জাতীয়তাবাদ এর আধুনিক দর্শন এবং সার্বিক ইতিহাস পর্যালোচনা করলে দেখতে পারবেন
"কোন ধরণের অভ্যুথান বা সংগ্রামে দেশ আর জাতির আত্ম উপলব্ধি হয় , অর্থনৈতিক , সামাজিক , সাংস্কৃতিক , রাজনৈতিক ভাবে নিজস্বতার উপলব্ধির মাধ্যমে" ।
জাতীয়তাবাদের মূল চরিত্র হচ্ছে একজন ব্যাক্তি বা এক টি Moto র মাঝে তার আঞ্চলিকতার সমস্ত জনসত্তার মৌলিকতার অনুভুতি কে কেন্দ্রীভুত করা ; এবং এই কাজ টা সম্ভব হয় তখনই যখন সকল ভাষাভাষী আর ধর্মের মানুষ কে একটা Platform এর নিচে আনা সম্ভব হয় । একটা বট বৃক্ষ জাতীয়তাবাদ তার ছায়া তলে "মানুষ" ।
পেছনের দিকে একটু তাকানো যাক ।
১৮০০ সালের আগে জাতীয়তাবাদ ছিল অন্ধকারের নিচে । তখন দেশ গুলিতে জাতীয়তাবাদের ভিত্তি ছিল ধর্ম যাকে পেছন থেকে আশির্বাদ করতো শাসক শ্রেণীর বংশধারা । তাদের অধীনের মানুষ জন বাধ্য ছিল শাসকের আনুগত্য মানতে । কার্তার ইচ্ছাই কর্ম ধরনের জীবন ব্যাবস্থা ।
দেশ , জাতি , সমাজ এর গুরুত্তপুর্ন বিষয় এবং ভবিষ্যৎ নির্নায়ক নীতি তাদের অনুশীলন এবং অধিকারের বিষয় ছিল না মোটেও ।
ঐতিহাসিক ভাবে রাষ্ট্রীয় এবং আঞ্চলিক জাতীয়তাবাদ অগ্রসর হয়েছে পর্যায়ক্রমিক ধারা তে । কারিগরিক , সাংস্কৃতিক , সামাজিক , রাজনৈতিক এবং সর্বপোরি অর্থনৈতিক অগ্ররগতির সাথে তাল মিলিয়ে ।এখনে বিশেষ ভাবে নোট থাকা দরকার যে যোগাযোগ ব্যাবস্থার উন্নয়ন মানুষ কে তার কাছে দুরের পারিপার্শিক বিসয়ে সজাগ, সচেতন করেছে ; ফলশ্রুতুতে মানুসের অদম্য আকাঙ্ক্ষা বেড়েছে ।
প্রকারান্তরে এই বোধ টা জাতীয়তাবাদী মেধা আর বোধটাকেই ক্ষুরধার করেছে ।
আরো আছে মাতৃ ভাষা ; যা কমন শিক্ষা ব্যাবস্থা হিসাবে ধনী আর দরিদ্র দের এক কাতারে নিয়ে এসেছে ।এই ব্যাবস্থা দরিদ্র শ্রেণীদের সাংস্কৃতিক জাতীয়তাবাদকে জাগিয়ে দিয়ে তাদের জাতীয়তাবাদের মূল অনিভুতির সাথে একত্যা করে দিয়েছে ।
এই সাম্য শিক্ষার ফলেই সকল মানুষ সমান ভাবে তাদের আদি পুরুষ বিষয়ে জানতে পেরেছে ফলে বঞ্চিত মানুষ একসাথেই শিখেছে যে তাদের সামাজিক অবস্থান যতই ভিন্ন হোক না ক্যান ;তারা আসলে এক সুত্রেই বাঁধা ।
এই সকল বোধ গুলিই মানুসের সংগ্রাম সচেতনতা বৃদ্ধি করে এবং সমগ্র জাতির বর্তমান আর ভবিশ্যাত উন্নয়নের আকাঙ্ক্ষা তে দৃঢ় ও আপসহীন হতে অনুপ্রাণিত করে ।
ইউরোপ যে এত উন্নত হয়েছে ; সেখানে লক্ষ্য করলে দেখা যাবে তাদের প্রায় একই রকম ভাষা আর গড়ন রয়েছে যা তাদের উন্নয়নের ক্ষেত্রে সহযোগী হয়েছিল ।
খুব সাধারণ ভাবেই একটা রাষ্ট্রের জনগণ তাদের নিজেদের জন্য জাতীয়তা বা পরিচয় তৈরি বা নির্ধারন করে ।
তবে এই জাতীয়তা নিরূপণ রাজনৈতিক চোখ দিয়ে করাটাই উত্তম ।
একটা কান্ড জ্ঞান সম্পন্য শাসক শ্রেণী তাদের নিজশ্যতা বজায় রেখে , সকল মানুষ কে অন্তভুক্ত করা যায় এমন পরিচয় নির্ধারন করে ।
যেখানে কেও অবজ্ঞার স্বীকার হবে না অর্থাৎ সমনের পথ চলার ক্ষেত্রে প্রতিবন্ধকতা থাকবে না ; বিপ্লবের ফসলে প্রতি বিপ্লবের বীজ থাকবে না ।
সার্বিক স্থিতিশীলতা , বিচ্ছিন্যতাবাদি মনোভাব রোধ করে সকল কে নিয়ে একযোগে এগিয়ে যেতে প্রয়োজন সেই কান্ডজ্ঞান বোধ সম্পন্ন জাতীয়তাবাদী সরকার , জাতিয়তাবোধ সম্পন্ন জনগণ এবং একজন এ্যাম্বিসাস রাষ্ট্র প্রধান ।
প্রাচিন Greece আর Rome এর জাতীয়তা তৈরি হয়েছিল নাগরিক এবং অনাগরিক উভয়ের সমন্নয়ে ।
এমন কোন সভ্য রাষ্ট্র দেখা যায় না যারা তাদের নাগরিকদের ভেতরের কোন একটা অংশ কে তাদের জাতীয় পরিচয় থেকে মুছে দিয়ে জাতীয়তা নির্ধারন করে ।
China তে কিন্তু অনেক ধরনের গোত্রীয় মানুসের বাস ; তাই সকল কে একসাথে তারা চাইনিজ ।
পৃথিবীর সব দেশের মানুসের অধিকার আমেরিকাতে।তারা আমেরিকান ।
বাঙ্গালি , চাকমা , মুরাং , মগ , রিফুইজী এদের সকলে মিলে আমরা বাংলাদেশী ।
তাদের মধ্যে আমি বাঙগালি এই পরিচয় শুধুই সাম্প্রদায়িকতা ।
পরিনতো জাতীয়তাবাদের এই যুগেই তাই অভ্যুথ্যান ঘটে যেতে পারে যে কোন অবহেলাতেই যে কোন সময়েই । সেই অভ্যুথ্যানের পুর্ন অধিকার দিয়েছে জাতীয়তাবাদী শিক্ষা ।
তবে নিরবেও ঘটতে পারে কোন কোন অভ্যুথান ।
অভ্যুথান যে ভাবেই ঘটুক না কেন হয় তা ঘটে হয় শাসন যন্ত্রের পরিবর্তনের জন্য অথবা শাসন কৌশল পরিবর্তনের জন্য ।
এই পরিবর্তন ঘটাবার সময় মানুষ থাকে ঐক্যবদ্ধ , ইস্পাতের মতই দৃঢ় ।
প্রচলিত সমাজ ব্যাবস্থা যখন ব্যার্থ হয় ; জনমানুসের সামনে যখন বিকল্প পথ থাকে না ; সে রকম সময়ে যখন পরিমার্জিত সমাজ সংস্কারের দর্শন উপস্থিত হয় ; মানুসের স্রোত তখন সেই নতুন আশার বিবেকটাকেই গ্রহণ করতে প্রস্তুত হয় , তখন মানুষ হিসাব করে না কত রক্ত ধুলাতে মিসবে । নিজের জীবনটাকেও হাতে করে বিলি-বন্টন করে দিতে প্রস্তুত থাকে মানুষ ; যদি সে জানে আলো আসবেই , পরিবর্তন সু নিশ্চিত ।
উধাহরন চাও ?
মনে করে দেখ ইরানের কথা অ্যামেরিকার সমর্থন পুস্ট "শাহ্" রাজত্য কে কিভাবে নির্বংশ করে সেখানে বিজয় এনেছিল "খোমেনি" দর্শন ।
ক্যামন করে গনতন্ত্রের সূতিকাগার ব্রিটেনে রাজ শাসন কে বিষ বিহীন করে গন মানুসের শাসন শুরু হয়েছিল !
আর আমার বাংলাদেশ ! সে কথা না হয় নাই বা বললাম !
২৬ সে মার্চের কালুর ঘাটের পরে আবারো এক দুর্যোগে কে আমাকে Light House হয়ে পথ দেখিয়েছিল ; তা ঠিক মনে নেই আমার !