৃষা লয়ে কাঁদে শূন্য হিয়া
তবু সকলে বলে আমি তোমারই প্রিয়া
বলে তোমারই প্রিয়া ।।
সেই কলংক গৌরব সৌরভ দিল গো ।।
মধুর হলো তাই বিরহ বিষাদ
এ জীবনে মিটিবে না সাধ ।।
সা–ধ এ জীবনে মিটিবে না সাধ
জানি জানি প্রিয়
এ জীবনে মিটিবে না সাধ ।।
সা–ধ এ জীবনে মিটিবে না সাধ

মোর ঘুম ঘোরে এলে মনোহর
নম নম নম নম নম নম
শ্রাবণ মেঘে নাচে নটবর
রম ঝম ঢম ঢম ডম ঢম

শিয়রে বসে চুপি চুপি চুমিলে নয়ন
মোর বিকশিল আবেশে তনু
নিপসম নিরুপম মনোরম
মোর ঘুম ঘোরে

মোর ফুলবনে ছিল যত ফুল
ভরি ডালি দিনু ঢালি দেবতা মোর
হায় নিলে না সে ফুল
ছি ছি বে ভুল
নিলে তুলে খোঁপা খুলে কুসুম ডোর
স্বপনে কিযে কয়েছি তাই
গিয়াছ চলে
জাগিয়া কেঁদে ডাকি দেবতায়
প্রিয়তম প্রিয়তম প্রিয়তম ।


আধো আধো বোল লাজে বাধো বাধো বোল
বলো কানে কানে
যে কথাটি আধো রাতে মনে লাগায় দোল
বলো কানে কানে
যে কথার কলি সখি আজো ফুটিল না
সরমে মরম পাতে দুলে আনমনা
যে কথাটি ঢেকে রাখে বুকের আঁচল ।।
বলো কানে কানে
আধো আধো বোল লাজে বাধো বাধো বোল
বলো কানে কানে
আধো আধো বোল
যে কথা লুকানো থাকে লাজ নত চোখে
না বলিতে যে কথাটি জানাজানি লোকে
যে কথাটি ধরে রাখে অধরের কোল ।।
বলো কানে কানে
আধো আধো বোল লাজে বাধো বাধো বোল
বলো কানে কানে
আধো আধো বোল
যে কথা কহিতে চাহ বেশ ভুষার ছলে
যে কথা প্রকাশ তব দেহে পলে পলে
যে কথাটি বলিতে সই গালে পড়ে টোল
বলো কানে কানে
আধো আধো বোল লাজে বাধো বাধো বোল
বলো কানে কান
আধো আধো বোল
ফুলের জলসায় নীরব কেন কবি
ভোরের হাওয়ায় কান্না পাওয়ায় তব ম্লান ছবি
নীরব কেন কবি।।
যে বীণা তোমার পায়ের কাছে
বুক ভরা সুর লয়ে জাগিয়া আছে
তোমার পরশে ছড়াক হরষে
আকাশে বাতাসে তার সুরের সুরভি
নীরব কেন কবি।।
তোমার যে প্রিয়া
গেল বিদায় নিয়া
অভিমানে রাতে
গোলাপ হয়ে ফুটুক তাহারই কামনা
উদাস প্রাতে
ফিরে যে আসবে না ভুলো তাহারে
চাহ তাহার পানে দাঁড়ায় যে দ্বারে
অস্ত চাঁদের বাসনা ভুলাতে
অরুণ অনুরাগে উদলি রবি
নীরব কেন কবি।।

খেলিছে জলদেবী সুনীল সাগর জলে
তরঙ্গ লহর তোলে লীলায়িত কুন্তলে।।
জল ছল ঊর্মী নূপুর শ্রোতনীরে বাজে সুমধুর
জল চঞ্চল ছল কাঁকন কেউর
ঝিনুকের মেখলা কটিতে দোলে।।
আনমনে খেলে চলে বালিকা
খুলে পড়ে মুকুতা মালিকা
হরষিত পারাবারে ঊর্মী জাগে
লাজে চাঁদ লুকালো গগন তলে।।
                                            নহে নহে প্রিয় এ নয় আখিঁজল।
মলিন হয়েছে ঘুমে চোখের কাজল।।
হেরিয়া নিশি প্রভাতে শিশির কোমল পাতে।
ভাগ্য বুঝি বেদনাতে কেঁদেছে কমল।।
মরুতে চরণ খেলে কেন বল মৃগ এলে।
সলিল চাহিতে প্রেমে মরীচিকা ছায়।।
এ শুধু শীতের মেঘে ক ফুটো কুয়াশা লেগে।
ছলনা উঠেছে জেগে এ নহে বাধন।।



কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন