শনিবার, ২৭ জুলাই, ২০১৩

Atom

Collected and translated
বিজ্ঞানের ইতিহাসে আলবার্ট আইনস্টাইনের নাম অবিস্মরনীয় হয়ে থাকবে। ১৯০৫ খৃষ্টাব্দে তিনি মানুষের চিন্তার জগতে কয়েকটি বৈপ্লবিক ধারনার সৃষ্টি করেছিলেন। এই ধারণাগুলির মধ্যে ভর ও শক্তির বিনিময়তা ছিল অন্যতম । তার সেই বিখ্যাত সমীকরণটি হল- E=mc2। এখানে E দ্বারা শক্তি m দ্বারা ভর এবং c দ্বারা প্রতি সেকেন্ডে আলোর বেগকে বোঝান হয়েছে। অর্থাৎ পদার্থের ভরকে আলোর বেগের বর্গ দ্বারা গুণ করলে যে শক্তি পাওয়া যায় সেটাই হল ঐ পরিমাণ পদার্থের আবদ্ধ শক্তি। আমরা জানি যে আলোর বেগ প্রতি সেকেন্ডে ৩০ কোটি মিটার অর্থাৎ ১৮৬০০০ মাইল । সুতরাং খুব অল্প পরিমাণ পদার্থকেও যদি ৩০ কোটির বর্গ দিয়ে গুণ করা হয় তাহলে যে বিপুল পরিমাণ শক্তি পাওয়া যাবে সেটার হিসাব বের করা খুব কঠিন নয়। তখন তার মর্ম না বুঝলে ও পরবর্তিতে তার মর্ম যথাযথভাবে বুঝেছে মানুষ। দুই হাজার বছর আগে গ্রীক দার্শনিক ডেমোক্রিটাস পরমাণুর ধারণা প্রবর্তন করেছিলেন । atom ইংরেজি শব্দ যার প্রতি শব্দ পরমাণু । যাকে আর ভাগ করা যায় না। ডেমোক্রিটাসের মতে ‘ পৃথিবীতে একমাত্র বিদ্যমান পদার্থ হল পরমাণু ও শুণ্যস্থান; আর বাকি সব কিছু অভিমত মাত্র । উনবিংশ শতাব্দীতে জন ডালটন পদার্থের পারমাণবিক গঠনের ধারণাকে পুনরুজ্জীবিত করেন । ডালটনের মতবাদের অনেক সমালোচনা হওয়ার পর বেকারেল, পিয়ারে কুরি, ও মেরি কুরি বিজ্ঞানী কতৃক তেজষ্ক্রিয় মৌলের আবিষ্কার , থমসন কতৃক ইলেকট্রনের আবিষ্কার এবং ইউরেনিয়াম , রেডিয়াম, ও থোরিয়াম থেকে নির্গত তেজষ্ক্রিয় রশ্নির অনুশীলন করার পর সন্দেহের কোন অবকাশ রইল না যে পদার্থের গঠন সত্যিই পারমানবিক । পরবর্তিতে বিজ্ঞানী রাদারফোর্ড পরমাণুর একটি মডেল আবিষ্কার করেন । যেখানে তিনি বলেছেন পরমাণুর একটি কেন্দ্র আছে যার নাম নিউক্লিয়াস । নিউক্লিয়াসে থাকে ধনাত্নক আধান বিশিষ্ট প্রোটন, এবং চার্জ নিরপেক্ষ নিউট্রন । আর নিউক্লিয়াসের বাইরে বৃত্তাকার কক্ষ পথে থাকে ঋণাত্নক আহিত ইলেকট্রন । ইলেকট্রনগুলো সর্বদা ঘূর্ণায়মান । পরমাণুর মোট ভরের শতকরা ৯৯.৯৭৫ অংশ অবস্থিত এই নিউক্লিয়াসে । এর গড় ঘনত্ব প্রতি ঘন সেন্টিমিটারে প্রায় ৩x১০০০০০০০০০০০০ কিলোগ্রাম । পরমাণুর উপাদান প্রোটন , নিউট্রন ও ইলেকট্রনের মোট ভরের তুলনায় পরমানুটির ভর যতটা কম তাকেই শক্তির একক কে E=mc2 প্রকাশ করলে আমরা পরমাণুর সংযোগী শক্তির সন্ধান পাই । 
১৯৩৮ সালে জার্মানীর অটোহান এবং স্ট্র্যাসম্যান নামে দুইজন রসায়মবিদ ইউরিনিয়াম-২৩৫ মৌলের পরমাণু ভাঙ্গতে সফল হন। ফলে সারা বিশ্বে হৈচৈ পড়ে যায়। ২৭ ডিসেম্বর ১৯৩৮ সালের এক অধিবেশনে বোর পরমাণুর ভাঙ্গন ও তার ব্যাখ্যা বিজ্ঞানীদের কাছে ঘোষণা করলেন । বোরের ভাষণ শেষ হওয়ার আগেই শ্রোতাদের মধ্য থেকে বেশ কয়েকজন দ্রুত সভাকক্ষ ত্যাগ করে টেলিফোনে ব্যাপারটা স্ব স্ব গবেষণাগারে জানিয়ে দিলেন। কয়েকদিনের মধ্যেই ওয়াশিঙটনের কারনেজ ইনস্টিটউশন এবং কলম্বিয়া বিম্ববিদ্যায়ের বিজ্ঞানীরা হান-স্ট্র্যাসমেন আবিষ্কারকে স্বীকৃতি জানালেন। কারণ পারমাণবিক বোমা নির্মাণের চাবিকাঠি নিহিত ছিল এই আবিষ্কারটিতে। নির্ধারিত কোন কোন ভারী পরমাণুর একের পর এক পর্যায়ক্রমিক বিভাজন প্রক্রিয়াকে সমপ্রতিক্রিয়াধারা বলা হয়। সহজে বিদারণীয় মৌল দ্বারা বন্দীকৃত এই নিউট্রিন পরবর্তী পর্যায়ের বিভাজন ঘটায় এবং এ ভাবেই ধারাটা চলতে থাকে। পারমাণবিক বোমায় এই প্রক্রিয়া ব্যবহার করা হয়। পারমাণবিক শক্তি বা অস্ত্র উৎপাদনের জন্য দরকার এমন একটি প্রক্রিয়ার সূচনা করা যাকে বলা হয় সমপ্রতিক্রিয়াধারা। ইউরিনিয়াম নিউক্লিয়াস মোটামুটি সমান দু’ভাগে বিভক্ত হলে যদি সেই সাথে এক বা একাধিক নিউট্রন নির্গত হয় তাহলেই শুধু সমপ্রতিক্রিয়াধারা ঘটানো সম্ভব। ১৯৩৯ খ্রীষ্টাব্দে জোলিয়ো কুরি ও তার সহযোগিরা দেখালেন যে ইউরিনিয়াম নিউক্লিয়াস ভাঙ্গলে নিউট্রন বের হয়ে আসে। এ আবিষ্কারের মারাত্নক সম্ভাবনা ও পরিণতি সম্বন্ধে ঝিলার্ড ও ফার্মী সচেতন ছিলেন। যার ফলে ঝিলার্ড ও ফার্মী আগে থেকে ইউরিনিয়াম ভাঙ্গার রহস্য প্রকাশ করেন নি এবং জোলিয়ো ও কুরিকে তা প্রকাশ করতে নিষেধ করেছিলেন। কিন্তু জোলিয়ো ও কুরি বুঝলেন উল্টো । তারা মনে করলেন ঝিলার্ড ও ফার্মী তাদের আগে তা প্রকাশ করে করবেন। সমসাময়িক সময়ে সমপ্রতিক্রিয়াধারা অন্বেষনে ফরাসীরা অন্যদের তুলনায় বেশ অনেকখানি এগিয়ে ছিল। তাই জোলিয়ো ও কুরি গোপনীয়তার কথা প্রত্যাখান করলেন। ১৯৩৯ সালের ১৫ এপ্রিল ফিজিক্যাল রিভউ পত্রিকায় প্রকাশিত হল ঝিলার্ড ও তার সহকর্মীদের প্রবন্ধ। এক সপ্তাহ পরে ’ইউরিনিয়াম নিউক্লিয়াস বিভাজনে নির্গত নিট্রনের সংখ্যা ’ শিরোনামে ফরাসী বিজ্ঞানীদের একটি নতুন প্রবন্ধ ’দি নেচার’ প্রত্রিকায় প্রকাশিত হল। এ প্রতিবেদনে উল্লেখ ছিল নিউট্রনের গড় সংখ্যা ৩ থেকে ৪ এর মধ্যে । ফরাসী বিজ্ঞানীরা দ্রুত ৫টি পেটেন্ট গ্রহণ করে তাদের অগ্রগামী অবস্থার পরিচয় দিলেন । ইউরিনিয়াম ও মডারেটর কি অনুপাতে সন্নিবিষ্ট করতে হবে এবং সন্নিবেশে তাদের সমসত্ব ও অসমসত্ব বিন্যাস এ পেনেন্টে উল্লেখ ছিল । বিভাজনে নির্গত নিউট্রন মন্দনের জন্য মডেরেটর হিসাবে বেরিলিয়াম , গ্রাফাইট , পানি এবং ভারী পানি ব্যবহারের প্রস্তাব করা হয়েছিল। সমপ্রতিক্রিয়াধারাকে নিয়ন্ত্রণে রাখার জন্য বেশ কয়েকটি উপায় আলোচিত হয়েছিল এবং উৎপন্ন তাপকে কিভাবে সংগ্রহ করা যায় সে সম্বন্ধে কয়েকটি পদ্ধতিও এ পেটেন্টে বর্নিত হয়েছিল । ইউরিনিয়াম-২৩৫ এর মত সহজে বিদারণীয় পদার্থ যা বিস্ফোরণমূখী হয়ে দ্রূত নিউট্রন সমপ্রতিক্রিয়াধারার সৃষ্টি করে সে কৌশলকে পারমাণবিক বোমা বলে ।
 ১৯৩৯ খ্রীষ্টাব্দের শেষের দিকে দ্বিতীয় বিশ্ব যুদ্ধ শুরু হয়েছিল। যুদ্ধ শুরু হওয়ার কয়েক মাস আগেই ফরাসী বিজ্ঞানীরা পারমানবিক বোমা ও শক্তি উৎপাদনের জন্য কয়েকটি পদক্ষেপ গ্রহণ করেছিলেন । যুদ্ধ শুরু হওয়ার কিছু দিনের মধ্যে হিটলার ঘোষনা করেছিলেন যে জার্মানীর হাতে এমন এক ভয়ংকর গোপন অস্ত্র আছে যার গতি রোধ বা ধ্বংশ করার কৌশল কারোর জানা নেই । তৎকালীন ব্রিটিশ সরকার বিজ্ঞানী ছাদউইককে হিটলারের গোপন অস্ত্রের শক্তির উৎস অনুসন্ধান করার অনুরোধ করেন । ছাদউইক তার প্রতিবেদনে ব্রিটিশ সরকারকে জানিয়েছিলেন যে ১ থেকে ৩০ টন ইউরিনিয়াম যোগার করতে পারলে এই ধরনের বোমা তৈরি করা সম্ভব । কিন্তু অটো ফ্রিস ও রুডলফ পিয়ারলস বিজ্ঞানীদ্বয় হিসাব করে দেখালেন যে প্রাকৃতিক ইউরেনিয়ামের পরিবর্তে যদি খাঁটি ইউরেনিয়াম-২৩৫ মৌল ব্যবহার করা হয় তাহলে ১ থেকে ৩০ টন ইউরেনিয়ামের দরকার নেই বরং কয়েক পাউন্ড ইউরেনিয়াম হলেই বিষ্ফোরণ ঘটানো সম্ভব । কিন্তু সমস্যা হল ইউরেনিয়াম-২৩৫ আইসোটোপ পৃথক করার কৌশক তখনো বিজ্ঞানীদের জানাছিল না । তবুও ব্রিটিশ সরকার ছাদউইককে বোমা তৈরীর দায়িত্ব দেন । তাঁর সাথে আছেন অটো ফ্রিস ও রুডলফ পিয়ারলস ।যে সকল ইহুদি বিজ্ঞানীরা হিটলারের ক্ষমতা দখলের সাথে সাথে জার্মান ত্যাগ করেছিলেন তাদের মধ্যে পিয়ারলস, আইনস্টাইন, ঝিলার্ড, বিগনার,টেলরের নাম উল্লেখযোগ্য । মজার ব্যপার হল দেশত্যাগী বিজ্ঞানীরাই ব্রিটিশ ও যুক্তরাষ্ট্রকে পারমানবিক বোমা তৈরির সম্ভাব্যতার কথা বুঝিয়েছিলেন । পরে ব্রিটিশ সরকার অলিফেন্ট, থমসন ও ব্লাকেট বিজ্ঞানীদেরকে নিয়ে গঠন করেন থমসন কমিটি । এই থমসন কমিটিই পরে মড কমিটিতে রূপ নেয় । এই কমিটি দ্ব্যার্থহীনভাবে সুপারিশ করেছিল “ এই কমিটির বিবেচনায় পারমানবিক বোমা তৈরীর পরিকল্পনা বাস্তবসম্মত এবং যুদ্ধের চূড়ান্ত ফলাফল অর্জনে এই বোমার উপযোগীতা অনস্বীকার্য । অপর দুই বাস্তুহারা হাঙ্গেরীয় বিজ্ঞানী ঝিলার্ড ও এডওয়ার্ড টেলর যুক্তরাষ্টকে পারমানবিক বোমা তৈরীর ব্যপারে উৎসাহিত করেন । তাদের কথায় যুক্তরাষ্ট সরকার কান না দেওয়ায় তারা দুই জন আইনস্টাইনের কাছে যান এবং তাকে অনুরোধ করেন তিনি যেন প্রেসিডেন্ট রুজভেল্টকে চিঠি লিখে এ ব্যপারটি বুঝিয়ে বলেন । পরবর্তীতে আইনস্টাইন রুজভেল্টকে কয়েকটি চিঠি লিখেছিলেন । রুজভেল্ট ও বুজতে পারলেন হিটলার যদি এই বোমা তৈরী করতে পারেন তাহলে সব সর্বনাস হয়ে যাবে । তাই রুজভেল্ট এই ব্যপারে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য তার সচিবকে নির্দেশ দেন । সচিব ওয়াটসন তিন সদস্য বিশিষ্ট ব্রিগস কমিটি গঠন করেন । এ দিকে দ্বিতীয় বিশ্ব যুদ্ধ জোরে সোরে শুরু হয়েছে । তখনও আমেরিকা যুদ্ধে জড়ায়নি । এ সময়ের মধ্যে ব্রিটেন পারমানবিক বোমা তৈরী কর্মসূচীর একটা খসড়া সম্পুর্ণ করেছিল । এই খসড়া থেকে এটা স্পষ্ট হয়ে উঠেছিল যে যুদ্ধ চলাকালীন সময়ের মধ্যে সামরিক দিক থেকে উপযোগী অস্ত্র তৈরীর সম্ভাবনা উজ্জল । যুক্তরাষ্টের ব্রিগস কমিটি ও জাতীয় একাডেমির সুপারিশগুলি তখনও পর্যম্ত এতটা অগ্রসর হতে পারেনি । ব্রিটেনের মড কমিটির প্রতিবেদনের ভিত্তিতেই রুজভেল্টকে বোঝাতে পেরেছিলেন যে বায়বীয় ব্যাপনের সাহায্যে পৃথকীকৃত ইউরেনিয়াম-২৩৫ মৌলের সাহায়্যে পারমানবিক অস্ত্র তৈরী সম্ভব । পারমানবিক বোমা তৈরীর কলাকৌশল ব্রিটেন ও আমেরিকার মধ্যে আদানপ্রদান শুরু হয় । সাথে সাথে আমেরিকা ও ব্রিটেনের মিত্র দেশগুলোর সাথেও পারমানবিক বোমা তৈরির কলাকৌশল সংগ্রহের কাজ শুরু হয় । ব্রিটেনের প্রযুক্তির জ্ঞান সরবরাহের জন্য রুজভেল্ট চার্চিলকে একটি চিঠি লিখেছিলেন । যুক্তরাষ্ট্র ও ব্রিটেনের মধ্যে পারমানবিক বোমা তৈরীর কাজে ব্রিটেনই সবচেয়ে বেশী অগ্রগামী ছিল । কিন্তু এক বছরের মধ্যেই যুক্তরাষ্ট্র পারমানবিক বোমা তৈরীর ক্ষেত্রে ব্রিটেনকে অনেক পিছনে ফেলে দিয়েছিল । কতটা পেছনে পরেছিল ব্রিটেন তা আমেরিকার বোমা তৈরির একটি বাজেট দেখলেই বুঝা যাবে। ইউরিনিয়াম -২৩৫ মৌল পৃথকীকরণ করার জন্য সেন্ট্রিফউজ প্লান্টের জন্য ৩৮ মিলিয়ন ডলার, বায়বীয় ব্যাপন প্লান্টের জন্য সীমাহীন ডলার, তড়িৎ চুম্বকীয় পৃথকীকরণের জন্য ১২ মিলিয়ন ডলার, প্লুটোনিয়াম গাদা তৈরির জন্য ২৫ মিলিয়ন ডলার এবং ভারী পানি উৎপাদনের জন্য ৩ মিলিয়ন ডলার বরাদ্দ দেওয়া হয় । 
২য় বিশ্বযুদ্ধের ২ মিত্র ব্রিটেন যুক্তরাষ্ট্র ৩য় মিত্র রাশিয়াকে সম্পূর্ণ অন্ধকারে রেখে পারমাণবিক বোমা তেরির উদ্যোগ গ্রহন করল। অবশ্য এটা জানা কথা যে ব্রিটেন কিংবা যুক্তরাষ্ট্র কউই বলশেভিক রাশিয়াকে খুব একটা সুনজরে দেখে না । অতএব তাদের এই আচরণ অবাঞ্ছনীয় হলেও অপ্রত্যাশিত ছিল না ।
কান টানলে যেমন মাথা এসে পড়ে ,পারমানবিক বোমা সংক্রান্ত কোন আলোচনায় তেমনি ‘ ভারী পানির’ প্রসঙ্গ এসে পড়বেই । কিন্তু এই ভারী পানি বস্তুটি যেমন আমাদের অপরিচিত ঠিক তেমনি অতি দূর্লভ । আমরা জানি যে পানি একটি যৌগিক পদার্থ যার একটি অণুতে আছে দুইটি হাইড্রোজেন পরমাণু আর একটি অক্সিজেন পরমাণু । এর আগে ইউরিয়াম মৌলের আলোচনা প্রসঙ্গে আমরা উল্লেখ করেছিলাম যে ইউরিয়াম তিনটি আইসোটোপয় অবস্থায় বিদ্যমান ইউরিনিয়াম-২৩৪, ইউরিনিয়াম-২৩৫ ও ইউরিনিয়াম-২৩৮ । হাইড্রোজেন মৌল দুইটি আইসোটোপিয় অবস্থায় প্রকৃতিতে বিরাজ করে প্রোটিয়াম , ডয়টেরিয়াম । প্রোটিয়ামের ভর সংখ্যা ১.০০৭৮২u । প্রকৃতিতে বিদ্যমান হাইড্রোজেনের শতকরা ৯৯.৯৮৫ ভাগ এই প্রোটিয়াম । কিন্তু শতকরা মাত্র ০.০১৫ ভাগ হাইড্রোজেন বিরাজ করে যে আইসোটোপীয় অবস্থায় তার নাম ডয়টরিয়াম এবং তার ভর সংখ্যা ২.০১৪০u । সুতরাং প্রোটিয়ামকে আমরা হাল্কা হাইড্রোজেন এবং ডয়টরিয়ামকে ভারী হাইড্রোজেন বলতে পারি । আমাদের অতি পরিচিত পানির অণুতে আছে প্রোটিয়াম আর অক্সিজেন । কিন্তু আমরা যে ভারী পানির উল্লেখ করেছি সেই পদার্থটির অণুতে আছে ডয়টরিয়াম ও অক্সিজেন । এ জন্যই তাকে বলা হয় ভারী পানি । পারমাণবিক শক্তি বা অস্ত্র তৈরিতে একটি মহার্ঘ উপাদান এই ভারী পানি । দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ শুরু হওয়ায় কয়েক বছর আগে থেকে পারমাণবিক শক্তি বা অস্ত্র তৈরির উদ্দেশ্যে চারটি সংস্থা গবেষণা চালাচ্ছিল । ব্রিটেনের থমসন কমিটি, ফ্রান্সের ফ্রেডারিক জোয়ালিয়োর নেতৃত্বে কলেজ ডি ফ্রান্স দল , জার্মান দল এবং যুক্তরাষ্ট্রের বিগস কমিটি । পারমাণবিক শক্তি ও বোমা তৈরির উদ্দেশ্যে পরিচালিত গবেষণায় এই চারটি দলের মধ্যে ফরাসীরাই ছিল অগ্রগামী । ফরাসী দল ইতিমধ্যেই গ্রাফাইটকে মডারেটর হিসাবে ব্যবহার করে যে পরীক্ষা চালিয়েছিল তা থেকে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌছানো সম্ভব হয় নি । সুতরাং তারা ভারী পানিকে নিয়ন্ত্রক বা মডারেটর হিসাবে ব্যবহারের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করল । ১৯৪০ সালের প্রথম দিকে একমাত্র নরওয়ের রুকানে শিল্প মাত্রায় ভারী পানি তৈরী হচ্ছিল । ফরাসী বিজ্ঞানীরা ফরাসী সমরাস্ত্র মন্ত্রী দুত্রীকে এটা বোঝাতে সমর্থ হলেন যে নরওয়ের ভারী পানির ভান্ডার তাদের হস্তগত করা খুবই জরুরী । এ ব্যাপারে প্রস্তুতি গ্রহণের পুর্বেই ফরাসীরা যে সংবাদ পেল তা রীতিমত ভীতিকর । গোয়েন্দা সুত্রে তারা জানতে পারল জার্মানরা যে শুধু নরওয়ে কারখানার গোটা মজুদ ভান্ডার কেনার জন্য চেষ্টা চালাচ্ছে তাই নয় তারা আরও বেশি পরিমাণে এবং নিয়মীত ভারী পানি সরবরাহের জন্য তাদের সাথে চুক্তিবদ্ধ হওয়ার প্রচেষ্টা চালাচ্ছে । এ রকম জটিল পরিস্থিতি মোকাবেলায় এগিয়ে এলেন লেফটেনান্ট জ্যাকুস আলিয়ার নামে একজন তরুন ফরাসী । আলিয়ার ছিলেন একজন সফল ব্যবসায়ী । তাকে ফরাসী গোয়েন্দা সংস্থার একটি বিশেষ শাখায় একজন অফিসার হিসাবে নিয়োগ করা হয়েছিল । জার্মানদের পারমাণবিক গবেষণা সম্বন্ধে ফরাসীদের জ্ঞাত সব কিছুই আলিয়ার সমরাস্ত্র মন্ত্রীকে ব্যাখ্যা করলেন । কিন্তু এই জ্ঞান ছাড়াও তার যে গুণটি ছিল আরও গুরুত্বপূর্ণ তা হল তিনি যে ব্যাঙ্কের সদস্য ছিলেন সেই ব্যাঙ্কের বিরাট আর্থিক লগ্নি ছিল নোর্স্ক হাইড্রো কোম্পানীতে । আর এই হাইড্রো কোম্পানীই ছিল রুকান ভারী পানি কারখানার মালিক ।


 
১৯৮০ সালের মার্চ মাসের প্রথম দিকে আলিয়ার অসলোর উদ্দেশ্যে প্যারিস ত্যাগ করেন । পথে স্টকহল্ম থেকে তিনি তাদের গোয়েন্দা সংস্থার তিনজন সদস্যকে সাথে নিলেন। নোর্স্ক হাইড্রো কারখানাটির মহাপরিচালক ছিলেন ডক্টর এক্সেল উবার্ট । অসলোতে পৌছেই তিনি সত্বর উবার্টের সাথে সাক্ষাত করলেন । আলিয়ারের আগেই জার্মানরা উবার্টের সাথে যোগাযোগ স্থাপন করেছিলেন । কিন্তু উবার্ট যখন জার্মানীদের কাছ থেকে জানতে চান যে কি উদ্দেশ্যে তাদের ভারী পানির প্রয়োজন তখন তাদের জবাবগুলি শুনে তার মন সন্দিগ্ধ হয়ে উঠেছিল । জার্মানরা আগে থেকে চেষ্টা করেও যা করায়ত্ত করতে পারে নি আলিয়ার তার বুদ্ধি ও কুশলতায় তা করায়ত্ত করতে সমর্থ হলেন । অর্থাৎ অল্প কয়েক দিনের মধ্যেই তাদের মধ্যে এ সংক্রান্ত একটি চুক্তি স্বাক্ষর করে। চুক্তি অনুযায়ী নরওয়ের কাছে মজুদ ১৮৫ কিলোগ্রাম ভারী পানি ফরাসীদের হস্তগত হল । সে সময় দ্বিতীয় বিশ্ব যুদ্ধ তুমুল ভাবে চলছিল । ফরাসীরা নরওয়ে থেকে কিভাবে ভারী পানির পাত্রগুলো আনবেন সে চিন্তায় অস্থির কারণ জার্মান সৈন্যরা এই ভারী পানির পাত্রগুলোর দিকে কড়া দৃষ্টি রাখতেন। প্রথমে পরিকল্পনা করা হয় ভারী পানির ছাব্বিশটি পাত্র সাবমেরিন যোগে ফ্রান্সে আনা হবে । কিন্তু পরে এ সিদ্ধান্ত থেকে আবার সরে আসলেন । অনেক কৌশলে জার্মানদের চোখে ধূলো দিয়ে আলিয়ার ও তার সহকর্মীরা ভারী পানি ভর্তি ছাব্বিশটি পাত্র বিমানে করে স্কটল্যান্ডের এডিনবারায় নিয়ে আসেন । সেখান থেকে এ পাত্রগুলোকে আবার লন্ডনে চালান করা হয় । ১৬ মার্চে আলিয়ার ও তার সহকর্মীরা প্যারিসে ফিরে এলেন । সংগে নিয়ে এলেন সে সময়কার পৃথিবীতে মজুদকৃত সমুদয় ভারী পানি । এই ভারী পানির পাত্রগুলোকে রাখা হল একটি কলেজের গুদামের মাটির নিচে । পাশাপাশি সেই গুদামের উপরে এমন একটি ছাদ নির্মান করা হল যা এক হাজার পাউন্ড বোমায়ও ক্ষতি করতে না পারে । ১৯৪০ সালের ১০ মে জার্মানী ফ্রান্স আক্রমন করে । জার্মানরা ফ্রান্সের অভ্যন্তরে প্রবেশ করে ক্ষিপ্রতার সাথে অগ্রসর হতে থাকে । ফরাসী সরকারের পতন আসন্ন । পরাজয় যখন খুবই সন্নিকটে সেই পরিস্থিতিতে ফরাসী সমরাস্ত্র মন্ত্রী দুত্রি নানা জামেলার মধ্যেও এই মহার্ঘ ভারী পানির কথা ভুলে যাননি । পরাজয়ের মুখোমুখি দাড়িয়েও তার মনে হল এ সেই পদার্থ যা একদিন অবস্থান্তরে ফরাসীদের মর্যাদা পুন:প্রতিষ্ঠা করতে পারবে । তিনি জুলিয়ো কুরিকে নির্দেশ দিলেন যে এগুলি যেন শত্রুর করায়ত্ব না হয় এমন ব্যবস্থা গ্রহণ করতে । জোলিয় কুরি হলবানকে নির্দেশ দিলেন সেগুলি প্রথমে মধ্য ফান্সের মন্ট দোরে নিয়ে যেতে এবং সেখান থেকে পরে ক্লেয়ারমন্ট ফেরান্ডে নিয়ে ব্যাংক ডি ফ্রান্সের সিন্দুকে সুরক্ষিত রাখতে । ভারী পানির পাত্র , কিছু রেডিয়াম এবং মুল্যবান দলিলপত্র মোটর গাড়িতে তুলে হলবান সপরিবারে যাত্রা শুরু করলেন । পরের দিন তিনি রিয়ম শহরে গিয়ে পৌছলেন । সেখানে একটি ছোট্র বাসায় হলবান তার যন্ত্রপাতি ঠিকঠাক করে নিলেন । তার আসল দরকার ছিল প্রবাহমান জলধারার । সেখানে জোলিয় কুরিসহ তার দলের অনেক বিজ্ঞানী উপস্থিত ছিলেন । সেখানেই তারা পারমানবিক বোমা তৈরির ছোটখাট গবেষনার কাজ চালাতে থাকেন । হঠাৎ একদিন আলিয়ার এসে জানালেন শত্রু খুব দ্রুতবেগে অগ্রসর হচ্ছে তাই ফরাসী সরকার নির্দেশ দিয়েছেন যে ভারী পানির পাত্রগুলোকে অন্য কোন দেশে সরিয়ে নিতে । একটি গাড়িতে করে ভারী পানির পাত্রগুলোকে বন্দরে নিয়ে যাওয়া হয় । বন্দরে পৌচ্ছে হলবান ও কাউরস্কি একটি সাদাসিধে ব্রিটিশ জাহাজ দেখতে পেলেন যার নাম ব্রুমপার্ক । এই জাহাজে চাকুরি করতেন সাফোকের বিশতম আর্লের সাথে । সাফোক জাহাজের সকল নাবিককে মদ্য পান করিয়ে মাতাল করে রেখেছিলেন । সেই সুযোগে ভারী পানির পাত্রগুলোকে জাহাজে ভর্তি করা হয় । তাদের মনে সন্দেহ হল যদি জাহাজটি বোমার আঘাতে ডুবে যায় তাহলে তাদের পরিকল্পনা সব ব্যস্তে যাবে । তাই তারা একটি কাঠের ভেলার সাথে পাত্রগুলোকে শক্ত করে বেধে জাহাজে উঠালেন । অবশেষে অনেক বোমার আসন্ন আঘাত এগিয়ে ব্রুমপার্ক কর্ণওয়ালের দক্ষিণ কিনারায় এসে নিরাপদে অবস্থান করল । সেখান থেকে তারা লন্ডনে পৌছলেন ।

বুধবার, ২৪ জুলাই, ২০১৩

শালমান F [fucking] Rahman

খুবই মন্দ লোক তো । লক্ষ থেকে নয় , হাজার থেকে নয় এক্কেবারে   ০০   মানে গোল্লা থেকেই শত শত কোটি টাকার মালিক !!! স্থূল অর্থে বললে তো উনাকেই অর্থমন্ত্রী সাহেবের স্ব- ঘোষিত Rabbis পদ টা প্রদান করাটা দেশ প্রেমিক জনতার ১ম দাবীই হবার কথা । পত্র- পত্রিকা গুলী কিন্তু রনি-মুহিত বা মুহিত-কাদের দের দূরবর্তী সংলাপ বেশ আগ্রহভরেই তাঁদের মুল্লবান কাগজ আর টি ভি screen এ যোগ্য ব্যাস  দিয়েছিল ।

MP রনি কি সাধারণের কাছে জনপ্রিয় ছিলেন ? তিনি কি বিরধি দের কাছে শত্রুপক্ষ ছিলেন ? সরকার তাঁকে কেমন চোখে দেখত, MP রনি কি সরকারের জন্য বোঝা তে পরিণত হয়েছিলেন ? শালমান এফ রহমানের বিষয়ে কথা বলাই কি তাঁর নব "কালো বিড়াল " টাইটেল পাবার স্মভবনা কে উজ্জল করল ? পাঁড় ভক্ত আওয়ামীলীগের সমর্থকেরা কি এই প্রচারনা দন্ত- স্ফুট করেই করতে পারবে ?


MP রনি কি সাধারণের কাছে জনপ্রিয় ছিলেন ?
ছোট বেলার বাংলা বেকারনের প্রশ্নের মত "এক কথাই উত্তর দাও" টাইপ বিষয় এটা না । প্রথমত নির্বাচিত সংসদের সদস্য হবার পর দলীয় সভানেত্রীর আস্থা ভাজন হয়ে উঠেন এই তরুণ সাংসদ। এই অতি আস্থাই ; পরবর্তীতে ক্রমেই কাল হয়ে দাড়াই তাঁর পটুয়াখালী -৩   আসনের এর জনসাধারণের জন্য । Tender  হাইজাক , corruption  বা বাহিনী পোষা এই ধরনের মামুলি রাজনৈতিক অপরাধগুলী কে বাঁশ দিয়ে পাঁশ কাটিয়ে যে কর্ম টি সমগ্র দেশের মানুষের হাসির খোরাক হয়েছিল সেটি হল তাঁর "ক্যাবলা মার্কা কেবলা প্রীতি" ।দলীয় নেত্রীর প্রতি তাঁর 'দ্যু চক্ষেই আন্ধা' অনুগত্ত থেকেই তিনি একসময় "তৃতীয় মাত্রা " তে বলেছিলেন "নেত্রী ভুল করলেও বলা যাবে না ; যদি তিনি বিচলিত হন"  [on record]
এই সময়টাতে তিনি জনমানুষের কাছে পছন্দের মানুষ মোটেও ছিলেন না ।বরং কথা বার্তার কারনে বিরক্তির উদ্ভব করতেন অন্যদিকে নিজ দল ও দলনেত্রির Good Book এ তাঁর নাম টা Bold ছিল Font ছিল Time new Romans .এ যেন সাক্ষাৎ Marilin Mon-ray.
এর পরবর্তী সময়ে তাঁর শক্ত কথা বার্তা কিন্তু তাঁকে দলের Good book থেকে হরফ Old English hand সুদ্ধু বাতিল করে দেয়। কে না জানে সরকারের বাতিল মাল পাবলিক কেমন লুফে নেয়                

তিনি কি বিরধি দের কাছে শত্রুপক্ষ ছিলেন ?
গণতন্ত্রের মৌলবাদী Quote কিন্তু বলে সকলের কাছে অন্তত নুন্তমগ্রহণ যোগ্যতার কথা , তোমার সিধান্ত মানা হোক বা না হোক বলার অধিকারের কথা । সেখানে MP RONE এর প্রথম Chaptar এর পরে কিন্তু তিনি সরকারের কৌশলগত সমালচনা করেছেন এবং BNP এর "মিউ মিউ" ডাকের বিকল্প হিসাবে হাতে গোনা ২ কি ১ জন গোবরে পদ্মফুলের মত শোণার বাঙলা তে ছিলেন ।রাজনৈতিক দল গুলী কিন্তু অন্তত বিরধি দলে থাকার সময় সময় সত্যবাদীদের পছন্দ করে।


সরকার তাঁকে কেমন চোখে দেখত, MP রনি কি সরকারের জন্য বোঝা তে পরিণত হয়েছিলেন ?
কট্টরপন্থী, উদারপন্থী বা মধ্যপন্থী তিন জাতের মানুষের চোখ কিন্তু এক চিত্রের তিন রং দেখে থাকে।নিকট অতিতের আসাংজ বা বর্তমানের স্লাজেন্স কেউ কিন্তু Democracy এর Wholesaler কাছ থেকে Democratic আচারন পান নাই ;অতএব সরকার MP Rony দের ভ্রূকুটি সংকুচিত করেই দেখতেই অভভস্ত।
অসংখ্য ডাল-প্যালা , শীরা উপশিরা , শাখা- প্রশাখা তথা অজস্র শাখামৃগ দের বিন্যাসে গঠিত যে সরকার উদর পিণ্ডী বুধোর ঘাড়ে চাপাতেই সাছন্নদ বোধ ,করে তাঁদের কাছে MP Rony রা মোটেও বোঝা নন ;বিরক্তির কারণ মাত্র।

MP Rone কি নতুন "কালো বিড়াল ?
বাবা দরবেশ "F"[for fuck] রহমানের বিষয়ে কথা বলার পরিণামে তাঁর নব "কালো বিড়াল " টাইটেল পাবার স্মভবনা কে উজ্জল করল ; কারণ এই মহা প্রতাপশালী Mr.Rahman যে PM এর অতি ঘনিষ্ঠ উপদেষ্টা সেটা MP RONE প্রকাশে অপছন্দ করতেন। এই অপছেন্দের আরও একটা কারণ ছিল MR.Rahman এর নাম বারেন্ন Banker Mr.Ibrahim Khaled এর শেয়ার বাজার কেলেঙ্গারির সঙ্গে জড়িত হওয়া।এই অপছন্দ টা কিন্তু খুবই যুক্তিস্নগত।হতেই পারে MP.Rone নিজেও এই শেয়ার কেলেঙ্গারির একজন অচ্ছুত শিকার ছিলেন।অচ্ছুত এই কারনেই যে তিনি কোন সাহসে Mr.Rahman এর নেত্রীর শাগরেদ হবার পরেও এই ঘটনা নিয়ে নাড়া চারা করলেন ; MP.Rone যে সরকারী সংসদ সদস্য হবার পরও শেয়ার মার্কেট থেকে দুর্বোধ্য ভুমি-ধস দুর্নীতি করতে পারলেন না ;এটাকে মাননিয়া PM এবং তাঁর Privatization Adviser Mr Salman F[F stands for FUCKING] Rahman তাঁর অযোগ্যতা এবং সততার অহংকার বলেই ধারনা করেছিলেন। অতএব MP.Rone ঘুষ কেলেঙ্গারি তে ফেসে গেলে তাঁকে তাঁর দল আওয়ামীলীগ অর্ধ -চন্দ্র  দিয়ে দল থেকে বহিষ্কার করার স্মভবনা ছিল [১০০%]শতভাগ। এবং শেখ হাসিনার দ্বারা এই কাজটি করানো গেলে আওয়ামীলিগের নেত্রী ভোটের আগে বড় মাপের বাহবা নিতেপারতেন যে তিনি কাওকেই দুর্নীতির ক্ষেত্রে ছাড় দেন না।এই অংকে নেত্রী হাসিনার মস্ত ভুল ছিল দাবাড় চাল হিসাবে বাবা দরবেশ F[for Fucking]Rahman কে ব্যাবহার করা। তিনি হয়ত ঐ মুহূর্তে মনেই রাখতে পারেন নি যে সমগ্র বাংলাদেশ জানে Independent TV channel টি সাথে দরবেশ বাবার পূঁজির লগ্নীর  ব্যাপারটা।এই ছোট্ট ভুল টা না হলে নতুন কালো বিড়াল হিসাবে সুরঞ্জিত সেন গুপ্তের নামের বদলে MP.Rone এর নামটা চলে আসতে পারত। Mp.Rone দক্ষ রাজনীতিবিদ; ঘুসের দাইভার তাঁর উপর আসে নি; এসেছে মারামারির দায়ভার।

পাঁড় ভক্ত আওয়ামীলীগের সমর্থকেরা কি এই প্রচারনা দন্ত- স্ফুট করেই করতে পারবে ?

এই প্রশ্নের উত্তর নিবেদিত আওয়ামীলীগের কর্মীরাই সবচেয়ে ভাল দিতে পারবে। তৃণমূল কর্মীদের এই লজ্জা নেতা গণ বুঝতে পারবে না  কখনও কি ?

যদি বুজতই তাহলে Salman F Rahman রা বাংলাদেশের মানুষের রক্ত চুষে খাবার সুজগ পেত না। বাংলাদেশও এই তিমিরে পরে থাকত না। এম পি রনি তো নস্যি !!

শুক্রবার, ১৯ জুলাই, ২০১৩

Video footage

Video footage
শয্যা-সঙ্গী

সরকারী চাকরী তে কিছু ছাত্র কে PM ban করার ইচ্ছা বাক্ত করেছেন , তিনি ভিডিও ফুটেজ দেখে এই কিছু সংখক ভাঙচুর কারি কে শনাক্ত করতে চেয়েছেন ।প্রধান মন্ত্রী আরও যে সকল ভি ডি ও ফুটেজ দেখতে পারেন :

1 ।
প্রথমেই প্রধান মন্ত্রী দেখতে পারেন বিগত ৭ মাসের U tube এর সকল post ..যে গুলী উনাদের জানা মতে মানুষ দেখতে পারে নি।
২।
বিশ্বজিৎ হত্যার প্রামাণ্য দলীল , যে still picture গুলু কে মুভি দক্মেন্ত বানানো হয়েছে।
৩।
শেখ সেলিমের সাওাল জবানবন্দী যা তিনি Join Interrogation এর সময় দিয়েছিলেন ।
৪।
আব্দুল জলিল এর জবানবন্দী যা তিনি Join Interrogation এর সময় দিয়েছিলেন যৌথ বাহিনির কাছে।
৫।
আব্দুল জলিল এর সেচ্ছা জবানবন্দী যা তিনি প্রদান করেছিলেন England এ অবস্থিত একটি বাংলা television channel কে
৬।
প্রধান মন্ত্রী চাইলেই আরও দেখতে পারেন BTV এর archive এ সজত্নে রক্ষিত বেগম মতিয়া চৌধুরী এর ১৯৯৫-১৯৯৬ সালের অমূল্য Footage যেখানে হরতালের সময় সাধারণ অফিসগামি মানুষ এবং সরকারী কর্ম কর্তাদের দিগম্বর করার ছবি রয়েছে।
৭।
২০০৭ সালের আন্দালনের সময়ের কিছু অমূল্য ছবি U Tube এ আছে যেখানে লগী-বৈঠা নিয়ে তাঁর দলের কর্মী দের রাস্তা তে নামার অবৈধ নির্দেশ রয়েছে।
৮।
৭ নাম্বার পয়েন্টের Prove হিসাবে আওয়ামীলীগের কর্মী দের হাতে লগী- বৈঠা এর প্রয়োগে মানুষ হত্যার Live documentary আছে।
৯।
ফক্রুদ্দিন- মাইন উদ্দিন এর Army back সরকারে সমর্থনে শেখ হাসিনার করা বিশেষায়িত Dialog "এই সরকার আমাদের আন্দালনের ফসল" এবং এই সরকারের সকল কর্মকাণ্ড আমরা সাধু করে দেব __এই বিষয় এ প্রামাণ্য দলীল __ উনার জন্য সুখ পাঠ্য হবে নিশ্চয়।
১০।
এক জন প্রধান মন্ত্রী "আমি কলা খাই না ; ঠাকুর ঘড়ে কে রে " বললে শুনতে কেমন লাগে তাও উনি VDO দেখে জানতে পারবেন ।
১১।
যেই আদালত "গোলাম আজম" কে ফাসির দড়ি থেকে রেহাই দেয়াতে PM সন্তুষ্ট হয়েছেন ; সেই আদালতের অভিমত "She is wrong headed" সংক্রান্ত News দেখে দেশ রত্ন শেখ হাসিনা পরম পুলক অনুভবের অমূল্য সুযোগ পেতে পারেন ।আর কে ই বা না যানে শেখ হাসিনা অমূল্য রস বোধের অতুলনীয় ভাণ্ডার ।
১২।
বাঙ্গালির প্রানের বই মেলা বা কলকাতার বই মেলা শেখ হাসিনার অতি প্রিয় বলেই আমরা জানি । মাননীয়া PM V.D.O footage থেকে দেখে নিতে পারেন উনার নিজের প্রদত্ত Sleeping Pill এর থিওরি. " বই না হলে আমার ঘুম আসে না ; বই- ই আমার ঘুমের ওষুধ।
১৩।
মাসুদ রানা র রানা নয় ; রানা প্লাজা র রানা কে উনি যে উনার দলের সদস্য হিসাবে অস্বীকার করেছিলেন সংসদে দাড়িয়ে __ সেটার ভিডিওও তিনি চাইলেই দেখে নিতে পারেন।
আর আমরা সকল বংগ স্মতান ই জানি মাননীয়া যে হিন্দি সিনেমার পাগল ভক্ত।
১৪।
সেখহাসিনার আন্দালনের ফসল Army backed Government যখন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র দের উপর আক্রমণ করল এবং দম্ভ ভারে ছাত্র এবং শিক্ষক দের জেলে পুরল সেই ভিডিও গুলী Pm চাইলেই দেখতে পারেন । মনে  করিয়ে দিতে চাই ঐ আন্দালনে যোগদানকারী ছাত্ররাও সরকারী চাকরী ইহজীবনে পাবে না কারণ Police verification report তাঁরা পালটে দিতে পারবে না ।। ;-)
15.
মাননীয়া Pm India তে যখন বাংলাদেশের "মুখ্য মন্ত্রী " পদবী শুনে মুচকি হাসি দিয়েছিলেন ; সেটাও ভিডিও তে সংরক্ষণ হয়ে আছে।
১৬।
ইদানিং ধর্ম ও এর রাজনৈতিক ব্যাবহার নিয়ে প্রচুর কথা বাত্রা চলছে । আওয়ামীলীগের মন্ত্রী -উপ/প্রতি মন্ত্রী বাহাদুর রাই এই বিষয়ে বেশী সচ্চার । ১৯৯৬ এর নির্বাচনের আগে বর্তমান প্রধান মন্ত্রীর ১০০% ইসলামী Covered dress এবং ক্ষমতা আরহ্নের পরে পুনরাই ১০০ % converted পোশাক আমরা ভিডিও র হিস্টরি রিপট দেখলেই জানতে পারব ।নিশ্চয় মাননীয়া PM এই ভিডিও গুলী উনার Watch List এ রাখবেন এবং ক্ষমতার সাথে পোশাক পরিবর্তন বিষয়ে মানুষ কে একটু জ্ঞান দান করবেন।
 


এই Play list আর লম্বা না করি । আপাতত মাননীয়া প্রধান মন্ত্রী  ভিডিও দেখে Voter খুজে বার করুক ।।

এক সময় তো আওয়ামীলীগের ভোটার দের প্রত্নতত্ত খুজেই ভোট দেওয়া লাগবে ।।

সোমবার, ১৫ জুলাই, ২০১৩

যেভাবে নাগরিকত্ব পান গোলাম আযম

 
সংগ্রহ: দৈনিক মানবজমিন থেকে
:যেভাবে নাগরিকত্ব পান গোলাম আযম:

রাজনৈতিক নয়, আদালতের সিদ্ধান্তেই বাংলাদেশের নাগরিকত্ব পেয়েছেন জামায়াতে ইসলামীর সাবেক আমীর অধ্যাপক গোলাম আযম। তাকে বাংলাদেশের নাগরিক হিসেবে অযোগ্য ঘোষণার সরকারি সিদ্ধান্ত অবৈধ ঘোষিত হয়েছিল হাইকোর্টে। যে রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করেও হেরে যায় সরকার। হাইকোর্টের রায়ের বিরুদ্ধে বাংলাদেশ সরকারের আপিল খারিজ করে দিয়েছিল সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ। তৎকালীন প্রধান বিচারপতি মুহাম্মদ হাবিবুর রহমান লিখেছিলেন মূল রায়। তার সঙ্গে একমত পোষণ করেছিলেন বিচারপতি এটিএম আফজাল, বিচারপতি মোস্তফা কামাল এবং বিচারপতি লতিফুর রহমান। তাদের প্রত্যেকেই পরে প্রধান বিচারপতি হয়েছিলেন। বাংলাদেশের ইতিহাসের একটি আলোচিত অধ্যায়ে দৃষ্টি ফেরালে আমরা দেখতে পাই, ১৯৭৩ সালের ১৮ই এপ্রিল এক সরকারি প্রজ্ঞাপনে গোলাম আযমসহ ৩৯ ব্যক্তিকে বাংলাদেশের নাগরিকত্বের জন্য অযোগ্য ঘোষণা করা হয়। সে তালিকায় গোলাম আযমের নাম ছিল তিন নাম্বারে। সুপ্রিম কোর্টের রায় থেকে দেখা যায়, গোলাম আযম তার হলফনামায় দাবি করেছেন তার দাদা ও পিতা এবং তিনি নিজে বাংলাদেশের ভূখণ্ডেই জন্মলাভ করেন। ১৯৬৯ সালে তিনি পূর্ব পাকিস্তান জামায়াতের আমীর নির্বাচিত হন। ১৯৭১ সালের ২৫শে মার্চ তিনি বাংলাদেশের ভূখণ্ডের অধিবাসী ছিলেন।

২২শে নভেম্বর ১৯৭১ পর্যন্ত তিনি এ ভূখণ্ডের স্থায়ী অধিবাসী ছিলেন। ২২শে নভেম্বর তিনি দলের অধিবেশনে যোগ দেয়ার জন্য পশ্চিম পাকিস্তান গিয়েছিলেন। তিনি দেশেই ফিরতে চেয়েছিলেন। ১৯৭১ সালের ৩রা ডিসেম্বর তাকে বহনকারী বিমান বাংলাদেশের ভূখণ্ডে অবতরণে ব্যর্থ হয়। প্রথমে তা কলম্বোতে অবতরণ করে এবং পরে জেদ্দায় যায়। কিছুদিন সেখানে অবস্থান করার পর গোলাম আযম আবার পাকিস্তানে ফিরে আসেন। তিনি পাকিস্তানি পাসপোর্টে ১৯৭২ সালে হজ পালনের উদ্দেশ্যে সৌদি আরব গমন করেন। ১৯৭৩ সালে তিনি লন্ডন যান। সেখানে তিনি সংবাদপত্র মারফত তার নাগরিকত্ব বাতিলের বিষয়টি জানতে পারেন। যাদের নাগরিকত্ব বাতিল হয়েছে তাদের নাগরিকত্ব পুনর্বহালের জন্য ১৯৭৬ সালের ১৭ই জানুয়ারি বাংলাদেশ সরকার দরখাস্ত আহ্বান করে। আহ্বান অনুযায়ী গোলাম আযম কয়েক দফায় বাংলাদেশ সরকারের কাছে নাগরিকত্ব ফিরে পাওয়ার জন্য আবেদন করেন। কিন্তু বাংলাদেশ সরকার এতে সাড়া দেয়নি। ১৯৭৮ সালের ১১ই মার্চ তার আবেদন প্রত্যাখ্যান করা হয়। একই বছর ১১ই জুলাই মায়ের অসুস্থতার কারণে তাকে বাংলাদেশে আসতে অনুমতি দেয়া হয়। তিনি পাকিস্তানি পাসপোর্টে বাংলাদেশে আগমন করেন। ১৯৭৮ সালের ৪ঠা নভেম্বর তিনি নাগরিকত্ব চেয়ে আবারও আবেদন করেন। একই সঙ্গে তার পাকিস্তানি পাসপোর্টও জমা দেন। নাগরিকত্বের আবেদন নিষ্পত্তির অপেক্ষায় থাকাবস্থায় তিনি বাংলাদেশেই অবস্থান করতে থাকেন।

১৯৯২ সালের ২৩শে মার্চ তাকে শোকজ করে বাংলাদেশ সরকার। তাকে কেন বিদেশী নাগরিক হিসেবে বিবেচনা করা হবে না এবং তাকে কেন বহিষ্কার করা হবে না তা জানতে চাওয়া হয় ওই নোটিশে। পরদিনই তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। ফরেনার্স অ্যাক্ট-এর ৩ ধারা অনুযায়ী তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। নাগরিকত্ব বাতিলের ১৯৭৩ সালের প্রজ্ঞাপনের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টে রিট আবেদন দায়ের করেন গোলাম আযম। ওই রিটে রাষ্ট্রপক্ষ থেকে যুক্তি দেখানো হয় মুক্তিযুদ্ধকালীন পাকিস্তানি সামরিক বাহিনীর সহায়ক বাহিনী রাজাকার, আলবদর, আল শামস প্রভৃতি বাহিনী গঠনে মুখ্য ভূমিকা রেখেছিলেন গোলাম আযম। যেসব বাহিনী মানবতাবিরোধী বিভিন্ন অপরাধ সংঘটনে জড়িত ছিল। স্বাধীনতার পরও বাংলাদেশকে স্বীকৃতি না দেয়ার পক্ষে গোলাম আযম বিশ্বব্যাপী লবিং করেছিলেন বলে সরকার পক্ষ দাবি করেছিল। বিচারপতি মোহাম্মদ ইসমাইল উদ্দিন সরকার এবং বিচারপতি বদরুল ইসলাম চৌধুরীর হাইকোর্ট বেঞ্চ এ রিটে বিভক্ত রায় দিয়েছিল। পরে তৃতীয় বিচারপতির বেঞ্চে বিষয়টি নিষ্পত্তি হয়। বিচারপতি আনোয়ারুল হক চৌধুরী বিচারপতি বদরুল ইসলাম চৌধুরীর সঙ্গে একমত পোষণ করে গোলাম আযমের নাগরিকত্ব বাতিলের প্রজ্ঞাপন অবৈধ ও বাতিল ঘোষণা করেন। স্বাধীনতাযুদ্ধে গোলাম আযমের ভূমিকা নিয়ে রাষ্ট্রপক্ষের বক্তব্যকে অপ্রাসঙ্গিক বলেছিল হাইকোর্ট।

এ রায়ের বিরুদ্ধে আপিল দায়ের করে সরকার। রাষ্ট্রপক্ষে এ মামলায় শুনানি করেছিলেন তৎকালীন এটর্নি জেনারেল আমিনুল হক। গোলাম আযমের পক্ষে আইনজীবী ছিলেন এ আর ইউসুফ। বিচারপতি মুহাম্মদ হাবিবুর রহমান তার রায়ে ১৯৭৩ সালের ১৮ই এপ্রিলের প্রজ্ঞাপন সম্পর্কে লিখেছেন, সংবিধান ৩ অনুচ্ছেদ এ ধরনের প্রজ্ঞাপন জারির এখতিয়ার দেয়নি। একসঙ্গে ৩৯ জনকে নাগরিকত্বের জন্য কেন অযোগ্য ঘোষণা করা হলো তা-ও স্পষ্ট নয়। বাংলাদেশ বিরোধী প্রচারণার বিষয়টি সংবিধানের ৩ অনুচ্ছেদের আওতাভুক্ত নয়। অনুচ্ছেদ ৩-এর অধীনে একটিমাত্র বিষয়ের সুরাহা হতে পারে আর তা হচ্ছে তিনি বাংলাদেশের নাগরিক হওয়ার যোগ্য কিনা। নাগরিকত্ব প্রমাণে পাসপোর্ট কোন চূড়ান্ত বিষয় নয়। গোলাম আযমের ব্যাপারে ১৯৭২ সালের দালাল আদেশে কোন ধরনের তদন্ত হয়নি। তার বিরুদ্ধে কোন মামলাও দায়ের করা হয়নি। ১৯৫ জন যুদ্ধাপরাধীর তালিকায় তার নাম নেই বলেও গোলাম আযমের দায়ের করা হলফনামায় বলা হয়েছে। রায়ে বলা হয়েছে, এটা ঘরে ফেরার মামলা, শিকড়ে ফেরার মামলা এবং পূর্বপুরুষের ভূমিতে ফেরার মামলা। গোলাম আযমের স্ত্রী এবং সাত সন্তানও জন্মসূত্রে বাংলাদেশের নাগরিক। এইসব বিবেচনায় আপিলটি খারিজের আদেশ দেন বিচারপতি মুহাম্মদ হাবিবুর রহমান।

বিচারপতি এটিএম আফজাল তার রায়ে লিখেছেন, অধ্যাপক গোলাম আযম তার নাগরিকত্ব চেয়ে রিট আবেদন দায়ের করেননি। বরং তিনি ১৯৭৩ সালের ১৮ই এপ্রিলের প্রজ্ঞাপন চ্যালেঞ্জ করেছিলেন। গোলাম আযম তার আবেদনে বলেছেন, এই প্রজ্ঞাপনটি আইনের দৃষ্টিতে শুদ্ধ নয়। সরকারের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, গোলাম আযমের রাজনৈতিক আচরণও সমান অশুদ্ধ। কিন্তু এটা অভিযোগের জবাব হতে পারে না। রাজনৈতিক অসদাচারণের অভিযোগ দ্বারা আইনি যুক্তি খণ্ডন করা যায় না। গোলাম আযমের নাগরিকত্ব প্রদানে রাজনৈতিক অস্থিরতার বিষয়টি তুলে ধরেছিলেন তৎকালীন এটর্নি জেনারেল। জবাবে বিচারপতি এটিএম আফজাল পঞ্চম সংসদ নির্বাচনের আগে জামায়াতের কাছে বিএনপির সমর্থন চাওয়ার বিষয়টি উল্লেখ করেছেন। দুই প্রেসিডেন্ট প্রার্থীর জামায়াতের সমর্থন চাওয়ার বিষয়টিও বলেছেন তিনি। তবে বিচারপতি আফজাল স্পষ্ট করেই বলেছেন, রাজনীতি আদালতের বিবেচ্য বিষয় নয়, আদালতের বিবেচ্য বিষয় আইন এবং একমাত্র আইন। বিচারপতি মোস্তফা কামাল তার রায়ে লিখেছেন, এটর্নি জেনারেলের সাবমিশন আবেগপূর্ণ, আইনি বিশ্লেষণ কমই করেছেন তিনি। বিচারপতি দৈনিক রহমানও অপর তিন বিচারপতির সঙ্গে একমত পোষণ করে রায় লেখেন।

রবিবার, ১৪ জুলাই, ২০১৩

কবে কিভাবে আওয়ামী সরকার বিদায় নেবে

কবে কিভাবে আওয়ামী সরকার বিদায় নেবে

Collected  

শফিক রেহমান



২৯ ডিসেম্বর ২০০৮-এর সন্দেহজনক নির্বাচনে শেখ হাসিনার নেতৃত্বে আওয়ামী লীগ বিজয়ী হয়ে ৬ জানুয়ারি ২০০৯-এ সরকার গঠন করে। এর মাত্র ৪১ দিন পর থেকে আওয়ামী সরকার স্বরূপে আবির্ভূত হতে থাকে। শান্তিপূর্ণ সহঅবস্থানের ভিত্তিতে দেশকে সামনের দিকে নিয়ে যাবার বদলে আওয়ামী সরকার মনোনিবেশ করে, যথাক্রমে, ইনডিয়ার কাছে ব্যক্তি ও দলের ঋণ পরিশোধে, ষড়যন্ত্রে, মামলা দায়ের এবং প্রতিপক্ষকে জেলে পাঠানোতে, দলীয় উদ্দেশ্য সাধনে বিচারবিভাগ বশীকরণে এবং দলকে ক্ষমতায় চিরস্থায়ী করার লক্ষ্যে সংবিধান সংশোধনে। এর সঙ্গে যুক্ত হয় আওয়ামী লীগের অন্তর্নিহিত চক্রান্তপ্রিয়তা ও অযোগ্যতা, যা এর আগের দুটি আওয়ামী সরকারের সময়েও দেখা গিয়েছিল, যেমন পুলিশ বাহিনীসহ প্রশাসনকে দলীয়করণ, অর্থনৈতিক ম্যানেজমেন্টে অদক্ষতা, শীর্ষ পর্যায় থেকে স্থানীয় পর্যায় পর্যন্ত ব্যাপক দুর্নীতি, মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বিভিন্ন দিবস পালনে আসক্তি ও ব্যক্তি পূজায় মত্ত হয়ে নাম বদলের নেশা প্রভৃতি।
তাই এটা কোনো আশ্চর্য নয় যে আওয়ামী সরকারের গত চার বছর চার মাস শাসনে যে পনেরটি বড় বিপর্যয় বাংলাদেশে ঘটেছে, তার মধ্যে বারোটির সঙ্গেই আওয়ামী সরকার ও দলের নিবিড় সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ উঠেছে। এই বারোটি হলো :

এক. ২৫ ফেব্রুয়ারি ২০০৯-এ ঢাকায় পিলখানায় বিডিআর বিদ্রোহে ৭৩ জন নিহত হন, যার মধ্যে ছিলেন ৫৭ সেনা অফিসার। এই বিদ্রোহে জড়িতদের বিরুদ্ধে তদন্ত ও মামলা চলা কালে মৃত্যু হয় ৫৭ বিডিআর কর্মচারির। অভিযোগ ওঠে এ ঘটনার বিষয়ে আগেই জানতেন আওয়ামী সরকারের প্রতিমন্ত্রী নানক, নেতা মির্জা আজম ও ব্যারিস্টার তাপস। ওই ঘটনায় নিহত বিডিআর চিফ, জেনারেল শাকিলের ছেলে লন্ডন থেকে দাবি করেন, ঘটনার বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী আগেই জানতেন এবং সে জন্যে তিনি এই দিনে পূর্ব নির্ধারিত অনুষ্ঠানে যোগ দিতে পিলখানায় যাননি। সার্বিক ভাবে তদানিন্তন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সাহারা খাতুনের অযোগ্যতা এবং প্রধানমন্ত্রীর ভুল সিদ্ধান্তের ফলে পিলখানায় নিহতের সংখ্যা অনেক বেশি হয় বলে অভিযোগ ওঠে।
দুই. ২০০৯ সালে আওয়ামী সরকার দেশের চলমান বিদ্যুত্ সঙ্কট মেটানোর লক্ষ্যে স্থায়ী সাশ্রয়ী পদক্ষেপ না নিয়ে এগিয়ে যায় ব্যায়বহুল কুইক রেন্টাল সিস্টেম স্থাপনে। ফলে একটি সূত্র মতে বাংলাদেশ পাওয়ার ডেভেলপমেন্ট বোর্ড (বিপিডিবি, বাংলাদেশ বিদ্যুত্ উন্নয়ন বোর্ড) ক্ষতি ২৫,০০০ কোটি টাকা ছাড়িয়ে গেছে। আওয়ামী সরকারের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন প্রাইভেট কুইক রেন্টাল কম্পানি থেকে বেশি দামে বিদ্যুত্ কিনে তা কম দামে বিক্রি করায় প্রতি বছর বিপিডিবি-র ক্ষতির পরিমাণ বেড়েই চলেছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বিপিডিবি-র এক কর্মকর্তা জানান, রেন্টাল পাওয়ার প্লান্ট থেকে প্রতি কিলোওয়াট বিদ্যুত্ কিনতে খরচ পড়ছে ১৪ থেকে ১৭ টাকা। কিন্তু গ্রাহক পর্যায়ে তা বিক্রি হচ্ছে সাত থেকে আট টাকার মধ্যে। এখানে অর্ধেকই ভর্তুকি দিতে হচ্ছে। ভর্তুকির যে ৯,০০০ কোটি টাকা বরাদ্দ রয়েছে তার ৮০ শতাংশই দিতে হচ্ছে কুইক রেন্টাল থেকে বেশি দামে বিদ্যুত্ কেনায়। অর্থাত্, রেন্টাল কম্পানিগুলো লাভ করছে, ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে পাওয়ার ডেভেলপমেন্ট বোর্ড তথা সরকার এবং সাধারণ গ্রাহক যাদের বেশি দামে বিদ্যুত্ কিনতে হচ্ছে।
কুইক রেন্টাল সিসটেমে যারা জড়িত তাদের মধ্যে নাম এসেছে মন্ত্রী (এবং প্রধানমন্ত্রীর আত্মীয়) কর্ণেল ফারুক খান ও আজিজ গ্রুপ, গার্মেন্টস রফতানিকারক মোহাম্মদী গ্রুপ, ফার্নিচার বিক্রেতা অটবি গ্রুপ, সালমান রহমানের বেক্সিমকো গ্রুপ ইত্যাদি।

তিন. ১০ জানুয়ারি ২০১০-এ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তিন দিনের সফরে নতুন দিল্লিতে যান। এই সফরের সময়ে দুই দেশের মধ্যে তিনটি চুক্তি ও দুটি সমঝোতা চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। এর বাইরে আরো একটি নিরাপত্তা চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে বলে মিডিয়াতে উল্লেখ করা হয়। এখন পর্যন্ত এসব চুক্তি সংসদে আলোচিত হয়নি। কিন্তু ২০১০ সাল থেকেই আশুগঞ্জ-আখাউড়া স্থলপথে ইনডিয়া ট্রানজিট সুবিধা নেয়। ইনডিয়ানরা তাদের হেভি লরি চলাচলের জন্য ১৬টি কালভার্ট বন্ধ করে দেয় এবং তিতাস নদীর দুটি স্থানে পানি প্রবাহ বন্ধ করে দেয়। ফলে বাংলাদেশের পূর্বাঞ্চলে গুরুতর পরিবেশ বিপর্যয় ঘটে। বিষয়টি দৈনিক নয়া দিগন্তে এই লেখক কর্তৃক প্রকাশের পরে ইনডিয়ানরা সাময়িকভাবে ওই স্থলপথে তাদের লরি চলাচল বন্ধ করে দেয়।
চার. ২০১০-এর শেষাংশে শেয়ার বাজার কেলেঙ্কারিতে একটি হিসেবে দেশের ৩৩ লক্ষ বিনিয়োগকারী ক্ষতিগ্রস্ত হয়। যদি প্রতিটি বিনিয়োগকারীর পেছনে পাঁচজন আত্মীয়-বন্ধু সেকেন্ডারি বিনিয়োগকারী থাকে তাহলে দেশে মোট ক্ষতিগ্রস্তের সংখ্যা হবে এক কোটি ৬৫ লক্ষ। অর্থাত্ দেশের এক দশমাংশ জনসংখ্যার কিছু বেশি। ডেইলি স্টার (১০.১০.২০১০) সহ কয়েকটি পত্রিকা এবং ঢাকা ও চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জের হুশিয়ারি সত্ত্বেও শেয়ার বাজার বিপর্যয়ের মুখে এগিয়ে যেতে থাকে। অর্থ মন্ত্রণালয় ও সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানসমূহ উপেক্ষা করে চলে আগাম সতর্কবাণীগুলো। নভেম্বর ১৯৯৬-এ আওয়ামী সরকারের সময়ে যেমন শেয়ার বাজারে ধস নেমেছিল তার পুনরাবৃত্তি ঘটে পনের বছর পরে আবার চলতি আওয়ামী সরকারের সময়ে অক্টোবর ২০১১-এ।
ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারীরা নিঃস্ব হয়ে যান। দিশাহারা বিনিয়োগকারীরা মতিঝিলে প্রতিবাদ ও বিক্ষোভ মিছিল করলে প্রধানমন্ত্রীর অথনৈতিক বিষয়ক উপদেষ্টা ড. মসিউর রহমান বলেন, ‘ওরা দেশের শত্রু। সমাজের শত্রু। ওদের জন্য মাথা ঘামানোর কোনো কারণ নেই। তাদের কষ্টে আমার মন কাঁদে না। শেয়ারবাজার ধসে সরকারের মাথাব্যথার কিছু নেই। কারণ শেয়ারবাজারে পুঁজি প্রকৃত বিনিয়োগে যায় না... শেয়ারবাজারে বিনিয়োগকারীরা দেশের অর্থনীতিতে কোনো অবদান রাখে না।’ (আমার দেশ ২১.০১.২০১১)
অর্থমন্ত্রী এএমএ মুহিত এক পর্যায়ে সংসদে বলেন, ‘আমি জানি আমি দেশের সবচেয়ে ঘৃণিত ব্যক্তি।’
এই কেলেঙ্কারিতে যারা জড়িত বলে অভিযোগ উঠেছে তাদের মধ্যে আছেন, ম্যানপাওয়ার বিজনেস খ্যাত জনৈক আওয়ামী এমপি এবং শেখ মুজিবুর রহমানের বড় ছেলে শেখ কামালের সেই সময়ের বন্ধু ও বর্তমানে “দরবেশ” রূপে খ্যাত ব্যক্তি, প্রমুখ।
পাচ. ১১ ডিসেম্বর ২০১১-তে বঙ্গবন্ধু ও বঙ্গমাতা ফুটবল টুর্নামেন্টে অংশ নিতে আদিষ্ট হয় চট্টগ্রামের মিরসরাইতে কিছু স্কুল ছাত্র। ওই টুর্নামেন্টে অংশ নিতে যাবার পথে ট্রাক উল্টে ৫৩ স্কুল ছাত্রের মৃত্যু হয়।

ছয়. দীর্ঘকাল জুড়ে বিভিন্ন দিক থেকে মালটি লেভেল মার্কেটিং (এমএলএম) কম্পানি ডেসটিনি গ্রুপের বিরুদ্ধে আওয়ামী সরকারকে বারবার সতর্ক করে দেওয়া সত্ত্বেও কোনো পদক্ষেপ নেয়নি তারা। সম্ভাব্য কারণ ছিল, এই গ্রুপের প্রেসিডেন্ট পদে ছিলেন অন্যতম সেক্টর কমান্ডার ও কট্টর আওয়ামীপন্থী রূপে পরিচিত সাবেক সেনা প্রধান লে: জে: হারুন-অর-রশিদ।

অবশেষে ১১ জুলাই ২০১২-তে দুদক বাধ্য হয় পদক্ষেপ নিতে। ডেসটিনির ৩,২৮৫ কোটি টাকা মানি লন্ডারিং ও আত্মসাতের মামলায় জেনারেল হারুনকে টানা সাত ঘণ্টা জিজ্ঞাসাবাদ করে দুদক তদন্ত টিম। ওই তদন্তে দুদক জানতে চায় জেনারেল হারুনের ব্যাংক একাউন্টে ২০ কোটি টাকা ঢুকলো কিভাবে? উত্তরে হারুন বলেন, ‘মাসিক সম্মানী, ডিভিডেন্ড ফান্ড, এলাউন্স, কমিশন বাবদ এই টাকা আমার একাউন্টে ঢুকেছে। এছাড়া কিছু টাকা বাড়ি ভাড়া থেকেও এসেছে।’ (যুগান্তর ৫.১১.২০১২)
হাই কোর্ট জেনারেল হারুনকে আটটি শর্ত সাপেক্ষে জামিন দেয়। তবে ডেসটিনি গ্রুপের ম্যানেজিং ডিরেক্টর মোহাম্মদ রফিকুল আমীন, ডিরেক্টর দিদারুল আলম ও ডেসটিনি ২০০০ লিমিটেডের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ হোসাইন-কে জেলে যেতে হয়। ডেসটিনির বিরুদ্ধে অর্থের অবৈধ ব্যবহার সংক্রান্ত দুটি মামলায় আসামীর সংখ্যা ২২ হলেও ১৮ জনই পলাতক হয়। ডেসটিনি সংশ্লিষ্ট ৫৩৩ ব্যাংক একাউন্ট জব্দ করা হলেও তাদের অঙ্গ সংগঠন বৈশাখী টেলিভিশনের একাউন্ট জব্দ হয় নি। এই লাইফলাইনের জন্য কৃতজ্ঞ বৈশাখী টিভির কর্মকর্তারা সুকৌশলে তাদের টিভিতে এবং অন্যান্য টিভির টকশোতে আওয়ামী সরকারের পক্ষে এবং আমার দেশ পত্রিকার ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক জেলবন্দি মাহমুদুর রহমানের বিরুদ্ধে প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছেন।

ডেসটিনি ছাড়া আরো ত্রিশটির বেশি এমএলএম কম্পানি অবাধে মানুষকে প্রতারণা করার সুযোগ পায় আওয়ামী সরকার শাসনে। এসব কম্পানির মধ্যে রয়েছে ইউনিপে টু ইউ, সাকসেস লিংক, গ্লোবাল নিউওয়ে, প্রভৃতি। দুদকের তদন্ত অনুযায়ী, কয়েকটি এমএলএম প্রতিষ্ঠান জনগণের কাছ থেকে সংগ্রহ করেছে ৪,৯৬৩ কোটি টাকার কিছু বেশি এবং এর মধ্যে ব্যক্তিগত একাউন্টে সরিয়ে ফেলা হয়েছিল প্রায় ৪,৬০১ কোটি টাকা। (প্রথম আলো ৯.৯.২০১২)।
টাকা বানানোর এমন সহজ সুযোগ দেখে ২০০৫-এ এগিয়ে আসে চায়না থেকে তিয়ানশি (বাংলাদেশ) লিমিটেড। (আমাদের সময়.কম ৫.১১.২০১২)। গোয়েন্দা সূত্র জানায়, মোট ১২৯ এমএলএম কম্পানি তাদের নজরদারিতে আছে।

সাত. আগস্ট ২০১২-তে বিভিন্ন পত্রিকায় হলমার্ক গ্রুপের জালিয়াতির খবর প্রকাশিত হতে থাকে। জানা যায় সরকারি ব্যাংক সোনালী ব্যাংকের শেরাটন হোটেল ব্রাঞ্চে (বর্তমানে শেখ হাসিনার দেয়া নাম রূপসী বাংলা হোটেল) বাংলাদেশের ইতিহাসে সবচেয়ে কুশ্রী অর্থনৈতিক কেলেংকারির পরিমাণ ৩,৬০৬ কোটি ৪৮ লাখ বা প্রায় ৪,০০০ কোটি টাকা। এর মধ্যে হলমার্ক একাই নিয়েছে প্রায় ২,৬৬৮ কোটি টাকা। একটি ব্যাংকের একটি ব্রাঞ্চে একটি কম্পানির এই পরিমাণ অর্থ আত্মসাতের ঘটনা আর কোথাও ঘটেছে বলে ব্যাংকিং খাতের কেউ বলতে পারেন নি। বাংলাদেশে এর আগে বিভিন্ন সময়ে ঋণের নামে অর্থ আত্মসাতের ঘটনা ঘটলেও অঙ্কের বিচারে এটি সর্ববৃহত্। স্বাধীনতার পর থেকে এখন পর্যন্ত এটিই ব্যাংকিং খাতে বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় আর্থিক কেলেঙ্কারি। (প্রথম আলো ৫.৯.২০১২)।

এরপর এক গোলটেবিল অনুষ্ঠানে সোনালী ব্যাংকের হলমার্ক কেলেঙ্কারি নিয়ে গণমাধ্যমের ভূমিকার সমালোচনা করে অর্থমন্ত্রী মুহিত বলেন, ‘ব্যাংকিং খাতে আমরা ৪০ হাজার কোটি টাকা ঋণ দিই। এর মধ্যে মাত্র তিন বা চার হাজার কোটি টাকা নিয়ে ঝামেলা হয়েছে। এটা কোনো বড় অঙ্কের অর্থ নয়। এ নিয়ে হইচই করারও কিছু নেই। সংবাদমাধ্যমে এটা নিয়ে অতিরিক্ত প্রচারণা করে দেশের ক্ষতি করছে। এমন ভাব যেন দেশের ব্যাংকিং সেক্টর ধসে গেছে। এতে আমাদের প্রশ্নের সম্মুখীন হতে হচ্ছে।’
অর্থমন্ত্রীর এই বক্তব্য প্রচারের পর গতকালই ব্যাপক সমালোচনার জন্ম দিয়েছে। তথ্য সংগ্রহ করে দেখা গেছে, কেলেঙ্কারির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সোনালী ব্যাংকের পরিশোধিত মূলধন এক হাজার ১২৫ কোটি টাকা। গত ৩১ মার্চ পর্যন্ত তৈরি করা তথ্য অনুযায়ী, সংরক্ষিত মূলধনের পরিমাণ চার হাজার ৫১৯ কোটি ৬৪ লাখ টাকা। অথচ সোনালী ব্যাংকের এক রূপসী বাংলা শাখায় জালিয়াতি করা অর্থের পরিমাণই তিন হাজার ৬০৬ কোটি ৪৮ লাখ টাকা। অন্য কোনো বেসরকারি ব্যাংকে এই পরিমাণ অর্থ আত্মসাতের ঘটনা ঘটলে ব্যাংকটি বন্ধ হয়ে যেত। যেমন বন্ধ হয়েছিল ওরিয়েন্টাল ব্যাংক। (প্রথম আলো ০৫.০৯.২০১২)

অর্থমন্ত্রীর এই মন্তব্যের পর দেশজুড়ে সমালোচনার সিডর ওঠে। দি নিউজ টুডে-র সম্পাদক রিয়াজউদ্দিন আহমেদ লেখেন, ‘দুর্ভাগ্যজনকভাবে অর্থমন্ত্রী অধিক থেকে অধিকতর পরিমাণে অধৈর্য হয়ে উঠছেন, মিডিয়ায় তার সমালোচকদের সহ্য করতে পারছেন না। তার সঙ্গে কেউ দ্বিমত পোষণ করলে তাকে ননসেন্স, রাবিশ ও স্টুপিড জাতীয় শব্দ শুনতে হয়। সোনালী ব্যাংক দুর্নীতি নিয়ে অর্থমন্ত্রী যে অসহিষ্ণু আচরণ করেছেন, তাতে অনেকেই বিস্মিত হয়েছেন। সোনালী ব্যাংকের দুর্নীতি নজরদারীতে ব্যর্থতার জন্য ওই ব্যাংকের পরিচালনা পরিষদকে বিলুপ্ত করার অনুরোধ জানিয়েছিল বাংলাদেশ ব্যাংক। সেই অনুরোধ অবজ্ঞা করতে তিনি দ্বিধান্বিত হননি।’ (মানবজমিন ০৭.০৯.২০১২)
যে কারণে অর্থমন্ত্রী মুহিত অসহিষ্ণু হন, ঠিক সেই একই কারণে আওয়ামী মিডিয়া হলমার্ক কেলেঙ্কারি বিষয়ে খবর প্রকাশে কার্পণ্য প্রকাশ করে। কিন্তু তখন এগিয়ে আসে দৈনিক মানবজমিন। এই পত্রিকার দুটি সাহসী রিপোর্টে জানা যায় হলমার্ক কেলেঙ্কারির নায়ক তানভীর মাহমুদ তফসিরের উত্থান কাহিনী এবং তার সঙ্গে আওয়ামী সরকারের সংশ্লিষ্টতা।

প্রথম রিপোর্টে লায়েকুজ্জামান জানান, মাত্র এক দশক আগে আগারগাঁও তালতলা বাজারে ছোট একটি মুদি দোকান ছিল তার। এ দোকান চালাতেন পিতাকে সঙ্গে নিয়ে। এতে সংসার চলতো না তাদের। এই সময়ে সংসারে অভাব-অনটন ঘোচাতে মাত্র ৩,০০০ টাকা বেতনে একটি গার্মেন্ট কম্পানিতে চাকরি নেন। মাত্র এক দশক পরে সেই গার্মেন্ট শ্রমিক এখন হাজার কোটি টাকার মালিক। রাজকীয় বিলাসী জীবন তার। মিরপুরের শেওড়াপাড়ায় চোখ ধাঁধানো রাজপ্রাসাদের মতো বাড়ি। বাড়ির ভেতরটা যেন স্বর্গপুরী। বিদেশি সব কারুকার্য খচিত ফিটিংস ও ঝাড়বাতি। ঝকঝকে তকতকে দামি সব গাড়ি। শেওড়াপাড়ার এই বাড়ির পাশেই বিশাল গ্যারাজ। পাজেরো, প্র্যাডো, ল্যান্ডক্রুজার মিলে বড় গাড়ি ১৫টি। প্রাইভেট কার ১২টি।

যখন যেটি পছন্দ হয় সেটি নিয়ে বের হন। তানভীর চলেন রাজকীয় স্টাইলে। রাজপথে তার গাড়ির আগে-পিছে থাকে ১০টি গাড়ি। এসব গাড়িতে থাকে তার সশস্ত্র ক্যাডাররা। এরা সবাই তার নিরাপত্তার দায়িত্বে নিয়োজিত। মানুষকে খাওয়ানোর জন্য কখনও একটি-দু’টি গরু কেনেন না, গরু কেনেন ট্রাক ভরে। এখন গ্রামের বাড়িতে যান ঘন ঘন। সেখানে উত্সব করেন, মানুষকে খাওয়ান, সংবর্ধনা নেন। চলাফেরা করেন ক্ষমতাধর বড় বড় লোকদের সঙ্গে। তার ২০৫/৪ রোকেয়া সরণি শেওড়াপাড়ার কার্যালয়ে মাঝেমধ্যে আসেন বর্তমান সরকারের একজন উপদেষ্টা, একজন প্রতিমন্ত্রী ও কয়েকজন এমপি। এখন তার বিলাসী জীবন হলেও মাত্র এক দশক আগেও ছিলেন কপর্দকশূন্য। থাকতেন শেওড়াপাড়ার ভাড়ার বাসায়।

২০০১ সালেও আগারগাঁও তালতলা বাজারে ছোট একটি মুদি দোকান ছিল তানভীরের পিতার। সকালে-বিকালে মুদি দোকানে পিতার সহযোগী ছিলেন তিনি। সংসারের নিদারুণ অভাব-অনটন ঘোচাতে মাত্র ৩০০০ টাকা বেতনে একটি গার্মেন্ট কম্পানিতে চাকরি নেন তানভীর। তার উত্থান শুরু তত্ত্বাবধায়ক জমানার শেষ দিকে। গার্মেন্টের চাকরি ছেড়ে নিজে একটি গার্মেন্ট ফ্যাক্টরি দেন। ওই সময় তার সঙ্গে সম্পর্ক হয় সোনালী ব্যাংক শেরাটন শাখার সে সময়ের ম্যানেজারের সঙ্গে। ওই ম্যানেজারকে ধরে অল্প কিছু টাকা ঋণ নিয়ে ব্যবসা শুরু করেন। সেটা ২০০৬ সাল। ২০০৮ সালে সরকার পরিবর্তন হলে তানভীর সম্পর্ক গড়ে তোলেন বর্তমান সরকারের একজন প্রভাবশালী উপদেষ্টার সঙ্গে। ওই উপদেষ্টাকে তিনি তার প্রতিষ্ঠান হলমার্কের উপদেষ্টা করেন। ২০০৯ সাল থেকে সকল নিয়মনীতি উপেক্ষা করে সোনালী ব্যাংকে তানভীরের ঋণ বর্ধিত হতে শুরু করে অস্বাভাবিকভাবে ।
ব্যবসা প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলার চেয়ে তানভীর বেশি নজর দেন জমি কেনার দিকে। মিরপুর শেওড়াপাড়া এলাকায়। একের পর এক জমি কিনতে থাকেন বেশি দামে।

বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে, ২০০৯ সাল থেকে বর্তমান পর্যন্ত তানভীর কম করে হলেও ত্রিশটি দামি গাড়ি উপহার দিয়েছেন সোনালী ব্যাংকের বড় বড় কর্মকর্তা ও রাজনৈতিক নেতাদের। দেড়শ’ জন আনসার পাহারা দেয় রোকেয়া সরণির হলমার্কের প্রধান কার্যালয়সহ তানভীরের বিভিন্ন ব্যবসা প্রতিষ্ঠান। তানভীরের নিজের কাছে থাকে একটি পিস্তল। সব সময় চলেন বিশাল বহর নিয়ে। মিরপুর শেওড়াপাড়া এলাকা এবং সাভারের হেমায়েতপুরে আছে তার বিশাল ক্যাডার বাহিনী। শেওড়াপাড়া এলাকার তার এক প্রতিবেশী জানান, তানভীর তার বর্তমানের রাজকীয় বাড়িতে উঠেছেন মাত্র দুই বছর হলো, এর আগে ওই মহল্লারই একটি বাড়িতে ভাড়া থাকতেন সপরিবারে। নতুন বাড়িতে ওঠার পর গত দু্ই বছর ধরে ঈদের সময় এক এলাহি কাণ্ড দেখা যায় তার বাড়ির সামনে। পুরো রমজান মাস ধরে গরু, মহিষ, উট আসে ট্রাক বোঝাই করে। ওই সব গরু, মহিষ, উট জবাই করে খাওয়ানো হয় রোজাদারদের। দান-খয়রাতও করেন যথেষ্ট।

মিরপুর এলাকার মানুষ জানে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আশুগঞ্জ থেকে আগামী নির্বাচনে অংশ নেয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন তিনি। সে কারণে এখন ঘন ঘন এলাকায় যাচ্ছেন ক্ষমতাসীন দলের প্রভাবশালী নেতাদের সঙ্গে নিয়ে। (মানবজমিন, ১.৯.২০১২)
একই দিনে দ্বিতীয় রিপোর্টে জাবেদ রহিম বিজন জানান, রাজকীয় সেই সংবর্ধনার কথা এখন মুখে মুখে। কোটি টাকা খরচ করে বিশাল আয়োজনের সেই সংবর্ধনার গল্প নতুন করে উঠে এসেছে আবার ব্রাহ্মণবাড়িয়ার মানুষের মুখে মুখে। আলোচিত শিল্প প্রতিষ্ঠান হলমার্কের মালিক তানভীর মাহমুদ তফসিরের এত্ত বড় সংবর্ধনার রহস্য মানুষ ভেদ না করতে পারলেও এখন বুঝতে পারছেন ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আশুগঞ্জের তারুয়া গ্রামের মানুষ। সংবর্ধনার আগে কেউ তার নামও শোনেনি। সংবর্ধনার সময়েই আলোচনা ছড়িয়েছিল আগামী সংসদ নির্বাচনে সরাইল-আশুগঞ্জ আসন থেকে মনোনয়ন চাইবেন তানভীর। এর অংশ হিসেবেই বিশাল সংবর্ধনা।
গত বছরের ২০ জানুয়ারি হয় এই সংবর্ধনা। সংবর্ধনার একদিন আগেই এ ব্যবসায়ী চলে আসেন গ্রামের বাড়িতে। নিজেই তদারকি করেন সব। এর আগে বিজিএমইএ আয়োজিত ২২তম বাটেক্সপোতে পোশাক শিল্পের সেরা উদ্যোক্তার পুরস্কার পান তানভীর মাহমুদ। এ উপলক্ষেই বিশাল সংবর্ধনার আয়োজন।

সংবর্ধনায় যোগদানকারীদের অনেকেই তখন বলেন, সংবর্ধনার আয়োজন চোখ ধাঁধিয়ে দিয়েছে সবার। বলাবলি হচ্ছিল, রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের অনুষ্ঠানও এত গর্জিয়াস হয় না। সংবর্ধনা অনুষ্ঠান ঘিরে ওই ব্যবসায়ীর গ্রাম তারুয়ায় সাজসাজ রব পড়ে গিয়েছিল। বসানো হয়েছিল মেলা। সংবর্ধনা অনুষ্ঠানের প্রায় দুই সপ্তাহ আগে থেকে জেলার প্রায় সর্বত্র লাগানো হয় সংবর্ধনা অনুষ্ঠানের ঢাউশ সাইজের পোস্টার। পোস্টারের অর্ধেকাংশে জুড়ে দেয়া হয় ট্রফি গ্রহণের সেই ছবি। প্রায় ১০ হাজার পোস্টার লাগানো হয়। সংবর্ধনা অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর এক উপদেষ্টা। তবে বিশেষ অতিথি মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ক্যাপ্টেন (অব.) এবি তাজুল ইসলাম ও সংসদ সদস্য আ ম ওবায়দুল মুকতাদির চৌধুরী এ সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে যোগ দেননি।

জানা গেছে, সংবর্ধনার মঞ্চ তৈরি ও অনুষ্ঠান ব্যবস্থাপনার দায়িত্ব দেয়া হয় ঢাকার একটি প্রতিষ্ঠানকে। প্রায় ২০ লাখ টাকা চুক্তি হয় তাদের সঙ্গে। বিশাল প্যান্ডালে ৩ সহস্রাধিক লোক বসার ব্যবস্থা করা হয়। সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে বসানো হয় ৩১টি স্পিকার, ২টি ডিজিটাল ডিসপ্লে। নিরাপত্তার আয়োজনে ছিল ক্লোজ সার্কিট ক্যামেরা ও মেটাল ডিটেক্টর। ছিল ৫শ’ কেভির দুটি জেনারেটর। দুপুরে আপ্যায়ন করা হয় হাজারেরও বেশি অতিথিকে। খাবার মেনুতে ছিল বিভিন্ন জাতের মাছ আর মুরগি। সবকিছু দেখাশোনার জন্য নিয়োগ দেয়া হয় দেড় শতাধিক স্বেচ্ছাসেবক। পুরো সংবর্ধনা অনুষ্ঠানটি একটি প্রাইভেট চ্যানেলে ২০ মিনিট প্রচারের চুক্তিও করা হয়। ২শ’ ফুলের তোড়া আনা হয় অতিথিদের দেয়ার জন্য। সংবর্ধিত ব্যবসায়ী প্রধান অতিথির কাছ থেকে গ্রহণ করেন সোনার ক্রেস্ট। অতিথিদের ফুল দেয়ার জন্য ছিল ২০ তরুণী। সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে যোগ দিতে ৩শ’ গাড়িতে করে আসেন হলমার্কের স্টাফরা। গাড়িতে গাড়িতে সয়লাব হয়ে যায় তারুয়া গ্রামের সব রাস্তাঘাট। সংবর্ধনা অনুষ্ঠানের মঞ্চের পাশে বসানো হয় মেলা। মেলা চলে ৩ দিন ধরে। সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে গান গাওয়ানোর জন্য আনা হয় ঢাকা থেকে প্রখ্যাত শিল্পীকে। সব মিলিয়ে হুলুস্থুল কারবার।

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার এক চিত্রগ্রাহক বলেন, আমি প্রথমে গিয়ে গরু-ছাগলের ভিড় দেখে মনে করেছিলাম, এখানে কোন হাট বসেছে। পরে আমার ভুল ভাঙে। এগুলো অতিথিদের খাওয়ানোর জন্য জড়ো করা হয়েছিল। এই ব্যবসায়ী বা শিল্পপতির পরিচয় এতদিন তারুয়া গ্রামেই ছিল সীমাবদ্ধ। সংবর্ধনার আয়োজন আর প্রচারণা তাকে জেলাব্যাপী পরিচিত বা আলোচিত করে তোলে। আর হলমার্ক-কেলেঙ্কারির পর রাজকীয় সংবর্ধনা কথা এখন ব্রাহ্মণবাড়িয়াবাসীর মুখে মুখে। (মানবজমিন ১.৯.২০১২)
পরবর্তীকালে তানভীরের সঙ্গে প্রতিমন্ত্রী রিটায়ার্ড ক্যাপ্টেন তাজুল ইসলাম ও আওয়ামী এমপি ওবায়দুল মুকতাদিরের সম্পর্ক বিষয়ে রিপোর্ট প্রকাশিত হয়। লায়েকুজ্জামান ও জাবেদ রহিম বিজনের দুটি রিপোর্টে প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টার নামটি অপ্রকাশিত থাকে। পরবর্তী সময়ে এই নামটিও প্রকাশিত হয়। তিনি ছিলেন চোখের ডাক্তার সৈয়দ মোদাচ্ছের আলী এবং তিনি স্বীকার করেন শেরাটনের সোনালী ব্যাংক ব্রাঞ্চে তার যাতায়াত ছিল।
৪ অক্টোবর ২০১২-তে এসব আওয়ামী নেতার স্নেহপুষ্ট তানভীর শেষ পর্যন্ত গ্রেফতার হন। তার সঙ্গে গ্রেফতার হন তার স্ত্রী জেসমিন ও ভায়রা তুষার আহমেদ। হলমার্কের সাত এবং সোনালী ব্যাংকের ২০ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করে দুদক।

এর কয়েকদিন পরে অর্থমন্ত্রী মুহিত বলেন, ‘২০১০ সালেই হলমার্কের বিষয়টি বাংলাদেশ ব্যাংক জেনেছিল। ২০১০ সালে তারা কিছুই করেনি। ২০১২ সালে তারা জেগে উঠল। এতে প্রমাণিত হয়, বাংলাদেশ ব্যাংক নিজে অতটা সক্ষম নয়।’ (প্রথম আলো ১৭.১০.২০১২)।
যেটা অর্থমন্ত্রী বলেননি সেটা হলো, তিনি নিজেই ‘২০১০ সাল থেকে ঘুমিয়ে ছিলেন’ এবং তাই তিনি কিছুই করেননি। তার বক্তব্যে প্রমাণিত হয় যে, তার সঙ্গে বাংলাদেশ ব্যাংক গভর্নর আতিউর রহমানের চরম দ্বন্দ্ব রয়েছে এবং তিনি (অর্থমন্ত্রী) এই অন্তর্দ্বন্দ্ব মেটাতে অক্ষম।
অর্থ মন্ত্রণালয়ের শীর্ষ স্থানে থাকতে মুহিত ভালোবাসেন। সামরিক শাসনের তীব্র সমালোচক হলেও সামরিক শাসক এরশাদের প্রথম অর্থ উপদেষ্টা ছিলেন তিনি। এরপর শেখ হাসিনার অর্থমন্ত্রী হয়েছেন। তবে অর্থমন্ত্রী কখনোই পদত্যাগের ইচ্ছা প্রকাশ করেননি। সূচনা থেকেই একের পর এক আর্থিক কেলেঙ্কারি সত্ত্বেও প্রধানমন্ত্রী তাকে পদত্যাগে বাধ্য করেননি। সম্ভবত প্রধানমন্ত্রী ভেবেছিলেন, তার নিজের মাথার ওপর পদ্মা সেতু দুর্নীতিবিষয়ক ওয়ার্ল্ড ব্যাংকের ঝুলন্ত ডেমোক্লিসের তলোয়ার মোকাবিলায় ওয়ার্ল্ড ব্যাংকের সাবেক এই অলটারনেট ডিরেক্টর মুহিতের সাহায্য দরকার হবে। মুহিত অর্থমন্ত্রী থেকে যান। কিন্তু মুহিত পারেননি তার বসকে বাঁচাতে।

অন্যদিকে আতিউর রহমানও বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর থেকে যান। সম্প্রতি তার চাকরির মেয়াদ বাড়ানো হয়েছে।
আর ড. সৈয়দ মোদাচ্ছের আলীও তার উপদেষ্টা পদে বহাল আছেন।
আওয়ামী সরকারের এই আমলে আর্থিক ক্ষেত্রে অনেক কমেডির মধ্যে এটি একটি।
আট. ২৪ নভেম্বর ২০১২-তে আশুলিয়ায় তাজরীন ফ্যাশনস লিমিটেডের গার্মেন্টস কারখানায় আগুন লেগে ১১১ কর্মী পুড়ে মারা যায়। তাজরীনের ম্যানেজিং ডিরেক্টর দেলোয়ার হোসেন একজন সরকার সমর্থক ব্যক্তি রূপে পরিচিত।

নয়. দুই দিন পরেই ২৬ নভেম্বর ২০১২-তে চট্টগ্রামে বহদ্দার পুকুর পাড়ে নির্মীয়মান ফ্লাইওভারের গার্ডার ধ্বসে ১৫ জন নিহত হয়। প্রয়াত আওয়ামী লীগ নেতা জাহাঙ্গীর সাত্তার টিংকু-র মালিকানাধীন ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান অ্যাকটো পারিসা লিমিটেড এবং মীর আক্তার কনসট্রাকশন দুটি ফার্ম যুগ্মভাবে এই ফ্লাইওভার নির্মাণের কার্যাদেশ পেয়েছিল।
দশ. ১১ জানুয়ারি ২০১৩-তে ওয়ার্ল্ড ব্যাংক চূড়ান্তভাবে জানিয়ে দেয় আওয়ামী সরকারের দুর্নীতির কারণে তারা পদ্মা সেতু প্রকল্পে অর্থায়ন করবে না। ইতিপূর্বে ওয়ার্ল্ড ব্যাংক যখন এই অভিযোগটি আনে, তখন বহু গড়িমসির পরে যোগাযোগমন্ত্রী আবুল হোসেন পদত্যাগ করেন। কিন্তু ক্ষতিপূরণ স্বরূপ তাকে ‘দেশপ্রেমিক’ রূপে আখ্যায়িত করেন প্রধানমন্ত্রী। আবুল হোসেন ইতিমধ্যে শেখ হাসিনার ছবিসহ তিনটি বড় বিলবোর্ড স্থাপন করেন ফার্মগেট থেকে প্রধানমন্ত্রীর সচিবালয় পর্যন্ত, যেখানে শেখ হাসিনার স্তুতি বড় অক্ষরে দেখানো হয়েছে। পদ্মা সেতু দুর্নীতিতে আওয়ামী সরকারের অন্যান্য কারা জড়িত ছিলেন সে বিষয়ে গুঞ্জন শোনা গেলেও মেইনস্টৃম পত্রিকায় অসমর্থিত থেকে যায়।
এগারো. কিন্তু ১৯ এপৃল ২০১৩-তে কানাডায় টরন্টোর আদালতে কানাডিয়ান কম্পানি এসএনসি-লাভালিন ও পদ্মা সেতু দুর্নীতিসংক্রান্ত মামলায় এসব নাম প্রকাশিত হয়।

আদালতে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী ডায়রিতে প্রথমেই রয়েছে মন্ত্রীর কথা। সংক্ষেপে লেখা হয়েছে, এমআইএন বা মিন। এই ব্যক্তি হচ্ছেন সাবেক যোগাযোগমন্ত্রী সৈয়দ আবুল হোসেন। মন্ত্রীর জন্য বরাদ্দ ৪ শতাংশ ঘুষ।
কায়সার লিখে তার পাশে লেখা রয়েছে ২ শতাংশ। এই কায়সার হচ্ছেন সাবেক পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী আবুল হাসান চৌধুুরী। তিনিই এসএনসি-লাভালিনের সঙ্গে যা সাবেক যোগাযোগমন্ত্রীর যোগাযোগ ঘটিয়ে দিয়েছিলেন।
এর পরই রয়েছে নিক্সনের নাম। কাজ পেলে তিনিও ২ শতাংশ ঘুষ পেতেন। এই নিক্সন হচ্ছেন মুজিবুর রহমান নিক্সন চৌধুরী। ডায়রিতে তার পরিচয় লেখা রয়েছে প্রধানমন্ত্রীর ভাতিজা। নিক্সন চৌধুরী হুইপ নুরে আলম চৌধুরীর ছোট ভাই। নুরে আলম চৌধুরী লিটন চৌধুরীর ছোট ভাই। নুরে আলম চৌধুরী লিটন চৌধুরী নামে পরিচিত। তিনি শেখ হাসিনার ফুপাত ভাইয়ের ছেলে। তিনিও দুই পক্ষের মধ্যে যোগাযোগ করিয়ে দেন।

এরপর রয়েছে ‘মসি রহমানের নাম’ তিনি হচ্ছেন প্রধানমন্ত্রীর অর্থনৈতিক উপদেষ্টা মশিউর রহমান। তার নামের পাশে রমেশ শাহ (লাভালিনের সাবেক কর্মকর্তা) লিখে রেখেছেন ১ শতাংশ ঘুষের কথা।
আরো ১ শতাংশ অর্থ ঘুষের জন্য ডায়রিতে, ‘সেক্রেটারি’ কথা লেখা রয়েছে। এই সেক্রেটারি হচ্ছেন সাবেক সেতু সচিব মোশারফ হোসেন ভূইয়া।
সূত্র জানায়, নিক্সনের নামের পরই রয়েছে আরেকটি নাম। তার জন্য বরাদ্দ ২ শতাংশ বলে ডায়রিতে উল্লেখ রয়েছে। (প্রথম আলো ২০.০১.২০১৩)
পাঠকরা লক্ষ্য করুন মোটা হরফের শব্দগুলো। আরেকটি নাম ...। টরন্টোর কোর্টে অভিযোগ গঠনের সময়ে উপস্থিত ছিলেন প্রথম আলো, ইত্তেফাকসহ আরো কয়েকটি পত্রিকার প্রতিনিধি। তারা সবাই জানেন নামটি কার। এই আরেকটি নাম যে কার, সেটা প্রথম আলোর সম্পাদকসহ আরো বহু সম্পাদক জানেন। তাদের সঙ্গে জেলবন্দি সম্পাদক মাহমুদুর রহমানের পার্থক্য এই যে, মুক্ত থাকলে স্কাইপ সংলাপ এবং রাজীবের নূরানীচাপা-র মতো কানাডায় প্রকাশিত সব নামই হয়তো তিনি দৈনিক আমার দেশ-এ প্রকাশ করতেন জাতীয় স্বার্থে। এই অতি স্পর্শকাতর নামটি উচ্চারিত হতে পারে সেই দুশ্চিন্তায় কানাডায় মামলা শুরু হওয়ার পরপরই বাংলাদেশে মাহমুদুর রহমানকে গ্রেফতার করা হয়। বস্তুত, ইন্টারনেট ও মোবাইল ফোনের কল্যাণে এই স্পর্শকাতর নামটি এখন আর গোপন নেই। এটি অনেকেই জানেন। সম্ভবত শেখ হাসিনা ও তার বোন শেখ রেহানাও জানেন। আগামী ২৯ মে-তে টরেন্টোর সুপিরিয়র কোর্টে এই মামলার পূর্ণাঙ্গ শুনানি শুরু হবে। তখন এই নামটি হয়তো আবার আদালতে উচ্চারিত হবে। তখন হয়তো বাংলাদেশের সবাই নামটি জানবে।

পদ্মা সেতুর পরামর্শকের কাজটি পেলে এসএনসি-লাভালিন আয় করত ৪৭ লক্ষ ডলার অর্থাত্ ৩৭৬ কোটি টাকা। এ ১২ শতাংশ হিসেবে ঘুষ দেয়ার কথা ছিল ৪৫ কোটি ১২ লক্ষ টাকা।
বারো. বুধবার ২৪ এপৃল ২০১৩-তে সাভারে সকাল নয়টার দিকে নয়তলা ভবন রানা প্লাজা হঠাত্ ধসে যায়। এই দুর্ঘটনায় হতাহতদের উদ্ধারের কাজ এখন চলছে। (সুত্র, আমার দেশ, ২৮/০৪/২০১৩)
2