শুক্রবার, ২২ মার্চ, ২০২৪

নিজস্ব লড়াই


প্রেম যতক্ষণ প্রেমময়; ততক্ষন প্রেমের সব কিছুই সুন্দর। ব্যসিকলি সব প্রেম মোটামুটি একই রকম মোহনীয়। তবে অন্য রকম প্রেম আছে। সম্পর্ক যখন তলানিতে ঠেকেছে; সেই তলানি গুলো হল ইউনিক প্রেম। একেকটা সম্পর্ক একেক নয়া কারণে তলানিতে ঠেকে। অর্থাৎ প্রেমে ভাইব যেমনই হোক বিচ্ছেদের ভাইব আনপ্যরালাল, রসময়, রহস্যময়।


দু'জনের বোঝাপড়ায় হয়তো সম্পর্ক'র ইতি টানছেন। যত বোঝাপড়া করুন না কেন একজন কিন্তু ঠিকই প্রতারক। সে আপনি মানেন বা না মানেন। হাজার বছরে সমীকরণ না মেলা প্রশ্ন হচ্ছে মানুষ কেন প্রতারণা করে?


দেখবেন একজন অন্যজনের কাঁধে দোষ চাপিয়ে নিজেরে নিপাতনে শুদ্ধ রাখতে যা বলার দরকার সবই বলবে৷ এই দোষাদোষি আসলে অর্ডিনারী হিউম্যান এ্যটিচুট। টু অর্ডিনারী আবেগিক জবাবদিহিতা। এসবের ভেতর সত্য'র লেশ খুব কমই থাকে। অনেকটা বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে ধর্ষণের মত। 


দোষ গুন গালাগালি, হামলা পাল্টা হামলার ঘটনা ঘটতে থাকুক। আপাতত দর্শন ও সাইকোলজি বিদ্যা থেকে উত্তর খোঁজা যাক। 


আত্মতৃপ্তি আর ঘ্ণিষ্টতাঃ বাংলায় জটিল শব্দ হলেও ইংরাজিতে দুটো সহজ শব্দ আছে Self Gratification & intimacy. মূলত আত্মতুষ্টির আকাঙ্ক্ষা; ইন্টিমেসির সাথে এডজাষ্ট করতে না পারলেই মুসিবত হয়। প্রেমের গুরু গঞ্জনা প্রকাশ হতে শুরু করে।

 


এসবের দীর্ঘ ব্যখ্যা আছে। জটিল না করে সারাংশ করি। সেটা হচ্ছে যখন ব্যক্তির তৃপ্তির জন্য আত্মতুষ্টির জরুরত ঘনিষ্ঠতার চেয়ে বেশি হয়, তখন প্রতারণার ঘটনা ঘটে।


আত্মতৃপ্তি চাওয়া কিন্তু খারাপ কিছু না। সব মানুষই তৃপ্তি চাই, সন্তোষ চাই। সেই সন্তোষের জন্য কেউ গান শুনে, কেউ বই পড়ে, কেউ মাস্টারবেট করতে হাত তো কেউ আঙ্গুল চালাচ্ছে, আবার কেউ সেক্স করছে। কেন করছে এসব? উত্তর হল আমরা আত্মতৃপ্তি তালাশ করছি। 

 

মানুষ হয়ে জন্মর কারনে আমরা আত্মতৃপ্তি চাই। আবার কারও ভালবাসা ঘনিষ্ঠতাও চাই। সমস্যা হল ন্যাচারালি Gratification & Intimacy দুটোই প্রাকৃতিক রিপু অথচ দুটো চাহিদা পরস্পর বিরোধী।


ধরেন আপনার পকেট সীমিত। সিনেমা দেখতে ভাল্লাগে না, রেষ্টুরেন্টের খাওয়ায় আপনার পেট নামে। কিন্তু প্রীয় মানুষের সান্নিধ্য পেতে আপনি তিন ঘণ্টা ছবি দেখছেন, রেষ্টুরেন্টের বিল মিটিয়ে ক্যন্ডেল নাইট ডিনার করছেন। - অর্থাৎ ব্যক্তির আত্মতৃপ্তির চেয়ে প্রিয় মানুষের সান্নিধ্য আপনারে বেশী টানছে। বা প্রীয় মানুষের সান্নিধ্যে আপনি আত্মতৃপ্ত হচ্ছেন। এটাই হচ্ছে প্রেম। এটাই Intimacy. 


আবার ধরেন সারাদিন মোবাইল টিপলে আপনার ভাল্লাগছে৷ আপনি জানেন এই টেপাটেপির কারনে আপনার পার্টনার মনক্ষুন্ন হচ্ছে কষ্ট পাচ্ছে; তবুও আপনি ফোন টেপাটিপি বন্ধ করতে পারছেন না। অর্থাৎ এখানে আপনার আত্মতৃপ্তি; আপনার ঘনিষ্টতার আদর পাবার ইচ্ছার কাছে বলি হচ্ছে।  

 

এভাবে যুগ যুগান্তরে কনফ্লিক্ট অফ ইন্টারেস্ট চলে আসে সম্পর্কে। সুতরাং Gratification & Intimacy এই দু অনুভূতির ভারসাম্যহীনতা থেকেই প্রেমের প্রতারণা শুরু। 


Gratification কথাটা বিদ্রূপের মত শোনালেও অনেকে আছেন যাদের আত্মতৃপ্তি একটু বেশী বেশী দরকার হয়। তাদের কাছে ঘনিষ্ঠতা মোহ বিশেষ, আত্মতুষ্টি বেসিক নিড। এতে দোষের কিছু নেই। মানতে পারা না পারা আপনার আমার সমস্যা।


ঘনিষ্ঠতায় লাভ, নগদ নারায়ন, নিরাপত্তা, স্যোসাল ঝাকানাকা ঝনঝন টনটন না করলে খামাখা আত্মতৃপ্তি বিষর্যন দেবার কোন মানে হয় না। বিনিময় আসতে হবে। বিনিময়ে বিরাম থাকা যাবে না। স্থান কাল পাত্র ভেদে একই ধারায় বিনিময় চালাতে পারলে তবেই ইন্টিমেসি উইল বি গ্রেটার দেন সেল্ফ গ্রেটিফিকেশান।


অয়েল চেঞ্জ বলে স্যাইকোলজিতে প্রচলিত একটা টার্ম আছে। অর্থাৎ দীর্ঘ সময় বিরতীর পর আবার সেক্স করতে উদগ্রীব হয়ে নয়া পার্টনারের সন্ধানে নামা। এই যে বিরতি- এটা হচ্ছে সত্যিকারের ইন্টিমেসির অভাব। আজকের পৃথিবীতে আপনি কম কাম বেশী প্রেম থিয়োরি তে ভরসা করলেই আকাশ ভরা তারা দেখতে থাকবেন। সেপিও সেক্সুয়্যালিটি বা Sex for intellectuality ওসব এই সমাজের গতবাধা মানুষের কাছে আশা করবেন না। যারা নিজেরে সেপিও সেকচুয়াল দাবী করেন তারা জাষ্ট নিজের সস্তা ব্রান্ডিং করার জন্য বলেন। যারা আদতে সেপিও সেক্সুয়াল ওরা কখনোই এ ধরণের কথা প্রকাশ্যে বলে না।  


ইন্টেলেকচুয়ালিটির ব্যসিকটার্ম নিয়ে ঈষৎ লেখাপড়া করলে বুঝতে পারবেন কোনটা জ্ঞানগরিমা আর কোনটা জীবন মানেই জী বাংলা। 


Gratification & Intimacy থেকে Sex For Intellectually কোন বিষয়ে আসলে জাজমেন্টাল না হওয়া ভালো। ভালো জাষ্টিফাই করার অত্যাবশকীয় গুনাগুন ব্যতীত জাজমেন্টাল হওয়া আদতে কুরুচিপূর্ণ। 


তবে এও ঠিক অন্য'র ভেতরের সম্পূর্ণ গল্প আমরা কেউই জানি না। প্রত্যেকের নিজস্ব লড়াই চলে নিজ ভুবনে। Self #gratification & #intimacy যার যার তার তার। কাউরে দোষারোপ করা আমাদের কাজ না। বরং প্রতিটি প্রেম, প্রতিটি বিচ্ছেদকে যতটা স্বাভাবিক ভাবে ট্রিট করতে পারবেন ততটাই মানুষ হয়ে উঠব আমি আপনি।


প্রেমে প্রতারণা উচিত বা অনুচিত ; ঠিক না ভুল; সে সব ভিন্ন আলাপ। নীতিশাস্ত্রজ্ঞ যারা তারা সেই সিদ্ধান্ত টানবেন। এখন অপেক্ষা Until next time..



#Love #Sex 

#wasimiftekhar

মঙ্গলবার, ১৯ মার্চ, ২০২৪

ইহুদি ফিলিস্তিন সংকট নিয়ে রবিন্দ্রনাথ

আমি ইহুদি জাতীয়তাবাদ এবং যারা এর জন্য নিঃস্বার্থভাবে কাজ করছেন, তাদের শ্রদ্ধা ও প্রশংসা করি। আপনাদের এই আদর্শ বাস্তবায়িত হওয়ার প্রক্রিয়া আমি যতটা সম্ভব,  মনোযোগের সঙ্গে লক্ষ্য করেছি বাস্তবিকই অসাধারণ সাফল্য অর্জন করেছেন আপনারা। কিন্তু এই মতবাদের রাজনৈতিক উদ্দেশ্য এখন আপনাদের এক অন্ধ গলিতে নিয়ে ফেলেছে। এমন গলি যেখান থেকে বেরোনোর কোন পথ নেই।এখন যদি আরব-ইহুদি সমঝোতার জন্য খোদ ইংল্যান্ডও চেষ্টা করে, তো মনে হয় না তাতে কোন লাভ হবে।আরব ইহুদি সমঝোতা ফিলিস্তিনে বসেই করতে হবে।

.

তবে আরবদের চিনি এবং মনে হয় ইহুদিরাও আমার চেনা। এ জন্যই আমার বিশ্বাস, এই দুই জাতির ভেতর রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক সহযোগিতা সম্ভব। ইহুদিরা খুব প্রাচীন জাতি। নানা ধরনের হয়রানি, অত্যাচার, অবিচার প্রতিহত করে তারা নিজেদের জাতিসত্তা রক্ষা করেছে। তাদের শক্তি নিহিত রয়েছে তাদের সংস্কৃতি ও ধর্মে। ইহুদিদের যে ঐতিহ্য তা আধ্যাত্মিক এবং সময়ের সঙ্গে তা আরো শক্তিশালী হয়। এই শক্তিকে বিলীন করা বা অন্য কিছুতে আত্মসাৎ করা সম্ভব নয়। অন্যদিকে আরবরা খুব পোড়খাওয়া জাতি। তাদের ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক উত্তরাধিকার ইহুদিদের সঙ্গে ইহুদিদের সঙ্গে এক ও ভিন্ন উৎস থেকে এসেছে। আধ্যাত্মিকতার ক্ষেত্রে আরবরা ইহুদিদের কাছ থেকে পেয়েছে প্রচুর। আর যদি এই দুই জাতির মৌল চরিত্র দেখি, তো বলবো, আপনারা এবং তারা একই পরিবারের সন্তান। হ্যাঁ একই বৃহৎ পরিবারের। পারিবারিক বিসংবাদ সবসময়ই একটু বেশি তিক্ত হয়। কিন্তু আবার মিটমাটো তো হয়। আরবদের চেয়ে বহু দূরের বাসিন্দাদের সঙ্গে থাকার অভিজ্ঞতা আপনাদের রয়েছে। আপনাদের সঙ্গে কোনই মিল নেই, এমন জাতির সঙ্গে বসবাস করেছেন। এমনকি যন্ত্রসংস্কৃতির দেশ যে আমেরিকা, সেখানেও আপনারা একাধারে ইহুদি এবং আমেরিকান হিসেবেই বাস করেছেন। তাহলে একইসঙ্গে ইহুদি এবং ফিলিস্তিনি হিসেবে বাস করতে পারবেন না কেন? 


আপনারা যদি আরবদের এ কথা বোঝানোর জন্য মনস্থির করেন যে আপনাদের উভয়েরই রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক স্বার্থ অভিন্ন, যদি আপনারা ওদের দেখাতে পারেন, আপনাদের সব কর্মকাণ্ড আরব ও ইহুদিদের জন্যই, তা আপনাদের সাংস্কৃতিক পার্থক্য যতই হোক না-- তাহলে দেখবেন সময়ে আরবরা আপনাদের সবচেয়ে বিশ্বস্ত বন্ধুতে পরিণত হবে।

.

ফিলিস্তিন সমস্যা লন্ডনে বসে ইংরেজ সরকার আর ইহুদিবাদী নেতাদের মধ্যে আলোচনা করে সমাধান করা সম্ভব নয়। ইহুদিবাদের সাফল্য সর্বোতভাবে নির্ভর করে আরব- ইহুদি সহযোগিতার উপর। আরব ও ইহুদিদের সরাসরি সমঝোতার মাধ্যমেই ফিলিস্তিনে এই সাফল্য অর্জিত হতে পারে। ইহুদিবাদী নেতৃত্ব যদি ফিলিস্তিনে ইহুদিদের রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক স্বার্থ আরবদের ওইসব স্বাস্থ্য থেকে পৃথক করার চেষ্টা করে, তো পবিত্র ভূমি সব সময়ই কদর্য দ্রোহে জ্বলে উঠবে।।


জিউস স্টান্ডার্ডর

রবীন্দ্রনাথের সাক্ষাৎকার 

১৯৩০