বৃহস্পতিবার, ৩০ মার্চ, ২০১৭

বাংলাদেশ ব্যাঙ্ক রিজার্ভ চুরি বিষয়ে FBI Investigation

বাংলাদেশ ব্যাংকের কাছে রক্ষিত জনগণের $৮১ মিলিয়ন ডলার চুরি সংক্রান্ত তদন্তে FBI বলেছে এই চুরি ছিল রাষ্ট্রের সৌজন্যে বা তত্ত্বাবধানে। FBI অর্থাৎ আমেরিকান প্রশাসনের ভাষাতেঃ

'state-sponsored'



অবশ্য FBI সুনির্দিষ্ট কারো নাম উল্লেখ করেনি। এই ধরনের স্পর্শ কাতর বাটপারি বা জালিয়াতির ক্ষেত্রে মূল চোরের নাম প্রকাশ করা হয় একেবারেই তদন্ত ও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার পর। রাষ্ট্রীয় বারগেনিং বা দর-কষাকষির সুযোগ হিসাবে প্রধান চোরের নাম ও বিস্তারিত তথ্য হাতে রাখাই FBI বা আমেরিকার জন্য অধিক লাভজনক। এখন দেখার বিষয় আফটার ইন্ডিয়া, আমেরিকা এখন কি কি সুবিধা আদায় করে নিচ্ছে, চুরির প্রধান রাষ্ট্রীয় স্পন্সর বা 'state-sponsor এর নাম প্রকাশ করে দেওয়া বা আপাতত নাম গোপন রাখার বিনিময়ে।

রাজনৈতিক আপোষ যায় হোক না কেন নীল নকশার প্রধান কারিগরের নাম আজীবন গোপন থাকবে তা আশা না করাই বুদ্ধিমানের কাজ। FBI আপাতত নাম প্রকাশ না করলেও কিছু প্রশ্ন ও তাঁর উত্তর খুঁজে বের করার ভেতর লুকিয়ে আছে পদ্মা মেঘনা যমুনা পারের অর্থ দস্যুর নাম। আমাদের জানার চেষ্টা করতে হবেঃ
  

প্রশ্ন:

১) রিজার্ভ চুরির ঘটনা দেশের সংবাদ পত্রে প্রকাশ হতে একমাস সময় লাগলো কেন


২) ফিলিপিনের সংবাদ পত্রে চুরির ঘটনা ফাঁস না হলে বাংলাদেশের সংবাদ পত্রে তা আদৌ প্রকাশ হত কিনা ?


৩) সরকারি সূত্রের দাবী মত এই চুরির ঘটনা প্রধান মন্ত্রীর নোটিশে আনতে ৩০ দিন দেরি করার কারণ কি ?


৪) ঘটনার প্রকাশ প্রথমে অর্থমন্ত্রীর কাছে না হয়ে প্রধান মন্ত্রীর কাছে হল কেন?
৫) ১৯ মার্চ তারিখে অর্থ মন্ত্রী 'জনকণ্ঠে' বিবৃতিতে বলেন ১৭ মার্চ 'প্রথম আলো' তাঁর যে সাক্ষাৎকার নিয়েছিল সেখানে প্রথম আলোর সাথে তাঁর অফ দ্যা রেকর্ড কথাবার্তা প্রথম আলো ছাপিয়ে দিয়েছে যা অগ্রহন যোগ্য। এই অফ দা রেকর্ড ফাঁস হওয়া বক্তব্যকে কেন আস্থাতে নেওয়া হয়নি? যুগান্তর এ বিবৃতির শর্ট লিংকঃ দৈনিক জনকণ্ঠ পত্রিকাতে অর্থমন্ত্রী তাঁর আগের বক্তব্য অনুযায়ী প্রথম আলোকে দেওয়া বক্তব্যকে অগ্রহন যোগ্য বলে বিবৃতি দিলেন

৬) প্রথম আলোর সাথে সাক্ষাৎকারে অর্থমন্ত্রীর অফ দ্যা রেকর্ড করা মন্তব্যকে "অসত্য" আখ্যা না দিয়ে "অগ্রহন-যোগ্য" বলার কারণ কি ?

৭) বাংলাদেশ ব্যাংকে অন-লাইন সিকিউরিটি প্রভাইডের জন্য রাকেশ আস্তানা নামের যে ব্যক্তিকে নিয়োগ দেওয়া হয়, তার রেফারেন্স কি/কে?
৮) লোকাল আইটি এক্সপার্ট জোহা ৬ দিন নিখোঁজ থাকার পেছনের কারণ উদঘাটন করা হচ্ছেনা কেন?

৯) জোহা অন্তর্ধান রহস্যের কিনারা করতে প্রশাসনের উৎসাহ আদৌ আন্তরিক ছিল কি না?

১০) চুরির ঘটনা ঘটার ১ মাস পর চুরির ঘটনা প্রকাশের পরে বাংলাদেশ ব্যাংক গভর্ণর আতিয়ার রহমানকে যথাযথ তদন্ত ও জেরা ব্যাতীত অবসর দেওয়া হল অথছ তাঁকে বিচারের সম্মুখীন করা হল না কেন?

১১) বাংলাদেশ ব্যাংকের কম্পিউটার মনিটরিং রুমের সিকিউরিটি ক্যামেরা বন্ধ হল কেন এবং তা যথাযথ সময়ে রিপেয়ার করা হয়নি কেন?

১২) FBI তাঁদের রিপোর্ট প্রকাশের মাত্র ৫ দিন আগে বাংলাদেশ ব্যাংক ভবনের ১৩ তলাতে অস্বাভাবিক অগ্নিকান্ড ঘটার পেছনের কারণ কি ?

১৩) FBI রিপোর্ট প্রকাশের ঠিক আগে, ইন্টারনেট সুবিধা বঞ্চিত ও বিশ্ব থেকে বিচ্ছিন্ন উত্তর কোরিয়ার হ্যাকারদের দায়ী করার কারণ কি?
 
এবং  
১৪) দেশের প্রধান বিরোধী দল বিএনপি, তাঁদের অবস্থান প্রকাশ করার পরের দিনই প্রেজেন্টেশন প্রস্তুতকারী BNP নেত্রী Shama Obaed এর নামে মামলা করার কারণ কি?


এবার এক নজর দেখে নিন FBI তাঁদের বক্তব্যে "রাষ্ট্রীয় তত্ত্বাবধানে" চুরি আখ্যা দেবার তিন ঘণ্টার ভেতর আন্তর্জাতিক গন-মাধ্যমে বাংলাদেশ ব্যাংক চুরি নিয়ে হাই-লাইটস।   


ডেইলি স্টারDaily Star"Bangladesh Bank heist 'state-sponsored': FBI official"https://goo.gl/VGTV5E





বিজনেস ইনসাইডারBusiness Insiders
"US authorities say the $81 million Bangladesh Bank heist was 'state-sponsored"
https://goo.gl/0nJ1Mh  





টাইমস অফ ইন্ডিয়াTimes of India
"Bangladesh Bank heist was 'state-sponsored': US official"শর্ট লিংকঃ https://goo.gl/5itEyz





Reuters"Bangladesh Bank heist was 'state-sponsored': U.S. official"শর্ট লিংকঃ https://goo.gl/s0m1iP





দ্যা অয়ার
The Wire
"That inside $81m Bangladesh Bank Heist Here’s what we know"
শর্ট লিংকঃ https://goo.gl/C1ed5u


  

ABS CB NEWS"Bangladesh Bank heist was 'state-sponsored,' says FBI official"শর্ট লিংকঃ https://goo.gl/oIoJCJ






দ্যা হিন্দু
The Hindu
"Bangladesh Bank heist ‘state’ driven"
শর্ট লিংকঃ https://goo.gl/B2JNqt

মঙ্গলবার, ২১ মার্চ, ২০১৭

আওয়ামী অপপ্রচারের উত্তর- ২

ক্যান্টনমেন্টে তৈরী দল/ সামরিক দল/ মৌলবাদী জামাতের দোসর- বিএনপি? আমরা জানি আমাদের কর্মী ও সমর্থকদের এধরণের প্রশ্নের মুখোমুখি হতে হয় প্রায়। যারা এই প্রশ্নের উত্তর দিতে হিমশিম খেয়ে যান, তাঁদের জন্য আজকের পোস্ট।


~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~
অসংখ্য মিথ্যার আবরনে ঢাকা পড়ে গেছে সত্য। এই মিথ্যা নিয়ে যারা বেসাতি বাণিজ্য করে তারাই আওয়ামীলীগ। আওয়ামীলীগ এর তৈরী দালাল মিডিয়ার শুনানো হাজার মিথ্যা শুনতে শুনতে আমাদের সাধারন মানুষের একটা বড় অংশ তাই এইসব মিথ্যাচারকে সত্য মনে করে বসে আছে। আজ যারা সত্য উন্মোচনে জড়িত তারা অবধারিত ভাবে আওয়ামী খড়্গের নীচে মাথা দিয়ে বসে আছে। তাই বলে কি সত্য উন্মোচন বন্ধ হবে? কখনোই না।



আজকে একটা এরকম সত্য উন্মোচনের দ্বার প্রান্তে।

বিএনপি নাকি ক্যান্টনমেন্ট তৈরী দল?
বিএনপি নাকি স্বৈরাচারী দল?
বিএনপি নাকি মৌলবাদী জামাতের দোসর দল?

মানুষ বিচার করুক কারা কি! কিছু দিনের জন্য প্রপাগান্ডা মেশিন দিয়ে সত্য লুকিয়ে ফেলা যায় ঠিকি, কিন্তু ইতিহাসের রণাঙ্গনে একদিন সুন্দরের বিজয় অনিবার্য হয়ে ওঠে।
কিছু প্রশ্ন আছে যায় উত্তরের ভেতর নিহিত আছে তিক্ত সত্য। উত্তর গুলো আপনাদেরকে খুঁজে বাহির করার দায়িত্ব দিতে চাই।


১৯৮৬ সালে এরশাদের নির্বাচনে অংশ নিতে কোন দুটি দল বন্ধুত্ব করেছিল?
১৯৯৬ সালে কারা জামাতের সাথে সমঝোতায় গিয়ে সরকার গঠন করছিলো?
২০০৭ সালে স্থগিত নির্বাচনের আগে কারা শায়খুল হাদীসের সাথে বাংলাদেশে ফতোয়াকে বৈধতা প্রদান সহ পাচ দফা চুক্তি সই করেছিলো?
বিএনপি না আওয়ামীলীগ?
১৯৮৬ সালে কারা গোলাম আযমের সাথে দেখা করে দোয়া নিয়েছিল?
এই মিথ্যার বেসাতি করা দলটির নাম কি ? 

৯ মাস মুক্তিযুদ্ধের পর ১৯৭২ সালের ১০ই জানুয়ারী জনাব শেখ মুজিব বাংলাদেশে পদার্পন করে। দেশবাসী তাকে পরম মমতায় বরন করে নেয়। তার পরই শুরু হয় বাঙ্গালীর স্বপ্নভঙ্গ। তৈরী হয় রক্ষীবাহিনী নিহত হয় ৩০ হাজার মুক্তিযোদ্ধা যারা তখন ও যৌবনের আলোকছটায় সমাজতন্ত্রের মাধ্যমে দেশটাকে পালটে দেবার কল্পনায় বিভোর ছিল। মুক্তি যুদ্ধের অন্যতম প্রধান সংগঠক আব্দুর রবের বক্তব্য অনুযায়ি ১০ জানুয়ারি ১৯৭২ সালে স্বদেশ প্রত্যার্পনের দিন থেকে স্বাধীনতা ভূলুণ্ঠিত হয়ে গিয়েছিল।
লিংকঃ ১০ জানুয়ারি ১৯৭২ নিয়ে আব্দুর রবের বক্তব্য
 


১৯৭৩ সালে ২২শে সেপ্টেম্বর সংবিধানের দ্বিতীয় সংশোধনী আনয়ন করে নিবর্তন মূলক জরুরী আইন চালু হয়। আর সর্বশেষ ১৯৭৫ সালের ২৫শে জানুয়ারী কুখ্যাত চতুর্থ সংশোধনীর মাধ্যমে বাকশাল চেপে বসল বাংলাদেশের অসহায় দূর্ভিক্ষ কবলিত জনতার ওপর। সুত্রঃ চতুর্থ সংশোধনীর কয়েকটি ধারা। ১১৭ক (১, ২, ৩ ও ৪)।

১১৭ ক । ১) রাষ্ট্রপতির নিকট যদি সন্তোষজনকভাবে প্রতীয়মান হয় যে এই সংবিধানের দ্বিতীয়ভাগে বর্নিত রাষ্ট্র পরিচালনার মূলনীতি সমূহের কোন একটি পরিপূর্নভাবে কার্যকর করার উদ্দ্যেশ্যে অনুরূপ করা প্রয়োজন, তাহা হইলে তিনি আদেশ দ্বারা নির্দেশ দিতে পারিবেন যে রাষ্ট্রে একটি রাজনৈতিক দল (অতঃপর জাতীয় দল নামে অভিহিত) থাকিবে।

২) যখন (১) দফার অধীন কোন আদেশ প্রনীত হয় তখন রাষ্ট্রের সকল রাজনৈতিক দল ভাঙ্গিয়া যাবে আর রাষ্ট্রপতি জাতীয় দল গঠন করিবার জন্য প্রয়োজনীয় সকল পদক্ষেপ গ্রহন করিবেন।

৩) জাতীয় দলের নামকরন, কার্যসূচী, সদস্য ভূক্তি, সংগঠন, শৃঙ্খলা, অর্থসংস্থান, এবং কর্তব্য ও দায়িত্ব সম্পর্কিত সকল বিষয় রাষ্ট্রপতির আদেশ দ্বারা নির্ধারিত হবে।

৪) (৩) দফার অধীন রাষ্ট্রপতি কর্তৃক প্রনীত আদেশ- সাপেক্ষে প্রজাতন্ত্রের কর্মে নিযুক্ত কোন ব্যাক্তি জাতীয় দলের সদস্য হইবার যোগ্য হইবেন।


একজন মাত্র ব্যাক্তির এই রকম হর্তা কর্তা বিধাতা সেজে বসা এক মাত্র হিটলার, মুসোলিনী, ফ্রাঙ্কোর সাথে তুলনীয়। এর ধারাবাহিকতায় ১৯৭৫ সালের ২৮শে ফেব্রুয়ারী বাকশাল তৈরী হয়। ১৫ ই জুন ৪টা মাত্র পত্রিকা রেখে বাকী সবগুলোর প্রকাশনা বাতিল করা হয়। গনতন্ত্রের জন্য সারা জীবন লড়াইরত শেখ মুজিবের মনন কেন এত চেঞ্জ হয়েছিল এ ব্যাপারে বিষদ গবেষনার দাবী রাখে। আওয়ামী মননে সেই যে স্বৈরাচারী ঢুকছে আজ পর্যন্ত তা থেকে আর তারা বের হতে পারি নি।


আসুন দেখি সামরিক সরকার কারা?

বিএনপির ওপর যে মিথ্যাচার চলছে যে এরা নাকি ক্যান্টনমেন্ট দল আসলেই কি তাই? যে সামরিক ফরমানের দায়দায়িত্ব আওয়ামীলীগ বিএনপির ওপর চাপায় দেখি সেটা কি?

WHEREAS: the hole Bangladesh has been under Martial law since 15th August, 1975; and whereas Kandahar Mostaque Ahmed, and who placed the martial law, has made over the office president of Bangladesh to me and I have entered upon that office on the 6th day of November, 1975. AND WHEREAS in the interest of peace, order, security, progress, prosperity and development of country, I deem it necessary to keep in force the Martial law proclaimed on 15th August, 1975. 

১৯৭৫ সালে ১৫ই আগষ্ট খোন্দকার মোশতাক সামরিক আইন জারি করেছিলেন আর তৎকালীন সেনা, বিমান, নৌবাহিনী প্রধান তিন জনেই বিনা প্রতিবাদে তা মেনে নিয়েছিলেন। সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল শফিউল্লাহ পরে আওয়ামী সংসদ সদস্য আর বিমান বাহিনী প্রধান এয়ার ভাইস মার্শাল এ কে খন্দকার বর্তমান সরকারের সাবেক পরিকল্পনা মন্ত্রী।


মোশতাককে সরিয়ে বিচারপতি সায়েমকে ৬ই নবেম্বর যে ক্ষমতায় বসিয়েছিল তিনি হলেন খালেদ মোশারফ। আর খালেদ মোশারফ কাদের লোকছিল সেটা সামান্য ইতিহাস যে যানে সেই জানে। তখনোতো সামরিক শাষন বলবৎ ছিল।

তাই ১৯৭৫ সালের ঘটনা বহুল ৮৩ দিনে যে তিন দফা #সামরিক আইন জারি হয়েছিল তার সাথে কোথায় জিয়ার সংশ্লিষ্টতা কেউ কি বলবেন? বরং আওয়ামী প্রবীন নেতা খন্দকার মোশতাক আর খালেদ মোশারফ যে এর সাথে জড়িত তা পরিস্কার দেখা যায়।

বরং জেনারেল জিয়া ১৯৭৯ সালের ৬ই এপ্রিল সংসদে সর্বসন্মতিক্রমে #পঞ্চম #সংশোধনী গ্রহনের মাধ্যমে দেশকে পুনরায় গনতান্ত্রিক ব্যাবস্থায় ফেরত আনে। সেই হিসাবে #পঞ্চম #সংশোধনীকে সামরিক #আইন #প্রত্যাহারের #দলিল বিবেচনা করা অধিক যুক্তি সঙ্গত।


এখন বুকে হাত দিয়ে বলুন কারা সামরিক আইনের বাহক ও ধারক?


ইতিহাসকে বিকৃত করা আওয়ামীলীগের পুরাতন রোগ। কিন্তু কতদিন?


সত্য উন্মোচিত হোক।
#BlackCoffee

রণাঙ্গনে ব্রিগেডিয়ার শাবেদ শিং এবং জিয়া

মুক্তিযুদ্ধে শহীদ জিয়াউর রহমানের ভূমিকা আমরা কালুরঘাট বেতার আঁটকে ফেলেছি। অথছ ৭১ এর রণাঙ্গনে অসংখ্য নায়োকচিত যুদ্ধতে মুক্তিযোদ্ধা জিয়া নিজে উপস্থিত থেকে নেতৃত্ব দিয়েছেন।  

অসাধারন সে সব সাহসিকতার ইতিহাস লিখে বড় সড় একটা পাণ্ডুলিপি হতে পারে। হতে পারে সামরিক কৌশল ও সাহসিকতার ইতিহাসের গূরুত্বপূর্ণ প্রামাণ্য দলীল। অথছ জিয়াকে নিয়ে উল্লেখযোগ্য লেখালেখি খুব অপ্রতুল।  
  

অনেক বড় বড় ১৬ তম ডিভিশনের মুক্তি যোদ্ধা আছে, প্রবাসী মুক্তিযোদ্ধা আছে যাঁদের জন্য ফ্যামিলি সাইজের বই ছাপানো হয়, অথছ জিয়া সেখানে অনাদৃত অবহেলিত। এই দলে সেবাদাস ও অজ্ঞানতা মনোবৃত্তি থেকে নেতা তৈরী হয়। সে কারণে বুদ্ধিবিত্তিক ও ইতিহাসের মূল্যায়ন থেকে সিদ্ধান্ত গ্রহণে ব্যার্থতা বারবার আমাদের পেছনে টেনে ধরে। ইতিহাস শুধু মাত্র পুড়ান দিনের ঘটনার নির্মোহ বর্ণনা নয়, বরং ইতিহাসের পাঠ হচ্ছে অভিজ্ঞতা অর্জনের ঝুলি। আওয়ামীলীগ যখন এই সব নিয়ে গবেষনারতদের দলীয়ভাবে সমর্থন দেয় সেখানে আমাদের ইতিহাসের কর্মীদের রীতিমত অবহেলা করা হয়। যোগ্যদের ছুঁড়ে ফেলেমোসাহেব ও অযোগ্যদের মাথাই তুলে নাচা হয়। সে কারণেই সিদ্ধান্ত গ্রহণে গাফেলতি ও সঠিক সময়ে সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে প্রায়শ ভুল হয় আমাদের।  
       
   


মুল ঘটনাতে আসা যাক

৬ ই জুন, ১৯৭১ সাল- ফেনী জেলার পরশুরাম থানার সীমান্তের কাছাকাছি চান্দগাজী বাজার ছিল ক্যাপ্টেন অলির অধীনে একটা মুক্তাঞ্চল। ত্রিপুরাস্থ ইন্ডিয়ান সেনাবাহিনীর পূর্বাঞ্চল কমান্ডার ব্রিগেডিয়ার শাবেদ শিং, তাঁর দলবল নিয়ে চান্দাগাজী বাজার মুক্তাঞ্চল পরিদর্শনে আসেন। ডজন খানেক বাংলাদেশী ও ইন্ডিয়ান সাংবাদিক ছিলেন ব্রিগেডিয়ার শাবেদ শিং এর পরিদর্শন টিমে। বাংলাদেশের ওয়ার জার্নালিস্ট আব্দুল বাসার যিনি “সাপ্তাহিক সমাজ” পত্রিকার সম্পাদক ছিলেন, তাঁর লিখিত বর্ননা থেকে এই লেখার তথ্য সমূহ থেকে সংগৃহীত।
   

শাবেদ শিং পরবর্তীতে মেজর জেনারেল হয়ে ইন্ডিয়ান আর্মি থেকে অবসর নেন ও অমৃতসরে স্বর্ণ মন্দিরে ইডিয়ান সেনাদের ঝটিকা অপারেসনে নিহন হন। 


শাবেদ শিং ভারতীয় অফিসারদের গাড়ী বহর সহ নিরাপদ দূরত্বে পাহাড়ী পথ দিয়ে এগুতে থাকে। পথেই জিয়া শাবেদ শিং কে বললেন চান্দগাজী বাজারে তাদের খাটি বাংলাদেশী সারপ্রাইজ দিয়ে আপ্যায়ন করা হবে। শাবেদ শিং ছিলেন অভিজ্ঞ ও পোড় খাওয়া যোদ্ধা, তাঁর অতীত বিভিন্ন যুদ্ধ অভিজ্ঞতা শুনতে শুনতে দলটি এক সময় চান্দগাজী বাজারে পৌঁছে যায়।    


গোপনীয়তা সত্ত্বেও বাজারের মানুষ টের পেয়ে যায় বিদ্রহী অফিসার জিয়া সাথে করে ইন্ডিয়ান বিগ্রেডিয়ার নিয়ে এসেছেন এবং বাজারের সবচেয়ে বড় মিষ্টির দোকানে তাঁরা ঢুকেছেন। ব্রিগেডিয়ার শাবেদ শিং এর জন্য সারপ্রাইজের সেই বস্তু ছিল চন্দ্রগাজী বাজারের বিখ্যাত রশগোল্লা। ডাইবেটিকস রোগী ব্রিগেডিয়ার শাবেদ শিং মিষ্টি সারপ্রাইজ দেখে রীতিমত হতাশ হয়ে গেলেন। জিয়া ও অতিথি ইন্ডিয়ান অন্য অফিসাররা ততক্ষনে বিপুল উৎসাহে মিষ্টির পাতিল থেকে মুখে মিষ্টি পুড়ে ভক্ষণ শুরু করে দিয়েছেন। শাবেদ শিং অসহায় দৃষ্টিতে তাঁদের রশগোল্লা ভক্ষণ অবলোকন করে যাচ্ছেন।  
   
  

চান্দগাজী বাজারে জিয়া এসেছে, সাথে আছে ইন্ডিয়ান ব্রিগেডিয়ার ও একঝাক অফিসার। পাকিস্তানীদের কাছে কিছুক্ষনের মাঝেই এই খবর চলে গেল। সাথে সাথে বিশাল এক বহর নিয়ে পাক বাহিনী পশ্চিম দিক থেকে চান্দগাজির দিকে ধেয়ে আসতে লাগল। বিশাল লোভনীয় শিকার তাঁদের হাতের নাগালে। ভারতীয় ব্রিগেডিয়ারকে ধরতে পারলে সারা পৃথিবীকে দেখানো যাবে মুক্তিযুদ্ধ বলে কিছু নেই, সব ভারতীয় ষড়যন্ত্র। তারচেয়েও বড় ব্যাপার জেড ফোর্স কমান্ডার খোদ জিয়াউর রহমান সেখানে আছে। এই তো সেই গাদ্দার জিয়া যে পাকিস্তানীদের বিরুদ্ধে গিয়ে সরাসরি স্বাধীনতা ঘোষণা দিয়েছে। মার্চ, এপ্রিল মাসে যত পাকিস্তানি অফিসার সৈনিক নিহত হয়েছে তাঁর বেশির ভাগ মরেছে এই জিয়ার জেড ফোর্সের হাতে।   
  

জিয়ার চান্দগাজী পৌছনোর সংবাদ যেমন পাকিস্তানীরা পেয়ে গিয়েছিল ঠিক তেমনি পাকিস্তানীদের অগ্রসর হবার খবর পৌঁছে গেলো জিয়ার কাছে।  
   

সেই সময় মুক্তিযোদ্ধাদের অবস্থানের সংবাদ পেলে, মুক্তিকামী জনতা সেখানে আছড়ে পড়তো। মুক্তিযোদ্ধাদের মুখে তাঁরা যুদ্ধের গল্প শুনতে চাইতো, আশা আকাঙ্ক্ষা, স্বপ্নের কথা শুনতে চাইতো। বাড়ির মুরগী , খাসী জবাই করে মুক্তিদের খাওয়া দাওয়ার ব্যাবস্থা করতে পারলে ধন্য হত। তাঁরা বলতো “মুক্তি এসেছে”।  

   


তো জিয়ার আগমনের কথা, এক কান দু কান হতে হতে জনতার কানে পৌঁছে গেলো আবার পাকিস্তানীরাও প্রায় এসে গেছে। ব্যাস মুহুর্তে সবাই উধাও। বিপদে পড়ে গেলো ভারতীয় অফিসাররা। যুদ্ধ দেখতে এসে সত্যিকারের মৃত্যুন্মুখ যুদ্ধের মুখে পড়তে হবে তাঁরা ভাবতেও পারেনি।  
  
জিয়া নির্বিকার ভঙ্গিতে আরো একটি মিষ্টির হাঁড়ি তুলে নিলেন। পাসে দাঁড়ানো দুই মুক্তিযোদ্ধাকে কিছু একটা বলে বিদায় দিয়ে, জিয়া হাঁড়ির ভেতর হাত ঢুকিয়ে দিলেন আরো একটা মিষ্টি খাওয়ার জন্য।  

অভিজ্ঞ পাঞ্জাবী ব্রিগেডিয়ার তাঁর জীবনে বহু যুদ্ধের মুখোমুখি হয়েছেন কিন্তু এমন ভয়াবহ অবস্থায় কখনো পড়েনি। পাক বাহিনী ফায়ার ওপেন করেছে, মর্টারের আঘাতে গাছ গুলো ন্যাড়া হয়ে যাচ্ছে, রাইফেল মেশিন গানের গুলি নিরালস হুংকার দিচ্ছে। পিকনিক আমেজ মুহুর্তে উধাও, জান বাঁচানো ফরজ কাজ। ওদিকে জিয়া হাড়ি থেকে মিষ্টি সবার করে চলেছেন, আর অতিথিদের সমানে আশ্বাস দিয়ে যাচ্ছে কোন অসুবিধা হবে না, আপনারা বসুন এবং এই প্রসিদ্ধ মিষ্টি খেতে থাকুন।  

শাবেদ শিং বিশাল বপুর মানুষ, তিনি ছোটখাট গড়নের বাংলাদেশী ৪০০ টাকার মেজরের আশ্বাসে আস্বস্ত হতে পারলেন না। Boys, follow me বলেই মিষ্টির দোকান থেকে লাফ দিয়ে বের হতে গিয়ে পাশের ডোবার মধ্যে পরে গেলেন শাবেদ শিং। বিশাল বপু শাবেদ শিং, বিশাল সাইজের পাইথনের মত ক্রলিং করে হাসফাস করতে করতে সীমান্তের দিকে বৃথা রওনা দিতে গিয়ে আবার থেকে গেলেন। অবশ্য ব্রিগেডিয়ারের ইয়াং অফিসাররা “Boys, follow me” হুকুম পালন করতে পারলেন না। “চাচা আপন প্রান বাচা” থিওরীতে শাবেদ শিং কে একা ফেলে তাঁরা বেশ কিছুটা পিছিয়ে সেফ জোনে ঢুকে গেছে।   
  

মিলিটারি অফিসারদের মত দৌড়/ক্রলিং এ অনভিজ্ঞ/অনভ্যস্ত সাংবাদিক এবং সিভিলিয়নদের তখন চোখের সামনে স্বাক্ষাত সাক্ষাৎ আজরাইল। তারপরো জীবন বাচানোর তাগিদে সামনের পানা পাহাড়ী নালায় পড়ে টুপ টাপ ডুব দিচ্ছেন আর উঠছেন। ফাঁকে ফাঁকে শাপান্ত করছেন জিয়া আর চান্দগাজীর মিষ্টির দোকানদারকে।  


অফিসারদের সকালের পাট ভাঙ্গা ইউনিফর্মগুলো কাদা পানি আর ধুলায় নাগা সান্ন্যাসীদের মত প্রায় বিলীন হয়ে গেছে। কারো মাথাতে তখনো শ্যাওলা, কচুর পাতা ঝুলে রয়েছে। বিপুল বেগে তারা যখন সীমান্তের দিকে ধেয়ে যাচ্ছে তখন ব্রিগেডিয়ার শাবেদ শিং জনা দুয়েক সৈনিক আর সাক্ষাতে আসা জন দশেক জনতা নিয়ে পচা ডোবাতে হাবুডুবু খাচ্ছেন।   
   

কিছুক্ষণের ভেতর রাইফেল বন্দুকের ঝংকার থেমে গেলো। বাজারের পশ্চিম মাথা থেকে কাদা পানি মাখা কিছু বাংলাদেশী অস্ত্র হাতে দৌড়ে এসে যখন জিয়াকে কিছু একটা বলে গেলো তখন অতিথিরা নালা আর ডুবা থেকে একে একে উঠে আসতে শুরু করেছে। তাঁরা যখন এ যাত্রা জীবন বাঁচাতে পারার জন্য স্রস্টার কাছে শুকুর গুজার করছে, তখন জিয়া মিষ্টির হাঁড়ি শেষ করে গামছা দিয়ে হাত মুচ্ছেন।  
  

ব্রিগেডিয়ার শাবেদ শিং যখন উঠে আসলেন তখন জিয়া নিজের চেয়ার ছেড়ে দিয়ে, শাবেদ শিংকে বসিয়ে আয়েস করে একটা সিগারেট জ্বালালেন, আর ব্রিগেডিয়ার সাহেব কে একটা সিগারেট এগিয়ে দিতে দিতে বললেনঃ

“ওদের রওনা দেবার খবর পাবার আগেই নিরাপত্যার কথা ভেবে বাজারের কাছে এ্যম্বুস পেতে রেখেছিলাম আমরা, তাঁরা এই ফাঁক দিয়ে আসতে পারে এমন একটা ধারণা আমরা করেছিলাম”
পাকিস্তানীরা আসার খবর শোনা মাত্র এ্যামবুশকারীদের সাবধান করে জিয়া ওই দুই সহযোদ্ধাকে নির্দেশ দিয়ে এ্যটাকের প্রস্ততি নিতে বলেন। পাকিস্তানী বাহিনী এ্যামবুশের মাঝে আসা মাত্র দুই ধারে সাব-মেশিন গানের গুলি শুরু করে ক্যাপ্টেন অলির বাহিনী। খুব অল্প পাকিস্তানী সেনা সেদিন ফেরত যেতে পারে। জিয়া তখন হাসতে হাসতে সবাইকে বলেনঃ
  

“এবার যান, সবাই গিয়ে লাশ গুলো আর পাকিস্তানীদের ফেলে যাওয়া গাড়ি গুলো দেখুন।” 
  

ব্রিগেডিয়ার শাবেদ শিং এরপর “সাপ্তাহিক সমাজ” পত্রিকার সম্পাদক সাংবাদিক বাশারকে ইটারভিউ দিতে গিয়ে ইংরেজীতে বলেনঃ
“ডিয়ার সাংবাদিক, যুদ্ধে তোমরা অবশ্যই বিজয়ী হবে। যে জাতির হাতে মেজর জিয়ার মত একজন কমব্যাটেন্ট থাকে তাদের দমিয়ে রাখা যায় না। আমি নিজে অনেক যুদ্ধ করেছি, অনেক যুদ্ধের কৌশল নিয়ে পড়েছি, কিন্তু জিয়ার মত ঠান্ডা মাথার কমব্যাটেন্ট কোথাও দেখি নি”  

  

এ্যাডভেঞ্চার শেষে ভারতীয় বাহিনীকে ত্রিপুরা ফেরত নিয়ে যাবার সময় সাংবাদিক বাশার এক পর্যায়ে জিয়ার পাশে এসে বলেনঃ 

স্যার আজকের ঘটনার ওপর কিন্তু কাভার ষ্টোরী হবে। কালো সানগ্লাসে ঢাকা চোখের স্বভাব সুলভ মুচকি হাসিতে, জিয়া প্রচ্ছন্ন সাঁয় দিয়ে বলেনঃ

Well, you’ve a story, no doubt. But please don’t mention our name. That’s our of military rules.
“ওয়েল ইউ হ্যাভ আ ষ্টোরী। নো ডাউট। বাট প্লীজ ডোন্ট মেনশান আওয়ার নেইম। ওটা আমাদের সামরিক নিয়মের বাইরে।”  



*রেফারেন্সঃ *মৃত্যুঞ্জয়ী জিয়া – -
*সাপ্তাহিক সমাজ
* ৭১ এ নিহত পাকি সৈনিকদের তালিকা ও সময় দেখতে শর্ট লিঙ্ক-
মহান মুক্তি যুদ্ধে হানাদার পাকিস্তান বাহিনীর নিহত সৈনিক অফিসারদের লিস্ট