"আমরা ক্ষমতাতে আসলে এই সরকারের সব কাজ রেটিফাই করে দেবো"
প্রবল জনপ্রিয় বংগবন্ধু সয়ং বাকশাল প্রতিষ্ঠার কারনে জনমানুষের মনের বিরুপ প্রতিক্রিয়া পেয়েছিলেন।
"Regor Cadag Aguilar was a member of the task force from 1998 to 2001 and assigned to conduct surveillance on politicians, political leaders, businessmen, and journalists. One subject of the surveillance went missing and is presumed dead; another “political figure” was murdered; and an undetermined number were tortured allegedly on orders of Aguilar’s superiors. US Immigration and Customs Enforcement (ICE) justified Aguilar’s deportation on evidence that included his admission that members of the unnamed task force had abducted, tortured, and murdered targets of surveillance. "
কৃষি ব্যাংকের সাবেক উপ- মহাব্যাবস্থাপক জনাব শরীফুল ইসলাম স্মৃতিচারন থেকে এব্যাপারে কিছু জানা যায়।
“১৯৮০ সালের ফেব্রুয়ারী মাসের কথা আমি তখন যশোর শাখার ব্যাবস্থাপক। সকাল ৯টা ৫ মিনিটে অফিসে বসে আছি, হঠাৎ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান আমার সামনে হাজির। আমি থতমত খেয়ে গেলাম। স্ব শরীরে প্রেসিডেন্ট আমার সামনে। গত রাতে প্রেসিডেন্ট যশোর আসে নি আসলে আমি নিশ্চয় ই জানতাম কারন প্রশাষনের কর্তা ব্যাক্তিদের সাথে আমি ঘনিষ্ঠ ছিলাম। আমি নিশ্চয় ই স্বপ্ন দেখছি।
“কি ম্যানেজার সাহেব? বসতে বলবেন না?” জিয়াউর রহমানের গুরু গম্ভীর স্বরে আমার চৈতন্য হল।
শহীদ জিয়ার বিপ্লব – প্রথম পর্ব।
========================
১৯৭৯ সালের শেষ দিক। হঠাৎ রাষ্ট্রপতি জিয়া ঘোষনা দিলেন “আমি বিপ্লব করব”। সারা দেশ এক রকম স্থবির হয়ে গেল এই ঘোষনা শুনে। তখন ও মানুষের মনে জাসদ আর বাকশালী শ্বেত বিপ্লব আর লাল বিপ্লবের আতংক জ্বল জ্বল করছে। আমলারা হতবাক আর নিজ দলের রাজনীতিবিদরা অস্থির বিরোধী দলীয়রা ভয়ে জরোসরো।
আমাদের দেশের পরিপ্রেক্ষিতে বিপ্লব তো স্বৈরাচারের বিরুদ্ধে সাধারনের প্রতিবাদ বুজায়। রাষ্ট্র প্রধান সেখানে কার বিরুদ্ধে বিপ্লব করবে? কয়েকজন সিনিয়র নেতা এবং মন্ত্রী তৎকালীন এন এস আই য়ের মহাপরিচালককে অনুরোধ করে প্রেসিডেন্ট জিয়াকে বিপ্লব সম্পর্কে জানার জন্য। মহাপরিচালক প্রেসিডেন্ট জিয়াকে মন্ত্রীদের উদ্বেগ জানালে তিনি বলেন, “ ওদের বলে দিন, ওদের ধারনা ভুল, দুশ্চিন্তা অমুলক।“
“সাধারন মানুষের ধারনা বিপ্লব সব সময় হিংসাত্মক হয়। কিন্তু তা সত্য নয় । ইউরোপে যান্ত্রিক ক্ষেত্রে যে পরিবর্তন আসছিলো দেখা যায় তাকে শিল্প বিপ্লব আখ্যা দেয়া হয়। সে বিপ্লব কিন্তু হিংসাত্মক রূপ নেয় নি। আমার বিপ্লব ও হবে শান্তি পূর্ন। আমাদের বিপ্লবের মুল উদ্দেশ্য হল জনগনের শক্তিকে কাজে লাগিয়ে এগিয়ে যাওয়া।“ প্রেসিডেন্ট জিয়া বলে যাচ্ছেন, “আমাদের দেশে অনেক লোক অভুক্ত থাকে, অনেক লোকের কর্ম সংস্থাপন নেই, অনেক মানুষের থাকার জায়গা নেই, ওষুধ পায়না বহুলোকে। আমরা যদি পরিকল্পিত বিপ্লবের মাধ্যমে এগুলোর সমাধান না করি তাহলেও বিপ্লব হবে। সে বিপ্লব হবে অপরিকল্পিত হিংসাত্মক নেতৃত্বহীন। এতে কারোই মঙ্গল হবে না দেশ যাবে বিদেশী মানুষ দের দখলে।“
“সে বিপ্লব ঠেকাতেই আমাদের পরিকল্পিত বিপ্লব ঘটাতে হবে। বসে থাকার সময় নেই। আমার বিপ্লবের টার্গেট হল কৃষি বিপ্লব এবং শিল্প বিপ্লব। আমি নিরক্ষরতা দুরীকরনের বিপ্লব করব। আমি বিপ্লবের মধ্য দিয়ে স্বনির্ভর, স্বাবলম্বী উৎপাদনশীল জন গোষ্ঠী গড়ে তুলব যারা নিজের পায়ে দাড়াতে শিখবে। যারা নিজেদের সমস্যার সমাধান নিজেরা করার আত্ম বিশ্বাস লাভ করবে”
সকল কানাঘুষার অবসান ঘটিয়ে ১৮ ই নভেম্ভর ৭৯ সালে জাতির উদ্দেশ্যে ৪ টি শান্তিপূর্ন বিপ্লবের কর্মসূচী ঘোষনা করেন।
১। কৃষি ও খাদ্য বিপ্লব
২। শিল্প বিপ্লব
৩। শিক্ষা বিপ্লব
৪। স্বাস্থ্যসেবা ও জন সংখ্যা নিয়ন্ত্রন।
একজন রাষ্ট্রপতি হিসাবে তিনি দিক দর্শন করিয়ে আমলা মন্ত্রীদের দিয়ে কাজ করিয়ে নিতে পারতেন। কিন্তু জিয়াউর রহমান তো শুধু কোন রাষ্ট্রপতি ছিলেন না ছিলেন বাংলাদেশীদের আত্ম মর্যদা জাতীয়তাবোধের অহং কে চিনিয়ে দেবার কান্ডারী। নিজে নেমে গেলেন নিজের প্রদর্শিত পথ হাতে কলমে দেখিয়ে দেবার জন্য। এখানেই তিনি ছিলেন আছেন অনন্য।
কৃষি বিপ্লব
স্বনির্ভর বাংলাদেশ গড়ার মুল উপাদান হচ্ছে খাদ্য উৎপাদন বৃদ্ধি এবং স্বয়ংসম্পুর্নতা বৃদ্ধি। ২ য় পঞ্চ বার্ষিকী পরিকল্পনায় ৫ বছরের মধ্যে খাদ্য উৎপাদন দ্বিগুন করার কর্মসূচী গ্রহন করেছিলেন। তিনি বুজতে পারেন যে গ্রাম বাংলার সমৃদ্ধির ওপর বাংলাদেশের সমৃদ্ধি বৃদ্ধি। খাদ্যে স্বয়ং সম্পূর্ন হতে হলে একই জমিতে দুই বার তিনবার ফসল ফলাতে হবে। ফারাক্কা বাধের কারনে উত্তাল উন্মাতাল পদ্মাকে ভারত মেরে ফেলছে। শীতকালে আমাদের নদীতে পানি থাকেই না। কিন্তু সারা বছর ফসল উৎপাদন করতে হলে নদীতে পর্যাপ্ত পানি চাই।
দেশের হাজামজা নদীগুলোকে আবার পূর্ন খনন করে তাতে পানির অবাদ প্রবাহ নিশ্চিত করেন আবার যেখানে নদী নেই সেখানে ছোট ছোট নালা কেটে নদীর পানি দিয়ে খাল বানিয়ে নিলেন। আবার যেখানে তাও সম্ভব না সেখানে স্থানীয় ভাবে পুকুর কেটে অথবা কচুরী পানা ভর্তি পুকুর ডোবা গুলোকে সংস্কার করে সেগুলো বর্ষাকালে পানি ধরে রাখার উপযোগী করে তুললেন।
ওই পুকুর গুলোতে আবার মাছ চাষে উদ্ভুদ্ধ করতেন। তিনি স্বেচ্ছাশ্রমের ভিত্তিতে দেশের ছোট বড় সবাই কে আহ্বান জানান। প্রধান সামরিক আইন প্রশাষক থাকা অবস্থাতেই উলশী- যদুনাথপুর প্রকল্পের মাধ্যমে ১৯৭৬ সালের ১ লা নভেম্বর খাল খননের আনুষ্ঠানিক উদ্ভোধন করে দেশে তিনি খাদ্য বিপ্লবের শুরু করেন।
দৈনিক বাংলার আলোক চিত্র শিল্পী জনাব মোহাম্মদ কামরুজ্জামান তার “স্মরনের মালা গাথি” স্মৃতিচারন নিবন্ধ এখানে তুলে ধরা হলঃ
“ আমি সংবাদপত্রের এক নগন্য আলোক চিত্র শিল্প। পেশা গত দায়িত্ব পালনের জন্য আমার ছবি সংগ্রহ করতে হয়। সেভাবেই জিয়ার ছবি আমাকে সংগ্রহ করতে হয়েছে। তার ছবি সংগ্রহ করতে হয়েছে রাজধানীর বিমান বন্দর, বঙ্গভবনে, ওইতিহাসিক পল্টন ময়দানে, নগরীর বিভিন্ন মহল্লায়, বিভিন্ন জেলা আর মহাকুমা সদরে। ছবি তুলতে হয়েছে বাংলাদেশের গ্রামে গঞ্জে। গত ছয়টি বছর ধরে বিভিন্ন অনুষ্ঠানে আমি তার ছবি তুলেছি আর সর্বত্রই শুনেছি তার মুখ দিয়ে একটি কথাঃ আপনারা কাজ করুন। নিজ পায়ে দাড়ান, অলস হয়ে বসে থাকলে চলবে না।”
নেতাদের ক্ষেত্রে এমন তাগিদ দেয়া নতুন কিছু না। তবে এ ক্ষেত্রে একটু তফাৎ ছিল – তিনি অপরকে যা বলতেন নিজে তা করে দেখাতেন। এ প্রসঙ্গে প্রথমেই মনে পড়ে যশর জেলার উলশী-যদুনাথপুরের বেতনা নদী সংযোগ প্রকল্প। ১৯৭৬ সালের ১ লা নভেম্বর। উলশী – যদুনাথপুরের যেখানে খাল কাটা শুরু হওয়ার কথা সেখানে অপেক্ষা করেছিলাম। অপেক্ষা করছিলাম একটি সামাজিক আন্দোলন শুরু করার অপেক্ষায় একজন মানুষের জন্য। তিনি মেজর জেনারেল জিয়াউর রহমান।
যথা সময়ে হেলিকপ্টার এল। তিনি হেলি কপ্টার থেকে নেমে এগিয়ে গেলেন প্রকল্পের দিকে, সাথে সেনাবাহিনীর অনেক উচ্চ পদস্থ অফিসার। তার পরনে ছিল সামরিক পোষাক। হাতে ছিল ছড়ি। সব কিছু দেখে আমার আগে কার দিনের নেতাদের কথাই মনে হচ্ছিল। ভাবছিলাম আজো বক্তৃতা মঞ্চে ভাষন দেবার হাজার হাজার মানুষের ছবি পাঠাব। কিন্তু পাঠান হয় নি পাঠালাম রাইফেল ধরা হাতে কোদাল ধরা ছবি। পুরো সামরিক পোষাকে সজ্জিত সেনাপতির মাটি কাটার ছবি।
বেতনা নদীর দৈর্ঘ্য বারো মাইল। খালের বিভিন্ন সাথে কোদাল হাতে মাটি কেটে যাচ্ছেন জিয়া আর সে দৃশ্য সাধারনের মাঝে এক অভুত পূর্ব প্রেরনা সঞ্চার করেছিল। ছবি তুলছিলাম আর ভাবছিলাম “এখান থেকে শুরু হল দেশের পট পরিবর্তনের এক নতুন পালা” সুদীর্ঘ ১৬ মাইল পথ পায়ে হেটে সাধারন মানুষের দুয়ারে দুয়ারে গিয়ে তিনি ব্যাখ্য করতে লাগলেন প্রকল্পের ভবিষ্যতের কথা। বুজাচ্ছিলেন এই খাল খনন হলে সামনে কি হবে।।
২৬ অগাস্ট
নিউইয়র্ক
জাতিসংঘ সাধারন পরিষদের অধিবেশনে ৩য় বিশ্বের দেশ সমূহের পক্ষে প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান বিশেষ "নয়া উন্নয়ন কাঠামো" গঠনের লক্ষে দশ দফা প্রস্তাবনা আনেন।
আজ ২১ ফেব্রুয়ারি, গর্ব করেই বলতে চাই এই ভাষণটা প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান বাংলা ভাষাতে দিয়েছিলেন।
সেদিনের ১০ দফা আজকে উপস্থাপন করছি জিয়াউর রহমানের অজস্র ভক্তদের উদ্দেশ্য।
১।এক নতুন বিশ্ব অর্থনৈতিক ব্যাবস্থা প্রতিষ্ঠায় উত্তরের জনমত সংগঠনের ব্যাপারে, দক্ষিণ সম্ভাব্য সব ধরনের সহযোগিতার ব্যাবস্থা করবে।
২।পরিকল্পিত অর্থনীতিভিত্তিক দেশগুলো সহ শিল্পোন্নত দেশ, সবচেয়ে অনুন্নত দেশগুলির প্রতি তাদের সবরকম উন্নয়ন সহায়তার পরিমান অবিলম্বে দ্বিগুণ করবে এবং এই সকল সহায়তা শর্তমুক্ত হবে।
৩।ওপেক দেশ সমূহ সবচেয়ে অনুন্নত দেশ সমূহের জন্য তেলের মূল্য ৫০% হ্রাস করবে।
৪।একটি আন্তর্জতিক কনসর্টিয়াম গঠনের মাধ্যমে অতি অনুন্নত দেশগুলোর জন্য জ্বালানী শক্তি সম্পদ উন্নয়নের ব্যাবস্থা নেবে।
৫।তেল সমৃদ্ধ ওপেক দেশগুলো তাদের সম্পদের নির্দিষ্ট একটা অংশ উন্নয়নকাকামী দেশগুলোতে বিনিয়োগের ব্যাবস্থা নেবে।
৬।আন্তর্জাতিক বানিজ্য ও অস্ত্র ব্যায়ের ওপর কর আরোপের মাধ্যমে উত্তম ও দক্ষিনের মধ্যে সম্পদের ব্যাপক হস্তান্তরের ব্যাবস্থা নেবে।
৭।উত্তরের অর্থনীতিতে দক্ষিনের জনশক্তি বর্তমানে যে বাস্তব অবদান রাখছে, সেজন্য উত্তরের ব্যাপারে দক্ষিণকে যথাযথ প্রতিদানের ব্যাবস্থা করতে হবে।
৮)দক্ষিনের দরিদ্র দেশগুলোর জন্য বহুজাতিক সংস্থা সমূহ ও অতি ধনীদেশ গুলোর উপর বিশেষ ট্যাক্স ধার্য করা।
৯)উন্নয়নকামী দেশগুলোর স্বার্থে জাতিসংঘ ও অধীনস্ত বিভিন্ন সংস্থা, আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল ও বিশ্ব ব্যাংককে পূনর্বিনস্ত করতে হবে। একই সাথে সবচেয়ে অনুন্নত দেশগুলোর জন্য গৃহীত কর্মপন্থা কার্যক্রমের বাস্তবায়নের
উদ্দেশ্যে উপযুক্ত প্রতিষ্ঠান গঠনের ব্যাবস্থা নিতে হবে।
১০)সার্বজনীন সদস্যপদের ব্যাবস্থাসহ একটি বিশ্ব উন্নয়ন তহবিল প্রতিষ্ঠা করতে হবে। বিশ্বব্যাপী কর আরোপের মাধ্যমে সংগৃহীত অর্থ এই তহবিলে জমা হবে এবং এই অর্থের যথাযথ বরাদ্দ ও ব্যাবহার নিশ্চিত করবে এই সংস্থা নিজেই।
পেশোয়ারের বাটাভ এলাকাতে ছিল সিআইএ এর গোপন বিমান ঘাঁটি। U-2 নামের মার্কিন গোয়েন্দা বিমান এই ঘাঁটি থেকেই সোভিয়েটদের উপর নজরদারী চালাতো। সোভিয়েট মিসাইল পাইলট গ্যারি পাওয়ার, U-2 বিমান কে ভুমিতে নামিয়ে আনেন এবং ততকালীন সোভিয়েট প্রাইম মিনিস্টার নিকিতা ক্রুসচেভ পাকিস্থানকে এই মর্মে হুশিয়ার দেন যে
, ““পেশোয়ারের বাটাভেতে অবস্থিত মার্কিন ঘাঁটি, রুশ মিসাইলের নাগালের ভেতরেই আছে।”
কারন এর আগেই পাকিস্থান গোয়েন্দা সংস্থার হল্যান্ডের ডুয়েল এজেন্ট ন্যাটোর এক উচ্চপদস্থ জেনারেলের মাধ্যমে পাকি রাষ্ট্রদূত কুদরৎ উল্লাহ শেহাব নিশ্চিত খবর দেন যে,
“এশিয়াতে দুটি ঝড় আসছে সিআইএ'র হাত ধরে, একটি ইন্দোনেশিয়াতে অন্যটি পাক-ভারত সীমান্তে”।
যুদ্ধে পাকিস্থানীরা যখন নাকাল হচ্ছে তখন ম্যাগ আইউব খানকে উপদেশ দেয় যে, “Mr.President the Indians have caught you by neck, if you want us, we can help in releasing the grip.” এবার আইউব ধরতে পারলেন আমেরিকান চালাকি, যে ম্যাগ, ইচ্ছাকৃত ভাবেই পাকিস্থানকে জটিল যুদ্ধ জালে জড়িয়ে ফেলে পরাজয়ের বৃত্তে টেনে নিয়ে যাচ্ছে।
আইউব উৎক্ষাতে সামরিক ছক ভেস্তে যাবার পরে ছয় দফাকে সামনে আনা হয়। আদতে ৬ দফা ছিল এমন একটি ফর্মূলা যাতে পূর্ব পাকিস্থানের উপর থেকে পশ্চিম পাকিস্থানের আধিপত্যবাদের অবসান হতো এবং সুষ্ঠ ভাবে স্বায়ত্বশাষন কায়েম হত। বিচ্ছিন্নতাবাদের কোন ব্যাপার এতে ছিল না।
আলাপ আলোচনা শেষে বেরিয়ে আসার সময় গভর্নরের সমরিক উপদেষ্টা মেজর জেনারেল রাও ফরমান আলীকে বলেন
, "আমার অবস্থা দু'পাশে আগুন, মাঝখানে আমি দাঁড়িয়ে। হয় সেনা বাহিনী আমাকে মেরে ফেলবে না হয় আমার দলের ভেতরকার উগ্র চরম পন্থীরা আমাকে হত্যা করবে। কেন আপনারা আমাকে গ্রেফতার করছেন না? টেলিফোন করলেই আমি চলে আসবো"।
২০১৫ সালে প্রদত্ত এক বিশেষ ইন্টারভিউ এ সিরাজুল আলম খান স্বাধীনতা, আওয়ামীলীগ প্রসংগে সদ্য প্রকাশিত মহিউদ্দিন আহমদ লিখিত ‘জাসদের উত্থান পতন : অস্থির সময়ের রাজনীতি’ গ্রন্থের ৭১ পৃষ্ঠায় বলেছেন, "আওয়ামী লীগ ছিল এন্টি-লিবারেশন ফোর্স"।
অবশ্য মুজিব বাহিনীর নেতা চতুষ্টয়ের ভেতরের বেসিক আওয়ামীলীগার শেখ ফজলুল হক মনি ও শেখ সাহেবের থার্ড ইন কমান্ড তোফায়েল আহাম্মেদ এই স্বাধীন বাংলা বিপ্লবী পরিষদ ব্যাপারে কিছু জানতেন না। মুজিব বাহিনীর অন্যতম শীর্ষ নেতা আব্দুর রাজ্জাকের ভাষাতে শেখ মনি ও আওয়ামীলীগ নেতাদের স্বাধীনতা পরিষদের ব্যাপারে না জানার বিষয়ে বলা হয়, "না জানতেন না। জানানো হয় নি।কারন এটাতো আমাদের গোপন সংগঠন ছিল"
একই সাথে তোফায়েল আহাম্মেদ কে না জানানোর কারন হিসাবে আরো বলা হয় " তোফায়েল আহাম্মেদের ততটা পরিপক্কতা ছিল না”।
"নভেম্বরে হালকা শীতের আমেজ ও উৎফুল্ল চিত্ত" তিনি বলেন।
"মুজিব তুমি স্বাধীন পূর্ব পাকিস্থান সংগ্রামে যোগ দাও।যদি আমেরিকা ও ইয়াহিয়ার স্বার্থে কাজ কর তাহলে আওয়ামীলীগের কবর ৭০ সালেই অনিবার্য "
এই প্রেক্ষিতে ৩ জানুয়ারি রেসকোর্সে নব নির্বাচিত জাতীয় পরিষদ সদস্য ও প্রাদেশিক পরিষদ সদস্যদের শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানে নির্বাচন সুসম্পন্ন করাতে প্রেসিডেন্ট কে ধন্যবাদ জানান মুজিব "তার অধঃস্থনদের একটি অংশ সক্রিয় যারা, এখনো নির্বাচনী ফলাফলকে উলটে দেবার ষড়যন্ত্রে লিপ্ত" বলেন মুজিব।
২০ ডিসেম্বরের ভূট্টোর ঘোষনাতে যে অরাজক পরিস্থিতি তৈরি হয় তা উত্তরনে ১২ জানুয়ারি ঢাকা আসেন ইয়াহিয়া। মোহাম্মদ আজগর তার "জেনারেলস ইন পলিটিক্স " গ্রন্থে লিখেছেন, “আলোচনার এক পর্যায়ে মুজিব ইয়াহিয়াকে বলেন নতুন শাষন তন্ত্র রচনার পরে তারা আপনাকে প্রেসিডেন্ট করতে চাই।“
“কেন আপনারা আমাকে প্রেসিডেন্ট করতে চান?” ইয়াহিয়া প্রশ্ন রাখেন।
মুজিবের ব্যাখ্যা। (এদেশি ইতিহাসে রাজনীতিবিদের হাত দিয়ে সামরিক বাহিনীকে রাজনীতিতে পুনরায় টেনে আনার প্রথম উদাহরন)
এর পরেই ইয়াহিয়া ঘোষনা দেন, "শেখ মুজিব দেশের ভবিষ্যৎ প্রধান মন্ত্রী হতে যাচ্ছেন"।