বুধবার, ২১ মার্চ, ২০১৮

কেস ষ্টাডি: যথাযথ কতৃপক্ষ

*অমিমাংসিত কেস স্টাডি ১

ভারতীয় অর্থমন্ত্রী বললেন যুদ্ধের আগের ১০০ কোটি টাকা, বাংলাদেশ সরকারের পাওনা আছে। প্রধানমন্ত্রী চান, টাকাটা আপনাদের যতদ্রুত সম্ভব পাঠিয়ে দিতে।

সামনে আমার নির্বাচন। অনেক টাকা দরকার, ট্রাকে করে পাঠিয়ে দিন..

দেখুন আমাদের ব্যাংকিং সিস্টেমের মধ্যদিয়ে চলতে হয়, টাকা তো ট্রাকে পাঠানো যাবে না। ব্যাংকিং চ্যানেলেই টাকা পাঠাতে হবে। আপনার অর্থ মন্ত্রনালয়কে বলুন ব্যাবস্থা করতে। আমরা সহযোগিতা দেবো।

না না ঐ সব লাগবে না, আমার ব্যাংক ফ্যাংক কিছু নেই। ট্রাকেই টাকা পাঠান...

*অমিমাংসিত কেস স্টাডি ২
ইন্ডিয়ান প্রাইম মিনিস্টার মনমোহন সিং এর ঢাকা সফর। তিস্তা চুক্তির খসড়া প্রস্তুত। রাত ১২টা নিউজ স্ক্রলে খবর পাওয়া গেলো তিস্তা চুক্তি হচ্ছে না।

পররাস্ট্র মন্ত্রী দিপুমনি চুক্তি না হবার সম্ভবনা কিছুই জানতেন না। তিনি দৃঢ় কন্ঠে সাংবাদিকদের বললেন সব বাজে কথা, চুক্তি হচ্ছে বাকি ঘটনা সবাই জানেন।

*অমিমাংসিত স্টাডি ৩
ঢাকা এয়ারপোর্টে একজন সন্দেহভাজন ব্যক্তি প্রবেশ করলেন , নাম মো: ওয়াকাস; উচ্চতা ৬" ; ওয়াকাস কাজ করতো পাকিস্তানী গোয়েন্দা সংস্থা ISI এর পক্ষে।

টাইমস অব ইন্ডিয়ার প্রতিবেদনে বলা হয়, ওয়াকাস বাংলাদেশে লুকিয়ে ছিলেন। নেপাল হয়ে পাকিস্তানে যাওয়ার চেষ্টা করছিলেন তিনি। কিন্তু শেষ পর্যন্ত ‘র’-এর জালে বন্দী আটকে যায়।

প্রশ্ন হচ্ছে স্বাধীন বাংলাদেশের এয়ার পোর্ট থেকে 'Raw' কিভাবে একজন বাংলাদেশে ভ্রমণকারীকে গ্রেফতার করে ইন্ডিয়া নিয়ে গেলো?

*অমিমাংসিত স্টাডি ৪
জনপ্রিয় স্বাধীনতা পন্থী উলফা নেতা, অনুপ চেটিয়াকে ইন্ডিয়া-বাংলাদেশ সীমান্ত থেকে গ্রেফতার করলো ভারতীয় বাহিনী। অফিসিয়ালি বাংলাদেশ সরকারের হেফাজতে থাকা ঐ অবৈধ আশ্রয় নেওয়া বিদেশী নেতা, মুক্তির সাথে সাথে কিভাবে প্রশাসনের সকলের চোখ ফাঁকি দিয়ে সীমান্তরেখা বরাবর পৌঁছে গেলো, রাস্ট্রের কাছ থেকে গ্রহণ যোগ্য উত্তর পাওয়া গেলো না।

এবার আসুন বাংলাদেশ ব্যাংক কেলেঙ্কারিতে।

*অমিমাংসিত কেস স্টাডি ৫
কদিন আগে যে ভারতীয় ব্যক্তি, ভল্ট থেকে টাকা চুরি করে ধরা পরেছিল, তাকে কেন আইনের আওতাভুক্ত করা হয় নি?

*অমিমাংসিত কেস স্টাডি ৬
ফেডারেল ব্যাংকে সংরক্ষিত বাংলাদেশের অর্থ ভাঁওতাবাজি করে চুরি করা হলো। অর্থমন্ত্রী; বক্তব্যতে ধামকি দিলেন তাকে জানানো হয় নি; তিনি ব্যাবস্থা নেবেন।

পক্ষান্তরে বাংলাদেশ ব্যাংক প্রতিউত্তর দিলো যেখানে জানানো দরকার, সেখানে তারা জানিয়ে ছিলো।

উপরের সব গুলো ক্ষেত্রেই সম্পর্কিত মন্ত্রীদের বক্তব্য ছিল, তারা ব্যাপারটা জানেন না।

অন্যদিকে সব গুলো ক্ষেত্রেই প্রশাসনের বক্তব্য ছিল ; তারা যথাযথ কতৃপক্ষকে জানিয়ে ছিল।

এবার X-Files ; investigate এর দায়িত্ব আপনাকেই নিতে হবে!

নামকরণের রাজনীতি

বৃক্ষ তোমার নাম কি? ফলে পরিচয়।

দু'পাড়ের এক পাড় সিরাজগঞ্জ, হযরত এনায়েতপুরী'র স্মৃতি বিজড়িত। অন্য পাড়ে মজলুমের কমরেড Red মওলানা ভাসানী'র আখড়া।

যমুনা'র দু'পাড়ে ভাসানী এবং এনায়েতপুরী নামে নামকরণের জোর আবদার ছিল। দু'পাড়ের মানুষের বহু যুগে না পাওয়া আবেগ নিয়ে নাড়াচাড়া  করা, রাজনৈতিক ব্যক্তিদের জন্য স্পর্শকাতর বৈকি।

ধূর্ত রাজনীতিবীদরা মানুষের এহেন আবেগে আগুন দিতে পিছুপা হয় না। পক্ষান্তরে রূঢ় সত্য হচ্ছে অনুভূতি প্রবণ ও দায়িত্বশীল নেতারা এসব সময়ে মধ্যমা আঙুল প্রবিষ্ট করান না। ফলে নাম করণে কোন পক্ষকে পুরোপুরি জয় করা আর হয়ে উঠে না। তবে লংটার্মে ন্যায়নীতি ও অনুভূতি বোধ জয়ী হয়।

প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত সভাতে এ সেতুর নামকরণ সংক্রান্ত দুটি প্রস্তাব আলোচিত হয়। নাম করণের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত বেগম জিয়া'র উপর ন্যাস্ত হলে তিনি বলেনঃ

'উনারা দু’জনই সর্বজন শ্রদ্ধেয়। তাই উনাদের বিতর্কের ঊর্ধ্বে রাখুন। এক  নামে সেতু হলে তা অন্য তীরের মানুষের মনোকষ্টের কারণ হবে। তাতে গুণীজনেরা অযথা বিতর্কিত হবেন। এরচে যে নদীর  উপর সেতু হচ্ছে, সেই নদীর নামেই নামকরণ হোক'।

সেদিনই অফিসিয়ালি 'যমুনা বহুমুখী সেতু' নাম করণ করা হয়।

এরপর ক্ষমতার পালা বদলে সেতু উদ্বোধনের দায়িত্ব বর্তায় তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সরকারের হাতে। নিয়তির পরিহাসে এ সেতুর নির্মাণকাজ উদ্বোধনী দিনে দেশব্যাপী সহিংস  হরতাল পালন করেছিলেন তিনি।

২৩ জুন' ১৯৯৮ঃ শেখ হাসিনা সেতু উদ্বোধন করেন। দুপাড়ের মানুষের আবদার আবেগের তোয়াক্কা না করে নিজ দলের জনপ্রিয় নেতা, সাবেক প্রেসিডেন্ট রাজনীতিবীদ শেখ মুজিবুর রহমানের নাম অনুসারে ৪.৮ কিমি লম্বা, ১৮.৫ মিটার প্রস্থের সেতুটিকে "#বঙ্গবন্ধু_সেতু" নামকরণ করেন।

সাথে সাথে জাতীয় প্রত্যাশা ও জন মানুষের অংশীদারিত্বে প্রস্তুতকৃত যমুনা সেতু দলীয়করণ ও দলবাজির প্রেক্ষাগৃহে প্রদর্শণ শুরু হয় ||