দিবাগত রাত ২০ অক্টোবর ছিল জাতীয় প্রেস ক্লাবের ৬৩ তম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকীঃ
আসুন দেখে নিই প্রেস ক্লাবের সাথে তথা মুক্ত গনমাধ্যমের বিকাশের সাথে শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান ও বেগম খালেদা জিয়ার সম্পর্ক কেমন ছিল ।
ইতিহাসের মাইনফিল্ডে নিরাপদে হাঁটার জন্য এখন প্রয়োজন মাইনগুলো নিষ্ক্রিয় করে দেওয়া, সে জন্য প্রয়োজন প্যান্ডোরার বাক্সগুলো পুরোপুরি খুলে ফেলা, জানতে হলে পড়তে হবে ।
জাতীয় প্রেস ক্লাব বাংলাদেশের
সাংবাদিকদের একটি মিলনসভা যা রাজধানী ঢাকা শহরের কেন্দ্রস্থলে তোপখানা রোডে
অবস্থিত দেশের একটি জাতীয় প্রতিষ্ঠান। ১৯৫৪ সালে এই ক্লাব প্রতিষ্ঠিত হয়।
এরপর থেকে এই ক্লাব বাংলাদেশের সাংবাদিক সমাজের গর্ব ও ঐক্যের উজ্জ্বল
প্রতীক হিসেবে দেশের গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার লড়াইয়ের অন্যতম কেন্দ্র হিসেবে
কাজ করে আসছে। প্রগতিশীল আন্দোলন, স্বৈরাচার বিরোধী সংগ্রাম ও স্বাধীনতা
যুদ্ধে ক্লাবের ভূমিকা অত্যন্ত গৌরবের।
১৯৫৪ সালে প্রায় ঢাকায় ১৮ তোপখানা রোডের ঐতিহাসিক লাল বাড়িতে প্রেস ক্লাবের জন্ম ও বেড়ে ওঠা। একসময় এ বাড়িতেই থাকতেন বিজ্ঞানী সত্যেন বোস। সেই লাল বাড়িটি এখন আর নেই। সেখানে নির্মিত হয়েছে নতুন ভবন। সাংবাদিকই শুধু নন, শিল্প-সাহিত্য, সংস্কৃতি ক্রীড়া অঙ্গনের বিশিষ্ট সব মানুষের মিলন কেন্দ্র হিসেবে উজ্জ্বল ঐতিহ্য রয়েছে এই ক্লাবের। প্রগতিশীল, গণতান্ত্রিক, স্বৈরাচারবিরোধী সব আন্দোলনে সাম্প্রদায়িকতার বিরুদ্ধে এবং মহান মুক্তিযুদ্ধে প্রেস ক্লাব ছিল অনন্য বলিষ্ঠ এক প্রতিষ্ঠান। এ প্রতিষ্ঠান এখনো সমাজের বঞ্চিত, শোষিত মানুষের প্রতিবাদের কেন্দ্র এবং প্রত্যাশার প্রতীক। বহুদলীয় গণতন্ত্রের চর্চা, পরমত সহিষ্ণুতার লালন, গোঁড়ামিমুক্ত ঋদ্ধ, আলোকিত সমাজ বিনির্মাণ ও প্রগতির অভিযাত্রায় এই প্রতিষ্ঠান সব সময়ই থেকেছে অগ্রণী।
স্বাধীনতার পর
তৎকালীন রাষ্ট্রপতি শেখ মুজিবুর রহমানের কাছে সাংবাদিকরা এই জায়গাটি প্রেস
ক্লাবের নামে বরাদ্দ চেয়েছিলেন;
কিন্তু তিনি তখন বলেছিলেন,
‘সচিবালয়ের প্রয়োজনে জায়গাটি সাংবাদিকদের দেয়া যাবে না।’
প্রেস ক্লাবের জন্য তিনি শিল্পকলা একাডেমীর জায়গার একটি অংশ দিতে রাজি হন। কিন্তু শিল্পকলা একাডেমীর কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এতে বাধা দেন। শেখ মুজিবুর রহমান প্রেস ক্লাবকে জায়গা দিতে সক্ষম হননি। অর্থাৎ ১৯৫৪ সালে প্রতিষ্ঠিত হলেও ১৯৭৫ সাল পর্যন্ত জাতীয় প্রেসক্লাব নিজের স্থায়ী ঠিকানা হয়ে উঠেনি ।
পরবর্তী সময়ে ১৯৭৬ সালে মেজর জেনারেল জিয়াউর রহমান ক্ষমতায় আসার পর সাংবাদিকরা বিষয়টি তাঁর নজরে আনলে তিনি প্রেস ক্লাব পরিদর্শনে আসেন। ১৯৭৮ সালে শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান জাতীয় প্রেস ক্লাবের বর্তমান জায়গা (১.১২ একর) ৩০ বছরের জন্য বন্দোবস্ত দেন। ১৯৭৮ সালে বাংলাদেশ সরকারের আমন্ত্রণে শিয়া ইসমাইলি মুসলমানদের ৪৯তম ইমাম এবং আগা খান উন্নয়ন নেটওয়ার্কের (একেডিএন) প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান প্রিন্স করিম আগা খান বাংলাদেশে আসেন এবং সাংবাদিকদের সাথে এক মতবিনিময় সভায় প্রেসক্লাবের ভবন নির্মাণে অর্থ সাহায্যের ঘোষনা দেন ।
কিন্তু সে কথা জানতে পেরে প্রেসিডেন্ট জিয়া
প্রেস ক্লাব কর্র্তৃপক্ষকে ডেকে নিয়ে জানিয়ে দেন, প্রেস ক্লাব জাতীয়
প্রতিষ্ঠান। রাষ্ট্রের টাকায় এই জাতীয় প্রতিষ্ঠানের ভবন নির্মিত হবে,
বিদেশীদের টাকায় নয়। ফলে প্রিন্স আগা খানের টাকা আর নেয়া হয়নি। ১৯৭৯ সালের
১৭ ফেব্রুয়ারি ক্লাবের এই ভবনের ভিত্তিপ্রস্তুরও স্থাপন করেন প্রেসিডেন্ট
জিয়াউর রহমান এবং নতুন ভবন নির্মাণের জন্য প্রেস ক্লাবকে দেয়া হয় ২৫ লাখ
টাকা । তখন প্রেস ক্লাবের সভাপতি ছিলেন দৈনিক ইত্তেফাকের তৎকালীন সম্পাদক
এবং বর্তমান পরিবেশ ও বনমন্ত্রী আনোয়ার হোসেন মঞ্জু।
২০০৪ সালের ২০ অক্টোবর প্রেস ক্লাবের ৫০ বছর অর্থাৎ সুবর্ণজয়ন্তীর অনুষ্ঠানে যোগ দেন তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া। তিনি ক্লাবের বহুতল মিডিয়া কমপ্লেক্স ভবনের ভিত্তিপ্রস্তুর স্থাপন করেন, যা নির্মাণের অপেক্ষায়। ঐ অনুষ্ঠানে বেগম খালেদা জিয়া প্রেসক্লাবের দখলে থাকা বাকি জায়গা (দশমিক ৮৯ একর) প্রেসক্লাবের নামে বরাদ্ধ দেওয়ার সাথে ক্লাবের সম্পূর্ণ দুই একরেরও বেশি জায়গাটি ৯৯ বছরের জন্য স্থায়ী লীজ করে দেয়ার ঘোষণা দেন। পরবর্তীতে পুরো জায়গাটি ৯৯ বছরের জন্য মাত্র ১ লাখ ১ টাকায় নামমাত্র মূল্যে প্রেস ক্লাবের নামে স্থায়ীভাবে দলিল করে দেন।
এই ভাবেই বাংলাদেশের
সাংবাদিকদের মিলনসভা “জাতীয় প্রেস ক্লাব” শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান
এবং সাবেক প্রধানমন্ত্রী দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার হাত ধরেই নিজেস্ব
স্থায়ী ঠিকানা সমেতে নিজেস্ব ভবন পেয়েছে ।
আজ নিয়তির বরপুত্র অথবা
কর্মের সফল পুরুষ জিয়াউর রহমানকে যে আসনে বসিয়েছে তা অনেকেরই মনব্যথার
কারণ। তারা এখনও জিয়াউর রহমানকে অথবা তাঁর রেখে যাওয়া আদর্শকে তাদের জন্য
সবচেয়ে বড় হুমকি মনে করেন এবং এ কারণে লাখ লাখ মানুষের শ্রদ্ধার্ঘ্য
নিবেদনের পর সমাহিত এই মানুষটিকে নিয়ে মাথাব্যথার যেন অন্ত নেই। তাই এখনও
তার চরিত্র হননের প্রচেষ্টায় একটি মহলে বিশেষভাবে সক্রিয়; যেমনটি তৎপর
ছিল পূর্বেও। সেদিন শহীদ জিয়া যাদের চোখে ছিলেন দেবদূত তুল্য, তারাই
স্বার্থের কারণে অকৃতজ্ঞ হয়ে চরিত্র হরণের চেষ্টা চালায় এই মহান নেতার।
তবুও সবার মনে রাখা উচিত, ক্ষমতার জোর দিয়ে কোন মহান ব্যক্তিত্বের
চেতানাকে তাঁর ভালোবাসার মানুষগুলোর মন থেকে বিলীন করে দেয়া যায় না।
জিয়াউর রহমান আদর্শ হিসেবে শুধু বাংলাদেশে নয়, দুনিয়ার নিপীড়িত জনগণের জন্য
একটি প্রেরণার উৎস হয়ে তিনি বেঁচে থাকবেন কেয়ামত পর্যন্ত।











