বুধবার, ১০ জুন, ২০১৫

হাসিলেন মুজতবা আলী

প্রথমত
রম্য লেখক মুজতবা আলী একজন দেশদ্রোহী ছিলেন।

বৃটিশ লর্ডের পোষা কুকুর একবার একটা কম পা নিয়ে লেংচে লেংচে সৈয়দ সাহেবের স্কুলে পদধুলী দিয়েছিল।

সৈয়দ সাহেব সেই বিশিষ্ঠ কুকুরের পা চাপাকলের পানি দিয়ে ধুয়ে না দিয়ে বরঞ্চ ছাত্রদের কাছে গ্বল্প দিয়েছিলেন যে কুকুরের কয় পায়ের সমান তার লাইফ স্টাইল ; সেই ব্যাখ্যা দিয়ে।

মুজতবা সাহেবের সেই গানিতিক ব্যাখ্যা সাঠিক ছিল।

অন্যদিকে
প্রচলিত আছে নবাবী আমলে ভূখা-নাংগা দেখলে শাহাজাদী বেগম সাহেবানরা নসিকা কুঞ্চন করতেন।

ভাতের অভাব থাকলে শাহি মোগলাই, কাচ্চি খাবার পরামর্শ দিতেন।

ভূখানাংগা দের ভেতর যারা বহুমুত্র  রোগে আক্রান্ত ছিলেন তাদের মোরগ পোলাও খাবার ফরমান দিতেন (!)

তৃতীয়ত
আগের ব্রাম্মন  সমাজের প্রায় সব্বাই প্রকাশ্যে ভেজিটেরিয়ান ছিলেন।

তবে কাশি, মথুরা, বৃন্দাবনের পথে যাত্রা নিলে যাত্রা কালিন সময়ে কাক মাংস ভগবানের ভোগে দিয়ে আহার করতে পারতেন।

তাতে দোষ হতো না।পূন্যী অর্জন হতো।

আবার
মসজিদ,  মাদ্রাসা,  এতিমখানা প্রভৃতি,র জন্য রাস্তাঘাটে,  বাসে দান বাক্স থাকে।

যৌনকেশ জন্মানোর আগেই দাড়ি গজিয়ে ওঠা কিশোর ছেলে থেকে শুরু করে ৭০ উর্ধ বৃদ্ধ সবাই টাকা তোলে আপনার পাপের ভারী খাতা হালকা করার জন্য।

যদি বীচিতে চিপা দিয়ে ঠিকঠাক ফাপর  দিতে পারেন তাহলে জানতে পারবেন চাঁন্দা তোলা টাকার ৫০% মাদ্রাসা মার্কেটিং এর লোকের ২০% গলির মাথার মাস্তানের, ৫% হুজুরের আর বাদবাকি ২৫% এর একশ ভাগ মাদ্রাসা বা এতিমখানার দরিদ্র ছেলে মেয়েদের জন্য।

বাংলাদেশের বড় হুজুরের বাৎসরিক আপ্যায়ন খরচ ৭ কোটি ৮০ লাখ টাকা অর্থাৎ দৈনিক প্রায় ২লাখ ১৩ হাজার ৩৮০ টাকা।

আমাদের #বিবাহিতব্যাচেলর ভায়ের কিডনি ট্রান্সপ্লান্ট করতে আরো দরকার ১২ লাখ টাকা।

তাহলে বড় হুজুরের এক বছরের নাস্তা বিল দিয়ে #বিবাহিতব্যাচেলর ভায়ের কয়টা কিডনী ট্রানসপ্লান্ট করা যাবে?

একজন নিস্পাপ শিশু,র বাবার কোলে আশ্রয় চেয়ে নেবার নিশ্চয়তা  নিশ্চয় ৩০০ মিলিয়ন ডলার ম্যানের ১৯ দফা নিরাপত্তার চেয়ে খুব বেশী ছোট নয়।

দুই কান্ধে বসিয়া আছে কেরামুন, কাতেবীন।

এঁদের কোন একজন অনেক বেশী ক্লান্ত। হিসাবের বাঠখারা অনেক ভারী হয়ে এসেছে।

ক্ষমা  পাবেন কি আদৈ!

সৈয়দ বংশের বাত্তি

কোন বংশের ছাওয়াল তুমি?
বৃক্ষ তোমার নাম কি?

৩০০ মিলিয়ন ডলারের প্রশ্ন।

মানুষ যখন নিজের নামের প্রতি ভড়সা হারিয়ে ফেলে তখন তাকে বংশ পরিচয়ের মুখাপেক্ষী হতেই হয়। ১৪ পুরুষের নাম বেঁচে টিকে থাকার লড়াই চালাতে হয়,  ১৪ পুরুষ ইতিহাসের সাক্ষী গোপাল হতে হয়।

দুনিয়া জোড়া বিখ্যাত ফ্যামিলি টাইটেল হচ্ছে  "আগা" ফ্যামেলী।
আমরা যাদের আগাখান বলে চিনি এবং জানি।

মুসলিম (শিয়া) বিশ্বের এরাই সম্ভবত একমাত্র বংশগৌরব যারা জিউস দের সাথে সমানে সামানে ফাইট দিয়ে চলেছে প্রায় সর্বক্ষেত্রে।

ব্যাবসা, বানিজ্য, দান, অনুদান, ফাঁকিবাজি,অস্ত্রবাজি,  অস্ত্র ব্যাবসা অথবা সর্বচ্চ পেইড ট্যাক্স ; এঁদের ভেতর টক্কর চলে বছরভর।

আগা"দের চেনার জন্য সহজ ঊধাহরন দেই।

ঢাকাতে অবস্থিত "আগাখান ইন্টারন্যাসনাল স্কুল" এবং অর্থনৈতিক প্রতিষ্ঠান IPDLC এইগুলি আগাদের প্রতিষ্ঠান।

বাংলাদেশের বাংলাসিনেমা এখনো চৌধুরী যুগ পার করতে পারে নাই।বোম্বেতে কাপূর টাইটেল মানেই মাস্টার ব্লাস্টার নায়িকার কাপড় খোলার হট কেক টিকিট।

আরবের শেখ ফ্যামেলির নাম তো শুনেছেন সবাই।

এই আরবের কুরায়েশ বংশ যেমন মুর্তি পুজা এবং অনাচারের মূল হোতা ছিল তেমনি এখান থেকে জন্ম নেওয়া মেষের রাখাল তাবত মানবতার পৃষ্ঠপোষক ছিলেন।

বৃটিশ সিংহাসনে উত্তরাধিকার কক্ষনো রাজপরিবার বংশের বাইরের কেও হতে পারবে না। অন্যান্য ইউরোপিয়ান রাজ-পরিবার গুলির ক্ষেত্রেও নিয়মের কোন এধার ওধার নেই।

আবার রাষ্ট্রীয় বংশ বলেও কিছু একটা টের পাওয়া যায়।

আইএমএফ বা ইউএন  এর প্রধানের পদ কক্ষনো নির্দিষ্ট কিছু দেশের পদলোহন ছাড়া পাওয়া যায় না।

চক্রবর্তি থেকে পোদ্দার বা জোয়ার্দার এরা সবাই বংশগতিবিদ্যার উজ্জ্বল অনুশীলন।

নেপালের বিখ্যাত গূর্খা উপজাতিদের কথা অনেকেই জানেন।যুদ্ধ বিদ্যাতে এঁদের টেক্কা দেবার মত আর কেও এই দুনিয়াতে পয়দা হয় নাই।

গুর্খাদের সাহস, শৌর্যবীর্য এবং রনকৌশল অদ্বিতীয়।

দুনিয়ার বুকে আজো অনেক সুপার পাওয়ার আছে যারা তাদের সামরিক বাহীনিতে প্রবাসী গুর্খাদের নিয়ে আলাদা সামরিক রেজিমেন্ট তৈরি করেছে। গত তিন বছরে একজন মাত্র গুর্খা স্নাইপারের হাতে ২৬০ জন আল কায়েদা খতম হয়েছে।

আজ থেকে মাত্র ১০ বছর আগে বৃটিশ আর্মির গূর্খা রেজিমেন্ট কে একীভূত করে পৃথক গূর্খা রেজিমেন্ট ভেংগে দেওয়া হয়।

আরব দেশের আরেক বিখ্যাত বংশ "সৈয়দ" বংশ।

আমাদের দেশেও এই বংশের কদর অনেক। মান মর্যাতাতে উচু দেশি সৈয়দদের একটা বড় অংশ এই দেশে এসেছিন ধর্মপ্রচারের উদ্দেশ্যে, জাত-পাত আক্রান্ত ভারতীয় উপমহাদেশে সৈয়দদের শান্তির বানী মানুষদের উপকৃত করেছিল

রুট কানেকশন এবং ঐতিহ্য  অনেক শক্তিশালী  হওয়াতে একটা সময় আরবে সৈয়দ বংশের প্রাদূর্ভাব শুরু হয়।

ডানে সৈয়দ, বামে সৈয়দ, ঘড়ে সৈয়দ,  বাইরে সৈয়দ.. সৈয়দ সৈয়দ আর সৈয়দময়..

চুরি চামারী থেকে শুরু করে যৌতুক গ্রহণ, ব্যাভিচার, ডাকাতি, মহাজনী, সুদের কারবার  সব কিছুতেই দেখা গেল সৈয়দ বংশীয়রা জড়িয়ে পরছে বা সৈয়দদের নাম ব্যাবহার করা হচ্ছে।

এমন সময় সৌদি প্রশাসন শুদ্ধী অভিজান চালানোর সিদ্ধান্ত গ্রহন করে।

ঘোষনা  আসে জুম্মার দিনে বিশেষ মাঠে, সকল সৈয়দ একত্রীত হবে সব সৈয়দ বিশেষভাবে প্রস্তুত আগুনের গোলকের ভেতর দিয়ে লাফ দেবে। অনেকটা সার্কাসপার্টির ফায়ার জাম্পের মত।

সৈয়দদের ওপর আল্লার আদ্ধাত্মিক আনুকুল্য আছে তাই আগুনের গোলকে তাদের কোন ক্ষতি হবে না। এপার থেকে অন্য পারে লাফ দেবার পরেও,  আইরন করা জিব্বাতে ভাজ পড়বে না।

নির্দিষ্ট দিনে দেখা গেলো অর্ধেকের বেশী সৈয়দ মাঠে অনুপস্থীত। বেত্রাঘাতের ভয়ে, আগুনে ঝলসানোর ভয়ে পাগারপার..

যারা অগ্নি গোলক খেলতে আসে নাই তাদের আর কক্ষনোই আরবের মাটিতে দেখা যায়নি..

এভাবেই আরবে জেনেটিক্যালি শুদ্ধ সৈয়দ প্রতিষ্ঠালাভ করে।

বাদবাকি পলাতক সৈয়দদের  একজন সব্যসাচী  উত্তর পুরুষকে খুব সম্প্রতি ঢাকাতে পাওয়া গিয়েছে।

তিনি নিশিদ্ধ লোবানে দেশরত্ন উত্তপ্ত করছিলেন।

৭১ এই সৈয়দ, দ্বিতীয় বারও নাকি জান বাঁচাতে অগ্নি গোলকে ঝাপ না দিয়ে জেনারেল জামসেদের কোলে ঝাপ দিয়ে জান বাচিয়ে ছিলেন।

এবার অবশ্য এত পরীক্ষা, নীরিক্ষা, ঝাক্কি ঝামেলা নেই। পোষ্যবর্গ কিছু লালশালু ডেড বডি শহীদ মিনারে আড়াআড়ি রেখে পাক আর্মির ঘনিষ্ট, সৈয়দ হককে মুক্তিযুদ্ধে লঘিষ্ঠ কিছু উৎছিষ্ট ভোগীর দল সটান হয়ে কিরামুন কাতেবিনের নোট খাতাতে লেখা,  ভাগ্য রেখে উলটে পালটে দেবেন।

কূট নীতি

মাইক্রো কূটনীতি
কেস গুলি কি ছিল?

কেস স্টাডি ১

৫ জানুয়ারির আগে
প্রনব মূখার্জি যখন দেশে আসলো, হরতালের অজুহাতে নেত্রীর সাথে দেখা হল না।

হরতালের স্থায়িত্ব ১ ঘন্টা কমিয়ে দেওয়া সম্ভব ছিল।

আবার নেত্রী রিক্সা নিয়েও যেতে পারতেন যা রাজনৈতিক মাস্টার স্ট্রোক হতে পারতো।

নিরাপত্তার হাস্যকর যুক্তি, জামাতি সুলতানাতের প্রভাব এবং অন্দরমহলে অবস্থানরত দুএক জন শিয়াল পন্ডিতদের জন্য সেটা সম্ভব হয়ে ওঠেনি।

কেস স্টাডি ২

বিল ক্লিনটন যখন সংক্ষিপ্ত সফরে ঢাকা আসলেন তখন তার সাভার স্মৃতিসৌধ ভিজিট বাতিল করা হয় নিরাপত্তা অজুহাতে।
বাংলাদেশ সরকার তা মেনে নেয় যেহেতু ঐ মূহুর্তে সফরটা বাংলাদেশের আকাঙ্ক্ষা ছিল। পক্ষান্তরে আমারিকানদের কাছে কার্টেসি ভিজিট ছিল।

কেস স্টাডি ৩

এই ঘটনার কিছু পরেই জাপানের সরকার প্রধান বাংলাদেশ সফরে আসেন। তিনি তার ১৩ দেশ ভ্রমনের তালিকাতে ৪ নাম্বারে রাখেন বাংলাদেশ কে।
টাইট সিডিউলের সেই ট্রিপ ছিল নিরাপত্তা পরিষদে জাপানের পক্ষে  ভোট সংগ্রহের উদ্দেশ্যে।
তাই সেই সুযোগ কে কাজে লাগিয়ে সেইবার জাপান চিফ কে সাভার ভ্রমণ থেকে রেহাই দেওয়া হয় নাই।

মনে রাখতে হবে যে জাপানের তরফ থেকে অনুরোধ ছিল স্মৃতিসৌধ ট্রিপ ডিসমিস করার জন্য।

কূটনীতি আজকের

এবার যখন ডিল্কায়ার্ড ; যে
তিস্তা চুক্তি হচ্ছে না এবং
বর্ডার কিলিং জিরো টলারেন্সে নামছে না

ফারাক্কা নিয়ে কোন রিভিউ হচ্ছে না,

সীমান্তের মাদক কারখানা বন্ধ হচ্ছে না,

রামপাল প্লান্ট বাতিল হচ্ছে না

ভারতীয় অবৈধ অভিবাসীরা বাংলাদেশ ছাড়ছে না

Made in Bangladesh লেখা আরো পন্য শুল্কমুক্ত সুবিধা পাচ্ছে না

দেশি চ্যানেল গুলি ইন্ডিয়াতে উন্মুক্ত হচ্ছে না।

ক্ষুদ্র অস্ত্র স্মাগলিং বন্ধ হচ্ছে না
এবং আরো অনেক সেনসেটিভ ইস্যুর সুরাহা হচ্ছে না
সে ক্ষেত্রে সরকারের চাপে থাকার কথা।

অথছ আমরা দেখছি এইসব অগ্রাহ্য করে পররাস্ট্র ডিপার্টমেন্ট এর বস মাহামুদ আলী ঘোষনা দিচ্ছে যে নরেন্দ্র সাহেব ম্যাডাম জিয়ার সাথে সাক্ষাৎ করছেন না।

লক্ষ করেন মাত্র কয়েক দিন আগে রিয়াজ রহমানের স্ত্রী কে গুলশান অফিসে ঢুকতে দেওয়া হয় নি।

মোবাইল ট্রাকিং এ্যভোয়েড করার জন্য রিয়াজ সাহেবের কূটনৈতিক বার্তা বহন করছিলেন মিসেস রিয়াজ।

শোনা গিয়েছিল ভারত সংক্রান্ত বার্তাই তিনি নিয়ে গিয়েছিলেন।

এক সময় টু ইন ওয়ান খুব চলতো,  এখন থ্রী ইন ওয়ানের যুগ।

অংগ রাজ্য, কদর রাজ্য, গুপ্ত রাজ্য।

বাংলাদেশ  রাস্ট্র,  আওয়ামীলীগ সরকার, এবং বিএনপির চৌকিদার এরা এখন থ্রি ইন ওয়ানে লেট নাইট সো,র অডিও রিমিক্স বাজাচ্ছে.. 

আমরা পাছার পাঁচশালা চুলকিয়ে আরাম পাচ্ছি..