শুক্রবার, ২৯ এপ্রিল, ২০১৬

ছাত্রদলের দ্বিতীয় জন্ম ও আপোষহীন নেত্রী বেগম খালেদা জিয়া





স্বৈরাচার এরশাদ বিরোধী আন্দালনের সাথে ওতপ্রোত ভাবে জড়িয়ে আছে বাংলাদেশ জাতিয়তাবাদী ছাত্রদলের গ্রহন করা প্রথম চ্যালেঞ্জ। চরম বৈরী পরিবেশে বেড়ে ওঠা শেখার শুরু মূলত প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের শাহাদত বরণের পরে।

দলের প্রতিষ্ঠাতা শহীদ জিয়া তখন সদ্য প্রয়াত , বর্তমান নেত্রী বেগম খালেদা জিয়া তখন রাজনীতিতে খুব একটা সক্রিয় হন নি , সাধারন গৃহবধূ মাত্র। আজকের ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমান তখন একজন পিতৃহারা নাবালক।

১৯৮২ সালের ১৭ সেপ্টেম্বর শুক্রবার ও তার ঠিক সাত দিনের মাথাতে ২৩ সেপ্টেম্বর, বৃহস্পতি বার , মূলত ছাত্রদলের এ্যসিড টেস্টের শুরু। এদিন থেকেই বিরধী বেঞ্চে অবস্থান করে কিভাবে প্রতিকূল পরিবেশে টিকে থাকতে হয়, শিখতে শুরু করে ছাত্রদল।

১৯৮২ সালের ১৭ সেপ্টেম্বর ছিল শিক্ষা দিবস, ছাত্রদলের প্রথম মিছিলের জন্য এরচেয়ে জুতসই সময় আর কি হতে পারতো ?

কৌশলগত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় শিক্ষা দিবসে মিছিল হবে, এই সময় ফিলিস্তিনে ইসরাইলী আগ্রাসনের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ চলছিল বাংলাদেশ সহ অন্যান্য বেশ কিছু দেশে। এদেশে অবস্থিত ফিলিস্থিনী ছাত্রদের সাথে আলাপ আলোচনা করে তাদের সাথে নিয়ে মিছিল করার সিধান্ত গ্রহণ করে ছাত্রদলের তৎকালীন নেতৃত্ব। রমজান মাসের শেষ জুম্মার পরে বাইতুল মোকাররম মসজিদ থেকে মিছিল নিয়ে মার্কিন দুতাবাস পর্যন্ত রুট তৈরী হয়।





এরশাদের অধীনস্থ সামরিক শাষনের ভেতর এটাই ছিল কোন ছাত্র সংগঠনের প্রথম মিছিল। জনগণ এবং প্রশাসন উভয়েই হতবাক হয়ে যায় এই মিছিল দেখে। যদিও শান্তিপূর্ন মিছিল করার প্রস্তুতি ছিল তারপরেও পুলিশ আকস্মিক হামলা চালালে ছাত্ররা এরশাদ বিরধী শ্লোগান দিতে দিতে ছত্রভঙ্গ হয়। তাৎক্ষনিক সিদ্ধান্তে, এবং হাই কমান্ডের সিদ্ধান্তের অপেক্ষা না করে ছত্রভঙ্গের মূহুর্তে সরকার বিরধী স্লোগান দেওয়ার সিদ্ধান্ত গ্রহণ কোন ছোটখাট সাহসের কাজ নয়। এরজন্য বুকের চওড়া পাটা থাকতে হয়, মগজে উর্বর মস্তিস্ক থাকতে হয়।



তখন ছাত্ররা সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে প্রতি বছর শিক্ষা দিবসে শহীদ মিনারে পুষ্পস্তবক অর্পন করা হবে এবং মধ্যবর্তি কর্মসূচী হিসাবে ছাত্ররা ক্যাম্পাসে মৌন মিছিল করার সিদ্ধান্ত আসে, প্রশাসন মৌন মিছিল বন্ধে চাপ প্রয়োগ করলেও ছাত্ররা তাদের সিদ্ধান্তে অটল থাকে, এই মৌন মিছিলে পুলিশ লাঠি চার্জ করতে গেলে ছাত্ররা জগ্ননাথ হলের শহীদ মিনারে আশ্রয় গ্রহণ করে এবং পুলিশ সেখানে লাঠি চার্জ করে একজনকে গ্রেফতার করে। এই মৌন মিছিল সাংঘাতিক গুরুত্বপূর্ন হয়ে ওঠে যখন ছাত্রদলের ছেলেরা ঐ মিছিলের ব্যানারে “এরশাদের পতন চাই” স্লোগান জুড়ে দেয়।


এর সাত দিন পরে ২৩ সেপ্টেম্বর ডঃ মাজেদ খান শিক্ষা কমিশন, মার্শাল ল স্টাডি কমিশনের সুপারিশের আলোকে নতুন শিক্ষা নীতি ঘোষনা করে যেখানে প্রাথমিক শিক্ষা স্তর থেকেই ইংরেজি ও আরবি শিক্ষা বাধ্যতামূলক করা হয়। এই সিদ্ধান্তর বিরুদ্ধে ফুঁসে ওঠে ছাত্রদল ও দেশের অন্যান্য ছাত্র সংগঠন। মূলদলের সুপারিশে ছাত্রদল শিক্ষনীতি বিরোধী আন্দোলনে ভিত্তি ধরে সার্বিক আন্দালন ও সংগঠন দৃঢ় করার কৌশল গ্রহণ করে। দেশের তৎকালীন বুদ্ধিজীবীরা ছাত্রদের সাথে একমত পোষণ করলে আরো সুদৃঢ় হয়ে ওঠে, স্বৈরাচার বি্রোধী ছাত্র আন্দালনের অগ্নিকুণ্ড সম ক্ষেত্র।


১৯৮২, ৭ নভেম্বর
এই দিন আরো একটি সভা পুলিশ পণ্ড করে দিতে লাঠিপেটা করে, ঐ দিন বেগম খালেদা জিয়া উক্ত সভাতে উপস্থিত হয়ে স্বয়ং ছাত্রদের শপথ বাক্য পাঠ করান। লাঠিপেটা ও সভাপণ্ডের প্রতিবাদে পরদিন ৮ নভেম্বর ক্যাম্পাসে দুটি মিছিল প্রদক্ষিণ করে , একটিতে ছাত্রদল নেতৃত্ব দিলে অন্যটিকে জাসদ ছাত্রলীগ নেতৃত্বে ছিল। স্বৈরাচার এরশাদের পুলিশ এই মিছিলেও আক্রমণ করে বসে, ফলে দুটি দলের অভ্যন্তরীণ দুটি রাজনৈতিক মিছিল হলেও ব্যাপক ছাত্রসমর্থন ছাত্র নেতৃত্বের পক্ষে চলে আসে এবং শুরু হয়ে যায় খন্ড খন্ড বিক্ষিপ্ত লড়াই। এই পরিস্থিতিতে চলমান থাকলে ক্লাস বন্ধ করে দেওয়া হয় ১৪ তারিখ পর্যন্ত, ১৪ তারিখ ভার্সিটি খুললেও ছাত্ররা ক্লাস বর্জন অব্যাহত রাখে। এই প্রেক্ষিতে ১৪ ছাত্র সংগঠন অপরাজেয় বাংলার পদ দেশে এবং ছাত্রদল মধুর ক্যান্টিনে ছাত্র সমাবেশ করে। দুটি সমাবেশ থেকে যুগপত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় ২৯ নভেম্বর ১৯৮২" দাবী দিবস" পালন হবে বলে ঘোষনা দেওয়া হয়। এই দাবী দিবসের ঘোষণাটি ছিল ধীরে ধীরে ছাত্র আন্দালনকে এগিয়ে নিয়ে স্বৈরাচারকে ব্যাতিব্যাস্ত রাখার রাজনৈতিক কৌশল।


উক্ত ১৪ সংগঠন ২১ নভেম্বর ছাত্র সংগ্রাম পরিষদ গঠনের ঘোষনা দেয়, ছাত্রদল এই পরিষদে যোগদানে বিরত থাকে আরো বৃহত্তর ঐক্য গঠনের লক্ষে, তবে ১৪ দলের পরিষদকে সার্বিক সাহায্য সহযোগিতা করার নীতিগত সিদ্ধান্তও নেওয়া হয়।


২৯ নভেন্বর দাবী দিবসে ১৪ দল ও ছাত্র দল শিক্ষা বিষয়ক দাবি দাওয়ার সাথে সামরিক শাসন তুলে নেবার দাবীও উত্থাপন করে এবং ১৩ ডিসেম্বর ১৯৮২ শিক্ষা নীতির বিরুদ্ধে সার্বিক ধর্মঘট ডাক দেয়।
ধর্মঘটের আগের দুই দিন ১১ ও ১২ ডিসেম্বর ছাত্রদলের দুদিন ব্যাপী বর্ধিত সভা অনুষ্ঠিত হয় এবং শিক্ষা নীতি বিষয়ক আন্দালনকে সামরিক শাষন বিরোধী আন্দালনে পরিনত করার মাস্টার প্লান তৈরী করা হয়। এই সভাতে ছাত্রদল প্রথম, খালেদা জিয়া কে আনুষ্ঠানিক ভাবে বিএনপি’র মূল নেতৃত্ব গ্রহণের আহ্বান করে এবং এই সিদ্ধান্ত আনুষ্ঠানিক ভাবে দলের কাছে উত্থাপন করে।


এই ঘটনার চারদিন পরে  ১৬ ডিসেম্বর বিজয় দিবসে ছাত্র দল ১১ দফার দাবি পেশ করে।
এই দিন ১৪ দলীয় ছাত্র পরিষদ ও ছাত্রদল ১১ জানুয়ারী ১৯৮৩ সালে সচিবালয় ঘেড়াও করার সিধান্ত নিলেও পরে তা ১৪ ফেব্রুয়ারি নির্ধারন করা হয়।


১৪ ফেব্রুয়ারীর আগের এই সময়ে ঘটে ন্যাক্কার জনক আরো একটি ঘটনা। আমলা, শীর্ষ জেনারেল ও খোদ প্রেসিডেন্ট ছাত্র নেতৃত্বকে বিভিন্ন প্রলোভনের মাধ্যমে বস করার চেষ্টা করে, এবং অনেকাংশে সাফল্য পায়। সেই সময়ের ডাকসু জিএস, বর্তমান জাতিয় পার্টির নেতা ও মন্ত্রী, জিয়াউদ্দিন বাবলুকে অর্থের বিনিময়ে কিনে ফেলে এরশাদ সরকার, পুরস্কার স্বরুপ জিয়াউদ্দিন বাবলুকে মন্ত্রী বানানো হয়।


চরম এই বিভক্তির মাঝেও সাধারন ছাত্ররা আন্দালন চালিয়ে যায় এবং সচিবালয় ঘেরাও করে।
এর আগে ১২ ফেব্রুয়ারী ছাত্রদল ও ১৪ দল ২১শে ফেব্রুয়ারী পালন উপলক্ষে ঢাকার সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে প্রস্তুতি মূলক মিছিল করে।




১৪ ফেব্রুয়ারী সকাল ১০ টার মধ্যে হাজার হাজার ছাত্রছাত্রী বটতলাতে সমবেত হয় এবং পুলিশ ভার্সিটির চারদিকের সকল রাস্তা ব্যারিকেড দিয়ে বন্ধ করে দেয়। হাইকোর্টেরে সামনে বিডিআর আর শিক্ষা ভবনের সামনে দাঙ্গা পুলিশ সতর্ক অবস্থান নেয়।

বটতলাতে অবস্থান নেওয়া ছাত্রছাত্রীরা ১২.৩০ নাগাদ শিক্ষা ভবনের উদ্দেশ্যে উদ্ধত মিছিল নিয়ে যাত্রা করলে দোয়েল চত্তরে পুলিশের সাথে তীব্র লড়াই শুরু হয়ে যায়, পুলিশের টিয়ার সেল, গরম পানির প্রতিরোধে ছাত্ররাও ইটপাটকেল, লাঠি নিয়ে পুলিশের উপর চরাও হলে বিপুল সংখ্যক যুদ্ধাংদেহি পুলিশ পিছু হটে পালিয়ে যেতে বাধ্য হয়। বেগতিক অবস্থা দেখে পুলিশকে গুলি চালানোর নির্দেশ দেওয়া হয়।

পুলিশের গুলিতে জাফর, জয়নাল, কাঞ্চন, আয়ুব, ফারুক ও দীপালী সাহা শাহাদত বরন করে, দীপালী শাহা ছিল ছোট্ট বালিকা। হাজার হাজার ছাত্র আহত হয়, বেপরোয়া পুলিশ হলে হলে তল্লাশি চলিয়ে সেখান থেকে নিহত লাশগুলি তুলে নিয়ে চলে যায়। গ্রেফতার কৃত ছাত্রদের শাহবাগ আঞ্চলিক সামরিক অফিসে নিয়ে যেয়ে অকথ্য নির্যাতন চালানো হয়।
এই খবর পাওয়ার সাথে সাথে প্রথম, বেগম খালেদা জিয়া ভার্সিটির উদ্দেশে বাসভবন ত্যাগ করেন। পথে ঢাকা ক্যান্টোনমেন্টের থার্ড গেটে তার গাড়ি আটকে দেওয়া হয়, তিনি চালাকি করে এরপর বনানী গেট দিয়ে বাহির হয়ে আসেন, পথে শাহবাগে এরশাদের সিপাহীরা খালেদা জিয়ার গাড়ির গতিরোধ করে...এরপর কৌশলে বেগম জিয়া সরাসরি ঢাকা মেডিকেল কলেজে শহীদ দের লাশের সামনে হাজির হলে সেখানে এক হৃদয় বিদায়ক পরিস্থিতি তৈরী হয়। বেগম জিয়া পৌঁছানোর দুই ঘন্টার কিছু সময় পরে সেখানে আওয়ামী লীগ নেত্রী শেখ হাসিনা ও অন্যান্যরা উপস্থিত হন।

১৪ তারিখের হত্যাযজ্ঞের প্রেক্ষিতে ১৫ ফেব্রুয়ারী দেশের সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠান গর্জে ওঠে। মুর্হু মুর্হু মিছিলে প্রকম্পিত হতে থাকে ঢাকার পথঘাট । পুলিশের তান্ডবে এদিন আবারো গুলি চালানো হয় প্রতিবাদী ছাত্রদের বুকে। ১৫ তারিখে ১৫ জন ছাত্রের তাজা রক্তে ভেসে যায় রাজপথের পীচঢালা পথ। চট্টগ্রামে পুলিশ হত্যা করে ১০ জন ছাত্রকে এবং যথারীতি লাশ ছিনিয়ে নেওয়া হয়। ২৭ ফেব্রুয়ারী পর্যন্ত সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ করে দেওয়া হয়।
পরিস্থিতি সামাল দিতে দীর্ঘদিন সন্ধ্যা থেকে সকাল পর্যন্ত কারফিউ জারি হয়।

এহেন পরিস্থিতির মাঝেই ছাত্রদল ও বেগম জিয়া ২১ শে ফেব্রুয়ারী শহীদ মিনারে যাবার সিদ্ধান্তে অটল থাকেন। ব্যাপক প্রতিকূলতার মধ্যে দিয়ে ২১ ফেব্রুয়ারি বলাকা সিনেমা হলের সামনে ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের নিয়ে বেগম খালেদা জিয়া শহীদ মিনারে পুষ্পস্তবক অর্পন করেন। বিকেলে জাসাস আয়োজিত সংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে রমনার বটমূলে অনুষ্ঠানে হাজির হন বেগম জিয়া।


২১ ফেব্রুয়ারীর আগের সময়ে কর্নেল অলি , ছাত্র নেতা ও হাজার হাজার নেতা কর্মি গ্রেফতার হয়ে গেলেও বেগম খালেদা জিয়া , নিজে, নিজ দায়িত্বে ছাত্রদল নেতাকর্মীদের সাথে যোগাযোগ রক্ষা করে আন্দালনের গতি ক্রমবৃদ্ধি করেন এবং ছাত্রদলকে দেশের আন প্যারালাল সংগঠনে পরিনত করেন।


প্রসঙ্গতঃ ছাত্র আন্দোলন শুরু হবার আগে ৩০০০ বিএনপি নেতা কর্মী যাদের ৭০% ছাত্রদল কর্মী তাদের সামরিক আইনে সামরিক আদালতে বিচার করে বিভিন্ন মেয়াদে শাস্তি দেয়া হয়।

 Some where in Blog
 http://www.somewhereinblog.net/blog/Hismastervoice/30130321

Facebook
https://web.facebook.com/Wasim.Iftekhar/posts/1094303817287245



বৃষ্টি হলে, অর্ধেক শেষ




বৃষ্টি হলে, অর্ধেক শেষ
=============




তীব্র তাপধারণ করে আছে আমাদের পৃথিবী। বিশেষত এই সময়ে আমরা প্রতিদিন বৃষ্টি কামনা করছি। আমরা যারা শহুরে নাগরিক, লোড শেডিং আমাদের এক্কেবারেই পছন্দ না। রাস্তাঘাটে বের হলে গাড়ির কালো ধোঁয়া, শব্দ দূষণ, ভেজাল খাদ্য এই সব কিছু থেকে মুক্তি পেতে একটু বৃষ্টিজলের জন্য আমরা তীর্থেরকাকের মত অপেক্ষা তে আছি।
আজ বাসা থেকে সন্ধার পর বাহির হয়েছি, সিগারেট আর বাচ্চার ডাইপার কেনার জন্য।

দেখি কোন খালি রিক্সা নেই। দারোয়ান এগিয়ে গিয়েও খালি পেলো না। অগত্যা বেশ কিছুটা হেটে কোন মতে একটা রিক্সা যখন পেলাম, তখন কাহিনী জানলাম রিক্সা ওয়ালার কাছে।

এখন ধান কাটার মওশুম। ইরি ধান কাটতে ঢাকা শহরের রিক্সাওয়ালারা সব গ্রামের পানে ছুটছে। ধান কাটা শেষ হতে প্রায় ২০ দিনের মত লাগবে।

যদি বৃষ্টি নামে এখন তাহলে ধান কাটতে ঝামেলা হয়ে যাবে, বেশী বৃষ্টি হলে কিছু ধান বেশী নষ্ট হয়ে যাবে... শীলা বৃষ্টি হলে অবস্থা দফারফা হয়ে যাবে।

সক্কলটি বৃষ্টি বৃষ্টি করতাসে মামা, এরা তো মামা ধান দেখেনি। দুয়া কইরেন মামা, বৃষ্টি যেন ২০ বেলা না হয়। কাইট্টা আসি তখন মামা রিক্সাতে চড়ে ভিজুমনে।
 এখন বৃষ্টি হলে মামা গরিবের পাছায় বাঁশ....


মামাকে আমি আর বলতে পারলাম না...
মামা, আমরা নিজের কৃষ্টি ভূলে পাছায় বাঁশ, হাতে হারিকেন নিয়ে চেতনার ক্ষেতে ফসল ফলাতে শিখে গিয়েছি, তোমার ক্ষেতের ধান না হলেও বাঙালির এখন চলে..




https://web.facebook.com/Wasim.Iftekhar/posts/1100245680026392?pnref=story

সোমবার, ২৫ এপ্রিল, ২০১৬

ব্যাংক চুরির শহি লানৎ

The Bloomberg
এর শিরনাম দেখে চক্ষু চড়ক গাছ। এরা বাংলাদেশ প্রতিদিন এর স্টান্ডার্ড ফলো শুরু করলো কবে থেকে ?

নিউজ টাইটেল এরকম
 How To Rob a Central Bank?
কিভাবে সেন্ট্রাল ব্যাংকে দস্যুতা করতে হয়? অবশ্য ৭১ টিভির অঞ্জন রায় বা মুন্নি শাহারা অনুবাদ নিয়ে তুমুল বিতর্ক করতেই পারেন । দস্যুতা শব্দ এখানে ভূল প্রয়োগ হচ্ছে বা সাধারণ কোমল চুরিকে কেন কোন উদ্দেশ্যে "দস্যুতা" টাইপ রুঢ শব্দ দিয়ে চিহ্নিত করা হচ্ছে।

শব্দ যাচায় বাছায়ের দায়িত্ব আমি নিতে অপারগ , লিংক ,ছবি দিচ্ছি , ভাই আপনারা রাই দিয়ে দেন ...
 Link :http://www.bloombergview.com/articles/2016-03-20/how-to-rob-a-central-bank
 প্রকাশের তারিখ ২০ মার্চ ২০১৬







সোমবার, ২২ ফেব্রুয়ারি, ২০১৬

just a Peanut




১/১১ এর সমর্থক মাহফুজ আনাম।ঠিক আছে তার বিচার করতে চাচ্ছেন।
কোট#
"আমরা ক্ষমতাতে আসলে এই সরকারের সব কাজ রেটিফাই করে দেবো"
১/১১ এর অবৈধ পৈশাচিক সরকারের সকল আকাম, ধামাচাপা দেবার আনুকূল্যের পক্ষান্তরে ক্ষমতা পেয়েছেন যারা, তাদের বেলাতে কেন শাস্তি হবে না?
মইন আহাম্মেদকে যে দেশ ছাড়ার সুযোগ দিয়েছেন, তার বিচার কেন হবে না?
জানেন নিশ্চয় ফকরুদ্দিন সাহেব আমেরিকান পাসপোর্ট হোল্ডার।এই হিসাবে ফকরুদ্দিন সাহেব, প্রধান উপদেষ্টার পদ গ্রহণ করতে পারেন না। সাংবিধানিক ভাবেই ফকরুদ্দিন সাহেবের শাষনামল অবৈধ।
একটু মনে রাখতে হবে : নাগরিকত্ব আইনে, ফকরুদ্দিন সাহেবদের দেওয়া নির্বাচনও অসাংবিধানিক।
সম্ভবত এই কথা মাথাতে রেখেই ব্যকডেটে নাগরিকত্ব আইন চেঞ্জ করা হবে বলে গুঞ্জন শোনা যাচ্ছে।
আল্টিমেটলি লাভ হবে কি?
প্রবল জনপ্রিয় বংগবন্ধু সয়ং বাকশাল প্রতিষ্ঠার কারনে জনমানুষের মনের বিরুপ প্রতিক্রিয়া পেয়েছিলেন।
এককালের জনপ্রিয় মুসলিম লীগ তাদের প্রতিপত্তি হারিয়েছে।
মহা পরাক্রমশালী জাসদ-তাহেরের ক্রেজ নির্বংশ হয়ে গিয়েছে।
সেই তুলনাতে আজকের পর মুখাপেক্ষী প্রতাপশালী রাজনীতিববিদরা just a Peanut..

ভূল নায়ক

২০১৪ নির্বাচনের সময় থেকে আমরা গলা ফাটিয়ে চিৎকার করে বলে আসছি কঠিন আন্দালন চলুক, দূর্বার আন্দালনের মাধ্যমেই ন্যায্যতা আদায় সম্ভব।
প্রথম যখন আওয়ামীলীগ সরকার ত্বত্তাবধায়ক বাতিল করে দিয়েছিল, সেই সময় দলের থিংক ব্যাটারি'র বোঝা দরকার ছিল যে ভবিশ্যতে কি ঘটতে যাচ্ছে।
১০০ বছরের কল্পনা না আঁকতে পারেন বুঝলাম, তাই বলে ১০ বছরের ছবি বুঝতে পারবেন না, এ কেমন রাজনৈতিক বিজ্ঞতা?
৫ জানুয়ারির নির্বাচনের আগে থেকেই দল গোছানোর কথা বলা হচ্ছিল, আজ ১৬ সালের ১৬ই ফেব্রুয়ারি। কত শতাংশ কমিটি হল এ পর্যন্ত?
যে দলকে নিয়ে আমাদের রাজনীতি, যে দলের জন্য সকল আত্মত্যাগ, যে দলের সুদৃষ্টিতে আমাদের ব্যাংক ভল্টে হাজার কোটি টাকা ; সেই দলকেই উপেক্ষা?
জেনারেল রাসেল একজন বিশ্ববিখ্যাত ট্যাংক কমান্ডার।তিনি বলতেন
_
শত্রুর বুকে গুলি করার সময় যদি মনে করুনা জেগে হাত কেঁপে কেঁপে ওঠে, তাহলে তোমার করনীয় কাজটা শত্রুই করে দেবে_
আওয়ামীলীগককে কোন ভরসাতে বিশ্বাস করে সেদিনের আন্দালন বন্ধ করে ছিলেন ভাবতেই মাথা আউলা হয়ে যাই, বিভ্রান্তি ঘিরে ধরে অন্ধকারে।
সেদিনের উদ্ধত বেয়োনেট যদি থেমে না যেত, আজকের ইতিহাস অন্যভাবে লেখা হতো।
আজ আওয়ামীলীগ আমাদের সাংগঠনিক শক্তি, ধোর্যকে শ্বাস রুদ্ধ করে হত্যা করছে।নিজ ঘড়ে পরবাসী আমাদের কর্মীরা। মূখ খুলে টু শব্দটি উচ্চারনের সাহস রাখে না কোন নিউজ মিডিয়া।
শিশু, নারী, বৃদ্ধ থেকে সবল যুব পুরুষ সকলের প্রাণ প্রাচুর্য বিলীয়মান আওয়ামীলীগের হাতে।
এ দায় আমার, আপনার তথা বিএনপি'র।
যে জিয়া ৬৫ তে, ৭১এ, ৭৫ এ বাংলাদেশের মান সমুন্নত করে আমাদের লড়তে শিখিয়ে ছিলেন, সেই সৈনিক জিয়ার দল আজ ভীতু, কাপুরুষ আপসকামীদের আশ্রম। দীর্ঘশ্বাস ছেড়ে যেতে হয়।
শত্রুর বুকে তাক করা রাইফেলের গুলীটি, আমারই ভূলে আমাদের দিকে ধাবমান।
আজ আর কোন সুযোগ নেই।
নির্লিপ্তি, অক্ষম শক্তির জন্য কোন বিদেশী শক্তি ধরনা দেয় না।
কাপুরুষ, পলায়নপর কোন দলের জন্য জনমানুষ রাস্তাতে নামে না। খুব বেশী হলে করুনা থাকতে পারে।
জানি আজ যদি নিরপেক্ষ নির্বাচন হয়, তবে বিএনপি বিপুল ভোটেই জিতবে। কিন্তু আজ যদি ভোট না হয়, যদি আরো ৫ বা ৭ বা ১২ বছর অপেক্ষা করতে হয়, তখন অত বছর পরেও মানুষ নির্বিষ বিএনপি'র জন্য ভোটের বিপ্লব শুরু করবে, এমন টা আশা করলে আরো একটা বড় ভুল হয়ে যাবে ...

Regor Cadag Aguilar

ছবির মানুষটির নাম Regor Cadag Aguilar, বয়স ৪২ বছর। ফিলিপাইনের সাবেক পুলিশ অফিসার। ফিলিপাইনে সাবেক প্রেসিডেন্ট Joseph Estrada এর সময় (১৯৯৮ থেকে ২০০১) সেই দেশে ওয়ারেন্ট ছাড়াই বিরোধী দলের নেতা-কর্মীদের গ্রেফতার, বিশিষ্ট ব্যক্তিদের ফোনে আড়ি পাতা, তাদের হয়রানি করায় জড়িত ছিল। এই হয়রানি থেকে বাদ যায় নাই কোর্টের বিচারক ও সাংবাদিকরাও।

অনেকেই মনে করে বাংলাদেশের পরিস্থিতি আজ একই রকম। অবশ্য সত্য মিথ্যা যাচায় হবে আগামী ভবিশ্যতে।
Regor Cadag Aguilar এর নেতৃত্বাধীন বাহিনী। ঐ বাহিনীর নাম ছিলো Presidential Anti-Organized Crime Task Force (PAOCTF)।
হিউম্যান রাইট ওয়াচ এর ওয়েব সাইটে তার অপরাধ সম্বন্ধে লিখেছে

"Regor Cadag Aguilar was a member of the task force from 1998 to 2001 and assigned to conduct surveillance on politicians, political leaders, businessmen, and journalists. One subject of the surveillance went missing and is presumed dead; another “political figure” was murdered; and an undetermined number were tortured allegedly on orders of Aguilar’s superiors. US Immigration and Customs Enforcement (ICE) justified Aguilar’s deportation on evidence that included his admission that members of the unnamed task force had abducted, tortured, and murdered targets of surveillance. "
ফিলিপাইনে ২০০১ সালে Gloria Macapagal-Arroyo এর সরকার আসার সাথে সাথে পূর্বের সরকারের (Joseph Estrada) অনেক পুলিশ অফিসার আমেরিকায় পালিয়ে গিয়েছিল।
তাদের একজন হলো Regor Cadag Aguilar, যার বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট প্রমাণ দেওয়ায় আমেরিকা সরকার তাকে গ্রেফতার করে ফিলিপাইন সরকারের হাতে তুলে দিয়েছে সেই দেশে বিচার করার জন্য।
Regor Cadag Aguilar, যে বাহিনীর নেতৃত্ব দিয়েছিলেন সেই বাহিনী বিরধীদলের এক রাজনিতীবিদকে গুম করে যাকে আর খুজে পাওয়া যায় নাই। মনে করা হয় তাকে খুন করা হয়েছে।
বিএনপি নেতা ইলিয়াস আলী, চৌধুরি আলম শহ শত শত গুম হওয়া নেতা গুম হবার সাথে Reform Cadag Aguilar এর বাহিনীর মিল গরমিল কত টুকু তা সময় বলে দেবে।
গুজব এবং বাস্তবতা ও পরাবাস্তবতা যে কোন একটা প্রতিষ্ঠিত হবে।বাকি গুলি মিথ্যা প্রমাণিত হবে।
আমেরিকার সরকার Regor Cadag Aguilar গ্রেফতার করে ফিলিপাইন সরকারের হাতে তুলে দিল। এই ঘটনা থেকে কি শিক্ষা পাওয়া যায়?
গত ৭ বছরে যে সকল গুপ্ত ও জংগী শক্তি, বিএনপি নেতা-কর্মীদের অপহরণ, গুম, ও খুনের সাথে জড়িত তারা যদি ভেবে থাকেন আমেরিকায় তো বাড়ি-গাড়ি করে রেখেছি সরকার পরিবর্তন হলে পাগাড় পার তবে তাদের জন্য এই ঘটনাটি একটি সতর্ক সংকেত।
খুনি Regor Cadag Aguilar এর পরিণতি দেখে যদি বাংলাদেশের গুপ্ত ও ক্যাডাররা শিক্ষা নেয় তো ভালো কথা নইলে আজ থেকে ১০, ২০, কিংবা ৩০ বছর পরে হলেও আইনের শাষনের পথে ফাঁসির দঁড়িতে ঝুলার জন্য তৈরি থাকতে হবে হয়তো।

ছাত্রদলের ছিদ্র

ছাত্রদলের ছিদ্র অন্বেষন করতে যারা পছন্দ করে আমি ব্যক্তিগত ভাবে তাদের একজন।
হতে পারে এক সময় ছাত্রদল করেছি সেটা একটা প্রভাবক।
হতে পারে পরন্ত যৌবনের শেষ আলো মাখা সময়ে ছাত্রদলের কোন কোনে লুকিয়ে ছিলাম বলে গত এক যুগের ম্রিয়মাণ এবং চরম বাণিজ্যিক ছাত্রদলটা বড় বেশি অসহ্য লাগে।
সম্ভবত সোহেল-পিন্টু ভায়ের ছাত্রদল ছিল ছাত্রদলের শেষ ম্যাজিকাল লিডারশীপ।
এর পর থেকেই ক্ষয়ের পথে একটু একটু করে এগিয়ে যাওয়া।
এই ক্ষয় যাত্রা,র মূল দায় যাদের তাদের দশাসই একটা অংশ ছাত্র নামের ওল্ড হ্যাগার্ডরা হলেও সবচে বড় দায়টা এড়াতে পারবে না দলের বটবৃক্ষসম নেতারাও। ক্ষমাহীন মূল দলের বড়দাদা সূলভ আচারনিষ্ঠ
ক্ষমতার মসনদে থাকাকালীন সময়ে সীমাহীন টেন্ডারন্ডারবাজীর সুযোগ দেওয়া, সুপারিশ বানিজ্যের এজেন্ট বানানো এবং কমিটি প্রনয়নে চূড়ান্ত অবহেলাজনিত ব্যার্থতা আজকের এই উত্থান-পতনে উন্মুখ সাংগঠনিক কার্যক্রমের জন্য দায়ী।
ইভেন ভূল বা অযোগ্য কমিটি প্রনয়নকেও মন্দের ভালো বলতে বাধ্য অন্তত কমিটি দিতে না পারার চেয়ে।
ভালো হোক মন্দ হোক কমিটি প্রদান, চলমান থাকলে অন্তত সম্ভবনা থাকে যে দুই বছর যোগ্যতা প্রমান দিতে পারলে,কার্যক্রমে সচল থাকলে আগামীর কমিটিতে স্থান হবে।
যেখানে দুইটার্ম বা তিন টার্ম কমিটি না হলে ; নতুন কমিটিতে মধ্যখানের কোন প্রজন্ম কে বাদ দেওয়া ছাড়া বিকল্প থাকে না।
আশা করতে চায় প্রতি দুই বছরের মাথাতে নতুন কমিটি (প্রেসিডেন্ট ও সেক্রেটারি সহ) আসলে অসন্তস খুব বেশি জমা হবে না। কারন নতুন সুযোগ শিঘ্রি আসবে সেটা নিশ্চিত হওয়া যাবে।
এখনো হয়তো ছাত্র আন্দালন করতে চাইলে অবশম্ভাবি জনতা পুশ ইন লাগবে, তারুণ্যসুলভ ছেলেদের দেখে বলা যায়, অল্প সময়ের বুস্ট-আপে ছাত্রদল আবারো ভ্যানগার্ড হতে পারুক আর না পারুক, চেষ্টার কোন কমতি থাকবে না। আন্তরিক চেষ্টা থাকলে অসম্ভব কিচ্ছুই না।
আবারো বাংলাদেশের রাজনীতির মূল কারিগর হবে ছাত্রদল।
ছাত্রদলের বদনাম করার জন্য ছাত্রদল তাদের পার্ফমেন্স দিয়ে আবার আমাদের মুখ বন্ধ করে দেবে ; সেই প্রত্যাশাতে একটু একটু আশার প্রদীপ জ্বলতে চাই। কি বলো তোমরা?
ছাত্রদল জিন্দাবাদ

ধূর বাড়া গোল

খোদা বক্স মৃধা, ধারাভাষ্য দিচ্ছেন;
আজকের রোদ্র করোজ্জ্বল মাঠে স্বাগতম।
মাঝ মাঠ থেকে নিয়ন্ত্রণ নিলেন মুন্না, কাটিয়েছেন দুজনকে, সামনে বাধা কাইসার হামিদ, হিমালয়ের মত বাঁধা। না পারলেন না মোমেন মুন্না।
না না না গোলের মত হয়েছিল, গো.. গো..ধূর বাড়া গোল..
Kazi Mahmud Rumman ভায়ের বাংলা ভাষা সংক্রান্ত পোস্ট দেখে.. আমারো ইচ্ছা হল এই পোস্ট লিখতে..
আমি বাংলাই লিখি, আমি বাঙলাই বলি __মম লুক আমি বেংগলী লার্ন করেছি
That's গ্রেট .. মেরি বাচ্চা.. মা বললেন যোশ্ এ..

U turn

অনেকদিন পরে আবার বসলাম।

বুইড়া'র বউ আমার প্রেমিকা। বুইড়া প্রস্তাব দিয়ে বসলো আমার বউ কে যদি জাহান্নামে পাগারপার করে দাও তবে.....
আমার চোখে আশাহত অবিশ্বাসের ইশারা...
প্রমিকা আমার ছিপছিপে লাবণ্যময়ী.. বুইড়াকে মেরে চল ভাগি..শুধাইলো সুন্দরী মোর।
বুইড়া মরলে রাজকন্যা, রাজত্ব, রাজকোষ সব আমার..
বিশ্বাস এবং বিশ্বাসভঙ্গ ; এই গেমের শেষ টা শেষ হবে কোথায়?
ঘটনা চক্রে যদি হাইওয়ের ধারের ঐ কালী মাখা গ্যারাজে না পৌঁছতাম..তবে?
আজ U turn মুভিটা যখন আবার দেখছি তখন সেই একই রঙচটা দৃষ্মপট আবার সামনে।
বুইড়া ভামের ক্রোধ, জেনিফার লোপেজের এক অন্য ভিন্ন বোধ, আমার আমিকে নিয়ে আমার আঁধারের গহীনে আরো এক অপূর্ব পূর্বাশা!
সাসপেন্স, রোমান্স, হিপোক্রেসি, অটোক্রেসি, ডেমোক্রেসি, সেক্স ভায়োলেন্স আর রোমান্স নিয়ে গল্পের শেষ ছবি আমরাই বুনবো..
It's a promise...

শহীদ জিয়ার বিপ্লব – দ্বিতীয় পর্ব

শহীদ জিয়ার বিপ্লব – দ্বিতীয় 




কৃষি বিপ্লবের জন্য আধুনিক সেচ ব্যাবস্থা আর খাল খনন করেই তিনি তার দায়িত্ব শেষ করেন নি। কৃষকরা যাতে সময় মত ফসল বুনতে পারে এবং সার দিতে পারে তার জন্য কৃষি ঋনের ব্যাবস্থা করেন। নিজে ব্যাক্তিগত উদ্দেগ্যে ১৯৭৭ সালে কৃষকদের জন্য সরকার থেকে ১০০ কোটি টাকা মঞ্জুর করেন। শুধু মঞ্জুর করাই না সে ঋন কৃষকরা আবেদন করার ঠিক ৪৮ ঘন্টার মাঝে ঠিক ভাবে পাচ্ছে কিনা তাও নিজে সরেজমিনে তদন্ত করতেন। কারো বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠলে তদন্ত সাপেক্ষে ব্যাবস্থা নিতেন। এর জন্য গ্রাম গঞ্জের প্রত্যন্ত এলাকা ভ্রমন করতেন।

কৃষি ব্যাংকের সাবেক উপ- মহাব্যাবস্থাপক জনাব শরীফুল ইসলাম স্মৃতিচারন থেকে এব্যাপারে কিছু জানা যায়।

“১৯৮০ সালের ফেব্রুয়ারী মাসের কথা আমি তখন যশোর শাখার ব্যাবস্থাপক। সকাল ৯টা ৫ মিনিটে অফিসে বসে আছি, হঠাৎ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান আমার সামনে হাজির। আমি থতমত খেয়ে গেলাম। স্ব শরীরে প্রেসিডেন্ট আমার সামনে। গত রাতে প্রেসিডেন্ট যশোর আসে নি আসলে আমি নিশ্চয় ই জানতাম কারন প্রশাষনের কর্তা ব্যাক্তিদের সাথে আমি ঘনিষ্ঠ ছিলাম। আমি নিশ্চয় ই স্বপ্ন দেখছি।
“কি ম্যানেজার সাহেব? বসতে বলবেন না?”
জিয়াউর রহমানের গুরু গম্ভীর স্বরে আমার চৈতন্য হল।

“জ্বি স্যার, জ্বি” আমি অনেকটা ঘোরা লাগা কন্ঠে বললাম। ব্যাংকের খোজ নিতে লাগলেন। কর্মকর্তা কর্মচারীদের ব্যাপারে খোজ নিলেন কথা বললেন। এরই মাঝে যশোর জেলার সব উর্ধতন কর্মচারীরা আমার ব্যাঙ্কে হাজির। সামনের কাউন্টারে ৩০/৩৫ জন কৃষক ব্যাংকে এসেছে ঋন নিতে। প্রেসিডেন্ট তাদের কাছে গিয়ে জিজ্ঞাস করলেন তাদের ঋন পেতে কোন অসুবিধা হচ্ছে কিনা?

সব্বাই সমস্বরে বলল না হচ্ছে না। আমার দিকে তাকিয়ে বললেন ধন্যবাদ মযানেজার সাহেব। এর পর উনি চেয়ার থেকে উঠে বের হয়ে গেলেন। আমি এক কাপ চাও খাওয়াতে পারলাম না। সেই শত কোটি টাকার কৃষি ঋন আজকে হাজার কোটি ছাড়িয়ে গেছে। দেশ আজকে খাদ্যে যে স্বয়ং সম্পূর্ন তার মুলে কিন্তু ওই বিশেষ কৃষি ঋন।

কৃষির উন্নত যন্ত্রপাতি তৈরী করার জন্য তেজগাওতে কৃষি ব্যাংক কে তিন একর জমি দান করেন। সেখানে তিনি কৃষি বিভাগে কর্মরত উদ্ভাবকদের উদ্ভাবিত যন্ত্রপাতির এক প্রদর্শনীও তিনি নিজে দেখেন। স্বৈরশাষক এরশাদ ক্ষমতায় এসে সে প্রকল্প বাতিল করে উক্ত জায়গা দখল নেন।

উত্তর বংগের রাজশাহী, নাটোর, চাপাই নবাবগঞ্জ, পাবনা জেলার বেশ কয়টি উপজেলায় ফসল বলতে গেলে হত ই না। কারন এসব এলাকা অন্যান্য এলাকা থেকে কিছুটা উচু ছিল। প্রেসিডেন্ট জিয়া “বরেন্দ্র উন্নয়ন প্রকল্প” নামে একটি প্রকল্প নিজ উদ্দেগ্যে চালু করলেন। শুরুতে খোদ কৃষি মন্ত্রনালয়ের কর্তা ব্যাক্তিরা এই প্রকল্পের ব্যাপারে নেতিবাচক প্রতিক্রিয়া দেখান। অনেকেই একে রাজনৈতিক উচ্চভিলাষী প্রকল্প হিসাবে দেখেন। কিন্তু প্রেসিডেন্ট জিয়ার ব্যাক্তিগত উদ্দ্যেগে আর তত্ত্বাবধানে এই প্রকল্প আশার থেকেও বেশি সফলতা লাভ করে। বর্তমানে উত্তর বংগের প্রধান শষ্য ভান্ডার হল বরেন্দ্র উন্নয়ন প্রকল্প। শুধু শষ্য উৎপাদনই নয় এর পাশাপাশি নারকেল, সুপারী, আম, পেয়ারা সহ অসংখ্য ফলজ শষ্য বরেন্দ্র প্রকল্প কে ঐশ্বর্য মন্ডিত করে।
জিয়া তিস্তা ব্যারেজ প্রকল্প চালু করে ধানের পাশাপাশি গম চাষের দিকে মনোযোগ দেয় যেটা কৃষি মন্ত্রনালয়ের কর্তা ব্যাক্তিরা মোটেও রাজি ছিলেন না। কিন্তু এক রোখা বাস্তববাদী প্রেসিডেন্ট জিয়া উত্তরবংগে ব্যাপকভাবে গমের ফলন করিয়ে আর একবার তার দেশ প্রেম দেখিয়ে দেন। সারা দেশে এখন যে ব্যাপকভাবে গম চাষ হয় সেটা ওই জিয়ার অনেক টা ব্যাক্তিগত উদ্দেগের ফল।
প্রেসিডেন্ট জিয়া ইতিহাসের পাতা থেকে নজির টেনে বলেন এক সময় এদেশে ব্যাপকভাবে তুলা চাষ হত এখন কেন হচ্ছে না? তিনি পরীক্ষামুলকভাবে ময়মনসিংহের ভালুকা, গাজীপুরের শ্রীপুর এলাকায় তুলা চাষের নির্দেশ দেন। সে পরীক্ষা সফল হলে রাজশাহী সহ বেশ কয়েক টি জায়গায় বানিজ্যিক ভাবে তুলা চাষ শুরু হয়। আজকের যে রাজশাহীর সিল্ক তার উৎস কি জানেন? ওই তুলা যে তুলা চাষ জিয়ার মস্তিস্ক প্রসূত।

সামান্য ২/৩ বছরের কর্মপ্রচেষ্টা দেশ কে কোথায় নিয়ে যায় তার প্রমান জিয়া হাতে হাতে দেখিয়ে দেন। যেখানে ১৯৭৩-৭৪ সালে ৩৫ লক্ষ্য ৬১ হাজার ৪৭২ একর জমি সেচের আওতায় ছিল ১৯৮০-৮১ অর্থ বছরে ১.২ গুন বৃদ্ধি পেয়ে ৪২ লক্ষ্য ৬৪ হাজার একরে উন্নীত হয়। ১৯৭৩-৭৪ অর্থ বছরে ধান, গম, পাতের হেক্টর প্রতি উৎপাদন ছিল ১.১, ০.৯, ৬.১ মেট্রিক টন ১৯৮০-৮১ অর্থ বছরে ১.৩, ১.৮ আর ৭.৮ মেট্রিক টনে উন্নীত হয়। তার আমলে আখের উৎপাদন অনেক বেড়ে গিয়েছিল যথাযথ প্রচেষ্টার মাধ্যমে। চিনি উৎপাদন বেড়ে যায় ১.৬৫ গুন মানে ১ লক্ষ্য ৪৫ হাজার ২১০ মেট্রিক টন। 

তামাক চাষিদের সমস্যা নিজে শুনতেন আর সেমত ব্যাবস্থা নিতেন। ১৯৭৫ সালের পূর্বে এদেশে রাবার চাষ প্রায় হত ই না। প্রেসিডেন্ট জিয়ার ঐকান্তিক প্রচেষ্টায় চট্টগ্রাম, পার্বত্য চট্টগ্রাম রাবার চাষ শুরু হয়, ১৯৭৮-৭৯ সালে দেশে দশ লাখ পাউন্ড কাচা রাবার উৎপাদন হয়। এখন দেশের চাহিদার প্রায় ৬০% রাবার ই দেশে উৎপন্ন হয়।
জিয়া যে শুধু খাদ্য শষ্য উৎপাদনেই নজর দিয়েছিলেন এমন না। গবাদি পশু প্রজননের দিকে নজর রেখেছিলেন। ১৯৭২ এর সূচক =১০০ ধরে ১৯৮০-৮১ অর্থ বছরে ধানের উৎপাদন সুচক বাড়ে ১৩৮, গমের = ১১৫৮, আখের = ১২০, শাক সব্জির = ১১৫, গবাদি পশু এবং হাস মুরগীর খামার = ১৫৮ আর বন সম্পদ = ১৫৮।
শহীদ জিয়ার খাদ্য বিপ্লবের আরো অনেক পরিসংখ্যান এবং উদাহরন দেয়া যায় তবে সে দিকে আমরা এখন যাব না এব্যাপারে আরো অনেক কিছু বিশ্লেষানের আছে। তবে খাদ্য বিপ্লব কিন্তু দেশ কে সত্যই উন্নয়নের সামনের কাতারে নিয়ে এসেছিল।

সাথে থাকুন পরের পর্বে বিপ্লবের দ্বিতীয় ধাপ শিক্ষা বিপ্লব এর আলোচনা হবে।