বুধবার, ১০ জুন, ২০১৫

সৈয়দ বংশের বাত্তি

কোন বংশের ছাওয়াল তুমি?
বৃক্ষ তোমার নাম কি?

৩০০ মিলিয়ন ডলারের প্রশ্ন।

মানুষ যখন নিজের নামের প্রতি ভড়সা হারিয়ে ফেলে তখন তাকে বংশ পরিচয়ের মুখাপেক্ষী হতেই হয়। ১৪ পুরুষের নাম বেঁচে টিকে থাকার লড়াই চালাতে হয়,  ১৪ পুরুষ ইতিহাসের সাক্ষী গোপাল হতে হয়।

দুনিয়া জোড়া বিখ্যাত ফ্যামিলি টাইটেল হচ্ছে  "আগা" ফ্যামেলী।
আমরা যাদের আগাখান বলে চিনি এবং জানি।

মুসলিম (শিয়া) বিশ্বের এরাই সম্ভবত একমাত্র বংশগৌরব যারা জিউস দের সাথে সমানে সামানে ফাইট দিয়ে চলেছে প্রায় সর্বক্ষেত্রে।

ব্যাবসা, বানিজ্য, দান, অনুদান, ফাঁকিবাজি,অস্ত্রবাজি,  অস্ত্র ব্যাবসা অথবা সর্বচ্চ পেইড ট্যাক্স ; এঁদের ভেতর টক্কর চলে বছরভর।

আগা"দের চেনার জন্য সহজ ঊধাহরন দেই।

ঢাকাতে অবস্থিত "আগাখান ইন্টারন্যাসনাল স্কুল" এবং অর্থনৈতিক প্রতিষ্ঠান IPDLC এইগুলি আগাদের প্রতিষ্ঠান।

বাংলাদেশের বাংলাসিনেমা এখনো চৌধুরী যুগ পার করতে পারে নাই।বোম্বেতে কাপূর টাইটেল মানেই মাস্টার ব্লাস্টার নায়িকার কাপড় খোলার হট কেক টিকিট।

আরবের শেখ ফ্যামেলির নাম তো শুনেছেন সবাই।

এই আরবের কুরায়েশ বংশ যেমন মুর্তি পুজা এবং অনাচারের মূল হোতা ছিল তেমনি এখান থেকে জন্ম নেওয়া মেষের রাখাল তাবত মানবতার পৃষ্ঠপোষক ছিলেন।

বৃটিশ সিংহাসনে উত্তরাধিকার কক্ষনো রাজপরিবার বংশের বাইরের কেও হতে পারবে না। অন্যান্য ইউরোপিয়ান রাজ-পরিবার গুলির ক্ষেত্রেও নিয়মের কোন এধার ওধার নেই।

আবার রাষ্ট্রীয় বংশ বলেও কিছু একটা টের পাওয়া যায়।

আইএমএফ বা ইউএন  এর প্রধানের পদ কক্ষনো নির্দিষ্ট কিছু দেশের পদলোহন ছাড়া পাওয়া যায় না।

চক্রবর্তি থেকে পোদ্দার বা জোয়ার্দার এরা সবাই বংশগতিবিদ্যার উজ্জ্বল অনুশীলন।

নেপালের বিখ্যাত গূর্খা উপজাতিদের কথা অনেকেই জানেন।যুদ্ধ বিদ্যাতে এঁদের টেক্কা দেবার মত আর কেও এই দুনিয়াতে পয়দা হয় নাই।

গুর্খাদের সাহস, শৌর্যবীর্য এবং রনকৌশল অদ্বিতীয়।

দুনিয়ার বুকে আজো অনেক সুপার পাওয়ার আছে যারা তাদের সামরিক বাহীনিতে প্রবাসী গুর্খাদের নিয়ে আলাদা সামরিক রেজিমেন্ট তৈরি করেছে। গত তিন বছরে একজন মাত্র গুর্খা স্নাইপারের হাতে ২৬০ জন আল কায়েদা খতম হয়েছে।

আজ থেকে মাত্র ১০ বছর আগে বৃটিশ আর্মির গূর্খা রেজিমেন্ট কে একীভূত করে পৃথক গূর্খা রেজিমেন্ট ভেংগে দেওয়া হয়।

আরব দেশের আরেক বিখ্যাত বংশ "সৈয়দ" বংশ।

আমাদের দেশেও এই বংশের কদর অনেক। মান মর্যাতাতে উচু দেশি সৈয়দদের একটা বড় অংশ এই দেশে এসেছিন ধর্মপ্রচারের উদ্দেশ্যে, জাত-পাত আক্রান্ত ভারতীয় উপমহাদেশে সৈয়দদের শান্তির বানী মানুষদের উপকৃত করেছিল

রুট কানেকশন এবং ঐতিহ্য  অনেক শক্তিশালী  হওয়াতে একটা সময় আরবে সৈয়দ বংশের প্রাদূর্ভাব শুরু হয়।

ডানে সৈয়দ, বামে সৈয়দ, ঘড়ে সৈয়দ,  বাইরে সৈয়দ.. সৈয়দ সৈয়দ আর সৈয়দময়..

চুরি চামারী থেকে শুরু করে যৌতুক গ্রহণ, ব্যাভিচার, ডাকাতি, মহাজনী, সুদের কারবার  সব কিছুতেই দেখা গেল সৈয়দ বংশীয়রা জড়িয়ে পরছে বা সৈয়দদের নাম ব্যাবহার করা হচ্ছে।

এমন সময় সৌদি প্রশাসন শুদ্ধী অভিজান চালানোর সিদ্ধান্ত গ্রহন করে।

ঘোষনা  আসে জুম্মার দিনে বিশেষ মাঠে, সকল সৈয়দ একত্রীত হবে সব সৈয়দ বিশেষভাবে প্রস্তুত আগুনের গোলকের ভেতর দিয়ে লাফ দেবে। অনেকটা সার্কাসপার্টির ফায়ার জাম্পের মত।

সৈয়দদের ওপর আল্লার আদ্ধাত্মিক আনুকুল্য আছে তাই আগুনের গোলকে তাদের কোন ক্ষতি হবে না। এপার থেকে অন্য পারে লাফ দেবার পরেও,  আইরন করা জিব্বাতে ভাজ পড়বে না।

নির্দিষ্ট দিনে দেখা গেলো অর্ধেকের বেশী সৈয়দ মাঠে অনুপস্থীত। বেত্রাঘাতের ভয়ে, আগুনে ঝলসানোর ভয়ে পাগারপার..

যারা অগ্নি গোলক খেলতে আসে নাই তাদের আর কক্ষনোই আরবের মাটিতে দেখা যায়নি..

এভাবেই আরবে জেনেটিক্যালি শুদ্ধ সৈয়দ প্রতিষ্ঠালাভ করে।

বাদবাকি পলাতক সৈয়দদের  একজন সব্যসাচী  উত্তর পুরুষকে খুব সম্প্রতি ঢাকাতে পাওয়া গিয়েছে।

তিনি নিশিদ্ধ লোবানে দেশরত্ন উত্তপ্ত করছিলেন।

৭১ এই সৈয়দ, দ্বিতীয় বারও নাকি জান বাঁচাতে অগ্নি গোলকে ঝাপ না দিয়ে জেনারেল জামসেদের কোলে ঝাপ দিয়ে জান বাচিয়ে ছিলেন।

এবার অবশ্য এত পরীক্ষা, নীরিক্ষা, ঝাক্কি ঝামেলা নেই। পোষ্যবর্গ কিছু লালশালু ডেড বডি শহীদ মিনারে আড়াআড়ি রেখে পাক আর্মির ঘনিষ্ট, সৈয়দ হককে মুক্তিযুদ্ধে লঘিষ্ঠ কিছু উৎছিষ্ট ভোগীর দল সটান হয়ে কিরামুন কাতেবিনের নোট খাতাতে লেখা,  ভাগ্য রেখে উলটে পালটে দেবেন।

কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন