শুক্রবার, ২৯ জুলাই, ২০১৬

রামপাল বাণিজ্যিক খিলাফত

দস্যু রানী সুন্দর বনের, গায়েবানা জানাজাতে ইমামতি করার জন্য হেড অফ দ্যা গভার্নমেন্ট, মুন্সী অফ দ্যা আর্থ কে একঝাক শাখামৃগ শুভেচ্ছা।
পীর বাবা এরদোগানের মত, আমাদের দেশ রত্ন আজ উঠেপড়ে লেগেছেন, প্রকৃতি ধ্বংসী খেলাতে।


টার্কিকে যতই গালাগাল করুন না, কেন টার্কির সাথে আমাদের আওয়ামীলীগ সরকারের অদ্ভুত কিছু মিল আছে। কাকতলিয় মিল নয়, জেনুইন মিল।
কামাল আতাতুর্কের মত বিশাল হৃদয়ের ভবিশ্যত দর্শী মানুষ টি যেমন টার্কিতে আধুনিকতার সুচনা করে ছিলেন, আমাদের আওয়ামীপন্থী সরকারও তেমনিভাবে আধুনিক বাংলাদেশ (ডিজিটাল) গড়তে চাচ্ছেন।


‪#‎SaveSundarBan‬
যারা এ পর্যন্ত খুশি হয়েছেন তারা এবার আরো খুশি হতে পারবেন।
এরদোগানের ইসলামপন্থী সরকারের অনুকরনে বাংলদেশের বর্তমান সরকার, কিছু না কিছু সুন্দর, সত্য প্রতিষ্টা করার চেষ্টা করছে।


‪#‎StepdownRampal‬
এরদোগান, ইস্তাম্বুলের একমাত্র সবুজ পার্কটি সমূলে উপরে ফেলে সেখানে ঊসমানিয়া সাম্রাজ্যের আদলে বিশাল ইসলামি মাইলস্টোন নির্মানের মহান উদ্যোগ নিয়ে ছিলেন।
সে দেশের জনগন না বুজে না যেনে, উসমানিয়া রাজত্বের স্মৃতি নির্মানে বাঁধা দিয়েছিল। এমন কি পীর এরদোগানের ক্ষমতার মাখতব পর্যন্ত টলিয়ে দিয়েছিল।



‪#‎StopinvestmentINDIA‬
কদিন খুব একরোখা কথা বার্তা, বলার পর পীর এরদোগান যখন দেখলো - লে বাবা, উসমানিয়া খিলাফত প্রতিষ্ঠা করতে যেয়েতো আমার সাধের এরদোগানিয়া খেলাফত, উল্টে যাবার যোগার, তখন গদীনসিন পীর বাবা এরদোগান, উসমানিয়া খিলাফতের মায়া ত্যাগ করেন-
বাংলাদেশের ক্ষমতাসীন পীর হুজুররা, মুরুব্বী এরদোগানের মত একমাত্র বদ্বিপ অঞ্চলীয় ম্যানগ্রোভ ফরেস্ট সুন্দরবনের অণ্ডকোষ বরাবর রামপাল পাওয়ার প্লান্ট, বৈদ্যুতিক খিলাফত প্রতিষ্টার জন্য উঠেপড়ে লেগেছে।
পীর বাবা এরদোগানের উসমানিয়া খেলাফতের টেন্ডার পেয়েছিল প্যারিসের টিকিধারী বড় পুরুত।
তেমনি রাপমালের ডিজাইন করেছে দিল্লিকালাড্ডু, ভারতেশ্বর মদি কাকা ও এক্সিম ব্যাংকের কর্পোরেট খিলাফত।
পীর এরদোগানের বিরুদ্ধতা করে ফুঁসে উঠেছিল টার্কি ও ইস্তাম্বুলের জনগন। প্রতিবাদ হয়েছিল প্যারিসে।



বাংলাদেশে, মদিনা সনদের প্রবক্তা, শেখ হাসিনা সরকারের রামপাল খিলাফতের বিরুদ্ধে তেমনি ক্ষেপে উঠেছে বাংলাদেশের মানুষ, কেঁপে কেঁপে উঠছে , ঢাকার রাজপথ।
প্রতিবাদ হয়েছে ইন্ডিয়াতেও।


‪#‎Peoples‬ ‪#‎voice‬
এরদোগানের পুলিশের মত করে, আওয়ামীলীগের পুলিশ দাঁড়িয়ে গিয়েছে বন্দুক তাক করে।
বন্দুকের নল সকল ক্ষমতার উৎস।
বড় আশা নিয়ে বসে আছি, রামপাল খিলাফত প্রতিষ্ঠা বিরোধী মানুষের বিজয় মিছিলে মশাল জ্বালাবার খায়েশে।



‪#‎Dont‬ ‪#‎kill‬ ‪#‎Sundarban‬
দেখা যাক! ডেমোক্রেসি, হিপোক্রেসি ও অটোক্রেসির অন্য নাম কি না?

বুধবার, ২৭ জুলাই, ২০১৬

এরদোগানের অভ্যুত্থান

এরদোগানের অভ্যুত্থান রুখে দেওয়া গনতন্ত্রের বিজয়, ধর্ম এখনে মূখ্য নয়।

ধর্ম নিয়ে বাড়াবাড়ি / টানাটানি /কারাকারি / কানাকানি করা কোন কাজের কথা নয়।

এরদোগানের টিকে যাওয়া যেমন গনতন্ত্রের বিজয়, তেমনি তার হেরে যাওয়া হতো গনতন্ত্রের পরাজয়। টার্কিশ অভ্যুত্থান ও প্রেসিডেন্টের জয় পরাজয়ের সাথে যারা ইসলামের জয় পরাজয় এক করে দেখছেন, তারা না বুঝে মূলত ঘোলা
পানিতে মাছ শিকারের প্যাক্টিস করছেন।



শেষ নবী হজরত মুহাম্মদ (সা:) এর বিদায় হজের ভাষন যদি পড়ে থাকেন, তাহলে নিশ্চয় জানবেন



“ধর্ম নিয়ে বাড়াবাড়ি করবে না। এ বিষয়ে সীমা লঙ্ঘনের কারণে তোমাদের পূর্ববর্তী বহু জাতি ধ্বংস হয়ে গেছে।

মনে রেখো!
তোমাদের সবাইকেই আল্লাহর দরবারে উপস্থিত হতে হবে। তাঁর কাছে এসব কথার জবাবদিহি করতে হবে
       সাবধান,
                   
                    তোমরা, আমার পরে পথভ্রষ্ট হয়ে যেয়োনা, খোদাদ্রোহী   হয়ে              পরস্পরে রক্তপাতে লিপ্ত হয়ো না”
এবার সিদ্ধান্ত আপনার।

বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভ চুরির Archive

বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভ চুরির ইতিবিত্ত








https://www.facebook.com/notes/wasim-iftekhar/%E0%A6%AC%E0%A6%BE%E0%A6%82%E0%A6%B2%E0%A6%BE%E0%A6%A6%E0%A7%87%E0%A6%B6-%E0%A6%AC%E0%A7%8D%E0%A6%AF%E0%A6%BE%E0%A6%82%E0%A6%95-%E0%A6%B9%E0%A6%BE%E0%A6%9C%E0%A6%BE%E0%A6%B0-%E0%A6%AC%E0%A6%9B%E0%A6%B0%E0%A7%87%E0%A6%B0-%E0%A6%B6%E0%A7%8D%E0%A6%B0%E0%A7%87%E0%A6%B7%E0%A7%8D%E0%A6%A0-%E0%A6%9A%E0%A7%81%E0%A6%B0%E0%A6%BF%E0%A6%B0-%E0%A6%97%E0%A6%B2%E0%A7%8D%E0%A6%AA/1148503338533959বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভ চুরির আর্কাইভ

Nazism

নাতসি বা নাতসিজম, আমাদের বহুল ব্যাবহার হওয়া শব্দ।

বলেন তো নাতসি বা নাতসিজম কি জিনিস বা এর মানে কি?

National + Socialism = Nazism

জার্মানভাষীরা লেখে (/ˈnɑːtsɪzəm, ˈnæ-/[1]),

(German: Nationalsozialismus)

বাংলাদেশেও কিন্তু এদের ছায়া দল বা Shadow party আছে।

কর্নেল তাহেরের জাসদ হচ্ছে সেই দল

জাসদের অর্থ হচ্ছে -
জাতিয়তাবাদী সমাজতান্ত্রিক দল

নাতসির ন্যাসনাল থেকে বাংলাতে জাতিয় এবং

Socialism থেকে সমাজতান্ত্রিক, ও দল।

অর্থাৎ Nazi (/ˈnɑːtsɪzəm, ˈnæ-/[1]), হচ্ছে বাংলাদেশে জাসদ।।

যুদ্ধাপরাধী গ্রহন/বর্জনে রাজনৈতিক যুক্তি



যুদ্ধাপরাধী গ্রহন/বর্জনে রাজনৈতিক যুক্তি।
---------------------------------------------------------
বাম বা ছোট দল গুলোর কথা হিসেব না করাই ভালো। তাদের ভোট নেই। তবে তাদের বক্তব্যের ও চিন্তার মূল্যায়ন আছে।
জামাতের ভোট আছে।
বিএনপির ভোট আছে।
আওয়ামীলীগের ভোট আছে।
এরশাদের ভোট আছে।
জামাত কে রাখা না রাখার ক্ষেত্রে ভোট ও মানুষ কে হিসাবে নিতে হবে। এটিই গনতন্ত্র।
ভোটের হিসাবে ৬% জামাতি ভোট গুরুত্বপূর্ণ হয়ে যেতে পারে অবশ্যই।
এই ৬ শতাংশ ভোট রাজনীতির মোড় ঘুড়ায়ে দিতে পারে কি পারে না, হিসাব করা উচিৎ বিএনপির।
বিএনপির নেট পকেট ভোট ৪৫%। এর সাথে ফ্লোটিং ১৫% ভোটের সুইং নির্ভর করে বিএনপি আওয়ামীলীগের এটিচিউডের ওপর।

পকেট ভোটের ৪০% চাই বিএনপি জামাত ছাড়ুক।
৩০% জামাত বিদ্বেষী নয়, তবে রাজাকার ও যুদ্ধাপরাধী বিদ্বেষী।
ফ্লোটিং ভোটের অর্ধেকের বেশি জামাত বিদ্বেষী না হয়েও রাজাকার বিদ্বেষী।

বিএনপির কৌশল পাল্টা কৌশল

অনেক দিন থেকে কেউ কেউ বলে আসছিল নির্বাচন সমাগত। কেউ আস্থা রেখেছেন, কেউ রাখেন নি। অবশ্য সরকারী নির্যাতন, দলের সাংগাঠনিক বেসামাল অবস্থা, আওয়ামীলিগের পাওয়ার প্রীতি, সব কিছু মিলিয়ে আস্থা রাখার জাইগা ছিলনা বললে ভুল হবে না। অনেকে আবার প্রশ্ন ছুড়ে দিয়ে জানতে চেয়েছেন কবে সেই নির্বাচন?

উত্তর এসেছে, পরিস্থিতি ও ক্ষেত্র তৈরি হবে। কিছু নিয়ামক কাজ করবে। কিছু মেজার গ্রহণ করবে আওয়ামীলীগ। বিএনপি সংগঠন গোছাতে না পারলেও নীরবে অনেক শ্রম দিয়ে গেছে, অনেক ধৌর্য ও বিচক্ষনতার পরিচয় দিয়েছে।
২০১৩ সালের আন্দালন বন্ধ করা যেমন ভুল ছিল, তেমনি ২০১৪ সালে বর্ষ পূর্তিতে প্রায় তিন মাস টানা চলা ব্যার্থ আন্দোলন  থেকে সরে আসার মত সাহসী সিদ্ধান্ত নিয়েছিল।


হিসাব হচ্ছিল, শীর্ষ নেতাদের বিশেষত মাঝ বয়সী নেতাদের জেলে দেওয়া হবে। পরীক্ষিত খন্দকার দেলোয়ার হোসেন ক্যাটাগরির সিনিয়রদের জেলে দেওয়া হবে, ছাত্রদলের শেষ কমিটিতে সম্ভবনা সৃষ্টিকরা উদীয়মান নেতাদের হ্যারাজ করা হবে এবং অবশেষে তারেক রহমান ও বেগম খালেদা জিয়াকে বিভ্রান্তিকর বিচারের মাধ্যমে শাস্তি প্রদানের রায় এর মাধ্যমে, নির্বাচনে সাংবিধানিক নিয়মে অযোগ্য ঘোষনা করা হবে। সাথে আরো অন্তত ৫০ টি সুনিশ্চিত আসন দখল করা প্রার্থীদের একই পরিণতি ভোগ করতে হবে।


তারেক রহমানের ক্ষেত্রে বিষয়টি আওয়ামীলীগের জন্য তুলনামূলক সহজ হয়েছে। যেহেতু উনি বিদেশে অবস্থান করছেন। তাই তাঁকে সরাসরি এ্যরেস্ট করার ঝুঁকি নিতে হচ্ছে না। এই ঝুঁকিতে না পরা লাভের সাথে তাদের লাভ হচ্ছে আরো দুটি। নাম্বার এক তাঁরা বলতে পারছে আদালতের রাই-কে তারেক রহমান স্বশরীরে চ্যালেঞ্জ জানাতে আসেনি। এবং দুই বিএনপি কর্মী গোষ্ঠীর প্রথম দফার ক্ষোভের আগুনে উত্তাপ কমার সুযোগ তৈরি করে বরং বিএনপির সমর্থকদের মানসিক ভাবে প্রস্তুত করে তুলছে যে তারেক রহমান ও বেগম জিয়ার গ্রেফতার হওয়া, বিএনপির ভাগ্য। এই ভয়ানক নার্ভ গেমটা খেলার জন্য আওয়ামীলীগের সবচেয়ে ভালো বন্ধু হচ্ছে দেশের একচোখা মিডিয়াগুলো।

এরপর বাকি থাকেন নেত্রী বেগম খালেদা জিয়া । প্রচারণা, প্রতারণা প্রপাগান্ডার মাধ্যমে মাঠে পরিস্থিতি তৈরি করবে যে বেগম জিয়াকেও গ্রেফতার করা সম্ভব। তবে আমার মনে হয় না বেগম জিয়াকে গ্রেফতার করে আন্তর্জাতিক বিশ্বে তাঁরা জিম্বাবুয়ের রবার্ট মুগাবের মত ইমেজ গ্রহণ করার রিস্ক নেবে। আওয়ামীলীগ খুব ভালো করেই জানে যে তাদের নেত্রীর চেয়ে বেগম খালেদা জিয়ার ব্যাক্তি ইমেজ ও জনপ্রিয়তা অনেক বেশী। এ ক্ষেত্রে বিগত নির্বাচন গুলোতে ব্যাক্তি আসনে আওয়ামী প্রধানেরে কয়েকটি পরাজয় ও বেগম জিয়ার সবকটিতে জয় আওয়ামী লীগের জন্য চিন্তার খোরাক জোগাবে।


উদাহরণ ও উপাই হিসাবে বেগম জিয়ার বিরুদ্ধে জারি হওয়া ওয়ারেন্টের কথা মাথাতে রাখুন। আদালত থেকে কুরিয়ার সার্ভিস হয়ে যা প্রায় তিন মাসেও গুলশান থানাতে পৌঁছে নি। তাঁরা হয়তো, কোন ভাবে জনগণ ক্ষেপে যাবার কারণে পরিকল্পনাতে ব্যাঘাত ঘটলে লাস্ট লাইন অফ ডিফেন্স হিসাবে বেগম জিয়ার সাথে আলোচনার পথ খোলা রাখতে চাইবে।
সর্বশেষ পদক্ষেপ হতে পারে, ইতিমধ্যেই নির্বাচন কমিশনের নিবন্ধন হারানো জামাত বা নতুন নামে আবির্ভাব হওয়া জামাতের সাথে রাজনৈতিক সন্ধির মাধ্যমে নির্বাচনে যেকোন উপায়ে হেরে যাবার ন্যানো সম্ভবনা বিলুপ্ত করা।
অর্থাৎ এখন যা ঘটছে তা হচ্ছে নিরপেক্ষ নির্বাচন দিতে বাধ্য হলেও, আওয়ামীলীগের ভোট জয় সুনিশ্চিত করার ইলেকশন ইঞ্জিনিয়ারিং ।


জামাতের সাথের সম্পর্ক ঠিক এই মূহুর্তে কেটে দেবার প্রস্তাবের মাধ্যমে মূলত আওয়ামীলীগের পরিকল্পিত টাইম ছক থেকে সময়ের আগেই এটাকিং মিডফিল্ড অধিনায়ককে ডেঞ্জার জোনে ,নিজের ডিফেন্স লাইনে ধরে এনে ধরাসয় করে কাউন্টার গোলের মাস্টার ফরমেসন । এই কৌশল আওয়ামীলীগ প্রকাশ্যে বিএনপির ওপর প্রয়োগ করছে জামাত ত্যাগের জন্য চাপ দেবার মাধ্যমে। এই প্রচেষ্টা চালাতে যেয়ে আওয়ামীলীগের রাডারে ধরা পড়ার সত্ত্বেও অসময়ে , ভূপৃষ্ট থেকে ২ বছর সময় আগে হ্যাফ প্যান্ট পড়ে নামা ছাড়া কোন অন্য কোন বিকল্প নেই।
 
এখন আবার দেখার পালা ... বিএনপির মধ্যম মানের নেতারা ভবিষ্যতে দলের হাই কমান্ডের কাছ থেকে কত টুকু মূল্যায়ন পাবে , তা কিন্তু আগামী কিছুদিনে নিজ কর্মকান্ডের লিস্টি দেখে Self Examine করে নিতে পারেন!

তো কোন মন্ত্রনালয় টার্গেট করছেন ভ্রাতা ?

তাজউদ্দীন

বাংলাদেশের প্রথম প্রধানমন্ত্রী তাজউদ্দীন আহমদের জন্মদিন আজ। উপেক্ষা অবহেলাতে হারিয়ে যাওয়া মানুষ তিনি।

সেই উপলক্ষে জিয়া সম্পর্কে আওয়ামী নেতা তাজ উদ্দিনের লেখার মধ্য দিয়ে একটা স্বীকৃতি ...








. তাজউদ্দীনের ভাষায়,......
“first announced through Major Zia Rahman, to set up a full-fledged operational base from which it is administering the liberated areas......” ......।

.........Bangladesh Document volume-I





বাংলাদেশের প্রবাসী সরকারের প্রধানমন্ত্রী তাজউদ্দীন আহমেদের মতে....


স্বাধীনতা যুদ্ধে চট্টগ্রামের সেনা বিদ্রোহের অবদান ছিলো স্ট্যালিনগ্রাডের মত। আর দুঃসাহসী এ কাজটি করেছিলেন অকুতোভয় সেনানী মেজর জিয়া।
তিনি ছিলেন পাকিস্তান আর্মির এক মেজর, ৮ম ইষ্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টের সহ-অধিনায়ক। একজন সৈনিক যেখানে দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষার শপথ নেয়, এমন কি ধর্মগ্রন্থ নিয়েও স্রষ্টার সামনে হাজির নাজির হতে হয়,
সেখানে কি এমন হলো যে, ২৫ মার্চ দিবাগত রাতে পাকিস্তান রক্ষার শপথ ভেঙে জিয়া ঘোষণা করলেন উই রিভোল্ট।তার মানে, তিনি পাকিস্তান ভাঙবেন!
এর পরে ইউনিটে ফেরত গিয়ে অধিনায়ককে আটক করলেন পরে হত্যা করে ট্রুপসের নেতৃত্ব নিলেন। বাহিনীর মধ্যে ঘোষণা করলেন,
'আমরা আর পাকিস্তানীদের সাথে নেই। আজ থেকে এ ভুখন্ড কেবল বাংলাদেশ
-শুরু হলো স্বাধীনতার লড়াই। সবাইকে যুদ্ধে শামিল হতে ডাক দিলেন। ট্রুপসের নিরাপত্তা সংহত করে পরের দিন নিজেকে অস্থায়ী সরকার প্রধান ঘোষণা করে রেডিওতে সারা বিশ্বের সাহায্য চাইলেন।
দায়িত্ব নিলেন যুদ্ধের সেনাপতির।
Mezbah Uddin ভাই এর ওয়াল থেকে।

একজন ডাক্তার ও একজন শাষক

ন্যাসনাল ব্যাংক অফ পাকিস্তানের কুমিল্লা চান্দিনা শাখার জেনারেল ম্যানেজারের স্ত্রী,র গল্ড ব্লাডার অপারেশন।
কুমিল্লা জেনারেল হসপিটালের সার্জন ড: আব্দুল হান্নান


সেই সময়, ল্যাপোরেসকপি ছিল না। সাধারণ গল্ড ব্লাডার অপারেসনে ৭/৮ দিন এডমিটেড থাকা লাগতো।
সার্জন সাহেব, একটা বড় আকারের অর্থের বিনিময় মূল্যের নিশ্চয়তা পেয়ে অপারেসনের ছুরি কাচির নিচে রুগিনী কে শুয়ালেন।

যথাক্রমে অপারেশন সফল হলে , সার্জন মহোদয়, ব্যাংকার সাহেবের কাছে হিসাবের টাকা দাবী করলেন।
ব্যাংকার সামান্য কিছু অর্থ দিতে পারলেন, বাকি টাকার জোগার সৎ ব্যাংকারের নেই।

মানব শরীর কাটাছেড়াতে অভ্যস্ত সার্জন এবার সত্যিকারের কশাই এর ভূমিকা নিলেন। তিনি সদ্য অপারেশন হওয়া পেসেন্টের হাত ও গলা থেকে অর্নামেন্টস খুলে রেখে দিলেন।


এই ঘটনার কিছুদিন পর কুমিল্লাতে আর্মি ক্যাম্প বসলে, আর্মির কাছে ঘটনাটি রিপোর্ট করে দেন, হাসপাতালের একজন স্টাফ। উল্লেখ্য, উক্ত সার্জন অপারেশনটি করেছিলেন সরকারি হাসপাতালে, বিধায় সার্জনের ব্যাক্তিগত ভাবে অর্থ গ্রহন অনৈতিক ছিল।

ইয়াহিয়া খানের, সেনাবাহিনী ঘটনাটি তদন্ত করে, ঘটনার সত্যতা পেলে সার্জন ভদ্রলোককে, সমস্ত সুবিধা বঞ্চিত করে চাকুরিচ্যুত করা হয়, সাথে তার ঢাকা শহরে ব্যাক্তিগত বাড়ি সরকার নিয়ে নেয়।


৭১ সালে, মুক্তিযুদ্ধের পর, সার্জন আব্দুল হান্নান বংগ বন্ধুর ৩২ নাম্বারের বাড়িতে, পাকি শাষক ইয়াহিয়া কতৃক
তার ভুগান্তির কথা তুলে ধরে, বাংলাদেশ সরকারের কাছে তার ঢাকার বাড়িটি ফিরিয়ে দেবার অনুরোধ করে।



শেখ সাহেব, সব কাগজ দেখে শুনে বলেন, হাকিম বদল হয়েছে, হুকুম আগের জাইগাতেই আছে। ইয়াহিয়া তো অবিচার কিছু করে নি। তুমি সরকারি মাল দিয়ে অপারেশন করে, নিজের পকেট বানাবা, তা তো হবে না। ইয়াহিয়ার সিদ্ধান্ত আমিও বহাল রাখলাম।


এই ঘটনাটি প্রিয় সিনিয়র Iqbal Chowdhury ভায়ের কাছ থেকে শুনা।


ঘটনাটি বলার উদ্দেশ্য আছে:
আজ দেখলাম ১০০০ টাকা বিনিময়ে, শেখ রেহানা গুলশানে যে বিশাল বাড়িটি সরকারের কাছ থেকে অনুদান হিসাবে নিয়েছেন, সেই বাড়িটির রক্ষণাবেক্ষণ ও সংস্কার বাবদ ৯ কোটি টাকা পুনরায় সরকারের কোষাগার থেকে বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।


ঐ ডাক্তার ভদ্রলোক যদি সরাসরি শেখ সাহেবের কাছে না যেয়ে , শেখ কামাল, জামাল, আমু, তোফায়েলদের মাধ্যমে শেখ সাহেবকে ধরতেন তাহলে, হাকিমের সাথে হয়তো হুকুম নিজেও নড়াচড়া করতো।

আজকে ৯ কোটি টাকা যখন একটি বাড়ির সংস্কার বাবদ খরচ হয়, তাও আবার আনুকূল্যে পাওয়া সরকারি বাড়ি মেরামতি কেরামতির স্বার্থে তাও আবার সরকারি কোষাগার থেকে তখন ধুকতে থাকা রক্তশূন্য, রাজকোষ, হার্ট এটাকের প্রবল ঝুঁকিতে মৃত্যু প্রহরের অপেক্ষা।

জংগী মিছিল

মিছিল মানে প্রতিবাদ, মিছিল মানে আগুন, মিছিল মানে বিপ্লব স্পন্দিত বুকে মুক্তির মন্দির।

যারা ৫ জন ১০/১২ জনের মিছিল করছে তাদের প্রতি আমার পক্ষপাত একটু বেশিই থাকবে। ১০০ জন নিয়ে মিছিল করতে সাংগঠনিক যোগ্যতা একটু বেশি লাগে, মানি এবং জানি। সাথে এও জানি ৫/১০/১৫ জন নিয়ে মিছিল করতে লাগে বাঘের মত সাহস, শৃগালের মত ধূর্ততা। সময় শ্লোগান ও গতির অপূর্ব মিশ্রণ।

বিশাল মিছিলে হয়তো দম্ভ থাকে, পাবলিকের হাত তালি থাকে, দলের নেতৃত্বের বাহবা থাকে সাথে সাথে পুলিশের ধাওয়া, টিয়ার শ্যেল থেকে রক্ষা পাবার তুলনা মূলক সুযোগ থাকে।

ছোট ছোট ১০/১৫ জনের মিছিল কে বলা হয় জংগী মিছিল ( মৌলবাদী জংগী কিন্তু না)। এই সব মিছিল এলাকার গলি, বাজার, মার্কেট, রেল স্টেসনে অত্যাধিক কার্যকর। 

আমার ব্যাক্তি অভিজ্ঞতা বলে ছোট ছোট এই সব মিছিল দল ও রাজনীতি কে বুস্ট আপ করার জন্য খুব কার্যকর।
আমাদের এলাকা যখন এক সময় বিএনপি শূন্য তখন আমরা ১৬/১৭ জন জাস্ট বন্ধুরা মিলে এই সব ছোট ছোট জংগি মিছিল করতাম। সেটা ১৯৯৮-৯৯-২০০০-১/২ এর দিকে। 


একটা সময় যখন আমরা সরে গিয়েছি, কিন্তু মিছিলের লেজ শুধু লম্বাই হয়েছে।

যাক নিজের অভিজ্ঞতা থেকে আমি জানি, আমাদের সংগঠনের যে অবস্থা এতে ছোট ছোট মিছিল করে করেই বড় মিছিলের প্রস্তুতি নিতে হবে। এই ধরনের মিছিলে সাধারণত ভিতু টাইপ ছেলেপুলে নেওয়া হয় না সংগত কারনে।
সামনে পুলিশ চেক পোস্ট বা বিডিআর টহল, সরকারি দলের গুণ্ডাপাণ্ডাদের আড্ডা, পুলিশের সাইরেন এইসবের মুখোমুখি এসে স্নায়ু চাপ সামলে, চোখে চোখ রেখে এগিয়ে যাওয়া কিন্তু খুব সহজ কাজ নয়।
ভায়েরা, ছাত্রদলের ভায়েরা তোমরা চালিয়ে যাও, হাজার সমালোচনার মুখেও চালিয়ে যাও, এভাবেই হবে, অতীতে আমরাও এভাবেই করেছি এবং জিতেই বাড়ি ফিরেছি। 

Never give up boy's, Never give up.
বাংলাদেশ জিন্দাবাদ

এরশাদ নামা ৩


৩০ মে কাকডাকা ভোরে প্রেসিডেন্ট জিয়াকে নিরস্ত্র অবস্থাতে হত্যা করা হয় ।


৩০ মে রাতে প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের নিরাপত্যা ব্যাবস্থা ছিল অত্যান্ত দুর্বল। প্রেসিডেন্ট ঢাকার বাহিরে অবস্থান করলে প্রচলিত নিয়ম অনুযায়ী উচ্চ পদস্থ পুলিশ অফিসাররা সেখানে ক্যাম্প করে রাত্রিকালীন অবস্থান নেন। এই সময় ডি আই জি বদিউজামান ছিলেন চট্টগ্রাম মহানগরের দায়িত্বে , চট্টগ্রাম রেঞ্জের দায়িত্ব প্রাপ্ত ছিলেন ডি আই জি এ এস এম শাহজাহান।




সার্কিট ভবন ও আশেপাশের বিল্ডিং এর ছাদে সিকিউরিটি নিয়োগের বাধ্যবাধকতা থাকলে, বস্তুত ছাদে কাউকেই দায়িত্ব দেওয়া হয় নি। অথছ ছাদে নূন্যতম কেও অবস্থান নিলে দূর থেকে সামরিক জীপের আগমন দেখতে পারতো এবং প্রেসিডেন্টকে সতর্ক করতে পারতো । সার্কিট হাউজের ছাদ অরক্ষিত থাকাকে প্রেসিডেন্ট জিয়া হত্যা কাণ্ডের অন্যতম সুত্র হিসাবে দেখা যেতে পারে।







ডি আই জি বদিউজামানের বাড়ি সার্কিট হাউজের কাছাকাছি হওয়াতে , ডিআইজি’র বাড়ির চারদিকে থাকা পুলিশ সদস্যরা গোলাগুলি শব্দ শুনে তাঁকে ঘুম থেকে ডেকে তুললে , তিনি উল্টো ধমক দিয়ে সিপাসিদের নিজ নিজ ডিউটি করতে বলেন।


৮ম বেঙ্গল রেজিমেন্ট ও ৪৬ পদাতিক ডিভিশন ছিল প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের প্রতি প্রশ্নাতীত অনুগত। লেঃ কর্নেল জয়নুল আবেদিনের ৮ ম বেঙ্গল রেজিমেন্ট ছিল প্রেসিডেন্টের বাস ভবনের নিরাপত্যা রক্ষার দায়িত্বে।


৩০ মে ১৯৮১
ঘড়িতে যখন সকাল ৯ টা , সেনা প্রধান এরশাদ ৮ম বেঙ্গল রেজিমেন্ট পরিদর্শনে আসে এবং অনুগত। লেঃ কর্নেল জয়নুল আবেদিনকে বলে ‘চিন্তা করো না, মঞ্জুর এটাতে নেই। ওর সাথে আমার কথা হয়েছে, ও বলেছে Sir I’m durance. আপনি চিন্তা করবেন না আমি tackle করছি। ৪৬ পদাতিক ডিভিশনের অধিনায়ক ব্রিগেডিয়ার শেখ আমিনুল হক ,ঐ স্থানে উপস্থিত থাকার কারণে ,এরশাদের বক্তব্যের আল্টিমেট সাক্ষী হয়ে যান।


৩০ মে বিকাল বেলা থেকে জেঃ এরশাদ U turn নিতে শুরু করে, এই সময় থেকে প্রপাগান্ডা শুরু করে যে জেঃ এম এ মঞ্জুর জিয়াকে হত্যা করেছে।

অবশ্য মঞ্জুরের অধস্তন অফিসারদের হাতে প্রেসিডেন্ট খুন হবার কারণে সমস্ত দায় দায়িত্ব মঞ্জুরের কাঁধেই পরে। এরশাদের বিশেষ অনুগ্রহ প্রাপ্ত লেঃ কর্নেল মতি ব্রাশ ফায়ারে হত্যাকাণ্ড ঘটানোর পর নীতিগত ভাবেও মঞ্জুরের পক্ষে কোর্ট মার্শাল এড়িয়ে যাওয়া সম্ভব ছিল না।

প্রপাগান্ডা শুরু করা হয় যে ,মঞ্জুর জিয়াকে হত্যা করেছে। ফলে বাধ্য হয়ে নিজে বাঁচার জন্য , রেডিও ঘোষনা দিয়েছে, বিপ্লবী পরিষদ গঠন করেছে।

কিন্তু ৩০ মে বিকালের পূর্বে তিনি কিছুই করেননি। এরশাদ ৩০ মে দুপুরের দিকেই বুঝতে পারে যে জিয়া হত্যা সেনাবাহিনীর কোন পর্যায়েই গ্রহণ যোগ্য হবে না। এজন্য তিনি মঞ্জুরকে Branding করেছেন, কারণ সম্পুর্ন দায়ভার মঞ্জুরের ওপর চাপিয়ে দিতে পারলে মঞ্জুরের Come Back করা সম্ভব নয় , এরশাদ নিশ্চিত ছিলেন।
এই সময় ব্রিগেডিয়ার আজিজ , তাঁর ঘনিষ্ঠ আফিসারদের স্পষ্ট করে জানিয়ে দেন যে এরশাদ তাঁকে যদি ঝামেলা করতে আসে তাহলে সে মাইক লাগিয়ে সবকিছু সবাইকে বলে দেবে। এরশাদ সুবোধ বালকের মত ব্রিগেডিয়ার আজিজকে আর না ঘাটিয়ে স্বসম্মানে অবসর দিয়েছিলো ।


দৈনিক সকালের কাগজ নামক পত্রিকাতে লেঃ জেনারেল মীর শওকত আলী এক সময় ধারাবাহিক প্রবন্ধ লিখতেন। আমি আমারদেশ নামে প্রকাশ হওয়া প্রবন্ধে তিনি লেখেন ,
৩০ মে সকালে
CGS নুরুদ্দিনের অফিসের টেলিফোনে আমার সাথে মঞ্জুরের কথা হয়। জেনারেল মঞ্জুর সমঝোতা প্রশ্নে সেনাবাহিনী প্রধান এরশাদ সহ চরম ডানপন্থী কয়েকজন অফিসারের পদ ত্যাগ দাবি করে। এ কথা শুনে এরশাদের মুখ কুচকুচে কালো হয়ে যায়। সাথে সাথে এরশাদ CGS নুরুজ্জামানের রুম ছেড়ে নিজ চেম্বারে চলে যায়।



কিছুক্ষণ প্রেইরেডিও টিভিতে ঘোষনা শুরু হয় যে জেঃ মঞ্জুরের নেতৃত্বে কয়েকজন দুষ্কৃতিকারীর হামলাতে প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান নিহত হয়েছেন। বাংলাদেশ জেঃম্নজুর সহ এই সব দুষ্কৃতিকারীদের রাস্ট্রদ্রহী ঘোষনা করছে। বাংলাদেশ সরকার এই মূহুর্তে তাঁর সমস্ত সশস্ত্র বাহিনীকে এই রাস্ট্রদ্রহীদের সঙ্গে সমস্ত সম্পর্ক , যোগাযোগ বর্জন করার নির্দেশ দিচ্ছে।

এই ঘোষনা শুনার মাত্র, আমি চিফের অফিসে গিয়ে বললাম এটা কি করলেন স্যার ? মঞ্জুররের কিছু করার সব পথ বন্ধ করে দিলেন? আপনি তো কিচ্ছু না জেনেই তাঁর মৃত্যুদণ্ডে স্বাক্ষর করে ফেললেন ; আর কিছুই করার উপাই রইলো না। এই মূহুর্তে ঘটনার আসল সত্যতা যায় কোক না কেন, জেঃ মঞ্জুরের জীবন শেষ হয়ে গেলো -- ভারে আক্রান্ত বুকে আমি এরশাদের চেম্বার থেকে বাহির হয়ে আবার CGS নুরুজ্জামের রুমে গেলাম।


ঘটনার অস্বাভাবিক কার্যক্রমে আমি দস্তুর মতো দিশেহারা –তাহলে জেঃ  এরশাদই সব কিছুর হোতা ??






আগের দুই পর্ব যারা মিস করেছেন, তাঁরা চাইলে এই লিঙ্ক থেকে পড়ে নিতে পারেন


এরশাদ নামা ১
https://www.facebook.com/photo.php?fbid=1143653875685572&set=a.433833833334250.93749393.100001229119710&type=3&theater

এরশাদ নামা ২
https://www.facebook.com/photo.php?fbid=1143003522417274&set=a.433833833334250.93749393.100001229119710&type=3&theateএরশাদ নামা ২