http://bdn24x7.com/?p=38505
http://www.bbarianews.com/?p=1730
চকরিয়ায় একটি বাড়ি একটি খামার প্রকল্পের সাহারবিল ও বিএমচর ইউনিয়নের দায়িত্বপ্রাপ্ত ফিল্ড কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ব্যাপক অনিয়ম ও দূর্নীতির অভিযোগ উঠেছে।
http://csb24.com/?p=3557
http://dainikmoulvibazar.com/news/2925/একটি-বাড়ি-একটি-খামার-প্র/
http://archive.surmatimes.com/2012/11/24/8388.aspx/
শ্রীবরদীতে একটি বাড়ি একটি খামার প্রকল্পে দানা বেঁধেছে অনিয়ম ও দূর্নীতিশেরপুর প্রতিনিধি
বর্তমান সরকারের দিন বদলের সনদ বাস্তবায়নের গ্রহণ করেছেন একটি বাড়ি একটি খামার প্রকল্প। এতে গ্রামীণ জনগোষ্ঠির ক্ষুধা, অপুষ্টি ও দারিদ্র্য বিমোচনের লাগসই প্রযুক্তি। কিন্তু শ্রীবরদীতে এ প্রকল্প বাস্তবায়নে শুরু থেকেই চলছে দূর্নীতি, অনিয়ম। যারা এর সুবিধা পাওয়ার কথা তারা বঞ্চিত হয়েছেন। স্বচ্ছল, বৃত্তবান ও ক্ষমতাসীন দলের নেতা-কর্মীদের তালিকায় অন্তর্ভূক্ত করা হয়েছে। এমনকি একই পরিবারের দু’জনের নামও রয়েছে তালিকায়। প্রকল্পটিতে নাম আওতাভূক্ত করতে গিয়ে অনেক দরিদ্র পরিবার প্রতারিত হয়েছেন।
কতিপয় নেতাকর্মী, সংশ্লিষ্ট ইউপি চেয়ারম্যান ও উপজেলা পল্লী উন্নয়ন বিভাগের কর্মকর্তাদের দূর্নীতি অনিয়মে মুখ থুবড়ে পড়েছে প্রকল্পের কার্যক্রম। তাছাড়াও প্রকল্পের চাহিদা অনুযায়ী বরাদ্দ কম। এতে ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছেন সদস্যরা। প্রকল্পটি বাস্তবায়নে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশও উপেক্ষিত। উপজেলার ৪ ইউনিয়নে ২ হাজার ১শ ৬০টি পরিবারকে তালিকায় অন্তর্ভূক্ত করা হয়েছে। কিন্তু বাদ পড়েছেন কমপক্ষে ৪ হাজার ৩শ ২০ পরিবার। তন্মধ্যে ৩শ ৮৪টির নামমাত্র অনুদান পেয়েছেন।
অন্যরা আজও প্রকল্পের ছিটেফোটা সুধিাও পাননি। বরং তালিকায় নাম অন্তর্ভূক্তি করতে যেসব নারায়ন বিনিময় করেছেন তা অদ্যবধি কেউ ফেরত পাননি। তবে আশায় দিন গুনছেন হয়তবা কিছু সুবিধা পাবেন। কিন্তু যারা বাদ পড়েছেন তাদের নাম তালিকা অন্তর্ভূক্তি করার কোনো আশাও নেই। তেমনি বিনিময় করা নারায়ন ফেরতের কোনো সদোত্তুর তারা পাননি। ফলে ক্ষতিগ্রস্থ তাদেরই বেশি। প্রকল্পের সদস্য, সদস্যা, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ, অভিযোগপত্র ও সম্প্রতি সরেজমিনে গিয়ে বিভিন্ন সূত্রে এসব তথ্য পাওয়া গেছে।
শেরপুরের শ্রীবরদী উপজেলা পল্লী উন্নয়ন বিভাগ সুত্রে জানা যায়, উপজেলার আয়তন ২শ ৫২ বর্গ কিলোমিটার। এর মধ্যে ১০টি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভা। তন্মধ্যে ৪টি ইউনিয়নে চলছে একটি বাড়ি একটি খামার প্রকল্পের বাস্তবায়নের কার্যক্রম। যথাক্রমে ভেলুয়া, কেকেরচর, কুড়িকাহনিয়া ও গড়জরিপা ইউনিয়ন। প্রত্যেক ইউনিয়নে ৯টি করে ৩৬টি গ্রামে ২ হাজার ১শ ৬০ পরিবারের নাম তালিকা করা হয়েছে।
অথচ প্রকল্পের শুরুতে নেয়া হয়েছিল ৬ হাজার ৪শ ৮০টি পরিবারের নাম। এরমধ্যে বাদ পড়েছে ৪ হাজার ৩শ ৮০টি পরিবারের নাম। তালিকাভূক্তদের মধ্যে ১শ পরিবারকে একটি করে গরু, ৪৪টি পরিবারে ২ বান্ডিল করে ঢেউটিন, ৮০টি পরিবারে ৫ হাজার টাকার মুরগি, ৯০টি পরিবারে গাছের চারা ও ১শ ২টি পরিবারে সবজি বীজ দেয়া হয়েছে।
প্রকল্পের নির্দেশিকায় রয়েছে তালিকায় প্রথম অগ্রাধিকার পাবে অতিদরিদ্র মহিলার প্রধান পরিবার। দ্বিতীয়ত অতি গরিব অথচ ৩০ শতক কম জমির মালিক। তৃতীয়ত দরিদ্র পরিবার অথচ ৫০ শতক কম জমির মালিক। চতুর্থ চরাঞ্চলের গরিব পরিবার অথচ সর্বোচ্চ এক একরের কম জমির মালিক। কোনো অবস্থায় একই পরিবারের দু’জনের নাম তালিকায় অন্তর্ভূক্ত করা যাবে না। তালিকা করবে উপজেলা পল্লী উন্নয়ন বিভাগের সংশ্লিষ্ট কর্মীরা। সরেজমিন গিয়ে জানা যায়, প্রকল্পের শুরুতে ৬ হাজার ৪শ ৮০টি পরিবারের নাম তালিকা করা হয়।
এসব তালিকা করেন ক্ষমতাসীন দলের স্থানীয় কতিপয় নেতাকর্মী, ইউপি চেয়ারম্যান ও উপজেলা পল্লী উন্নয়ন বিভাগের কর্মকর্তা কর্মচারী। তালিকা তৈরি প্রণয়নকারীদের যোগসাজসে নেয়া হয় জনপ্রতি ৫/৭ হাজার করে টাকা। বাদ পড়েন ৪ হাজার ২০টি পরিবার। বাড় পড়া পরিবারগুলো একদিকে বঞ্চিত হলেন প্রকল্পের সুবিধা থেকে। অন্যদিকে অর্থের অপচয় হলো।
এসব ক্ষতিগ্রস্থদের মধ্যে হতদরিদ্যের সংখ্যাই বেশি। তাদের অনেকে এখনো ঘুরছেন টাকা ফেরতের জন্য। অভিযোগে প্রকাশ, নির্দেশিকা না মেনে তালিকায় অন্তর্ভূক্ত করা হয়েছে স্বচ্ছল, ব্যবসায়ী, বাড়ি গাড়ির মালিক, ধন্যাঢ্য কৃষক, বিত্তবান ও রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীদের। এ প্রকল্পের বাদ পড়াদের মধ্যে ভেলুয়া ইউনিয়নের চকবন্দি গ্রামের হতদরিদ্র তছিরন বেগম, হাবিল মিয়া, ছাবের আলী, সাদা মিয়াসহ অর্ধশতাধিক লোক জানান, তাদের তালিকা থেকে বঞ্চিত করে ধনীদের নাম অন্তর্ভূক্ত করা হয়েছে। অথচ পার্শ্ববর্তী ঢনঢনিয়া গ্রামের আওয়ামী লীগ নেতা দেলোয়ার হোসেন ও তার স্ত্রীর নাম তালিকা করা হয়েছে। তারা এলাকায় ধন্যাঢ্য ব্যক্তি।
কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন