মঙ্গলবার, ২০ জুন, ২০১৭

সুন্দর বন

বুঝিনা, বাংলাদেশকে সবুজ রাখতে আওয়ামী লীগের এত আপত্তি কেন?

*সুন্দরবনের বন কর্তার বালিশ ভর্তি টাকার কথা মনে আছে নিশ্চয়। বনে গাছ চোরাই করে কেটে বন ধ্বংস শুরু করে এখন ফাইনালি *রামপাল প্লান্টের মাধ্যমে সুন্দরবনকে কোন ভাবে বেঁচে থাকার উপাই টুকুও ধ্বংস করছে সরকার।
*তেল বহন করা লঞ্চ সুন্দর বনের অভ্যন্তরে চলতে দিয়ে মিঠা পানির গুণাগুণ নষ্ট করেছে আওয়ামীলীগ। *বন্ধু রাস্ট্রের ইউরেনিয়াম লিক করে হাওরের লাখ মানুষের হতশ্রী অবস্থা নিয়ে তদন্ত বন্ধের কাছে নিয়ে গিয়েছে আওয়ামী লীগ। *কাঠ কয়লা জ্বালানিতে চলা ইট ভাটা গুলোর এখন রমরমা অবস্থা। *সারা দেশের হাইওয়ে গুলোর দু পাশের শত বর্ষী সবুজ গাছ গুলোর ৭৫ শতাংশের বেশী কেটে ফেলেছে আওয়ামি লীগের স্থানীয় নেতারা। *দেশের পূর্বাংশে অধিকাংশ সড়কে পুরাতন গাছ এক খানাও পাবেন না। সব বৃক্ষ গিয়েছে ভগবান ভোগে।
*সোহরাওয়ার্দি উদ্যানের সবুজ হরিৎ কেটে নির্মান করেছে অর্ধ মৃত কৃত্তিম স্মৃতি অনির্বান। *জিয়া(চন্দ্রিমা) উদ্যানের সবুজ বাগান সাফ করে বঙ্গবন্ধু সম্মেলন কেন্দ্র বানিয়েছে আওয়ামীলীগ সরকার।
*প্রবাহ মান নদীর শির কেটে মাটি ভড়াটের মাধ্যমে বন্ধু দেশের মালামাল পারাপারের ব্রিজ বানিয়েছে আওয়ামীলীগ।
দেশের পাহাড়ি অঞ্চলে, পাহাড়ে অবাধে গাছ ও পাহাড় কেটে মাটির গঠন দূর্বল করে দেওয়া হয়েছে। ফলশ্রুতিতে সামান্য বৃষ্টিতে পাহাড় ধ্বসে ১৭৫ জনের ওপর মানুষ ইতিমধ্যেই নিহত(খুন) হয়েছে।
আজ দুদিন বিশ্ব প্ত্রিকার গুলোর নেগেটিভ শিরোনাম বাংলাদেশ
এক নজরে দেখে নিন , আন্তর্জাতিক গন মাধ্যমে বাংলাদেশের আজকের করুণ অবস্থানঃ

1.The Guardian view on Bangladesh: the people deserve better
https://www.theguardian.com/…/the-guardian-view-on-banglade…
3.Bangladesh landslides death toll continues to rise amid heavy rains:
http://www.smh.com.au/…/bangladesh-landslides-death-toll-co…

4.Fresh landslides hit Bangladesh, kill four in their homes/ Two children were buried in their sleep while two other victims were killed in a separate incident:
http://m.gulfnews.com/…/fresh-landslides-hit-bangladesh-kil…
5.Bangladesh: Landslide kills 5 people after heavy rains
http://www.deccanchronicle.com/…/fresh-landslides-kill-5-in…
6.Fresh landslides see rising Bangladesh toll
http://www.skynews.com.au/…/fresh-landslides-see-rising-ban…
7.Fresh landslides kill 5 in Bangladesh
http://www.business-standard.com/…/fresh-landslides-kill-5-…
8.Bangladesh: Fresh landslides claims four lives:
http://m.indiablooms.com/…/bangladesh-fresh-landslides-clai…
9.Fresh landslides claim 5 lives in Bangladesh
http://news.xinhuanet.com/english/2017-06/…/c_136375099.html
ইহার চেয়ে হতাম যদি আরব বেদুইন, চরণ তলে বিশাল মরু
দিগন্তে বিলীন...

সোমবার, ১ মে, ২০১৭

৩০ এপ্রিল' ২০১৭

গণতন্ত্র বিহীন রাষ্ট্রের দিনপঞ্জি


প্রধান বিচারপতিকে বাধ্য হয়ে বলতে হচ্ছে 


মানব জমিন- সংবিধানের সঙ্গে সাংঘর্ষিক আইন বাতিলে সুপ্রিম কোর্ট পিছপা হবে না


সমকাল-বিচার- আইন বাতিলে পিছপা হবে না সুপ্রিম কোর্ট: প্রধান বিচারপতি 


হাওরে হাসি নেই কৃষকের মুখে


বাংলা নিউজ -বাংলাদেশে প্রধান বিচারপতির কথা ফাঁস হয় এবং বেশি কথা বলতে হয়, কারণ এ দেশে আইনের শাসন নেই


প্রথম আলো - হাওর উন্নয়নে কাজের কাজ কিছু হয়েছে কি?


Turning Point- Why Bangladesh was not warned of Haor flooding by India, asks BELA-(হাওয়র উপচে পরার আগাম সংবাদ ইন্ডিয়া কেন বাংলাদেশকে জানাই নি?)

Xinhua Net- Bangladesh and its South Asian neighbors need to develop container ports: World Bank report

The Daily Star- 1 killed in Faridpur AL infighting


সাংসদ হত্যায় অভিযোগপত্র, কাদের খানই মূল আসামি


প্রথম আলো- হেফাজত নিয়ে রাজনীতির একমাত্র কারণ ক্ষমতা: মান্না


প্রথম আলো- প্রধানমন্ত্রী হাওরের ভয়াবহতা উপলব্ধি করেননি: খালেদা


মানব জমিন- হাওর এলাকাকে দুর্গত ঘোষণার দাবি খালেদার


প্রথম আলো- নবগঙ্গা নদী খননে অনিয়মের অভিযোগ জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিন


প্রথম আলো- পরিবেশ- শ্যামপুরে আরেক ‘হাজারীবাগ’ রাজধানীর আরেকটি জ্বালামুখ শান্ত করা হোক


প্রথম আলো- সাম্প্রদায়িকতা- ভারত হিন্দুত্ববাদী রাজনীতির উত্থান


মানব জমিন- ‘বাংলাদেশে সংখ্যালঘু ও ভিন্ন মতাবলম্বীদের ওপর নির্যাতন বেড়েছে’


প্রথম আলো- রাজনীতি- আ.লীগের প্রশংসা, বিএনপির সন্দেহ


প্রথম আলো -অর্থনীতি-মূসক নিয়ে অর্থমন্ত্রীর সঙ্গে হট্টগোল


মানব জমিন- ভ্যাট নিয়ে আলোচনায় হট্টগোল


Turning Point - CID delays Bangladesh bank heist report for 13th-time


সমকাল-আইন শৃঙ্খলা-কিছু দলের নেতাদের বক্তব্য জঙ্গিদের পক্ষে যায়: আইজিপি


সমকাল-দুই মাসে পল্লী চিকিৎসক থেকে এমবিবিএস


ঢাকা টাইমস-তিন বছরে কোনো প্রশ্ন ফাঁস হয়নি: শিক্ষামন্ত্রী


যমুনা নিউজ- নিক- ইসি'স সার্ভার থেকে দশ লাখ ভোটারের তথ্য লাপাত্তা


ধর্ষণের বিচার না পেয়েই মেয়ে নিয়ে ট্রেনের নিচে ঝাপ দিয়ে বাবার আত্মহত্যা


মানব জমিন- মামলা আর কোন্দলে জেরবার বিএনপি

বৃহস্পতিবার, ৩০ মার্চ, ২০১৭

বাংলাদেশ ব্যাঙ্ক রিজার্ভ চুরি বিষয়ে FBI Investigation

বাংলাদেশ ব্যাংকের কাছে রক্ষিত জনগণের $৮১ মিলিয়ন ডলার চুরি সংক্রান্ত তদন্তে FBI বলেছে এই চুরি ছিল রাষ্ট্রের সৌজন্যে বা তত্ত্বাবধানে। FBI অর্থাৎ আমেরিকান প্রশাসনের ভাষাতেঃ

'state-sponsored'



অবশ্য FBI সুনির্দিষ্ট কারো নাম উল্লেখ করেনি। এই ধরনের স্পর্শ কাতর বাটপারি বা জালিয়াতির ক্ষেত্রে মূল চোরের নাম প্রকাশ করা হয় একেবারেই তদন্ত ও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার পর। রাষ্ট্রীয় বারগেনিং বা দর-কষাকষির সুযোগ হিসাবে প্রধান চোরের নাম ও বিস্তারিত তথ্য হাতে রাখাই FBI বা আমেরিকার জন্য অধিক লাভজনক। এখন দেখার বিষয় আফটার ইন্ডিয়া, আমেরিকা এখন কি কি সুবিধা আদায় করে নিচ্ছে, চুরির প্রধান রাষ্ট্রীয় স্পন্সর বা 'state-sponsor এর নাম প্রকাশ করে দেওয়া বা আপাতত নাম গোপন রাখার বিনিময়ে।

রাজনৈতিক আপোষ যায় হোক না কেন নীল নকশার প্রধান কারিগরের নাম আজীবন গোপন থাকবে তা আশা না করাই বুদ্ধিমানের কাজ। FBI আপাতত নাম প্রকাশ না করলেও কিছু প্রশ্ন ও তাঁর উত্তর খুঁজে বের করার ভেতর লুকিয়ে আছে পদ্মা মেঘনা যমুনা পারের অর্থ দস্যুর নাম। আমাদের জানার চেষ্টা করতে হবেঃ
  

প্রশ্ন:

১) রিজার্ভ চুরির ঘটনা দেশের সংবাদ পত্রে প্রকাশ হতে একমাস সময় লাগলো কেন


২) ফিলিপিনের সংবাদ পত্রে চুরির ঘটনা ফাঁস না হলে বাংলাদেশের সংবাদ পত্রে তা আদৌ প্রকাশ হত কিনা ?


৩) সরকারি সূত্রের দাবী মত এই চুরির ঘটনা প্রধান মন্ত্রীর নোটিশে আনতে ৩০ দিন দেরি করার কারণ কি ?


৪) ঘটনার প্রকাশ প্রথমে অর্থমন্ত্রীর কাছে না হয়ে প্রধান মন্ত্রীর কাছে হল কেন?
৫) ১৯ মার্চ তারিখে অর্থ মন্ত্রী 'জনকণ্ঠে' বিবৃতিতে বলেন ১৭ মার্চ 'প্রথম আলো' তাঁর যে সাক্ষাৎকার নিয়েছিল সেখানে প্রথম আলোর সাথে তাঁর অফ দ্যা রেকর্ড কথাবার্তা প্রথম আলো ছাপিয়ে দিয়েছে যা অগ্রহন যোগ্য। এই অফ দা রেকর্ড ফাঁস হওয়া বক্তব্যকে কেন আস্থাতে নেওয়া হয়নি? যুগান্তর এ বিবৃতির শর্ট লিংকঃ দৈনিক জনকণ্ঠ পত্রিকাতে অর্থমন্ত্রী তাঁর আগের বক্তব্য অনুযায়ী প্রথম আলোকে দেওয়া বক্তব্যকে অগ্রহন যোগ্য বলে বিবৃতি দিলেন

৬) প্রথম আলোর সাথে সাক্ষাৎকারে অর্থমন্ত্রীর অফ দ্যা রেকর্ড করা মন্তব্যকে "অসত্য" আখ্যা না দিয়ে "অগ্রহন-যোগ্য" বলার কারণ কি ?

৭) বাংলাদেশ ব্যাংকে অন-লাইন সিকিউরিটি প্রভাইডের জন্য রাকেশ আস্তানা নামের যে ব্যক্তিকে নিয়োগ দেওয়া হয়, তার রেফারেন্স কি/কে?
৮) লোকাল আইটি এক্সপার্ট জোহা ৬ দিন নিখোঁজ থাকার পেছনের কারণ উদঘাটন করা হচ্ছেনা কেন?

৯) জোহা অন্তর্ধান রহস্যের কিনারা করতে প্রশাসনের উৎসাহ আদৌ আন্তরিক ছিল কি না?

১০) চুরির ঘটনা ঘটার ১ মাস পর চুরির ঘটনা প্রকাশের পরে বাংলাদেশ ব্যাংক গভর্ণর আতিয়ার রহমানকে যথাযথ তদন্ত ও জেরা ব্যাতীত অবসর দেওয়া হল অথছ তাঁকে বিচারের সম্মুখীন করা হল না কেন?

১১) বাংলাদেশ ব্যাংকের কম্পিউটার মনিটরিং রুমের সিকিউরিটি ক্যামেরা বন্ধ হল কেন এবং তা যথাযথ সময়ে রিপেয়ার করা হয়নি কেন?

১২) FBI তাঁদের রিপোর্ট প্রকাশের মাত্র ৫ দিন আগে বাংলাদেশ ব্যাংক ভবনের ১৩ তলাতে অস্বাভাবিক অগ্নিকান্ড ঘটার পেছনের কারণ কি ?

১৩) FBI রিপোর্ট প্রকাশের ঠিক আগে, ইন্টারনেট সুবিধা বঞ্চিত ও বিশ্ব থেকে বিচ্ছিন্ন উত্তর কোরিয়ার হ্যাকারদের দায়ী করার কারণ কি?
 
এবং  
১৪) দেশের প্রধান বিরোধী দল বিএনপি, তাঁদের অবস্থান প্রকাশ করার পরের দিনই প্রেজেন্টেশন প্রস্তুতকারী BNP নেত্রী Shama Obaed এর নামে মামলা করার কারণ কি?


এবার এক নজর দেখে নিন FBI তাঁদের বক্তব্যে "রাষ্ট্রীয় তত্ত্বাবধানে" চুরি আখ্যা দেবার তিন ঘণ্টার ভেতর আন্তর্জাতিক গন-মাধ্যমে বাংলাদেশ ব্যাংক চুরি নিয়ে হাই-লাইটস।   


ডেইলি স্টারDaily Star"Bangladesh Bank heist 'state-sponsored': FBI official"https://goo.gl/VGTV5E





বিজনেস ইনসাইডারBusiness Insiders
"US authorities say the $81 million Bangladesh Bank heist was 'state-sponsored"
https://goo.gl/0nJ1Mh  





টাইমস অফ ইন্ডিয়াTimes of India
"Bangladesh Bank heist was 'state-sponsored': US official"শর্ট লিংকঃ https://goo.gl/5itEyz





Reuters"Bangladesh Bank heist was 'state-sponsored': U.S. official"শর্ট লিংকঃ https://goo.gl/s0m1iP





দ্যা অয়ার
The Wire
"That inside $81m Bangladesh Bank Heist Here’s what we know"
শর্ট লিংকঃ https://goo.gl/C1ed5u


  

ABS CB NEWS"Bangladesh Bank heist was 'state-sponsored,' says FBI official"শর্ট লিংকঃ https://goo.gl/oIoJCJ






দ্যা হিন্দু
The Hindu
"Bangladesh Bank heist ‘state’ driven"
শর্ট লিংকঃ https://goo.gl/B2JNqt

মঙ্গলবার, ২১ মার্চ, ২০১৭

আওয়ামী অপপ্রচারের উত্তর- ২

ক্যান্টনমেন্টে তৈরী দল/ সামরিক দল/ মৌলবাদী জামাতের দোসর- বিএনপি? আমরা জানি আমাদের কর্মী ও সমর্থকদের এধরণের প্রশ্নের মুখোমুখি হতে হয় প্রায়। যারা এই প্রশ্নের উত্তর দিতে হিমশিম খেয়ে যান, তাঁদের জন্য আজকের পোস্ট।


~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~
অসংখ্য মিথ্যার আবরনে ঢাকা পড়ে গেছে সত্য। এই মিথ্যা নিয়ে যারা বেসাতি বাণিজ্য করে তারাই আওয়ামীলীগ। আওয়ামীলীগ এর তৈরী দালাল মিডিয়ার শুনানো হাজার মিথ্যা শুনতে শুনতে আমাদের সাধারন মানুষের একটা বড় অংশ তাই এইসব মিথ্যাচারকে সত্য মনে করে বসে আছে। আজ যারা সত্য উন্মোচনে জড়িত তারা অবধারিত ভাবে আওয়ামী খড়্গের নীচে মাথা দিয়ে বসে আছে। তাই বলে কি সত্য উন্মোচন বন্ধ হবে? কখনোই না।



আজকে একটা এরকম সত্য উন্মোচনের দ্বার প্রান্তে।

বিএনপি নাকি ক্যান্টনমেন্ট তৈরী দল?
বিএনপি নাকি স্বৈরাচারী দল?
বিএনপি নাকি মৌলবাদী জামাতের দোসর দল?

মানুষ বিচার করুক কারা কি! কিছু দিনের জন্য প্রপাগান্ডা মেশিন দিয়ে সত্য লুকিয়ে ফেলা যায় ঠিকি, কিন্তু ইতিহাসের রণাঙ্গনে একদিন সুন্দরের বিজয় অনিবার্য হয়ে ওঠে।
কিছু প্রশ্ন আছে যায় উত্তরের ভেতর নিহিত আছে তিক্ত সত্য। উত্তর গুলো আপনাদেরকে খুঁজে বাহির করার দায়িত্ব দিতে চাই।


১৯৮৬ সালে এরশাদের নির্বাচনে অংশ নিতে কোন দুটি দল বন্ধুত্ব করেছিল?
১৯৯৬ সালে কারা জামাতের সাথে সমঝোতায় গিয়ে সরকার গঠন করছিলো?
২০০৭ সালে স্থগিত নির্বাচনের আগে কারা শায়খুল হাদীসের সাথে বাংলাদেশে ফতোয়াকে বৈধতা প্রদান সহ পাচ দফা চুক্তি সই করেছিলো?
বিএনপি না আওয়ামীলীগ?
১৯৮৬ সালে কারা গোলাম আযমের সাথে দেখা করে দোয়া নিয়েছিল?
এই মিথ্যার বেসাতি করা দলটির নাম কি ? 

৯ মাস মুক্তিযুদ্ধের পর ১৯৭২ সালের ১০ই জানুয়ারী জনাব শেখ মুজিব বাংলাদেশে পদার্পন করে। দেশবাসী তাকে পরম মমতায় বরন করে নেয়। তার পরই শুরু হয় বাঙ্গালীর স্বপ্নভঙ্গ। তৈরী হয় রক্ষীবাহিনী নিহত হয় ৩০ হাজার মুক্তিযোদ্ধা যারা তখন ও যৌবনের আলোকছটায় সমাজতন্ত্রের মাধ্যমে দেশটাকে পালটে দেবার কল্পনায় বিভোর ছিল। মুক্তি যুদ্ধের অন্যতম প্রধান সংগঠক আব্দুর রবের বক্তব্য অনুযায়ি ১০ জানুয়ারি ১৯৭২ সালে স্বদেশ প্রত্যার্পনের দিন থেকে স্বাধীনতা ভূলুণ্ঠিত হয়ে গিয়েছিল।
লিংকঃ ১০ জানুয়ারি ১৯৭২ নিয়ে আব্দুর রবের বক্তব্য
 


১৯৭৩ সালে ২২শে সেপ্টেম্বর সংবিধানের দ্বিতীয় সংশোধনী আনয়ন করে নিবর্তন মূলক জরুরী আইন চালু হয়। আর সর্বশেষ ১৯৭৫ সালের ২৫শে জানুয়ারী কুখ্যাত চতুর্থ সংশোধনীর মাধ্যমে বাকশাল চেপে বসল বাংলাদেশের অসহায় দূর্ভিক্ষ কবলিত জনতার ওপর। সুত্রঃ চতুর্থ সংশোধনীর কয়েকটি ধারা। ১১৭ক (১, ২, ৩ ও ৪)।

১১৭ ক । ১) রাষ্ট্রপতির নিকট যদি সন্তোষজনকভাবে প্রতীয়মান হয় যে এই সংবিধানের দ্বিতীয়ভাগে বর্নিত রাষ্ট্র পরিচালনার মূলনীতি সমূহের কোন একটি পরিপূর্নভাবে কার্যকর করার উদ্দ্যেশ্যে অনুরূপ করা প্রয়োজন, তাহা হইলে তিনি আদেশ দ্বারা নির্দেশ দিতে পারিবেন যে রাষ্ট্রে একটি রাজনৈতিক দল (অতঃপর জাতীয় দল নামে অভিহিত) থাকিবে।

২) যখন (১) দফার অধীন কোন আদেশ প্রনীত হয় তখন রাষ্ট্রের সকল রাজনৈতিক দল ভাঙ্গিয়া যাবে আর রাষ্ট্রপতি জাতীয় দল গঠন করিবার জন্য প্রয়োজনীয় সকল পদক্ষেপ গ্রহন করিবেন।

৩) জাতীয় দলের নামকরন, কার্যসূচী, সদস্য ভূক্তি, সংগঠন, শৃঙ্খলা, অর্থসংস্থান, এবং কর্তব্য ও দায়িত্ব সম্পর্কিত সকল বিষয় রাষ্ট্রপতির আদেশ দ্বারা নির্ধারিত হবে।

৪) (৩) দফার অধীন রাষ্ট্রপতি কর্তৃক প্রনীত আদেশ- সাপেক্ষে প্রজাতন্ত্রের কর্মে নিযুক্ত কোন ব্যাক্তি জাতীয় দলের সদস্য হইবার যোগ্য হইবেন।


একজন মাত্র ব্যাক্তির এই রকম হর্তা কর্তা বিধাতা সেজে বসা এক মাত্র হিটলার, মুসোলিনী, ফ্রাঙ্কোর সাথে তুলনীয়। এর ধারাবাহিকতায় ১৯৭৫ সালের ২৮শে ফেব্রুয়ারী বাকশাল তৈরী হয়। ১৫ ই জুন ৪টা মাত্র পত্রিকা রেখে বাকী সবগুলোর প্রকাশনা বাতিল করা হয়। গনতন্ত্রের জন্য সারা জীবন লড়াইরত শেখ মুজিবের মনন কেন এত চেঞ্জ হয়েছিল এ ব্যাপারে বিষদ গবেষনার দাবী রাখে। আওয়ামী মননে সেই যে স্বৈরাচারী ঢুকছে আজ পর্যন্ত তা থেকে আর তারা বের হতে পারি নি।


আসুন দেখি সামরিক সরকার কারা?

বিএনপির ওপর যে মিথ্যাচার চলছে যে এরা নাকি ক্যান্টনমেন্ট দল আসলেই কি তাই? যে সামরিক ফরমানের দায়দায়িত্ব আওয়ামীলীগ বিএনপির ওপর চাপায় দেখি সেটা কি?

WHEREAS: the hole Bangladesh has been under Martial law since 15th August, 1975; and whereas Kandahar Mostaque Ahmed, and who placed the martial law, has made over the office president of Bangladesh to me and I have entered upon that office on the 6th day of November, 1975. AND WHEREAS in the interest of peace, order, security, progress, prosperity and development of country, I deem it necessary to keep in force the Martial law proclaimed on 15th August, 1975. 

১৯৭৫ সালে ১৫ই আগষ্ট খোন্দকার মোশতাক সামরিক আইন জারি করেছিলেন আর তৎকালীন সেনা, বিমান, নৌবাহিনী প্রধান তিন জনেই বিনা প্রতিবাদে তা মেনে নিয়েছিলেন। সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল শফিউল্লাহ পরে আওয়ামী সংসদ সদস্য আর বিমান বাহিনী প্রধান এয়ার ভাইস মার্শাল এ কে খন্দকার বর্তমান সরকারের সাবেক পরিকল্পনা মন্ত্রী।


মোশতাককে সরিয়ে বিচারপতি সায়েমকে ৬ই নবেম্বর যে ক্ষমতায় বসিয়েছিল তিনি হলেন খালেদ মোশারফ। আর খালেদ মোশারফ কাদের লোকছিল সেটা সামান্য ইতিহাস যে যানে সেই জানে। তখনোতো সামরিক শাষন বলবৎ ছিল।

তাই ১৯৭৫ সালের ঘটনা বহুল ৮৩ দিনে যে তিন দফা #সামরিক আইন জারি হয়েছিল তার সাথে কোথায় জিয়ার সংশ্লিষ্টতা কেউ কি বলবেন? বরং আওয়ামী প্রবীন নেতা খন্দকার মোশতাক আর খালেদ মোশারফ যে এর সাথে জড়িত তা পরিস্কার দেখা যায়।

বরং জেনারেল জিয়া ১৯৭৯ সালের ৬ই এপ্রিল সংসদে সর্বসন্মতিক্রমে #পঞ্চম #সংশোধনী গ্রহনের মাধ্যমে দেশকে পুনরায় গনতান্ত্রিক ব্যাবস্থায় ফেরত আনে। সেই হিসাবে #পঞ্চম #সংশোধনীকে সামরিক #আইন #প্রত্যাহারের #দলিল বিবেচনা করা অধিক যুক্তি সঙ্গত।


এখন বুকে হাত দিয়ে বলুন কারা সামরিক আইনের বাহক ও ধারক?


ইতিহাসকে বিকৃত করা আওয়ামীলীগের পুরাতন রোগ। কিন্তু কতদিন?


সত্য উন্মোচিত হোক।
#BlackCoffee

রণাঙ্গনে ব্রিগেডিয়ার শাবেদ শিং এবং জিয়া

মুক্তিযুদ্ধে শহীদ জিয়াউর রহমানের ভূমিকা আমরা কালুরঘাট বেতার আঁটকে ফেলেছি। অথছ ৭১ এর রণাঙ্গনে অসংখ্য নায়োকচিত যুদ্ধতে মুক্তিযোদ্ধা জিয়া নিজে উপস্থিত থেকে নেতৃত্ব দিয়েছেন।  

অসাধারন সে সব সাহসিকতার ইতিহাস লিখে বড় সড় একটা পাণ্ডুলিপি হতে পারে। হতে পারে সামরিক কৌশল ও সাহসিকতার ইতিহাসের গূরুত্বপূর্ণ প্রামাণ্য দলীল। অথছ জিয়াকে নিয়ে উল্লেখযোগ্য লেখালেখি খুব অপ্রতুল।  
  

অনেক বড় বড় ১৬ তম ডিভিশনের মুক্তি যোদ্ধা আছে, প্রবাসী মুক্তিযোদ্ধা আছে যাঁদের জন্য ফ্যামিলি সাইজের বই ছাপানো হয়, অথছ জিয়া সেখানে অনাদৃত অবহেলিত। এই দলে সেবাদাস ও অজ্ঞানতা মনোবৃত্তি থেকে নেতা তৈরী হয়। সে কারণে বুদ্ধিবিত্তিক ও ইতিহাসের মূল্যায়ন থেকে সিদ্ধান্ত গ্রহণে ব্যার্থতা বারবার আমাদের পেছনে টেনে ধরে। ইতিহাস শুধু মাত্র পুড়ান দিনের ঘটনার নির্মোহ বর্ণনা নয়, বরং ইতিহাসের পাঠ হচ্ছে অভিজ্ঞতা অর্জনের ঝুলি। আওয়ামীলীগ যখন এই সব নিয়ে গবেষনারতদের দলীয়ভাবে সমর্থন দেয় সেখানে আমাদের ইতিহাসের কর্মীদের রীতিমত অবহেলা করা হয়। যোগ্যদের ছুঁড়ে ফেলেমোসাহেব ও অযোগ্যদের মাথাই তুলে নাচা হয়। সে কারণেই সিদ্ধান্ত গ্রহণে গাফেলতি ও সঠিক সময়ে সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে প্রায়শ ভুল হয় আমাদের।  
       
   


মুল ঘটনাতে আসা যাক

৬ ই জুন, ১৯৭১ সাল- ফেনী জেলার পরশুরাম থানার সীমান্তের কাছাকাছি চান্দগাজী বাজার ছিল ক্যাপ্টেন অলির অধীনে একটা মুক্তাঞ্চল। ত্রিপুরাস্থ ইন্ডিয়ান সেনাবাহিনীর পূর্বাঞ্চল কমান্ডার ব্রিগেডিয়ার শাবেদ শিং, তাঁর দলবল নিয়ে চান্দাগাজী বাজার মুক্তাঞ্চল পরিদর্শনে আসেন। ডজন খানেক বাংলাদেশী ও ইন্ডিয়ান সাংবাদিক ছিলেন ব্রিগেডিয়ার শাবেদ শিং এর পরিদর্শন টিমে। বাংলাদেশের ওয়ার জার্নালিস্ট আব্দুল বাসার যিনি “সাপ্তাহিক সমাজ” পত্রিকার সম্পাদক ছিলেন, তাঁর লিখিত বর্ননা থেকে এই লেখার তথ্য সমূহ থেকে সংগৃহীত।
   

শাবেদ শিং পরবর্তীতে মেজর জেনারেল হয়ে ইন্ডিয়ান আর্মি থেকে অবসর নেন ও অমৃতসরে স্বর্ণ মন্দিরে ইডিয়ান সেনাদের ঝটিকা অপারেসনে নিহন হন। 


শাবেদ শিং ভারতীয় অফিসারদের গাড়ী বহর সহ নিরাপদ দূরত্বে পাহাড়ী পথ দিয়ে এগুতে থাকে। পথেই জিয়া শাবেদ শিং কে বললেন চান্দগাজী বাজারে তাদের খাটি বাংলাদেশী সারপ্রাইজ দিয়ে আপ্যায়ন করা হবে। শাবেদ শিং ছিলেন অভিজ্ঞ ও পোড় খাওয়া যোদ্ধা, তাঁর অতীত বিভিন্ন যুদ্ধ অভিজ্ঞতা শুনতে শুনতে দলটি এক সময় চান্দগাজী বাজারে পৌঁছে যায়।    


গোপনীয়তা সত্ত্বেও বাজারের মানুষ টের পেয়ে যায় বিদ্রহী অফিসার জিয়া সাথে করে ইন্ডিয়ান বিগ্রেডিয়ার নিয়ে এসেছেন এবং বাজারের সবচেয়ে বড় মিষ্টির দোকানে তাঁরা ঢুকেছেন। ব্রিগেডিয়ার শাবেদ শিং এর জন্য সারপ্রাইজের সেই বস্তু ছিল চন্দ্রগাজী বাজারের বিখ্যাত রশগোল্লা। ডাইবেটিকস রোগী ব্রিগেডিয়ার শাবেদ শিং মিষ্টি সারপ্রাইজ দেখে রীতিমত হতাশ হয়ে গেলেন। জিয়া ও অতিথি ইন্ডিয়ান অন্য অফিসাররা ততক্ষনে বিপুল উৎসাহে মিষ্টির পাতিল থেকে মুখে মিষ্টি পুড়ে ভক্ষণ শুরু করে দিয়েছেন। শাবেদ শিং অসহায় দৃষ্টিতে তাঁদের রশগোল্লা ভক্ষণ অবলোকন করে যাচ্ছেন।  
   
  

চান্দগাজী বাজারে জিয়া এসেছে, সাথে আছে ইন্ডিয়ান ব্রিগেডিয়ার ও একঝাক অফিসার। পাকিস্তানীদের কাছে কিছুক্ষনের মাঝেই এই খবর চলে গেল। সাথে সাথে বিশাল এক বহর নিয়ে পাক বাহিনী পশ্চিম দিক থেকে চান্দগাজির দিকে ধেয়ে আসতে লাগল। বিশাল লোভনীয় শিকার তাঁদের হাতের নাগালে। ভারতীয় ব্রিগেডিয়ারকে ধরতে পারলে সারা পৃথিবীকে দেখানো যাবে মুক্তিযুদ্ধ বলে কিছু নেই, সব ভারতীয় ষড়যন্ত্র। তারচেয়েও বড় ব্যাপার জেড ফোর্স কমান্ডার খোদ জিয়াউর রহমান সেখানে আছে। এই তো সেই গাদ্দার জিয়া যে পাকিস্তানীদের বিরুদ্ধে গিয়ে সরাসরি স্বাধীনতা ঘোষণা দিয়েছে। মার্চ, এপ্রিল মাসে যত পাকিস্তানি অফিসার সৈনিক নিহত হয়েছে তাঁর বেশির ভাগ মরেছে এই জিয়ার জেড ফোর্সের হাতে।   
  

জিয়ার চান্দগাজী পৌছনোর সংবাদ যেমন পাকিস্তানীরা পেয়ে গিয়েছিল ঠিক তেমনি পাকিস্তানীদের অগ্রসর হবার খবর পৌঁছে গেলো জিয়ার কাছে।  
   

সেই সময় মুক্তিযোদ্ধাদের অবস্থানের সংবাদ পেলে, মুক্তিকামী জনতা সেখানে আছড়ে পড়তো। মুক্তিযোদ্ধাদের মুখে তাঁরা যুদ্ধের গল্প শুনতে চাইতো, আশা আকাঙ্ক্ষা, স্বপ্নের কথা শুনতে চাইতো। বাড়ির মুরগী , খাসী জবাই করে মুক্তিদের খাওয়া দাওয়ার ব্যাবস্থা করতে পারলে ধন্য হত। তাঁরা বলতো “মুক্তি এসেছে”।  

   


তো জিয়ার আগমনের কথা, এক কান দু কান হতে হতে জনতার কানে পৌঁছে গেলো আবার পাকিস্তানীরাও প্রায় এসে গেছে। ব্যাস মুহুর্তে সবাই উধাও। বিপদে পড়ে গেলো ভারতীয় অফিসাররা। যুদ্ধ দেখতে এসে সত্যিকারের মৃত্যুন্মুখ যুদ্ধের মুখে পড়তে হবে তাঁরা ভাবতেও পারেনি।  
  
জিয়া নির্বিকার ভঙ্গিতে আরো একটি মিষ্টির হাঁড়ি তুলে নিলেন। পাসে দাঁড়ানো দুই মুক্তিযোদ্ধাকে কিছু একটা বলে বিদায় দিয়ে, জিয়া হাঁড়ির ভেতর হাত ঢুকিয়ে দিলেন আরো একটা মিষ্টি খাওয়ার জন্য।  

অভিজ্ঞ পাঞ্জাবী ব্রিগেডিয়ার তাঁর জীবনে বহু যুদ্ধের মুখোমুখি হয়েছেন কিন্তু এমন ভয়াবহ অবস্থায় কখনো পড়েনি। পাক বাহিনী ফায়ার ওপেন করেছে, মর্টারের আঘাতে গাছ গুলো ন্যাড়া হয়ে যাচ্ছে, রাইফেল মেশিন গানের গুলি নিরালস হুংকার দিচ্ছে। পিকনিক আমেজ মুহুর্তে উধাও, জান বাঁচানো ফরজ কাজ। ওদিকে জিয়া হাড়ি থেকে মিষ্টি সবার করে চলেছেন, আর অতিথিদের সমানে আশ্বাস দিয়ে যাচ্ছে কোন অসুবিধা হবে না, আপনারা বসুন এবং এই প্রসিদ্ধ মিষ্টি খেতে থাকুন।  

শাবেদ শিং বিশাল বপুর মানুষ, তিনি ছোটখাট গড়নের বাংলাদেশী ৪০০ টাকার মেজরের আশ্বাসে আস্বস্ত হতে পারলেন না। Boys, follow me বলেই মিষ্টির দোকান থেকে লাফ দিয়ে বের হতে গিয়ে পাশের ডোবার মধ্যে পরে গেলেন শাবেদ শিং। বিশাল বপু শাবেদ শিং, বিশাল সাইজের পাইথনের মত ক্রলিং করে হাসফাস করতে করতে সীমান্তের দিকে বৃথা রওনা দিতে গিয়ে আবার থেকে গেলেন। অবশ্য ব্রিগেডিয়ারের ইয়াং অফিসাররা “Boys, follow me” হুকুম পালন করতে পারলেন না। “চাচা আপন প্রান বাচা” থিওরীতে শাবেদ শিং কে একা ফেলে তাঁরা বেশ কিছুটা পিছিয়ে সেফ জোনে ঢুকে গেছে।   
  

মিলিটারি অফিসারদের মত দৌড়/ক্রলিং এ অনভিজ্ঞ/অনভ্যস্ত সাংবাদিক এবং সিভিলিয়নদের তখন চোখের সামনে স্বাক্ষাত সাক্ষাৎ আজরাইল। তারপরো জীবন বাচানোর তাগিদে সামনের পানা পাহাড়ী নালায় পড়ে টুপ টাপ ডুব দিচ্ছেন আর উঠছেন। ফাঁকে ফাঁকে শাপান্ত করছেন জিয়া আর চান্দগাজীর মিষ্টির দোকানদারকে।  


অফিসারদের সকালের পাট ভাঙ্গা ইউনিফর্মগুলো কাদা পানি আর ধুলায় নাগা সান্ন্যাসীদের মত প্রায় বিলীন হয়ে গেছে। কারো মাথাতে তখনো শ্যাওলা, কচুর পাতা ঝুলে রয়েছে। বিপুল বেগে তারা যখন সীমান্তের দিকে ধেয়ে যাচ্ছে তখন ব্রিগেডিয়ার শাবেদ শিং জনা দুয়েক সৈনিক আর সাক্ষাতে আসা জন দশেক জনতা নিয়ে পচা ডোবাতে হাবুডুবু খাচ্ছেন।   
   

কিছুক্ষণের ভেতর রাইফেল বন্দুকের ঝংকার থেমে গেলো। বাজারের পশ্চিম মাথা থেকে কাদা পানি মাখা কিছু বাংলাদেশী অস্ত্র হাতে দৌড়ে এসে যখন জিয়াকে কিছু একটা বলে গেলো তখন অতিথিরা নালা আর ডুবা থেকে একে একে উঠে আসতে শুরু করেছে। তাঁরা যখন এ যাত্রা জীবন বাঁচাতে পারার জন্য স্রস্টার কাছে শুকুর গুজার করছে, তখন জিয়া মিষ্টির হাঁড়ি শেষ করে গামছা দিয়ে হাত মুচ্ছেন।  
  

ব্রিগেডিয়ার শাবেদ শিং যখন উঠে আসলেন তখন জিয়া নিজের চেয়ার ছেড়ে দিয়ে, শাবেদ শিংকে বসিয়ে আয়েস করে একটা সিগারেট জ্বালালেন, আর ব্রিগেডিয়ার সাহেব কে একটা সিগারেট এগিয়ে দিতে দিতে বললেনঃ

“ওদের রওনা দেবার খবর পাবার আগেই নিরাপত্যার কথা ভেবে বাজারের কাছে এ্যম্বুস পেতে রেখেছিলাম আমরা, তাঁরা এই ফাঁক দিয়ে আসতে পারে এমন একটা ধারণা আমরা করেছিলাম”
পাকিস্তানীরা আসার খবর শোনা মাত্র এ্যামবুশকারীদের সাবধান করে জিয়া ওই দুই সহযোদ্ধাকে নির্দেশ দিয়ে এ্যটাকের প্রস্ততি নিতে বলেন। পাকিস্তানী বাহিনী এ্যামবুশের মাঝে আসা মাত্র দুই ধারে সাব-মেশিন গানের গুলি শুরু করে ক্যাপ্টেন অলির বাহিনী। খুব অল্প পাকিস্তানী সেনা সেদিন ফেরত যেতে পারে। জিয়া তখন হাসতে হাসতে সবাইকে বলেনঃ
  

“এবার যান, সবাই গিয়ে লাশ গুলো আর পাকিস্তানীদের ফেলে যাওয়া গাড়ি গুলো দেখুন।” 
  

ব্রিগেডিয়ার শাবেদ শিং এরপর “সাপ্তাহিক সমাজ” পত্রিকার সম্পাদক সাংবাদিক বাশারকে ইটারভিউ দিতে গিয়ে ইংরেজীতে বলেনঃ
“ডিয়ার সাংবাদিক, যুদ্ধে তোমরা অবশ্যই বিজয়ী হবে। যে জাতির হাতে মেজর জিয়ার মত একজন কমব্যাটেন্ট থাকে তাদের দমিয়ে রাখা যায় না। আমি নিজে অনেক যুদ্ধ করেছি, অনেক যুদ্ধের কৌশল নিয়ে পড়েছি, কিন্তু জিয়ার মত ঠান্ডা মাথার কমব্যাটেন্ট কোথাও দেখি নি”  

  

এ্যাডভেঞ্চার শেষে ভারতীয় বাহিনীকে ত্রিপুরা ফেরত নিয়ে যাবার সময় সাংবাদিক বাশার এক পর্যায়ে জিয়ার পাশে এসে বলেনঃ 

স্যার আজকের ঘটনার ওপর কিন্তু কাভার ষ্টোরী হবে। কালো সানগ্লাসে ঢাকা চোখের স্বভাব সুলভ মুচকি হাসিতে, জিয়া প্রচ্ছন্ন সাঁয় দিয়ে বলেনঃ

Well, you’ve a story, no doubt. But please don’t mention our name. That’s our of military rules.
“ওয়েল ইউ হ্যাভ আ ষ্টোরী। নো ডাউট। বাট প্লীজ ডোন্ট মেনশান আওয়ার নেইম। ওটা আমাদের সামরিক নিয়মের বাইরে।”  



*রেফারেন্সঃ *মৃত্যুঞ্জয়ী জিয়া – -
*সাপ্তাহিক সমাজ
* ৭১ এ নিহত পাকি সৈনিকদের তালিকা ও সময় দেখতে শর্ট লিঙ্ক-
মহান মুক্তি যুদ্ধে হানাদার পাকিস্তান বাহিনীর নিহত সৈনিক অফিসারদের লিস্ট

মঙ্গলবার, ৬ ডিসেম্বর, ২০১৬

এরশাদ

৬ ই ডিসেম্ভর ১৯৯০


বেগম জিয়ার আপোষহীন নেতৃত্বে এই দিন বাংলাদেশ হয় স্বৈরাচার মুক্ত। খুনী এরশাদ হয় বন্দী। বেগম জিয়ার ওই সংগ্রামে সাথে আওয়ামীলীগ ও ছিল। বিএনপির সাথে একই ঘৃনায় আওয়ামীলীগ ও এরশাদ কে টেনে নামায়।


অথচ মাত্র ২৪ বছরের মাথায় সেই বিশ্ব বেহায়া এরশাদ এখন আওয়ামীলীগের সরকার গঠনের সহায়ক শক্তি এবং প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ দুত।


আজ ৬ ই ডিসেম্ভর ২০১৬, বিএনপি পারত এই দিন টাকে বিশেষ ভাবে স্বৈরাচার মুক্ত দিবস হিসাবে পালন করতে। কিন্তু দলীয় কোন প্রোগ্রাম চোখে পড়ল না।





এখানে The Patriot archive এর ৮০০ ডকুমেন্ট থেকে র‍্যান্ডম কয়েকটা তুলে দিলাম।



স্বৈরাচার এরশাদের আমল ও বাংলাদেশ
FOR BANGLADESHI OPPOSITION, A CRICIAL PERIOD
বাংলাদেশে বিরোধীদের (দল) জন্য জটিল সময়
লিংকঃ বাংলাদেশে বিরোধীদের (দল) জন্য জটিল সময়












এরশাদ পতনের পর নভেম্বর ৩০ এ নিউ ইয়র্ক টাইমস লেখে
50 Reported Dead in Bangladesh Demanding the President's Ouster
লিঙ্ক https://goo.gl/ndfct8

















২৪ জুলাই ৮৭ তে নিউ ইয়র্ক টাইমস আরো লেখে
POLICE AND PROTESTERS CLASH IN 2-DAY BANGLADESH STRIKE
দুদিন ধরে প্রতিরোধকারীদের সাথে পুলিশের সংঘর্ষ।
The Christian Science Monitor ২৫ নভেম্বর ৮৭ তে লেখে
Bangladesh crackdown aimed at breaking strike
অবিচ্ছিন্ন ধর্মঘট লক্ষ্যে করে বাংলাদেশ কঠোর ব্যবস্থা
লিঙ্ক http://www.csmonitor.com/1987/1125/ofill25.html













Immigration and Refugee Board of Canada,
The Fall of President Ershad
১ February ১৯৯১
লিঙ্ক http://www.unhcr.org/refworld/docid/3ae6a8050.html








বাংলাদেশে প্রতিবাদের অধিকার খর্ব
"Protest Banned, Curfew Imposed in Bangladesh." Latimes.com. Los Angeles Times,
28 Nov. 1987. Web
লিঙ্ক http://articles.latimes.com/…/mn-5961_1_bangladesh-curfew-i…






ক্ষমতাসীন পার্টি নিজেদের বিজয়ী ঘোষনা করেছে ।
Ruling Party Is Declared the Winner in Bangladesh."
Ruling Party Is Declared the Winner in Bangladesh."
Nytimes.com.
The New York Times, 06 Mar. 1988.
লিঙ্ক http://www.nytimes.com/…/ruling-party-is-declared-the-winne…






আতাউস সামাদ
"Bangladesh Opposition Renews Protest Call. But Government Says Crackdown Will Cool Simmering Political Crisis."
The Christian Science Monitor,
16 Nov. 1987.
লিঙ্ক http://www.csmonitor.com/1987/1116/odemo.html






রোঁনি টেম্পেস্ট
Tempest, Rone.
Los Angeles Times, 14 Nov. 1987
"Bangladesh Chief Vows Crackdown on Protesters."
লিঙ্ক http://articles.latimes.com/…/mn-5150_1_opposition-proteste…







Weisman, Steven R
The New York Times, 15 Nov. 1987
"The Two-Woman Opposition in Bangladesh."
বাংলাদেশে মাত্র দুজন বিরুদ্ধ মতের নারী
লিংকঃ http://www.nytimes.com/…/the-two-woman-opposition-in-bangla…






নিচে ৪ পাতার একটি গ্লোবাল রিপোর্ট জুড়ে দিলাম। সাথে কিছু ঐতিহাসিক ছবি। ছবির নিচে ছোট টাইটেল দেওয়া আছে।




আসলে এরশাদের কুকর্মে লিস্ট এত বড় যে লিখে শেষ করা যাবেনা।
নিচে ৪ পাতার একটি গ্লোবাল রিপোর্ট জুড়ে দিলাম। সাথে কিছু ঐতিহাসিক ছবি।
আসলে এরশাদের কুকর্মে লিস্ট এত বড় যে লিখে শেষ করা যাবেনা। ৮০০ রিপোর্টের মধ্যে থেকে অতি সামান্ন কিছু আলামত দিলাম মাত্র।

শুক্রবার, ২১ অক্টোবর, ২০১৬

জাতীয় প্রেসক্লাব জিয়াউর রহমান এবং দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া

দিবাগত রাত ২০ অক্টোবর ছিল জাতীয় প্রেস ক্লাবের ৬৩ তম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকীঃ


আসুন দেখে নিই প্রেস ক্লাবের সাথে তথা মুক্ত গনমাধ্যমের বিকাশের সাথে শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান ও বেগম খালেদা জিয়ার সম্পর্ক কেমন ছিল ।




ইতিহাসের মাইনফিল্ডে নিরাপদে হাঁটার জন্য এখন প্রয়োজন মাইনগুলো নিষ্ক্রিয় করে দেওয়া, সে জন্য প্রয়োজন প্যান্ডোরার বাক্সগুলো পুরোপুরি খুলে ফেলা, জানতে হলে পড়তে হবে ।





জাতীয় প্রেস ক্লাব বাংলাদেশের সাংবাদিকদের একটি মিলনসভা যা রাজধানী ঢাকা শহরের কেন্দ্রস্থলে তোপখানা রোডে অবস্থিত দেশের একটি জাতীয় প্রতিষ্ঠান। ১৯৫৪ সালে এই ক্লাব প্রতিষ্ঠিত হয়। এরপর থেকে এই ক্লাব বাংলাদেশের সাংবাদিক সমাজের গর্ব ও ঐক্যের উজ্জ্বল প্রতীক হিসেবে দেশের গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার লড়াইয়ের অন্যতম কেন্দ্র হিসেবে কাজ করে আসছে। প্রগতিশীল আন্দোলন, স্বৈরাচার বিরোধী সংগ্রাম ও স্বাধীনতা যুদ্ধে ক্লাবের ভূমিকা অত্যন্ত গৌরবের।






১৯৫৪ সালে প্রায় ঢাকায় ১৮ তোপখানা রোডের ঐতিহাসিক লাল বাড়িতে প্রেস ক্লাবের জন্ম ও বেড়ে ওঠা। একসময় এ বাড়িতেই থাকতেন বিজ্ঞানী সত্যেন বোস। সেই লাল বাড়িটি এখন আর নেই। সেখানে নির্মিত হয়েছে নতুন ভবনসাংবাদিকই শুধু নন, শিল্প-সাহিত্য, সংস্কৃতি ক্রীড়া অঙ্গনের বিশিষ্ট সব মানুষের মিলন কেন্দ্র হিসেবে উজ্জ্বল ঐতিহ্য রয়েছে এই ক্লাবের। প্রগতিশীল, গণতান্ত্রিক, স্বৈরাচারবিরোধী সব আন্দোলনে সাম্প্রদায়িকতার বিরুদ্ধে এবং মহান মুক্তিযুদ্ধে প্রেস ক্লাব ছিল অনন্য বলিষ্ঠ এক প্রতিষ্ঠান। এ প্রতিষ্ঠান এখনো সমাজের বঞ্চিত, শোষিত মানুষের প্রতিবাদের কেন্দ্র এবং প্রত্যাশার প্রতীক। বহুদলীয় গণতন্ত্রের চর্চা, পরমত সহিষ্ণুতার লালন, গোঁড়ামিমুক্ত ঋদ্ধ, আলোকিত সমাজ বিনির্মাণ ও প্রগতির অভিযাত্রায় এই প্রতিষ্ঠান সব সময়ই থেকেছে অগ্রণী।



স্বাধীনতার পর তৎকালীন রাষ্ট্রপতি শেখ মুজিবুর রহমানের কাছে সাংবাদিকরা এই জায়গাটি প্রেস ক্লাবের নামে বরাদ্দ চেয়েছিলেন; 

কিন্তু তিনি তখন বলেছিলেন,

 ‘সচিবালয়ের প্রয়োজনে জায়গাটি সাংবাদিকদের দেয়া যাবে না।’ 




প্রেস ক্লাবের জন্য তিনি শিল্পকলা একাডেমীর জায়গার একটি অংশ দিতে রাজি হন। কিন্তু শিল্পকলা একাডেমীর কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এতে বাধা দেন। শেখ মুজিবুর রহমান প্রেস ক্লাবকে জায়গা দিতে সক্ষম হননি। অর্থাৎ ১৯৫৪ সালে প্রতিষ্ঠিত হলেও ১৯৭৫ সাল পর্যন্ত জাতীয় প্রেসক্লাব নিজের স্থায়ী ঠিকানা হয়ে উঠেনি ।

পরবর্তী সময়ে ১৯৭৬ সালে মেজর জেনারেল জিয়াউর রহমান ক্ষমতায় আসার পর সাংবাদিকরা বিষয়টি তাঁর নজরে আনলে তিনি প্রেস ক্লাব পরিদর্শনে আসেন। ১৯৭৮ সালে শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান জাতীয় প্রেস ক্লাবের বর্তমান জায়গা (১.১২ একর) ৩০ বছরের জন্য বন্দোবস্ত দেন। ১৯৭৮ সালে বাংলাদেশ সরকারের আমন্ত্রণে শিয়া ইসমাইলি মুসলমানদের ৪৯তম ইমাম এবং আগা খান উন্নয়ন নেটওয়ার্কের (একেডিএন) প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান প্রিন্স করিম আগা খান বাংলাদেশে আসেন এবং সাংবাদিকদের সাথে এক মতবিনিময় সভায় প্রেসক্লাবের ভবন নির্মাণে অর্থ সাহায্যের ঘোষনা দেন ।





কিন্তু সে কথা জানতে পেরে প্রেসিডেন্ট জিয়া প্রেস ক্লাব কর্র্তৃপক্ষকে ডেকে নিয়ে জানিয়ে দেন, প্রেস ক্লাব জাতীয় প্রতিষ্ঠান। রাষ্ট্রের টাকায় এই জাতীয় প্রতিষ্ঠানের ভবন নির্মিত হবে, বিদেশীদের টাকায় নয়। ফলে প্রিন্স আগা খানের টাকা আর নেয়া হয়নি। ১৯৭৯ সালের ১৭ ফেব্রুয়ারি ক্লাবের এই ভবনের ভিত্তিপ্রস্তুরও স্থাপন করেন প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান এবং নতুন ভবন নির্মাণের জন্য প্রেস ক্লাবকে দেয়া হয় ২৫ লাখ টাকা । তখন প্রেস ক্লাবের সভাপতি ছিলেন দৈনিক ইত্তেফাকের তৎকালীন সম্পাদক এবং বর্তমান পরিবেশ ও বনমন্ত্রী আনোয়ার হোসেন মঞ্জু



 
জাতীয় প্রেস ক্লাব ভবনের ভিত্তি প্রস্তর উদ্বোধন করছেন মুক্তিযোদ্ধা প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান


  • ২০০৪ সালের ২০ অক্টোবর প্রেস ক্লাবের ৫০ বছর অর্থাৎ সুবর্ণজয়ন্তীর অনুষ্ঠানে যোগ দেন তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া।  তিনি ক্লাবের বহুতল মিডিয়া কমপ্লেক্স ভবনের ভিত্তিপ্রস্তুর স্থাপন করেন, যা নির্মাণের অপেক্ষায়। ঐ অনুষ্ঠানে বেগম খালেদা জিয়া প্রেসক্লাবের দখলে থাকা বাকি জায়গা (দশমিক ৮৯ একর) প্রেসক্লাবের নামে বরাদ্ধ দেওয়ার সাথে ক্লাবের সম্পূর্ণ দুই একরেরও বেশি জায়গাটি ৯৯ বছরের জন্য স্থায়ী লীজ করে দেয়ার ঘোষণা দেন। পরবর্তীতে পুরো জায়গাটি ৯৯ বছরের জন্য মাত্র ১ লাখ ১ টাকায় নামমাত্র মূল্যে প্রেস ক্লাবের নামে স্থায়ীভাবে দলিল করে দেন।

     

     

     

এই ভাবেই বাংলাদেশের সাংবাদিকদের মিলনসভা “জাতীয় প্রেস ক্লাব” শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান এবং সাবেক প্রধানমন্ত্রী দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার হাত ধরেই নিজেস্ব স্থায়ী ঠিকানা সমেতে নিজেস্ব ভবন পেয়েছে ।




আজ নিয়তির বরপুত্র অথবা কর্মের সফল পুরুষ জিয়াউর রহমানকে যে আসনে বসিয়েছে তা অনেকেরই মনব্যথার কারণ। তারা এখনও জিয়াউর রহমানকে অথবা তাঁর রেখে যাওয়া আদর্শকে তাদের জন্য সবচেয়ে বড় হুমকি মনে করেন এবং এ কারণে লাখ লাখ মানুষের শ্রদ্ধার্ঘ্য নিবেদনের পর সমাহিত এই মানুষটিকে নিয়ে মাথাব্যথার যেন অন্ত নেই। তাই এখনও তার চরিত্র হননের প্রচেষ্টায় একটি মহলে বিশেষভাবে সক্রিয়; যেমনটি তৎপর ছিল পূর্বেও। সেদিন শহীদ জিয়া যাদের চোখে ছিলেন দেবদূত তুল্য, তারাই স্বার্থের কারণে অকৃতজ্ঞ হয়ে চরিত্র হরণের চেষ্টা চালায় এই মহান নেতার।



তবুও সবার মনে রাখা উচিত, ক্ষমতার জোর দিয়ে কোন মহান ব্যক্তিত্বের চেতানাকে তাঁর ভালোবাসার মানুষগুলোর মন থেকে বিলীন করে দেয়া যায় না। জিয়াউর রহমান আদর্শ হিসেবে শুধু বাংলাদেশে নয়, দুনিয়ার নিপীড়িত জনগণের জন্য একটি প্রেরণার উৎস হয়ে তিনি বেঁচে থাকবেন কেয়ামত পর্যন্ত।

রবিবার, ৯ অক্টোবর, ২০১৬

Bombing for peace is like Fucking for virginity


Tunnel Rat , মাটি খুঁড়ে, মাটির নিচ দিয়ে ছোট্ট ছোট্ট টানেল। কোনটা ২৫ মিটার, কোন টা ১০০ মিটার আবার কোন কোনটা মাইলের পর মাইল। যেখানে বাংলাদেশ থেকে নেপালের দূরত্ব মাত্র ১৮কিলোমিটার।

 

চওড়া দুই ফিট থেকে আড়াই ফিট, গড়।
কোন কোন ক্ষেত্রে ছোট একটি কামান টেনে নিয়ে যাবার মত। 

এই সব ট্যানেল দিয়ে ক্ষিপ্র গতিতে চলাচল করতো ভিয়েতনামিজ গেরিলারা। বিদঘুটে অন্ধকারেও তারা চোখে দেখতে অভ্যস্ত হয়ে গিয়েছিল। গেরিলাদের মূল অস্ত্র ছোট্ট নল কাটা পিস্তল, সালফিউরিক বোমা। কিছু ক্ষেত্রে অবশ্য মেসিনগানের ব্যাবহার হত। ভিয়েতনামিজ গেরিলাদের ট্যানেলে দাঁড়িয়ে হেটে চলার ব্যাবস্থা খুবই কম ছিল। মূলত ক্রলিং করে চলাফেরা করতে হতো ট্যানেল গুলোতে। এই জন্যই এইসব ট্যানেলের যোদ্ধাদের বলা হত Tunnel Rat.




আমেরিকান বাহিনীর কাছে সবচেয়ে ভয়ংকরী আতংকের নাম ছিল ট্যানেল র‍্যাট আমেরিকানরাও ভিয়েতনামিজ গেরিলাদের অনুকরণে নিজস্ব ট্যানেল বাহিনী তৈরি করলেও তারা সুবিধা করে উঠতে পারেনি। 





ফাইনালি ভিয়েতনামি ট্যানেল র‍্যাট দের নির্মূল করতে আমেরিকানরা ট্যানেলের মুখে আগুন ধরিয়ে দিতো।
কোন ট্যানেলে আমেরিকানরা যখন অভিযানে নামতো, গেরিলাদের ইন্দ্রজালের মত বিছানো ট্যানেলে আমেরিকান সৈন্যরা নিজেরাই কুপোকাত হয়ে যেতো।

এমন বেশ কিছুবার হয়েছে যে ৫০ জন সৈন্যের আমেরিকান ট্রুপস, গেরিলা দমনে,ট্যানালে নেমে আর কোন দিন ফিরে আসতে পারেনি। লাশ পর্যন্ত উদ্ধার হয়নি।


অথছ আমেরিকান বাহিনী ট্যানেলে নামতো পর্যাপ্ত সার্চ লাইট, হালকা ও সহজে বহন যোগ্য রাইফেল, গরম প্রতিরোধী আইস জ্যাকেট, সহ সকল ধরনের নিরাপত্যা যন্ত্রপাতি সহকারে।


এই সব, এক একটা ট্যানেলে গেরিলারা খুব সামান্যতম খাদ্য নিয়ে মাসের পর মাস কাটিয়ে দিতে পারতো।
ভিয়েতনাম যুদ্ধে, অসংখ্য যুদ্ধ ক্ষেত্র, যেখানে আমেরিকান সৈন্যদের বিজয় প্রায় সুনিশ্চিত, দেখা যেত হটাৎ ভূমি ফুঁড়ে, সেখানে শত্রু ঘাঁটির সবচেয়ে নিরাপদ স্থান দিয়ে উঠে এসে আমেরিকাদের পিছন থেকে ব্রাস ফায়ারে নির্বংশ করে দিয়ে গেছে, এক মূহুর্তে।



যুদ্ধ বিজ্ঞানের ইতিহাসে ভিয়েতনাম যুদ্ধের ট্যানেল ফাইট, একটি অবিস্মরণীয় পাঠ। মূলত ট্যানেল র‍্যাট গেরিলাদের চোয়ালবদ্ধ লড়ায়ের মানসিকতার কাছে শোচনীয়, লজ্জাজনক পলায়নপর পরাজয় মেনে নিতে বাধ্য হয়েছিল পরাশক্তি আমেরিকা।




পৃথিবীর সকল সচেতন মানুষের বিবেকের দ্বার উন্মুক্ত হয়ে পরেছিল, খোদ আমেরিকান জনগণ যুদ্ধের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়ে আমেরিকান সৈন্যদের জ্যান্ত ফিরিয়ে আনার জন্য উত্তেজিত হয়ে ওঠে। কিংবদন্তী বক্সার মোহাম্মদ আলী, ভিয়েতনামে যুদ্ধ করতে  যেতে অস্বীকৃতি জানিয়ে, নিজের পদক ফেলে দেন। নোয়াম চামিস্কি প্রতিবাদী হয়ে ওঠেন। জন লেনেন, ডন ডেনভার , জিম ম্যারিসন , বব দিলান প্রত্যেকে নিজের স্থানে দাঁড়িয়ে যুদ্ধ বিরোধী ক্ষাপাটে ভূমিকা নেন। সমগ্র বিশ্বের সমাজ ও রাষ্ট্র ব্যাবস্থাকে প্রশ্নের মুখে টালমাটাল করে দেয় মানবতাবাদী মানুষের দল। 


এই সকল ট্যানেল র‍্যাটদের হ্যন্ডেল করার কাজটি ছিল অনেক বিপদজনক। কারন একবার ট্যানেলে টার্গেট নিয়ে নেমে গেলে হাই কমান্ডের আদেশ নির্দেশ সেখানে মূখ্য থাকেনা। তাছাড়া দীর্ঘ সময় অন্ধকারে মাটির নিচে যুদ্ধ করার ফলে এদের ভেতর সাইকোলজিক্যাল ডিজঅর্ডার দেখা দিত, মানুষের সাথে মিসতে পারতো না, হত্যা ব্যাতীত এরা স্বাভাবিক থাকতে পারতো না।
সুসজ্জিত আমেরিকান ট্যানেল ফাইটার






তাই এদেরকে যুদ্ধ শেষে বা নিয়মিত বিরতি দিয়ে অবসর পালনে, স্বাভাবিক সমাজে পাঠানো সমস্যা হয়ে উঠেছিল। যেহেতু হত্যা বা রক্ত এদের কাছে নেশাদায়ক হয়ে উঠেছিল।



কাঠামোগত কারনেই, যুদ্ধ কৌশল প্রদর্শনের খুব বেশি সুযোগ থাকেনা ট্যানেলে। অন্ধকারে দেখতে পাওয়া, সরিসৃপের মত বুকে ভড় দিয়ে নিঃশব্দে চলাচল, প্রখর শ্রবণ শক্তি এই যুদ্ধের সবচেয়ে বড় যোগ্যতা। সাথে লাগবে শত্রু টের পাবার আগেই, নিশব্দে ফায়ার অন করার ক্ষিপ্রতা।





ভিয়েতনামিজ ট্যানেল র‍্যাট গেরিলারা প্রায়শ ট্যানেলে আক্রমণাত্মক শত্রুর রাস্তার পিছন দিক দিয়ে এসে, টানেল মুখে আগুন ধরিয়ে দিয়ে সরে পরতো পারতো।



পরিস্থিতি খুব জটিল আকার ধারণ করলে ২ ফুট ট্যানেলের মুখ দিয়ে বাহির হয়ে এসে জনতার সাথে মিশে যেত।
এখনকার মিডল ইস্ট যুদ্ধে মাঝেমধ্যে আমরা যে সুরঙ্গ খুঁজে পাওয়ার কথা শুনি তা কিন্তু এই ধরনের ট্যানেল ফাইটের একটা অংশ।

আমেরিকার হিপ্পিরা জাহাজ পর্যন্ত হাইজ্যাক করেছিল , যুদ্ধের প্রতিবাদে







আমার ক্ষুদ্র গণ্ডিতে কোনভাবেই প্রকাশ করতে পারবো না যে এই সামান্য ট্যানেল র‍্যাটরা কি বিপুল ঐশ্বর্য ঢেলে দিয়েছিল মুক্তিকামী মানুষের স্বাধিকার, স্বাধীনতা রক্ষার যুদ্ধে। 

সমগ্র দুনিয়ার শ্রেষ্ঠতম সামরিক শক্তির সে এক অসম্ভব পরাজয়ের লজ্জা,ব্যাক উইথ ব্যাগ এন্ড ব্যাগেজেস। মান জলাঞ্জলি আগেই গিয়েছে, পৈতৃক জানটা নিয়ে কোন ক্রমে ভিয়েতনাম পার হওয়ার আনন্দই যেন আমেরিকান সৈনিকদের কাছে যুদ্ধ বিজয়ের চেয়েও  অধিকতর বিজয় হয়ে উঠেছিল।


ভিয়েতনাম জাতির শ্রেষ্ঠতম সন্তান তাঁদের ট্যানেল র‍্যাট ফাইটাররা।