বুধবার, ৪ অক্টোবর, ২০১৭

আরো একটি কম্বল হারালো দেশি স্যকিউলার



বাংলাদেশের স্যেকুলার কূলের গর্বের একটা জাইগার নাম ছিল নচিকেতা। বস্তুবাদী নচিকেতার নাস্তিক্যবাদ অংশ টুকু ও ধর্মের কট্টরতা সংক্রান্ত প্রতিবাদে, বক্তব্যের কিছু কিছু নিয়ে বেশ চলছিল স্যেকুলারকুলের কূল বিহীন চিন্তাজগত।
কিন্তু এই ক্ষেত্রে মাত্র গত বছর থেকে বাঁধা হয়ে দাঁড়াই খোদ নচিকেতা চক্রবর্তী। ২৫ মার্চ প্রচারিত (১৯ মার্চ রেকর্ডকৃত) একটি সাক্ষতকারে জীবন মুখী গানের এই গায়ক বলেনঃ


“আমি একটা সময় এটা বিশ্বাস করতাম না কিন্তু ইদানীংকালে এটা খুব বিশ্বাস করি। ইদানীং মানে গত পাঁচ বছর তো হবেই। আমি ভয়ংকর নাস্তিক ছিলাম কিন্ত আমি ঠিক উল্টো ভাবে ঘুরে গিয়েছি। একটা জিনিষ বুঝে গিয়েছি ভাগ্যতে, কপালে সব লেখা থাকে। তাই আজ আমি অদৃষ্টবাদে বিশ্বাস করি, স্রষ্টাতে বিশ্বাস করি। ধর আমার প্রয়াশ মাত্র ৫ শতাংশ, কিন্তু ৯৫ শতাংশ প্রি-ফিক্স, যা ঠিক করা আছে। একটা বড় কম্পিউটারে সব প্রোগ্রাম করা আছে, আমরা সেখানে ছোট্ট ছোট্ট পার্ট মাত্র”

একটা গানের লিঙ্ক জুড়ে দিলাম
https://soundcloud.com/wasim-bonol/zo3g6ubaucbq

আয় আয়, আয় ডেকে যা, সর্বনাশের হিমেল হাওয়া
মগজের কোষে কোষে, প্রলোভনের আসা যাওয়া।
দেখে যায়, দেখতে যে হয়, সেই কারনেই দেখতে চাওয়া
দেখে যায় ভরসা করা মানুষ গুলোর, উধাও হওয়া..
জীবনের ভালো মন্দে, শেষ মেশ ময়না তদন্তেএক রাশ ছায় শুধু, করলো উদাস ঝড়কে ধাওয়াকত কি বলতে যে চাই, সব কথা কি যায় রে বলা?বলবে তো সবাই এবার, আমার শুধু শোনার পালাকত কি বলতো লোকে, এড়িয়ে বাঁচার অজুহাতেছেড়ে দেই সে হাত, যে হাত ধরা ছিল শক্ত হাতে!তবুও স্বপ্ন দেখে মন, থমকাই সময় যখনএকটা জীবন কিন্তু, মৃত্যু অনেক রূহে রাখাআজকাল চমকে উঠি, ভালোবাসার ছোঁয়া পেলে মনটা খাটছে সাজা এখন, যাবৎ জীবন জেলে।স্বপ্নের পক্ষিরাজে, শওয়ার হয়ে বেঁচে থাকা....স্বপ্নে ধরলে ভাঙন, দেখবে খুলে মুঠো ফাকাজীবনের ভালো মন্দে, শেষ মেশ ময়না তদন্তেএক রাশ ছায় শুধু, করলো উদাস ঝড়কে ধাওয়া.......




প্রধানমন্ত্রীকে মোদীর জন্মদিন উইশ

Narendra Modi টুইট করেছেন আমাদের PM কে। মোদী লিখেছেনঃ
'Birthday wishes to PM Sheikh Hasina. May she be blessed with a long life and good health' 




অর্থা অর্থাৎ বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীকে শুভেচ্ছা জানিয়ে, সুস্বাস্থ্য ও দীর্ঘায়ু কামনা করেছেন নরেন্দ্র মোদী ।
সরাসরি টুইট টি দেখতে চাইলে হাসিনার জন্ম দিনে মোদীর শুভেচ্ছা  এ ক্লিক করে চলে যেতে পারেন নরেন্দ্র মোদীর ভ্যরিফাইট আইডি থেকে করা ২৮ সেপ্টেম্বর তারিখের টুইট টি দেখতে।

এক ই সাথে মোদীর টুইট এক্টিভিটিতে নজর রাখতে ফলো করতে পারেন 
 Tweeter ID Narendra Modi তে। 
টুইট বার্তা দেখে প্রথম ধাক্কাতে মনে হল...
Feather of the same bird. This wish also stands for 'A wish from Gujarat Riot to Pilkhana massacre/Riot'. https://t.co/CVPoqHOTbj
যার ভাবার্থঃ

'গুজরাট থেকে পিলখানা পর্যন্ত লম্বা এক শুভেচ্ছাবার্তা'

- এই কমেন্ট দিয়ে রিটুইট করে দিলাম।


সরকার প্রধান টু সরকার প্রধান শুভেচ্ছা বিনিময় স্বাভাবিক বিষয় হলেও দুই বিশেষ রাজনীতিজ্ঞ'র শুভেচ্ছা বিনিময় দেখে একটু নেটে সার্চ দিতে ইচ্ছা হল। সার্চ রেজাল্ট বাংলাদেশী সুসভ্যা নির্লিপ্ত কলাগাছ সদৃশ গলাবাজ মানুষদের জন্য পেশ করলাম।
ধন্যবাদ মোদী'দা

ধন্যবাদ ভালোই দিয়া গেলেন 

A Journey পুতুল থেকে খালেদা খনম

প্রথম পর্ব

ততদিনে সেই ভয়ংকরতম দিন দেখে ফেলেছে তাবৎ জাহান। যে সময়ের ধ্বংস যজ্ঞ দেখার জন্য মানুষের এত অপেক্ষা, এত অর্থনাশ - ছোট্ট বালক আর মোটা মানুষ দুজন মিলে বোকা বানিয়ে দিয়েছে বিক্রমশীল সূর্যদয়ের দেশটিকে। ৬ এবং ৯ অগাষ্ট লিটল বয় এবং ফ্যাটম্যান নামক পারমাণবিক বোমা দুটি ছুঁয়ে দিয়ে যায় হিরোসিমা ও নাগাসাকি শহরের মাটি। মূহুর্তের বিষ্ফোরণ বোমাদুটি তার আগামী ১০০ বছরের মুখবন্ধ লিখে ফেলে। লাখ মানব জীবনকে পংগু করে, লাখ জীবনের কোটি স্বপ্ন পায়ে পিষে ২য় বিশ্বযুদ্ধ তখন নিভু নিভু। হিরোসিমা নাগাসাকি'র নরক লীলার কদিন পর বাংকারে বসে আত্মহত্যা করলেন এডলফ হিটলার ও তার প্রেয়সী ইভা ব্রাউন। যুদ্ধ কেড়ে নিল এক দানবীয় যোদ্ধার, কোমল কুসুমের মত প্রস্ফুরিত ভালোবাসা, সেই প্রেমগাথা স্থান পেলনা রোমিও জুলিয়েট, রহিম বাদশা-রুপবাণ আর লাইলী-মজনু'র কাতারে! 



মিত্রবাহিনীর হাতে নিজেকে সমর্পণ করে দিলেন প্রবল প্রতাপশালী জেনারেল, ইতালিয়ান সমর নায়ক বেনিট মুসেলিনি। সেদিন ছিল ১০ তারিখ। এর ৫ দিন পর শেষ বাঁশির সুরে সমাপ্ত হয় দ্বিতীয় বিশ্ব যুদ্ধ। গোলা বারুদের ধুয়া কুণ্ডলী সরে গিয়ে তখন বেচে থাকার বাতাস বয়ে যায় বিশ্ব ব্রম্মান্ডের এক ক্ষুদ্রাতিক্ষুদ্র পৃথিবী নামক গ্রহে।



জয়গান ও প্রশান্তির বাণীতে মুখরিত; শহরে-বন্দরে-গ্রামে-গঞ্জে, অলিতে-গলিতে প্রস্তুত হচ্ছিল হাজারে হাজারে আলোর মিছিল। সেদিন থেকে মসজিদে আজানের সুর, মন্দিরে ঘন্টাধ্বনীতে বিমান আক্রমনের বিভিষিকাময় হুশিয়ারী সাইরেন বাজে নি। ট্রেঞ্জ গুলোতে সুদীর্ঘ পাচ বছর সহবাসের পর ভয়ার্ত মানুষের বিচ্ছেদের পালা শুরু হয়ে যায়। মোয়াজ্জিনের আজান, মন্দিরে পুজারীর গীতা পাঠে সেদিন সবার সাথে আস্বস্ত হয়েছিল ভারত বর্ষ-ও।

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের শেষ দুপুরবেলা, এই উপমহাদেশের অবিভক্ত বাংলার জনগণও সেদিন হাঁফ ছেড়ে বাঁচে। এ যুদ্ধে এই অঞ্চলে প্রায় ৫০ লাখ লোক মৃত্যুবরণ করে। শেষ বিকেলের স্বস্তির নিশ্বাসে মুসলমানরা মসজিদে মিলাদ দেয়, হিন্দুরা মন্দিরে পুজো দেয়, খৃষ্টানরা গির্জায় প্রার্থনা করে। জাতি ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সবাই করুণাময় সৃষ্টিকর্তার কাছে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করতে হুলুস্থুল বাঁধিয়ে ফেলে।

বিশ্বের সর্বত্র যখন যুদ্ধ বনাম শান্তির সুবাতাস সমীকরণে বিভোড় ঠিক এমন বিরল সময়ে, জলপাইগুড়ির মজুমদার বাড়িতে ছিল টানটান উত্তেজনা, সাস্পেন্স, অনিশ্চয়তা ও আশংকার অনুভূতি। কি হতে যাচ্ছে আগামী এক মূহুর্তে!

সেদিন জলপাইগুড়ি জেলা শহরের নয়াবস্তির এক শান্ত নীড় মুজমদার বাড়ির উঠানে চিৎকার ভেসে আসে এক নবজন্মা শিশুর। পৃথিবীর বুকে সদ্যজাত শিশুর চিৎকারকে শুভবার্তা বলা হয়। মুজমদার বাড়ির উঠানে ভেসে আসা চিৎকারটিও তেমনি ছিল। যুদ্ধ ও শান্তির মিলন স্থলে ১৫ অগাষ্ট যে শিশুর জন্ম তাঁর কাঁধে একদিন শান্তি প্রতিষ্ঠার দায় এসে পড়বে এতো ভাবানার অতীত কিছু নয়! তবে কজনেই বা শেষ অবধি লড়াই করে টিকে থেকে শান্তি ও মঙ্গলের পতাকা বয়ে নেবার শক্তি ও সুকঠিন মানসিক দৃঢ়তার টাচ লাইন স্পর্ষ করতে পারে? আজ শৈশব পেড়িয়ে পোড় খাওয়া প্রায় বার্ধক্যে এসেও সেদিনের শিশুটির যুদ্ধ শেষ হয় নি।

কেউ বলবেন প্লিজ সেদিনের সদ্যজাত দুধে আলতা গায়ের রঙে জন্ম নেওয়া শিশুটিকে আপনি প্রথম কবে দেখে ছিলেন? তার নাম পরিচয় বা কি?



সবাই যদি চাই তবে তাঁর জন্ম পরবর্তি বেড়ে ওঠা থেকে বর্তমান পর্যন্ত তথ্য নিয়ে গল্পটা বেঁচে যাবে।



ইনফোঃ
১)জলপাইগুড়ির জল হাওয়া
২) সাংবাদিক রুহুল আমিন  

৩)ব্রাম্মন বাড়ির চিঠি
৪) স্বৈরাচার বিরোধী আন্দালন ও মূল ধারার নেতৃত্ব

সিনহা থেকে ওয়াহাব মিয়া


হয়তো উনার জন্য ভিন্ন ফাঁদ আছে। যে ফাঁদের কারনে আওয়ামীলীগ ভাবছে ওয়াহাব স্যারকে নিয়ন্ত্রণে রাখা যাবে।

তবে আজ সময় খুব চ্যালেঞ্জিং। আওয়ামীলীগ ক্ষমতাতে থেকেও পচা, দুর্গন্ধ যুক্ত। নৈতিক ভরাডুবির পর কাঠামোগত পরাজয়ের মুখোমুখি হলে এদের অবস্থা ডিসেম্বর’ ১৬তে দেশের মুখোমুখি হওয়া দেশদ্রোহী-দের মত হতে পারে।
তাই যে কোন শক্ত স্নায়ু ও নূন্যতম বিবেকের মানুষ লীগের ফাঁদে পা দেবে না।
আওয়ামীলীগের পক্ষে-বিপক্ষে যাই হোক ওয়াহাব মিয়া’র নিয়োগ বিষয়ে কিছু অক্সিলারি ভার্ব কাজ করছে হয়তো। প্রশ্ন হচ্ছে ওয়াহাব মিয়ার পদাঙ্ক কাকে অনুসরণ করবে!
সুরেন্দ্র’বাবুকে নাকি খাইরুল কে?

প্রফেসনাল ইন্ট্রিগিটির কথা আসলে, উনার পদক্ষেপ আওয়ামীলীগ সরকারের বিরুদ্ধে যাবে। কারণ কোন বিচারক বিচার বিভাগ ও রাষ্ট্র কে রক্ষা করার মত ঐতিহাসিক সুযোগ হারাতে চাইবে না। প্রফেশনাল চোখে সঠিক দায়িত্ব পালন করে বিচারপতি সাহাবুদ্দিন আহাম্মেদের নামের পাশে নিজেকে স্থাপন করার সুযোগ বারবার আসে না। সিনহা সাহেব হয়তো রেকর্ডের পথ খুঁজে নেবার প্রায়শ্চিত্তে আজ ক্যান্সারে আক্রান্ত হলেন!!
দ্বিতীয়ত যদি ধরে নেওয়া হয় উনি ব্যাক্তি স্বার্থে অন্ধ, তাতেও আওয়ামীলীগের আশার গুড়ে বালি।
কারণ আজকের ঘৃণিত আওয়ামীলীগ আজ বা কাল পরাজয়ের মুখে পরবেই। সেক্ষেত্রে এক্সপায়ার্ড মালের চেয়ে ওভেন ফ্রেস উত্তম।
তাই দীর্ঘ মেয়াদী ব্যক্তি স্বার্থ দেখতে হলে ব্যক্তিকে আওয়ামী বিরোধী হতে হবে এমন নয়। বরং নূন্যতম হুশ জ্ঞান থাকা যথেষ্ট।

আমরা বাংলাদেশের মানুষেরা আলগা/অন্যায় সমর্থন নিয়ে কার্য হাসিল চাই না। আমরা খুব সিম্পল ন্যায্যতা চাই। নিরপেক্ষ ন্যায্যতার ভেতর ভোটাধিকার টুকু ফেরত পেলেই চির কৃতজ্ঞ হব।
এক্ষেত্রে নতুন জন, খাইরুল বা মানিকের প্রেতাত্মা না হলেই বেঁচে যাবে প্রিয় মাতৃভূমি।

ইফতেখার
১০ অক্টোবর ২০১৭
বসুন্ধারা 




শুক্রবার, ২৯ সেপ্টেম্বর, ২০১৭

বৃষ্টির গান




এমনি বরষা ছিল সেদিন
শিয়রে প্রদীপ ছিল মলিন
তব হাতে ছিল অলস বীন
মনে কি পরে প্রিয়

আমি শুধানু তোমায় বল দেখি
কোনদিন ও মোরে ভুলিবে কি
আঁখিপাতে বারি দুলিবে কি
আমার তরে প্রিয়

মোর হাতখানি ধরে কহিলে হায়
মন দিয়ে মন ভোলা কি যায়
কাঁদিবে আকাশ মোর ব্যথায়
বাদল ও ঝরে প্রিয়

হায় তুমি নাই বলে মোর সাথে
তাই কি বিরহ বরষাতে
এত বারিধারা আজ রাতে
অঝোরে ঝরে প্রিয়

শুক্রবার, ২৮ জুলাই, ২০১৭

বাসন্তী- সব কবিতার খাতা


বাসন্তী

---কাজী নজরুল ইসলাম।

.
কুহেলীর দোলায় চ'ড়ে
এলো ঐ কে এলো রে?
মকরের কেতন ওড়ে
শিমুলের হিঙুলে বনে।
পলাশের গেলাস - দোলা
কাননের রংমহলা,
ডালিমের ডাল উতলা
লালিমার আলিঙ্গনে।।
.
না যেতে শীত - কুহেলী
ফাগুনের ফুল - সেহেলি
এলো কি? রক্ত - চেলী
করেছে বন উজালা।
ভুলালি মন ভুলালি
ওলো ও শ্যাম - দুলালী
তমালে ঢাললি লালী
নীলিমার লাল দেয়ালা।।
.
ওলো এ ব্যস্ত - বাগীশ
মাধবের নকল - নবীশ
মধুরাত নাই হ'তে-- ইস্
মাধবীর কুঞ্জে হাজির !
বলি ও মদন - মোহন !
না যেতে শীতের কাঁপন
এলে যে, থালায় এখন
ভরিনি কুমকুম আবীর।।
.
হা - রা - রা হোরীর গীতে
মাতি নি আজও শীতে
অধরের পিচকিরিতে
পুরিনি গানের হিঙুল।
গাহে নি কোয়েল সখি--
'মর লো গরল ভখি !'
এখনি শ্যাম এলো কি
আসেনি অশোক শিমুল।।
.
ওলো দ্যাখ্ শ্যামের পিছে
এসেছে কে এসেছে
দুলে কার চেলীর লালী !
তখনি বলেছি ভাই
আমাদের এ মান বৃথাই,
এলে শ্যাম আসবেনই রাই--
শ্রীমতী শ্যাম্ দুলালী।।
.
পউষের রিক্ত শাখায়
বঁধূ যেই বংশী বাজায়
নীল বন লাল হয়ে যায়
ফুলে হয় ফুলেল আকাশ।
এলে শ্যাম বংশী - ধারী
গোপনের গোপ - ঝিয়ারী
ফুল সব শ্যাম - পিয়ারী
ভুলে যায় ছার গেহ - বাস।।
.
সাতাসে - মাঘ - বাতাসে
যদি ভাই ফাগুন আসে
আঙনে রঙন হাসে
আমাদের সেই তো হোরি !
শ্রীমতীর লাল কপোলে
দোলে লো পলাশ দোলে
পায়ে তার পদ্ম ড'লে
দে লো বন আলা করি।।    
  
   

তোমার বাণীরে করিনি গ্রহণ ক্ষমা কর হজরত



তোমার বাণীরে করিনি গ্রহণ ক্ষমা কর হজরত।

মোরা    ভুলিয়া গিয়াছি তব আদর্শ, তোমারি দেখানো পথ ॥

    বিলাস-বিভব দলিয়াছ পায় ধূলি সম তুমি, প্রভু,
    তুমি চাহ নাই আমরা হইব বাদশা-নবাব কভু।
    এই ধরণীর ধন-সম্ভার - সকলেরি তাহে সম অধিকার;
    তুমি বলেছিলে ধরণীতে সবে সমান পুত্র-বৎ ॥
প্রভু    তোমার ধর্মে অবিশ্বাসীরে তুমি ঘৃণা নাহি ক’রে
    আপনি তাদের করিয়াছ সেবা ঠাঁই দিয়ে নিজ ঘরে।
    ভিন্ ধর্মীর পূজা-মন্দির, ভাঙিতে আদেশ দাওনি, হে বীর,
প্রভু    আমরা আজিকে সহ্য করিতে পারিনে’ক পর-মত ॥
    তুমি চাহ নাই ধর্মের নামে গ্লানিকর হানাহানি,
    তলোয়ার তুমি দাও নাই হাতে, দিয়াছ অমর বাণী।
    মোরা ভুলে গিয়ে তব উদারতা
    সার করিয়াছি ধর্মন্ধতা,
    বেহেশ্‌ত্‌ হ’তে ঝরে নাকো আর তাই তব রহমত ॥





                                                    "দৃষ্টি তে আর হয় না সৃষ্টি আগের মত
গোলাপ ফুল,
কথায় সুরে ফুল ফোটাতাম- হয় না এখন আর
সে ফুল । বাসি হাসির মালা নিয়ে,
কি হবে নওরোজে গিয়ে?
চাঁদ না দেখে আঁধার রাতে-
বাঁধে কি গো এলোচুল! আজ দখিন হাওয়া ফাগুন আনে, বুলবুলি নাই
গুলিস্তানে,
দোলে না আর চাঁদ কে দেখে-
বনে দোলনচাঁপার ফুল । কি হারালো নাই কি যেন, মন হয়েছে এমন
কেনো?
কোন নিদয়ের পরশ লেগে- হয় না হৃদয় আর
ব্যকুল! দৃষ্টিতে আর হয় না সৃষ্টি আগের
মতো গোলাপ ফুল,
কথায় সুরে ফুল ফোটাতাম হয় না এখন আর
সে ফুল ।"  









শাতিল্ আরব! শাতিল্ আরব!! পূত যুগে যুগে তোমার তীর।
শহীদের লোহু, দিলীরের খুন ঢেলেছে যেখানে আরব-বীর!
          যুঝেছে এখানে তুর্ক-সেনানী,
          য়ুনানী, মেসরী, আরবী, কেনানী ; —
লুটেছে এখানে মুক্ত আজাদ্ বেদূঈনদের চাঙ্গা শির!
                                                 নাঙ্গা-শির্—
শমশের হাতে আঁশু-আঁখে হেথা মূর্ত্তি দেখেছি বীর-নারীর!
শাতিল্ আরব! শাতিল আরব!! পূত যুগে যুগে তোমার তীর।

          “কূত্-আমারা”র রক্তে ভরিয়া
          দজ্লা এনেছে লোহুর দরিয়া ;
উগরি’ সে খুন তোমাতে দজ্লা নাচে ভৈরব মাস্তানী’র
                                                 ত্রস্তা-নীর
গর্জ্জে রক্ত-গঙ্গা ফোরাত, — “ শাস্তি দিয়েছি গোস্তাখীর!”
দজ্লা-ফোরাত-বাহিনী শাতিল্! পূত যুগে যুগে তোমার তীর!

          বহায়ে তোমার লোহিত বন্যা
          ইরাক্ আজমে ক’রেছ ধন্যা,
বীর-প্রসূ দেশ হ’ল বরেণ্যা মরিয়া মরণ মর্দ্দমীর!
                                                 মর্দ্দ বীর
সাহারায় এরা ধুঁকে মরে তবু পরে না শিকল পদ্ধতির!
শাতিল্ আরব! শাতিল আরব!! পূত যুগে যুগে তোমার তীর।

          দুশমন-লোহু ঈর্শায়-নীল
          তব তরঙ্গে করে ঝিল্-মিল্,
বাঁকে বাঁকে রোষে মোচোড় খেয়েছে পিয়ে নীল খুন পিণ্ডারীর!
                                                 জিন্দা বীর
“জুলফিকার” আর “হায়দরী” হাঁক হেথা আজো হজরত আলীর—
শাতিল্ আরব! শাতিল আরব!! জিন্দা রেখেছে তোমার তীর।

          ললাটে তোমার ভাস্কর টীকা
          বসরা-গুলের বহ্নিতে লিখা ;
এ যে বসোরার খুন-খারাবী গো রক্ত-গোলাপ-মঞ্জরীর!
                                                খঞ্জরীর
খঞ্জরে ঝরে খর্জ্জুর সম হেথা লাখো দেশ-ভক্ত শির!
শাতিল্ আরব! শাতিল আরব!! পূত যুগে যুগে তোমার তীর!

          ইরাক্-বাহিনী! এ যে গো কাহিনী,—
          কে জানিত কবে বঙ্গ-বাহিনী
তোমারও দুঃখে “জননী আমার!” বলিয়া ফেলিবে তপ্ত নীর!
                                                রক্ত-ক্ষীর—
পরাধীনা! একই ব্যথায় ব্যথিত ঢালিল দু’ফোঁটা ভক্ত-বীর!
শহীদের দেশ! বিদায়! বিদায়!! এ অভাগা আজ নোয়ায় শির!   



  


বন্ধুগণ,

আপনারা যে সওগাত আজ হাতে তুলে দিলেন, আমি তা মাথায় তুলে নিলুম। আমার সকল তনু-মন-প্রান আজ বীণার মত বেজে উঠেছে। তাতে শুধু একটি মাত্র সুর ধ্বনিত হয়ে উঠেছে

“আমি ধন্য হলুম”, “আমি ধন্য হলুম”।
আমায় অভিনন্দিত আপনারা সেই দিনই করেছেন, যেদিন আমার লেখা আপনাদের ভাল লেগেছে। বিংশ শতাব্দীর অসম্ভবের সম্ভাবনার যুগে আমি জন্ম গ্রহণ করেছি। এরই অভিযান সেনাদলের তূর্য্যবাদকের একজন আমি- এই হোক আমার সবচেয়ে বড় পরিচয়। আমি এই দেশে, এই সমাজে জন্মেছি বলে, শুধু এই দেশেরই, এই সমাজেরই নই; আমি সকল দেশের, সকল মানুষের। কবি চায় না দান, কবি চায় অঞ্জলি। কবি চায় প্রীতি। কবিতা আর দেবতা সুন্দরের প্রকাশ। সুন্দরকে স্বীকার করতে হয়, যা সুন্দর তাই দিয়ে। সুন্দরের ধ্যান, তাঁর স্তবগানই আমার ধর্ম। তবু বলছি, আমি শুধু সুন্দরের হাতে বীণা, পায়ে পদ্মফুলই দেখিনি, তাঁর চোখে চোখ ভরা জলও দেখেছি। শ্মশানের পথে, গোরস্তানের পথে তাঁকে ক্ষুধাদীর্ণ মুর্তিতে ব্যাথিত পায়ে চলে যেতে দেখেছি। যুদ্ধভূমিতে তাঁকে দেখেছি। কারাগারের অন্ধভূমিতে তাঁকে দেখেছি। ফাঁসির মঞ্চে তাঁকে দেখেছি।  


আমাকে বিদ্রোহী বলে খামখা লোকের মনে ভয় ধরিয়ে দিয়েছেন কেউ কেউ। এ নিরীহ জাতটাকে আঁচড়ে-কামড়ে তেড়ে নিয়ে বেড়াবার ইচ্ছা আমার কোনদিনই নেই। আমি বিদ্রোহ করেছি, বিদ্রোহের গান গেয়েছি, অন্যায়ের বিরুদ্ধে, অত্যাচারের বিরুদ্ধে, যা মিথ্যা-কলুষিত-পুরাতন-পঁচা সেই মিথ্যা সনাতনের বিরুদ্ধে। ধর্মের নামে ভন্ডামি ও কুসংস্কারের বিরুদ্ধে।  


কেউ বলেন আমার বাণী যবন, কেউ বলেন কাফের। আমি বলি, ও দু’টোর কোনটাই নয়। আমি কেবলমাত্র হিন্দু-মুসলমানকে এক জায়গায় ধরে এনে হ্যান্ডশেক করাবার চেষ্টা করেছি; গালাগালিকে গলাগলিতে পরিণত করার চেষ্টা করেছি। সে হাতে হাত মিলানো যদি হাতাহাতির চেয়ে অশোভনীয় হয়ে থাকে, তাহলে ওরা আপনি আলাদা হয়ে যাবে। আমার গাঁটছড়ার বাঁধন কাটতে তাদের কোন বেগ পেতে হবে না। কেননা, একজনের হাতে আছে লাঠি, আরেকজনের আস্তিনে আছে চুরি । হিন্দু-মুসলমানে দিনরাত হানাহানি, জাতিতে জাতিতে বিদ্বেষ, যুদ্ধ-বিগ্রহ ।মানুষের জীবনে এক দিকে কঠোর দারিদ্র-ঋণ-অভাব; অন্যদিকে লোভী অসুরের যক্ষের ব্যাংকে কোটি কোটি টাকা পাষাণ স্তুপের মত জমা হয়ে আছে। এ অসাম্য ভেদজ্ঞান দূর করতেই আমি এসেছিলাম। আমার কাব্যে সংগীতে কর্মজীবনে অভেদ ও সুন্দর সাম্যকে প্রতিষ্ঠিত করেছিলাম। আমি যশ চাই না, খ্যাতি চাই না, প্রতিষ্ঠা চাই না, নেতৃত্ব চাই না। জীবন আমার যত দুঃখময়ই হোক, আনন্দের গান- বেদনার গান গেয়ে যাব আমি। দিয়ে যাব নিজেকে নিঃশেষ করে সকলের মাঝে বিলিয়ে। সকলের বাঁচার মাঝে থাকবো আমি বেঁচে। এই আমার ব্রত, এই আমার সাধনা, এই আমার তপস্যা।  


রবীন্দ্রনাথ আমায় প্রায়ই বলতেন,

”দ্যাখ উন্মাদ, তোর জীবনে শেলীর মত, কীটসের মত খুব বড় একটা ট্র্যাজেডী আছে, তুই প্রস্তুত হ’” 


জীবনে সেই ট্র্যাজেডী দেখবার জন্য আমি কতদিন অকারনে অন্যের জীবনকে অশ্রুর বরষায় আচ্ছন্ন করে দিয়েছি। কিন্তু, আমারই জীবন রয়ে গেল বিশুষ্ক মরুভূমির মত দগ্ধ। মেঘের উর্ধ্বে শূণ্যের মত কেবল হাসি, কেবল গান, কেবল বিদ্রোহ। 


আমার বেশ মনে পড়ছে। একদিন আমার জীবনের মহা অনুভূতির কথা। আমার ছেলে মারা গেছে। আমার মন তীব্র পুত্র শোকে যখন ভেঙে পড়ছে ঠিক সেই দিনই সেই সময় আমার বাড়িতে হাস্নাহেনা ফুটেছে। আমি প্রানভরে সেই হাস্নাহেনার গন্ধ উপভোগ করেছিলাম। আমার কাব্য, আমার গান আমার জীবনের সেই অভিজ্ঞতার মধ্য হতে জন্ম নিয়েছে। যদি কোনদিন আপনাদের প্রেমের প্রবল টানে আমাকে আমার একাকিত্বের পরম শূণ্য থাকে অসময়ে নামতে হয়, তাহলে সেদিন আমায় মনে করবেন না, আমি সেই নজরুল। সেই নজরুল অনেক দিন আগে মৃত্যুর খিড়কী দুয়ার দিয়ে পালিয়ে গেছে। মনে করবেন পুর্ণত্বের তৃষ্ণা নিয়ে একটি অশান্ত তরুণ এই ধরায় এসেছিল, অপূর্ণতার বেদনায় তারই বিগত আত্মা যেন স্বপ্নে আপনাদের মাঝে কেঁদে গেল।  


যদি আর বাঁশী না বাজে, আমি কবি বলে বলছি নে, আমি আপনাদের ভালবাসা পেয়েছিলাম, সেই অধিকারে বলছি, আমায় আপনারা ক্ষমা করবেন। আমায় ভুলে যাবেন। বিশ্বাস করুন, আমি কবি হতে আসি নি। আমি নেতা হতে আসি নি। আমি প্রেম দিতে এসেছিলাম, প্রেম পেতে এসেছিলাম। সে প্রেম পেলাম না বলে আমি এই প্রেমহীন নিরস পৃথিবী হতে নিরব অভিমানে চিরদিনের জন্য বিদায় নিলাম।যেদিন আমি চলে যাব, সেদিন হয়ত বা বড় বড় সভা হবে। কত প্রশংসা কত কবিতা বেরুবে হয়ত আমার নামে।   

দেশপ্রেমী,ত্যাগী,বীর,বিদ্রোহী- বিশেষনের পর বিশেষন,টেবিল ভেঙে ফেলবে থাপ্পর মেরে,বক্তার পর বক্তা। এই অসুন্দরের শ্রদ্ধা নিবেদনের প্রার্থ্য দিনে বন্ধু তুমি যেন যেও না। যদি পার চুপটি করে বসে আমার অলিখিত জীবনের কোন একটি কথা স্মরণ কোর। তোমার ঘরের আঙিনায় বা আশেপাশে যদি একটি ঝরা পায়ে পেষা ফুল পাও, সেইটিকে বুকে চেপে বোল বন্ধু আমি তোমায় পেয়েছি।  


"তোমাদের পানে চাহিয়া বন্ধু আর আমি জাগিব না,
কোলাহল করে সারা দিনমান কারো ধ্যান ভাঙিব না।
নিশ্চল নিশ্চুপ আপনার মনে পুড়িব একাকী গন্ধবিধুর ধূপ"



কাণ্ডারী হুশিয়ার! - কাজী নজরুল ইসলাম- সর্বহারা

কৃষ্ণনগর; ৬ই জ্যৈষ্ঠ, ১৩৩৩
দুর্গম গিরি কান্তার-মরু দুস্তর পারাবার
লঙ্ঘিতে হবে রাত্রি নিশীথে যাত্রীরা হুশিয়ার!
দুলিতেছে তরী, ফুলিতেছে জল, ভূলিতেছে মাঝি পথ,
ছিঁড়িয়াছে পাল, কে ধরিবে হাল, আছে কার হিম্মৎ?
কে আছ জোয়ান, হও আগুয়ান, হাঁকিছে ভবিষ্যত।
এ তুফান ভারী, দিতে হবে পাড়ি, নিতে হবে তরী পার!!

তিমির রাত্রি, মাতৃমন্ত্রী সান্ত্রীরা সাবধান!
যুগ-যুগান্ত সঞ্চিত ব্যথা ঘোষিয়াছে অভিযান!
ফেনাইয়া উঠে বঞ্চিত বুকে পুঞ্জিত অভিমান,
ইহাদের পথে, নিতে হবে সাথে, দিতে হবে অধিকার!!

অসহায় জাতি মরিছে ডুবিয়া, জানেনা সন্তরণ,
কান্ডারী! আজ দেখিব তোমার মাতৃমুক্তিপণ!
“হিন্দু না ওরা মুসলিম?” ওই জিজ্ঞাসে কোন জন?
কান্ডারী! বল ডুবিছে মানুষ, সন্তান মোর মা’র!

গিরি-সংকট, ভীরু যাত্রীরা, গুরু গরজায় বাজ,
পশ্চাৎ-পথ-যাত্রীর মনে সন্দেহ জাগে আজ
কান্ডারী! তুমি ভূলিবে কি পথ? ত্যজিবে কি পথ-মাঝ?
‘করে হানাহানি, তবু চল টানি’, নিয়াছ যে মহাভার!

কান্ডারী! তব সম্মুখে ঐ পলাশীর প্রান্তর,
বাঙ্গালীর খুনে লাল হ’ল যেথা ক্লাইভের খঞ্জর!
ঐ গঙ্গায় ডুবিয়াছে হায়, ভারতের দিবাকর
উদিবে সে রবি আমাদেরি খুনে রাঙিয়া পুনর্বার।

ফাঁসির মঞ্চে যারা গেয়ে গেল জীবনের জয়গান,
আসি’ অলক্ষ্যে দাঁড়ায়েছে তারা, দিবে কোন বলিদান?
আজি পরীক্ষা জাতির অথবা জাতের করিবে ত্রান?
দুলিতেছে তরী, ফুলিতেছে জল, কান্ডারী হুঁশিয়ার!




চলে যাওয়া মানে প্রস্থান নয়- বিচ্ছেদ নয়
চলে যাওয়া মানে নয় বন্ধন ছিন্ন-করা আর্দ্র রজনী
চলে গেলে আমারও অধিক কিছু থেকে যাবে
আমার না-থাকা জুড়ে।
জানি চরম সত্যের কাছে নত হতে হয় সবাইকে-
জীবন সুন্দর
আকাশ-বাতাস পাহাড়-সমুদ্র
সবুজ বনানী ঘেরা প্রকৃতি সুন্দর
আর সবচেয়ে সুন্দর এই বেঁচে থাকা
তবুও কি আজীবন বেঁচে থাকা যায়!
বিদায়ের সেহনাই বাজে
নিয়ে যাবার পালকি এসে দাঁড়ায় দুয়ারে
সুন্দর পৃথিবী ছেড়ে
এই যে বেঁচে ছিলাম
দীর্ঘশ্বাস নিয়ে যেতে হয়
সবাইকে
অজানা গন্তব্যে
হঠাৎ ডেকে ওঠে নাম না জানা পাখি
অজান্তেই চমকে ওঠি
জীবন, ফুরালো নাকি!


বাতাসে লাশের গন্ধ

রুদ্র মুহম্মদ শহীদুল্লাহ---সংকলিত (রুদ্র মুহম্মদ শহীদুল্লাহ)

আজো আমি বাতাসে লাশের গন্ধ পাইআজো আমি মাটিতে মৃত্যূর নগ্ননৃত্য দেখি,ধর্ষিতার কাতর চিৎকার শুনি আজো আমি তন্দ্রার ভেতরে…এ দেশ কি ভুলে গেছে সেই দু:স্বপ্নের রাত, সেই রক্তাক্ত সময় ?বাতাসে লাশের গন্ধ ভাসেমাটিতে লেগে আছে রক্তের দাগ।এই রক্তমাখা মটির ললাট ছুঁয়ে একদিন যারা বুক বেঁধেছিলো।জীর্ণ জীবনের পুঁজে তারা খুঁজে নেয় নিষিদ্ধ আধাঁর,আজ তারা আলোহীন খাঁচা ভালোবেসে জেগে থাকে রাত্রির গুহায়।এ যেন নষ্ট জন্মের লজ্জায় আরষ্ট কুমারী জননী,স্বাধীনতা – একি হবে নষ্ট জন্ম ?একি তবে পিতাহীন জননীর লজ্জার ফসল ?জাতির পতাকা খামচে ধরেছে আজ পুরোনো শকুন।বাতাশে লাশের গন্ধনিয়ন আলোয় তবু নর্তকীর দেহে দুলে মাংসের তুফান।মাটিতে রক্তের দাগ -চালের গুদামে তবু জমা হয় অনাহারী মানুষের হাড়এ চোখে ঘুম আসেনা। সারারাত আমার ঘুম আসেনা-তন্দ্রার ভেতরে আমি শুনি ধর্ষিতার করুণ চিৎকার,নদীতে পানার মতো ভেসে থাকা মানুষের পচা লাশমুন্ডহীন বালিকার কুকুরে খাওয়া বিভৎস্য শরীরভেসে ওঠে চোখের ভেতরে। আমি ঘুমুতে পারিনা, আমিঘুমুতে পারিনা…রক্তের কাফনে মোড়া – কুকুরে খেয়েছে যারে, শকুনে খেয়েছে যারেসে আমার ভাই, সে আমার মা, সে আমার প্রিয়তম পিতা।স্বাধীনতা, সে আমার – স্বজন, হারিয়ে পাওয়া একমাত্র স্বজন -স্বাধীনতা – আমার প্রিয় মানুষের রক্তে কেনা অমূল্য ফসল।ধর্ষিতা বোনের শাড়ী ওই আমার রক্তাক্ত জাতির পতাকা।